আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা
বাংলা ভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী
সকল মহান ভাষা শহীদগণের প্রতি,
এবং ভাষা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত
সকল ভাষা সৈনিক
ও বীর বাঙ্গালীদের জানাই অশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলী,
সেইসাথে সকলকে জানাই
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা।
বিষয় সূচী
APNAKE SHAGOTOM
সকলকে বাংলা নতুন বছরের শুভেচ্ছা
অথচ একদিন আমরা বাঙ্গালী জাতি একতাবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রীয় ভাষা উর্দুকে ত্যাগ করে নিজেদের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা তথা বাংলা ভাষাকে সর্বত্র প্রচলন করতে প্রাণ দিতে বাধ্য হয়েছিলাম ! ফলে বিজাতীয় ভাষা উর্দূকে অপসারন করে নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলার স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলা ভাষাকে ধারন করেছিলাম । যখন আমরা বাংলার সর্বত্র বাংলা ভাষায় কথা বলা শুরু করেছিলাম ,তখন কিন্তু বিশ্বায়নের যুগটা অনুপস্থিত ছিল তা নয় , বিশ্বায়নের যুগটা তখনও ছিল বিধায় আমরা ইংরেজী শিক্ষায় তখনও বাধ্য ছিলাম । অর্থাৎ যে জন্যে আজ আমরা ইংরেজী শিখছি সেইজন্যে তখনও ইংরেজী শিক্ষার প্রচলন ছিল । ছিল ইংরেজী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাও । তাই বলে সে সময় বর্তমান সময়ের মত মাতৃভাষা বাংলাকে অবমাননা করা হয়নি । মানুষ সে সময় বাংলায়ই কথা বলেছিল । শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রেই সে সময় ইংরেজী ব্যাবহার করেছিল বাঙ্গালী জাতি ।
conduit-banners
Powered by Conduit |
বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৪
অবৈধ - সন্ত্রাসী - স্বৈরশাসক আওয়ামী সরকার বিরোধী আন্দোলনে সফল হতে বিএনপির প্রতি ১০টি প্রয়োজনীয় টিপস।
রবিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
দেখতে চাই তরুনদের সেই তারুণ্যের অগ্নিশিখা, যা রপান্তরিত হবে দেশের জন্য শান্তির সুবাতাস রূপে
" আজ আমরা শপথ নিলাম , আমরা সকল দূর্নীতি থেকে দেশকে বাঁচাতে আজ থেকে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করলাম। দেশ লুন্ঠনকারীদের বিরুদ্ধে তাদের মূলোৎপাঠনে আমরা আজ থেকে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম। সকল প্রকার অন্যায় - অনাচারের বিরুদ্ধে আমরা আজ থেকে রুখে দাঁড়ালাম। চুরি-ডাকাতি-রাহাজানি-সুদ-ঘুষ-খুন-গুম-অপহরণ-ধর্ষণ-নির্যাতন ইত্যাদি অনৈতিক কর্মের বিরুদ্ধে আজ আমরা অতন্দ্র প্রহরী হিসাবে নিজেদের নিয়োজিত করলাম। আজ আমরা এমন একটা পৃথিবী বিখ্যাত কর্ম ধারণ করলাম যা দিয়ে আমরা আমাদের দেশকে একটা পৃথিবী বিখ্যাত সভ্য দেশ হিসাবে চিহ্নিত করব। "
কিন্তু নাহ ! আমাদের তরুনদের মাথায় এ তারুণ্য শক্তি ডুকবেনা। কারণ আমাদের তরুনদের সেই তারুণ্য শক্তি ক্ষয়মান আমাদের দেশের নোংরা রাজনীতির ডাস্টবিনে পড়ে। আমাদের দেশের তরুনদের সেই তারুণ্য শক্তি ধ্বংসমান আমাদের দেশের অসৎ রাজনীতিবিদদের অসৎ মেধার করালগ্রাসে।
প্রশ্ন জাগে - আমাদের দেশে সেই তরুণ জাগবে কবে , যারা শুধুমাত্র দেশগঠনেই লড়বে ? আমাদের দেশের তরুণদের সেই তারুণ্য শক্তি উদগীরন হবে কবে , যেদিন তাদের তারুণ্য অগ্নিশিখা রূপান্তরিত হবে শান্তির সুবাতাস রূপে ?
বৃহস্পতিবার, ১ নভেম্বর, ২০১২
একটা প্রশ্নের উত্তর জানতে চাই ?
আর " স্বনির্ভরতা অর্জনে আমরা বিদেশী পণ্য বর্জন করব " এই মহামূল্যবান সুত্র দিয়েই ইন্ডিয়া আজ তার প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতাসম্পন্ন এবং তা অর্জনে স্বচেষ্ঠ। আজও দেখতে পাই তাদের সেই দেশপ্রেম এই প্রবাসে বসে। ইন্ডিয়ানরা দেশে যাবার সময় প্রবাস থেকে তেমন কোন মার্কেটিং করেনা, কোন প্রকার বস্ত্র তো নয়-ই । এই হলো ইন্ডিয়ানদের দেশপ্রেম আর দেশের স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য তাদের প্রচেষ্ঠা।
আর আমরা দেশপ্রেমের পরিচয় দিই দেশের কলকারখানায় উৎপাদিত পণ্য বসিয়ে রেখে এবং পঁচিয়ে ফেলে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানী করে বাজারজাত করার মাধ্যমে। এই ঈদের চ্যানেল আইয়ের কৃষকের ঈদ আনন্দ অনুষ্টানে সচিত্রে দেখানো হলো তারই একটা প্রমাণ। দেশে উৎপাদিত কোটি কোটি টাকার চিনি কারখানার গুদামে বসিয়ে রেখে বিদেশ থেকে চিনি আমদানী করে দেশের চিনি শিল্পকে কিভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে। দেশীয় চিনিকল ধ্বংস করে দেখানো হচ্ছে দেশপ্রেমের প্রদর্শনী। হায়রে দেশপ্রেমিক !
আমাদের নেতারা বিদেশ থেকে আমদানী করা সার্ট প্যান্ট গায়ে না জড়ালে তারা নেতা রূপে পরিচিতি পান না । আর ইন্ডিয়ার মহাত্মা গান্ধীর মত নেতারা উলঙ্গ পায়ে হেঁটে এক জোড়া সেলাইবিন কাপড় গায়ে দিয়েও পরিচিতি পান বিশ্বনেতা রূপে ! কি দারুন নেতাদের দেশপ্রেমের নমুনা !
ইন্ডিয়া আমাদের চ্যানেলগুলো সে দেশে প্রদর্শনে বন্ধ রেখেছে , আর আমাদের দেশ ইন্ডিয়ার চ্যানেলগুলো অবাধে খুলে দিয়েছে , দেশপ্রেমের নমুনা স্বরূপ ! আর বেশী কিছু তুলে ধরতে মন চাইছেনা ,তাই এখানেই ক্ষান্ত দিলাম। তবে শেষ করার আগে একটা প্রশ্নের উত্তর জানতে চাই - দেশপ্রেম কি ও কেন ?
শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২
অপরাধীদের জন্য বিদেশ হোক কারাগার এবং সাজা হোক বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যম
আজকের চীন, জাপান, জার্মানের দিকে তাকিয়ে দেখলে বুঝা যাবে, তারা কত পরিশ্রমী জাতি। অলসতাহীন সামান্য মেধার উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে কতইনা তারা উন্নতির শিখরে আরোহন করেছে। ছোট্টকালে পড়েছিলাম , চীন জাতি বিশ্বের সর্বাধিক পরিশ্রমী জাতি। তাদের মাঝে নেই কোন অলসতা, নেই কোন অবহেলা। তাই তারা সভ্য জাতি। চীন, জাপান, জার্মানে নেই কোন অপরাধ প্রবনতা। আছে শুধুই উন্নয়নের চিন্তা।
আর একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে , অষ্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার ন্যায় উন্নয়মুখী কর্মধারা। কি আছে মালয়েশিয়া আর সিঙ্গাপুরে ? কতদিন লাগল এ দু’টি দেশ উন্নয়নের শিখরে আরোহন করতে ? অল্প দূরের এ দু’টি দেশের উন্নয়নে আমরা আমাদের দেশের জনশক্তি রফ্তানী করছি । আর তারা কিভাবে করছে আমাদের দেশ থেকে জনশক্তি আমদানী ? কিভাবে তারা এ জনশক্তি কাজে লাগাচ্ছে ? কিভাবে তারা দেশের মানুষ দেশের বাইরে যেতে না দিয়ে দেশেই থাকতে বাধ্য করছে আর কিভাবে অন্য দেশ থেকে মানুষ নিয়ে সেখানে তাদেরকে বেতন দিয়ে পুষছে ?
সিঙ্গাপুরে আছে শুধু একটা পোর্ট বা পোতাশ্রয়। আর মালয়েশিয়ায় কি আছে তা জানে তারাই , যারা এদেশ থেকে সেখানে বেড়াতে গেছে বা সেদেশের কলকারখানার কর্মী হয়ে গেছে। মালয়েশিয়া পর্যটনের দেশ। কলকারখানার দেশ। আমাদের দেশের অর্ধেক সম্পদও উক্ত দু’টি দেশে রয়েছে কিনা সন্দেহ। অথচ কত উন্নত এ দু’টি দেশ ! এশিয়ার উক্ত ছোট্ট দু’টি দেশ আজ অল্প সময়ে ধনী দেশে রূপান্তরিত। কিভাবে ? তাদের এ রূপান্তর আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের মত দেশের সম্পদ লুন্ঠণ , ভাগাভাগি করে নিজেদের গোলাভর্তি করে নয় , নয় চুরি - ডাকাতি – রাহাজানী – খুন – অপহরণ – চিন্তাই – করেও । একমাত্র মেধা ও শ্রম দিয়ে এবং অলসতাকে দূরে ঠেলে দেশপ্রেমের মত শক্তিশালী অস্ত্রের জোরে অল্প সময়েই বিশ্বের বুকে এ দু’টি দেশ নিজেদের দাঁড় করিয়ে দিয়েছে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে। আর আমরা সে দু’টি দেশের সমবয়সী হওয়া সত্বেও এখনো কত পিছিয়ে !
যা হোক , উন্নয়নশীল দেশের গল্প বলে কলেবর বৃদ্ধি করা আমার উদ্ধেশ্য নয়। আমরা কেন উন্নয়নের পথে পিছিয়ে এবং কিভাবে উন্নয়নের পথে পরিভ্রমণ করতে পারি সেটা নিয়ে কিছু লেখাই আমার উদ্দেশ্য।
অলসতা, অবহেলা, দূর্নীতি, কর্মবিমুখতা, মেধাশক্তির অস্বীকার ও নির্লিপ্ততা, সময়ানুবর্তিতার অনুপস্থিতি, পারস্পরিক রেষারেষি, মেধা বিকাশে প্রতিবন্ধকতা, অসুস্থ রাজনীতি, আত্মবিশ্বাসের অভাব, বেকারত্বের লালন, কর্মক্ষত্র সৃষ্টির জ্ঞানহীনতা, অপরাধ প্রবণতা, উন্নত চিন্তার অনাগ্রহ, দলাদলি, সঠিক কর্মপদ্ধতির অভাব, সর্বোপরী ক্ষমতার লড়াইয়ে উপনীত হওয়া – ইত্যাদি কারণে আমাদের দেশ আজ উন্নতির সোপান থেকে পীছনে পড়ে আছে।
আমাদের দেশের একটি রসাত্মক প্রবাদ- “নয়টার গাড়ী কয়টা ছাড়ে”? অর্থাৎ, যে গাড়ী নয়টায় ছাড়ার কথা সে গাড়ী ছাড়ার কোন টাইম নেই বা কয়টায় ছাড়বে তার কোন ঠিক নেই। সময় বেঁধে দেয়া থাকলেও আমাদের দেশে কর্মটি নির্ধারিত সময়ে করা হয়না। তাই, আমরা পিছিয়ে আছি। সময়ানুবর্তীতা আমাদের কাছে অনুপস্থিত। ঘড়ি হাতে থাকলেও আমরা বলতে পারিনা সঠিক সময়। আমরা যখন বেলা নয়টায় ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে অফিসে যেতে তৈরী হই, চীনজাতি তখন তাদের দিনের অর্ধেক কাজ সমাপ্ত করে ফেলে। চীন জাতিরা ভোর চারটায় ঘুম থেকে উঠার সময় বিছানা ঘুটিয়ে ফেলে। আবার রাতে ঘুমুতে যাবার সময় রাত দশটায় বিছানা বিছায়। বিছানা ঘুটিয়ে ফেলার কারণ হল, তারা যদি কখনো ঘরে আসে তবে একটু শুতে মন চাইবে। তাই দুপুরে চেয়ারে হেলান দিয়ে তারা সামান্য বিশ্রামের পর শুরু করে পুনরায় কর্ম। এমনই এক পরিশ্রমী জাতি চীন।
অথচ আমরা ! বেলা ন’টায় ঘুম থেকে উঠি। অফিসে উপস্থিত হই দশটা বা এগারোটায়। চা পান, গায়ের কোট খুলে চেয়ার সাজিয়ে রেখে, গলার টাঁই বা ফাঁস ঢিলা করে কাজ শুরু করি এগারোটা বা বারোটায়। আবার দুপুরে রেষ্ট তিনঘন্টা। আবার কাজের ফাঁকে রয়েছে বিপরীত লিঙ্গের সহকর্মীর সাথে আলাপচারিতা আর এখন নতুন যোগ হয়েছে ফেইসবুকের মঞ্চে সময় কাটানো। কর্মদিবস শেষ বিকেল পাঁচটায়। সব মিলিয়ে যদি ঠিক ভাবে কাজের হিসাব করি, তবে আমাদের দিনের কর্মঘন্টা হবে দুই থেকে তিনঘন্টা। অথচ মে দিবস পালন করা হয় আট ঘন্টা শ্রমের স্বার্থে। কিন্তু, আমাদের দেশে কিছু সৎ ও ন্যায়-পরায়ন সময়ের মূল্য দানকারী মহৎ ব্যক্তি মহোদয় এবং কলকারখানার হার্ডকোর লেবার ব্যতিত আদৌ অফিসারদের কেউ আট ঘন্টা কর্ম করেন কি না জরীপের বিষয়।
বিগত ১৯শে জুলাই ২০০২ ইং তারিখে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় – “মিটিং, সিটিং, ইটিং – এ মন্ত্রী সচিবদের দিনে ১৯০ কর্মঘন্টা (অতিবাহিত)’’। এই যদি হয় একটি দেশের অবস্থা তবে সেই দেশ কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে সেটাই বিবেচ্য। যদি সাধারণ শ্রমিকদের ন্যায় আমাদের অফিসারগণ দৈনিক ওভারটাইম বাদ দিয়ে আট ঘন্টা পরিশ্রমও যথাযতভাবে করতেন তবে আমাদের সোনার বাংলা সোনার মোড়কে মোড়ানো যেতো বৈকি।
আমাদের দেশে অপরাধী ধরা পড়লে পাঠিয়ে দেয়া হয় কারাগারে। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর সাজা দেয়া হয় তাদের কারাগারে আটক রেখে। সেখানে অপরাধীরা বেকার ভাবে বসে থাকে। খায়, ঘুমায়। চিন্তায় তাদের জন্ম নেয় কিভাবে তারা আরো বড় অপরাধী হতে পারবে। কারাগারে আটক বড় বড় অপরাধীদের মিশে ছোট অপরাধীরাও বড় অপরাধী হয়ে এক সময় বের হয়। কারণ, কারাগারে আটক অপরাধী গুরুরা সেখানে বসে তাদের অতীত জীবনের অভিজ্ঞতা সাগরেদদের বয়ান করে থাকে। যার ফলে সাগরেদরা গুরুদের দেয়া বয়ান অনুযায়ী কাজ করতে ইচ্ছাপোষণ করে। পরবর্তীতে সাগরেদরা কারাগার থেকে বের হয়ে শুরু করে আবার অপরাধের। কি লাভ হলো তাদের কারাগারে আটক রেখে ? কোন লাভই হয়নি, হয়নি তারা সংশোধন। হয়েছে সরকারের লোকসান। অর্থভান্ডারের অর্থ কমেছে। অপরাধীদের বসিয়ে বসিয়ে বেকার রেখে বছরের পর বছর খাওয়াতে হয়। এক টাকাও অর্থভান্ডারে জমা হয়না, হয় খরচ। অপরাধীদের কারাগারে এভাবে আটকে রেখে তাদের সংশোধন করা যায়না। বরঞ্চ সে অপরাধীদের বড় অপরাধী হিসেবেই রূপান্তর করা যায়। করা হয় জাতির ক্ষতি।করা হয় জাতীয় নিরাপত্তার বিলুপ্তি।
এমতাবস্থায় আমার একটা প্রস্তাব হলো – যে অপরাধীই ধরা পড়ুকনা কেন তাকে সংশোধন এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থে এমন সাজা দেয়া হোক, যাতে অপরাধী নিজে সংশোধন হবে, সেই সাথে সেই অপরাধী তার পারিবারিক ও জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখবে। আজ দেশের অনেক মেধাবী ও দক্ষ জনশক্তি বিদেশে অবস্থান করছে। তারা বৈদেশীক মুদ্রা অর্জন করে তা দেশে পাঠিয়ে জাতীয় উন্নয়নে ভুমিকা রাখছে। অথচ এদের প্রায়ই জনসমষ্টি দেশে কাজ না পেয়ে অপরাধীদের ভয়ে দেশান্তরীত হয়েছে। যাদের দিয়ে দেশ অনেক উন্নতির পথ সৃষ্টি করতে পারতো।
অন্যদিকে দেশে অবস্থানকারী অপরাধীরা জাতীয় উন্নয়নের বিবিধ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তাই, অপরাধীদেরকে জনশক্তি রফতানী হিসাবে বিদেশে পাঠিয়ে দেশের জাতীয় উন্নয়নে সম্পৃক্ত করা যেতো। দেশের মেধাশক্তি বিদেশে না পাঠিয়ে একমাত্র অপরাধীদেরকেই বিদেশে পাঠিয়ে বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনের পদক্ষেপ নেয়াই হতো শোভনীয়। মেধাশক্তি দেশে কাজে লাগিয়ে এবং অপরাধীদের সাজা হিসাবে বিদেশে পাঠিয়ে দেশের উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতা দূর করে উন্নয়ন করা যেতো।
এখন যারা বিদেশে অবস্থান করছে তাদের বেশীর ভাগই দুই/তিন বৎসর পূর্বে দেশে গমন করতে পারেনা, পারেনা বিদেশে কোন অপরাধ করতে। কাজ না করেও বিদেশে বসবাস করতে পারেনা। খেতে গেলেই কাজ করতে হয় বিদেশে। তাই , যদি কোন অপরাধীর ধরা পড়ে জেলে যেতে হয়,তবে তাকে জেলে পাঠিয়ে সাজা দেয়ার চাইতে নিদ্রিষ্ট মেয়াদে বিদেশ পাঠিয়ে দেয়াই ভাল হবে বলে মনে করি। যদি সরকারী ভাবে অথবা আদালত কর্তৃক পারিবারিক ভাবে চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ঐ অপরাধীকে সাজা স্বরূপ দুই বৎসর , তিন বৎসর, পাঁচ বৎসর , দশ বৎসর এভাবে বিভিন্ন মেয়াদের জন্য বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়, তবে অপরাধী নিজেও সংশোধন হবে, সাথে সাথে পারিবারিক ও জাতীয় উন্নয়নে বৈদেশীক মুদ্রা পাঠিয়ে অংশগ্রহণ করতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারী ভাবেই (জেলে বসিয়ে বেকার ভাতা না দিয়ে) অপরাধীদের দেশের রাজস্ব ফান্ড থেকে ঋণ স্বরূপ বিদেশ যাবার খরচ প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে বিদেশ পাঠানো যেতে পারে। কেননা, ঐ অপরাধীদের কারাগারে ভরে রাখলে সরকারের বা দেশের যে ক্ষতি হবে , তাদেরকে বিদেশ পাঠালে সেই ক্ষতি থেকে দেশ বা সরকার নিরাপদ থাকতে পারবে। বরঞ্চ সরকার তাতে লাভবান হবে।
যদি অপরাধীদের সরকারীভাবে জনশক্তি রপ্তানী হিসাবে বিদেশ পাঠায়, তবে সরকারের লাভবান হবার পথ এভাবে করা যায় – সরকার যে দেশে তাদেরকে জনশক্তি হিসাবে রপ্তানী করবে সে দেশের সহিত একটা চুক্তি করবে যে, উক্ত অপরাধী (জনশক্তি)কে সে দেশে নিদ্রিষ্ট মেয়াদে নিয়োগ দান করা হবে। আর তাকে ঐ নিদ্রিষ্ট মেয়াদের পূর্বে দেশে গমনের ছাড়পত্র দেয়া যাবেনা। তার জন্য নিদ্রিষ্ট মজুরী বাবদ অর্জিত বৈদেশীক মুদ্রার একটা নিদ্রিষ্ট অংশ তার নিজের খরচের জন্য নির্ধারিত করে দিয়ে বাকি অর্থ সরকার নিজ আওতাধীনে দেশে আনার ব্যবস্থা করবে। ঐ অর্থ থেকে সরকারের প্রদানকৃত খরচ কিস্তিতে গ্রহণ করে বাকি অর্থ তার পরিবারের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। এমতাবস্থায় উক্ত অপরাধীর সাজাও হবে, তার দ্বারা বৈদেশীক মুদা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে সহযোগীতা ও করা হবে।
তাছাড়া, অপরাধী নিজেকে সংশোধন ও কর্মমুখী করে নিবে। বেকারত্বের চিন্তা তার কাছ থেকে সরে যাবে। সরে যাবে তার মাথা থেকে অপরাধ প্রবনতার ভুত। অপরাধ চিন্তা তার মাথা থেকে সরে গিয়ে কর্মমুখী হয়ে প্রতিষ্ঠিত হবে সে একজন ভাল মানুষ রূপে। সাজাকালীন তার পাঠানো যে অর্থ সঞ্চিত হবে দেশে, সাজা শেষে সে দেশে এসে সেই সঞ্চিত অর্থ নিয়ে ভাল একটা কাজের সন্ধানে নামতে পারবে। অপরাধী থেকে মানুষ হয়ে পরিচিতি লাভ করতে পারবে।
দেশের লক্ষ লক্ষ অপরাধী আজ বিভিন্ন কারাগারে আটক রয়েছে। সরকার তাদের লালন করছে সরকারী রাজস্ব ফান্ড থেকে খরচ দিয়ে। কোটি কোটি টাকা তাদের পীছনে ব্যয় হচ্ছে। জাতীয় আর্থিক ফান্ডের ক্ষতি হচ্ছে তাতে। ওদিকে তাদের আটক রাখায় তাদের পরিবার আর্থিক ভাবে অভাব অনটনে ধুঁকে ধুঁকে মরছে।দেশের লক্ষ লক্ষ অপরাধী দেশের সর্বত্র অপরাধী জীবন নিয়ে আইন ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ঘুরছে তারা বেকার হয়ে। জাতীয় উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বিভিন্নভাবে। বাড়ছে অপরাধ । হচ্ছে ক্ষতি নানামুখী। সরকারের দায়িত্ব – আটক সাজাপ্রাপ্ত ঐ সব অপরাধীদের বসিয়ে বসিয়ে না খাওাইয়ে ঐ খরচ দ্বারা উক্ত অপরাধীদের সংশোধনের উপযুক্ত পথে পরিচালিত করা। অর্থাৎ যে টাকা দিয়ে কারাগারে তাদের লালন করা হবে, সে টাকা দিয়ে বিদেশে জনশক্তি হিসেবে তাদেরকে রপ্তানী করা। তাদের মাধ্যমে আয়কৃত অর্থ দ্বারা তাদের ধ্বংসপ্রায় পরিবারকে নতুন জীবন দান করা এবং জাতীয় উন্নয়নে তাদেরকে সম্পৃক্ত করা।
আর দেশের অভান্তরে যারা বিভিন্ন অপরাধে লিপ্ত রয়েছে , তাদেরকেও ধরপাকড় করে প্রথমে কারাগারে নেয়া। সেখান থেকে আদালতের মাধ্যমে সাজা প্রদান করে উক্ত সাজা মোতাবেক নিদ্রষ্ট মেয়াদে বিদেশে প্রেরণের ব্যবস্থা করা। দেশের মেধাশক্তি , দক্ষ জনশক্তি বিদেশে প্রেরণ না করে অপরাধীদেরকেই বিদেশে প্রেরণের টার্গেট করা সরকারের একান্ত দায়িত্ব । এভাবে অপরাধীদের জন্য বিদেশ হবে কারাগার, আর তাদের সাজা হবে বিদেশ গিয়ে কর্ম করা। বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে সহযোগীতা করা। বিদেশে নিদ্রিষ্ট মেয়াদী অবস্থানই প্রত্যেক অপরাধীর জন্য মুলতঃ সংশোধন হবার আসল স্থান।
তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমার এ প্রস্তাব বিবেচনার জন্য উত্থাপন করছি – প্রত্যেক অপরাধীকে সাজা দিন বিদেশে পাঠিয়ে কায়িক শ্রমের মাধ্যমে, কারাগারে আটকিয়ে রেখে জামাই আদরে খাইয়ে নয়। জাতীয় স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। জাতীয় উন্নয়নে সহায়ক হবে বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনে অপরাধীদের বিদেশ প্রেরণ। নতুন নতুন কারাগার নির্মাণ করে জাতীয় আর্থিক ফান্ডের অপচয় করা থেকে বিরত থাকুন। দেশের অলস মস্তিষ্কগুলো সচল করুন। ঘুমন্ত প্রতিভাকে জাগ্রত করতে স্বচেষ্ঠ হোন। মেধাশক্তি বিদেশে পাচার না করে দেশে রাখুন। দেশের দক্ষ জনশক্তিকে বহির্বিশ্বে না পাঠিয়ে দেশের কাজেই লাগান। যদি এইসব মেধাশক্তি বহির্বিশ্বে গিয়ে সেসব দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে পারে , তবে তারা নিজেদের দেশের কল্যানে আসতে পারছেনা কেন ? তা একটিবার বিশুদ্ধ মন নিয়ে ভাবুন। যদি তারা নিজেদের মেধা দিয়ে পৃথিবীর রূপ পাল্টে দিতে পারে , তবে তারা নিজেদের ছোট্ট এই দেশটির রূপ পাল্টাতে পারবেনা কেন ? একটু চোখ খুলে দেখুন সমস্যা কোথায় ?
আমাদের দক্ষ জনশক্তি ও মেধাগুলো পরদেশে গিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে পারে , তবে তারা নিজেদের দেশেও কাজ করে , মেধা খাটিয়ে, শ্রম দিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়ে বলতে পারবে “আমরাও আমাদের দেশকে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে গড়তে পারি উন্নত দেশগুলোর মতন”। আর এ জন্য প্রয়োজন সঠিক উদ্যোগ। এতেই দেশ সফলতার মুখ দেখবে। তাই শ্রমক্ষেত্র তৈরী করে অলস, বেকার, ও অবহেলীত আমাদের বিপুল পরিমাণ মানবসম্পদকে কাজে লাগান। দেশ স্বর্ণশিখরে উন্নীত হবেই।
পরিশেষে বলতে হয় – অপরাধীদের জন্য বিদেশ হোক কারাগার এবং তাদের সাজা হোক বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যম – এটাই কামনা করি।
শনিবার, ৭ জুলাই, ২০১২
সমবায় কি ও কেন ? (পর্ব-১)
সমবায় কি বা সমবায়ের পরিচয় ঃ
সমবায় শব্দের বাংলা আভিধানিক অর্থ - মিলন ,নিত্য সম্বন্ধ, একত্র হবার বুদ্ধি ও প্রয়াস, সমবেত বা যৌথ কর্মপ্রচেষ্ঠা। ইংরেজীতে যা CO-OPERATIVE নামে অভিহীত। সমবায় অর্থ হলো – আত্মসাহায্য ও পারস্পরিক সহযোগীতা।
ব্যাপক অর্থে সমবায় হচ্ছে – একাধিক লোকের শতস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ন্যায়-নীতির ভিত্তিতে গঠিত ও পরিচালিত একটা কর্মপ্রচেষ্ঠা। সমশ্রেনী বা সমপেশাভুক্ত সকলের সাবলম্বী হবার একটা উত্তম পন্থা ও মহৎ প্রেরণা। সর্বোপরী সমবায় হলো – একটা আন্দোলন।
প্রতিটি মানুষের একটা জন্মগত বৈশিষ্ঠ যে , সে সাংগঠনিক জীবন চায়। চায় একটা স্বীকৃতি। কিছু মানুষের সম্মিলিত সহাবস্থানে সৃষ্ঠ তেমনই একটি সাংগঠনিক জীবন ও স্বীকৃতির নাম সমবায়।
এক সমবায়ী বলেছিলেন – “Co-operative , this is a various business. It’s not a package program but it’s a long term practice – অর্থাৎ সমবায়, ইহা একটি বাস্তব ভিত্তিক ব্যবসা। ইহা গাঁটবাধা কোন কর্মসুচী নয়, কিন্তু ইহা একটা দীর্ঘায়িত অনুশীলন”।
Co-operation বা সহযোগীতা কথাটা থেকেই Co-operative বা সমবায় কথাটার জন্ম। সমবায় হলো – পরস্পরের সহযোগীতায় পরস্পরের অগ্রগতির পথে প্রতিবন্ধকতা দূর করার একটা উপায়।
সাম্য – ঐক্য – সততার সমন্বয়ে সৃষ্ট একটা জোটই হলো সমবায়। সমবায় একটি আচরণ বিজ্ঞান। একক প্রচেষ্ঠা যেখানে ব্যর্থ সেখানেই প্রয়োজন দলগত প্রচেষ্ঠা। সমন্বিত প্রচেষ্ঠায়ই আনতে পারে আশাতীত সাফল্য। একটা চিন্তা একজনে না করে বহুজনের মধ্যে যদি সেটা বিস্তার ঘটানো যায় তবে এর কাটামো থেকে চূড়ান্ত অবস্থাবধি আমুল পরিবর্তন সম্ভব। চূড়ান্ত অবস্থায় আমুল পরিবর্তন আনায়নে আশাতীত সাফল্য লাভের লক্ষ্যে সমন্বিত এক প্রচেষ্ঠার নামই সমবায়।
সমবায় মানে আত্মসাহায্য ও পারস্পরিক সহযোগীতা। সমবায় সংগঠন একটি আইনগত স্বতন্ত্র ও কৃত্রিম স্বত্তা। সমবায় সাংবিধানিক মালিকানার দ্বিতীয় সেক্টর। সমবায় একটা সুশৃন্খল ও গণতান্ত্রিক আর্থ-সামাজিক সংগঠন।
সমবায় একটি সামাজিক অর্থনৈতিক ও ঐতিহাসিক ঘটনা। সমবায় হলো সমাজতন্ত্রের জন্য একটা পরিপূর্ণ প্রস্তুতি। সমবায় হলো লক্ষ লক্ষ কৃষক সাধারণের কাছে ক্ষুদ্র খোদকস্থ জোত থেকে বৃহৎ যৌথ অর্থনীতিতে উত্তরণের সবচেয়ে সহজ-সরল আয়ত্বাধীন একটা পথ। সমবায় কৃষকদের এক একটা বাহিনী বা স্তরকে নয়, সমগ্র গরীব - মাঝারী জোতগুলোকে মেলাবার একটা পথ। কবি রবীন্দ্রনাথের ভাষায় – “ অনেক গৃহস্থ , অনেক মানুষ একজোট হইয়া জীবিকা নির্বাহ করিবার যে উপায়, তাহাকেই ইউরোপে আজকাল Co-operative প্রণালী আর বাংলায় সমবায় প্রণালী নাম দেওয়া হইয়াছে”।
সমবায় হলো পূঁজিবাদী সমাজের একমাত্র যন্ত্র – নতুন ক্ষমতা যাকে চূর্ণ করেনা , টিকিয়ে রাখে , ঢেলে সাজায় , বিকশিত ও সম্পূর্ণ করে, গণসংগঠন হিসাবে গণউদ্যোগকে প্রণোদিত করে, দেশকে খাদ্য জোগাতে সাহায্য করে, সাহায্য করে নতুন ক্ষমতাকে।
সমবায় হলো একটা আদর্শ, একটা দর্শন ও একটা অর্থনৈতিক কাজের পদ্ধতি। সমবায় হলো সাবলম্বিতা অর্জনের লক্ষ্যে একটা ঐক্যবদ্ধ কর্মপ্রয়াস। দশে মিলে সুনিদ্রিষ্ট নীতিমালা ও আদর্শের ভিত্তিতে কাজ করাই হচ্ছে সমবায়ের মূল দর্শন।
সমবায় সংগঠন হচ্ছে – সংগবদ্ধ অর্থনৈতিক কাজের একটি পরিশৃন্খল রূপ। জনসাধারণের আর্থসামজিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে একটি সুশৃন্খল মানবসংগঠন হচ্ছে সমবায়। সমবায় স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীর একটা সংগঠন। সমবায় একটি Concept বা ধারণা, একটা Movement বা অবস্থান পরিবর্তনের আন্দোলন।
মানুষকে কুসংস্কার থেকে মুক্ত করে অমুলক ধারণাক পাল্টে উন্নতর কিছু ধারণা , মতাদর্শ দান এবং সত্যিকার ও অর্থবহভাবে বেঁচে থাকার স্বার্থেই সমবায়। অনেক মানুষ একজোট হয়ে জীবিকা নির্বাহ করার যে উপায় , তাই উন্নত দেশের Co-operative বা সমবায় প্রণালী। যা আমাদের দেশকে দারিদ্রতা থেকে বাঁচাবার একমাত্র উপায়। তাই, দেশের দারিদ্রতা দূরীকরনের জন্যই সমবায়। একের নয় , সমষ্ঠগত উন্নয়নের জন্যই সমবায়। কতক নয় , বহু মানুষের কল্যানের জন্যই সমবায়। সমবায় উত্তরণের জন্য, স্বপ্নলোকের রাজ্য জয়ের জন্যই সমবায়। টেকসই করার লাগসই প্রযুক্তিই হচ্ছে সমবায়। সমবায় হচ্ছে – সমমনা মানুষদের একত্রিত চিন্তা ও সম্ভাবনাময় বহুমুখী কার্যক্রমের আত্মপ্রকাশ।
জীবন যাত্রাপথে স্বচ্ছতা আনায়নে কিছু উদ্যোগী মানুষ সমমনা হয়ে একই ঘরের সদস্য স্বরূপ একই ঘরে অবস্থানের মত সহাবস্থানের একটি জোট গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে সামান্য পূজি ধাপে ধাপেএকটা পাত্রে সঞ্চয়ের মাধ্যমে একে অপরকে সহযোগীতা দান এবং একে অপরের কল্যান চাওয়ার নামই হচ্ছে সমবায়।
সবশেষে , সমবায়ের পরিচয় দিতে গিয়ে বলতে হয় –
সমবায়
একক বলয়ে সময় কাটিয়ে
এনেছে জীবনে গ্লানী।
যেদিন থেকেই জেনেছে মানুষ
সামাজক জীব তারা,
সেদিন থেকেই মানুষ জাতি
মেনে নিল সমাজ গঠনের ধারা।
সমাজবদ্ধ হয়ে যখন মানুষ জাতি
করলো আত্মপ্রকাশ ,
চতুর্দিকেই দেখা দিলো
গৌরান্বিত সভ্যতার ক্রমবিকাশ!
একাত্বতার দিকবলয়ে
প্রবেশ করে মানুষ
দূর করে সেই একাকীত্বের গ্লানী ,
ফিরে পায় হুঁশ।
পৃথিবীতে যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে
মুলে ছিল তা একতায় নির্ভর -
একতা – এই একটি মাত্রই মত,
যুগে যুগে বিশ্ব নবরূপ নিয়েছে –
হয়েছ সবে স্বনির্ভর ;
মুলে ছিল তার – যুবদের খুনরাঙ্গা পথ।
পৃথিবীতে যা কিছু বৃহৎ সৃষ্টি –
মূলে ছিল তার ছোট্ট ছোট্ট বিষয় ,
দেখো ! ব্যাংকের ঐ বিশাল টাকার স্তুপ –
সেতো বহু মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়।
যুগে যুগে মানুষ হয়েছে একতা ,
সংগঠন করে দেখিয়েছে সমতা ;
প্রগতির ধারাকে রেখেছে বহতা ,
দেখিয়েছে মানুষ নিজেদের ক্ষমতা।
যুগে যুগে মানুষ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ,
পাল্টিয়েছে পৃথিবীর শোভা ;
বহু মানুষের ভিন্ন মত ঐক্য হেছে,
সমবায় গড়ে করেছে মানুষকে মনোলোভা।
**********************
সকলের জন্যই সকল মানুষ
অনন্তের পথে ধীরে ধীরে যাচ্ছে তাহা গন্তব্যে চলে ।
আপন আপন জীবন নিয়ে ব্যস্ত মানুষ পুরু জীবন ভরি ,
মানবতার মৃত্যু হচ্ছে আজ মানুষের ব্যস্ততার চাপে পড়ি !
সৃষ্টির সেরা মানবজাতির নহে নহে ইহা ধর্ম ,
মানুষতো এসেছে পৃথিবীতে দেখাতে মানবতার কর্ম ।
মানবজীবন নয়তো শুধুই আপনারে নিয়ে বিব্রত রহিতে ,
সকলের জন্যই সকল মানুষ লিখেছে মানবধর্ম বহিতে ।
=======================
সমবায়ের সংজ্ঞা ঃ
বিভিন্ন দার্শনিক , চিন্তাবিদদের দৃষ্টিতে সমবায় বিভিন্ন রূপে ধরা দিয়ছে । সমবায়ের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে কালবার্ট বলেন – “ কোন সংগঠনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত আত্মসাহায্যের নামই সমবায় ।
সি এফ ষ্ট্রিকল্যাণ্ড সমবায়ের সংজ্ঞা দেন এভাবে – “কতিপয় ব্যক্তির যৌথ উদ্যোগে বিশেষ একটি লক্ষ্যে উপণিত হবার উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি আন্দোলন, যা কারো একক প্রচেষ্ঠায় সাধন সম্ভব নয়, তাই সমবায়”।
স্যার এম এল ডালিং সমবায়ের সংজ্ঞা যেটি দেন , তা হলো – “ সমশ্রেণী বা পেশাভুক্ত কিছু লোক একে অন্যের সাহায্যে নিজেদের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নতির জন্য সংস্থা গঠন করে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তা পরিচালনা করা। সমবায় হচ্ছে একটি ধর্ম যা ব্যবসায়ে প্রয়োগ করা হয়।
সমবায়ের লক্ষ্য ঃ
সকলের সার্বিক মঙ্গল ও সুখী জীবনের নিশ্চয়তা বিধানই সমবায়ের লক্ষ্য।
সমবায়ের উদ্দেশ্য ঃ
মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের সমাজ থেকে বিতাড়ন করা , শোষকদের কাছ থেকে দরিদ্র ও স্বল্পভিত্বদের মুক্তি পেতে সাহায্য প্রদান করা, উন্নত সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, উন্নত কৃষি ব্যবস্থার ও ঋণের বোঝার মুক্তি দান করা, ন্যায্য মু্ল্য পাবার ব্যবস্থ করা ও ন্যায্য মুল্যে ভোগপণ্য বিক্রি করাই হলো সমবায়ের উদ্দেশ্য ।
সমবায়ের বৈশিষ্ঠ্য ঃ
একক প্রচেষ্ঠা যেখানে ব্যর্থ সমবায় সেখানে যে কোন জটিল ও বড় কাজ সম্পাদনে সক্ষম।পূঁজি গঠনে , নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্বের বিকাশ সাধনে সমবায় মানুষকে সংঘবদ্ধ করে সুশৃন্খল ও শক্তিশালী করে তোলে। ব্যবহারকারীর স্বার্থ সংরক্ষনের জন্য সমবায় উৎপাদনকারীকে তার উৎপাদনে সর্বাদিক প্রতিষ্ঠার সুযোগ প্রদান করে।
যেহেতু সমবায় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সদস্যগণ গণতান্ত্রিক উপায়ে তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন দ্রুত করতে পারে , সেহেতু সমবায় মানুষের অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠার প্রতিষ্ঠান বটে। যেহেতু সমবায় প্রচেষ্ঠায় মানুষ তাদের শক্তি সঞ্চয় করে পূঁজি গঠন করতে পারে এবং শ্রমজীবি মানুষেরা সমবায়ের মাধ্যমে বাঁচতে পারে, সেহেতু শ্রমজীবি মানুষের আত্মপ্রতিষ্ঠায় ও তাদের জীবন মান উন্নয়নের একটি প্রতিষ্ঠান।
সমবায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অব্যাহত সম্পদকে উৎপাদনমুখী সম্পদে রূপান্তর করা যায়। সমবায় দেশের ধন সম্পদ গুটিকতক মানুষের হাতে পুঞ্জীভুত হওয়া থেকে মুক্ত করে এবং সম্পদকে পরিব্যপ্ত করে। উন্নত ব্যবসা , উন্নত চাষাবাদ ও উন্নত জীবনযাত্রায় সমবায় একটি পরীক্ষিত উপায়।
সমবায়ের গুরুত্ব ঃ
সমবায় সাধারণ মানুষকে বিশেষকরে কৃষক ও শ্রমজীবি মানুষদেরকে একটি সংগঠনের অধীনে সংঘবদ্ধ করে। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এক গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পান করে, শেয়ার ও সঞ্চয় সংগ্রহ করে তাদের পূঁজি গঠনে সাহায্য করে। মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য এবং তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা আনায়নের জন্য সাহায্য হিসাবে উৎপাদন কাজে তাদের শ্রম ও পূঁজি বিনিয়োগের পথ সুগম করে। তাই সমবায়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম।
সমবায়ের প্রয়োজনীয়তা ঃ
দরিদ্র ও অশিক্ষিত লোকের ক্ষুদ্র শক্তিকে একত্রিত করে একটি অর্থবহ উৎপাদন সক্ষম দল প্রতিষ্ঠিত করার উপায় হচ্ছে সমবায়। অথচ এ ধরণের সংগঠনের অভাবে এদের শক্তিকে কাজে লাগানো যাচ্ছনা। এদের প্রত্যেকের আর্থিক সম্পদ এত কম যে একক প্রচেষ্টায় কোন আর্থিক উৎপাদন কর্ম পরিচালনা করা এদের পক্ষে সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন তাদের কর্মসংস্থানে সম্পদ সৃষ্টি ও উৎপাদনে এবংসম্পদের সুষম বন্টনে সমবায় দেশের অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে উৎপাদন ও বন্টন প্রক্রিয়ায় সমবায়ী তৎপরতা একটি অতীব প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বিধায় এদেশে তথা যে কোন দরিদ্র দেশে সমবায় একটি অতি উপযোগী ও প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান।
==============
বুধবার, ২৭ জুন, ২০১২
অন্যায়ের বিরুদ্ধে তরুনদের একটা স্বার্থক সংগ্রাম
অনেকে অনেক সংগঠন করে , কিন্তু এমন কোন কার্যকর সংগঠন দেখিনা যেগুলো প্রকৃতই মানবকল্যানে কর্ম করে ।
আমাদেশের দেশের তরুনদের দ্বারা বিদেশ থেকে শিল্পী এনে তাদের ভর্তি পেঠ ভরানোর জন্য সংগঠন সৃষ্টি করতে দেখা যায় , কিন্তু সেই তরুনদের দ্বারা দেশের সর্বহারা , অভুক্ত মানুষদের আশ্রয়দান ও খাদ্যের জোগানে কোন সংগঠন সৃষ্টি করতে দেখা যায়না , যদিও কিছু কিছু তরুনদের দেখা যায় এমন সংগঠন সৃষ্টি করতে , কিন্তু তাদের মূল উদ্দেশ্য হিসাবে দেখা যায় , কিছু ফটোসেসন আর নিজেদের বড়ত্ব প্রকাশের লক্ষ্যে থাকে তাদের ওসব কর্মসুচী , প্রকৃত ভাবে তরুনরা মানবকল্যানে কোন কাজে নামেনা ।
সোমবার, ২৫ জুন, ২০১২
সাংবাদিক সমাজের আজকের ঐক্যকে আমরা ভাবতে পারি দেশোন্নতির লক্ষ্যে লগ্নি করা একটা শক্তিশালী নতুন পূঁজি । যা দিয়ে অর্জিত হবে ধ্বংসমান বাংলাদেশের সফলতা ।
বৃহস্পতিবার, ১৭ মার্চ, ২০১১
সরকার বা জনপ্রতিনিধির শাসন কর্তৃত্বের অধিকার বনাম জনগন বা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার
মানুষ সামাজিক জীব । তাই ,মানুষ সমাজ গড়ে । সমাজের অধিবাসীদেরসুস্থ ও স্বাধীনরূপে জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজন একটি সমাজ , একটি রাস্ট্র । সমাজের মানুষ বিশেষ বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে । সামাজিক সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান হলো রাস্ট্র ।
রাস্ট্র হলো একটি সার্বভৌম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান । রাস্ট্র চিন্তাবিদ অধ্যাপক গার্নারের মতে - "অত্যাধিক ব্যাক্তি নিয়ে গঠিত এমনই একটি জনসমাজ - যা নির্দিষ্ঠ ভুখণ্ডে একটি সুসংগঠিত সরকার নিয়ে বহিঃশত্রুর নিয়ন্ত্রনমক্ত অবস্থায় বসবাস করে এবং যার প্রতি জনগণ অনুগত - তাই হলো রাস্ট্র"। রাস্ট্রবিজ্ঞানের জনক এরিষ্টটলের মতে - "কিছু সংখ্যক পরিবার ও গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত সংগঠণই হলো রাষ্ট্র "।
সুতরাং , একটি রাস্ট্রগঠনে প্রয়োজন চারটি উপাদান । যথা - জনসমষ্ঠি , নির্দিষ্ঠ ভুখণ্ড , সার্বভৌমত্ব ও সরকার । এ চারটি উপাদান দ্বারা গঠিত বলেই রাস্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রাণী । আর উক্ত চারটি উপাদান হলো রাস্ট্র নামক প্রানীটির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ।
একটি প্রাণীর যে কোন একটি অঙ্গ অকেজো হয়ে গেলে যেমন সে প্রাণী চলতে পারেনা । তেমনি একটি রাস্ট্র নামক রাজনৈতিক প্রাণীর চারটি উপাদান বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যে কোন একটি অকেজো হয়ে গলে সে রাস্ট্র চলতে পারেনা বা রাস্ট্রগঠনের উপাদানগুলোর যে কোন একটিকে বাদ দিয়ে কোন রাস্ট্রের অস্থিত্ব কল্পনা করা যায়না ।
পৃথিবীর রাস্ট্রগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি রাস্ট্র হলো বাংলাদেশ । একটি রাস্ট্র গঠনে যে চারটি উপাদান প্রয়োজন সেই চারটি উপাদান দ্বারা গঠিত বলেই বাংলাদেশ নামক ছোট্ট ভূ-খন্ডটি একটি রাস্ট্র । এর রয়েছে বিপুল পরিমান জনগোষ্ঠী , রয়েছে নিদ্রিষ্ঠ ভু-খন্ড , রয়েছে সরকার আরও রয়েছে সার্বভৌমত্ব ।
কিন্তু ইদানিং মনে হচ্ছে , বাংলাদেশ নামক রাস্ট্রটি কিছু সংখ্যক ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর দলপতিদের দ্বারা রাস্ট্রীয় সংজ্ঞা থেকে বিচ্ছিন্ন হবার ষড়যন্ত্রের ফাদে আঁটকে গেছে । তারা যেন চাইছে জনমানবহীন বা জনগোষ্ঠীহীন একটি রাস্ট্র । যেখানে থাকবে একটা ক্ষমতার গদি , একটা ভু-খন্ড আর সার্বভৌমত্ব । যেখানে তাদের পরিবার ব্যতিত বা তাদের দলের লোক ব্যতিত অন্য কোন জনগন থাকতে পারবেনা । তাই , তারা জনগনের তোয়াক্কা না করে শুধুমাত্র রাস্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করার মানসে ও রাস্ট্রীয় সম্পদ গ্রাস করার মহাপরিকল্পনায় অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে । আর জনগনের মৌলিক অধিকার বা চাহিদার পাত্তা না দিয়ে তাদের নিয়ে খেলছে নষ্ট রাজনীতির নোংরা খেলা ।
অথচ , যেখানে রাস্ট্র গঠনের জন্য জনগন অপরিহার্য , যেখানে জনসমষ্ঠি রাস্ট্রের প্রাণস্বরূপ , সেখানে সে রাস্ট্রে জনগনের কোন মূল্য নেই । নেই জনসমষ্ঠির প্রতি সরকারের কোন দরদ । যে জনসমষ্ঠি দ্বারা নির্বাচিত হয় সরকার , সে সরকার নির্বাচিত হবার পর যেন মনে করে জনগনতো কিছুইনা , রাস্ট্রই তাদের সব !
যেহেতু , সরকারবিহীন যেমন রাস্ট্র অচল , তেমনি জনগণ ব্যতিত সরকারও অচল । জনগণের প্রয়জনে যেমন সরকার , তেমনি সরকারের ও প্রয়োজন জনগণের । সেহেতু , সরকারকে মনে রাখতে হবে - তার সরকারের কর্তৃত্বের মূলেই হলো জনগণ । জনগণের প্রতিনিধিই হলো সরকার ।
তাই , সরকারকে জনগণের কথা ভাবতে হবে । জনসমষ্ঠির কলানে সরকারকে দৃষ্টি দিতে হবে । সরকারকে জনসমষ্ঠির মৌলিক চাহিদা পুরণ বা অধিকার রক্ষায় আত্মনিয়োগ করতে হবে । কেননা , জনগণের মৌলিক চাহিদা পুরণ বা অধিকার রক্ষার জন্যই সরকারর শাসন করার অধিকার জন্মে বা সরকারের উপর জনগণ কর্তৃক শাসনকর্তৃত্বের ভার অর্পিত হয় ।
ইসলামী বিধান অনুসারে মানুষের মৌলিক চাহিদা বা অধিকার ছয়টি । যথা - অন্ন , বস্ত্র , বাসস্থান , চিকিৎসা , নিরাপত্তা ও শিক্ষা । আর দেশের সার্বিক কল্যানে আরও একটি চাহিদা বা অধিকার নিরূপন করা যায় , তা হলো - কর্মসৃষ্ঠি বা বেকারত্ব দূরীকরন ।
যে লোক , যে সংগঠন , যে শাসক , যে সরকার উপরোক্ত মানুষের মৌলিক সাতটি চাহিদা পুরণ করতে পারবে ; সে লোক , সে সংগঠন , সে শাসক , সে সরকার চিরকাল মনের মণিকোঠায় জাগ্রত থাকবে । অক্ষুন্ন থাকবে তার ক্ষমতার সম্মান । শ্রদ্ধা করবে জনগণ তার ক্ষমতার শক্তিকে । সর্বোপরি , তার কর্তৃত্বের অবস্থানকে সুদৃঢ় রাখতে জনগণই ঢাল হিসাবে ব্যবহৃত হবে স্ব-ইচ্ছার ভিত্তিতে । তাই , যে লোক , যে সংগঠন , যে শাসক , যে সরকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করনে নির্বাচিত হবে , তাকে জনগণের উক্ত সাতটি মৌলিক চাহিদা পুরণ বা অধিকার রক্ষায় প্রাণপণ লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে হবে , জনগণ ধ্বংসের লড়াইয়ে নয় ।
মানুষের প্রথম ও প্রধান মৌলিক চাহিদা বা অধিকার হলো - অন্ন সংস্থান বা আহারের ব্যবস্থা ঃ
মানুষের ভুখা নিবারনের বা বুভুক্ষ মানুষদের জন্য প্রয়োজন অন্ন সংস্থান । তাই , জনপ্রতিধিকে ভাবতে হবে , কিভাবে জনগণের মুখে আহার তোলা যায় , কিভাবে জনগণ আহারের সুষ্ঠব্যবস্থা করতে পারে । এলাকা ভিত্তিক জনপ্রতিনিধির উচিত হবে , তার এলাকায় জনগণের সুষ্ঠরূপে অন্নসংস্থান হচ্ছে কিনা তার দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেয়া । জনগণের আহার সংস্থানের পথে প্রতিবন্ধকতা দুরীকরনে জনপ্রতিনিধি কর্তৃক ব্যবস্থা নিতে হবে ।
বাংলাদেশ নামক এ রাস্ট্রটির প্রায়ই সকল জনগণই একমুঠো ভাতের ব্যবস্থাপনায় সময় ক্ষ্যাপন করে । একমুঠো ভাতের জন্য হাহাকার করছে এ রাস্ট্রের প্রায়ই জনগণ । অথচ জনপ্রতিনিধিত্বকারী সরকারের সেদিকে দৃ্টি নেই ।
বর্তমানে এক কেজি চাউলের দাম যদি হয় নিম্নতম ২৫/৩০ টাকা , একজন খেটে খাওয়া মানুষের বেতন যদি হয় ২০০ টাকা দৈনিক , আর যদি তার থাকে পাঁচ সদস্যের পরিবার [ পরিবারের আহার যোগানদানকারী একমাত্র ব্যক্তি , তার ( কর্ম অক্ষম) বৃদ্ধ মা-বাবা , ( কর্মসক্ষম সদা পারিবারিক কর্মে ব্যস্ত ) তার স্ত্রী তার দুই সন্তান ( লেখা-পড়ায় ব্যস্ত । যেহেতু ছেলে হোক মেয়ে হোক দুটি সন্তানই যথেষ্ঠ - সরকারের নির্ধারিত ) ] তবে কিভাবে সে তার অন্ন সংস্থান করবে ? যে সরকার জনগণকে অভুক্ত রাখে সে সরকারের প্রতি জনগণ কিভাবে সন্তুষ্ট থাকবে ?
বর্তানে লক্ষ্য করা যায় - জাতীয় বাজেটে যে সব জিনিসের দাম বাড়ানো হয় সে বই গরীবদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস , যা তারা ক্রয় না করলে পরিবার অচল হয়ে পড়বে । আর যে সব জিনিসের দাম কমানো হয় তার সবই উচ্চবিলাসী উঁচু মহলে অবস্থানকারী কোটিপতি তথা মন্ত্রীমিনিষ্টারদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস , যা ক্রয় না করলে তাদের কোটিপতি পদবীর সম্মানে বা মন্ত্রীমিনিষ্টারদের ইগোতে আঘাত হানবে বলে তারা মনে করে ।
জনগণের সন্তুষ্টি অর্জনে সরকারকে গরীব মারার বাজেট না করে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে এমন বাজেট করতে হবে । জনপ্রতিনিকে জনগণের সুষ্ঠ আহার ব্যবস্থাপনার জন্য প্রথমেই চাউলের দাম কমানোর ব্যবস্থা নিতে হবে , সেই সাথে নিত্য প্রয়োজনীয় আনুসাঙ্গিক খাদ্যসামগ্রীরও দাম কমানোর ব্যবস্থা নিতে হবে । জনপ্রতিনিধির জন্য এটাই হবে জনগণের প্রধান মৌলিক চাহিদা পুরণ বা অধিকার রক্ষার কর্মসুচী ।
প্রাথমিক ভাবে এই একটা মাত্র চাহিদা বা অধিকার রক্ষা বা নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা নিতে পারলেই জনপ্রতিনিধি জনগণের বাহবা কুড়াবেন । জনপ্রতিনিধি হবেন জনগণর মাথার মুকট ।
জনপ্রতিনিধিকে ভাবতে হবে ৬০০০ ( ছয় হাজার ) টাকা বেতনধারী জনগণের আর্থিক ব্যবস্থাপনার কথা , ৬০০০০ ( ষাট হাজার ) টাকা বেতনধারীর ব্যবস্থাপনার কথা নয় । কেননা , বাংলাদেশ নামক রাস্ট্রটির বেশীরভাগই জনগণ অত্যন্ত গরীব । ধনী যারা আছে তারা অল্পসংখ্যক । তাই , বেশীরভাগ গরীবদের আর্থিক অসচ্ছলতার দিক বিবেচনায় এনে জাতীয় বাজেট নির্ধারন করতে হবে । ধনীদের আর্থিক স্বচ্ছলতার দিকবিবেচনা করে নয় । তবেই হবেন জনপ্রতিনিধিগণ জনগণের আত্মার সাথী ।
মানুষের দ্বিতীয় মৌলিক চাহিদা বা অধিকার হলো - বস্ত্রের সংস্থান ঃ
মানুষের লজ্জাস্থান ঢাকবার জন্য প্রয়োজন বস্ত্র । বাংলাদেশ নামক রাস্ট্রটির পথে ঘাটে দৃষ্টি রাখলেই দেখা যায় দেশের এক বৃহদাংশ জনসমষ্ঠি বস্ত্রের অভাবে কিভাবে কালযাপন করছে । অগণিত মা - বোনদের লজ্জাস্থান ঢাকবার প্রয়োজনীয় বস্ত্রটি না থাকাতে ঘরের আবদ্ধ কুঠুরীতে আবদ্ধ থাকতে হচ্ছে । রাজধানীর ফুটপাত বা রেললাইনের ধারে ভাসমান সংসার গুলোর দিকে দৃষ্টি রাখলেই বুঝা যায় ওখানকার মা-বোন গুলোর নগ্নদেহ কিভাবে সভ্যসমাজের (?) পরিবেশ অলন্কৃত (?) করছে । এভাবেই দেশের প্রতিটি জনপদে শোভা পাচ্ছে বস্ত্রের অভাবে নারীজাতির অসম্মানতা , বণীআদমদের নগ্নদেহের প্রদর্শনী ।
তাই , জনপ্রতিনিধিকে ভাবতে হবে বস্ত্রহীন জনগনের মাঝে বস্ত্রের সুষ্ঠ সংস্থান কিভাবে করা যায় ? এ জন্য বস্ত্রের মূল্য কমানোর ব্যবস্থা নিতে হবে । এলাকা ভিত্তিক বস্তহীনদের কাছে বস্ত্রের সুস্ঠ ব্যবস্থাপনায় জনপ্রতিনিধির আত্মনিয়োগ জনগণের বস্ত্রাধিকার রক্ষা বা জনগণের দ্বিতীয় মৌলিক চাহিদা বা অধিকার রক্ষার কর্মসূচী হিবে প্রতীয়মান হবে ।
মানুষের তৃতীয় মৌলিক চাহিদা বা অধিকার হলো - বাসস্থানের সংস্থান ঃ
মানুষের মাথা গুঁজার ঠাই হিসাবে প্রয়োজন একটা বাসস্থান । যেখানে তারা শান্তিতে নিদ্রাযাপন করতে পারবে । বাংলাদেশ নামক রাস্ট্রটির পল্লীঅঞ্চল , শহরতলী এবং শহরগুলোর রাস্তার ধারে দৃ্ষ্টি দিলে দেখা যায় অগণিত বণি আদম কিভাবে বসতিগড়ে তোলে দিনযাপন করছে । তাদের না আছে ঘর , না আছে সমাজ আর না আছে শান্তিতে নিদ্রা যাবার পরিবেশ ।
তাই , জনপ্রতিনিধিকে ভাবতে হবে কিভাবে বাসস্থানহীন জনগণের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করা যায় ? এজন্য বাসস্থান নির্মানের সকল সামগ্রীর মূল্য কমানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এলাকা ভিত্তিক বাসস্থানহীন জনগণের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করনে জনপ্রতিনিধির পদচারণা জনগণের তৃতীয় মৌলিক চাহিদা বা অধিকার রক্ষার কর্মসূচী হিসাবে বিবেচিত হবে ।
মানুষের চতুর্থ মৌলিক চাহিদা বা অধিকার হলো - চিকিৎসা প্রাপ্তি ঃ
মানুষের অসুস্থতাজনিত সমস্যা থেকে নিস্কৃতি পাবার জন্য প্রয়োজন চিকিৎসা সেবা । দেশের বৃহদাংশ জনগণ পয়োজনীয় এই চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত । বিবিধ অসুবিধার কারনে এসব জনগণ সুচিকিৎসার অভাবে বিভিন্ন দূরারোগ্য রোগে ভুগছে , পতিত হচ্ছে মৃত্যুমুখেও ।
একটা তথ্য এখানে না দিলেই নয় । প্রথমেই বলতে হয় দেশের ডাক্তারদের কমার্শিয়াল হয়ে যাওয়াতে বা ডাক্তারদের সেবানীতি বাদ দিয়ে বানিজ্যনীতির মুখাপেক্ষী হয়ে যাওয়াতে দেশের জনগণ আজ চিকিৎসা সেবার কাছে অসহায় । নামধারী চিকিৎসা সেবার কাছে বন্দী আজ মানবতা । বঞ্চিত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা থেকে দেশের লক্ষ লক্ষ জনগণ । অনির্ধারিত সিরিয়াল ফি এবং ৩০০ টাকা ভিজিট দিয়ে ডাক্তারের টেবিল পর্যন্ত পৌঁছলেই ধরিয়ে দেয়া হয় একটা রিসিট প্যাথলজি টেস্টের জন্য , সেটা জ্বর হোক কিংবা সর্দি-কাশি । টেস্ট করতেই হবে নয়তো ডাক্তার কিছুই বুঝতে পারবেননা ! টেস্ট আবার একটাও না কয়েকটা । সব মিলিয়ে ১০০০ টাকার উপর থেকে নিয়ে সাধারণ চিকিৎসার জন্য ১০০০০ টাকা পর্যন্ত প্যাথলজি টেস্ট । এই টেস্ট রিপোর্ট ডাক্তারের কছে নিয়ে যাবার পরও ওনার সঠিক রোগ চেনা হয়না ! প্রেসক্রিপশনে লিখতে থাকেন ঔষধের ফিরিস্তি । সর্দি জ্বরের জন্য লেখা হয় ৫০০ থেকে ২০০০ টাকার ঔষধ । সবগুলো খাওয়ার পর অবনতি ছাড়া কোন উন্নতি না হলে আবার প্রথমবারের মতো ডাক্তারের কছে গমন । এভাবে তিন চারবারে ৫/১০ হাজার টাকার ঔষধ খাবার পর কিছু না হলে আবার নতুন করে টেস্ট । এ শুধু সর্দি জ্বরের জন্য । এটা শুধু ডাক্তারদের বর্তমান সেবানীতির বদলে বানিজ্যনীতির কথা বলছি । তাঁরা এতই বানিজ্যিক হয়ে গেছেন যে, রোগীদের ভালো করার দিকে তাদের নজর নেই , তাদের নজর কমিশনের দিকে । তাদের প্রথম কমিশন ডায়াগনিস বা প্যাথলজি সেন্টার থেকে । দ্বিতীয় কমিশন ঔষধ কোম্পানীগুলো থেকে । তৃতীয় কমিশন প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো থেকে ।
তাই , আজ ডাক্তারের অভাব নেই , বেঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে , উঠছে রোগীদের চিকিৎসা সেবাদানের নামে প্যাথলজি সেন্টার - ডায়াগনিস সেন্টার - প্রাইভেট ক্লিনিক । তিন মাসের কোর্স , ছয় মাসের কোর্স , এক বৎসরের প্রাইভেট কোর্সে নামধারী ডাক্তার হয়ে রোগীদের নিয়ে জমজমাট ব্যবসায় মেতে উঠছে , উঠেছে সেইসব নামধারী ডাক্তার । যারা বিদেশের ডিগ্রীধারী ডাক্তার তারাতো নেমেছে প্রতিযোগিতায় শহরের অলিগলিতে বড় বড় সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে রোগীদের মনোযোগ আকর্ষণে । কোনমতে তারা একটা রোগী ধরতে পারলেই তাদের এক বৎসরের কামাই হয়ে যায় , আর ঐ রোগী চলে যায় চির বাসস্থানে । এই হলো বর্তানকার চিকিৎসা সেবা !
তাই , জনপ্রতিনিধিকে ভাবতে হবে কিভাবে অসুস্থ জনগণের জন্য চিকিৎসা সেবা প্রদানের সুব্যবস্থা করা যায় ? এজন্য সহজলভ্য ও সুলভ মুল্যের চিকিৎসা - পথ্য প্রাপ্তির ব্যবস্থা নিতে হবে । এলাকা ভিত্তিক অসুস্থ রোগীদের সুচিকিৎসা প্রাপ্তির ব্যবস্থা করনে জনপ্রতিনিধির বিশেষ অবদান জনগণের চতুর্থ মৌলিক চাহিদা বা অধিকার রক্ষার পদক্ষেপ হিসাবে জনগণের দৃষ্টিগোচরহবে ।
মানুষের পঞ্চম মৌলিক চাহিদা বা অধিকার হলো - নিরাপত্তা প্রাপ্তি ঃ
জনগণের জান - মাল - ইজ্জতের নিরাপত্তা বিধান সুনিশ্চিত করাই জনপ্রতিনিধির অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্ম ।
তাই , জনপ্রতিনিধিকে ভাবতে হবে কিভাবে জনগণের জান - মাল - ইজ্জতের নরাপত্তা দান করা যায় ? এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে । এলাকা ভিত্তিক জনগণ ও প্রশাসন সঙ্গে নিয়ে জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা দানে জনপ্রতিনিধির সর্বোচ্ছ ব্যবস্থা গ্রহণে আত্মনিয়োগ মানুষের পঞ্চম মৌলিক চাহিদা বা অধিকার রক্ষায় বৃহৎ অবদান বলে বিবেচিত হবে ।
মানুষের ষষ্ট মৌলিক চাহিদা বা অধিকার হলো - বেকারের কর্মসংস্থান ঃ
দেশের লক্ষ লক্ষ জনগণ বেকার অবস্থায় কালযাপন করছে । দেশে কর্মের অভাবে অনেক শিক্ষিত জনগণ বিপথে পা বাড়াচ্ছে । জনশক্তি থাকা সত্বেও দেশ কর্মসংস্থানের অভাবে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারছেনা । মানুষের বেকারত্ব গুছিয়ে দেশকে স্বনির্ভরতা অর্জনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য প্রয়োজন বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাকরন ।
তাই , জনপ্রতিনিধিকে ভাবতে হবে কিভাবে বেকারত্ব দুরীকরনের ব্যবস্থা নেয়া যায় ? এজন্য বেকারদের পূণর্বাসন বা কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে নতুন নতুন কর্মপন্থা আবিষ্কার করে নতুন নতুন কর্ম প্রতিষ্ঠান গঠণ করতে হবে । এলাকাভিত্তিক বিপুল সংখ্যক বেকার জনসমষ্ঠকে কজে লাগিয়ে দেশের উন্নতির পথ সুগম করনে জনপ্রতিনিধির আত্মউদ্যোগ জনগণের ষষ্ঠ মৌলিক চাহিদা বা অধিকার রক্ষার বিশেষ কর্মসূচী হিসাবে গণ্য হবে ।
মানুষের সপ্তম মৌলিক চাহিদা বা অধিকার হলো - শিক্ষার্জন ঃ
মানুষের আত্মনির্ভরশীল হয়ে গড়ে উঠার , একজন আলোকিত মানুষ হিসাবে পরিচিতি পাবার এবং দেশের আদর্শ নাগরিক হিসাবে স্থান পাবার লক্ষ্যে প্রয়োজন শিক্ষা ।
তাই , জনপ্রতিনিধিকে ভাবতে হবে কিভাবে অশিক্ষিত মানুষদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলা যায় ? এজন্য জনগণর শিক্ষালাভের পথ সুগম করতে হবে । এলাকা ভিত্তিক শিক্ষাকেন্দ্রের ব্যবস্থা , উৎকৃষ্ঠতম শিক্ষাদাতা নিয়োগ , শিক্ষা উপকরণ সহজলভ্য করনসহ অশিক্ষিতদের শিক্ষাগ্রহণের লক্ষ্যে উদ্বুদ্ধকরনে জনপ্রতিনিধির আত্মপ্রচারণা জনগণের সপ্তম মৌলিক চাহিদা বা অধিকার রক্ষার পরিচায়ক হিসাবে গণ্য হবে ।
এভাবে প্রত্যেক এলাকার জনপ্রতিনিধি নিজ নিজ এলাকার মানুষ বা জনগণের মৌলিক চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে তাঁর আত্মনিয়োগ ও বিশেষ ভুমিকা পালনের মধ্য দিয়ে জনগণের অন্তরে স্থান করে নিতে পারেন । ফলে তিনি জনগণের অন্তর থেকে ছিটকে পড়বেননা কখনো । জনগণ তাঁকে জনপ্রতিনিধি হিসাবে ধরে রাখতে চাইবে আজিবন ।
জনপ্রতিনিধিদের মনে রাখতে হবে - জনগণ আর কিছুই চায়না । চায় - তাদের মৌলিক চাহিদা বা অধিকারের গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা । আর চায় - তাদের মৌলিক অধিকারের কথা সরকারের কাছে জানানোর জন্য এবং মৌলিক অধিকার সরকারের কাছ থেকে আদায়ের জন্য একজন যোগ্যতম প্রতিনিধি । আর সে প্রতিনিধি যদি তাদের চাহিদাকে সরকারের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য সদা স্বচেষ্ঠ থাকেন , আর তাদের মৌলিক অধিকার আদায় বা রক্ষায় সে প্রতিনিধি সদা আত্মনিমগ্ন থাকেন , তবে সে প্রতিনিধিকে জনগণ বয়কট করতে চাইবে কেন ? তার পক্ষে ভোট না দিয়ে জনগণ অন্যের পক্ষে ভোট দিতে যাবে কেন ?
আসলে আমাদের তথা বাংলাদেশ নামক রাস্ট্রটির সরকার তথা জনগণের প্রতিনিধিরা তাঁদের আপন আপন কর্তব্যকে অবহেলা করে , জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে সর্বদাই নিজেদের থলে ভর্তিতে বা জনগণের জন্য বরাদ্দ অংশ আত্মসাত করে নিজেদের উদরপূ্তি করনে নিমগ্ন বিধায় তাঁরা “ আমও গেলো , থলেও গেলো ’’ অবস্থায় পতিত হন ।
তাঁরা যদি একটু চিন্তা করতেন বা ভাড়া নেয়া বাগানের ফলগুলো প্রতিশ্রতি মোতাবেক তাঁরা নিতেন আর বাগানটি যথাযতভাবে মালিককে ফেরত দেয়ার পক্ষপাতি হতেন । তবে কোন জনপ্রতিনিধিই পূণর্বার ঐ বাগান ভাড়া পেতে চাপের মুখে পড়তেননা ।
অথচ , এখন প্রায়ই জনপ্রতিনিধি বাগান ভাড়া নিয়ে বাগানটি সহ দখলে নেবার চেষ্ঠায় থাকেন । ফলে তাঁদের বাগানতো ছাড়তেই হয় , কখনো কখনো নিজেদের জন্য নির্ধারিত ফল প্রাপ্তি থেকেও বঞ্চিত হন তাঁরা । এমনকি অনৈতিক কর্মে জড়িত হয়ে বাগান মালিকের কাছ থেকে উত্তম-মধ্যম প্রাপ্তিসহ লাল দালানের বাসিন্দাও হন কোন কোন জনপ্রতিনিধি ।
তাই প্রত্যেক জনপ্রতিনিধিকে প্রথমেই জনগণের কথাই ভাবতে হবে । ভাবতে হবে জনগণের দুঃখ দূর্দশা দুরীকরনেই তাঁকে জনপ্রতিনিধি বানানো হয়েছে , তাই তাদের দুঃখ দুর্দশা দুরীকরনের ব্যবস্থা নিতে হবে , তাদের অধিকার বা রক্ষায় সজাগ থাকতে হবে , তাদের অন্ন - বস্ত্র - বাসস্থান - শিক্ষা - চিকিৎসার ব্যবস্থা করন সহ তাদের নিরাপত্তা দান ও বেকারত্ব দূরীকরনে সুষ্ঠ ব্যবস্থা নিতে হবে । তবে সম্ভব জনপ্রতিনিধি হয়ে আজিবনের জন্য জনগণের মনের মণিকোঠায় স্থান করে নেয়া ।
অতএব , মানুষ বা জনগণের সাতটি মৌলিক চাহিদা বা অধিকার রক্ষার গ্যারান্টিই হলো প্রত্যেক জনপ্রতিনিধির ক্ষমতায় টিকে থাকার বা ক্ষমতায় আরোহনের মুল চাবিকাঠি । যে জনপ্রতিনিধি জনগণের উক্ত সাতটি মৌলিক অধিকার রক্ষার গ্যারান্টি দিতে পারবেন সে জনপ্রতিনিধিই হবেন আজিবন ক্ষমতাপ্রাপ্ত জননেতা । যে দল জনগণের উক্ত সাতটি মৌলিক অধিকার রক্ষার গ্যারান্টি দিতে পারবেন সে দলই হবে আজিবন ক্ষমতাপ্রাপ্ত জননন্দিত দল । যে সংগঠন জনগণের উক্ত সাতটি মৌলিক অধিকার রক্ষার গ্যারান্টি দিতে পারবে সে সংগঠনই হবে আজিবনের জন্য জনস্বীকৃত কল্যানকামী সংগঠন । যে শাসক জনগণের উক্ত সাতটি মৌলিক অধিকার রক্ষার গ্যারান্টি দিতে পারবেন সে শাসকই হবেন আজিবনের জন্য জনস্বীকৃত উপযুক্ত শাসক। যে সরকার রাস্ট্রের জনগণের উক্ত সাতটি মৌলিক চাহিদা পুরণ বা অধিকার রক্ষার সুনিশ্চিত গ্যারান্টি দিতে পারবে সে সরকারই হবে আজিবনের জন্য শাসন কর্তৃত্বের অধিকারী । সে সরকারই হবে রাস্ট্রের জন্য অনন্তকাল অবধি একটি জনপ্রতিনিধিত্বকারী উত্তম সরকার । যার আনুগত্য করতে প্রত্যেক নাগরিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ।
মহান আল্লাহ পাক পরওয়ারদিগার সকল জনপ্রতিনিধিকে উত্তম বিবেক দানে সহায়তা করুন । আমীন ।
==============






