আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা

বাংলা ভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী

সকল মহান ভাষা শহীদগণের প্রতি,
এবং ভাষা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত

সকল ভাষা সৈনিক
ও বীর বাঙ্গালীদের জানাই অশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলী,
সেইসাথে সকলকে জানাই

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা।

বিষয় সূচী

সাহিত্য (60) অন্যান্য কবিতা (53) ভালোবাসার পদবিন্যাস ( প্রেম সম্পর্কিত রচনা বিশেষ ) (53) আমার লেখা প্রবন্ধ-নিবন্ধ (37) কবিতা (35) দেশ নিয়ে ভাবনা (33) ফিচার (33) বাংলাদেশ (29) সমসাময়িক (28) খন্ড কাব্য (26) হারানো প্রেম (22) সংবাদ (18) কাল্পনিক প্রেম (16) ইতিহাস (15) প্রতিবাদ (15) সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ (15) Online Money Making Links (14) দেশাত্মবোধক কবিতা (13) আমার জীবনের দিনপঞ্জী (12) ধর্ম (12) প্রেমের কবিতা (11) ব্যক্তিত্ব (11) রাজনীতি (11) ধর্মীয় আন্দোলন (10) প্রবাসের কবিতা (10) খন্ড গল্প (9) জীবন গঠন (9) বর্ণমালার রুবাঈ (9) ইসলাম (8) প্রগতি (8) মানুষ ও মানবতা (8) হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ (8) VIDEOS (7) আমার লেখালেখির অন্তরালে (7) ইসলামী জাগরণ (7) মানব মন (7) ট্র্যাজেডি (6) শোক সংবাদ (6) সম্প্রীতি (6) নারী স্বাধীনতা (5) প্রেমের গল্প (5) বিজয় দিবসের ভাবনা (5) মৃত্যুপথ যাত্রী (5) সংবাদ মাধ্যম (5) স্মৃতিকথা (5) ঈদ শুভেচ্ছা (4) প্রবাস তথ্য (4) রমজান (4) শুভেচ্ছা (4) Computer Programer (3) আমার ছবিগুলো (3) আমার রাইটিং নেটওয়ার্ক লিংক (3) পর্দা (3) ফটিকছড়ি (3) বাংলাদেশের সংবিধান (3) বিশ্ব ভালবসা দিবস (3) শিক্ষা (3) শিক্ষার্থী (3) স্লাইড শো (3) News (2) VERIETIES POEMS OF VERIOUS POETS (2) আষাঢ় মাসের কবিতা (2) আষাঢ়ের কবিতা (2) ইসলামী রেনেসাঁ (2) ছাত্র-ছাত্রী (2) থার্টি ফাস্ট নাইট (2) নারী কল্যান (2) নারী প্রগতি (2) নির্বাচন (2) বর্ষার কবিতা (2) মহাসমাবেশ (2) শবেবরাত (2) শরৎকাল (2) শাহনগর (2) শ্রদ্ধাঞ্জলী (2) সত্য ঘটনা (2) সত্য-মিথ্যার দ্বন্ধ (2) সফলতার পথে বাংলাদেশ (2) Bannersআমার ছবিগুলো (1) DXN (1) For Life Time Income (1) For Make Money (1) Knowledge (1) Student (1) অদ্ভুত সব স্বপ্নের মাঝে আমার নিদ্রাবাস (1) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (1) আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত(সুন্নী) (1) উপন্যাস (1) কবি কাজী নজরুল ইসলাম (1) কোরআন - হাদিসের কাহিনী (1) গল্প (1) চট্টগ্রাম (1) চিকিৎসা ও চিকিৎসক (1) জমজম (1) জাকাত (1) তরুন ও তারুণ্য (1) নারী জাগরণ (1) পরকিয়ার বিষফল (1) ফটিকছড়ি পৌরসভা (1) বন্ধুদিবস (1) বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেম (1) বিবেক ও বিবেকবান (1) বিশ্ব বাবা দিবস (1) বিশ্ব মা দিবস (1) ভ্রমণ (1) মন্তব্য (1) মাহফুজ খানের লেখালেখি (1) রবি এ্যাড (1) রমজানুল মোবারক (1) রেজাল্ট (1) রোগ-পথ্য (1) লংমার্চ (1) শহীদ দিবস (1) শুভ বাংলা নববর্ষ (1) শৈশবের দিনগুলো (1) সমবায় (1) সস্তার তিন অবস্থা (1) সাভার ট্র্যাজেডি (1) সিটি নির্বাচন (1) স্বপ্ন পথের পথিক (1) স্বাধীনতা (1) হ্যালো প্রধানমন্ত্রী (1) ২১ ফেব্রোয়ারী (1)

APNAKE SHAGOTOM

ZAKARIA SHAHNAGARIS WRITING

সকলকে বাংলা নতুন বছরের শুভেচ্ছা

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আমরা আর বাংলা ভাষায় কথা বলতে চাইনা । নিজের মাতৃভাষাকে যখন-তখন যেখানে সেখানে অবমাননা করে তৎপরিবর্তে ইংরেজী ভাষা ব্যবহার করতে অভ্যাস্থ হয়ে যাচ্ছি বা হয়ে গেছি ।
আরও একটু এগিয়ে গেলে বলতে হয় - আমরা আজ বাঙ্গালী হয়ে বাঙ্গালী জাতিসত্বা ভুলে গিয়ে ইংরেজী জাতিসত্বায় রক্তের ন্যায় মিশে গেছি !

অথচ একদিন আমরা বাঙ্গালী জাতি একতাবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রীয় ভাষা উর্দুকে ত্যাগ করে নিজেদের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা তথা বাংলা ভাষাকে সর্বত্র প্রচলন করতে প্রাণ দিতে বাধ্য হয়েছিলাম ! ফলে বিজাতীয় ভাষা উর্দূকে অপসারন করে নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলার স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলা ভাষাকে ধারন করেছিলাম । যখন আমরা বাংলার সর্বত্র বাংলা ভাষায় কথা বলা শুরু করেছিলাম ,তখন কিন্তু বিশ্বায়নের যুগটা অনুপস্থিত ছিল তা নয় , বিশ্বায়নের যুগটা তখনও ছিল বিধায় আমরা ইংরেজী শিক্ষায় তখনও বাধ্য ছিলাম । অর্থাৎ যে জন্যে আজ আমরা ইংরেজী শিখছি সেইজন্যে তখনও ইংরেজী শিক্ষার প্রচলন ছিল । ছিল ইংরেজী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাও । তাই বলে সে সময় বর্তমান সময়ের মত মাতৃভাষা বাংলাকে অবমাননা করা হয়নি । মানুষ সে সময় বাংলায়ই কথা বলেছিল । শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রেই সে সময় ইংরেজী ব্যাবহার করেছিল বাঙ্গালী জাতি

conduit-banners

Powered by Conduit

ফ্লাগ কাউন্টার

free counters

MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY

PLEASE CLICK ON MY BANNERS. VISIT MY AFFILIATE SITE "MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY ( অনলাইনে অর্থোপার্জনের একটা মাধ্যম )" I HOPE IT WILL BE HELPFUL FOR YOU. Create your own banner at mybannermaker.com!
আমার জীবনের দিনপঞ্জী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আমার জীবনের দিনপঞ্জী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১ জুন, ২০১৬

কষ্ট রাতের নষ্ট জীবন - মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী

কষ্ট রাতের নষ্ট জীবন
**************
যেই কষ্ট ধরে আছি আজো 
এ অবাঞ্চিত জীবন বাহনে ...
নির্ঘুম রাত কাটে আজো 
সেই কষ্টরাতের আবাহনে।
যে কষ্ট আজো দিয়ে যায় কাঁটার আঘাত 
কিভাবে ভুলা যায় সেই কষ্ট ... 
সরল মানুষের সরল জীবন 
যে কষ্টে নিমিষেই হয়ে যায় নষ্ট।

--------মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী

বৃহস্পতিবার, ২৬ মে, ২০১৬

প্রবাসীদের মৃত্যু যেখানে হয় সেখানেই তাদের দাফন করা উচিত

প্রবাসীদের মৃত্যু যেখানে হয় 
সেখানেই তাদের দাফন করা উচিত
---------------------------------
প্রবাসী যখন তার জীবন-যৌবন প্রবাসেই শেষ করে নিজের সম্মান বজায় রেখে নিজে প্রবাসেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে তখন তাকে চাঁদা তুলে অন্যের অনুগ্রহের পাত্র করে দেশে পাঠানোর মাধ্যমে শেষ কালে তাকে অসম্মান করার কোন যৌক্তিকতা দেখিনা।
তাই আমি মনে করি প্রবাসীরা যদি প্রবাসেই মৃত্যুবরণ করে তবে তাকে অন্যের অনুগ্রহের পাত্র না করে প্রবাসেই দাফন করা উচিত। আমিও একজন প্রবাসী তাই আমি আমার পকেটে (মানীব্যাগে) একটা চিরকুট ও দাফন করার মত ব্যায়ভার রেখেছি যাতে আমি যেখানেই মৃত্যুবরণ করি সেখানেই আমাকে আমার নিজস্ব খরছে দাফন করা হয়,
আমার সে চিরকুটটিতে লিখেছি -

Oh my dear brothers !
Attention please !
Assalamualaykum.
I am a Muslim and Bangladeshi, I have no - my family, any known and relative persons, neighbors friends now.So when and where i will die, please keep my dead body in the burial of a muslim burial-ground with the accordingly as a rule of islam and with this please my death news publish 1st pages of some prime news papers and tv channels of bangladesh.
All of my dead body's spent will be limited valuable of my a gold things which is saved in my money bag.
So please ! this gold sale for my all of spent of my dead body.


Thanks to all for everything
Mohammed Zakaria Shahnagari

বুধবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৩

জীবনের আয়োজন

জীবনের আয়োজন
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
---------------------


জীবনের আয়োজনে ছিলনা বিশেষ কিছু ,
কষ্টেরা ছাড়েনি পীঁছু।
সদা ভয় সদা লাজে
জীবনটা হয়েছিল নীচু।
জীবনের চাওয়া ছিলনা বেশী কিছু –
চেয়েছি জীবনকে সুন্দর করে সাজাতে ,
তাই সুউচ্চ মস্তক করিনি কোথাও নীচু ;
চাইনি কখনো মান-সম্মান সব হারাতে।
সম্পদের পাহাড় চাইনি গড়তে –
তাই ছুটিনি কখনো অর্থের পীঁছু ,
চেয়েছি সকল কিছুর মাঝে থাকতে ;
ভাবিনি কখনো হারাতে হবে সকল কিছু।
এই জীবনের পাওয়া হয়নি কিছু –
সুখ-শান্তির খোঁজে হয়েছে জীবনসময় ক্ষয়,
একটুখানি ভালবাসার তরে ছুটেছি সকলের পীঁছু ;
পাইনি ভালবাসা, করে গেছি সুখ-শান্তি প্রাপ্তির অভিনয়।
অভিনয়ে অভিনয়ে গেল যে জীবন,
ঘনিয়েছে যাত্রাসময় হবে যে মরণ।
অঙ্গে দেখা দিবে সফেদ আবরনে নতুন সাজ,
জীবনের সব আয়োজন যেন ফুরিয়েছে আজ।
===================

মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৩

থমকে যাওয়া জীবন

থমকে যাওয়া জীবন
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

জীবন আমার চলছেনা আর
ঘনিয়েছে চারিদিকে শুধুই আঁধার-
পাইনা খুঁজে পথটা চলার
দিক হারিয়ে ফেলি বারবার।।
আলো নেই, নেই বায়ুবেগ
চলার পথ দেখিনা আমি-
থমকে যাওয়া জীবন আমার
হারিয়েছে ক্ষমতা পথচলার,
বায়ুবেগ নেই বলে
দোলেনা এই জীবনখানি।
চলতে চেয়েছি কতবার
দিক হারিয়েছি বারবার,
চলার গতি ফিরে পেতে
আলো জ্বেলেছি যতবার,
সেই আলো নিবে গেছে বারবার।।
জীবন পথে আর মোর হয়না চলা,
মনের মাঝে ভাসে হতাশার মেঘের ভেলা।
যেদিকেই যেতে চাই
হয়না যাওয়া,
সেদিকেই বাধা আসে
হয়না চলার পথটা পাওয়া।
এভাবেই আজ জীবন আমার
থমকে গেছে চলেনা আর,
যতই আমি ঠেলেঠুলে চালাতে চাই
চলেনা তাহা থেমে যায় শুধু বারবার।।
================

বুধবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১২

আমার জীবনের দিনপঞ্জী (সমাপ্ত)

আমার জীবনের দিনপঞ্জী (সমাপ্ত)
বিশেষ কারনে আমার জীবনের দিনপঞ্জী লেখা
অসমাপ্ত রেখে এখানেই শেষ করলাম
--------------------------

আমি আমার জীবনী লেখা শুরু করেছিলাম। কয়েক কিস্তি লেখার পর যখন একটা ঘটনা লিখতে মনোনিবেশ করলাম,তখন হঠাৎই আঁটকে গেলাম একটা চরিত্রের রূপদান করতে গিয়ে।
আমার জীবনী লিখতে গিয়ে অনুভব করলাম , আমার জীবনতো শুধু আমার সাথেই সম্পৃক্ত নয়। আমার চারিপাশ,আমার আত্মীয়-স্বজন,আমার পাড়া-প্রতিবেশী মোটকথা আমার চলমান জীবনের সাথে যা কিছুরই সম্পর্ক সবকিছুকে নিয়েই আমার জীবন। আমার জীবনী যদি সত্যনির্ভর করে লিখতে যাই তবে তো এ সকল কিছু নিয়েই লিখতে হবে। তবেই হবে একটা বাস্তব জীবনের চিত্র প্রদর্শন। যাতে উটে আসবে একটা জীবনের ভাল মন্দ সকল কিছুই।
মানুষ অনেকেই জীবনী লিখে। কিন্তু তাতে দেখা যায় সেই জীবনের অনেক কিছুই বাদ দিয়ে যায়, তারা নীজ জীবনের ভাল দিকগুলো তুলে ধরে কিন্তু খারাপ দিকগুলো প্রদর্শন না করে এড়িয়ে যায়। তাতে কি বুঝা যায় মানুষটা কিরূপ ? নিশ্চয় না। তাই তাদের সে জীবনী আমি জীবনীকে আমি জীবনী বলতে চাইনা , বড়জোর এটুকু বলতে পারি - সেগুলো হল লেখকদের জীবনের ভালো দিকগুলোর আলোচনা করে নিজেদের ভাল মানুষ রূপে উপস্থান করে বাহবা কুড়ানোর একটা অপ্রপ্রয়াস। আর যিনি নিজের খারাপ দিকগুলো লুকিয়ে রেখে ভালো দিকগুলো লিখে নিজেদের প্রদর্শন করেন তারা মুলতঃ মানুষকে বোকা বানিয়ে সমাজে নিজের একটা ভাল স্থান গড়ে নিতেই চেষ্ঠা করেন। মানুষদের তারা কিছু শিক্ষা দেয়ার জন্য তাদর জীবনী লিখেননা।
আমি জীবনী বলতে যা বুঝি তাহলো - জীবনী একটা মানুষের আভ্যন্তরীন দর্পণ। যাতে মানুষের ভাল মন্দের দিকগুলো প্রস্ফুটিত হয়ে অন্য মানুষদের জীবনকে সুন্দর রূপে গড়ে তুলতে শিক্ষা দেয়। একজন মানুষের ভুলগুলো অন্য মানুষ দেখে তা থেকে তারা নিজেদের শুধরে নেয়।
আমি আমার জীবনী লিখতে গিয়ে এমন একটা সমষ্যার সম্মুখীন হয়েছি , যাতে বাধ্যগত ভাবে এসে অন্যদের কালো অধ্যায়গুলো। তাই লিখতে বাধ্য হতে হয় যা অন্যরা আমকে প্রতি পদে পদে জীবনের মাঝে কষ্টকর অধ্যায়গুলো সৃষ্টি করে দিয়ে আমার জীবনকে করে তুলেছে অতীষ্ট। আর যা লিখতে গেলেই আমার অনেকে কাছের মানুষগুলো জড়িয়ে পড়বে। যা লিখতে গেলে তাদের সম্মানে হানবে আঘাত।
তাই জীবনী লিখতে গিয়ে যদি সেসব বাদ দিতেই হয় , তবে সে জীবনী লেখা আদৌ কোন জীবনী হবেনা। বড়জোর তা হবে একজন ধুঁকাবাজের ধুঁকাবাজির নামান্তর। আর তাই জীবনী লিখে অন্যদের মুখোশ উন্মোচনের চাইতে জীবনী লেখাটা বাদ দেয়াই শ্রেয় মনে করলাম।
======================

বৃহস্পতিবার, ২১ জুন, ২০১২

বৃষ্টি দিনের ভালোবাসার কথন : পর্ব-০২



বৃষ্টি দিনের ভালোবাসার কথন : পর্ব-০২
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
------------------------

১৪।
আমাকে একজন প্রশ্ন করলো -আচ্ছা তুমি যে সেদিন বৃষ্টি নিয়ে এত লেখা লিখেছ ,তোমাদের ওখানে কি বৃষ্টি হয় ? 
আমি জবাব দিলাম -আমাদের এখনে যে বৃষ্টি তা কেউ দেখতে পায়নাযে বৃষ্টিতে ভিজে সয়লাব হয়ে যায় বালিশের সর্বাঙ্গভাগ্য ভাল ফোমের বালিশ চুষে নেয় ,তাই রাস্তার স্রোত হয়ে বহেনা ।

১৫।
দুদিন আগে যখন শরীরটা খুব খারাপ লাগছিল ,তখন হঠাৎ একটা ম্যাসেজ আসল ফোনে। তাতে লেখা - মনে আছে তোমার সেই দিনটি ,আমরা শিম্পাঞ্জী দেখতেছিলাম ,হঠাৎ আসলো বৃষ্টি ! দু'জনে দৌড় দিলাম ,আর সবুজ ঘাসে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলাম আমিতুমি টেনে তুলে দু'হাতের উপর আমায় শুইয়ে দিলে দৌড় ! আর আমি চেয়ে থাকলাম তোমার মুখের দিকেদেখিনি তোমার মুখে কোন কষ্টের ছাঁপ। দেখেছি শুধুই আনন্দের হাসিতোমার সেই হাসিতে বুকটা ভরে যায় আমার এক অনাবিল আনন্দে , একরাশ ভালবাসায়

আশ্চর্যাম্বিত আমিএতগুলো বছর পেরিয়ে আজ একি দেখছি আমি ! আমাদের এ কথাটা আমরা দু'জন ছাড়া আর কেউতো জানেনা ! তবে -কার ম্যাসেজ ?ভালভাবে দেখলাম আবার ম্যাসেজটি। না ঠিকই আছেকিন্তু কে পাঠালো ?সে নয়তো ? ১৯ বছর পর নতুন করে আবার কি করে এলো সেই বসন্তের ডাক ?

১৬।
১৯৯৩ এর একদিনলালমাটিয়া মহিলা কলেজের গেইটে দাড়ানো আমিঅপেক্ষার অন্ত নেই। সে আসবে মিরপুর সেকসন ৬ থেকেসেদিন ছিল তার ইন্টারমেডিয়েট পরীক্ষার প্রথম দিনগুটি গুটি বৃষ্টিতে ভেজা জনপদইতস্তত থাকাতে থাকলাম আমি । না দেখা নেইহঠাৎ ই নজরে পড়লো ফারুক ভাইয়ের দিকেটেক্সী থেকে নামছে তারা দু'জনসেই-ই আমাকে ইশারা করলো ,ফারুক ভাই একটু দূরে অবস্থান নিল আমাদের সুযোগ করে দিয়ে। আর মাত্র দশ মিনিটযা বলার বলে ফেল ,ডুকে যেতে হবে হলেবললাম ,আজ রাতে জরুরীভাবে চট্টগ্রাম যাচ্ছি ,দু'দিন পর ফিরে আসব

ছল ছল নয়নে একবার দেখলো সে আমার দিকেতারপর কোন কথা না বলে হন হন করে চলে গেল গেইটের ভিতর দিয়েটিকেট নিতে হবে তাই আর সেদিন অপেক্ষা করা হলোনাদু'দিন পর যখন চট্টগ্রাম থেকে ফেরত আসলাম ,আসরের পর চিড়িয়ানার গেইটে দেখা হলো দু'জনের -সেই কি তুমুল বৃষ্টি ,আহ্ !

১৭।

"তার আর পর "! 
কেন যেন বৃষ্টি ভাল লাগতো দু'জনেরই" আষাঢ়ে মেঘের" তর্জন গর্জনে প্রকম্পিত ঢাকা নগরী । এরই মাঝে আমরা বেরিয়ে পড়তাম ডেটিং এ। রাস্তা থাকতো ফাঁকা। হতো তুমুল ধারে বৃষ্টিরিক্রাওয়ালা চেয়ে থাকতো মীরপুর সেকসন ৬ এর সেই ছোট্ট গলিটার দিকেকখন ডাক পড়বে তার তাই প্লাষ্টিক জড়িয়ে রেডি থাকতো সেআমাকে বলতো ভাইয়া ,আর কটু সবুর করন ,আমি টের পাচ্ছি এখনই চলে আসবেন আপা

রিক্সাওয়ালা আগেই রেডি থাকতো আমার জন্য সে সেকসন ৬ এর গলির মুখেতার আপা নাকি আমার সাথে ফোনে আলাপ হবার পর পরই বলে দিতো তাকে রেডি থাকতেরিক্সাওয়ালা ও হিসাব করে গলি মুখে এসে আমার জন্য দাঁড়াতআমাকে যখন দেখতো ,চিৎকার করে ডাক দিয়ে বলতো -ভাইয়া আমি এখানে ! আমার আর কষ্ট হতোনা তাকে খুঁজে পেতে

সেদিনও সে রেডি । আমি পৌঁছলেই ডেকে নিলো রিক্সায় । বললো সে -ভাইয়া বলছিলাম না ,চিন্তা কইরেননা। ঐ দেখেনমাথা বের করে দেখলাম। কাছেই চলে এসেছে সেহাতটা ধরে রিক্সায় টেনে তুলে নিলাম তাকে। চলতে শুরু করলো রিক্সা

ঝম ঝম করে কিছুক্ষণ পর শুরু হয়ে গেল বৃষ্টি। বললাম -আজ যেন একটু শীত শীত লাগছে। বললো সে - তবে তো একটা কাজ করতে হয়। আমি বললাম -কি ? সে বললো দেখোইনা কি করি ! এ কথা বলেই সে বাড়িয়ে দিলো তার হাত বৃষ্টির দিকেবৃষ্টিতে হাত বিজিয়ে আমার সার্টটা ফাঁক করে তার হাতটা আমার বুকে লাগিয়ে রাখল। বললাম -এটা কি হচ্ছে ? সে বললো শরীরে তাপ দিচ্ছি যাতে সর্দি না আসে !
==========================



রবিবার, ২০ মে, ২০১২

প্রবাসী আমি –



প্রবাসী আমি –
নেই আমার কোন ঠিকানা
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
---------------------


এক বুক শূণ্যতা বয়ে বেড়াই প্রবাস জীবনে ,
হাহাকার আর্তনাদ লেগে মনের গভীরে ।
ভালবাসার কাঙ্গাল আমি পাইনা ভালবাসার ছোঁয়া ,
ধু ধু মরুভুমির বুক চিড়ে দেখি শুধুই অন্ধকার ধূঁয়া ।
দিন যায় রাত আসে , মাস গিয়ে শেষ হয় বছর ,
একাকী জীবন নিয়ে কাটিয়ে যাই দিবা রাত সর্বসময়
এমনি করেই কাটিয়ে দিলাম জীবনের বারোটি বসন্ত ।

দেখিনি সুখের বাতাস জোটেনি ভালবাসার সুখ ,
দেখেছি শুধুই তাকিয়ে বিস্তীর্ণ মরুভুমির উপরে
বয়ে যাওয়া মরুঝড় !
লাগেনি গায়ে কভু শান্তির শীতল হাওয়া ।
অশান্তির দাবদাহে জ্বলে মনের আঙ্গিনা ,
দুঃখের যাতনা কভু যায়নি দমে ,
সুখের পরশ জীবনে মোর দেয়নি ধরা ।

যাযাবর জীবন নিয়ে ঘুরি পৃথিবী ;
আপন নিবাসে যন আমি অতিথি !
প্রবাস ভুমিতে হয়েছি আমি পরগাছা ।
বুঝতে পারিনা আমি - কোনটা আমার স্বদেশ ?
আর কোনটা আমার বিদেশ ?
প্রবাসী আমি , নেই আমার কোন ঠিকানা ।
মরব কোথায় ? কোথায় হবে মোর দাফন ?
করতে পারিনা তার কোন আশা ।
হয়তো একদিন উড়ে যাব আকাশে ,
খুঁজে পাবেনা কেউ আমার দেহের ধ্বংসাবশেষ ।
====================

একমুঠো অন্নের জন্যে ...



একমুঠো অন্নের জন্যে ...
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
-----------------------------



বারোটি বছর আগে করেছি দেশ ত্যাগ ,
দিয়েছি যত ভালোবাসার জলাঞ্জলী ।
ছেড়েছি প্রিয়তমার ভালোবাসার জগত ,
করেছি উপেক্ষা সন্তান-সন্ততির মায়ার বাঁধন ।
খালি করেছি বাবা-মায়র মমতার কোল ,
ছিন্ন করেছি ভাইবোনের স্নেহ মমতার জাল ;
আমার জন্য নয় , এ ত্যাগ ছিল অন্যের জন্য ,  
আমার জীবনের সাথে জড়িয়ে যাওয়া মানুষদের জন্য ।

আমার একলা পেঠ ভরে যেতো হাওয়ায় হাওয়ায় ,
ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে পাওয়া খাদ্য দিয়ে ,
যেভাবে করে জীবিকা নির্বাহ দেশের সকল পথশিশু ।
আমার সাথে জড়িয়ে যাওয়া জীবনগুলো –
ভরতো না তাদের পেঠ হাওয়া খেয়ে ,
পাওয়া যেতো না ডাস্টবিনে তাদের খাবার ।
কতই বা মিলবে আর ডাস্টবিনে
বড়লোকদের সমাজরক্ষার ঝুঁটা খাবার ?
যেখানে লক্ষ লক্ষ পথশিশু আর অভুক্ত কুকুর – বিড়াল
দিচ্ছে নিয়ত হানা একমুঠো অন্নের জন্যে !
আমি দেখতে চাইনি -  
আমার জীবনের সাথে জড়িত যারা
হয়ে যাক তারাও পথশিশু ,  
করুক কুকুরের সাথে যুদ্ধ - শুধু একমুঠো অন্নের জন্য ।

আমি বাস্তব জীবনের সাথে তাল মিলিয়ে
চলতে শিখেছি ।
আমি চুয়াত্তরের দূর্ভিক্ষে অভুক্ত থেকে
বাঁচতে শিখেছি ।
আমি বড়লোকদের খানার টেবিলে থাপ্পড় খেয়ে
নিজের খাদ্য নিজেই জুগিয়ে খেয়েছি ।
আমি সমাজের উঁচুতলার মানুষদের লাথ্থি খেয়ে
নিজেই নিজের জীবনকে সাজাতে শিখেছি ।
আমি সমাজের বড় বড় অনুষ্ঠানগুলোতে গিয়ে
হোঁছট খেয়ে খেয়ে নিজের মত করে
জীবন গঠন করতে শিখেছি ।

কিন্তু আমার সাথে জড়িয়ে যাওয়া কঁচি প্রাণগুলো –
কিভাবে বাঁচবে তাদের জীবন ?
তারা জনেনা জীবনের ধারাবাহিকতা কি ?
নেই তাদের জীবনে বেঁচে থাকার ধারণা ।
তাদের জীবনের জন্য প্রয়োজন –
অন্ন , বস্ত্র , বাসস্থান , শিক্ষা , চিকিৎসা , নিরাপত্তা ,  
আর এসবে ভার তো আমারই ।
তাদের জীবনের চাহিদা পুরণে
সকল আয়োজন করতে হবে আমারই ,
তাদের চাহিদা পুরণে নিতে হবে আমাকেই পদক্ষেপ ।

যেখানে হয়না আমার নিজ জীবনের চাহিদা পুরণ ,
সেখানে আমার সাথে জড়িয়ে পড়া জীবনের
চাহিদা পুরণ কিভাবে হবে ?

দিয়েছি তাই অন্ধ চোখে ঝাঁপ – আশার সাগরে !
একমুঠো অন্নের জন্য – জীবনের চাহিদা পুরণের জন্য
করেছি দেশত্যাগ – হয়েছি প্রবাসী ,
করেছি গ্রহণ যাযাবর জীবন ।

জগতের সব ভালোবাসা করেছি দাফন বুকের মাঝে ।
==========================================

বৃহস্পতিবার, ১০ মে, ২০১২

বোনের ভালবাসায়


বোনের ভালবাসায় 
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী 
--------------------
আজ অনেকদিন পর অনেক্ষণ কাঁদলাম । বড়বোনের ভালবাসায় এসেছিল জলস্রোত চোখের নদীতে । ভেঙ্গেছিল পাষাণ হৃদয়ে কবর দেয়া ভালবাসার বাঁধ । 
আজ রান্না করেছিলাম সীমের বিচির সাথে কইমাছ । মাছ খেতে গিয়ে পেলাম হাতে কাঁটার আঘাত । এসে গেল মনে সেই ছোট্ট বয়সের স্মৃতি । থমকে গেলাম কিছুক্ষণের জন্য । হারিয়ে গেলাম শৈশবে । জলধারা নেমে এল চোখে । সিক্ত হল নয়নযুগল । 

আমার পার্টনার লক্ষ্য করল আমাকে । কি হয়েছে জানতে চাইল । বললাম – কিছুইনা । বারবার তাগাদায় তাকে শেয়ার করলাম শৈশবের সেই মধুর স্মৃতি । 
মাছ খেতে চাইতামনা কাঁটার ভয়ে সেই শৈশবে । একদিন দুপুরে মাছ রান্না হলো ঘরে । খেতে বসলাম সব ভাইবোন । বড় বোন খানা পরিবেষন করছিল । সবার মত আমার প্লেটেও মাছ দিতে চাইল সে । বাঁধ সাধলাম আমি । 
মাছ আমি খাব না । বড়বোন নাছোড়বান্দা । মাছ আমাকে খেতেই হবে । খুবই আদর করে বলল – ভয় নেই , আমি মাছ বেছে দিচ্ছি , তুই খেতে থাক । বোনটি তখন মাছের টুকরাটা বেছে বেছে আমার প্লেটের উপরিভাগের কার্নিশের চারিধারে ছোট ছোট খন্ডে রাখতে লাগল , আর আমি সেখান থেকে এক এক করে নিয়ে ভাতের সাথে মিশিয়ে খেতে থাকলাম । বোনের ভালবাসায় সেদিন বোনের সহযোগীতায় মাছ দিয়ে ভাত খেতে পারলাম । আমার যতক্ষণ খানা শেষ হয়নি ততক্ষণই বোনের নজর ছিল আমার দিকে ।

সেদিনের সেই স্মৃতি আজ ৩৫/৪০ বছর পর হঠাৎই যেন মনে ধাক্কা খেল । ছোট ভাইয়ের প্রতি বড় বোনের স্নেহ ও মমত্ববোধ , ভালবাসার স্মৃতি আজ আমাকে নিয়ে গেল ভালবাসার সেই পরিমন্ডলে । যেখানে ছিল আমাদের এক সুখী পরিবার । যেখানে ছিলাম আমরা সকল ভাই-বোন ভালবাসায় বন্দী । যেখানে আমরা ভালবাসায় সিক্ত হয়ে শান্তির ফোয়ারায় অবগাহন করতাম । 

জীবনের তেতাল্লিশটি বছর পেরিয়ে আজ আবার হারিয়ে গেলাম সেই ভালবাসার ভুবনে । যদিও নেই আজ সেই ভালবাসার ভুবন । নেই আজ সেই ভালবাসা । নেই আজ সেই ভালবাসার বন্ধন । হারিয়ে গেছে সব কালের গর্ভে । জীবনের নানাবিদ সমস্যার ধ্বংসযজ্ঞে । 

সবাই এখন যার যার জীবন নিয়ে ব্যস্ত । সৃষ্টি হয়েছে সকলের ভিন্ন ভিন্ন ভালবাসার ভুবন । হয়ে গেছি কাছের মানুষরা দূরের , আর দূরের মানুষরা কাছের । ভুলে গেছি একে অপরকে । ভুলে গেছি সেই সুবর্ণ বন্ধন । ভুলে গেছি সেইসব ভালবাসার মধুর ক্ষণ । যে ভাই-বোন একসাথে খেতাম , একসাথে শুইতাম , একসাথে খেলতাম , সেই ভাই-বোনের আজ খানা চলছে পৃথক – অদেখায় , শোয়া চলছে লক্ষ যোজন দূরে , জীবনের খেলা চলছে পৃথক পৃথক খেলার ঘরে । 
ভাবনা আসে মনে – যদি বড় না হয়ে ছোট থাকতাম , কতই না ভাল হত । থাকতে পারতাম সবাই একসাথে । হাসি – খুশি – আনন্দে কতইনা সুখে দিন কাটাতে পারতাম । কেন যে বড় হলাম ? বঞ্চিত হয়েছি সকলের ভালবাসা থেকে । সরে গেছি দূরে , বহুদুরে । 

হায়রে বোন আমার ! সেই বোনের সে শরীর আর নেই , সেই চঞ্চলতা আর নেই । সেই দৃষ্টি আর নেই । নেই তার সেই হাসি , নেই সেই খুশি , নেই সেই উচ্ছলতা । সেই শক্তি তার আর নেই , সেই মেঝাজ আর নেই , সেই চিন্তা আর নেই – নুয়ে পড়েছে শরীরের ভার বয়সের ভারে , ধ্বংস হয়েছে বিভিন্ন চিন্তায় – সাংসারিক যাতাকলে । 

দেখলে মনে হয় – এ তো আমার বোন নয় । আমার বোন এমন ছিলনা । আমার বোনের ছিল - আমাকে মারার শক্তি , আমাকে শাসন করার ক্ষমতা , আমাকে নিয়ে চিন্তা করার মাথাব্যথা , আমাকে আদর-স্নেহ-ভালবাসায় কাছে টেনে জড়িয়ে ধরার আকুলতা । 

বোনের সেই ভালবাসা থেকে বঞ্চিত আমি আজ তার সেই ভালোবাসা, সেই স্নেহ , সেই আদর , সেই মমতা খুঁজি – খাবার প্লেটে , বিছানা পাততে গিয়ে , কাপড় গায়ে দিতে গিয়ে , প্যান্ট পরতে গিয়ে , গেঞ্জী গায়ে দেবার সময় , মুখ ধুইতে গেলে , দাঁত ব্রাশ করার সময় , টেবিলে খেতে বসে , মাছ খাবার সময় । 
বড়বোনকে বুবু বলেই ডাকতাম , এখনও তাই । আজও বুবু বলেই তাকে স্মরণ করছি । বুবু ! বড় হয়ে আমি হয়ে গেছি তোমাদের পর । তবু ভুলি নাই তোমার সেইসব মমতাকাতর ভালবাসার ছবি । কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে সেই ভালবাসা যদিও , ধরে রেখেছি মনের কোণে তোমার ভালোবাসা , তোমার আদর , তোমার স্নেহ , তোমার মমতা। তুমি যত দূরেই রওনা কেন , এভবেই চেয়ে নেব তোমার ভালবাসার ছোঁয়া । এভাবেই মনের অলিন্দে বয়ে বেড়াব তোমার ভালোবাসা , তোমার আদর , তোমার স্নেহ , তোমার মমতা। জীবনবধি ধরে রাখব তোমার ভালবাসার স্মৃতি বুকের গভীরে । 
=============

শনিবার, ২ জুলাই, ২০১১

আমার জীবনের দিনপঞ্জী ( পর্ব - ০০০৩ )





আমার জীবনের দিনপঞ্জী

( পর্ব - ০০০৩ )
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
---------------------

বলছিলাম - সভ্য লোকদের উচিত অসভ্য যারা তাদের সভ্য রূপে গড়ে তুলে সমাজর বাসিন্দা হিসাবে পরিচিতি দান করা । আর শিক্ষিত লোকদের উচিত অশিক্ষিত লোকদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলে অন্ধকারকে আলোকিত করা । এ কথাগুলো উঠে এসেছিলো - যাঁরা জীবনের ডাইরী লিখেন তাঁদের উদ্দেশ্যকে প্রকাশ করতে গিয়ে ।

আসলে যাঁরা ডাইরী বা দিনপঞ্জী লিখেন তাঁরা এসব কাজ মাথায় রেখেই লিখে যান । তাঁদের মূল উদ্দেশ্য অসভ্য সমাজের বাসিন্দাদের সভ্য সমাজের বাসিন্দা হতে সহযোগীতা করা , অশিক্ষিত লোকদের হিসাবে গড়ে উঠতে উদ্বুদ্ধ করা এবং সমাজের অনুন্নত লোকদের উন্নত রূপে প্রতিষ্ঠা পেতে সাহায্য করা । সমাজের দুষ্ট ক্ষতগুলোকে জনসম্মুখে পরিচয় করিয়ে দিয়ে সুষ্ট সমাজ বিনির্মাণে সহযোগীতা করা ।
আমার এই দিনপঞ্জী লেখার উদ্দেশ্যও তেমনি । আমার জীবনে ঘটে যাওয়া মুহূর্তগুলো সকলকে জানিয়ে আমার সকল চিন্তা - ভুল ও সঠিক সিদ্ধান্তগুলো সকলের সম্মুখে তুলে ধরে তাদের উৎকৃষ্টতম জীবন পথ অন্বেষণে সহযোগীতা করন ।
দিনপঞ্জীতে কি লিখতে পারব আমি জানিনা । তবে জানি , মানুষ দৈনিক যে চিন্তাগুলো করে , যে চিন্তাগুলো দৈনিক মানব মনে ঘুরপাক খায় , সে সব চিন্তা আর দৈনিক ঘটে যাওয়া জীবনের সাথে সম্পৃক্ত ঘটনা বা চোখে দেখা বিষয়াবলী দৈনিক লিপিবদ্ধ করনের নাম ডাইরী বা দিনপঞ্জী লেখা । তাই , আমিও চেষ্ঠা করবো আমার জীবনের দৃশ্যপটে সংঘটিত ঘটনাবলী , মনের মাঝে ভেসে উঠা চিন্তা এবং পারিপার্শিক অবস্থা নিয়ে আমার জীবনের দিনপঞ্জী সাজাতে ।
----------------------------

আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান । আমাদের পরিবার ছিলো একটা রক্ষণশীল পরিবার । মা , বাবা আর ছয় ভাই-বোন নিয়ে ছিলো আমাদের একটা পরিবার । আর এখন ছয় ভাই-বোনের পৃথকভাবে ছয়টা পরিবার । মা-বাবা তো নেই-ই , তাঁরা গত হয়েছেন কিছুকাল পূর্বেই ।
আমার জন্মপূর্বের কিছু ঘটনা মফজল দা’র কাহিনীতে বলেছি । আমার জন্মপূর্বের আরও কিছু ঘটনা পরবর্তীতে ক্ষেত্রবিশেষ এসে যেতে পারে । তাই , এখানে আর বলছিনা । আমার জন্মের পরবর্তী ঘটনাগুলো নিয়ে এখন আমার আলোচনা শুরু করছি ।
আলোচনার শুরুতে আমার বাবাকে নিয়ে কিছু বলতে চাই । যদিও বাবার জীবনের কিছু ঘটনা মফজল দা’র কাহিনীর সাথে বর্ণনা করেছি । আমার বাবা ছিলেন একজন শান্ত-শিষ্ঠ , ভদ্র , নম্র , পরোপকারী , ধার্মীক , পরের দুঃখে কাতর , আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারী , সৎ ও সদালাপী , বন্ধুত্ববৎসল , দাতা , উন্নয়নকর্মী ও সংঘটক ।
বাবার জীবনটা শুরু হয়েছিল শূণ্য দিয়ে । বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে গড়ে তুলেছিলেন তার সফল জীবন ।

> চলবে ( পর্ব - ০০০৪ ) ... 
===================

শুক্রবার, ২৪ জুন, ২০১১

আমার জীবনের দিনপঞ্জী ( পর্ব - ০০০২ )



আমার জীবনের দিনপঞ্জী
(পর্ব - ০০০২)
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

আমার এই দিনপঞ্জী লেখার কোন তারিখ নেই । জীবনের মেমোরীতে যে সকল দৃশ্য ধারণ করা আছে , সেইসব পর্যায়ক্রমে জনসম্মুখে দৃশ্যমান হবে এই দিনপঞ্জীর মাধ্যমে । জীবনের এই দিনপঞ্জী লিখতে গিয়ে হয়তো বেরিয়ে আসতে পারে কারও কারও জীবনের বাস্তব চিত্রগুলোও । তাই আমার এই লেখার মাঝে যাদের জীবনের বাস্তব চিত্র এসে যাবে তাদের কাছে অগ্রীম ক্ষমা প্রর্থনা থাকলো ।

আমি মনে করি প্রতিটি মানুষের দিনপঞ্জীতে লিপিবদ্ধ থাকে অন্য মানুষদের জন্য শিক্ষাপাঠ । কারণ , জীবনের দিনপঞ্জীতে মানুষের জীবনের চিত্রগুলো প্রদর্শিত হয় । মানুষের সফলতা - বিফলতা - উন্নতি - অবনতি - ভালো - মন্দ - আশা - হতাশাগুলো পরিলক্ষিত হয় এই জীবনের দিনপঞ্জীতে ।

তাই , সকলের উচিত সকলের দিনপঞ্জীতে চোখ বুলানো , যাতে উক্ত দিনপঞ্জী থেকে মানুষ নিজ জীবন পরিচালনার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে । গ্রহণ করতে পারে উপযুক্ত জীবন পরিচালনা পদ্ধতি ।

আমার ধারণা , যিনি নিজ জীবনের ডাইরী লিখে জনসম্মুখে প্রদর্শন করে যান , তিনি আর কিছু না হোন একজন মহৎ হৃদয়ের অধিকারী । কেননা , তিনি নিজ জীবনের সুখ - দুঃখ - জয় - পরাজয় - আশা - নিরাশা - আনন্দ - খুশি - সৎকর্ম - অসৎকর্ম - দোষ - গুণ ইত্যাদ জনসম্মুখে প্রকাশ করে নিজ নিজ জীবন সংশোধনের নিমিত্তে একটি মহৎ কাজের আঞ্জাম দিয়ে যান । এতে তাঁর জীবন নিয়ে মানুষ ঠাট্টা-বিদ্রুপ করবে , তাঁকে নিয়ে নিয়ে মানুষ কি বলবে , সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে তিনি তাঁর জীবনের সবকিছু মানুষের সামনে প্রকাশ করে যান , যাতে তাঁর জীবনের কর্মসমূহ থেকে মানুষ উৎকৃষ্ঠ পথে পরিচালিত হতে পারে । অর্থাৎ , একটা মানুষের জীবনের দৃষ্টান্ত দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের সুন্দর জীবন গঠনের শিক্ষাদানের মাধ্যমই হলো - জীবন ডাইরী , জীবনী বা জীবনের দিনপঞ্জী লেখা বা প্রকাশ ।

যাঁরা নিজেদের জীবনের দিনপঞ্জী প্রকাশ করেন , তাঁরা নিজেদের জীবনের অপ্রকাশ্য বিষয় অপরকে জানানোর মধ্য দিয়ে অন্যের উপকার করনে নিজেদের জীবনকে বলিদান দেন । তাই , প্রত্যেক জীবনী লেখক এক একজন মহৎ হৃদয়ের অধিকারী ।

আমাদের সমাজে এমন কিছু লোক আছে , যারা নিজেদের জীবনকে সুন্দর রুপে বিকষিত করে তুলেছে । কিন্তু , অন্যদেরকে তারা তাদের সফলতার পথ পরিচয় করাতে চায় না । তারা মনে করে যদি সবাই সফল হয় , তবে তাদের মূল্য কি থাকবে ! তারা আবার মুখে বলে বেড়ায় তারা সভ্য সমাজের বাসিন্দা । আমি বলি , যারা সভ্য হয়ে গেছে তাদের কি অসভ্যদের সভ্য করনে কোনই চিন্তা নেই ? যদি সভ্য লোকদের অসভ্যদের সভ্য করার চিন্তা না থাকে , তবে সভ্যদের মৃত্যুর পর সভ্য সমাজের অস্থিত্ব টিকে থাকবে কি ?

এহেন চিন্তাধারী সভ্যলোকেরা আসলেই কি সভ্য ? নাকি সভ্য সমাজের খোলস পরা এক একটা নরকের কীট ? যারা মানব সমাজের উন্নয়ন চায়না , মানবতার উন্নয়ন চায়না , তারা চায় নিজেদের সভ্য পরিচয় দিয়ে যতদিন জীবিত থাকবে ততদিন মানুষের মাঝে তারা আধিপত্য বিস্তার করে নিজেদের দাপট দেখিয়ে যাবে , নিজেদের মহামূল্যবান রত্ন হিসাবে মানুষের কাছে পরিচয় প্রদান করে যাবে ! তারা মনে করে অন্যরা গোল্লায় যাক তাতে তাদের কি সমস্যা ? এই ধরণের চিন্তার ধারক - বাহকরা যতই নিজেদের সভ্য ভাবুক না কেন , তারা কখনো সভ্য নয় অসভ্যই । তারা কখনো সমাজের বাসিন্দা নয় । তারা সভ্য সমাজের সভ্য রপী এক একটা অসভ্য কীট । যারা সমাজের এক একটা দুষ্টগ্রহ ।

যারা প্রকৃত সভ্য তারা সবসময় চাইবে অসভ্য যারা তাদের সভ্য করে তোলার জন্য । সভ্য সমাজ টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তাদের প্রধান কাজ তাই অসভ্যদের সভ্য সমাজের বাসিন্দা রূপে গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্ঠা ।

আমাদের শিক্ষিত সমাজের অনেক শিক্ষিত আজকাল সভ্য হয়েও অসভ্যতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে । তারা অশিক্ষিতদের শিক্ষিত করে তোলা দূরে থাক , তারা অশিক্ষিতদের অশিক্ষিত - মূর্খ - গোঁয়াড় ইত্যাদিতে গালি দিয়ে যাচ্ছে । তাদের মাথার উপর হাত বুলিয়ে তাদের ঠকিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ভাবে শিক্ষিত নামধারী কুশিক্ষিতরা । অশিক্ষিত বলে তাদেরকে সমাজের বিভিন্ন কর্মকান্ড থেকে কোনঠাসা করে রাখছে কুশিক্ষিতরা । আসলে এসব শিক্ষিতরা শিক্ষিত নামের কলঙ্ক । তারা শিক্ষালাভ করেও হয়ে আছে শিক্ষিত মূর্খ রূপে , কুশিক্ষিত বা শিক্ষিত গোঁয়াড় রূপে ।

আমি জানি , আমার জীবনের দিনপঞ্জীতে এমন কোন উল্লেখযোগ্য সুন্দর ও অনুকরনীয় দৃশ্য নেই , যার মাধ্যমে কোন মানুষ উপকৃত হতে পারে । তবে আমি মনে করি , আমি মানুষ । আমারও একটা জীবন আছে । আমার জীবন সময়ে যা ঘটেছে , ঘটছে সেগুলো মানুষের অনুকরনীয় না হোক , মানুষ আমার জীবন থেকে সেই শিক্ষায়ই লাভ করবে , যা জীবনযুদ্ধে পরাজিত একজন সৈনিক কেন , কিভাবে পরাজয় বরণ করেছিল ? আর জীবনযুদ্ধে আমার মত পরজয় বরণ করতে না চাইলে তাদের কি করতে হবে ? তাদের চিন্তা শক্তিতে তা উঠে আসবে ।

আমরা জানি , ইতিহস মানুষের কোন উপকার করেনা । ইতিহাস মানুষকে শিক্ষা প্রদান করে থাকে সম্মুখে সুন্দর রূপে পথ চলার জন্য । আমার জীবন একটা ইতিহাস । এই ইতিহাস থেকে মানুষ কোন উপকার লাভ করবেনা । কিন্তু , এই ইতিহাস থেকে কোন কোন মানুষ তাদের জীবন পরিচালনার উৎকৃষ্টতম কোন পথ আবিস্কার করতে পারবে বলেই আমি মনে করি । তাই , আমার এই জীবনের দিনপঞ্জী পাঠে স্বাগতম জানাচ্ছি ।
>চলবে (পর্ব - ০০০৩) ...
=============