আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা

বাংলা ভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী

সকল মহান ভাষা শহীদগণের প্রতি,
এবং ভাষা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত

সকল ভাষা সৈনিক
ও বীর বাঙ্গালীদের জানাই অশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলী,
সেইসাথে সকলকে জানাই

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা।

বিষয় সূচী

সাহিত্য (60) অন্যান্য কবিতা (53) ভালোবাসার পদবিন্যাস ( প্রেম সম্পর্কিত রচনা বিশেষ ) (53) আমার লেখা প্রবন্ধ-নিবন্ধ (37) কবিতা (35) দেশ নিয়ে ভাবনা (33) ফিচার (33) বাংলাদেশ (29) সমসাময়িক (28) খন্ড কাব্য (26) হারানো প্রেম (22) সংবাদ (18) কাল্পনিক প্রেম (16) ইতিহাস (15) প্রতিবাদ (15) সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ (15) Online Money Making Links (14) দেশাত্মবোধক কবিতা (13) আমার জীবনের দিনপঞ্জী (12) ধর্ম (12) প্রেমের কবিতা (11) ব্যক্তিত্ব (11) রাজনীতি (11) ধর্মীয় আন্দোলন (10) প্রবাসের কবিতা (10) খন্ড গল্প (9) জীবন গঠন (9) বর্ণমালার রুবাঈ (9) ইসলাম (8) প্রগতি (8) মানুষ ও মানবতা (8) হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ (8) VIDEOS (7) আমার লেখালেখির অন্তরালে (7) ইসলামী জাগরণ (7) মানব মন (7) ট্র্যাজেডি (6) শোক সংবাদ (6) সম্প্রীতি (6) নারী স্বাধীনতা (5) প্রেমের গল্প (5) বিজয় দিবসের ভাবনা (5) মৃত্যুপথ যাত্রী (5) সংবাদ মাধ্যম (5) স্মৃতিকথা (5) ঈদ শুভেচ্ছা (4) প্রবাস তথ্য (4) রমজান (4) শুভেচ্ছা (4) Computer Programer (3) আমার ছবিগুলো (3) আমার রাইটিং নেটওয়ার্ক লিংক (3) পর্দা (3) ফটিকছড়ি (3) বাংলাদেশের সংবিধান (3) বিশ্ব ভালবসা দিবস (3) শিক্ষা (3) শিক্ষার্থী (3) স্লাইড শো (3) News (2) VERIETIES POEMS OF VERIOUS POETS (2) আষাঢ় মাসের কবিতা (2) আষাঢ়ের কবিতা (2) ইসলামী রেনেসাঁ (2) ছাত্র-ছাত্রী (2) থার্টি ফাস্ট নাইট (2) নারী কল্যান (2) নারী প্রগতি (2) নির্বাচন (2) বর্ষার কবিতা (2) মহাসমাবেশ (2) শবেবরাত (2) শরৎকাল (2) শাহনগর (2) শ্রদ্ধাঞ্জলী (2) সত্য ঘটনা (2) সত্য-মিথ্যার দ্বন্ধ (2) সফলতার পথে বাংলাদেশ (2) Bannersআমার ছবিগুলো (1) DXN (1) For Life Time Income (1) For Make Money (1) Knowledge (1) Student (1) অদ্ভুত সব স্বপ্নের মাঝে আমার নিদ্রাবাস (1) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (1) আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত(সুন্নী) (1) উপন্যাস (1) কবি কাজী নজরুল ইসলাম (1) কোরআন - হাদিসের কাহিনী (1) গল্প (1) চট্টগ্রাম (1) চিকিৎসা ও চিকিৎসক (1) জমজম (1) জাকাত (1) তরুন ও তারুণ্য (1) নারী জাগরণ (1) পরকিয়ার বিষফল (1) ফটিকছড়ি পৌরসভা (1) বন্ধুদিবস (1) বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেম (1) বিবেক ও বিবেকবান (1) বিশ্ব বাবা দিবস (1) বিশ্ব মা দিবস (1) ভ্রমণ (1) মন্তব্য (1) মাহফুজ খানের লেখালেখি (1) রবি এ্যাড (1) রমজানুল মোবারক (1) রেজাল্ট (1) রোগ-পথ্য (1) লংমার্চ (1) শহীদ দিবস (1) শুভ বাংলা নববর্ষ (1) শৈশবের দিনগুলো (1) সমবায় (1) সস্তার তিন অবস্থা (1) সাভার ট্র্যাজেডি (1) সিটি নির্বাচন (1) স্বপ্ন পথের পথিক (1) স্বাধীনতা (1) হ্যালো প্রধানমন্ত্রী (1) ২১ ফেব্রোয়ারী (1)

APNAKE SHAGOTOM

ZAKARIA SHAHNAGARIS WRITING

সকলকে বাংলা নতুন বছরের শুভেচ্ছা

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আমরা আর বাংলা ভাষায় কথা বলতে চাইনা । নিজের মাতৃভাষাকে যখন-তখন যেখানে সেখানে অবমাননা করে তৎপরিবর্তে ইংরেজী ভাষা ব্যবহার করতে অভ্যাস্থ হয়ে যাচ্ছি বা হয়ে গেছি ।
আরও একটু এগিয়ে গেলে বলতে হয় - আমরা আজ বাঙ্গালী হয়ে বাঙ্গালী জাতিসত্বা ভুলে গিয়ে ইংরেজী জাতিসত্বায় রক্তের ন্যায় মিশে গেছি !

অথচ একদিন আমরা বাঙ্গালী জাতি একতাবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রীয় ভাষা উর্দুকে ত্যাগ করে নিজেদের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা তথা বাংলা ভাষাকে সর্বত্র প্রচলন করতে প্রাণ দিতে বাধ্য হয়েছিলাম ! ফলে বিজাতীয় ভাষা উর্দূকে অপসারন করে নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলার স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলা ভাষাকে ধারন করেছিলাম । যখন আমরা বাংলার সর্বত্র বাংলা ভাষায় কথা বলা শুরু করেছিলাম ,তখন কিন্তু বিশ্বায়নের যুগটা অনুপস্থিত ছিল তা নয় , বিশ্বায়নের যুগটা তখনও ছিল বিধায় আমরা ইংরেজী শিক্ষায় তখনও বাধ্য ছিলাম । অর্থাৎ যে জন্যে আজ আমরা ইংরেজী শিখছি সেইজন্যে তখনও ইংরেজী শিক্ষার প্রচলন ছিল । ছিল ইংরেজী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাও । তাই বলে সে সময় বর্তমান সময়ের মত মাতৃভাষা বাংলাকে অবমাননা করা হয়নি । মানুষ সে সময় বাংলায়ই কথা বলেছিল । শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রেই সে সময় ইংরেজী ব্যাবহার করেছিল বাঙ্গালী জাতি

conduit-banners

Powered by Conduit

ফ্লাগ কাউন্টার

free counters

MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY

PLEASE CLICK ON MY BANNERS. VISIT MY AFFILIATE SITE "MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY ( অনলাইনে অর্থোপার্জনের একটা মাধ্যম )" I HOPE IT WILL BE HELPFUL FOR YOU. Create your own banner at mybannermaker.com!
সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ৯ নভেম্বর, ২০১২

মাথা ঘুরানীর ঔষধ


মাথা ঘুরানীর ঔষধ
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
---------------------

আজ একটা বিশেষ অভিজ্ঞতা লাভ করলাম। অবশ্য পুরানা পথের নাম পরিবর্তনের কারনেই মনে হয়েছিল নতুন অভিজ্ঞতা। যখন ভিতরে গেলাম বুঝতে পারলাম নামটা নতুন হলেও কাজটা পুরাতন। এ যেন পুরান মদের নতুন বোতলজাত হয়ে বাজারজাতের ঘটনা। আমাদের দেশে যেমন বিভিন্ন নামে মাদক বিক্রি হচ্ছে, তেমনি কিছু প্রবাসী কর্তৃক বিভিন্ন নাম দিয়ে হচ্ছে মেয়েদের শরীর বিক্রির ব্যবসা। অন্যান্য দেশের প্রবাসীদের মত আমাদের দেশের প্রবাসী নাগরিকরাও এ ব্যবসা থেকে পিছিয়ে নেই। তেমনই একটা ঘটনার বিবরণ এ লেখা।

যা হোক, আজ জোহরের পর ঝালমুরি কিনতে একটা মুদি দোকানে গেলাম আমি। যখন ক্যাশ কাউন্টারে টাকা দিতে গেলাম , তখন একটা লোক এসে ক্যাশিয়ারকে তার বাসায় যেতে বলল। ক্যাশিয়ার বলল তার মাথা ঘুরাচ্ছে যেতে পারবেনা। তখন লোকটি বলল - অসুবিধা নেই তার বাসায় মাথা ঘুরানীর ঔষধ আছে।
এদিকে গত দু'দিন ধরে আমিও ভীষন মাথার সমস্যায় ভুগছি। তাই কৌতুহল হলাম লোকটার কথায়। ভাবলাম ফার্মেসীর বাইরে সেক্সুয়াল ঔষধ বিক্রির এজেন্টেদের মত এরাও একটা ঔষধ কোম্পানীর এজেন্ট হতে পারে, যারা কাষ্টমার ফোন করলেই তাদেরকে ঔষধ সরবরাহ করে। এ ভাবনায় জিজ্ঞেস করলাম লোকটাকে - আমিও কি মাথা ঘুরানীর ঔষধ পেতে পারি ? সে বলল অবশ্যই পেতে পারেন। বিভিন্ন ধরণের মাথা ঘুরানীর ঔষধ আমাদের কাছে আছে। আরও কৌতুহল হয়ে জানতে চাইলাম - দাম কত পড়বে ? সে বলল - ৫০ থেকে ৩০০ রিয়ালের মধ্যে মাথা ঘুরানীর ঔষধ দেয়া যাবে। বললাম - তবে তো আপনার সথে যেতেই হয়। সে বলল - ঠিক আছে চলুন।
তার বাসায় গিয়েই দেখি সাদা-কালো-বেগুনী-লাল সহ বিভিন্ন ধরণের মেয়ে বসে আছে সেখানে। এ ধরণের বাসায় এসব মেয়ে ! আশ্চর্যাম্বিত হলাম আমি। তখন অন্য রুম থেকে একজন উচ্ছস্বরে বলতে লাগল - হাবিব, রেইট বলেছিস ? কোন রেইট এ কতক্ষণ থাকতে পারবে বলেছিস তো ?
বুঝতে আর বাকি রইলনা মাথা ঘুরানীর ঔষধ কি ? অন্যরুম থেকে যে কথা বলছিল সে বেরিয়ে এল রুম থেকে। আমাকে দেখেই লোকটির চোখ ছানাবড়া। ভয় ও পেল মনে হয়। এই লোকটাকে আমি অনেকদিন থেকে চিনি। পরিচিত লোক। বিশেষ অনুরোধের কারণে পূর্ণ পরিচয় দেয়া থেকে বিরত থাকলাম। যা হোক ভয়ের চাপ তার চোখে মুখে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ভয় পাওয়ারই কথা। গত পাঁচ বছর আগে ঠিক এ ধরণের অপকর্মের কারণেই এ গ্রুপের একজনকে ধরিয়ে দিয়েছিলাম পুলিশের হাতে। তখন তার অপরাধের মাত্রা এত বেড়ে গিয়েছিল যে যদি সে ৪৫ জন মেয়ে ও ১০০ এর উপর খদ্দের সহ পুলিশের হাতে ধরা খেত তবে বাংলাদেশের অবস্থান নরকের শেষ স্তরে পৌঁছে যেত। অবশ্য তখন সে একটি মেয়েসহ আমার কথায় ধরা দিতে বাধ্য হয়েছিল। তিনমাস জেলখাটিয়ে আবার আমিই তাকে শেষবারের মত জেল থেকে দেশে ফেরত পাঠানোর কাজে সহযোগিতা করেছিলাম। সে সময় আজকের এ লোকটিও জড়িত ছিল। সেদিন সে পালিয়ে গিয়ে বেঁচে যায়।
সেদিন বেঁচে গেলেও মনে করেছিলাম সে এ কাজ ছেড়ে দিবে কিন্তু আজ আবার তাকে দেখে বুঝলাম সে ঐ অপকর্ম ছাড়েনি। মেয়েগুলোর দিকে ইশারা করে ওদের দুজনকে জিজ্ঞেস করলাম- এগুলোই কি আপনাদের মাথা ঘুরানীর ঔষধ ? আবার শুরু করেছেন আপনারা ? পাঁচ বৎসর আগের কথা কি ভুলে গেছেন ?
তাদের মুখ যেন আটকে দিল কেউ, কথা না বলে নীচের দিকে চেয়ে থাকল। আজ ছেড়ে দিয়ে তাদের সংশোধনের একটা সুযোগ দেয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলাম। বললাম- আপনি তো আমাকে চিনেন । আমি কি করতে পারি তাও জানেন। দয়া করে এ পবিত্র স্থানে এসব বন্ধ করেন। টাকা কামানোর অনেক রাস্তা আছে ,সে পথগুলো অনুসরন করেন। এই ধরণের অপকর্ম করে দেশ ও দশের ক্ষতি করবেননা। যদি না শুনে এই কাজ করে যেতে থাকেন তবে পাঁচ বৎসর আগের একই ঘটনা ঘটাতে আমি বাধ্য হব।
তারা বলল- ঠিক আছে ভাই আমরা দুদিনেই এদেরকে সেটেল করে দিচ্ছে। দুদিনের মধ্যে কিছু করবেননা দয়া করে। আজকের মত চলে এলাম ঐ লোকদের সংশোধন হবার সময় দিয়ে।
উল্লেখ্য যে, এ লোকগুলো এ অপকর্মের সংগঠন করে খরিদ্দারদের পতি জনের কাছ থেকে পায় ৫০% আর বাকী ৫০% পায় মেয়েগুলো।
=================

বুধবার, ১১ জুলাই, ২০১২

তুমি কেবল স্মৃতি


তুমি কেবল স্মৃতি
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

ও আমার বাংলা মাগো -
কি আঁচল কি ছায়াগো !
কি অপরূপ কি মায়াগো !
চতুর্দিকে সাজিয়ে আছে
সবুজ ভরা মাঠ !
জল থৈ থৈ বর্ষা দিনে ,
চৈত্র দিনের রাখাল বীনে
সুরের সাথে রূপ ভেসে যায় ,
মাতাল যে হয় সকল রাস্তাঘাট !
ফাগুন দিনের রূপের শোভা,
ফুল ফুটে সব মনলোভা ,
বসন্তেরই মাতাল হাওয়ায়
মন ঝুঁকে যায় গান গাওয়ায় !
ও আমার বাংলা মাগো-
তোমার মতো দেশ যে আর
কোথাও দেখি না গো।
মন উচাটন এখন আমার
তোমায় দেখতে চায় ,
অভিশপ্ত জীবন যে মোর -
কেমনে দেখতে যাই ?
বোশেখ মাসে আম পাকে
ভাদ্রে পাকে তাল ,
অগ্রহায়নে ধান পাকে
জৈষ্ঠে পাকে কাঠাল।
এমন সব মধুর দিন
উতলে উঠে মনে ,
প্রবাসে মোর যায় যে জীবন
হয়না দেখা তোমার সনে।
এই প্রবাসে যায়না দেখা
তোমার মত রূপ ,
দেখতে তোমায় হয়না যাওয়া
আছি যে তাই চুপ।
মনের মাঝে আছো তুমি
কেবল স্মৃতি হয়ে ,
হয়না দেখা তোমার সনে
বেড়াই তোমার ভালবাসা বয়ে।
=============

সোমবার, ২১ মে, ২০১২

আফসোস আমার – কারো কাজে এলাম না



আফসোস আমার –
কারো কাজে এলাম না
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------------


প্রবাসে এসে গেলাম ফেঁসে
মুক্তি নেই আর এই জীবনে ,
দিয়েছি ঠেলে জীবন আমার
অন্ধকার এক পথগমনে ।
যা চেয়েছি হয়নি তাহা
হবেনা আর কোন দিন ,
জীবন সময় গেলো চলে
দেখা হয়নি সেই সুদিন ।
প্রবাস সময় শেষের পথে
চিন্তা এখন কি করি ?
বয়স গতি ভাসিয়ে নিল
কিভাবে যে কুল ধরি ?

অসুস্থ মোর দেহখানা
শ্রমের যোগ্য নয় – বুঝি ,
স্বদেশ গিয়ে কি হবে মোর ?
নেই কোন মোর পূঁজি ।
এমন একটা কর্ম খোঁজে
সহজে মোর আসবে রুজি ,
বিদেশ বিভুঁই বসে যে তাই
উপার্জনের সে পথ খুঁজি ।
স্বদেশ গিয়ে পাবোনা সেই
সহজ কোন আয়ের পথ ,
পূঁজিবিহীন কিভাবে মোর
চলবে সেথায় জীবন রথ ?

ভেবে – চিন্তে রইছি বসে
বিদেশ নামক জেলখানায় ,
খুঁজে যাচ্ছি আয়ের পথ সেই
অসুস্থ দেহে যা মানায় ।
স্বদেশ গমন চিন্তা আমার
আসেনা তাই মনে ,
যাকনা চলে জীবনখানি
বিদেশ নামের বৃন্দাবনে ।

এই জীবনের আশার তরী
কুলে এসে ভিড়লো না ,
ডুবছে বেলা জীবন দিনের
কিছুই করা হলোনা।
আফসোস নেই জীবনে মোর
স্বজন কাছে পেলাম না ,
আফসোস শুধু এই যে আমার
কারো কাজে এলাম না ।
========================

রবিবার, ২০ মে, ২০১২

প্রবাসী আমি –



প্রবাসী আমি –
নেই আমার কোন ঠিকানা
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
---------------------


এক বুক শূণ্যতা বয়ে বেড়াই প্রবাস জীবনে ,
হাহাকার আর্তনাদ লেগে মনের গভীরে ।
ভালবাসার কাঙ্গাল আমি পাইনা ভালবাসার ছোঁয়া ,
ধু ধু মরুভুমির বুক চিড়ে দেখি শুধুই অন্ধকার ধূঁয়া ।
দিন যায় রাত আসে , মাস গিয়ে শেষ হয় বছর ,
একাকী জীবন নিয়ে কাটিয়ে যাই দিবা রাত সর্বসময়
এমনি করেই কাটিয়ে দিলাম জীবনের বারোটি বসন্ত ।

দেখিনি সুখের বাতাস জোটেনি ভালবাসার সুখ ,
দেখেছি শুধুই তাকিয়ে বিস্তীর্ণ মরুভুমির উপরে
বয়ে যাওয়া মরুঝড় !
লাগেনি গায়ে কভু শান্তির শীতল হাওয়া ।
অশান্তির দাবদাহে জ্বলে মনের আঙ্গিনা ,
দুঃখের যাতনা কভু যায়নি দমে ,
সুখের পরশ জীবনে মোর দেয়নি ধরা ।

যাযাবর জীবন নিয়ে ঘুরি পৃথিবী ;
আপন নিবাসে যন আমি অতিথি !
প্রবাস ভুমিতে হয়েছি আমি পরগাছা ।
বুঝতে পারিনা আমি - কোনটা আমার স্বদেশ ?
আর কোনটা আমার বিদেশ ?
প্রবাসী আমি , নেই আমার কোন ঠিকানা ।
মরব কোথায় ? কোথায় হবে মোর দাফন ?
করতে পারিনা তার কোন আশা ।
হয়তো একদিন উড়ে যাব আকাশে ,
খুঁজে পাবেনা কেউ আমার দেহের ধ্বংসাবশেষ ।
====================

একমুঠো অন্নের জন্যে ...



একমুঠো অন্নের জন্যে ...
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
-----------------------------



বারোটি বছর আগে করেছি দেশ ত্যাগ ,
দিয়েছি যত ভালোবাসার জলাঞ্জলী ।
ছেড়েছি প্রিয়তমার ভালোবাসার জগত ,
করেছি উপেক্ষা সন্তান-সন্ততির মায়ার বাঁধন ।
খালি করেছি বাবা-মায়র মমতার কোল ,
ছিন্ন করেছি ভাইবোনের স্নেহ মমতার জাল ;
আমার জন্য নয় , এ ত্যাগ ছিল অন্যের জন্য ,  
আমার জীবনের সাথে জড়িয়ে যাওয়া মানুষদের জন্য ।

আমার একলা পেঠ ভরে যেতো হাওয়ায় হাওয়ায় ,
ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে পাওয়া খাদ্য দিয়ে ,
যেভাবে করে জীবিকা নির্বাহ দেশের সকল পথশিশু ।
আমার সাথে জড়িয়ে যাওয়া জীবনগুলো –
ভরতো না তাদের পেঠ হাওয়া খেয়ে ,
পাওয়া যেতো না ডাস্টবিনে তাদের খাবার ।
কতই বা মিলবে আর ডাস্টবিনে
বড়লোকদের সমাজরক্ষার ঝুঁটা খাবার ?
যেখানে লক্ষ লক্ষ পথশিশু আর অভুক্ত কুকুর – বিড়াল
দিচ্ছে নিয়ত হানা একমুঠো অন্নের জন্যে !
আমি দেখতে চাইনি -  
আমার জীবনের সাথে জড়িত যারা
হয়ে যাক তারাও পথশিশু ,  
করুক কুকুরের সাথে যুদ্ধ - শুধু একমুঠো অন্নের জন্য ।

আমি বাস্তব জীবনের সাথে তাল মিলিয়ে
চলতে শিখেছি ।
আমি চুয়াত্তরের দূর্ভিক্ষে অভুক্ত থেকে
বাঁচতে শিখেছি ।
আমি বড়লোকদের খানার টেবিলে থাপ্পড় খেয়ে
নিজের খাদ্য নিজেই জুগিয়ে খেয়েছি ।
আমি সমাজের উঁচুতলার মানুষদের লাথ্থি খেয়ে
নিজেই নিজের জীবনকে সাজাতে শিখেছি ।
আমি সমাজের বড় বড় অনুষ্ঠানগুলোতে গিয়ে
হোঁছট খেয়ে খেয়ে নিজের মত করে
জীবন গঠন করতে শিখেছি ।

কিন্তু আমার সাথে জড়িয়ে যাওয়া কঁচি প্রাণগুলো –
কিভাবে বাঁচবে তাদের জীবন ?
তারা জনেনা জীবনের ধারাবাহিকতা কি ?
নেই তাদের জীবনে বেঁচে থাকার ধারণা ।
তাদের জীবনের জন্য প্রয়োজন –
অন্ন , বস্ত্র , বাসস্থান , শিক্ষা , চিকিৎসা , নিরাপত্তা ,  
আর এসবে ভার তো আমারই ।
তাদের জীবনের চাহিদা পুরণে
সকল আয়োজন করতে হবে আমারই ,
তাদের চাহিদা পুরণে নিতে হবে আমাকেই পদক্ষেপ ।

যেখানে হয়না আমার নিজ জীবনের চাহিদা পুরণ ,
সেখানে আমার সাথে জড়িয়ে পড়া জীবনের
চাহিদা পুরণ কিভাবে হবে ?

দিয়েছি তাই অন্ধ চোখে ঝাঁপ – আশার সাগরে !
একমুঠো অন্নের জন্য – জীবনের চাহিদা পুরণের জন্য
করেছি দেশত্যাগ – হয়েছি প্রবাসী ,
করেছি গ্রহণ যাযাবর জীবন ।

জগতের সব ভালোবাসা করেছি দাফন বুকের মাঝে ।
==========================================

শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১১

সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ - ১০


সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ - ১০ 
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী  
---------------------------------

আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ্ । 
সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ । 
আজ শুক্রবার , ১৮ই অগ্রহায়ণ ১৪১৮ বঙ্গাব্দ , ৭ মহররম ১৪৩৩ হিজরী , ২ ডিসেম্বর ২০১১ ঈসায়ী । সৌদি আরব সময় ১০ : ৫৫ সকাল । 
প্রবাসী বাংলাদেশ , আল মদিনা , সৌদি আরব থেকে সকলকে প্রভাতী শুভেচ্ছা । 
------------------------------------------------------------------------- 
বন্ধুগণ ! 
আশাকরি সবাই ভাল আছেন । আজ সৌদিবাসী প্রবাসীদের সাপ্তাহিক ছুটির দিন । যদিও খুব কম লোকই আছেন যারা এই সাপ্তাহিক ছুটির দিনটা উপভোগ করতে পারেন । এই ছুটি বন্ডেড বা স্পন্সরের কাছে থাকা প্রবাসীদের বেশীর ভাগই উপভোগ করতে পারেননা । তবে যাঁরা স্পন্সর থেকে বের হয়ে কাজ করছেন তাঁরা বেশীর ভাগই এই ছুটি উপভোগ করতে পারছেন । যাঁরা আজকের এই সাপ্তাহিক ছুটি উপভোগ করবেন তাঁদের জন্য আজকের দিনটা ঈদের দিনের মতই একটা খুশির দিন । 
পুরো সপ্তাহ ব্যাপী যান্ত্রিক জীবনের কর্মমাঝে ফাঁক পেয়ে আজকের দিনটা প্রবাসীরা মুক্ত বাতাসে নির্মল প্রকৃতির অক্সিজেন গ্রহণ করবেন । আবার এক সপ্তাহের জন্য ধারণ করবেন শারিরীক কল্যানে প্রাকৃতিক অক্সিজেন । সবার সাথে মিলিত হবেন । প্রবাসী জীবনের সুখ দুঃখের অনুভুতি বিনিময় করবেন একে অপরের সাথে । বিনোদনের মাঝে ডুবে গিয়ে এক সপ্তাহের জন্য পূর্ণ উদ্যোমে কর্মে মেতে উঠার লক্ষ্যে নতুন ভাবে শারিরীক শক্তি সঞ্চয় করবেন । প্রবাস জীবনের একগুয়েমী মনোভাব পরিহার করে মনকে ফ্রেস করে নিবেন । তাই প্রবাসীদের জন্য তাঁদের শারিরীক কল্যানে আজকের দিনটা তথা ছুটির দিনগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ । 
প্রবাসীদের যান্ত্রিক জীবনের মাঝে লাগামহীন কর্মসময় নিয়ে আসে তাঁদের জীবনের প্রতি ঘৃণা । বেঁচে থাকার লড়াইয়ে তাঁরা শক্তি হারিয়ে ফেলেন । জীবনকে এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিন । জীবনকে ভাবতে থাকেন মূল্যহীন । ফলে অনেক প্রবাসীদের দেখা যায় দেউলিয়া হয়ে যেতে , সংসারবিমুখ হয়ে যেতে , তীলে তীলে জীবনকে ধ্বংস করতে । তাঁদের এ ধরণের জীবন বিমুখতা কেন কেউ জানতে চায়না । অন্তত এই মানবতাহীন পৃথিবীতে এই সব প্রবাসীদের নিয়ে কেউ ভাবতে চায়না । 
আন্তর্জাতিক শ্রম আইন নামে কোন আইন কাগজে কলমে থাকলেও কোন প্রবাসীদের জন্য এই আইন প্রয়োগ করা হয়না । ফলে প্রবাসীরা তাঁদের উপযুক্ত পারিশ্রমিক না পেয়ে ও বিবিধ সুযোগ সুবিধা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে বেআইনী কর্মে জড়িয়ে যেতে বাধ্য হয় । পরিণতিতে প্রবাসীদের গ্রহণ করতে হয় বিভিন্ন প্রকার সাজা , দিতে হয় প্রবাসে জীবন বলি । এ জন্য দায়ী কে ? 
সৌদি আরবে ৮ মার্ডার তথা আটজন বাংলাদেশীর শিরচ্ছেদ কেন হলো ? এ ঘটনার প্রকৃত তথ্য খুঁজতে গেলে বেরিয়ে আসবে সৌদি আরব কর্তৃক আন্তর্জাতিক শ্রম আইন লঙ্গনের মুল বিষয় । যদি সৌদি আরব আন্তর্জাতিক শ্রম আইন শ্রমিকদের উপর বলবত রাখতো তবে উক্ত বাংলাদেশী আটজনের শিরচ্ছেদ করে মানবাধিকার আইন লঙ্গন করতঃ বিশ্ববাসীর ঘৃণার তীর গ্রহণ করতে হতোনা । এভাবে কোন বাংলাদেশী তথা কোন প্রবাসীকে সৌদি আরবের উম্মুক্ত ময়দানে শীর কর্তনের মধ্য দিয়ে জীবনবলি দিতে হতোনা । আজকে সৌদি আরবে প্রবাসীরা যত প্রকার অপরাধই করুকনা কেন , তার মূল কারণ সৌদি আরব কর্তৃক আন্তর্জাতিক শ্রম আইন ও মানবাধিকার আইন লঙ্গন । যদি এ দুটি আইন সৌদি আরবে যথাযথ ভাবে প্রয়োগ করাহয় , তবে সৌদি আরবে কোন প্রবাসী কর্তৃক কোন প্রকার অপরাধ সংঘটিত হবেনা বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস । 
আমরা প্রবাসীদের অপরাধগুলোই বড় করে দেখি । কিন্তু প্রবাসীরা অপরাধগুলো কেন করছে সেদিকে আমাদের দৃষ্টি দিইনা । ফলে প্রবাসীদের অপরাধগুলোই দৃষ্টিগোচর হয় , অপরাধের মুল কারণ গুলো আমাদের অজানাই থেকে যায় । আমার দৃষ্টিতে যারা প্রবাসে অপরাধ করছে এটা প্রবাসীদের একটা আইনী লড়াই আন্তর্জাতিক শ্রম আইন ও মানবাধিকার আইন লঙ্গনের বিরুদ্ধে। অন্তঃত এটাই এটাই আমার ধারণা । কারণ , যারাই অপরাধ করছে তারা তাদের প্রকৃত পারিশ্রমিক , বিবিধ সুযোগ - সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েই করছে । তারা প্রকৃত পারিশ্রমিক ও সুযোগ - সুবিধগুলো পেলে কখনোই অপরধ করতে ইচ্ছুক হতোনা । আমরাই সন্ত্রাসী বানাই , লালন করি আবার সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করি - এমনই চলছে প্রবাসীদের বেলায় । প্রবাসীদের অপরাধের মুলে স্ব-স্ব দেশের শ্রমিক আইনের অকার্জকারিতা । আন্তর্জাতিক শ্রম আইন ও মানবাধিকার আইন লঙ্গন । 
তাই যেসব দেশে বিদেশী শ্রমিক কাজ করছে , সেসব দেশে আন্তর্জাতিক শ্রম আইন ও মানবাধিকার আইন যথাযতভাবে প্রয়োগ করা জরুরী , অন্যথায় যদি সেসব দেশে বিদেশী শ্রমিক কর্তৃক কোন প্রকার অপরাধ সংঘটিত হয় , তবে সে অপরধের জন্য কোন বিদেশী শ্রমিক দায়ী হবেনা , দায়ী হবে সে সব দেশ ও দেশের অকার্জকর আইন । 
আমাদের দেশের যে আটজন প্রবাসী সৌদি আরবে বিভিন্ন অপরাধের জন্য নিজেদের জীবন বলি দিয়েছেন , তাঁরা সেসব অপরাধের জন্য দায়ী নয় , দায়ী সে দেশের আন্তর্জাতিক শ্রম আইন । তাঁরা তাঁদের জীবনদানের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়ে গেছেন একজন বিদেশী শ্রমিকদের উপর সে দেশের কি করনীয় । অথচ তারা তা না করে মানবাধিকার আইন লঙ্গন নিয়েই ব্যস্ত । 
সৌদি আরবে একজন বিদেশী শ্রমিকের বেতন যদি হয় বর্তমানে ৮০০ শত রিয়াল , আর তার খাওয়া খরচ বর্তমানে ৫০০ রিয়াল এবং আনুসাঙ্গিক খরচ যদি হয় ৩০০ রিয়াল , এবং তাকে যদি অন্যত্র কোন কাজ করতে দো না হয় , তবে সে কি করবে ? কেউ কি ভাবছেন ? এমতাবস্থায় সে যদি দেশে পারিবারিক ভরণপোষনের জন্য সৌদি আরবে চুরি করতে বাধ্য হয় , কাউকে খুন করে অর্থ ছিনিয়ে নেয় , কোন নারীর আর্থিক প্রলোভনে পড়ে অনৈতিক কর্মে জড়িয়ে যায় - তবে তার জন্য দায়ী কে ? ঐ প্রবাসী , না ঐ প্রবাসীর নিজ দেশের সরকার , নাকি ঐ প্রবাসীর নিয়োগকর্তা , নাকি ঐ প্রবাসী যে দেশে কর্মী হয়ে এসেছে সে দেশের সরকার ? এ প্রশ্নগুলোর যথাযত উত্তর কেউ কি দিতে পারবেন ? যদি দিতে না পারেন তবে দয়া করে কোন প্রবাসীকে অপরাধী ভাববেননা । কারণ , তারা অপরাধী নয় , তাদেরকে অপরাধ করতে বাধ্য করা হয় । 
প্রবাসী বাংলাদেশ , মদিনা , সৌদি আরব থেকে বিশেষ ফেইসবুক কলাম আজ এ পর্যন্তই । সবাই ভালো থাকুন , প্রবাসী সকল বন্ধুদের জীবন নিরাপদ , সুন্দর , সুশীল ও সুস্থ থাক - এ কামনায় সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ । 

MOHAMMED ZAKARIA SHAHNAGARI 
=====================================

সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ - ০৯


সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ - ০৯ 
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী 
--------------------------------- 

আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ্ । 
সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ । 
আজ বৃহস্পতিবার , ১৭ই অগ্রহায়ণ ১৪১৮ বঙ্গাব্দ , ৬ মহররম ১৪৩৩ হিজরী , ১ ডিসেম্বর ২০১১ ঈসায়ী । সৌদি আরব সময় ০৮ : ১৫ সকাল । 
প্রবাসী বাংলাদেশ , আল মদিনা , সৌদি আরব থেকে সকলকে বিজয় মাসের সংগ্রামী এবং প্রভাতী শুভেচ্ছা । 

------------------------------------------------------------------------- 

বন্ধুগণ ! 
আশাকরি সবাই ভাল আছেন । ভাল থাকুন তাই হোক কামনা । প্রবাসীদের সুখ - দুঃখ নিয়েই আমার ধারাবাহিক আয়োজনের আজ ৯ম পর্ব । আশা করছি এ পর্বেও কিছু সুখ - দুঃখ আপনাদের শেয়ার করতে পারব । গতকাল বলেছিলাম প্রবাসীদের মুল লক্ষ্য নিয়েই প্রবাস জীবন কাটানো জরুরী । মুল লক্ষ্য থেকে সরে গেলেই প্রবাসে দেখা দিতে পারে পদে পদে বিপদ । 
আমি গতকাল রাতে ডিনারের সময় আমার ইটিং পার্টনারের সাথে আলাপচারিতায় এমন কিছু তথ্য জানতে পেরেছি , যা জানার জন্য কখনো উদ্গ্রীব ছিলাম না । ইটিং পার্টনার বললো - তার একজন রুমমেট হোন্ডা নিয়ে বের হয়ে ৪দিন ধরে আর বাসায় ফিরেনি । চারদিন পর জানা গেলো লোকটি জেলে । পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গেছে হোন্ডাসহ সিগারেট পরিবহনের দায়ে । শুনেছি তার ভাই তাকে ছাড়ানোর চেষ্ঠা করছে । কিন্তু সিগারেট বিক্রির অপরাধে অপরাধী হওয়ায় তাকে ছাড়ানো যাচ্ছেনা । এমন ও হতে পারে , লোকটিকে দেশে চলে যেতে হবে , কয়েকদিন জেল খেটে । 
আর একজন লোকের কথা জানতে পারলাম - লোকটি আবাসিক হোটেলে কাজ করত সেই ফাঁকে হাজিদের কাছে সগারেট বিক্রি করত । একদিন লোকটি সিগারেট বিক্রি করে টাকা নেয়ার সময় সিগারেটের মুল্য নিয়ে এক হাজির সাথে তর্ক বিতর্ক শুরু হয় । এ দেখে অন্য এক হাজি হোটেল কর্তৃপক্ষকে ফোন করে । হোটেল কর্তৃপক্ষ এসেও যখন তাদের তর্ক থামাতে পারছিলনা , তখন অন্য হাজি পুলিশে ফোন করে । সাথে সাথে পুলিশ এসে লোকটিকে সিগারেট সহ হাতে নাতে ধরে ফেলে । তখন হাজিটি তার তর্কের কারণ জানাতে গিয়ে পুলিশকে বলে , ৭ রিয়ালের সিগারেট তার কাছ থেকে নেয়া হয়েছে ২০ রিয়াল । পুলিশ তখন লোকটিকে জব্ধ করার আরো একটা মুক্ষম সুযোগ পেল । চুরি তো চুরি , চুরির উপর সিনাচুরির মত ঘটনা ঘটায় লোকটিকে সাথে সাথে গাড়িতে তোলে পুলিশ নিয়ে যায় । তার স্পন্সর এসে তার পক্ষে সাফাই গাইবার সুযোগ না দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে তাকে চালান করে দেয়া হয় আউটর জেলে । যেখান থেকে প্রবাসীদের তাদের স্বদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয় । একদিন পরই তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয় । 
প্রবাসী ভাইয়েরা বলছিলাম কখনো লক্ষ্যচ্যুৎ হবেননা । তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে , অতি লোভে তাতী নষ্ঠের মতো ঘটনা ঘটা অবশ্যাম্ভাবি । আপনার মুল কাজটিতেই সন্তুষ্ঠ থাকতে চেষ্ঠা করুন । যদি তাতে আপনার লক্ষ্যপূরণ না হয় তবে আপনার স্পন্সরকে বলে কয়ে লিগাল ভাবে ভিন্ন কাজ করতে চেষ্ঠা করুন । তাতেও যদি আপনি সফল না হন , তবে নিজের জীবন তক্বদীরের উপর ছেড়ে দেয়া ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই । 
প্রবাসী বাংলাদেশ , মদিনা , সৌদি আরব থেকে বিশেষ ফেইসবুক কলাম আজ এ পর্যন্তই । সবাই ভালো থাকুন , প্রবাসী সকল বন্ধুদের জীবন নিরাপদ থাকুক - এ কামনায় সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ । 

MOHAMMED ZAKARIA SHAHNAGARI 
======================================

বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১১

সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ - ০৮



সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ - ০৮ 
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী 
--------------------------------- 

আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ্ । 
সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ । 
আজ মঙ্গলবার , ১৬ই অগ্রহায়ণ ১৪১৮ বঙ্গাব্দ , ৫ মহররম ১৪৩৩ হিজরী , ৩০ নভেম্বর ২০১১ ঈসায়ী । সৌদি আরব সময় ০৭ : ৪৫ সকাল । 
প্রবাসী বাংলাদেশ , আল মদিনা , সৌদি আরব থেকে সকলকে প্রভাতী শুভেচ্ছা । 
------------------------------------------------------------------------- 
বন্ধুগণ ! 
আজকের দিনটা কিভাবে শুরু করলেন আপনারা ? ঘুম থেকে উঠে একটা সুন্দর হাসি দেয়ার মাধ্যমে নাকি মুখটা মলীন করে ? যদি মুখটা মলীন করে দিনের যাত্রা শুরু করেন , তবে বলবো আপনার দিবসযাত্রা শুভ হয়নি । আর যদি আপনি সুন্দর একটা হাসি দেয়ার মাধ্যমে ঘুম থেকে উঠে থাকেন , তবে বলবো আপনার দিবসযাত্রা সূচিত হয়েছে শুভদিক উম্মোচনের মধ্য দিয়ে কারণ , হাসি - নির্মল মনের বহিঃপ্রকাশ , মুক্তমনের দর্পণ , সুখী জীবনের দেয়ালিকা আর সকালের হাসি - পুরাটা দিনের শুভময় সফরসঙ্গী । আশা করছি সবাই আজ সুন্দর হাসি দেয়ার মাধ্যমে দিবসযাত্রার সূচনা করেছেন । 
গতকালের বৃষ্টিস্নাতা রজনীর পর শীতাক্রান্ত মদিনাবাসী । রহমতের সওগাত পুরা রাতের তুমুল বৃষ্টি নিয়ে এসেছে মদিনায় গা হিম হয়ে যাওয়া শীতের প্রকোপ । এই শীতার্থ রজনীতে আমার ইটিং পার্টনার ধরে বসল তার হজ্জ করতে আসা শাশুরকে দেখতে যাবে । তখনও ডিনারের রান্না শেষ হয়নি । রাত হয়েছিলো ১২টা । বললাম - বসেন খেয়েই বের হওয়া ভাল হবে । দশমিনিটের মধ্যে রান্না শেষ হলো । দুজনে খাওয়া দাওয়া শেষ করে যখন বের হওয়ার জন রেডি , তখন পার্টনার বললো - আপনি বের হয়ে গাড়ি দেখেন , আমি বাসায় গিয়ে দু’টি গায়ের চাদর আছে সেগুলি নিয়ে নিই , হাজিদের প্রয়োজন হতে পারে। পার্টনার চলে গেলে আমি কোট গায়ে জড়িয়ে শীতার্থ রজনী ভেদ করে বেরিয়ে পড়লাম । স্থানীয় সময় তখন রাত সাড়ে ১২টা । বাইরে যখন বের হলাম মনে হলো হঠাৎ যেন আমার শরীরে কেউ বরাফ জড়িয়ে দিলো ! চলতে শুরু করলাম । কিছুদূর যেতেই পেছন থেকে পুলিশের একটা গাড়ী আমাকে অনুসরণ করলো । আস্তে করে গাড়ীটা আমার গায়ে লাগিয়ে দিলো । “ হাত ইকামা ! ’’ বাছ্ ! কি আর করা , বের করে দিতে হলো “ রেসিডেন্স পারমিট ’’ তাদেরকে । “ হয়েন রো ? ’’ মনে মনে বললাম , তোদের জ্বালায় আর পারিনা । আমি যেখানেই যাই তোদের কি ? “ রো বাগালা ! ’’ পাঁচ মিনিট ধরে দেখলো আমার রেসিডেন্ট পারমিটটি । মিথ্যার আশ্রয় নিতে বাধ্য হলাম আমি । মুদি দোকানে যাচ্ছি বলতেই ছেরে দেয়া হলো আমাকে । 
সৌদি আরবে ঘটমান বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইদানিং চেক হচ্ছে বেশী । তাই সৌদি আরবে বসবাসকারী প্রবাসী বন্ধুদের অনুরোধ করবো - আপনারা পথ চলতে , কথা বলতে সাবধান হোন । বিশেষ করে যেখানেই যান না কেন রাত ১২টার পুর্বেই বাসায় ফিরতে চেষ্টা করুন । আলাপের সময় লাগামহীন আলাপ থেকে বিরত থাকুন । সকল প্রকার অবৈধ কর্ম থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখুন , অন্যকেও বাঁচতে সাহায্য করুন । কোন প্রকার রাজনৈতিক আলাপ করবেননা । বিশেষ করে বহির্বিশ্বের সাথে সৌদি আরবের সম্পর্ক নিয়ে যে কোন আলাপ থেকে বিরত থাকুন । আপনার পিছনে বা আশে পাশে ঘুরছে ছদ্ধবেশে আইন শৃন্খলা রক্ষাকারী কর্মী । তাই রুমের বাহিরে বের হতেই সাবধানতা অবলম্বন করুন। 
সৌদি আরব ছাড়াও যাঁরা প্রবাসী আছেন , পথ চলতে সাবধানতা অবলম্বন করুন । আপনি যে দেশে আছেন সে দেশের আইন শৃন্খলা মেনে চলুন । অবলম্বন করুন আপনার লক্ষ্য কে । আপনি প্রবাসী হয়েছেন আপনার পারিবারিক স্বচ্ছলতার জন্য , স্বদেশের অর্থনীতির চাকাকে গতিবেগ দেয়ার জন্য - এটাই আপনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য । এ ছাড়া আর কোন লক্ষ্য নিয়ে আপনি প্রবাসী হননি । তাই অন্য কোন লক্ষ্য নয় । দেশ ত্যাগকালীন যে লক্ষ্যে আপনি বহির্বিশ্বে পা রেখেছেন , একমাত্র সে লক্ষ্য নিয়েই প্রবাস জীবন কাটাতে থাকুন । শ্রম দিয়ে সৎপথে আয় করুন , সকল প্রকার কুপথ থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখুন । 
প্রবাসী বাংলাদেশ , মদিনা , সৌদি আরব থেকে বিশেষ ফেইসবুক কলাম আজ এ পর্যন্তই - প্রবাসী সকল বন্ধুদের জীবন - মন সুস্থ থাক , নিরাপদ থাক - এ কামনায় সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ । 

MOHAMMED ZAKARIA SHAHNAGARI 
====================================== 

মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১১

সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ - ০৭



সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ - ০৭ 
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী 
--------------------------------- 

আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ্ । 
সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ । 
আজ মঙ্গলবার , ১৫ই অগ্রহায়ণ ১৪১৮ বঙ্গাব্দ , ৪ মহররম ১৪৩৩ হিজরী , ২৯ নভেম্বর ২০১১ ঈসায়ী । সৌদি আরব সময় ০৬ : ৩০ সকাল । 
প্রবাসী বাংলাদেশ , আল মদিনা , সৌদি আরব থেকে সকলকে প্রভাতী শুভেচ্ছা । 
------------------------------------------------------------------------- 

বন্ধুগণ ! 
কেমন আছেন ? মনে মনে কাল কতটুকু গালি দিয়েছেন আমায় আমার লেখাটি পড়ে ? নিশ্চয়ই অনেক তাই না ? আপনারা না বললেও আমি বুঝতে পেরেছি । ঠিক আছে বলতে হবেনা । যতই গালি দেন না কেন , আমি কিন্তু কানের বাহিরেই রাখি । তাই তো আপনাদের কিছু না বলে আবার আপনাদের সম্মুখে উপস্থিত হলাম । আজ রতন চৌধুরীর একটা গানের দু’টি লাইন দিয়েই শুরু করি কি বলেন 

অনেক দিন আগে শুনা , রতন চৌধুরী গেয়েছিলেন - 
“ যখন আমি থাকবোনা , কখনো ফিরে আসবোনা 
আমার নাম করবে স্মরণ , মোর কন্যা রত্না - স্বপ্না । “ 

হ্যাঁ , আমি মনে করি যারা দেশে সন্তান - সন্ততি রেখে প্রবাসী হয়ে একাকী ঘরে অবস্থান করছেন , তাঁরা আমার মতোই প্রতি রাতে এমনই ভাবেন - আমার খবর কেহই না নিক একদিন আমার সন্তানরা বড় হয়ে আমাকে স্মরণ করবেই , যেদিন আর আমি থাকবোনা , কখনো আর ফিরবোনা । 
এইতো কয়েকদিন আগের কথা - আমার সমবয়সী এক বন্ধু রাতে ঘুমানোর পর আর পৃথিবীর মুখ দেখতে পারেননি । ঘুমের মধ্যেই তিনি প্রবাসী জীবন ইতি দিয়ে অনন্তের পথে পা বাড়ালেন । ছিলোনা তাঁর পাশে তার কোন স্বজন । দেখতে পেলোনা তাঁর অবুঝ সন্তানেরা ৬৫০০ মাইলের দূরের বাংলাদেশ থেকে তাদের বাবার নিথর দেহটিও । শুনতে পেলেন না সেই প্রবাসী বন্ধু তার ছোট্ট মেয়েটির আদুরে কন্ঠের বাবা ডাক । অনেক স্বপ্ন ছিল তাঁর , দু’মাস পর তিনি তার মেয়েকে দেখতে যাবেন । তাঁর মেয়েকে বুকে নিয়ে খেলবেন । মেয়েটিকে নিয়ে তিনি বেড়াবেন দেশে গিয়ে । আরও কতই না তিনি স্বপ্ন বুকে ধরে রেখে ছিলেন । কিন্তু তাঁর সব স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়ে মরণ তাঁকে নিয়ে গেল , না ফিরবার দেশে । তাঁর পারিবারিক সম্মতিতে মৃত্যুর দীর্ঘ একমাস পর জান্নাতুল বাকীতে তাঁকে চিরদিনের মতো শুইয়ে দিলাম আমরা ক’জন তাঁর প্রবাসী সাথী । 
বেশ কিছুদিন পর আমাদের এক বন্ধু ঐ বন্ধুটির বাড়ি গিয়ে আমাদের শুনায় আর এক মর্মান্তিক কাহিনী । যখন তিনি মৃত বন্ধুটির বাড়ি গিয়ে পৌছান তখন মৃত বন্ধুটির ছোট্ট মেয়েঠি তাদের ঘরে উপস্থিত বন্ধুটিকে বাবা এসেছে বাবা এসেছে বলে চিৎকার করে তাঁর দিকে দৌড়ে আসছিল । কাছে এসে জড়িয়ে ধরলো তাঁকে । বন্ধুটি নির্বাক পাথরের মত দাঁড়িয়ে থাকলেন। মেয়েটিকে কোলে তুলে নিলেন । ততক্ষণে প্রতিবেশীরা চতুর্দিক থেকে এসে ভীড় জমে গেল । মেয়েটির মা কয়েকবার মূর্ছিত হলো । ঘরে যারা ছিল শুনা গেল সকলের বিলাপধ্বণি । প্রতিবেশী সবাই এই হৃদয় বিধারক দৃশ্য সহ্য করতে পারলোনা । সবারই নয়ন জলে হলো প্লাবিত । বন্ধুটি আর স্থির থাকতে পারলেননা । বসা থেকে উঠে চলে গেলেন নির্জনে । কিভাবে তিনি এ পরিবারকে শান্তনা দিবেন ? বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন তিনি । রাত্র ঘনিয়ে এলো । ছোট্ট মেয়েটি তাঁর কোল থেকে নামতে আপত্তি জানালো । কোনমতেই মেয়েটিকে বন্ধুর কোল থেকে নামানো গেলোনা । শেষমেষ তাঁকে ঐ বাড়িতেই রাত্রে থেকে যেতে হল । ভোরে যখন মেয়েটি তখনও ঘুমে , বন্ধুটির মেয়েটির পাশ থেকে উঠে তাকে না জানিয়ে নিজেদের বাড়িতে আসতে হল । 
এভাবেই প্রবাসীদের জীবন বিনা খবরে চলে যায় অনন্তের পথে । স্বজন বিহীন বিদেশ বিভুঁই একলা ঘরে মরে পড়ে থাকে সবার অজান্তে । থাকেনা কেউ দেখিবার । কলসে পানি আর হাতে চামচ নিয়ে তাকে শেষবারের মত পানি খাওয়াতে তার শিয়রে দাঁড়ায়না কেহ । তার স্বজনেরা পারেনা দিতে তার কবরে এক মুষ্টি মাটি । 


হায়রে প্রবাসী ! অপরের সুখে তুমি দিয়ে যাচ্ছ জীবন বলি , 
পাইলেনা জীবনে তুমি কোন সুখ , 
পরের তরে জীবন উৎস্বর্গ করে যাচ্ছ সবার অজান্তে তুমি চলি , 
পরার্থেই তুমি বরণ করে নিয়েছ জনম দুঃখ । 

ধন্য তোমার জীবন , পরার্থেই এসেছো তুমি এই ধরণীর তলে , 
স্বর্গ বরণ করেছো তুমি , যোগ দিয়েছো স্বর্গবাসীর দলে ! 
লক্ষ সালাম তোমায় , সম্মান জানাই তোমারই পায়ে মাথা টুকে , 
গৌরান্বিত তুমি , রয়ে যাবে অনন্তকাল এই প্রবাসীর বুকে । 

প্রবাসী বন্ধুগণ ! 
প্রবাসী হয়েছো বলে করোনা তোমাদের মনটি ছোট , 
প্রবাসে এসে থেকোনা বসে , 
পরকল্যানেই সুখ ভেবেই কর্মে মেতে উঠ । 

কেউ খবর নেয়না বলে ভেবো না তুমি কারো নও , 
প্রবাসী সকল তোমার আপন এই কথাটি মানিয়া লও । 

প্রবাসী বাংলাদেশ , মদিনা , সৌদি আরব থেকে বিশেষ ফেইসবুক কলাম আজ এ পর্যন্তই - প্রবাসী সকল বন্ধুদের মনন ও মস্তিস্ক সুস্থ থাক । তাঁদের এককীত্ব জীবন হোক কষ্টহীন । ভরে উঠুক সকলের জীবন লক্ষ্যে পৌঁছার আনন্দে - এ কামনায় সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ । 

MOHAMMED ZAKARIA SHAHNAGARI 
======================================= 


সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১১

সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ - ০৬



সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ - ০৬ 
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী 
--------------------------------- 

আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ্ । 
সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ । 
আজ সোমবার , ১৪ই অগ্রহায়ণ ১৪১৮ বঙ্গাব্দ , ৩ মহররম ১৪৩৩ হিজরী , ২৮ নভেম্বর ২০১১ ঈসায়ী । সৌদি আরব সময় ০৬ : ৩০ সকাল । 
প্রবাসী বাংলাদেশ , আল মদিনা , সৌদি আরব থেকে সকলকে প্রভাতী শুভেচ্ছা । 
------------------------------------------------------------------------- 
বন্ধুগণ ! 
কেমন আছেন ? ভালো থাকা - না থাকা বিষয়ে কাল একটুখানি লিখেছিলাম । তাই আজ আর লিখছিনা । দেখা যাক কি লিখতে পারি ? কি লেখা ব্রেনে আসে ঠিক এখনও বুঝতে পারছিনা । তাই অনির্ধারিত বিষয় দিয়ে লেখা শুরু করলাম । মনে হয় ব্রেনকে একটু ধার/তেজ দিলে লেখার বিষয় উঠে আসবে । ততক্ষণ একটু ব্রেনকে স্ক্যান করে নিই , কি বলেন ? 
যা হোক কিছুতো একটা লিখতে হবে , তা অখাদ্য হোক বা সুখাদ্য । আজ ইমাজিন চ্যানেলে ধারাবাহিক নাটকের একটা পর্ব দেখলাম । তাতে দেখানো হলো - একটা পরিবারের চারটা বাচ্ছা । খাবার সময় তিনটি বাচ্ছা তাদের বাবার কথামত খেয়ে নিল । অন্য বাচ্ছাটি কফি (অখাদ্য) রান্নার কারনে খানা না খেয়ে ঘুমিয়ে গেল । মধ্যরাতে ভুখাকষ্ট বাচ্ছাটি সহ্য করতে না পেরে লুকিয়ে সে খানা খেতে শুরু করলো । তা দেখে তার বাবা তার পাশে এসে বসলো । বাচ্ছাটি তার বাবারও না খাওয়ার কথা জানতে পেরে নিজ হাতে তার বাবাকেও খাইয়ে দিল । 
বন্ধুগণ ! আমার লেখাও তেমনই অখাদ্য । যা সবার সামনে কারো পড়া হয়না , কিন্তু লুকিয়ে লুকিয়ে এই অখাদ্য পড়ে বলে আমার ধারণা । যদিও কোন মন্তব্য ধরা পড়েনা , তবুও মনে হয় আমার অখাদ্য লেখাগুলো অনেকেই চোখে ধারণ করে । যদি তা না হতো , আমার এই লেখালেখি অটোমেটিকলী বন্ধ হয়ে যেতো । 
সে যাক , গাজাখোরি গল্প অনেক বললাম । এবার দেখি কিছু লেখা যায় কিনা । আমি কুমিল্লার প্রবাসী এক বন্ধুর সাথে শেয়ারে খানা খাই । গতকাল দুপুরের রান্নার দায়িত্ব ছিল আমার । কিন্তু আমি ঘুমিয়ে পড়ি সকাল দশটায় । খবর নেই , কখন বিকেল ৪টা বেজে গেছে। বন্ধুটি এসে অনেক্ষণ দরজা ধাক্কাল , রিং দিল কয়েকবার । শেষবার রিং বাজার পর দরজা খুলতে পারলাম । সে বলল - রাতে ঘুমানোর চেষ্টা করেন । আমি বললাম পুরা রাত শুয়ে থাকলেও ঘুম আসেনা । আর নির্ঘুম শুয়ে থাকলে একমাস পর মৃত্যু অবধারিত বিভিন্ন টেনশানে । তাই কম্পিউটারে বসেই রাত পার করি । তাকে বললাম - নামাজ পড়ে আসেন আমি ততক্ষণে রান্না করে নিই । দুপুরে পাকানোর কথা ছিল মুরগী । কিন্তু সর্ট টাইমে আর মুরগী পাক হলোনা । পূর্বদিনের ডাল রান্না ছিল । তড়িঘড়ি করে ২ রিয়ালের ৪টা ডিম আর ১ রিয়ালের ধন্যপাতা এনে ফ্রাই করে লাঞ্চ সেরে ফেললাম বিকেল ৫টায় । পেঠ শান্তি হলো । পেলাম এক অশান্তির খবর । 
দীর্ঘ ৩ মাস ধরে জরুরী প্রয়োজনে ব্যাংকে একটা একাউন্ট খোলার চেষ্ঠা করছি আমরা দু’জন লোক - একজন আমি আর অন্যজন ইন্ডিয়ান কলকাতার এক বাঙ্গালী বন্ধু । কিন্তু বিভিন্ন অসুবিধা দেখিয়ে আমাদের ব্যাংক একাউন্ট ওপেন করতে চাচ্ছেনা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ । এ পর্যন্ত ২৫ টা ব্যাংকে ধর্ণা দিয়েছি । কোনভাবেই সফল হতে পারিনি । গতকাল অন্য একটা ব্যাংকে কলকাতার বন্ধুকে পাঠিয়েছিলাম । সে টেলিফোন করে বলল - আজ হবেনা । ব্যাংকে অনেক আবেদন জমা হয়ে গেছে । ১৫ দিন পর দেখা করতে বলেছে ! শান্তির আভাস পেয়ে ও অশান্তির ছোঁয়া এসে মনটা বিষয়ে দিল । এদিকে আমরা যত আগে একাউন্ট করতে পারি তত আগেই আমাদের উদ্দেশ্য সফল হবার কথা । কিন্তু তা ততই দেরীতে চলে যাচ্ছে । আমাদের অশান্তি বাড়ছে । এই হলো বিদেশের বি-প্যাঁচ , জিলাপীর মতো এখানে শুধু প্যাঁচ আর প্যাঁচ । 
বন্ধুগণ ! মনে করেছিলাম , আজ কিছু লিখতে পারবনা । শেষ পর্যন্ত লিখেই ফেললাম আপনাদের দোয়ায় লেখা স্বরূপ একটা অখাদ্য । ভাল লাগলে পড়বেন । ভাল না লাগলে গালি দেবেননা প্লীজ । 
প্রবাসী বাংলাদেশ , মদিনা , সৌদি আরব থেকে বিশেষ ফেইসবুক কলাম আজ এ পর্যন্তই - আপনাদের সকলের জীবন সুখ-সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক - এ কামনায় সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ । 

MOHAMMED ZAKARIA SHAHNAGARI 
======================================= 

রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১১

সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ - ০৫



সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ - ০৫
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী 
--------------------------------- 

আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ্ । 
সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ । 
আজ রবিবার , ১৩ই অগ্রহায়ণ ১৪১৮ বঙ্গাব্দ , ২ মহররম ১৪৩৩ হিজরী , ২৭ নভেম্বর ২০১১ ঈসায়ী । সৌদি আরব সময় ০৭ : ৩০ সকাল । 
প্রবাসী বাংলাদেশ , আল মদিনা , সৌদি আরব থেকে সকলকে প্রভাতী শুভেচ্ছা । 
------------------------------------------------------------------------------------

কেমন আছেন প্রবাসী বন্ধুগণ । আশা করছি সবাই ভাল । অবশ্য বলছিনা সবাই দেশে যে রকম ভাল থাকতেন , সে রকম ভাল আছেন । একটা গান শুনেছিলাম অনেকদিন আগে । ঠিক মনে নেই , তবে এ রকমই হবে - 
“ ............... আমি অভিনয় করছি ........., ভাল আছি ............মুখস্থ সংলাপ বলছি ’’ । 
প্রবাসীদের জীবন ও এমনিই । আমরা অভিনয় করে যাই । শত কষ্টের মাঝেও আমাদের বলতে হয় - আমরা ভালো আছি । বাড়ি থেকে ফোনে যখন আত্মীয়-স্বজন জিজ্ঞেস করে “ কেমন আছ ? ’’ তখন কি আর বলা যায় ? বিদেশের মাঠিতে আমরা জেলে থাকি কিংবা হসপিটালে মৃত্যু যন্ত্রণায় চটপট করতে থাকলেও তাদের খুশির দিকে লক্ষ্য রেখে বলতে হয় - আমরা ভালো আছি । এটাই আমাদের নিত্যদিনের অভিনয় । ভাল থাকি আর না থাকি মুখস্থ করা এই সংলাপটি আমাদের বলতেই হয় । 
প্রবাসী বন্ধুগণ ! আমার মনে হয় আমার মত আপনারা তাই করছেন । ভাল না থাকলেও করে যাচ্ছে ভাল থাকার অভিনয় । পরিবারের সাথে বলছেন সেই মুখস্থ সংলাপ - “ আমি ভাল আছি ’’। বন্ধুগণ ! বলবেন কি ? আসলেই কি আপনারা প্রবাসে ভাল আছেন ? 
গতকাল সন্ধ্যায় আহসান উদ্দিন সুমন নামের এক বন্ধুর সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম । আমার কাছে কিছু টাকা পেত , তা দিতেই তার কাছে যাওয়া । বাবা মায়ের বড় ছেলে সে । খুবই সহজ সরল । বাড়ি মিরশরাই , চট্টগ্রাম , আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে। আমার কোন আত্মীয় না হলেও কতদিন একসাথে থাকায় আত্মার আত্মীয় রূপে প্রতিষ্ঠিত। প্রায় আড়াই বছর থেকে তার সাথে পরিচয় । এক বছর পূর্বে আমরা একসাথে থাকলেও এখন দু’জন প্রায় ৫ কিলোমিটার দুরে অবস্থান করছি । 
তার কুশলাদি জিজ্ঞেস করতেই বলল - “ কেন যে ঘরের বড় হয়ে জন্মালাম ’’! 
বললাম - কেন , কি হয়েছে ? 
সে বলল - প্রবাসী হয়েছে সে ৮ বৎসর । এখনো দেশে যাওয়া ভাগ্যে জোটেনি । বড় ছেলে হওয়াতে তার দায়িত্ববোধ তাকে এ পর্যন্ত দেশে যেতে দেয়নি । বয়স ৩২ । বিয়ে ভাগ্যও কপালে জোটেনি এখনও । সময় গড়িয়ে যাচ্ছে । জীবনের ইচ্ছা আকান্খা সকল দায়ভারের করতলে ধ্বংস হচ্ছে । পরিবার তার জীবন সম্পর্কে ভাবছেনা । 
আমার মনে হলো তার পরিবার যদি তার জীবন নিয়ে ভাবতো , তাকে একনাগাড়ে ৮ বৎসর সৌদিতে বা প্রবাসে কাটাতে হতোনা । তারও মন চায় একবার দেশে গিয়ে তার পরিবার দেখতে , দেশের মাটির গন্ধ শুকতে , দেশর নির্মল হাওয়া গায়ে লাগাতে । বিয়ে করে সাংসারিক হতে । কিন্তু তা সে পারছেনা । দায়িত্ববোধ তাকে দেশে যেতে দিচ্ছেনা । তার ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে । স্পন্সরকে ৫০০০ রিয়াল দেয়া সত্তেও আরো ২০০০ রিয়ালের জন্য তার ওয়ার্ক পারমিট দিচ্ছেনা । এমনি আরও অজস্র পেরেশানীতে চলছে তার প্রবাস জীবন । ভাল আছে কি না জিজ্ঞেস করতেই সেও বলল সেই মুখস্থ সংলাপ - “ আমি ভাল আছি ’’! 
প্রবাসী বন্ধুগণ ! আমি জানি , আপনারাও হাজারো দুশ্চিন্তায় প্রবাস জীবন অতিবাহিত করছেন । যা জানতে পারছেনা আপনাদের পরিবার , আত্মীয় স্বজন । আপনারা তাদের হাসিমুখ দেখার জন্য তাদের তা জানতে দিচ্ছেন না । 
কি কোরবানী প্রবাসীদের তাদের পরিবারের জন্য , স্বদেশের জন্য । অথচ , একটি বারের জন্যও প্রবাসীদের পরিবার - আত্মীয় - স্বজন - স্বদেশ সে কোরবানী সম্পর্কে জানতে চায়না ! ভাবতে চায়না প্রবাসীদের জীবন নিয়ে ! কি বিচিত্র প্রবাসীদের পরিবার , আত্মীয় , স্বজন , স্বদেশ । দেশে যখন কোন পরিবারের সদস্য ২/১ দিনের জেলে যায় , তখন তাকে ছাড়ানোর জন্য কত কিছুই না করে । অথচ সেই পরিবারের কোন সদস্য বিদেশ নামের জেলখানায় উপনীত হয়ে বছরের পর বছর কাটিয়ে দিলেও তার মনের খবর জানার কোন লোক থাকেনা ! তাকে নিয়ে কেউ ভাবেনা ! 
প্রবাসী বন্ধুগণ ! মনের কথা অনেক বললাম । আগামীতে আরো বলার আশা রাখি । ভাল থাকুন সবাই । জীবনে শান্তি খুঁজে না পেলেও অপরকে শান্তি দিয়ে যান নিজ জীবনের কোরবানীর বিনিময়ে । ধরে নিন - 
“ ....................................... প্রত্যেকে আমরা পরের তরে ’’ । 
প্রবাসী বাংলাদেশ , মদিনা , সৌদি আরব থেকে বিশেষ ফেইসবুক কলাম আজ এ পর্যন্তই - আপনাদের সকলের জীবন সুন্দর হোক , শান্তির শীতল ধারা বয়ে যাক সকল প্রবাসী বন্ধুর জীবনে , ধৈর্য ও সততার ভিত্তিতে সকলের জীবন হোক মাধুর্যময় - এ কামনায় সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ । 

MOHAMMED ZAKARIA SHAHNAGARI 
======================================