শুরু হয়ে গেল রহমত - মাগফিরাত - নাজাতের মহিমাম্বিত মাস রমজানুল মোবারক। যে মাসের ক্বদরের রাতে অবতীর্ণ হয়েছিল মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরআন। যে মাসের একটি রজনীকে (ক্বদরের রাতকে) করা হয়েছে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। যে মাসের একটি রাত্রে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফিরিশতাগণ ও রূহ্ অবতীর্ণ হয় তাঁদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। যে মাসের একটা রজনীতে (ক্বদরের রাতে) শান্তি অব্যাহত থাকে ফজরের পূর্বমুহুর্ত পর্যন্ত।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা
বাংলা ভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী
সকল মহান ভাষা শহীদগণের প্রতি,
এবং ভাষা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত
সকল ভাষা সৈনিক
ও বীর বাঙ্গালীদের জানাই অশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলী,
সেইসাথে সকলকে জানাই
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা।
বিষয় সূচী
APNAKE SHAGOTOM
সকলকে বাংলা নতুন বছরের শুভেচ্ছা
অথচ একদিন আমরা বাঙ্গালী জাতি একতাবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রীয় ভাষা উর্দুকে ত্যাগ করে নিজেদের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা তথা বাংলা ভাষাকে সর্বত্র প্রচলন করতে প্রাণ দিতে বাধ্য হয়েছিলাম ! ফলে বিজাতীয় ভাষা উর্দূকে অপসারন করে নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলার স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলা ভাষাকে ধারন করেছিলাম । যখন আমরা বাংলার সর্বত্র বাংলা ভাষায় কথা বলা শুরু করেছিলাম ,তখন কিন্তু বিশ্বায়নের যুগটা অনুপস্থিত ছিল তা নয় , বিশ্বায়নের যুগটা তখনও ছিল বিধায় আমরা ইংরেজী শিক্ষায় তখনও বাধ্য ছিলাম । অর্থাৎ যে জন্যে আজ আমরা ইংরেজী শিখছি সেইজন্যে তখনও ইংরেজী শিক্ষার প্রচলন ছিল । ছিল ইংরেজী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাও । তাই বলে সে সময় বর্তমান সময়ের মত মাতৃভাষা বাংলাকে অবমাননা করা হয়নি । মানুষ সে সময় বাংলায়ই কথা বলেছিল । শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রেই সে সময় ইংরেজী ব্যাবহার করেছিল বাঙ্গালী জাতি ।
conduit-banners
Powered by Conduit |
মঙ্গলবার, ৭ জুন, ২০১৬
স্বাগতম রমজানুল মোবারক - ২০১৬, সবাইকে রমজানুল মুবারকের শুভেচ্ছা
শুরু হয়ে গেল রহমত - মাগফিরাত - নাজাতের মহিমাম্বিত মাস রমজানুল মোবারক। যে মাসের ক্বদরের রাতে অবতীর্ণ হয়েছিল মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরআন। যে মাসের একটি রজনীকে (ক্বদরের রাতকে) করা হয়েছে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। যে মাসের একটি রাত্রে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফিরিশতাগণ ও রূহ্ অবতীর্ণ হয় তাঁদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। যে মাসের একটা রজনীতে (ক্বদরের রাতে) শান্তি অব্যাহত থাকে ফজরের পূর্বমুহুর্ত পর্যন্ত।
সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১২
১৯৭১ এর পূর্বাবস্থায় ফিরে এল বাংলাদেশ ! প্রয়োজন নতুন একটা মুক্তির যুদ্ধ …
শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২
অপরাধীদের জন্য বিদেশ হোক কারাগার এবং সাজা হোক বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যম
আজকের চীন, জাপান, জার্মানের দিকে তাকিয়ে দেখলে বুঝা যাবে, তারা কত পরিশ্রমী জাতি। অলসতাহীন সামান্য মেধার উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে কতইনা তারা উন্নতির শিখরে আরোহন করেছে। ছোট্টকালে পড়েছিলাম , চীন জাতি বিশ্বের সর্বাধিক পরিশ্রমী জাতি। তাদের মাঝে নেই কোন অলসতা, নেই কোন অবহেলা। তাই তারা সভ্য জাতি। চীন, জাপান, জার্মানে নেই কোন অপরাধ প্রবনতা। আছে শুধুই উন্নয়নের চিন্তা।
আর একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে , অষ্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার ন্যায় উন্নয়মুখী কর্মধারা। কি আছে মালয়েশিয়া আর সিঙ্গাপুরে ? কতদিন লাগল এ দু’টি দেশ উন্নয়নের শিখরে আরোহন করতে ? অল্প দূরের এ দু’টি দেশের উন্নয়নে আমরা আমাদের দেশের জনশক্তি রফ্তানী করছি । আর তারা কিভাবে করছে আমাদের দেশ থেকে জনশক্তি আমদানী ? কিভাবে তারা এ জনশক্তি কাজে লাগাচ্ছে ? কিভাবে তারা দেশের মানুষ দেশের বাইরে যেতে না দিয়ে দেশেই থাকতে বাধ্য করছে আর কিভাবে অন্য দেশ থেকে মানুষ নিয়ে সেখানে তাদেরকে বেতন দিয়ে পুষছে ?
সিঙ্গাপুরে আছে শুধু একটা পোর্ট বা পোতাশ্রয়। আর মালয়েশিয়ায় কি আছে তা জানে তারাই , যারা এদেশ থেকে সেখানে বেড়াতে গেছে বা সেদেশের কলকারখানার কর্মী হয়ে গেছে। মালয়েশিয়া পর্যটনের দেশ। কলকারখানার দেশ। আমাদের দেশের অর্ধেক সম্পদও উক্ত দু’টি দেশে রয়েছে কিনা সন্দেহ। অথচ কত উন্নত এ দু’টি দেশ ! এশিয়ার উক্ত ছোট্ট দু’টি দেশ আজ অল্প সময়ে ধনী দেশে রূপান্তরিত। কিভাবে ? তাদের এ রূপান্তর আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের মত দেশের সম্পদ লুন্ঠণ , ভাগাভাগি করে নিজেদের গোলাভর্তি করে নয় , নয় চুরি - ডাকাতি – রাহাজানী – খুন – অপহরণ – চিন্তাই – করেও । একমাত্র মেধা ও শ্রম দিয়ে এবং অলসতাকে দূরে ঠেলে দেশপ্রেমের মত শক্তিশালী অস্ত্রের জোরে অল্প সময়েই বিশ্বের বুকে এ দু’টি দেশ নিজেদের দাঁড় করিয়ে দিয়েছে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে। আর আমরা সে দু’টি দেশের সমবয়সী হওয়া সত্বেও এখনো কত পিছিয়ে !
যা হোক , উন্নয়নশীল দেশের গল্প বলে কলেবর বৃদ্ধি করা আমার উদ্ধেশ্য নয়। আমরা কেন উন্নয়নের পথে পিছিয়ে এবং কিভাবে উন্নয়নের পথে পরিভ্রমণ করতে পারি সেটা নিয়ে কিছু লেখাই আমার উদ্দেশ্য।
অলসতা, অবহেলা, দূর্নীতি, কর্মবিমুখতা, মেধাশক্তির অস্বীকার ও নির্লিপ্ততা, সময়ানুবর্তিতার অনুপস্থিতি, পারস্পরিক রেষারেষি, মেধা বিকাশে প্রতিবন্ধকতা, অসুস্থ রাজনীতি, আত্মবিশ্বাসের অভাব, বেকারত্বের লালন, কর্মক্ষত্র সৃষ্টির জ্ঞানহীনতা, অপরাধ প্রবণতা, উন্নত চিন্তার অনাগ্রহ, দলাদলি, সঠিক কর্মপদ্ধতির অভাব, সর্বোপরী ক্ষমতার লড়াইয়ে উপনীত হওয়া – ইত্যাদি কারণে আমাদের দেশ আজ উন্নতির সোপান থেকে পীছনে পড়ে আছে।
আমাদের দেশের একটি রসাত্মক প্রবাদ- “নয়টার গাড়ী কয়টা ছাড়ে”? অর্থাৎ, যে গাড়ী নয়টায় ছাড়ার কথা সে গাড়ী ছাড়ার কোন টাইম নেই বা কয়টায় ছাড়বে তার কোন ঠিক নেই। সময় বেঁধে দেয়া থাকলেও আমাদের দেশে কর্মটি নির্ধারিত সময়ে করা হয়না। তাই, আমরা পিছিয়ে আছি। সময়ানুবর্তীতা আমাদের কাছে অনুপস্থিত। ঘড়ি হাতে থাকলেও আমরা বলতে পারিনা সঠিক সময়। আমরা যখন বেলা নয়টায় ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে অফিসে যেতে তৈরী হই, চীনজাতি তখন তাদের দিনের অর্ধেক কাজ সমাপ্ত করে ফেলে। চীন জাতিরা ভোর চারটায় ঘুম থেকে উঠার সময় বিছানা ঘুটিয়ে ফেলে। আবার রাতে ঘুমুতে যাবার সময় রাত দশটায় বিছানা বিছায়। বিছানা ঘুটিয়ে ফেলার কারণ হল, তারা যদি কখনো ঘরে আসে তবে একটু শুতে মন চাইবে। তাই দুপুরে চেয়ারে হেলান দিয়ে তারা সামান্য বিশ্রামের পর শুরু করে পুনরায় কর্ম। এমনই এক পরিশ্রমী জাতি চীন।
অথচ আমরা ! বেলা ন’টায় ঘুম থেকে উঠি। অফিসে উপস্থিত হই দশটা বা এগারোটায়। চা পান, গায়ের কোট খুলে চেয়ার সাজিয়ে রেখে, গলার টাঁই বা ফাঁস ঢিলা করে কাজ শুরু করি এগারোটা বা বারোটায়। আবার দুপুরে রেষ্ট তিনঘন্টা। আবার কাজের ফাঁকে রয়েছে বিপরীত লিঙ্গের সহকর্মীর সাথে আলাপচারিতা আর এখন নতুন যোগ হয়েছে ফেইসবুকের মঞ্চে সময় কাটানো। কর্মদিবস শেষ বিকেল পাঁচটায়। সব মিলিয়ে যদি ঠিক ভাবে কাজের হিসাব করি, তবে আমাদের দিনের কর্মঘন্টা হবে দুই থেকে তিনঘন্টা। অথচ মে দিবস পালন করা হয় আট ঘন্টা শ্রমের স্বার্থে। কিন্তু, আমাদের দেশে কিছু সৎ ও ন্যায়-পরায়ন সময়ের মূল্য দানকারী মহৎ ব্যক্তি মহোদয় এবং কলকারখানার হার্ডকোর লেবার ব্যতিত আদৌ অফিসারদের কেউ আট ঘন্টা কর্ম করেন কি না জরীপের বিষয়।
বিগত ১৯শে জুলাই ২০০২ ইং তারিখে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় – “মিটিং, সিটিং, ইটিং – এ মন্ত্রী সচিবদের দিনে ১৯০ কর্মঘন্টা (অতিবাহিত)’’। এই যদি হয় একটি দেশের অবস্থা তবে সেই দেশ কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে সেটাই বিবেচ্য। যদি সাধারণ শ্রমিকদের ন্যায় আমাদের অফিসারগণ দৈনিক ওভারটাইম বাদ দিয়ে আট ঘন্টা পরিশ্রমও যথাযতভাবে করতেন তবে আমাদের সোনার বাংলা সোনার মোড়কে মোড়ানো যেতো বৈকি।
আমাদের দেশে অপরাধী ধরা পড়লে পাঠিয়ে দেয়া হয় কারাগারে। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর সাজা দেয়া হয় তাদের কারাগারে আটক রেখে। সেখানে অপরাধীরা বেকার ভাবে বসে থাকে। খায়, ঘুমায়। চিন্তায় তাদের জন্ম নেয় কিভাবে তারা আরো বড় অপরাধী হতে পারবে। কারাগারে আটক বড় বড় অপরাধীদের মিশে ছোট অপরাধীরাও বড় অপরাধী হয়ে এক সময় বের হয়। কারণ, কারাগারে আটক অপরাধী গুরুরা সেখানে বসে তাদের অতীত জীবনের অভিজ্ঞতা সাগরেদদের বয়ান করে থাকে। যার ফলে সাগরেদরা গুরুদের দেয়া বয়ান অনুযায়ী কাজ করতে ইচ্ছাপোষণ করে। পরবর্তীতে সাগরেদরা কারাগার থেকে বের হয়ে শুরু করে আবার অপরাধের। কি লাভ হলো তাদের কারাগারে আটক রেখে ? কোন লাভই হয়নি, হয়নি তারা সংশোধন। হয়েছে সরকারের লোকসান। অর্থভান্ডারের অর্থ কমেছে। অপরাধীদের বসিয়ে বসিয়ে বেকার রেখে বছরের পর বছর খাওয়াতে হয়। এক টাকাও অর্থভান্ডারে জমা হয়না, হয় খরচ। অপরাধীদের কারাগারে এভাবে আটকে রেখে তাদের সংশোধন করা যায়না। বরঞ্চ সে অপরাধীদের বড় অপরাধী হিসেবেই রূপান্তর করা যায়। করা হয় জাতির ক্ষতি।করা হয় জাতীয় নিরাপত্তার বিলুপ্তি।
এমতাবস্থায় আমার একটা প্রস্তাব হলো – যে অপরাধীই ধরা পড়ুকনা কেন তাকে সংশোধন এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থে এমন সাজা দেয়া হোক, যাতে অপরাধী নিজে সংশোধন হবে, সেই সাথে সেই অপরাধী তার পারিবারিক ও জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখবে। আজ দেশের অনেক মেধাবী ও দক্ষ জনশক্তি বিদেশে অবস্থান করছে। তারা বৈদেশীক মুদ্রা অর্জন করে তা দেশে পাঠিয়ে জাতীয় উন্নয়নে ভুমিকা রাখছে। অথচ এদের প্রায়ই জনসমষ্টি দেশে কাজ না পেয়ে অপরাধীদের ভয়ে দেশান্তরীত হয়েছে। যাদের দিয়ে দেশ অনেক উন্নতির পথ সৃষ্টি করতে পারতো।
অন্যদিকে দেশে অবস্থানকারী অপরাধীরা জাতীয় উন্নয়নের বিবিধ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তাই, অপরাধীদেরকে জনশক্তি রফতানী হিসাবে বিদেশে পাঠিয়ে দেশের জাতীয় উন্নয়নে সম্পৃক্ত করা যেতো। দেশের মেধাশক্তি বিদেশে না পাঠিয়ে একমাত্র অপরাধীদেরকেই বিদেশে পাঠিয়ে বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনের পদক্ষেপ নেয়াই হতো শোভনীয়। মেধাশক্তি দেশে কাজে লাগিয়ে এবং অপরাধীদের সাজা হিসাবে বিদেশে পাঠিয়ে দেশের উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতা দূর করে উন্নয়ন করা যেতো।
এখন যারা বিদেশে অবস্থান করছে তাদের বেশীর ভাগই দুই/তিন বৎসর পূর্বে দেশে গমন করতে পারেনা, পারেনা বিদেশে কোন অপরাধ করতে। কাজ না করেও বিদেশে বসবাস করতে পারেনা। খেতে গেলেই কাজ করতে হয় বিদেশে। তাই , যদি কোন অপরাধীর ধরা পড়ে জেলে যেতে হয়,তবে তাকে জেলে পাঠিয়ে সাজা দেয়ার চাইতে নিদ্রিষ্ট মেয়াদে বিদেশ পাঠিয়ে দেয়াই ভাল হবে বলে মনে করি। যদি সরকারী ভাবে অথবা আদালত কর্তৃক পারিবারিক ভাবে চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ঐ অপরাধীকে সাজা স্বরূপ দুই বৎসর , তিন বৎসর, পাঁচ বৎসর , দশ বৎসর এভাবে বিভিন্ন মেয়াদের জন্য বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়, তবে অপরাধী নিজেও সংশোধন হবে, সাথে সাথে পারিবারিক ও জাতীয় উন্নয়নে বৈদেশীক মুদ্রা পাঠিয়ে অংশগ্রহণ করতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারী ভাবেই (জেলে বসিয়ে বেকার ভাতা না দিয়ে) অপরাধীদের দেশের রাজস্ব ফান্ড থেকে ঋণ স্বরূপ বিদেশ যাবার খরচ প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে বিদেশ পাঠানো যেতে পারে। কেননা, ঐ অপরাধীদের কারাগারে ভরে রাখলে সরকারের বা দেশের যে ক্ষতি হবে , তাদেরকে বিদেশ পাঠালে সেই ক্ষতি থেকে দেশ বা সরকার নিরাপদ থাকতে পারবে। বরঞ্চ সরকার তাতে লাভবান হবে।
যদি অপরাধীদের সরকারীভাবে জনশক্তি রপ্তানী হিসাবে বিদেশ পাঠায়, তবে সরকারের লাভবান হবার পথ এভাবে করা যায় – সরকার যে দেশে তাদেরকে জনশক্তি হিসাবে রপ্তানী করবে সে দেশের সহিত একটা চুক্তি করবে যে, উক্ত অপরাধী (জনশক্তি)কে সে দেশে নিদ্রিষ্ট মেয়াদে নিয়োগ দান করা হবে। আর তাকে ঐ নিদ্রিষ্ট মেয়াদের পূর্বে দেশে গমনের ছাড়পত্র দেয়া যাবেনা। তার জন্য নিদ্রিষ্ট মজুরী বাবদ অর্জিত বৈদেশীক মুদ্রার একটা নিদ্রিষ্ট অংশ তার নিজের খরচের জন্য নির্ধারিত করে দিয়ে বাকি অর্থ সরকার নিজ আওতাধীনে দেশে আনার ব্যবস্থা করবে। ঐ অর্থ থেকে সরকারের প্রদানকৃত খরচ কিস্তিতে গ্রহণ করে বাকি অর্থ তার পরিবারের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। এমতাবস্থায় উক্ত অপরাধীর সাজাও হবে, তার দ্বারা বৈদেশীক মুদা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে সহযোগীতা ও করা হবে।
তাছাড়া, অপরাধী নিজেকে সংশোধন ও কর্মমুখী করে নিবে। বেকারত্বের চিন্তা তার কাছ থেকে সরে যাবে। সরে যাবে তার মাথা থেকে অপরাধ প্রবনতার ভুত। অপরাধ চিন্তা তার মাথা থেকে সরে গিয়ে কর্মমুখী হয়ে প্রতিষ্ঠিত হবে সে একজন ভাল মানুষ রূপে। সাজাকালীন তার পাঠানো যে অর্থ সঞ্চিত হবে দেশে, সাজা শেষে সে দেশে এসে সেই সঞ্চিত অর্থ নিয়ে ভাল একটা কাজের সন্ধানে নামতে পারবে। অপরাধী থেকে মানুষ হয়ে পরিচিতি লাভ করতে পারবে।
দেশের লক্ষ লক্ষ অপরাধী আজ বিভিন্ন কারাগারে আটক রয়েছে। সরকার তাদের লালন করছে সরকারী রাজস্ব ফান্ড থেকে খরচ দিয়ে। কোটি কোটি টাকা তাদের পীছনে ব্যয় হচ্ছে। জাতীয় আর্থিক ফান্ডের ক্ষতি হচ্ছে তাতে। ওদিকে তাদের আটক রাখায় তাদের পরিবার আর্থিক ভাবে অভাব অনটনে ধুঁকে ধুঁকে মরছে।দেশের লক্ষ লক্ষ অপরাধী দেশের সর্বত্র অপরাধী জীবন নিয়ে আইন ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ঘুরছে তারা বেকার হয়ে। জাতীয় উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বিভিন্নভাবে। বাড়ছে অপরাধ । হচ্ছে ক্ষতি নানামুখী। সরকারের দায়িত্ব – আটক সাজাপ্রাপ্ত ঐ সব অপরাধীদের বসিয়ে বসিয়ে না খাওাইয়ে ঐ খরচ দ্বারা উক্ত অপরাধীদের সংশোধনের উপযুক্ত পথে পরিচালিত করা। অর্থাৎ যে টাকা দিয়ে কারাগারে তাদের লালন করা হবে, সে টাকা দিয়ে বিদেশে জনশক্তি হিসেবে তাদেরকে রপ্তানী করা। তাদের মাধ্যমে আয়কৃত অর্থ দ্বারা তাদের ধ্বংসপ্রায় পরিবারকে নতুন জীবন দান করা এবং জাতীয় উন্নয়নে তাদেরকে সম্পৃক্ত করা।
আর দেশের অভান্তরে যারা বিভিন্ন অপরাধে লিপ্ত রয়েছে , তাদেরকেও ধরপাকড় করে প্রথমে কারাগারে নেয়া। সেখান থেকে আদালতের মাধ্যমে সাজা প্রদান করে উক্ত সাজা মোতাবেক নিদ্রষ্ট মেয়াদে বিদেশে প্রেরণের ব্যবস্থা করা। দেশের মেধাশক্তি , দক্ষ জনশক্তি বিদেশে প্রেরণ না করে অপরাধীদেরকেই বিদেশে প্রেরণের টার্গেট করা সরকারের একান্ত দায়িত্ব । এভাবে অপরাধীদের জন্য বিদেশ হবে কারাগার, আর তাদের সাজা হবে বিদেশ গিয়ে কর্ম করা। বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে সহযোগীতা করা। বিদেশে নিদ্রিষ্ট মেয়াদী অবস্থানই প্রত্যেক অপরাধীর জন্য মুলতঃ সংশোধন হবার আসল স্থান।
তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমার এ প্রস্তাব বিবেচনার জন্য উত্থাপন করছি – প্রত্যেক অপরাধীকে সাজা দিন বিদেশে পাঠিয়ে কায়িক শ্রমের মাধ্যমে, কারাগারে আটকিয়ে রেখে জামাই আদরে খাইয়ে নয়। জাতীয় স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। জাতীয় উন্নয়নে সহায়ক হবে বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনে অপরাধীদের বিদেশ প্রেরণ। নতুন নতুন কারাগার নির্মাণ করে জাতীয় আর্থিক ফান্ডের অপচয় করা থেকে বিরত থাকুন। দেশের অলস মস্তিষ্কগুলো সচল করুন। ঘুমন্ত প্রতিভাকে জাগ্রত করতে স্বচেষ্ঠ হোন। মেধাশক্তি বিদেশে পাচার না করে দেশে রাখুন। দেশের দক্ষ জনশক্তিকে বহির্বিশ্বে না পাঠিয়ে দেশের কাজেই লাগান। যদি এইসব মেধাশক্তি বহির্বিশ্বে গিয়ে সেসব দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে পারে , তবে তারা নিজেদের দেশের কল্যানে আসতে পারছেনা কেন ? তা একটিবার বিশুদ্ধ মন নিয়ে ভাবুন। যদি তারা নিজেদের মেধা দিয়ে পৃথিবীর রূপ পাল্টে দিতে পারে , তবে তারা নিজেদের ছোট্ট এই দেশটির রূপ পাল্টাতে পারবেনা কেন ? একটু চোখ খুলে দেখুন সমস্যা কোথায় ?
আমাদের দক্ষ জনশক্তি ও মেধাগুলো পরদেশে গিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে পারে , তবে তারা নিজেদের দেশেও কাজ করে , মেধা খাটিয়ে, শ্রম দিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়ে বলতে পারবে “আমরাও আমাদের দেশকে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে গড়তে পারি উন্নত দেশগুলোর মতন”। আর এ জন্য প্রয়োজন সঠিক উদ্যোগ। এতেই দেশ সফলতার মুখ দেখবে। তাই শ্রমক্ষেত্র তৈরী করে অলস, বেকার, ও অবহেলীত আমাদের বিপুল পরিমাণ মানবসম্পদকে কাজে লাগান। দেশ স্বর্ণশিখরে উন্নীত হবেই।
পরিশেষে বলতে হয় – অপরাধীদের জন্য বিদেশ হোক কারাগার এবং তাদের সাজা হোক বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যম – এটাই কামনা করি।
শনিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১২
‘শিয়া মতবাদের' ব্যবচ্ছেদ
![]() |
| UMAIA MOSQUE SIRYA - A MASJID OF SIA |
২০০০ সালে যখন কর্মে যোগ দিলাম মুক্ত হতে থাকল এ দলের আভ্যন্তরিন দিক সমুহ। আমার স্পন্সরের ইসলামী আকিদা অনুসরণ আমাকে অবাক করলো, ভাবিয়ে তুলল আমায়। এ কোন ধরণের মুসলীম ? মনের অজান্তেই বের হয়ে এল এ প্রশ্ন! যাদের নামাজ পড়তে দেখি দুই ওয়াক্ত , তাও লুকিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে গিয়ে। তারা মুসলমানদের মসজিদে নামাজ না পড়ে মাটির নীচে লুকিয়ে নামাজ পড়ে। আরও কত কিছু দেখলাম যা সবই এই প্রবন্ধেই উল্লেখ রয়েছে । এসব দেখে আমি আমার ভিসা যার কছ থেকে কিনেছি তাকে জিজ্ঞেস করলাম – এগুলো কোন ধরণের মুসলীম । সে বললো এগুলো শিয়া মুসলীম ।এদের ইসলামী আকিদা আমাদের মত নয়। সেদিনই প্রথম জানলাম এ শিয়া মুসলীম সম্পর্কে। তারপর তাদের সম্পর্কে বিস্তারত জানার কৌতুহল জেগে উঠল মনে। সেই সুত্রেই দেশ থেকে ডাকযোগে ইসলামী ম্যাগাজিনগুলোর গ্রাহক হতে থাকি। সংগ্রহ করতে থাকি এ বিষয়ক বিভিন্ন বই–কিতাব। জানা হলো অনেক কিছু। আর এ সকল তথ্য দিয়েই এ প্রবন্ধের আয়োজন।
প্রথমদিকে এ ফেরকাটি সৃষ্টির পেছনের কারণ রাজনৈতিক হলেও পরবর্তীতে ইসলামের মৌলিক আকিদা বিশ্বাসের ঠিক বিপরীত ধ্যান-ধারণা দ্বারা প্রচারিত হয়েছে*৩। তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান(রাঃ)এর শাসনামলে আবদুল্লাহ ইবনে সাবা নামক ইয়েমেনের এক ইহুদী পণ্ডীত মুসলমানদের ছদ্মবেশে মদিনায় এসে মুসলমানদের মধ্যে দলাদলীর সৃষ্টি করে। কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার পর আবদুল্লাহ ইবনে সাবার দলটিই ‘শিয়া আন্দোলনকে’ একটি ধর্মীয় ফেরকায় রূপান্তর করে*৪।
‘শিয়া মতবাদ’ হলো মূলতঃ ইহুদী মতবাদের দ্বিতীয় সংস্করন*৫।ইসলামের প্রতি এক বিদ্বেষী মতবাদের নামই হলো ‘শিয়া মতবাদ’। শিয়া আকিদা যদি সত্যি হয় তবে ইসলাম হবে মিথ্যা। আর ইসলাম যদি সত্যি হয় তবে শিয়া মতাদর্শের বাতুলতা সম্পর্কে সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই*৬।
‘শিয়া মতবাদ’ হযরত(সাঃ)এর ওফাত দিবস থেকেই নবীর সহিত উম্মতের সম্পর্কচ্ছেদ ঘটাতে এবং দ্বীনের মূলোৎপাঠনে স্বচেষ্ঠ। ফলে ইসলামের মোকাবেলায় ইহুদী কর্তৃক শিয়া ধর্মের উৎপত্তি ঘটে*৮। ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান(রাঃ)এর হত্যার ষড়যন্ত্র ছিল ইহুদী ষড়যন্ত্র। এরপর হযরত আলী(রাঃ)এর ওফাত। এরপর শিয়া ধর্মের উৎপত্তি। ইহুদী পণ্ডীত আবদুল্লাহ ইবনে সাবা আল ইহুদীর চিন্তা-চেতনার আলোকেই এই ‘শিয়া মতবাদ’এর উৎপত্তি*৯।
ইসলামের চিরশত্রু এ ফিৎনা সৃষ্টিকারী ইহুদীদের মূলনায়ক মুনাফিক আবদুল্লাহ ইবনে সাবা আল ইহুদী এবং তার মদদপুষ্টরা ইসলামের প্রবাহমান স্রোতধারাকে স্তব্ধ করার লক্ষ্যে এবং মুসলীম ঐক্যে ফাটল ধরিয়ে দেয়ার নিমিত্তে হযরত আলী(রাঃ)এর প্রেমে মুগ্ধ হবার রূপ দিয়ে শিয়া ফেরকার ভিত্তি স্থাপিত হয়*১০।
আর এ আবদুল্লাহ ইবনে সাবা আল ইহুদীই প্রথম ব্যক্তি যে প্রচার করেছিল যে , হযরত আলী(রাঃ) মৃত্যুবরণ করেননি, তিনি আবার ফিরে আসবেন। শুধু ক’দিনের জন্য একটি পর্বতের অপর প্রান্তে লুকানো অবস্থায় থাকবেন। তার এ চিন্তা-চেতনায় নির্ভর করে মুসলমানদের মধ্যে ভাঙ্গন সৃষ্টির স্থায়ী রূপ দেয়া হলো তাও ইহুদীদের হাতে*১২।
শিয়াদের বহুধাবিভক্ত উপদলের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী যে দল , সেটি হলো – ‘শিয়ায়ে ইমামিয়া বা শিয়ায়ে ইসনা আশারিয়া’। বর্তমানে এ দলটিই ‘শিয়া’ নামে পরিচিত। অন্যান্য উপদলগুলোর মধ্যে – দরুজী, হুমাইরী , গোরাবী দলগুলো অন্যতম*১৬।
• শিয়াদের আরেক দল আরও একটু অগ্রসর হয়ে হযরত আলী(রাঃ) সম্পর্কে এরূপ ধারণা প্রচার করতে থাকে যে , প্রকৃত প্রস্তাবে হযরত আলী(রাঃ)ই নবী ছিলেন। ফিরিস্তা জীবরাঈল(আঃ) ভুলক্রমে ওহী হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) র নিকট নাযিল করে ফেলেছিলেন*১৯।
• শিয়াদের আরেক দলের বিশ্বাস যে, কারবালার ঘটনার পর বিদ্রোহ ঘোষনাকারী নিখোঁজ হওয়া মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাকে ইরাকের একটি পাহাড়ী অঞ্চলে সুরক্ষিত করে রাখা হয়েছে। কেয়ামতের আগে দাজ্জালের মোকাবেলা করার উদ্দেশ্যে প্রতিশ্রুত ইমাম মাহদীর সহযোগী রূপে তাঁর আবির্ভাব হবে*২০।
• শিয়াদের উপদল সমুহের একটি বিরাট অংশের ধারণা – ইবলিশ শয়তান পৃথিবীর প্রতি ইঞ্চি জমিনে সিজদা করে সমগ্র ভূ-ভাগই নাপাক করে ফেলেছে। একমাত্র কারবালার ঐ অংশটুকুই এ অভিশাপ থেকে মুক্ত আছে, যে অংশে হযরত ইমাম হোসাইন(রাঃ) এবং আহলে বাঈতের সদস্যগণ তাবু স্থাপন করেছিলেন*২১।
• শিয়াদের ‘আকিদায়ে ইমামত’ হলো- ইসলামী আকিদা মতে একজন স্বতন্ত্র শরীয়াতধারী নবীর যে অর্থ , অবস্থান ও মর্যাদা; তাদের নিষ্পাপ ইমামেরও ঠিক একই অর্থ, মর্যাদা ও মহত্ত্ব*২২।
• শিয়াদের মতে, নবী করীম(সাঃ)এর ওফাতের পর সমগ্র সাহাবায়ে কেরামদের মধ্যে যাঁরা হযরত আবু বক্কর সিদ্দীক(রাঃ)কে খলিফা পদে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁর হাতে বাইয়াত নিয়েছিলেন , তাঁরা সকলেই কাফেরে পরিণত(নাউযুবিল্লাহ)। কেননা, তাঁরা নিষ্পাপ ইমাম হযরত আলী(রাঃ) এর হাতে বাইয়াত হন নাই। এটাই হলো শিয়াদের সাহাবায়ে কিরামের প্রতি বিদ্বেষ*২৩।
• শিয়াদের মতে, কিয়ামত পর্যন্তের জন্য নবী করীম(সাঃ) মানুষের হিদায়াতের উদ্দেশ্যে প্ররীত হয়েছিলেন- এটা সত্য নয়। নবী করীম(সাঃ) এর ওফাতের পর একদিনের জন্যও ইসলাম টিকে থাকেনি। কারণ, দীর্ঘ ২৩(তেইশ) বছরে ইসলামের যে সেনাদল তিনি নিজের ও উম্মতের মধ্যে সেতুবন্ধন রূপে তৈরী করেছিলেন, সে সেনাদলের গোটা জামাতই নবী করীম(সাঃ)এর ওফাতের পর ধর্মান্তরিত হয়ে গেছে (নাউযুবিল্লাহ)। শিয়াদের সাহাবায়ে কিরামের প্রতি বিদ্বেষের এটা আর একটা নমুনা*২৪।
• শিয়াদের মতে, কোরআন মজিদ অবিকৃত থাকেনি। বর্তমান আকারে যে কোরআন মজিদ মুসলমানদের হাতে আছে , তা নির্ভেজাল কোরান নয় বরং তা হযরত উসমান(রাঃ) কর্তৃক সংকলিত কোরআন*২৫।
• শিয়াদের প্রসিদ্ধ আলেম ও মুহাদ্দিস ‘নূরী তাবরছি’ কোরআনে কারীমের মধ্যে পরিবর্তন পরিবর্ধনের প্রমাণের লক্ষ্যে একটি বৃহৎ গ্রন্থ রচনা করেছেন। যার নাম ‘ফছলুল খিত্বাব ফি এছবাতি তাহরীফে কিতাবে রাব্বিল আরবাব’। এ গ্রন্থে লেখা হয়েছে যে, পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও রূপান্তরের ক্ষেত্রে কোরআনে কারীম তাওরাত ও যবুর , ইঞ্জিলের মতই (নাউযুবিল্লাহ)*২৬। এ কিতাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, মূল কোরআনে কারীম যা নিয়ে হযরত জীবরাঈল(আঃ) রাসূলে কারীম(সাঃ) এর নিকট অবতীর্ণ হয়েছিলেন তার মধ্যে ১৭০০০(সতেরো হাজার) আয়াত ছিল। কিন্তু, বর্তমানে মুসলমানদের নিকট যে কোরআন শরীফ বিদ্যমান আছে , সে কোরআনের মধ্যে হযরত আয়শা(রাঃ) এর গণনানুযায়ী মাত্র ৬৬৬৬ (ছয় হাজার ছয়শত ছেষট্টি)টি আয়াত রয়েছে*২৭।
• শিয়ারা ইসলামের কলেমায় সন্তুষ্ট নয় বরং তারা কালেমার সহিত ‘আলী ওয়ালিউল্লাহ্ অছি রাসূলুল্লাহ ( আলী(রাঃ) রাসূল(সাঃ)এর একমাত্র ওয়ারিশ ও তাঁর সরাসরি খলিফা )’ প্রভৃতি বাক্য যোগ করে*২৮।
• শিয়ারা কারবালার ঘটনার পর থেকে মুহররম মাসের প্রথম দশ দিন শোকদিবস পালন করে*২৯।
• শিয়াদের উপদল – দরুজী, হুমাইরী, গোরাবী মতাদর্শীরা প্রচার করে যে, পবিত্র কোরানের একটি উল্লেখযগ্য অংশ হযরত ফাতেমা(রাঃ) এবং হযরত আলী(রাঃ) এর উপর নাযিল হয়েছিল- সেই অংশটুকুই হচ্ছে আসল কোরআন*৩০।
• শিয়ায়ে ইসনা আশারিয়্যার মতাদর্শীদের আকিদা-বিশ্বাস হলো- তারা হযরত আলী(রাঃ)কে খোদা বলে দাবী করে। সে জন্য তারা ‘ইয়া আলী মদদ’ বলে তাঁকে সম্বোধন করে এবং বলে যে – আল্লাহ তাআলা হযরত জীবরাঈল(আঃ)কে পাঠিয়েছিলেন হযরত আলী(রাঃ)কে নবী বানাতে। কিন্তু, জীবরাঈল(আঃ) ভুল করে মুহাম্মদ(সাঃ)কে নুবুওয়াত দিয়ে দেন*৩১।এদের আরো আকিদাগুলো হলো-
১। দু’একজন ছাড়া সব সাহাবীরাই কাফির (নাউযুবিল্লাহ)*৩২।
২। হযরত আবু বক্কর(রাঃ) ও হযরত উমর(রাঃ) কাফির (নাউযুবিল্লাহ)*৩৩।
৩। হযরত আবু বক্কর(রাঃ) ও হযরত উমর(রাঃ)কোরানের মুখালেফাত, বিরোধীতাকারী (নাউযুবিল্লাহ)*৩৪।
৪। শিয়াদের ইমামদের উপর ঈমান আনা নবীদের উপর ঈমান আনার সমান*৩৫।
৫। শিয়াদের ইমামদের হাতে জান্নাত-জাহান্নাম, তাদের ইমামরা যাকে ইচ্ছা জান্নাত ও জাহান্নামে পাঠাতে পারবে*৩৬।
৬। মুতা (কিছুক্ষণের জন্য) বিবাহ করা অনেক সওয়াবের কাজ, এটা কোন জেনা নয়*৩৭।
৭। হযরত আয়শা(রাঃ) জেনাকারিনী (নাউযুবিল্লাহ)*৩৮।
৮। বর্তমান কোরআন আসল কোরআন নয়, আসল কোরআন ৪০ পারা এবং ৬০ হাত লম্বা*৩৯।
৯। হযরত উমর(রাঃ) রাসূল(সাঃ)এর ঘরে আগুন লাগিয়েছেন (নাউযুবিল্লাহ)*৪০।
১০। শিয়াদের প্রসিদ্ধ আলেম ও লেখক ‘বাকর মজলিসি’ তাঁর স্বীয় গ্রন্থ ‘হায়াতুল ক্বুলুব’এর মধ্যে উম্মুল মু’মেনীন হযরত আয়শা(রাঃ) ও হযরত হাফসা(রাঃ)কে বারবার মুনাফিক বলে আখ্যায়িত করেছেন। এমনকি তিনি একথাও লখেছেন যে, হযরত আয়শা(রাঃ) ও হযরত হাফসা(রাঃ) রাসূল(সাঃ)কে বিষপান করিয়ে শহীদ করে দিয়েছেন (নাউযুবিল্লাহ)*৪১।
১১। শিয়াদের প্রামাণ্য গ্রন্থ ’উসূলে কাফী’ তে কোরআনের আয়াত - ‘ওয়ালাকিন্নাল্লাহা হাব্বাবা ইলাইকুমুল ঈ’মানা ওয়াযাইয়্যানাহু ফি ক্বুলুবিকুম ওয়াকাররাহা ইলাইকুমুল কুফরা ওয়ালফুসুকা ওয়াল ইসইয়ান’- এর ব্যাখা প্রসঙ্গে লেখা হয়েছে যে, আয়াতটির মধ্যে ‘ঈমান’ দ্বারা হযরত আলী(রাঃ)কে ও ‘কুফর’ দ্বারা ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বক্কর(রাঃ)কে এবং ‘ফুসক’ দ্বারা দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর(রাঃ)কে বুঝানো হয়েছে*৪২।
১২। ইসনা আশারিয়্যার বিংশ খ্রীষ্টাব্দের ইমাম খোমেনী তাঁর লিখিত ফার্সীগ্রন্থ ‘কাশফুল আসরার’ এর ধারাবাহিক আলোচনার মধ্যে প্রথম শিরোনাম স্থাপন করেন- ‘মুখালাফাতে আবু বক্কর বা নচ্ছে কোরআন’(কোরআনের সাথে আবু বক্করের বিরোধতা)। আর দ্বিতীয় শিরোনামে লিখেন - ‘মুখালাফাতে উমর বা কোরআনে খোদা (আল্লাহর কোরআনের সাথে উমরের বিরোধীতা)*৪৩।
২। যারা মনে করে কোরআন শরীফ হুবহু নেই, কিছু বেশ কম হয়েছে এবং যারা মনে করে আল্লাহর আত্মা হযরত আলী(রাঃ)এর মধ্যে প্রবেশ করেছে- তাদেরকে মুসলমান বলা যাবেনা*৪৫।
৩। শিয়াদের ‘আকিদায়ে ইমামাত’ হযরত(সাঃ) এর খতমে নুবুওয়াতের বিরুদ্ধে এক প্রকাশ্য বিদ্রোহ এবং ইসলামের শাশ্বত বিধানের বিকৃতি সাধনে এক জগণ্য ষড়যন্ত্র। শিয়াদের এ ‘আকিদায়ে ইমামাত’ হলো ইসলামের সর্বস্বীকৃত ‘আকিদায়ে খতমে নুবুওয়াত’এর বিলুপ্তি সাধন করতঃ মিথ্যা নুবুওয়াতের চোরাপথ খোলার এক মন্ত্র রচনা। শিয়াদের ‘আকিদায়ে ইমামাত’ আদতেই দূর্বল ভিত্তির উপর প্রতিষ্টিত। যে কারনে বেশীদিন এর ভার রক্ষা করা যায়নি। ফলে তাদের ইমামগণের সিলসিলা ১২ নম্বরে সমাপ্ত করে শেষ ইমামকে এক অজানা গর্তে গায়েব করে দেয় ২৬০ হিজরীতে। তারপর সাড়ে ১১শত বছর গত হলেও এ পর্যন্ত কেহ জানেনা তাদের ১২তম ইমাম কোথায় কি অবস্থায় আছেন*৪৬।
৪। যেহেতু তিন খলিফা [হযরত আবু বক্কর(রাঃ) ও হযরত উমর(রাঃ) এবং হযরত উসমান(রাঃ)] এর আমলে হযরত আলী(রাঃ) স্বয়ং আপন হাতে মুসলমানদের বাইয়্যাত গ্রহণের আহ্বান জানাননি, সেহেতু হযরত আলী(রাঃ)এর প্রতিও শিয়ারা ক্ষীপ্ত*৪৭।
৫। কোরআনের আয়াত – ‘আমিই এই কোরআনকে নাযিল করেছি এবং আমিই এর হিফাজতকারী’- আল্লাহর এ দৃঢ় বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ ও মিথ্যা সাব্যস্থকারী হলো শিয়াদের কোরআন বিকৃতির আকিদা*৪৮।
৬। কোরআনের আসল কপি ১২তম ইমামের সহিত অজানা গর্তে লুকিয়ে আছে, শিয়াদের এ আকিদা তাদের দু’চারজন আলেম ব্যতিত বাকি সকলরই স্বীকৃত*৪৯।
৭। ইসলামের প্রথম কালেমা ও কোরআনের প্রতি যেখানে আস্থা নেই , সেখানে তাদের মধ্যে ইসলামের কিছুই বাকি থাকতে পারেনা*৫০।
৮। যে সকল শিয়া নিম্নলিখিত আকিদায় বিশ্বাসী , তারা কাফের। আর যারা তাদের অনুসরণ করবে তারাও কাফের। কাফের সাব্যস্থকারী আকিদাগুলো হল –
ক) কোরআন পরিবর্তনের আকিদা।
খ) আল্লাহর উপর মিথ্যাচারর অপবাদ আরোপ।
গ) আম্বিয়ায়ে কিরামের প্রতি ‘তাকিয়া’ বা মুনাফেকির অপবাদ।
ঘ) হযরত আবু বক্কর(রাঃ), হযরত উমর(রাঃ) এবং হযরত উসমান(রাঃ) এর উপর কুফর ও মুনাফেকির অপবাদ আরোপ এবং তাঁদের সাহাবিত্ব ও খেলাফত অস্বীকার।
ঙ) শিয়াদের ইমামদেরকে নিষ্পাপ ও আলেমুল গায়েব রূপে বিশ্বাস পোষণ।
চ) খতমে নুবুওয়াত আকিদার অস্বীকার ইত্যাদি।
শিয়া সম্প্রদায়ের ইসনা আশারিয়্যা দলের লোকেরা উল্লেখিত আকিদাগুলো পোষণ করে বিধায় তারাও কাফের*৫১।
৯। শিয়ারা কারবালার বাইরে সিজদা করার জন্য কারবালার বিশেষ স্থানের মাটি সংগ্রহ করে এবং সেই মাটি দ্বারা ছোট ছোট চাকতি তৈরী করে চাকতীতে কপাল ঠেকিয়ে সিজদা করে। এমনকি পবিত্র মক্কার বাইতুল্লাহ শরীফ এবং মদীনার মসজিদে নববীতে নামাজ পড়ার সময়ও তারা সেই চাকতি ব্যবহার করে। অথচ এটা হাদীস শরীফের সুস্পষ্ট ঘোষণার বিপরীতে একটা বাড়াবাড়ি। কেননা, রাসূল(সাঃ) স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, আল্লাহ পাক সমগ্র ভূ-ভাগই আমার জন্য মসজিদ বা সেজদার স্থান সাব্যস্থ করেছেন*৫২।
১০। আবু হনিফা নামে হযরত আলী(রাঃ)এর কোন সন্তান ছিলনা। হযরত ফাতেমা(রাঃ)র ইন্তেকালের পর হানাফিয়্যা গোত্রের খাওলা বিনতে জাফর ইবনে কাইস নামীয় এক মহিলাকে হযরত আলী(রাঃ) বিয়ে করেছিলেন। এই মহিলার গর্ভে তাঁর যে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়েছিল তাঁর নাম ছিল মুহাম্মদ। বনি হানাফিয়্যার উক্ত মহিলাকে বিবি হানাফিয়্যা নামে ডাকা হতো বলেই তাঁর গর্ভজাত সন্তানকে মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যা ডাকা হতো। কারবালার ঘটনার পর তিনি বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। এমনি এক যুদ্ধে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। শিয়া মতালম্বীরা তাঁর নিখোঁজ হবার ঘটনাটি নিয়ে নানা গল্পের সৃষ্টি করে। অথচ, ইসলামের ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য সুত্রগুলিতে এ ধরণের কোন তথ্যের উল্লেখ নাই*৫৩।
সবশেষে বলতে হয়, শিয়ারা একটা বিভ্রান্ত ফেরকা। এদের অধিকাংশই কাফের। প্রাথমিক অবস্থায় রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে বৃহত্তর মুসলীম উম্মাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও পরবর্তীতে আকিদা – বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও বড় ধরণের বিভ্রান্তিতে জড়িয়ে তারা মিল্লাতে ইসলামিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে*৫৪।
শিয়াদের মতাদর্শ সম্পর্কে পূর্ণ রূপে জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে প্রয়োজন হবে আরও অধিক অধায়নের*৫৫।
পৃষ্ঠা-৪৭ ,
সুত্র নং- ৪,৭,১৫,১৮,১৯,৫৪
পৃষ্ঠা-৪৬ ,
সুত্র নং- ১,১১,১৪,১৫,১৬,৩০
পৃষ্ঠা-৫৭ ,
সুত্র নং- ২,৩,২১,৫২,
পৃষ্ঠা-০৯ ,
সুত্র নং- ৯,১২,
পৃষ্ঠা-৫৯ ,
সুত্র নং-২০,৫৩
পৃষ্ঠা-৫৫ ,
সুত্র নং- ৪৪,৪৫
পৃষ্ঠা-৩৯,৪০,
সুত্র নং- ৬,৮,২৫,২৮,৪৬,৪৭,৪৮,৪৯,৫০
পৃষ্ঠা-৩৯ ,
সুত্র নং- ২২,২৩,২৪
পৃষ্ঠা-১৫,
সুত্র নং-১৩,২৯
পৃষ্ঠা-১২,৪০,
সুত্র নং- ৫,১০,১৬,১৭,২৬,২৭,৩১,৩২,৩৩,৩৪,৩৫,৩৬,৩৭,৩৮,৩৯,৪০,৪১,৪২,৪৩,
পৃষ্ঠা- ৩৯
সুত্র নং- ৫১
পৃষ্ঠা-৭০ ,
সুত্র নং-২৬,
পৃষ্ঠা-১৭,১১৭,১৪৪,১৫০,১৭৬,৯৫০
সুত্র নং-৩৩,৩৪,৩৫,৩৭,৩৯,৪৩,
পৃষ্ঠা-৮৭০
সুত্র নং-৪১
পৃষ্ঠা-২৬৯
সুত্র নং-৪২
পৃষ্ঠা-৭৫
সুত্র নং-৪৪,৪৫
পৃষ্ঠা-২৬৩,২৬৪
সুত্র নং-৫১
ক) সুরা বাকারা , আয়াত-২
খ) সুরা হিজর, আয়াত-৯
গ) সুরা মু’মিনুন , আয়াত-৭
ঘ) মাসিক মুঈনুল ইসলাম,জুন-২০০২ইং সংখ্যা, পৃষ্টা-৪০
ঙ) মাসিক মুঈনুল ইসলাম,এপ্রিল-২০০৫ইং সংখ্যা, পৃষ্টা-৩১
চ) ফতোয়ায়ে শামী ৩য় খন্ড, ২৯৪ পৃষ্ঠা
ছ) আল মাওছুয়াতুল ফিকহিয়্যাহ- ৩৫/১৪
জ) বাদায়ী- ৭/১০২,১০৩
ঝ) হাশিয়াতুস সিহাব – ৩/৩৭২,৩৭৩,৩৮৩,৩৮৪
ঞ) মিশকাত শরীফ – ১/১১
ট) গুণিয়াতুত্তালেবীন (আবদুল কাদের জিলানী রহঃ)
ঠ) তোহফায়ে ইসনা আশারিয়্যা (শাহ আবদুল আজীজ মুহাদ্দেস দেহলভী রহঃ)
সোমবার, ২০ আগস্ট, ২০১২
বাংলা গানের বিশ্বায়ন প্রসঙ্গে
আমাদের দেশে আগে যে গানগুলো হতো সেগুলো ছিল গভীর অর্থবোধক জ্ঞান। অবশ্য এদিক দিয়ে অনুন্নত গান পরিবেষণে শিল্পীদের দোষ দেয়া যায় না , কারণ তারা গান রচনা করেননা , তারা অন্যদের রচিত গানে কন্ঠ দেন। কিন্তু আধুনীক যুগের বেশীর ভাগ শিল্পীরা একটা গান রচনা থেকে শুরু করে বাজারজাত করা পর্যন্ত সবকিছু নিজেরাই করেন। তাদের কাছে অনুন্নত গান পরিবেষণ কোনমতেই কাম্য নয় , অথচ সেসব শিল্পীদের কাছ থেকে অতীতের মত অর্থবোধক কোন মুল্যবান গান পরিবেষিত হচ্ছেনা , আশা করাও যাচ্ছেনা। ফলে বাংলাদেশের শিল্পীরা উন্নত বিশ্বে অনুন্নতই রয়ে যাচ্ছে।
বর্তমান যুগে যারা প্রেমের গান রচনা করছেন , তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি - অতীতের প্রেমের গানগুলো দিয়ে আপনাদের প্রেমের গানগুলো বিচার করুন । তবেই বেরিয়ে আসবে আপনাদের হাত দিয়ে গানের অমরত্বতা। একজন শিল্পী মন্তব্য করেছিলেন ব্যান্ড সংগীত এসে গানের জগতকে করেছে কলুষিত। আসলেই ঠিক । ব্যান্ডের গানগুলোকে শুধুমাত্র চিল্লানী , গলা ফাটানী , অযৌক্তিক উশৃন্খলার আয়োজন ছাড়া আর কিছুই ভাবা যায় না। হয়তো মাঝে মাঝে দুই একটা গান ব্যান্ডগুলো ভাল করে। কিন্তু বেশীর ভাগই অর্থহীন চিল্লাচিল্লি রূপেই প্রদর্শিত হয়।
আজ দেশের ঈদ আয়োজনে হিন্দী গানের আয়োজন দেখে মনে হয়েছিল বাংলা গানের মৃত্যু হয়েছে বাংলাদেশে। এমন হলে দেশের বাংলা গানের শিল্পীদের গানের জগত থেকে মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। অথচ বাংলা গানের শিল্পীরা এ অবস্থার বিরুদ্ধে কোন অবস্থান নিচ্ছেননা । তাতে মনে হচ্ছে হিন্দী গানের আছরে বাংলা গান বাদ দিয়ে বাংলা গানের শিল্পীরা অচিরেই হিন্দী গান গাইতে শুরু করবে। এভাবেই একদিন আত্মহত্যা করবে বাংলাগানের জগত । যেভাবে মরণ হয়েছে বাংলা সভ্য সমাজের সংস্কৃতি ।
বলছিলাম আমাদের দেশে ঈদের গান হয়না । ঈদের গান পরিচয়ে যে গানগুলো হয় , তা হচ্ছে তথা কথিত প্রেমের গান। আজ নেট ব্রাউজ করে কুমার শানুর "আজকে খুশির বাঁধ ভেঙ্গেছে , ঈদ এসেছে ভাই ঈদ এসেছে" ঈদের গানটি পেলাম । এ ধরণের গান আমাদের বাংলাদেশে কয়টি হয়েছে আমার জানা নেই। যদিও হয়ে থাকে হাতে গোনা একটি বা দুটি পাওয়া যেতে পারে। অথচ অন্যান্য দেশে এই ধরণের ঈদের গান রচিত হয়েছে অসংখ্য।
যদি আমাদের শিল্পীদের কাছ থেকে উন্নত গান প্রকাশ না হয় , তবে তারা বিশ্বমঞ্চে দাঁড়াবে ? কিভাবে হবে বাংলাদেশের বাংলা গানের বিশ্বায়ন ? এ বিষয়ে সঙ্গীতবোদ্ধাদের দৃষ্টি দেয়ার প্রয়োজন আছে কি ?
========================
শুক্রবার, ২০ জুলাই, ২০১২
কোরআন ও হাদিসের আলোকে রমজান
আল কোরআনে মাহে রমজান ও রোযা সম্পর্কীয় কিছু আয়াত ঃ
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন -
১। “হে মু'মিনগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে,যেমনি ফরয করা হয়েছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর; যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পার’’। (সূরা বাকারা: ১৮৩)।
২। “রমজান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের হিদায়াতের জন্য।” (সূরা বাকারা- ১৮৫)।
৩। “কদরের রাত, হাজার মাস থেকেও উত্তম।” (সূরা কদর: ৩)।
৪। “তোমরা খাও পান কর, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয় আল্লাহ অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না’’। (সূরা আ'রাফ: ৩১)।
৫। “তোমাদের জন্য রোযার বিধান দেয়া হল,যেমন বিধান ছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের জন্য,যেন তোমরা নিজেদেরকে রক্ষা করতে শিখ অশুভের হাত থেকে।”(সূরা বাকারা: ১৮৩)।
৬। “নিশ্চয়ই আমি তা (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে। আর কদরের রাত সম্বন্ধে তুমি কী জানো? কদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, বিরাজ করে ঊষার আবির্ভাব পর্যন্ত।’’ (সূরা আল-কদর, আয়াত ১-৫)।
৭। “রমজান মাস, এতে মানুষের দিশারি এবং সৎ পথের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে আল-কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে।’’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৮৫)।
৮। “তোমাদের মধ্যে কেউ পীড়িত হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময় সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে। এ (সিয়াম) যাদের অতিশয় কষ্ট দেয় তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদ্ইয়া—একজন মিসকিনকে অন্নদান করা। যদি কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎ কাজ করে, তবে সেটা তার পক্ষে অধিকতর কল্যাণকর। তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে, তারা যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে। আর কেউ পীড়িত থাকলে অথবা সফরে থাকলে অন্য সময় এই সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য যেটা সহজ সেটাই চান এবং যা তোমাদের জন্য ক্লেশকর, তা চান না এ জন্য যে তোমরা সংখ্যা পূরণ করবে।’’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৪-১৮৫)।
৯। “তোমরা স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হবে না, যখন তোমরা মসজিদে ইতিকাফে থাকবে।’’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৭)।
১০। “যদি কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎ কাজ করে, তবে তা তার পক্ষে অধিক কল্যাণকর। আর যদি তোমরা উপলব্ধি করতে, তবে বুঝতে রোযা পালন করাই তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণপ্রদ।’’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৪)।
১১। “শপথ আত্মার এবং যিনি তা সুঠাম করেছেন তাঁর, অতঃপর তাঁকে পাপাচারের ও ধার্মিকতার পথ শিক্ষা দিয়েছেন। সুতরাং সে সফলকাম, যে আত্মশুদ্ধি অর্জন করে। আর সে ব্যর্থ, যে নিজেকে কলুষিত করে।’’ (সূরা আশ-শামস, আয়াত: ৭-১০)।
১২। “আর তোমরা পানাহার করো, যতক্ষণ না কালো রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রাত্রি পর্যন্ত রোযা পূর্ণ করো।’’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৮৭)।
১৩। “রমজান মাসে মানুষের পথপ্রদর্শক এবং সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী রূপে আল কোরআন নাজিল হয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে তারা যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে।'’ (বাকারা : ১৮৫)।
১৪। “সিয়াম নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের। তোমাদের মধ্যে কেউ ব্যাধিগ্রস্ত হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে। এটা যাদেরকে অতিশয় কষ্ট দেয়, তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদ্রা একজন অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান করা। যদি কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎ কাজ করে এটা তার পক্ষে অধিক কল্যাণকর। আর সিয়াম পালন তথা রোযারাখাই তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণপ্রসূ যদি তোমরা জানতে।” (সুরা বাক্বারা ১৮৩-১৮৪)।
মাহে রমজান ও রোযা বিষয়ক কিছু হাদীস ঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন -
১। “তোমাদের নিকট বরকতময় মাস রমজান এসেছে, যার সিয়াম আল্লাহ তোমাদের উপর ফরয করেছেন’’। (সুনান নাসায়ী: ২০৭৯)।
২। “এক রমজান তার পূর্ববর্তী রমজানের মধ্যবর্তী সময়ের সকল সগীরা গুনাহ মিটিয়ে দেয়।” (সহীহ মুসলিম: ৩৪৪)।
৩। “সবরের মাসে সাওম পালন ও প্রত্যেক মাসে তিনদিন সাওম পালন অন্তরের অস্খিরতা দূর করে।” (মুসনাদ আহমাদ: ৭২৬১)।
৪। “যখন রমজান আগমন করে তখন খুলে দেয়া হয় জান্নাতের দরজাসমূহ এবং বন্ধ করে দেয়া হয় জাহান্নামের প্রবেশ পথগুলো। আর শৃকôখলিত করা হয় শয়তানদের।” (সহীহ মুসলিম: ১৭৯৩)।
৫। “এ মাসের প্রত্যেক রাতেই আল্লাহ তার কতিপয় বান্দাহকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।” (সুনান তিরমিযী: ৬১৮)।
৬। “রমজান মাসের সিয়াম দশ মাসের সমতূল্য এবং শাওয়ালের ছয় দিনের সিয়াম দুই মাসের সমতুল্য। এ যেন সারা বছরের সিয়াম।” (মুসনাদ আহমাদ: ২১৭৮)।
৭। “এ মাসের প্রতি রাতেই আহ্বানকারী ঘোষণা দেয়, হে কল্যাণ কামনাকারী,কল্যাণের দিকে আস। হে অকল্যাণ কামনাকারী থেমে যাও।” (সুনান তিরমিযী: ৬১৮)।
৮। “রমজান মাসে কৃত প্রত্যেক মুসলমানের দোয়া কবুল হয়ে থাকে।” (মুসনাদ আহমাদ: ৭১৩৮)।
৯। “তোমাদের নিকট বরকতময় মাস রমজান এসেছে, যার সিয়াম আল্লাহ তোমাদের উপর ফরয করেছেন।” (সুনান নাসায়ী: ২০৭৯)।
১০। “সাওম পালনকারীদেরকে রাইয়ান নামক দরজা হতে ডাকা হবে।” (সহীহ বুখারী: ১৭৬৪)।
১১। “তোমাদের কারোর যুদ্ধক্ষেত্রের ঢালের ন্যায় সাওমও জাহান্নামের ঢালস্বরূপ।” (সুনান নাসায়ী: ২২০০)।
১২। “কিয়ামতের দিনে সাওম ও কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে।” (মুসনাদ আহমাদ: ৬৩৩৭)।
১৩। “কোন ব্যক্তির ফিতনা তার পরিবার, জান, মাল, সন্তান ও প্রতিবেশির মাঝে। যাকে মিটিয়ে দেয় সালাত, সাওম,সাদাকাহ, সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ।” (সহীহ বুখারী ৪৯৪)।
১৪। “কেবল সাওম ছাড়া আদম সন্তানের প্রত্যেক আমল তার জন্য; সাওম আমার জন্য আমি নিজে এর প্রতিদান দিব।” (সহীহ বুখারী: ১৭৭১)।
১৫। “যার হাতে আমার জীবন তার কসম, রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহ তা'আলার নিকট মিশকের ঘন্সাণের চেয়েও অধিক উত্তম।” (সহীহ বুখারী: ১৭৬১)।
১৬। “যে মিথ্যা কথা ও কাজ এবং মূর্খতা পরিত্যাগ করতে পারল না তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।” (সহীহ বুখারী: ১৭৭০)।
১৭। “কত সাওম পালনকারী রয়েছে যারা অনাহার ছাড়া আর কিছু পায় না।” (মুসনাদ আহমাদ: ৯৩০৮)।
১৮। “সাওম ঢাল স্বরূপ।তোমাদের কেউ যেন সাওম পালনের দিনে অশ্লীল আচরণ ও শোরগোল না করে। যদি তাকে কেউ গালি দেয় বা তার সাথে ঝগড়া করে তখন সে যেন বলে ‘আমি রোযাদার'।” (সহীহ বুখারী: ১৭৭১)।
১৯। “নবীজী (স·) ছিলেন মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি দানশীল। তিনি সবচেয়ে বেশি দান করতেন রমজান মাসে।” (সহীহ বুখারী: ৫)।
২০। “যে ঈমান ও সওয়াবের উদ্দেশ্যে রমজানের রাতে সালাত আদায় করে তার অতীতের পাপসমূহ মা করে দেয়া হয়। (সহীহ বুখারী: ৩৬)।
২১। "সাওম ও কুরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে।" (মুসনাদ আহমাদ: ৬৩৩৭)।
২১। “যে ব্যক্তি রমজান মাসে পেয়েও তার পাপ ক্ষমা করাতে পারেনি তার নাক ধুলায় ধূসরিত হোক।” (সুনান তিরমিযী: ৩৪৬৮)।
২২। “রমজান মাসে উমরা আদায় আমার সাথে হজ্ব আদায়ের সমতূল্য। (সহীহ বুখারী: ১৭৩০)।
২৩। “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করতেন’’ (সহীহ বুখারী: ১৮৮৫)।
২৪। “যে কোন রোযাদারকে ইফতার করাবে সে রোযাদারের অনুরূপ সওয়াব লাভ করবে, তবে তাতে রোযাদারের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমবে না।' (সুনান তিরমিযী: ৭৩৫)।
২৫। “রমজান মাসে কৃত প্রত্যেক মুসলমানের দোয়া কবুল হয়ে থাকে’’।(মুসনাদ আহমাদ: ৭১৩৮)।
২৬। “তোমরা সাহরী খাও, কারণ সাহরীতে বরকত রয়েছে।” (সহীহ বুখারী: ১৭৮৯)।
২৭। “মু'মিনের উত্তম সাহরী হল খেজুর।” (সুনান আবু দাউদ: ১৯৯৮)।
২৮। “তোমরা তাড়াতাড়ি ইফতার কর এবং দেরিতে সাহরী কর’’।(আসসিলসিলাতুস সহীহা: ১৭৭৫)।
২৯। “আমাদের রব তাবারাকা ওয়া তা'আলা প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন, কে আছ! যে আমার নিকট দোয়া করবে আমি তার দোয়া কবুল করব। কে আছ! যে আমার নিকট চাইবে আমি তাকে দান করব। কে আছ! যে আমার কাছে মা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব।” (সহীহ বুখারী: ১০৭৭)।
৩০। “মানুষ যতদিন পর্যন্ত তাড়াতাড়ি ইফতার করবে ততদিন কল্যাণের সাথে থাকবে।” (সহীহ বুখারী: ২৮২১)।
৩১। “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের পূর্বে তাজা খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। যদি তাজা খেজুর পাওয়া না যেত তবে শুকনো খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। যদি শুকনো খেজুর পাওয়া না যেত তাহলে কয়েক ঢোক পানি দ্বারা ইফতার করতেন।” (সুনান আবু দাউদ: ২০০৯)।
৩২। “তিন ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়, ন্যায়পরায়ণ নেতা,রোযাদার যখন ইফতার করে,নির্যাতিত ব্যক্তি।” (সুনান তিরমিযী: ২৪৪৯)।
৩৩। “যে কোরা রোযাদারকে ইফতার করাবে সে রোযাদারের অনুরূপ সওয়াব লাভ করবে, তবে তাতে রোযাদারের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমবে না।” (সুনান তিরমিযী: ৭৩৫)।
৩৪। “যে মিথ্যা কথা ও অন্যায় কাজ পরিত্যাগ করেনি তার পানাহার ত্যাগ আল্লাহর কোন কাজে আসবে না।” (সহীহ বুখারী: ১৭৭০)।
৩৫। রাসূলুল্লাহ (স·)বলেন, যখন ইফতার করতেন তখন বলতেন-
“পিপাসা নিবারণ হল, শিরা-উপশিরা সিক্ত হল এবং প্রতিদান সাব্যস্ত হল ইনশাআল্লাহ ’’।(সুনান আবু দাউদ: ২০১০)।
৩৬। আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন-
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযা অবস্খায় তাকে চুম্বন করতেন এবং রোযা অবস্খায় আলিঙ্গন করতেন।” (সহীহ মুসলিম: ১৮৫৪)।
৩৭। “রাসূলুল্লাহ (স.) যখন রমজানের শেষ দশকে পৌঁছতেন তখন লুঙ্গি শক্ত করে বেঁধে নিতেন (প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন), রাত্রি জাগরণ করতেন,পরিবারবর্গকে নিদন্সা থেকে জাগিয়ে দিতেন’’। (সহীহ বুখারী: ১৮৮৪)।
৩৮। “রাসূলুল্লাহ (স.) রমজানের শেষ দশকে ইবাদত-বন্দেগীতে যে পরিশন্সম করতেন অন্য সময় তা করতেন না।'’ (সহীহ মুসলিম: ২০০৯)।
==================
স্বাগতম মাহে রমজানুল মোবারক
বিসমিল্লাহির রাহমানীর রাহীম।
আল্লাহুম্মা ছাল্লি আ’লা মুহাম্মাদানিন্নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়ালা আলিহী ওয়াছহাবিহী ওয়াবারিক ওয়াছাল্লিম।
রমজান মাসের পরিচয়,মাহাত্ম্য,প্রয়োজনীয়তা এবং রোযা পালন নিয়ম ঃ
স্বাগতম মাহে রমজানুল মুবারক। একটি বছর ঘুরে আবারও অসংখ্য নিয়ামত ও সুসংবাদের বার্তা নিয়ে আমাদের দরজায় এসে উপস্থিত হলো মানবজাতির ইহলৌকিক কল্যাণ ও পারলৌকিক মুক্তির দিকদর্শন গ্রন্থ পবিত্র আল কুরআন অবতীর্ণের মাস, আত্মিক প্রশান্তি লাভের মাস, ইসলামের বিজয়ের মাস, বরকতের মাস, গুনাহ মাফের মাস, হাজার মাসের চেয়েও উত্তম রাত ক্বদরের রাত বিশিষ্ট মাস, দোয়া কবুলের মাস, ধৈর্য ধারণের মাস, সাহায্য-সহযোগিতা-সমবেদনা-সহমর্মিতা প্রদর্শনের মাস, মঙ্গল ও কল্যাণের প্রতি আহ্বানের মাস, সাম্য–মৈত্রী-ঐক্য-ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের মাস, রোজা পালনের মাস, স্বর্গদ্বার সমূহ উন্মুক্ত এবং নরকদ্বার সমূহ বন্ধের মাস, নিয়ামতপূর্ণ মোবারকময় মাস, নরক থেকে মুক্তির মাস, পবিত্র মাস, সংযম সাধনার মাস, স্থিতিশীলতা–শান্তি-সমপ্রীতি–নিরাপত্তার মাস, দশমাস রোজা পালনের সমপরিমাণ সাওয়াব বিশিষ্ট মাস, আত্মশুদ্ধির মাস, আত্মবিশ্লেষণের মাস, সমবেদনা প্রকাশের মাস, রিজিক বাড়ার মাস, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের মাস, তাকওয়া অর্জনের মাস, আত্মোন্নয়নের মাস, রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস এবং মুসলমানের শান্তির সওগাত পবিত্র মাহে রমজান।
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের তৃতীয় স্তম্ভটি হচ্ছে সিয়াম বা রোযা। রোযা অর্থ আত্মসংযম। মাহে রামাদান বা রমজান মাস মুসলমানদের জন্য আল্লাহর তরফ থেকে এক বিশেষ রহমত স্বরুপ। এই রমজান মাস আল্লাহর তরফ থেকে বান্দার জন্য রহমত-বরকত-মাগফেরাত হিসেবে অভির্ভূত হয়ে থাকে। মানুষের দেহ ও মনকে সংযমের শাসনে রেখে ইসলামি শরিয়ত বা জীবনবিধানের পরিপন্থী যাবতীয় অসামাজিক ও অমানবিক কাজ পরিহার করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ ও তাকওয়া অর্জনের কঠোর সিয়াম সাধনাই হচ্ছে মাহে রমজানের মূলকথা। রোযা পালনের মধ্য দিয়ে মানুষের ইচ্ছাশক্তির বিকাশ, সংযম ও আত্মোন্নয়ন ঘটে। যা কিছু কল্যাণকর তার সঙ্গে রয়েছে এই পবিত্র মাসের সম্পর্ক।
মানুষের কথাবার্তায়, আচার-আচরণে, কাজকর্মে ও চলাফেরায় ধৈর্য ধারণের মাধ্যমেই সিয়াম সাধনা পরিপূর্ণ হয়। এটি এমন এক মাস যে মাসে মানুষ নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সুযোগ পায়। পরিশুদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের তওফিক অর্জন করে।
এটি এমন এক মাস যে মাসে পাপ থেকে ক্ষমা পাওয়ার সুযোগ ঘটে। কোরআন এবং হাদীসে এই রমজান শরীফ সম্পর্কে সুস্পষ্ট বিধান আবর্তিত হয়েছে এবং প্রতিটি সক্ষম মুসলমানের উপর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, সাথে সাথে এর অসংখ্য ফজিলতও বর্ণনা করা হয়েছে। রোজাদারের পুরস্কার স্বয়ং আল্লাহপাক তার বান্দাদেরকে প্রদান করবেন বলে ঘোষনা করা হয়েছে। রমজান হলো কৃচ্ছ্রসাধন করে আখিরাতের সম্বল সংগ্রহের এক উত্তম সময়। জাগতিক ধন-সম্পদ উপার্জনে যেমন বিশেষ মৌসুম ও উপলক্ষ আছে, তেমনি রমজান মাসও সৎকর্ম ও আখিরাতের নেকি লাভের উত্তম মৌসুম। আর এসব আমলের প্রতিদান হলো বেহেস্ত। পবিত্র রমজান মাস আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে ক্ষমা ও মার্জনালাভের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট মাস। রমজান মাসের সাধনা একজনকে কালগত দুটি দিকের সাথেই সম্পৃক্ত করে। একদিকে আমরা অতীতের সাথে সম্পৃক্ত হই কৃত মন্দ কাজগুলোর এবং অমনোযোগিতা, ব্যর্থতা ও অবহেলার খতিয়ানের জন্য। সেজন্য আমরা ক্ষমা প্রার্থী হই আল্লাহর নিকট। অপরদিকে, নিজেদেরকে প্রস্তুত করি ভবিষ্যতের জন্য। রোযা কেবল খাবার ও সম্ভোগ থেকে বিরত থাকাকে বুঝায় না, সব রকমের অন্যায়-অশুভ চিন্তা, আকাঙ্ক্ষা ও কাজ থেকে দূরে থাকাও বুঝায়। মানুষের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক উন্নয়নে রোযা সহায়ক ভূমিকা পালন করে। নিজেকে পরিশুদ্ধ করার, শোভামণ্ডিত করার, আল্লাহর সাথে ও অন্যদের সাথে নিজেকে আরও ঘনিষ্ঠ করার সাধনার এ মাসে আমরা আমাদেরকে চিন্তা, মনন, বাচন, আচরণ ও কর্মে আরও উন্নত করতে পারবো এবং সামনের দিনগুলো আমরা আরও সুন্দরভাবে যাপন করতে শিখব এই আশা করতে পারি নিজের জন্য এবং সকল সিয়াম সাধকদের জন্য।

মাহে রমজানের রোজার উদ্দেশ্য হচ্ছে পশু প্রবৃত্তিকে দমন করা এবং ঈমানি শক্তিতে বলীয়ান হওয়া। মাহে রমজানে সিয়াম সাধনা বা রোযাব্রত পালন মানব জীবনকে পূতপবিত্র ও সুন্দরতর করে গড়ে তোলার একটি অত্যন্ত কার্যকরী পন্থা। মানুষের আত্মশুদ্ধির একটি বলিষ্ঠ হাতিয়ার সিয়াম পালন বা রোযা। বিশেষত, মাহে রমজানে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে মানুষ তার পাশবিক প্রবৃত্তিকে সংযত এবং আত্মিক শক্তিকে জাগ্রত ও বিকশিত করে তোলার পরিপূর্ণ সুযোগ লাভ করে। কুপ্রবৃত্তির হাতিয়ার বা অস্ত্রকে দুর্বল করে বশে আনার লক্ষ্যে আল্লাহ তাআলা সিয়াম সাধনার অপূর্ব সুযোগ দিয়েছেন। মাহে রমজানের রোযা আত্মশুদ্ধি ও চরিত্র উন্নয়নের এক বিশেষ প্রক্রিয়া। সিয়াম বা রোযা দ্বারা শরীর, মন ও আত্মা বিধৌত হয়। দেহ যখন সংযমের শাসনের অধীন থাকে, আত্মা তখন সবল হয়ে ওঠে। সত্যকে গ্রহণ ও ধারণ করার ক্ষমতা অর্জন করে। রোযা বা সিয়াম সাধনার চর্চায় মানুষ এক অমিয় সুধা লাভ করে। এতে মানুষ জাগতিক লোভ-লালসা, অতিরিক্ত ধনসম্পদ অর্জনের মারাত্মক ব্যাধি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার সুযোগ পায়। আর অন্তরের বিশুদ্ধতা বা আত্মশুদ্ধির হাতিয়ার রোযা দ্বারাই অর্জিত হয়। মাহে রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। এ মাসে মানবীয় মন্দ স্বভাবগুলো থেকে বিরত থাকা রোযা আদায়ের জন্য শর্তারোপ করা হয়েছে। তাই পবিত্র রমজান মানুষকে এসব মন্দ স্বভাব পরিহার করে সৎ স্বভাব অর্জন করতে শিক্ষা দেয়। সিয়াম সাধনায় পাশবিক প্রবৃত্তি যখন দমে যায়, তখন মানবাত্মার তেজ ও প্রাণশক্তি বাড়তে থাকে। রোযার দ্বারা মানুষের আত্মার উন্নতি সাধিত হয়।
এ রমজান মাসে যারা ধৈর্যের সঙ্গে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবেন, মহান আল্লাহ তাদের সাহায্য করবেন। সিয়াম বা রোযা ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে ত্যাগের মাধ্যমে ধৈর্য ধারণের অভ্যাস গড়তে শেখায়। এ মাস মানুষকে ধৈর্যশীল হওয়া ও সংযমবোধ শেখায়। ঈমান ও সৎকর্ম চালু রাখা এবং সত্য-ন্যায়ের সংরক্ষণ ব্যক্তি ও সমাজের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ। এ কঠিন কাজ সম্পাদনের জন্য যে ধৈর্য ও সহনশীলতার প্রয়োজন, তা মাহে রমজানের দীর্ঘ সিয়াম সাধনার মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব। মাহে রমজানে কঠোরভাবে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে ধৈর্য ও সহনশীলতার যে মানবিক গুণটি অর্জিত হয়, তা শুধু ব্যক্তি পর্যায়ের গুণই নয় বরং এ মহৎ গুণটি কারও মধ্যে সৃষ্টি হলে ঈমানদারের সমষ্টিগত জীবনে অপরের জন্য তা উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে, মানুষকে কঠিন ও দুর্গম পথপরিক্রমায় চলতে শক্তি জোগায়। রোযা পালনের মাধ্যমে অর্জিত ধৈর্য ও সহনশীলতা ঈমান ও তার ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম সাধনায় প্রচুর নিয়ামক শক্তি সঞ্চার করে। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে অর্জিত সহনশীলতা তাই শুধু ব্যক্তিগত কল্যাণই বয়ে আনে না, বরং মুসলমান সমাজের জন্য একটি দলগত কল্যাণ বয়ে আনে।
আল্লাহ পাক তাঁর অসীম দয়া, ক্ষমা ও পরিত্রাণ প্রাপ্তির জন্য মাসব্যাপী রোজা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, যেন সংযমের মাধ্যমে বান্দারা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও পরিশুদ্ধি অর্জন করেন। রোজার উদ্দেশ্য হচ্ছে আত্মসংযম, আত্মসংশোধন ও কৃচ্ছ্র সাধন। মানবজীবনকে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও পরিশুদ্ধ করে গড়ে তোলার একটি অত্যন্ত কার্যকরী দৈহিক ইবাদত রোযা। শারীরিক রোযার মূল ভিত্তি হচ্ছে অন্তরের রোযা। তাই রোযার জন্য নিজেদের মন-মানসিকতা, চিন্তা-ভাবনা, ধ্যান-ধারণা ও প্রবৃত্তিকে দমন ও কলুষমুক্ত হতে হবে। সৎ নিয়ত, স্বচ্ছ চিন্তা-পরিকল্পনা, একনিষ্ঠতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও পরিশুদ্ধতা হচ্ছে অন্তরের মূল কথা।
রোযা মানুষকে আত্মনিয়ন্ত্রণ লাভের শিক্ষা দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেহির খাওয়া, ইফতার করা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা, জামাতে খতমে তারাবি পড়া প্রভৃতি ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে নিয়মানুবর্তিতাও শেখায়। মাহে রমজানে ইফতার থেকে সেহরী পর্যন্ত যে রুটিন অনুযায়ী দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করতে হয়, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ। মাহে রমজান মানুষকে সৎ, নির্লোভ ও আত্মসংযমী হতে শেখায়। কাজকর্মে, ব্যবসা-বাণিজ্যে, সর্বোপরি এমন এক আলোকিত মানুষ হতে শেখায়, যিনি ঘুষ-দুর্নীতি ও অপকর্ম থেকে মুক্ত। কাম, ক্রোধ, লোভ-মোহ, পরচর্চা, মিথ্যাচার, যেকোনো ধরনের অনিষ্টকর ও পাপ কাজ ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। রোজাদার ব্যক্তি তাঁর জাগতিক লোভ-লালসার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও প্রবণতার সব খারাপ দিককে দূরে সরিয়ে রাখেন এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে কৃচ্ছ্র সাধন করে নিজেকে সর্বোত্তম মানুষে রূপান্তরিত হওয়ার এ সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগান। ফলে তিনি নম্রতা, সংযম, উদারতা, শিষ্টতা ইত্যাদি সৎগুণ চর্চার মাধ্যমে আল্লাহর প্রতিনিধিরূপে নিজেকে পরিপূর্ণতা দিতে পারেন। মানুষের জন্য তাই সিয়াম সাধনা একটি উৎকৃষ্ট আত্মশুদ্ধির কর্মকৌশল, যে কৌশল অবলম্ব্বনে একদল পরিশুদ্ধ মানুষ সব কলুষতার ঊর্ধ্বে উঠে, পূতপবিত্র পরিশীলিত মন নিয়ে নিজেকে মানবসেবায় উৎসর্গ করতে পারে।
মাহে রমজানে সিয়াম সাধনা মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ও সাম্য সৃষ্টি করে। মাহে রমজানে সিয়াম সাধনা বা রোযাব্রত পালন সমাজে সাহায্য-সহযোগিতা, সমবেদনা তথা সহমর্মিতা প্রদর্শনের অন্যতম মাধ্যম। মাহে রমজান সামাজিক ঐক্য ও নিরাপত্তা বিধানে এবং একটি সংঘাতমুক্ত গঠনমূলক আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। রমজান মাসে কঠোর সিয়াম সাধনার মাধ্যমে রোজাদার ব্যক্তিরা অপরের বদনাম ও কূটনামি থেকে বিরত থাকেন। তাঁরা সকল প্রকার ঝগড়া-বিবাদ, ফিতনা-ফ্যাসাদ, অযথা বাগিবতণ্ডা ও যাবতীয় খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকেন। তাঁদের মুখ থেকে কোনো প্রকার অশ্লীল কথা বের হয় না। যদি কোনো রোযাদার লোককে কেউ গালিগালাজ ও ঝগড়া-বিবাদে প্ররোচিত করতে চায়, তখন সেই রোযাদার যদি উত্তেজিত না হয়ে ঝগড়া-বিবাদ ও গালিগালাজ থেকে দূরে সরে যান, তাহলে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট হয় না এবং একটি আদর্শ নৈতিকতাপূর্ণ সহনশীল সমাজ গড়ে ওঠে। মাহে রমজানে সমাজের স্থিতিশীলতা, শান্তি, সমপ্রীতি ও নিরাপত্তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিদ্যমান। সমাজের প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মানুষ যদি মাহে রমজানের মতো অন্যান্য মাসেও আত্মসংযমের সঙ্গে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-দল-মতনির্বিশেষে সব ধরনের বিরোধ এড়িয়ে যান, তাহলে কোনোরূপ সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় না। তাই সমাজ জীবনে পরস্পরের প্রতি সাহায্য-সহযোগিতা, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এবং সাম্য, মৈত্রী, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের ক্ষেত্রে রোযার ভূমিকা অনস্বীকার্য। মাহে রমজান প্রকৃত অর্থেই যেন মানুষের মনের পশুত্ব, আত্মঅহমিকা, হিংস্রতাসহ সব অমানবিক দোষ-ত্রুটি জ্বালিয়ে ভস্ম করে ও ধৈর্য-সহনশীলতা বিকশিত করে।
মুসলিম উম্মাহর জন্য রমজান মাসের শ্রেষ্ঠতম নিয়ামত আল্লাহর বাণী আল কোরআনুল কারিম। এই মাসে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়। মানব জাতির পথ-প্রদর্শক হিসেবে আল্লাহ এই মহাগ্রন্থ নাজিল করেন। মাহে রমজান হচ্ছে পবিত্র কোরআন মজিদের শিক্ষা অর্জন ও বিস্তারের মাস।
যে রাতে প্রথম কোরান নাজিল হয় সে রাতকে আল্লাহ মহিমান্বিত রাত ও মর্যাদার রাত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এ রাতের মহিমা ও মর্যাদা কোরানের জন্যই, কোরানের মহিমা ও মর্যাদার জন্য। আল্লাহ কোরানের মাধ্যমে ঘোষণা করেছেন নিজের এবং জগতে মানুষের মহিমা ও মর্যাদা। কাজেই এ রাত হয়ে উঠেছে প্রকৃত প্রস্তাবে আল্লাহ ও মানুষের মহিমা আর মর্যাদার রাত। কোরান এসেছে মানুষের পথ-নির্দেশনার জন্য। এ রাতেই শুরু হয়েছিল মানুষের জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞা পূর্ণ বিষয়াদির নিষ্পত্তি এবং মানুষের জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় শান্তির সম্প্রসারিত বার্তা। এ রাত তাই আমাদের কাছে সহস্র মাসের চেয়েও উত্তম রাত। এ রাত রমজান মাসের রাত এবং রমজান মাসের শেষ দশ দিনের কোন এক বেজোড় রাত। কাজেই রমজান মাস এবং এ মাসের শেষ দশ দিন আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। রমজান মাস এবং কদরের রাত মানব জাতির ইতিহাসে মানুষের সাথে তার প্রতিপালকের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ যোগাযোগের মাস ও রাত।
আল্লাহ এ মাসকেই বেছে নিয়েছেন মানুষের জন্য বিশেষ সাধনার মাস হিসেবে। এই সাধনাই সিয়াম সাধনা। তদুপরি, এ মাসের শেষের দশ দিন আমরা পালন করি আরও কঠোর সাধনা যাকে বলা হয় এতেকাফ। উদ্দেশ্য একটিই আর তা হলো তাকওয়া অর্জন। তাকওয়ার অর্থ হলো - সচেতনতা, সংযম, বিচারশীলতা, সতর্কতা। এ সচেতনতা যেমন আল্লাহ সম্বন্ধে, তেমনই নিজের সম্বন্ধে, তেমনই জীবনে দায়িত্বের গুরুভার সম্বন্ধে।
মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা বা রোযাকে দেহের জাকাত স্বরূপ বলা হয়েছে। জাকাত আদায় করলে যেমন মানুষের উপার্জিত সব ধনসম্পদ পবিত্র হয়, তেমনি রমজান মাসে রোজা পালন করলে সারা শরীর পবিত্র হয়ে যায়।বস্তুর পবিত্রতা হাসিলের জন্য যেমন জাকাত দিতে হয়, তেমনি মানুষের শরীর তথা আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য সত্যিকারের সিয়াম বা রোযা পালন করতে হয়।
জাকাত দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়ের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও রমজান মাসই জাকাত আদায়ের সর্বোত্তম সময়। মাসব্যাপী রোযা রেখে রোজাদার লোকেরা পরস্পরের প্রতি সহমর্মী ও সহানুভূতিশীল হয়ে পড়েন। ফলে বিত্তবানেরা বেশি বেশি দান-খয়রাত, সাদকা, জাকাত দিতে উৎসাহিত হন। কেননা রমজান মাসে যেকোনো ধরনের দান-সাদকা করলে অন্য সময়ের চেয়ে ৭০ গুণ বেশি সওয়াব হাসিল হয়। তাই রমজান মাসে রোজাদার মুমিন বান্দারা একসঙ্গে জাকাত ও ফিতরা আদায় এ দু’টি আর্থিক ইবাদত করে থাকেন।
মাহে রমজানসহ সারা বছর নিজের ও পরিবারের যাবতীয় খরচ বাদ দিয়ে যদি কোনো মুসলমানের কাছে নিসাব পরিমাণ অর্থাৎ বছরের আয় থেকে ব্যয় বাদ দিয়ে যদি কমপক্ষে সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ তোলা রৌপ্য অথবা সমমূল্যের ধন-সম্পদ থাকে, তবে তার সম্পদের শতকরা আড়াই টাকা হিসাবে আল্লাহর নির্ধারিত খাতে গরিব-মিসকিনদের মধ্যে বণ্টন করতে হয়, আর এটাই হলো জাকাত। যার ওপর জাকাত ফরজ হয়েছে, তাকে অবশ্যই জাকাত দিতে হবে। আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক ধন-সম্পদের ৪০ ভাগের ১ ভাগ অসহায় গরিব-দুঃখীদের জাকাত প্রদান করে রোজাদার আত্মিক প্রশান্তি লাভ করে থাকেন।
জাকাত গরিবের প্রতি ধনীর অনুগ্রহ নয়, বরং তা গরিবের ন্যায্য অধিকার। এভাবে জাকাতের মাধ্যমে ধনী রোজাদারেরা গরিবদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করেন। ধনী রোজাদার লোকেরা যদি ঠিকমতো জাকাত আদায় করেন, তাহলে সমাজে কোনো অন্নহীন, বস্ত্রহীন, আশ্রয়হীন, শিক্ষাহীন লোক থাকতে পারে না। মাহে রমজানে যে জাকাত-ফিতরা প্রদান করা হয়, কতিপয় ধনী লোক গরিবদের প্রতি তা দয়া বা অনুগ্রহ বলে মনে করেন। আর গরিব-দুঃখীদের মনে করা হয় করুণার পাত্র। কিন্তু ধনীর অর্থ-সম্পদে দরিদ্র অসহায়দের অধিকার রয়েছে। রমজান মাসে ধনী লোকেরা জাকাত-ফিতরা দিয়ে সেই দায়িত্বমুক্ত হচ্ছেন মাত্র। আর জাকাত-ফিতরা আদায় না করলে তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করেননি বলে দোষী সাব্যস্ত হবেন। জাকাত-ফিতরা বা দান-খয়রাত করুণার বিষয় নয়, এগুলো হলো বান্দার হক। রোজা পালনকারী প্রত্যেক ধনী ব্যক্তিরই আল্লাহকে ভয় করে কড়ায়-গন্ডায় জাকাত আদায় করা উচিত।
রমজান মাসে বঞ্চিতদের অধিকার রক্ষায় ও সমাজের ধনী-দরিদ্রের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণে জাকাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। জাকাতের প্রকৃত হক্বদার হচ্ছে তারা, যারা কর্মক্ষমতাহীন এবং যারা কর্মক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও উপার্জনহীন অথবা পর্যাপ্ত পরিমাণে উপার্জন করতে পারছে না। এমতাবস্থায় দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্বিপাকে ধনী লোকেরা যদি রমজান মাসে অগ্রিমও জাকাত আদায় করেন, তাহলে সব ধরনের অভাবী, দুর্দশাগ্রস্ত, দুর্গত মানুষের অভাব দূরীকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিধান ও পুনর্বাসন করা সহজ হতে পারে। মাহে রমজানে জাকাতকে সঠিক খাতে এবং সহায়-সম্বলহীন দুস্থ এতিমদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে ব্যবহার করতে পারলে সমাজ থেকে সহজেই অভাব-অনটন ও দারিদ্র্য বিমোচন করা সম্ভব হবে।
মানুষের সুপ্রবৃত্তিগুলো মানব মনে ইসলাম-নির্দেশিত শান্তি, শৃঙ্খলা, ঐক্য, সাম্য, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব, প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসা প্রভৃতি মহৎ কাজের প্রতি অনুরাগ এনে দেয়। আর কুপ্রবৃত্তি বা কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য এ ষড়িরপুসমূহ মানবজীবনে অনৈক্য, হিংসা, বিদ্বেষ, অন্যায়, অত্যাচার, ব্যভিচার, নির্মমতা, পাশবিকতা, হত্যাকাণ্ড, ধনসম্পদের লোভ-লালসা, আত্মসাৎ প্রবণতা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, চাঁদাবাজি, ঘুষ-দুর্নীতি, অশান্তি, বিশৃঙ্খলা প্রভৃতি অনৈসলামিক ও অমানবিক কার্যকলাপের উদ্ভব ঘটায়।
মানুষের কুপ্রবৃত্তির এ তাড়না থেকে আত্মশুদ্ধির উপায় এবং উন্নততর জীবনাদর্শের অনুসারী হওয়ার জন্যই মাহে রমজানে রোজা রাখার বিধান করা হয়েছে।
রোজার মাধ্যমে কুপ্রবৃত্তির ওপর বিবেকের পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়, এর দ্বারা মানুষের পাশবিক শক্তি অবদমিত হয় এবং রুহানি শক্তি বৃদ্ধি পায়। রমজান মাসের প্রশিক্ষণের ফলে একজন ধর্মভীরু মানুষ হালাল খানাপিনা এবং জৈবিক রিপুর তাড়না ও কামনা-বাসনা থেকে দূরে থাকতে সক্ষম হন।প্রতিটি রোযাদারের মধ্যে যখন মানবিক গুণাবলি বিকশিত হবে, প্রতিটি মানুষ যখন হবে প্রকৃত মানুষ, থাকবে না হিংসা-বিদ্বেষ, মারামারি, হানাহানি, সন্ত্রাস, ঘুষ-দুর্নীতি, অরাজকতা, সামপ্র্রদায়িকতা ও মানুষে মানুষে ভেদাভেদ। চূর্ণ হবে মানুষের অহমিকা ও আমিত্ববোধ, যা সব অন্যায় ও অনাচারের জন্মদাতা। সৃষ্টি হবে মানুষে মানুষে সম্প্রীতি। এ অশান্ত পৃথিবীর বুকে বয়ে চলবে শান্তির সুশীতল বায়ু। এ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়েই প্রতিবছর মাহে রমজান মুসলিম উম্মাহর দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়।
রোজার মূল লক্ষ্য হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টি আর রোযার ব্যবহারিক উদ্দেশ্য হলো কুপ্রবৃত্তি দমন, আত্মসংশোধন, আত্মসংযম ও খোদাভীতি অর্জন। রমজান মাসের রোযার মাধ্যমে রোযাদার খোদাভীতি অর্জন করেন, সৃষ্টিকর্তার শোকর আদায় করতে শেখেন এবং আল্লাহর হুকুমের কদর বুঝতে পারেন। প্রকৃতপক্ষে সব কাজকর্মের মধ্য দিয়ে রোযাদার মানুষ মূলত আল্লাহর আদেশ-নিষেধগুলোকে মেনে চলার চেষ্টা করেন। রোযা রাখার কারণে মানুষ নিজের নফস বা আত্মাকে কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ প্রভৃতি কুপ্রবৃত্তি থেকে পরিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে। মানুষ তার সমস্ত কামনা-বাসনা ও লোভ-লালসা পরিত্যাগ করে বিভিন্ন যাতনা ও দুঃখ-কষ্ট সহ্য করে খোদাভীতি অর্জনে ব্রতী হয়।
দেহকে আত্মনিয়ন্ত্রণে আনতে হলে দৈহিক প্রেরণাকে সংযত করতে হয়। আত্মিক শক্তিকে সমৃদ্ধ করতে হয়। দৈহিক কামনা-বাসনাকে সংযত করার জন্য একদিকে ক্ষুধা-তৃষ্ণার কষ্ট সহ্য ও রিপুর তাড়নাকে পরিত্যাগ করতে হয়, অন্যদিকে জিহ্বা ও মনের চাহিদা এবং অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এভাবে দৈহিক আকাঙ্ক্ষা ও প্রেরণাকে যত সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, অন্য কোনোভাবে তা সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যবিশারদগণ বলেন - শরীরটাকে ভালো রাখতে চাও তো রোযা করো। নীরোগ, দীর্ঘজীবী ও কর্মক্ষম সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হলে বছরের কিছুদিন উপবাসের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খাদ্যাভাব বা আরাম-আয়েশের জন্য মানুষের শরীরের যে ক্ষতি হয়, রোযা তা পূরণ করে দেয়।
মাহে রমজানে একজন রোযাদার সারা দিনের ক্লান্তি, অবসাদ ও কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে সিয়াম সাধনা করে উন্নত মানবিক গুণাবলি অর্জনে সক্ষম হন। মাহে রমজানের সিয়াম সাধনার মধ্যে রোযাদারদের জন্য রয়েছে অশেষ কল্যাণ ও উপকার। স্বাস্থ্যগতভাবে এবং মানসিক উৎকর্ষ সাধনের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। রোযার মাধ্যমে মানুষের আত্মিক ও নৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটে। লোভ-লালসা, হিংসা-ঈর্ষা, প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষমুক্ত হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিশ্ব মানবসমাজ ও সম্প্রদায়কে সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য মাহে রমজান এক নিয়ামক শক্তি। রোযার মধ্যে এমন একটি অপ্রতিরোধ্য আধ্যাত্মিক চেতনাশক্তি আছে, এমন এক বরকতময় ও কল্যাণকর উপাদান আছে, যা মানুষকে সব রকমের পাপাচার, অনাচার থেকে ঢালস্বরূপ রক্ষা করে, তেমনি তাকে পাপের কালিমামুক্ত এক পবিত্র, পরিশুদ্ধ খাঁটি মানুষ করে তোলে।
রমজান মাসে শুধু রোযাদারই নন বরং আল্লাহর সব সৃষ্টি তাঁর অশেষ রহমতলাভে ধন্য হয়। এ নিয়ামতপূর্ণ মোবারকময় মাসে আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিনের অপার রহমতের দরজাগুলো তাঁর নেক বান্দাদের জন্য খুলে দেয়া হয়। দরজা খোলার অর্থ হচ্ছে, রমজান মাসে আল্লাহর অসীম রহমত উম্মতের ওপর অবিরাম বৃষ্টির মতো বর্ষিত হতে থাকে। সৎকাজ ও নেক আমলগুলো আল্লাহতায়ালার দরবারে পেশ করা এবং দোয়া কবুল হয়।
মানবজীবনের সামগ্রিক কল্যাণ লাভের প্রত্যক্ষ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা রমজান মাসের সিয়ামের মধ্যে নিহিত রয়েছে। রোযার মৌলিক উদ্দেশ্যই হচ্ছে জীবনকে পবিত্র ও পরিশীলিত রাখা। আর একটি পবিত্র ও পরিশীলিত জীবন সর্বদাই সমাজ ও মানবতার জন্য নিবেদিত হয়ে থাকে। রোযাদার মাহে রমজানের মাসব্যাপী নফসের সঙ্গে রীতিমতো যুদ্ধ করেন, যার ফলে পরিশুদ্ধতার সৌকর্য-শোভায় তিনি সুশোভিত হওয়ার সুযোগ লাভ করেন। রোযা পালনের মধ্য দিয়ে মানুষ পরিশুদ্ধতার শীর্ষে পৌঁছাতে পারে।
রোযা পালনের সংক্ষিপ্ত নিয়ম
যাদের উপর রোযা ফরয ঃ
ক) মুসলিম নর-নারীর উপর রোযা ফরয।
খ) প্রাপ্ত বয়স্ক নর-নারীর উপর রোযা ফরয।
গ) সুস্থ মস্তিক সম্পন্ন নর-নারীর জন্য রোযা ফরয।
ঘ) মুকিম নর-নারীর উপর রোযা ফরয।
ঙ) সামর্থ্যবান নর-নারীর উপর রোযা ফরয।
চ) মাসিক বন্ধ এমন নারী।
যাদের উপর রোযা ফরয নয় ঃ
ক) অপ্রাপ্ত বয়স্কের উপর রোযা ফরয নয়।
খ) পাগলের উপর রোযা ফরয নয়।
গ) মুসাফিরের উপর রোযা ফরয নয়।
ঘ) সামর্থ্যহীন লোকের উপর রোযা ফরয নয়। (যেমন অতি বার্ধক্যের কারণে যে ভাল-মন্দের পার্থক্য করতে পারে না এমন ব্যক্তি। যে অসুস্থতার কারণে রোযা রাখতে সামর্থ নয় এমন ব্যক্তি। গর্ভবতী ও দুগ্ধদান কারী নারী নিজের ও সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা করলে রোযা ছাড়তে পারবে। পরে কাযা আদায় করে নিবে)।
যে সব কারনে রোযা ভঙ্গ হয় ঃ
ক) রোযার সময়ে ইচ্ছাকৃতভাবে খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা। (চাই তা স্বাস্খ্যের জন্য উপকারী হোক বা তিষ্ঠার জন্য।) যেমন ধুমপান,তামাক পান ইত্যাদি।
খ) রোযা অবস্খায় যৌন মিলন ঘটানো। (এতে কাযা ও কাফ্ফারা উভয়টি ওয়াজিব হবে।)
গ) জাগ্রত অবস্খায় চুম্বন, স্পর্শ, হস্তমৈথুন, আলিঙ্গন, সহবাস ইত্যাদির মাধ্যমে বীর্যপাত ঘটানো।
ঘ) পানাহারের বিকল্প হিসেবে রক্তগ্রহণ, স্যালাইনগ্রহণ, এমন ইনজেকশন নেয়া বা আহারের কাজ করে, যথা- গ্লুকোজ ইনজেকশন ইত্যাদি নেয়া। অনুরূপ রক্তরণ মিটানোর জন্য ইনজেকশনের মাধ্যমে রক্ত প্রদান করা।
ঙ) ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা। তবে অনিচ্ছাকৃত বমি করলে তাতে রোযা ভঙ্গ হবে না।
চ) মহিলাদের হায়েজ (ঋতুস্রাব) ও নিফাস (প্রসবজনিত রক্তক্ষরণ) হওয়া।
যে সব কারনে রোযা ভঙ্গ হয় না ঃ
ক) ভুলবশত পানাহার বা স্ত্রী সহবাস করা।(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কেউ যদি রোযা অবস্খায় ভুলবশত: পানাহার করে সে যেন তার রোযা পূর্ণ করে; কেননা আল্লাহই তাকে পানাহার করিয়েছেন।)
খ) শরীর বা কাপড়ে সুগন্ধি ব্যবহার করা। এমনকি নাকে মুখে ঘন্সাণযুক্ত তেল ব্যবহার করা। চোখে সুরমা ব্যবহার করা।
গ) রোযা অবস্খায় স্বপ্নদোষ হওয়া। এমনকি কারো প্রতি অসৎ দৃষ্টি নিক্ষেপের কারণে বীর্যপাত ঘটা। অনুরূপ কোন রোগের কারণে উত্তেজনা ব্যতীত বীর্যপাত ঘটা।
ঘ) স্বাভাবিক কোন কারণে যেমন কেটে যাওয়া, দাঁত উঠানো, নাকের রোগ ইত্যাদিতে রক্ত বের হলে রোযা ভাঙ্গবে না।
ঙ) স্বামী-স্ত্রী চুম্বন-আলিঙ্গন। তবে শর্ত হল - বীর্যপাত না ঘটা। (তবে যে ব্যক্তি চুম্বন-আলিঙ্গনের পর নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে না বলে আশংকা রয়েছে, তার জন্য এরূপ করা সঠিক হবে না।)
চ) অপবিত্র অবস্থায় সকাল করা। এমনকি তাতে সারাদিন গড়িয়ে গেলেও রোযা নষ্ট হবে না।
ছ) সাওম পালন অবস্থায় মিসওয়াক করা।
জ) খাবারের স্বাদ পরীক্ষা করার জন্য জিহ্বায় তার স্বাদ গ্রহণ করা। (তবে তা যেন পেটে চলে না যায়।)
ঝ) অসুস্থতার কারণে গ্যাস জাতীয় স্প্রে ব্যবহার করা। ডায়াবেটিস রোগীর ইনসুলিন ব্যবহার করা।
ঞ) পরীক্ষার জন্য রক্ত প্রদান করা।
ট) কুলি করার সময় অনিচ্ছাকৃত মুখে পানি ঢুকে যাওয়া।
ঠ) সূর্য ডুবে গেছে অথবা ফজর এখনো হয়নি ভেবে পানাহার করা।
ড) এমন ইনজেকশন নেয়া যা খাবারের সহায়ক নয়। যেমন পায়ুপথে ডুশ ব্যবহার করা অথবা রোগে ইনজেকশন নেয়া।
যেসব কারণে রমজান মাসে রোযা ভঙ্গ করা যেতে পারে, কিন্ত পরে কাজা আদায় করতে হবে ঃ
ক) মুসাফির অবস্থায়।
খ) রোগ বৃদ্ধির বেশি আশঙ্কা থাকলে।
গ) গর্ভের সন্তানের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলে।
ঘ) যদি এমন তৃষ্ণা বা ক্ষুধা হয়, যাতে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকতে পারে।
ঘ) শক্তিহীন বৃদ্ধ হলে।
ঙ) কোনো রোযাদারকে সাপে দংশন করলে।
চ) মেয়েদের হায়েজ-নেফাসকালীন রোযা ভঙ্গ করা যায়।
রোযা ভঙ্গের কাফফারা ঃ
শরিয়তে কঠোর নিষেধ থাকা সত্ত্বেও বিনা কারণে কেউ রোযা ভঙ্গ করলে তার উপর কাজা ও কাফফারা উভয়ই আদায় করা ওয়াজিব। যতটি রোযা ভঙ্গ হবে ততটি রোযা আদায় করতে হবে। কাজা রোযার ক্ষেত্রে একটির পরিবর্তে একটি।
কাফফারা আদায় করার তিনটি নিয়ম।
ক) এক একটি রোযা ভঙ্গের জন্য একাধারে ৬০টি রোযা রাখতে হবে। কাফফারা ধারাবাহিকভাবে ৬০টি রোযাই রাখতে হবে, মাঝে কোনো একটি রোযা ভঙ্গ হলে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে।
খ) যদি কারও জন্য ৬০টি রোযা পালন সম্ভব না হয়, তাহলে সে ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা খানা দেবে। অপরদিকে কারও অসুস্থতাজনিত কারণে রোযা রাখার ক্ষমতা না থাকলে ৬০ জন ফকির, মিসকিন, গরিব বা অসহায়কে প্রতিদিন দুই বেলা করে পেট ভরে খানা খাওয়াতে হবে।
গ) গোলাম বা দাসী আজাদ করে দিতে হবে।
===============================
শনিবার, ৭ জুলাই, ২০১২
সমবায় কি ও কেন ? (পর্ব-১)
সমবায় কি বা সমবায়ের পরিচয় ঃ
সমবায় শব্দের বাংলা আভিধানিক অর্থ - মিলন ,নিত্য সম্বন্ধ, একত্র হবার বুদ্ধি ও প্রয়াস, সমবেত বা যৌথ কর্মপ্রচেষ্ঠা। ইংরেজীতে যা CO-OPERATIVE নামে অভিহীত। সমবায় অর্থ হলো – আত্মসাহায্য ও পারস্পরিক সহযোগীতা।
ব্যাপক অর্থে সমবায় হচ্ছে – একাধিক লোকের শতস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ন্যায়-নীতির ভিত্তিতে গঠিত ও পরিচালিত একটা কর্মপ্রচেষ্ঠা। সমশ্রেনী বা সমপেশাভুক্ত সকলের সাবলম্বী হবার একটা উত্তম পন্থা ও মহৎ প্রেরণা। সর্বোপরী সমবায় হলো – একটা আন্দোলন।
প্রতিটি মানুষের একটা জন্মগত বৈশিষ্ঠ যে , সে সাংগঠনিক জীবন চায়। চায় একটা স্বীকৃতি। কিছু মানুষের সম্মিলিত সহাবস্থানে সৃষ্ঠ তেমনই একটি সাংগঠনিক জীবন ও স্বীকৃতির নাম সমবায়।
এক সমবায়ী বলেছিলেন – “Co-operative , this is a various business. It’s not a package program but it’s a long term practice – অর্থাৎ সমবায়, ইহা একটি বাস্তব ভিত্তিক ব্যবসা। ইহা গাঁটবাধা কোন কর্মসুচী নয়, কিন্তু ইহা একটা দীর্ঘায়িত অনুশীলন”।
Co-operation বা সহযোগীতা কথাটা থেকেই Co-operative বা সমবায় কথাটার জন্ম। সমবায় হলো – পরস্পরের সহযোগীতায় পরস্পরের অগ্রগতির পথে প্রতিবন্ধকতা দূর করার একটা উপায়।
সাম্য – ঐক্য – সততার সমন্বয়ে সৃষ্ট একটা জোটই হলো সমবায়। সমবায় একটি আচরণ বিজ্ঞান। একক প্রচেষ্ঠা যেখানে ব্যর্থ সেখানেই প্রয়োজন দলগত প্রচেষ্ঠা। সমন্বিত প্রচেষ্ঠায়ই আনতে পারে আশাতীত সাফল্য। একটা চিন্তা একজনে না করে বহুজনের মধ্যে যদি সেটা বিস্তার ঘটানো যায় তবে এর কাটামো থেকে চূড়ান্ত অবস্থাবধি আমুল পরিবর্তন সম্ভব। চূড়ান্ত অবস্থায় আমুল পরিবর্তন আনায়নে আশাতীত সাফল্য লাভের লক্ষ্যে সমন্বিত এক প্রচেষ্ঠার নামই সমবায়।
সমবায় মানে আত্মসাহায্য ও পারস্পরিক সহযোগীতা। সমবায় সংগঠন একটি আইনগত স্বতন্ত্র ও কৃত্রিম স্বত্তা। সমবায় সাংবিধানিক মালিকানার দ্বিতীয় সেক্টর। সমবায় একটা সুশৃন্খল ও গণতান্ত্রিক আর্থ-সামাজিক সংগঠন।
সমবায় একটি সামাজিক অর্থনৈতিক ও ঐতিহাসিক ঘটনা। সমবায় হলো সমাজতন্ত্রের জন্য একটা পরিপূর্ণ প্রস্তুতি। সমবায় হলো লক্ষ লক্ষ কৃষক সাধারণের কাছে ক্ষুদ্র খোদকস্থ জোত থেকে বৃহৎ যৌথ অর্থনীতিতে উত্তরণের সবচেয়ে সহজ-সরল আয়ত্বাধীন একটা পথ। সমবায় কৃষকদের এক একটা বাহিনী বা স্তরকে নয়, সমগ্র গরীব - মাঝারী জোতগুলোকে মেলাবার একটা পথ। কবি রবীন্দ্রনাথের ভাষায় – “ অনেক গৃহস্থ , অনেক মানুষ একজোট হইয়া জীবিকা নির্বাহ করিবার যে উপায়, তাহাকেই ইউরোপে আজকাল Co-operative প্রণালী আর বাংলায় সমবায় প্রণালী নাম দেওয়া হইয়াছে”।
সমবায় হলো পূঁজিবাদী সমাজের একমাত্র যন্ত্র – নতুন ক্ষমতা যাকে চূর্ণ করেনা , টিকিয়ে রাখে , ঢেলে সাজায় , বিকশিত ও সম্পূর্ণ করে, গণসংগঠন হিসাবে গণউদ্যোগকে প্রণোদিত করে, দেশকে খাদ্য জোগাতে সাহায্য করে, সাহায্য করে নতুন ক্ষমতাকে।
সমবায় হলো একটা আদর্শ, একটা দর্শন ও একটা অর্থনৈতিক কাজের পদ্ধতি। সমবায় হলো সাবলম্বিতা অর্জনের লক্ষ্যে একটা ঐক্যবদ্ধ কর্মপ্রয়াস। দশে মিলে সুনিদ্রিষ্ট নীতিমালা ও আদর্শের ভিত্তিতে কাজ করাই হচ্ছে সমবায়ের মূল দর্শন।
সমবায় সংগঠন হচ্ছে – সংগবদ্ধ অর্থনৈতিক কাজের একটি পরিশৃন্খল রূপ। জনসাধারণের আর্থসামজিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে একটি সুশৃন্খল মানবসংগঠন হচ্ছে সমবায়। সমবায় স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীর একটা সংগঠন। সমবায় একটি Concept বা ধারণা, একটা Movement বা অবস্থান পরিবর্তনের আন্দোলন।
মানুষকে কুসংস্কার থেকে মুক্ত করে অমুলক ধারণাক পাল্টে উন্নতর কিছু ধারণা , মতাদর্শ দান এবং সত্যিকার ও অর্থবহভাবে বেঁচে থাকার স্বার্থেই সমবায়। অনেক মানুষ একজোট হয়ে জীবিকা নির্বাহ করার যে উপায় , তাই উন্নত দেশের Co-operative বা সমবায় প্রণালী। যা আমাদের দেশকে দারিদ্রতা থেকে বাঁচাবার একমাত্র উপায়। তাই, দেশের দারিদ্রতা দূরীকরনের জন্যই সমবায়। একের নয় , সমষ্ঠগত উন্নয়নের জন্যই সমবায়। কতক নয় , বহু মানুষের কল্যানের জন্যই সমবায়। সমবায় উত্তরণের জন্য, স্বপ্নলোকের রাজ্য জয়ের জন্যই সমবায়। টেকসই করার লাগসই প্রযুক্তিই হচ্ছে সমবায়। সমবায় হচ্ছে – সমমনা মানুষদের একত্রিত চিন্তা ও সম্ভাবনাময় বহুমুখী কার্যক্রমের আত্মপ্রকাশ।
জীবন যাত্রাপথে স্বচ্ছতা আনায়নে কিছু উদ্যোগী মানুষ সমমনা হয়ে একই ঘরের সদস্য স্বরূপ একই ঘরে অবস্থানের মত সহাবস্থানের একটি জোট গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে সামান্য পূজি ধাপে ধাপেএকটা পাত্রে সঞ্চয়ের মাধ্যমে একে অপরকে সহযোগীতা দান এবং একে অপরের কল্যান চাওয়ার নামই হচ্ছে সমবায়।
সবশেষে , সমবায়ের পরিচয় দিতে গিয়ে বলতে হয় –
সমবায়
একক বলয়ে সময় কাটিয়ে
এনেছে জীবনে গ্লানী।
যেদিন থেকেই জেনেছে মানুষ
সামাজক জীব তারা,
সেদিন থেকেই মানুষ জাতি
মেনে নিল সমাজ গঠনের ধারা।
সমাজবদ্ধ হয়ে যখন মানুষ জাতি
করলো আত্মপ্রকাশ ,
চতুর্দিকেই দেখা দিলো
গৌরান্বিত সভ্যতার ক্রমবিকাশ!
একাত্বতার দিকবলয়ে
প্রবেশ করে মানুষ
দূর করে সেই একাকীত্বের গ্লানী ,
ফিরে পায় হুঁশ।
পৃথিবীতে যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে
মুলে ছিল তা একতায় নির্ভর -
একতা – এই একটি মাত্রই মত,
যুগে যুগে বিশ্ব নবরূপ নিয়েছে –
হয়েছ সবে স্বনির্ভর ;
মুলে ছিল তার – যুবদের খুনরাঙ্গা পথ।
পৃথিবীতে যা কিছু বৃহৎ সৃষ্টি –
মূলে ছিল তার ছোট্ট ছোট্ট বিষয় ,
দেখো ! ব্যাংকের ঐ বিশাল টাকার স্তুপ –
সেতো বহু মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়।
যুগে যুগে মানুষ হয়েছে একতা ,
সংগঠন করে দেখিয়েছে সমতা ;
প্রগতির ধারাকে রেখেছে বহতা ,
দেখিয়েছে মানুষ নিজেদের ক্ষমতা।
যুগে যুগে মানুষ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ,
পাল্টিয়েছে পৃথিবীর শোভা ;
বহু মানুষের ভিন্ন মত ঐক্য হেছে,
সমবায় গড়ে করেছে মানুষকে মনোলোভা।
**********************
সকলের জন্যই সকল মানুষ
অনন্তের পথে ধীরে ধীরে যাচ্ছে তাহা গন্তব্যে চলে ।
আপন আপন জীবন নিয়ে ব্যস্ত মানুষ পুরু জীবন ভরি ,
মানবতার মৃত্যু হচ্ছে আজ মানুষের ব্যস্ততার চাপে পড়ি !
সৃষ্টির সেরা মানবজাতির নহে নহে ইহা ধর্ম ,
মানুষতো এসেছে পৃথিবীতে দেখাতে মানবতার কর্ম ।
মানবজীবন নয়তো শুধুই আপনারে নিয়ে বিব্রত রহিতে ,
সকলের জন্যই সকল মানুষ লিখেছে মানবধর্ম বহিতে ।
=======================
সমবায়ের সংজ্ঞা ঃ
বিভিন্ন দার্শনিক , চিন্তাবিদদের দৃষ্টিতে সমবায় বিভিন্ন রূপে ধরা দিয়ছে । সমবায়ের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে কালবার্ট বলেন – “ কোন সংগঠনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত আত্মসাহায্যের নামই সমবায় ।
সি এফ ষ্ট্রিকল্যাণ্ড সমবায়ের সংজ্ঞা দেন এভাবে – “কতিপয় ব্যক্তির যৌথ উদ্যোগে বিশেষ একটি লক্ষ্যে উপণিত হবার উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি আন্দোলন, যা কারো একক প্রচেষ্ঠায় সাধন সম্ভব নয়, তাই সমবায়”।
স্যার এম এল ডালিং সমবায়ের সংজ্ঞা যেটি দেন , তা হলো – “ সমশ্রেণী বা পেশাভুক্ত কিছু লোক একে অন্যের সাহায্যে নিজেদের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নতির জন্য সংস্থা গঠন করে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তা পরিচালনা করা। সমবায় হচ্ছে একটি ধর্ম যা ব্যবসায়ে প্রয়োগ করা হয়।
সমবায়ের লক্ষ্য ঃ
সকলের সার্বিক মঙ্গল ও সুখী জীবনের নিশ্চয়তা বিধানই সমবায়ের লক্ষ্য।
সমবায়ের উদ্দেশ্য ঃ
মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের সমাজ থেকে বিতাড়ন করা , শোষকদের কাছ থেকে দরিদ্র ও স্বল্পভিত্বদের মুক্তি পেতে সাহায্য প্রদান করা, উন্নত সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, উন্নত কৃষি ব্যবস্থার ও ঋণের বোঝার মুক্তি দান করা, ন্যায্য মু্ল্য পাবার ব্যবস্থ করা ও ন্যায্য মুল্যে ভোগপণ্য বিক্রি করাই হলো সমবায়ের উদ্দেশ্য ।
সমবায়ের বৈশিষ্ঠ্য ঃ
একক প্রচেষ্ঠা যেখানে ব্যর্থ সমবায় সেখানে যে কোন জটিল ও বড় কাজ সম্পাদনে সক্ষম।পূঁজি গঠনে , নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্বের বিকাশ সাধনে সমবায় মানুষকে সংঘবদ্ধ করে সুশৃন্খল ও শক্তিশালী করে তোলে। ব্যবহারকারীর স্বার্থ সংরক্ষনের জন্য সমবায় উৎপাদনকারীকে তার উৎপাদনে সর্বাদিক প্রতিষ্ঠার সুযোগ প্রদান করে।
যেহেতু সমবায় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সদস্যগণ গণতান্ত্রিক উপায়ে তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন দ্রুত করতে পারে , সেহেতু সমবায় মানুষের অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠার প্রতিষ্ঠান বটে। যেহেতু সমবায় প্রচেষ্ঠায় মানুষ তাদের শক্তি সঞ্চয় করে পূঁজি গঠন করতে পারে এবং শ্রমজীবি মানুষেরা সমবায়ের মাধ্যমে বাঁচতে পারে, সেহেতু শ্রমজীবি মানুষের আত্মপ্রতিষ্ঠায় ও তাদের জীবন মান উন্নয়নের একটি প্রতিষ্ঠান।
সমবায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অব্যাহত সম্পদকে উৎপাদনমুখী সম্পদে রূপান্তর করা যায়। সমবায় দেশের ধন সম্পদ গুটিকতক মানুষের হাতে পুঞ্জীভুত হওয়া থেকে মুক্ত করে এবং সম্পদকে পরিব্যপ্ত করে। উন্নত ব্যবসা , উন্নত চাষাবাদ ও উন্নত জীবনযাত্রায় সমবায় একটি পরীক্ষিত উপায়।
সমবায়ের গুরুত্ব ঃ
সমবায় সাধারণ মানুষকে বিশেষকরে কৃষক ও শ্রমজীবি মানুষদেরকে একটি সংগঠনের অধীনে সংঘবদ্ধ করে। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এক গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পান করে, শেয়ার ও সঞ্চয় সংগ্রহ করে তাদের পূঁজি গঠনে সাহায্য করে। মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য এবং তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা আনায়নের জন্য সাহায্য হিসাবে উৎপাদন কাজে তাদের শ্রম ও পূঁজি বিনিয়োগের পথ সুগম করে। তাই সমবায়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম।
সমবায়ের প্রয়োজনীয়তা ঃ
দরিদ্র ও অশিক্ষিত লোকের ক্ষুদ্র শক্তিকে একত্রিত করে একটি অর্থবহ উৎপাদন সক্ষম দল প্রতিষ্ঠিত করার উপায় হচ্ছে সমবায়। অথচ এ ধরণের সংগঠনের অভাবে এদের শক্তিকে কাজে লাগানো যাচ্ছনা। এদের প্রত্যেকের আর্থিক সম্পদ এত কম যে একক প্রচেষ্টায় কোন আর্থিক উৎপাদন কর্ম পরিচালনা করা এদের পক্ষে সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন তাদের কর্মসংস্থানে সম্পদ সৃষ্টি ও উৎপাদনে এবংসম্পদের সুষম বন্টনে সমবায় দেশের অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে উৎপাদন ও বন্টন প্রক্রিয়ায় সমবায়ী তৎপরতা একটি অতীব প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বিধায় এদেশে তথা যে কোন দরিদ্র দেশে সমবায় একটি অতি উপযোগী ও প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান।
==============






