আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা
বাংলা ভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী
সকল মহান ভাষা শহীদগণের প্রতি,
এবং ভাষা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত
সকল ভাষা সৈনিক
ও বীর বাঙ্গালীদের জানাই অশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলী,
সেইসাথে সকলকে জানাই
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা।
বিষয় সূচী
APNAKE SHAGOTOM
সকলকে বাংলা নতুন বছরের শুভেচ্ছা
অথচ একদিন আমরা বাঙ্গালী জাতি একতাবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রীয় ভাষা উর্দুকে ত্যাগ করে নিজেদের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা তথা বাংলা ভাষাকে সর্বত্র প্রচলন করতে প্রাণ দিতে বাধ্য হয়েছিলাম ! ফলে বিজাতীয় ভাষা উর্দূকে অপসারন করে নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলার স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলা ভাষাকে ধারন করেছিলাম । যখন আমরা বাংলার সর্বত্র বাংলা ভাষায় কথা বলা শুরু করেছিলাম ,তখন কিন্তু বিশ্বায়নের যুগটা অনুপস্থিত ছিল তা নয় , বিশ্বায়নের যুগটা তখনও ছিল বিধায় আমরা ইংরেজী শিক্ষায় তখনও বাধ্য ছিলাম । অর্থাৎ যে জন্যে আজ আমরা ইংরেজী শিখছি সেইজন্যে তখনও ইংরেজী শিক্ষার প্রচলন ছিল । ছিল ইংরেজী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাও । তাই বলে সে সময় বর্তমান সময়ের মত মাতৃভাষা বাংলাকে অবমাননা করা হয়নি । মানুষ সে সময় বাংলায়ই কথা বলেছিল । শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রেই সে সময় ইংরেজী ব্যাবহার করেছিল বাঙ্গালী জাতি ।
conduit-banners
Powered by Conduit |
বুধবার, ১ জুন, ২০১৬
রবিবার, ১৬ জুন, ২০১৩
আজ বিশ্ব বাবা দিবসে আমার কিছুই করার নেই। আছে শুধু "রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানী সাগিরা (হে আমার রব ! আমার পিতামাতা উভয়কে রহম কর, যেমনিভাবে তারা আমাকে ছোটবেলায় লালন পালন করেছেন)" এতটুকু বলে আমার সেই বাবা-মা'কে একটু স্মরণ করে চোখের জলে নিজেকে সিক্ত করা।
আজ বিশ্ব বাবা দিবসে আমার কিছুই করার নেই।
আছে শুধু "রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানী সাগিরা
(হে আমার রব ! আমার পিতামাতা উভয়কে রহম কর,
যেমনিভাবে তারা আমাকে ছোটবেলায় লালন পালন করেছেন)"
এতটুকু বলে
আমার সেই বাবা-মা'কে একটু স্মরণ করে
চোখের জলে নিজেকে সিক্ত করা।
------------------------

FATHER'S DAY
আজ নাকি বিশ্ব বাবা দিবস। আজকাল কোন দিবসই আমার মনে থাকেনা। আজ টিভিতে দেখলাম বাবা দিবস চলছে। তাই স্মরণে এলো বাবার অনেকগুলো কষ্টের স্মৃতি। বাবার সেইসব কষ্টের স্মৃতিগুলো মনে উঠলেই চোখ দিয়ে ঝরতে থাকে অবিরাম ঝর্ণা স্রোত।
আমার বাবা ছিলেন একজন সৎ ব্যবসায়ী, ঢাকার নির্মাণ প্রতিষ্ঠাণগুলোর একজন সাব কন্ট্রাকটর, বিশেষ করে ইষ্টার্ণ হাউজিং লিমিটেড । প্রথমে তদানিন্তন বার্মার রেঙ্গুন এবং শেষ বিশ্বযুদ্ধের পর রেঙ্গুনের পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে গেলে সেখান থেকে সকল অবলম্বন ছেড়ে দেশে ফিরে যখন অসহায় হয়ে পড়েছিলেন, তখন আমাদের বাড়ীর সামনের দোকান্দার আমাদের ভাই সম্পর্কীয় মফজল আহমদ সওদাগর থেকে মাত্র দেড় টাকা ঋণ গ্রহণ করে ঢাকায় পাড়ি জমান তিনি। 
সেই থেকে অনেক চড়াই উৎরায় পেরিয়ে তিনি ঢাকায় প্রতিষ্টিত হন। সেখানে তৃতীয় শ্রেনীর সরকারী লাইসেন্সধারী একজন কন্ট্রাক্টর হিসাবে আজিজুল হক এণ্ড সন্স নামে একটি প্রতিষ্টান দাঁড় করিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। ওনার কষ্টের সামান্য অংশ আমি দেখেছি । আমি বুদ্ধিজ্ঞান অর্জন করার পর যে দিনগুলোতে আমি তাঁর সাথে মাঝে মাঝে যাতায়াত করতাম। স্মরণ পড়ে ওনার কষ্টকর একটা দিনের কথা। আমি ও বাবা একদিন রিক্সা করে যাচ্ছিলাম মগবাজার থেকে ৩/সি পুরানা পল্টনের আমাদের সাইটে স্নোসাম (বিল্ডিং রং করনের পাউডার) এর ড্রাম নিয়ে । বিজয়নগরে পৌছলেই রিক্সাটি উল্টে যায়। স্নোসেমের ড্রাম দু'টি আমার বাবার উপর। আর আমি ছিটকে পড়ি রাস্তার আইল্যান্ডে। বাবার সেদিনের কষ্টটা আমি সহ্য করতে পারিনি। এমনই বহু কষ্টের ঘটনাগুলো আমার চোখে ভাসছে আজ। তাঁর সুখের দিনগুলো যেন মলিন হয়ে গেছে তাঁর কষ্টের দিনগুলোর আবরণে। তাই বরাবরই তার সুখের দিনগুলো আমার চোখে ভাসেনা, ভাসে শুধু ওনার কষ্টের দিনগুলো।
স্মরণ করছি সেই বাবাকে যাঁর মাধ্যমে আমি দুনিয়া দেখেছি। যাঁর রক্তঝরা মেহনতে আমি লালিত হয়েছি, যারা সুখহারা জীবনের মাঝে আমি নির্লজ্জ - পাষাণের মত সুখলাভে মত্ত থেকেছি। সেই বাবাকে দিতে পারিনি আমি সুখের ছোঁয়া, দিয়েছি কেবলই দুঃখ , কেবলই কষ্ট। আজ আমার সেই বাবার অনুপস্থিতি, আমার বাবার শেষ দিনকার সময়গুলো যেন আমাকে নিয়ত কুঁকড়ে কুঁকড়ে খাচ্ছে।
কিন্তু কিছুই করার নেই। আছে শুধু "রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানী সাগিরা (হে আমার রব ! আমার পিতামাতা উভয়কে রহম কর, যেমনিভাবে তারা আমাকে ছোটবেলায় লালন পালন করেছেন)" এতটুকু বলে আমার সেই বাবা-মা'কে একটু স্মরণ করে চোখের জলে নিজেকে সিক্ত করা।
বুধবার, ৯ জানুয়ারি, ২০১৩
মানুষের গুণাবলী না হোক , কামনা হোক - অন্তত আমরা যেন পশুদের গুণাবলী ধারণ করতে পারি
এই অনুচ্ছদটা লেখা শেষ করার পর যোগ করতে মন চাইল সামান্য কথা , তাই পোষ্ট দেয়ার পরও আবার সংশোধন করলাম। যা বলতে চাইছি - আমার শেষ ঘটনা থেকে আমি দুটি শিক্ষা পাচ্ছি। তার একটা হলো একটা পশুর মালিকের হুকুম মানতে দ্বিধা না করা , আর দ্বিতীয়টা হল - অন্য পশুটির মালিকের হুকুম মানতে দ্বিধা করা। মানুষ যদি তার বিবেক দিয়ে ভাবে তবে দেখতে পাবে পশুদের মাঝেও রয়েছে বিবেক। কিন্ত স্রষ্টা তাদের বিবেক দেননি। এটাই সত্য কথা। যদি তাদের বিবেক জিনিসটি দিতেন তবে তারা পশু না হয়ে হয়ে যেত মানুষ। কারণ , স্রষ্টা মানুষের স্রেষ্টত্বের প্রমাণ হিসাবে দেখিয়েছেন মানুষের বিবেককে। যাই হোক, বলতে চাইছিলাম দু'টি শিক্ষা নিয়ে। প্রথম পশুটি তার মালিকের হুকুম মেনে নিয়েছে ঠিকই কিন্তু , কারো উপকার করে এক্সট্রা মার্ক অর্জন করতঃ তার শ্রেষ্টত্ব অর্জন করতে পারেনি। আর একটা পশু মালিকের হুকুম তো মেনেছেই সেই সাথে অন্যের উপকার করে এক্সট্রা মার্ক নিয়ে তার শ্রেষ্টত্বেরও প্রমাণ দিয়েছে, যাতে অর্জিত হয়েছে মালিকের সন্তুষ্ট এবং নিজের সাফল্যতা। অপর দিকে প্রথম পশুটি শুধুমাত্র মালিককে সন্ত্রুষ্টি করছে , তার নিজের জন্য জন্য কিছু অর্জিত হয়নি। আমাদের দেশে যারা সরকারের পদলেহন করে তারা শুধুমাত্র প্রথমোক্ত পশুটির ন্যায় সরকারের সন্তুষ্টি অর্জন করে যাচ্ছে। নিজেদেরকে শ্রেষ্টত্বের প্রমাণ দিয়ে জনতার প্রতিনিধি রূপে উপস্থাপন করতে তারা অপারগ। তাদের নিজেদের জন্য অর্জন তাদের কিছুই হচ্ছেনা। মানুষের বড় অর্জন তার সম্পদে নয় , মানুষের কাছে মহান রূপে প্রতিষ্ঠা করতে পারাই মানুষের বড় অর্জন।
রবিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১২
রূপালী জ্যোৎস্নায় একদিন
- এত জায়গা থাকতে রাতবিহারে এ স্থানটি বাচাই করলে কেন ?
- কেন, তোমার খারাপ লাগছে ?
- খারাপ লাগছেনা , জানার কৌতুহল।
- রূপালী জ্যোৎস্না নদীর ধারে যতটুকু সুন্দর লাগে অন্য কোনখানে তত সুন্দর লাগেনা। তাই তোমার আজকের আগমনকে স্মৃতিতে ধরে রাখার জন্য এই বিশেষ স্থান নির্ধারণ।
- সত্যিই তাই, খুবই সুন্দর লাগছে। এমন সুন্দর জ্যোৎস্না আর কখনো দেখা হয়নি। অনেক অনেক ধন্যবাদ এই বিশেষ স্থানে নিয়ে আসার জন্য।
- হাঁটতে হাটতে অনুভব হলো একটি মিষ্টি সুঘ্রান যেন আমোদিত করছে। তোমারও লাগছে নাকি ?
- লাগছে মানে ! আমি তো এই সুঘ্রানের জন্যই এখানে আসি বার বার। তুমি কি এখন খেয়াল করছ সেটা ?
- না , যখন ডানে মোড় নিয়ে যাত্রা শুরু করলাম তখন থেকেই।
- ও তাই, তুমি কি জান কতটি চম্পা ফুলের গাছ পেরিয়ে এলাম ?
- তা আমি কিভাবে জানব ? আমি তো গাছের দিকে তাকাই-ইনি।
- তবে কোন দিকে তাকিয়েছিলে ?
- তাকিয়েছিলাম রূপালী চাঁদ, রূপালী নদ আর জ্যোৎস্নামাখা তোমার রূপালী মুখের দিকে। গাছ দেখার সময় কি আর পেলাম ?
- বাহ্ ! কবি হয়ে গেলে দেখছি !
- কবি হয়েছি কিনা জানিনা, তবে এমন মধুর ক্ষণে কবিতা না লিখতে পারলেও কবি হতে কার না ইচ্ছে করে ? যা হোক, বললে নাতো কয়টা চম্পা গাছ পেরিয়ে এলাম ?
- দশটা । আমার নিজেরই আছে ছয়টা।
- তবে তো এটা চম্পা ফুলের একটা বাগান। কিন্তু তোমার ছয়টা মানে বুঝলামনা। তুমি কি এখানে চম্পা ফুলের গাছ লাগিয়েছ নাকি ?
- হ্যা , এটাকে চম্পা ফুলের বাগানই ধরে নিতে পার। সব মিলিয়ে পঁচিশটা গাছ হলে তো একটা বাগানই। আমি জানিনা আমি গাছ লাগিয়েছি কিনা। তবে বাবা বলেছে আমার বয়স যখন তিন বৎসর তখন আমাকে এখানে নিয়ে এসে আমার হাত দিয়ে দশটা গাছ লাগানো হয়েছিল। দশটা গাছের মধ্যে বেঁচে আছে ছয়টা। তাই ওগুলো আমার গাছ হিসাবেই মনে করি যদিও মালিকানা স্বত্ব দবী করিনা।
- দারুন তো ! তোমার গাছগুলো দেখতে হবে।
- ঠিক আছে ফিরতি পথে দেখিয়ে নেব।
- আমরা আর কতদূর যাব ?
- চম্পা গাছ যতদূর পর্যন্ত আছে ততদূর , তারপর ফিরব।
- আর কতক্ষন হাঁটতে হবে ?
- হিসাব কর , আরও পনেরোটা গাছ অতিক্রম করতে হবে।
- গাছ হিসাব করলে তোমার আার হিসাব কখন করব ?
- মানে ?
- জ্যোৎস্না রাতের প্রেমের হিসাব !
- বুঝলামনা। সেটা কি রকম ?
- কচি খুকী, সব বুঝাতে হবে।
- না বুঝলে বুঝাতে হবেনা ?
- বুঝানোর কাম নেই , গাছ গুণতে এসেছি যখন গাছই গুণে যাই।
- রাগ করছ কেন , তোমার কি করার ইচ্ছা তাই বল।
- তুমি গাছ গুণতে বলে কেন ?
- মনে কর একটা অঙ্ক করতে দিলাম।
- এই ধরণের অঙ্ক এ সময় ভাল লাগেনা।
- কোন ধরণের অঙ্ক ভাল লাগে ?
- রোমান্টিক সময় রোমান্টিক অঙ্ক ?
- রোমান্টিক অঙ্ক ! সেটা কি রকম ?
- এই যেমন ধর , আই লাভ ইউ কতবার বলা হলো ? আগামী দিনের ডেটিং সময় কবে হবে ? এই ধরণের আর কি ?
- বাহ্ ! বেশ রোমান্টিক হয়ে গেলে মনে হচ্ছে ?
- রোমান্টিক হতে পারলাম আর কই ?
- পারলেনা কেন ?
- গাছ গুণতে দিলে কি আর রোমান্টিক হওয়া যায় ?
- কি করতে দিলে রোমান্টিক হওয়া যায় ?
- তা কি শিখাতে হবে ?
- বা রে , আমি কি জানি নাকি , রোমান্টিক কিভাবে হয় ?
- না জানলে থাক, অন্যদিন প্রাক্টিক্যাললি শিখিয়ে দেব।
- ঠিক আছে। আমাদের এখানেই শেষ , চল একটু বসি।
- হ্যাঁ , একটু বসলেই ভাল হয়। পাও ধরে গেছে।
- দেখ দেখ পানির ঢেউ কিভাবে আঁচড়ে পড়ছে !
- তুমি ঢেউ দেখছ ? আমি অন্য কিছু দেখেছি।
- কি ?
- রূপালী ইলিশ !
- কোথায় ?
- পানির সাথে একটা গর্তে ডুকেছে দেখেছি।
- এখানে তো তেমন কিছু দেখছিনা , তোমার ওড়নাটা দাওতো !
- আমার ওড়না দিয়ে কি করবে ?
- দেখই না কি করি ?
দেরী না করে ওড়নাটা নিয়ে খাদে নেমে গেলাম আমি । দৃষ্টি সরাইনি আমার। মাছটি রয়ে গেছে সেখানে এখনো। ওড়নাটা মেলে গর্তে হাত দিয়ে চেপে ধরলাম। যা ভেবেছি তাই । মাছটা ছুটে যেতে প্রাণপণ চেষ্টা করল। পারলনা পালাতে। ধরাশায়ী হলো দুটি হাতের কাছে । ওড়নাটা দিয়ে ভাবে পেঁচিয়ে নিলাম। তুলে আনলাম উপরে। প্রিয়া তার ওড়নার দিকে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকল। বলল :
- এ কি করেছ তুমি ?
- কি করেছি মানে ! দেখছনা রূপালী জ্যোৎস্নার রূপালী ইলিশ ধরে এনেছি।
- তুমি কি পাগল ?
- এই জ্যোৎস্নায় একটু পাগল না হলে কি মানায় ?
- তাই বলে তুমি আমার ওড়না দিয়ে মাছ ধরবে ?
- আরে তুমি ওড়নার চিন্তা করছ , লাভ কি করেছি সেটা তুমি দেখছনা ?
- দিলে তো আমার ওড়নাটা শেষ করে।
- একটা ইলিশের দাম কত জান ? তোমার ওড়নার তিনগুণ।
- ওড়না শেষ হয়েছে তো কি হয়েছে ? স্মৃতিটার ভিত্তি তো মজবুত হয়েছে। এই স্মৃতি কি ভুলতে পারবে ?
- ঠিক আছে , ওড়নার কথা বাদ দিলাম। কোন সাহসে খাদে নেমেছ ? যদি পীচলে গিয়ে পানিতে চলে যেতে কি হত ভেবে দেখেছ ?
- কেন , তুমি আমাকে বাঁচাতে নামতেনা ?
- নামলে কি হত ? দু'জনেই মরতাম।
- মরণকে ভয় করছ কেন ?
- কেন তুমি ভয় করনা ?
- আমি ভয় করলে কি আজ এই রূপালী ইলিশ ধরতে পারতাম ?
- তোমার সাহস দেখে আমি অবাক না হয়ে পারছিনা।
- আর অবাক হবার দরকার নেই। চল , দেরী করার সময় নেই।
- চল , বাড়ি গিয়ে দেখো বাবা কি বলছে। প্রস্তুত থাক গালি শুনার জন্য।
- এই রূপালী ইলিশের কাছে হাজারো গালি কিছুই না।
- তুমি না একটা বদ্ধ উন্মাদ।
- তাই সই।
- তুমি একটা গাদা ।
- তাও মানতে রাজি।
- পাগল।
- পাগল হয়েই তো করতে পেরেছি মাছটা দখল। এবার তোমার গাছ দেখাও।
- ওই তো , ওখান থেকে আমার গাছগুলোর শুরু।
- বেশ বড় হয়েছে দেখছি।
- বড় হবে না ? চৌদ্দ বছর হয়ে গেছে বয়স ।
- দেখি লাইটা জ্বালাওতো মোবাইলের।
- কেন ?
- গাছগুলোতে কিছু একটা লেখা দেখা যাচ্ছে মনে হয় !
- এ দেখি সব আমার নাম লেখা। ব্যাপার কি ?
- আমি যতবারই আসি তোমার নামটা এসব গাছে লিখে দিই।
- কেন ?
- তোমাকে একদিন এই গাছগুলো দেখাব বলে।
- যদি আমি কখনো না আসতাম ?
- আমার ধারণা ছিল , তুমি একদিন আসবেই।
- এমন বিশ্বাস কেন হয়েছিল ?
- জানিনা।
- এ গাছটিতেই শুধু দেখলাম - "Z" IS MY LOVE. কার উদ্দেশ্যে এ লেখাটি ?
- এটাই তোমার জন্য আজকর শেষ অঙ্ক।
- মাছটা একটু ধর।
- কেন ?
- আমিও একটা কিছু লেখতে চাই।
ছুরি দিয়ে সামান্য জায়গার ছাল পরিস্কার করে খোদাই করে লিখে দিলাম প্রিয়ার সেই চম্পা গাছে - " আজকের এই রূপালী জ্যোৎস্নার রাতে রূপালী চাঁদের আলোয় আমাদের এই রাতবিহারের স্মৃতি অমলিন থাকবে - I LOVE YOU PRIYA."
============
শুক্রবার, ৩ আগস্ট, ২০১২
একটি মেয়ের জীবনসঙ্গী পছন্দের বর্ণনা
দূর্গের উপরে যখন বসলাম । একথা ওকথার পর মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলাম -
বলতো তোমার জীবন সঙ্গী কেমন চাও ? (আসলে ওর ভাই-ই আমাকে জিজ্ঞেস করতে বলেছিল তার কেমন ছেল পছন্দ)
- হঠাৎ এ প্রশ্ন কেন ?
- জানতে চাইলাম আর কি ? দেখি আমি তোমার উপযুক্ত কি না ? (একটু যোগ করলাম)।
- ও তাই ! সাহস তো কম না !
- এতে আবার সাহস লাগে নাকি ? একটা কথা জিজ্ঞেস করতে যদি সাহস লাগে , তবে আর পুরুষ হলাম কেন ?
- এই জন্যই তুমি আমার বন্ধু । যা বল অকপটে। সেটা খারাপ হোক আর ভাল । মনে আসলেই বলে ফেললে , আর তাতে কেউ রেগে যায় কি না দেখনা ! সত্যি তুমি খুব সহজ সরল ।
- থাক আর প্রশংস করতে হবেনা । যা জিজ্ঞেস করেছি তার উত্তর দাও ।
- উত্তর কি দিতেই হবে ?
- তোমার অসুবিধা হলে দিওনা , চল বের হয়ে যাই ( একটু রাগের ভান করলাম। সে জানে আমি একবার রাগলে তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ রাখি কম্পক্ষে পনের দিন)।
- তোমাকে নিয়ে এই হচ্ছে একটা সমস্যা । নাকের ডগায় যেন তোমার রাগ কিলবিল করে ।
- আর তোমাকে নিয়ে কোন সমস্যা নাই ?
- বল আমাকে নিয়ে কি সমস্যা ?
- এইযে ডুবে ডুবে প্রেম কর আর আমাকে কিছু জানাওনা । কেমন বন্ধু তুমি ?
- আমি প্রেম করি ! তোমাকে কে বলল ?
- কেউ বলতে হবে নাকি ? তোমার আচার আচরণেই তো বুঝা যায় ।
- কি আচরণ দেখেছ যে , আমি প্রেম করছি মনে হচ্ছে ?
- এই যে দুপুর দুইটায় ফোন করে জানালে এক্ষুনি বের হও , ঘুরতে যাব । প্রেম না করলে কি কেউ কাউকে বলে ?
- আহারে আমার প্রেমিকরে ! বিড়ি খায়না , সিগারেট খায়না , মদ খায়না , প্রেম কারে কয় তাও জানেনা , তার সাথে করব আমি প্রেম ! তুমি জাস্ট আমার বন্ধু। যদি প্রেম করতে চাও আজ থেকে বন্ধুত্ব কাট। আর প্রেম তো প্রশ্নই আসেনা।
- ওই তাই ! বুঝতে পারলাম ।
- কি বুঝতে পারলে ?
- তোমার কেমন ছেলে পছন্দ তা।
- কচু বুঝেছ । কচু চিন ?
- তুমি কয়টা কচু চিন সটা বল আগে ।
- কেন ওলকচু , মানকচু । আর কি কোন কচু আছে নাকি ?
- বুঝেছি তুমি কচু চিন , তবে যাতকচু, গুরা কচু , ছড়া কচু এগুলি চিননা ।
- আমি জন্মেছি শহরে । এতগুলো চিনব কি করে । তুমি গ্রামে জন্মেছ তাই তুমি অতসব জান ।
- তাইলে আবার বললে কেন যে আমি কচু চিনি কি না ?
- সরি ।
- হ , গ্রামের মানুষদের শহুরেরা সরি বললেই তারা মনে করে তাদের কেল্লাফতে। তাই ত বলি - কেন আমার সাথে প্রেম করতে তোমার বাধা ? আমি গ্রামের আর তুমি শহরের । কোথায় আকাশ আর কোথায় পাতাল ! ঠিক আছে । প্রেম করতে হবেনা আমার সাথে । আমি নিজেও জানি আমি তোমার উপযুক্ত না । বামন কখনো চাঁদের দিকে হাত বাড়িয়ে চাঁদ ধরতে পারেনা । এখন বল তোমার কেমন ছেলে পছন্দ?
- তুমি তো রেগে গেছ দেখছি । আমি বুঝতে পারিনি তুমি এত রেগে যাবে । সরি বন্ধু , মাফ করে দাও ।
- নাতো আমি রাগিনি । গ্রামের মানুষদের শহুরেদের সামনে রাগ করা শোভা পায়না। তেমনি আমারও না ।
- ঠিক আছে যতক্ষণ পার তুমি বলে গায়ের ঝাল মিঠাও , তবু রাগ করোনা। তুমিই তো আমার একমাত্র বন্ধু , যার সাথে আমার মনের সব কথা শেয়ার করি।
- ওকে , বাবা আমি রাগ করিনি । এখন বল তোমার কেমন ছেলে পছন্দ ?
- তুমি এই কথা নিয়ে আছ কেন ? কারো দালালী নিয়েছ নাকি ?
- দালালী নিলেই বা ক্ষতি কি যদি আমার বন্দুর কোনদিন উপকার হয় ।
- বুঝলামনা । উপকার মানে ?
- তোমার এত বুঝার কাম নেই । আপাতত উত্তর দিলেই চলবে ।
- ঠিক আছে উত্তর দিচ্ছি একটা শর্তে ।
- কি শর্ত ?
- এ কথা জানত চাচ্ছ কেন ?
- সেটা কয়েকদিন পরে বললে হয়না ?
- আজকে বললে অসুবিধা কি ?
- অসুবিধা আছে বলেইতো আজ বলা যাবেনা। যদি বলতে না চাও থাক , বলার দরকার নেই ।উঠ সন্ধ্যা হয়ে গেছে ।
- আবারও রাগ ! ঠিক আছে বাবা , বলছি । আমি এমন ছেলে পছন্দ করি - যে সিগারেট খায় , মদ খায় , নেশাখোর , সিনেমা দেখে , গুন্ডামী করে , মিথ্যা বলে , নারীদের প্রতি আসক্ত , সবসময় সেক্সুয়্যাল কথা বলে , লজ্জাহীন , ধুকাবাজ , চঞ্চল , বে-পরোয়া , লোভী , ধর্মাসক্ত নয় , মেয়ে দেখলেই যার জীবে জল আসে , মেয়েদের যে ছ্যাকা দিতে জানে , লড়াকু , শক্তিশালী , তেজোদীপ্ত , প্রতিজ্ঞাভঙ্গকারী , লুচ্ছা , বদমাস এই ধরণের ছেলেই আমার পছন্দ!
- এটা কি আমাকে থাপ্পড় দিলে নাকি আমাকে শিক্ষা দিলে ।
- না বন্ধু , কোনটাই না । যা সত্য তাই বলেছি । আমরা বেশীরভাগ মেয়েরা এই ধরণের ছেলেই পছন্দ করি। সহজ সরল ছেলেদের পছন্দ করে জীবন বরবাদ করে ফায়দা কি ?
- তবে তো তোমার পছন্দগুলির প্রত্যেকটি বিষয়ে ভাল করে জানতে হবে । কেন তোমাদের এই ধরণের ছেলে পছন্দ?
- আজকেই কি সব জানতে চাও ? সব আজকে জানিয়ে দিলে অন্যদিন কি বলব ? চল বেরিয়ে পড়ি । মাগরিবের সময় হয়ে গেছে । অন্যদিন বলব ।
সেদিনকার মত তার কাছ থেকে বিদায় নিলাম মৌছাক মোড়ে এসে । তারপর আরও একদিন …
=====================



