আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা

বাংলা ভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী

সকল মহান ভাষা শহীদগণের প্রতি,
এবং ভাষা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত

সকল ভাষা সৈনিক
ও বীর বাঙ্গালীদের জানাই অশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলী,
সেইসাথে সকলকে জানাই

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা।

বিষয় সূচী

সাহিত্য (60) অন্যান্য কবিতা (53) ভালোবাসার পদবিন্যাস ( প্রেম সম্পর্কিত রচনা বিশেষ ) (53) আমার লেখা প্রবন্ধ-নিবন্ধ (37) কবিতা (35) দেশ নিয়ে ভাবনা (33) ফিচার (33) বাংলাদেশ (29) সমসাময়িক (28) খন্ড কাব্য (26) হারানো প্রেম (22) সংবাদ (18) কাল্পনিক প্রেম (16) ইতিহাস (15) প্রতিবাদ (15) সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ (15) Online Money Making Links (14) দেশাত্মবোধক কবিতা (13) আমার জীবনের দিনপঞ্জী (12) ধর্ম (12) প্রেমের কবিতা (11) ব্যক্তিত্ব (11) রাজনীতি (11) ধর্মীয় আন্দোলন (10) প্রবাসের কবিতা (10) খন্ড গল্প (9) জীবন গঠন (9) বর্ণমালার রুবাঈ (9) ইসলাম (8) প্রগতি (8) মানুষ ও মানবতা (8) হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ (8) VIDEOS (7) আমার লেখালেখির অন্তরালে (7) ইসলামী জাগরণ (7) মানব মন (7) ট্র্যাজেডি (6) শোক সংবাদ (6) সম্প্রীতি (6) নারী স্বাধীনতা (5) প্রেমের গল্প (5) বিজয় দিবসের ভাবনা (5) মৃত্যুপথ যাত্রী (5) সংবাদ মাধ্যম (5) স্মৃতিকথা (5) ঈদ শুভেচ্ছা (4) প্রবাস তথ্য (4) রমজান (4) শুভেচ্ছা (4) Computer Programer (3) আমার ছবিগুলো (3) আমার রাইটিং নেটওয়ার্ক লিংক (3) পর্দা (3) ফটিকছড়ি (3) বাংলাদেশের সংবিধান (3) বিশ্ব ভালবসা দিবস (3) শিক্ষা (3) শিক্ষার্থী (3) স্লাইড শো (3) News (2) VERIETIES POEMS OF VERIOUS POETS (2) আষাঢ় মাসের কবিতা (2) আষাঢ়ের কবিতা (2) ইসলামী রেনেসাঁ (2) ছাত্র-ছাত্রী (2) থার্টি ফাস্ট নাইট (2) নারী কল্যান (2) নারী প্রগতি (2) নির্বাচন (2) বর্ষার কবিতা (2) মহাসমাবেশ (2) শবেবরাত (2) শরৎকাল (2) শাহনগর (2) শ্রদ্ধাঞ্জলী (2) সত্য ঘটনা (2) সত্য-মিথ্যার দ্বন্ধ (2) সফলতার পথে বাংলাদেশ (2) Bannersআমার ছবিগুলো (1) DXN (1) For Life Time Income (1) For Make Money (1) Knowledge (1) Student (1) অদ্ভুত সব স্বপ্নের মাঝে আমার নিদ্রাবাস (1) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (1) আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত(সুন্নী) (1) উপন্যাস (1) কবি কাজী নজরুল ইসলাম (1) কোরআন - হাদিসের কাহিনী (1) গল্প (1) চট্টগ্রাম (1) চিকিৎসা ও চিকিৎসক (1) জমজম (1) জাকাত (1) তরুন ও তারুণ্য (1) নারী জাগরণ (1) পরকিয়ার বিষফল (1) ফটিকছড়ি পৌরসভা (1) বন্ধুদিবস (1) বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেম (1) বিবেক ও বিবেকবান (1) বিশ্ব বাবা দিবস (1) বিশ্ব মা দিবস (1) ভ্রমণ (1) মন্তব্য (1) মাহফুজ খানের লেখালেখি (1) রবি এ্যাড (1) রমজানুল মোবারক (1) রেজাল্ট (1) রোগ-পথ্য (1) লংমার্চ (1) শহীদ দিবস (1) শুভ বাংলা নববর্ষ (1) শৈশবের দিনগুলো (1) সমবায় (1) সস্তার তিন অবস্থা (1) সাভার ট্র্যাজেডি (1) সিটি নির্বাচন (1) স্বপ্ন পথের পথিক (1) স্বাধীনতা (1) হ্যালো প্রধানমন্ত্রী (1) ২১ ফেব্রোয়ারী (1)

APNAKE SHAGOTOM

ZAKARIA SHAHNAGARIS WRITING

সকলকে বাংলা নতুন বছরের শুভেচ্ছা

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আমরা আর বাংলা ভাষায় কথা বলতে চাইনা । নিজের মাতৃভাষাকে যখন-তখন যেখানে সেখানে অবমাননা করে তৎপরিবর্তে ইংরেজী ভাষা ব্যবহার করতে অভ্যাস্থ হয়ে যাচ্ছি বা হয়ে গেছি ।
আরও একটু এগিয়ে গেলে বলতে হয় - আমরা আজ বাঙ্গালী হয়ে বাঙ্গালী জাতিসত্বা ভুলে গিয়ে ইংরেজী জাতিসত্বায় রক্তের ন্যায় মিশে গেছি !

অথচ একদিন আমরা বাঙ্গালী জাতি একতাবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রীয় ভাষা উর্দুকে ত্যাগ করে নিজেদের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা তথা বাংলা ভাষাকে সর্বত্র প্রচলন করতে প্রাণ দিতে বাধ্য হয়েছিলাম ! ফলে বিজাতীয় ভাষা উর্দূকে অপসারন করে নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলার স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলা ভাষাকে ধারন করেছিলাম । যখন আমরা বাংলার সর্বত্র বাংলা ভাষায় কথা বলা শুরু করেছিলাম ,তখন কিন্তু বিশ্বায়নের যুগটা অনুপস্থিত ছিল তা নয় , বিশ্বায়নের যুগটা তখনও ছিল বিধায় আমরা ইংরেজী শিক্ষায় তখনও বাধ্য ছিলাম । অর্থাৎ যে জন্যে আজ আমরা ইংরেজী শিখছি সেইজন্যে তখনও ইংরেজী শিক্ষার প্রচলন ছিল । ছিল ইংরেজী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাও । তাই বলে সে সময় বর্তমান সময়ের মত মাতৃভাষা বাংলাকে অবমাননা করা হয়নি । মানুষ সে সময় বাংলায়ই কথা বলেছিল । শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রেই সে সময় ইংরেজী ব্যাবহার করেছিল বাঙ্গালী জাতি

conduit-banners

Powered by Conduit

ফ্লাগ কাউন্টার

free counters

MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY

PLEASE CLICK ON MY BANNERS. VISIT MY AFFILIATE SITE "MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY ( অনলাইনে অর্থোপার্জনের একটা মাধ্যম )" I HOPE IT WILL BE HELPFUL FOR YOU. Create your own banner at mybannermaker.com!
পর্দা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পর্দা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

ভালবাসা দিবসের উপহার - ০২ , সমাজ সংস্কার : প্রেম বা ভালবাসা

<<<<< ০১ এর পর  >>>>> 

ভালবাসা দিবসের উপহার - ০২
সমাজ সংস্কার : প্রেম বা ভালবাসা
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------



পক্ষান্তরে , পুরুষের জন্য কর্মক্ষেত্র করা হয়েছে বাইরের জগত। তারা বাইরের উপযোগী। তাছাড়া, নারীদের দেহসৌষ্টব, নমনীয়তা, সৌন্দর্য, ঙ্গ-প্রতাঙ্গের কোমলতা প্রভৃতি পুরুষের কাছে লোভনীয়। অপরপক্ষে, পুরুষদের শক্তি, দেহাবয়ব ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠনভঙ্গী জন্ম থেকেই অপেক্ষাকৃত রুক্ষ – শক্ত ও কঠিন। এ পার্থক্যই নারীকে করেছে গৃহের আভ্যন্তরীন কাজকর্মের উপযোগী। আর পুরষকে করেছে বাহিরের কঠিন কাজ আঞ্জাম দিয়ে জীবিকা নির্বাহের উপযুক্ত।

অথচ, আজ নারীরা সমানাধিকারের লড়াইয়ে রাজপথে নেমে সকল কর্মক্ষেত্রে অবস্থান নিয়েছে। সমানাধিকার অর্জন করতে গিয়ে তারা দ্বিগুণ কর্মে নিজেদের জড়িয়ে ফেলছে, এতে নিজেরাই নিজেদের উপর জুলুমের খড়ক তুলছে। যা ইসলাম চায়নি। ইসলাম নারীদের সমানাধিকার দিয়েছে পুরুষ ও নারীর কর্মসমুহের সমবিভাজন দিয়ে। যতে নারীদের উপর কোন জুলুম না হয়। আর সেই জুলুমের স্বীকার হচ্ছে নারীরা তাদের ইচ্ছা মাফিক সমানাধিকার চাইতে গিয়েই। নিজেরাই সমানধিকারের নামে নিজেদের করে যাচ্ছে জুলুমের শিকলে বন্ধী ! যদি তারা আল্লাহ ও রাসুলের আইন বাদ দিয়ে সমানাধিকার চায়, তবে তাদের চাওয়া উচিত সন্তানের গর্ভধারণ–প্রসব-লালনের কর্মকেও সমানভাগে পুরুষদের কাছে বন্টন করা। নারীদের সমানাধিকার যারা চায় , তারা কি পারবে এই কাজটিকে সমভাগে বন্টন করতে ? তারা কি পারবে পুরুষদের দ্বারাও সন্তান গর্ভ ধারণ করিয়ে প্রসব করাতে ? যদি তারা তা না পারে, সমানাধিকার তারা কিভাবে বন্টন করবে ? তবে কি সমানাধিকারের ধ্বজাধারীরা আল্লাহ রাসূলের আইন বাদ দিয়ে নারীদের সমানাধিকারের নিশ্চয়তার বিধান রচনা করতে পারবে , বা নারীরা কি আদৌ তাদের চাহিদা মোতাবেক সমানাধিকার অর্জন করতে পারছে ? যদি পুরুষরাও সন্তান গর্ভে ধারণ ও প্রসব করতে পারত , তবেই তো হতো , নারীদের প্রকৃত সমানাধিকার অর্জন। তাই বলতে হয়, নারীদের সমানাধিকার চাইতে গিয়ে তারা পুরুষদের চেয়েও অধিক কর্মে নারীদের জড়িত করে তাদের উপর জুলুমের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে নারীর সমানাধিকারে আগ্রহীরা। আর নারীদের উপর এ অন্যায় - অবিচার ও অত্যাচারের খড়ক তুলতে সহয়তা করেছে-করছে বেশ কিছু স্বার্থপর – নারী মাংসলোভী পুরূষরূপী পিশাচ। যারা নারীদের ঘরের বের করে প্রতিনিয়ত তাদের সুবিধা ভোগ করে চলেছে। আর নারীরা হচ্ছে তাদের শিকার।
ফলশ্রুতিতে, অধুনা জগতের সর্বনাশী অবৈধ প্রেমের বন্যায় সয়লাব হয়ে গেছে সর্বত্র, সকল স্তরে। বেহায়াপনার প্রদর্শনী চলছে আমাদের সমগ্র দেশব্যাপী। শালীনতার মোহনীয় রূপ নির্লজ্জ প্রেমবাজারের উম্মুক্ত অন্ধকার গলিতে বিক্রি হয়ে গেছে। চতুর্দিকে চলছে বেলাল্লপনার উম্মুক্ত প্রদর্শনী, যে প্রদর্শনীর দর্শনার্থী সমগ্র বিশ্বের মানুষ। এই অবৈধ প্রেমবাজারের ধ্বংসাত্মক ছোঁয়ায় ধ্বংসের পাদপীঠে দন্ডায়মান আজ ব্যক্ত – সমাজ – রাস্ট্র।
নারীদের কোমল, লোভনীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দর্শন করতে করতে পুরুষদের চোখে সৃষ্টি হয়ে গেছে কামুকতার দৃষ্টিফাঁদ। তাই, নারীরা তুলতুলে শরীর নিয়ে যখনই মুক্তভাবে মাঠে নামছে, তখনই তারা পুরুষদের সেই কামুকতার দৃষ্টিফাঁদে আটকে যাচ্ছে। ফলে, যত্রতত্র নারীদের কোমলাঙ্গ পুরুষদের রুক্ষ-শক্ত-কঠিন অঙ্গের চাপে পিষ্ঠ হচ্ছে। চারদিকে চলছে নারীদেহের উপর পুরুষদের ষ্টিমরোলার। নারীদেহের সৌন্দর্য র্শনের পরিবর্তে তাদের দেহের উপর নেমে আসছে গণধর্ষণের মতো অনাকাঙ্খিত ঘটনা। অবৈধ প্রেম করতে গিয়ে ধরা খাচ্ছে নারীরাপুরুষ্দের দুই হাতের মুঠোয়।
তাই বর্তমান আধুনীক হালফ্যাশানের প্রেমের মাধ্যমে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অশান্তির দাবানল না ছড়িয়ে প্রকৃত প্রেম-ভালোবাসার শান্তিময় রাজ্য গড়ে তুলুন। তাতেই সমাজের প্রতিটি স্তরে প্রশান্তির পরশ পাথর অর্জিত হবে।
সর্বস্তরের নারী-পুরুষের কাছে আকুল আর্তি, প্রেম – ভালবাসা – বন্ধুত্ব করতে হলে আল্লাহর সাথে করুন, ভালবাসুন আল্লাহ ও রাসূল(সাঃ) এর আদেশ নিষেধকে। নিয়ম ও যথাযোগ্যানুষারে প্রেম করুন – মাতা-পিতার সহিত, স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সহিত, সন্তান-সন্ততির সহিত, আপন ভাই-বোনের সহিত, রক্ত সম্পর্কীয় বন্ধনের সহিত, আপন আত্মীয়-স্বজনের সহিত, পাড়া-প্রতিবেশীর সহিত, অন্যান্য আত্মীয়ের সহিত, দ্বীন রক্ষার্থে মুসলমান ভাই-বোনদের সহিত, উস্তাদ-সাগরেদ একে অপরের সহিত, পীর-মুরীদ একে অপরের সহিত, আল্লাহর সৃষ্টি সকল মানুষ – প্রাণী – বস্তুর সহিত।
এছাড়া অন্য কোন অবৈধ প্রেম – ভালবাসা – বন্ধুত্ব করে নিজের, সমাজের, দেশের ধ্বংসের জন্য জোগান গ্রহণ করবেননা। যে সব কিশোর-কিশোরী, তরুন-তরুনী, যুবক-যুবতী এবং সর্বস্তরের নারী-পুরুষ অবৈধ প্রেমে জড়িয়ে আছেন, প্রেম নামের সর্বনাশা হোলি খেলায় মত্ত্ব , তাদের কাছে সবিনয় অনুরোধ, আপনারা ফিরে আসুন সঠিক পথে। দেশ আজ আপনাদের উজ্জল ভবিষ্যতের পথের দিকে চেয়ে আছে, প্রেম নামক সর্বনাশা মরণফাঁদ থেকে ফিরে বৈধ প্রেমের রাজত্ব গড়ে তুলুন। বিয়ে করুন। তারপর স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে নিয়ে যত ইচ্ছা প্রেম করুন, ভালবাসুন, বন্ধুতব করুন। কারন, আল্লাহ পাক বলেন – “ আল্লাহর কুদরতের অন্যত নিদর্শন এইযে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করেছেন। তোমরা যেন তাদের নিকট থেকে প্রশান্তি লাভ করতে পার। আর তোমাদের মধ্যে প্রেম-ভালবাসা-মায়া-মমতা সৃষটি করেছেন। নিশ্চয় এতে আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন রয়েছে চিন্তাশীল লোকদের জন্য’’। রাসূল (সাঃ) বলেন – “স্বামী ও স্ত্রী যখন পরষ্পরের দিকে ভালবাসার দৃষ্টিতে তাকায়, তখন আল্লাহ পাক তাদের দিকে অনুগ্রহের দৃষ্টিতে তাকান। তারপর স্বামী যখন তার স্ত্রীর হাত ধারণ করে, তখন তাদের আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে গুনাহগুলো ঝরে যেতে থাকে”।
তাই, স্বামী-স্ত্রীর প্রেমই নর-নারীর মধ্যকার দৈহিক মিলনের সার্বজনীন স্বীকৃত ও বৈধ পন্থার প্রকৃত প্রেম, যা আল্লাহর সাথে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপনের একটি সোপান বিশেষ। আর মুসলমানদের আদর্শই হচ্ছে বিবাহের পরই নর-নারী একে অপরের সহিত প্রেম করা, ভালবাসা, বন্ধুত্ব করা। কারণ, স্বামীর একটু আলতু স্পর্শ, স্ত্রীর একটু স্বলাজ ভঙ্গি, একটুকরো মিষ্টি হাসি, দু’জনার এক পলকের দৃষ্টিতে দু’জনার মাঝে যে প্রেম-ভালবাসার জন্ম দেয়, তা উভয়ের মাঝেই পরিপূর্ণতা নিয়ে আসে। এ প্রেম সমাজে শান্তির জন্ম দেয়।
পক্ষান্তরে, অবিবাহিতা নারী ও অবিবাহিত পুরুষের প্রেমের মাঝে তৃতীয় ব্যক্তি হিসাবে শয়তান এসে উপস্থিত হয়। সে তাদের মাঝে কুমন্ত্রণা দিয়ে শেষ পর্যন্ত দৈহিক ম্পর্কের ইন্ধন জোগায়। এ প্রসঙ্গে রাসূল(সাঃ) বলেন-“কোন পুরুষ যখন কোন নারীর সাথে একান্তে থাকে, তখন তাদের মাঝে তৃতীয় জন হিসেবে উপস্থিত হয় শয়তান। সে উভয়ের ভাবাবেগকে উৎসাহিত করে এবং উভয়ের মনে খারাপ ও কুমন্ত্রণা দিতে থাকে”। ফলশ্রুতিতে উক্ত দু’জনের মনে জাগে একে অপরকে পুরোপুরি সমর্পন করারা সর্বনাশা ইচ্ছা। এর ফলে ঘটে যায় উভয়ের দেহের মিলন। ঐ মিলন সমাজে পরিচিতি পায় “জেনা”হিসাবে। সমাজবিরোধী ও অবৈবধ মিলনের ফল স্বরূপ নারী দেহের অভ্যন্তরে জন্ম নেয় আরেক মানবজীবন। প্রকাশ হয়ে পড়ে সমাজে ঐ নারীর কুকীর্তির কথা। সমাজ বিচারের ব্যবস্থা করে। উভয়ের জন্য শাস্তি নির্ধারিত হয়। সামাজিক নিয়মানুষারে শাস্তি নির্ধারিত হলে সর্বোচ্ছ শাস্তি হয়, সমাজ বিচ্যুতের মাধ্যমে। আর আল্লাহর নিয়মে শাস্তি দিতে হলে, আল্লাহ পাক বলেন- “জিনাকারিনী নারী ও জিনাকারী নর বা পুরুষ (যদি অবিবাহিত হয় উভয়কে) একশত করে বেত্রাঘাত করো”। আর রাসূল (সাঃ) বলেন- “তাদের প্রাণদন্ড দাও, প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদন্ড দাও”।
সমাজের অবৈধ না হলে এ প্রেম স্বীকৃতি পেত সমাজে। অথচ তা স্বীকৃতি পেল অবৈধ রূপে। তাই, বিবাহপূর্ব প্রেম অবৈধ, অগ্রাহ্য। ইসলামী দৃষ্টিতে যে প্রেম-ভালবাসা , তাতে রয়েছে মানব সমাজের জন্য কল্যানকর ও নিরাপদ জীবনের গ্যারান্টি। তাই, ইসলাম বিয়ের পর প্রেম-ভালবাসায় জড়িত হতে বলে। সমাজ বিয়ের পরের প্রেমকে নির্দ্বিধায় স্বীকৃতি দেয় বলেই সমাজ নিজ উদ্যোক্তায় ঐ প্রেম শুরু করার জন্য দু’টি নর-নারীকে একই বন্ধনে একই ঘরে সমাজের অভ্যান্তরে অবস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বৈধতার সনদ প্রদান করে সমাজ বিয়ে নামের একটি জৌলুসপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে। উক্ত নর-নারী সমাজে অবস্থানের মাধ্যমে প্রেমের ভুবন গড়ে তোলে। তাই, বিয়ের পরের প্রেমই বৈধ। আর এ প্রেমই প্রকৃত প্রেম। আর এ প্রেমের পরিসমাপ্তি স্বরগের উদ্যানে। এ প্রেমেরই উদাহরণ দিতে গিয়ে কবি বলেন- “স্বর্গ থেকে আসে প্রেম, আবার স্বর্গে যায় চলে”।
তাই সকল বয়সী নর-নারীদের প্রতি অনুরোধ, শালীনতা রক্ষা করে চলুন। কারণ, লজ্জা ঈমানের অঙ্গ বিশেষ। লজ্জাহীনতাই দেশ ও জাতিকে বেহায়াপনার দিকে ঠেলে দেয়। যদি আজ আমাদের মাঝে লজ্জা নামের অংশ বিশেষও থাকত, তবে আমরা প্রেম নামক মুক্তবাজ প্রেমখেলা খেলতামনা। রাস্তায়, ড্রেনে, ডাস্টবিনে, সাগরের জলে নিষ্পাপ মানবশিশুকে ভাসিয়ে দিতামনা। সমাজের ভয়ে, মুখে চুনকালী লাগার লজ্জাতে, পথে-ঘাটের কুকুর হবার ভয়ে জলজ্যান্ত আদম সন্তানকে গলা টিপে হত্যা করতামনা, করতামনা জ্যান্ত কবরস্থ।
আজ বিশ্ব দেখছে আমাদের বেহায়াপনা, আমাদের এই অশালীনতার নোংরা রূপ। দেশ ও জাতির নিকৃষ্টতম কর্মের এই পরিণতি নিউজ পেপারের হেডলাইন হয়ে বিশ্বের আনাচে কানাচে কখনো পৌঁছতনা। সর্বনাশা প্রেমের ফাঁদে পা দিয়ে দেশ ও জাতিকে বেহায়াপনার দিকে ঠেলে না দিয়ে মনের আবেগকে সমাজ ও ঘরের চারদেয়ালে আঁটকে রাখুন। সর্বনাশা কীট প্রেমের ফাঁদে পা দিবেননা। 143 (I LOVE YOU) এর মত সস্তা ও অবৈধ ভালবাসা করবেননা। সুন্দর জীবনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিবেননা। মানুষের মত মানুষ হয়ে বাঁচতে শিখুন। সমাজের ফুল হয়ে প্রস্ফুটিত হোন। আল্লাহর দেয়া বিবেককে কাজে লাগান। দেখবেন, কঠিনতর সবকিছুই সহজ।

ইসলামী অনুশাসন মেনে চলুন। বাস্তবতার আলোকে জীবন পরিচালনা করুন। ইসলামী সভ্যতাই সকল সভ্যতার রাজা। তাই ইসলামী অনুশাসন মেনে চলে সভ্য হোন। সময়ের সদ্ব্যবহার করুন। ধর্ষণ নয় দর্শনের ভিত্তিতে ক্ষণিক জীবনের সময়গুলো কাজে লাগান। ইসলামী আদর্শে জীবন গড়তে চেষ্ঠা করুন। কয়েকটি ইসলামী উপদেশ জীবন চলার পথে সম্বল করুন। যথা –

চলতি পথে চোখের দৃষ্টি নত রাখুন।

নারী বা পুরুষ একে অন্যকে দেখার সাথে সাথেই চোখ অন্যদিকে ফিরিয়ে নিন।

রাস্তার ডানদিকে চলুন।

মুসলমান তথা আল্লাহর সৃষ্টিজগতের হক আদায় করুন।

রাস্তা থেকে মানুষের কষ্টদায়ক বস্তু উঠিয়ে নিন।

পুরুষগণ স্ত্রী ছাড়া অন্যান্য নারীদের মা ও বোন হিসাবে ভাবতে শিখুন।

নারীগণ স্বামী ছাড়া অন্য সকল পুরুষকে বাপ বা ভাই হিসাবে ভাবতে শিখুন।

আল্লাহ ও রাসূলে(সাঃ)র আদেশ নিষেধ মেনে চলুন।

কারো ঘরে যেতে ইসলাম মনোনীত তিন সময় মেনে চলুন অর্থাৎ ফজর নামাজের পূর্বে,দুপুরের বিশ্রাম গ্রহণের সময় এবং এশার নামাজের পরে এই তিন সময়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। উক্ত তিন সময়ে যেতে হলে আগে অনুমতি নিয়ে নিন।

কারো ঘরে প্রবেশ করতে সালাম দিন, তারপর প্রবেশের অনুমতি নিন।

কারো ঘরে প্রবেশ করে কোন নারীর সাথে কথা বলতে হলে দৃষ্টি নত রেখে পর্দা রক্ষা করে কথা বলুন।

সকল অন্যায় কর্ম ও পথ পরিহার করুন।

সালামের জবাব দিন।

সৎকাজের আদেশ দিন, সৎকাজ করুন এবং অসৎ কাজে বাধা দিন, অসৎ কাজ করা থেকে বিরত থাকুন।

নারীদের ব্যাপারে আল্লাহ পাক বলেন – “তোমরা তোমাদের ঘরে থাক এবং বাহিরে খোলামেলা হয়ে বের হয়োনা”।
পুরুষদের ব্যাপারে আল্লাহ পাক বলেন – “তোমরা যখন তাদের (নারীদের) নিকট কিছু চাইবে, তখন পর্দার আড়াল থেকে চাইবে”।
নারী-পুরুষ উভয়ের প্রত আল্লাহ পাক বলেন- “নিঃসন্দেহে ইসলামের বিধিবিধান পালনকারী পুরুষ ও নারী, ঈমান্দার পুরুষ ও নারী, আনুগত্যকারী পুরুষ ও নারী, সভ্য পরায়ন পুরুষ ও নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও নারী, বিনীত পুরুষ ও নারী, দানশীল পুরুষ ও নারী, রোজা পালনকারী পুরুষ ও নারী, যৌনাঙ্গ হেফাজতকারী পুরুষ ও নারী, আল্লাহর অধিক জিকিরকারী পুরুষ ও নারীদের জন্য রয়েছে – আল্লাহর ক্ষমা, মাগফিরাত ও উত্তম পুরস্কার।
(খ) পিতা, মাতা ও অভিভাবকগণের প্রতি

পিতা, মাতা ও অভিভাবকগণের প্রতি অনুরোধ, নিজ নিজ সন্তানদের আদর্শবান করে গড়ে তুলুন, তার জন্য ইসলামী শিক্ষার সাহায্য নিন। তাদের দিকে অতন্দ্র প্রহরীর মত তীক্ষ্ন দৃষ্টি রাখুন, যাতে তারা খরাপের পথে পা না বাড়ায়, খারাপের সাথে মিশতে না পারে। একমাত্র ইসলামী শিক্ষাই সন্তানকে আদর্শবান করে গড়ে তুলতে পারে। তাই ইসলামী শিক্ষা দিয়ে তাদের রক্ষা করুন।
আল্লাহ পাক পিতা-মাতার উদ্দেশ্য বলেন- “হে মুসলীমগণ ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার পরিজনকেজাহান্নামের অগ্নি থেকে রক্ষা কর”। প্রয়োজনে তাদেরকে হুঁশিয়ারী সংকেত দিন। হাদীসে আছে – “ঘরের এমন স্থানে একটা বেত টাঙ্গিয়ে রাখ, যাতে সবার নজরে পড়ে, প্রয়োজনে শাসনও করবে”।

সন্তানদের আদর্শবান করে গড়ে তোলার ব্যাপারে রাসূল(সাঃ) বলেন – “কোন পিতা-মাতা সন্তানকে উত্তম আদব-কায়দা শিক্ষাদান অপেক্ষা ভাল কোন দান দিতে পারেনা”।অভিভাবকগণের উদ্দেশ্যে আল্লাহ পাক বলেন – “হে পুরুষগণ ! তোমরা তাদের (নারীদের) কে তাদের ঘর-বাড়ী থেকে বের করে দিওনা। আর তারাও যেন বের না হয়। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে আল্লাহর সীমা লঙ্গন করবে সে নিজের জানের উপর জুলুমকারী সাব্যস্থ হবে”। শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে রাসূল (সাঃ) বলেন – “তোমার দ্বারা যদি আল্লাহ একজন মানুষকে হেদায়েত দেন, তা তোমার জন্য লাল উষ্ট্রী অপক্ষা উত্তম সম্পদ”।
(গ) সরকারের প্রতি

দেশের সরকারের প্রতি অনুরোধ, দেশের সকল বিদ্যাপীঠ থেকে (নারী-পুরুষের সহাবস্থানের) সহ শিক্ষার প্রচলন বাতিল করুন। জিনার বিকল্প পথ স্বরূপ সহশিক্ষার প্রচলনই দেশ ও জাতিকে বেহায়াপনার দিকে ঠেলে দিবার মুল চাবিকাঠি। যদি তা নাই হতো, তবে দেশের সর্বোচ্ছ বিদ্যাপীট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মুখে সুবহে সাদিকের পর শুভ প্রভাতে কাপড় প্যাঁচানো আদম শিশুর লাশ পড়ে থাকতোনা। রমনার লেকের পানিতে সদ্যজাত শিশুর মরা লাশ ভাসতোনা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পঁচা গলিত মানব শিশুর হাঁড় মিলতোনা। জাহাঙ্গীর নগর ভার্সিটিতে ধর্ষনের সেঞ্চুরী ঘটতোনা।
তাই, সকল প্রকার বিদ্যাপীঠ থেকে সহশিক্ষার প্রচলণ উঠিয়ে নিন। রোকেয়া হল, শামসুন্নাহার হল, ইডেন হল সহ সকল ছাত্রী হোষ্টেল ধ্বংস করুন। নারী শিক্ষার প্রয়োজনে আলাদা বিদ্যাপীঠ স্থাপন করুন। তারা যাতে ঘর থেকে আসা-যাওয়া করে পড়া-লেখা করতে পারে সে ব্যবস্থা নিন। যদি তা না করা হয়, দেশব্যাপী অহরহ ধরষণের সেঞ্চুরী ঘটতে থাকবে। সমগ্র দেশ মানুষ পঁচা গন্ধে ছেঁয়ে যাবে। দেশের পরিবেশ নষ্ট হবে। মৃত্যু না আসলেও আত্মহত্যার ইচ্ছা জাগবে।
তাই, ইসলামী নীতিমালায় দেশ পরিচালনা করুন, দেখবেন সকল অঘটন-ঘটনা শুনা থেকে মুক্তি পাবেন। দেশ শান্ত হবে। সমাজের অশান্তির দাবানল আস্তে আস্তে নিভতে থাকবে। চারদিকে ফত্ ফত্ করে উড়তে থাকবে মহাজোট সরকারের বিজয় কেতন।
তথ্যসুত্র :

ক) আদর্শ নারী , অক্টোবর-২০০১, মার্চ- ২০০২, এপ্রিল-২০০২ সংখ্যা।
খ) ইনকিলাব উপহার, ২২শে মার্চ – ২০০২,
গ) ইসলামী জীবন পদ্ধতি, আল্লামা শায়খ জামিল জাইনু।
বিঃ দ্রঃ এ লেখাটি সম্ভবতঃ ২০০২ সালে আদর্শ নারীতে পাঠানো হয়েছিল, তবে প্রকাশ হয়েছিল কিনা জানিনা। লেখাটি ঈষৎ সংশোধন করে এখানে প্রকাশ করা হল।
==============

ভালবাসা দিবসের উপহার - ০১ , সমাজ সংস্কার : প্রেম বা ভালবাসা



ভালবাসা দিবসের উপহার - ০১
সমাজ সংস্কার : প্রেম বা ভালবাসা
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------



ভুমিকা :
সৎকাজের আদেশ দান এবং অসৎকাজে বাধা দান – এ দু’টি মূল স্তম্ভের উপরই সমাজ সংস্কারের মূলভিত্তি প্রতিষ্ঠিত। এ দু’টি মূল স্তম্ভের আলোকে আলোচনা বা সৎকাজের প্রতি মানব সমাজের আগ্রহ সৃষ্টি, প্রেরণা দান, উৎসাহ জোগানো এবং অসৎ কাজর প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি, অসৎ কাজ থেকে লোকসমাজকে ফিরিয়ে রাখার স্বার্থে বিবিধ উদাহরণ ও বাস্ত ধারণা দিয়ে আদেশ - উপদেশ – পরামর্শ দানের মাধ্যমে জনসমাজকে অন্ধকার থেকে আলোকের পথে টেনে আনার কর্মই হলো কলমধারীদের “সমাজ সংস্কার’’।
সমাজের এক একটি নষ্ট দিক নিয়ে আলোচনা করে সমাজের সব নষ্ট পথের গলি সংস্কার করনের জেহাদে কলমধারী যুদ্ধা তথা মুজাহিদগণের অবতীর্ণ হবার মধ্য দিয়ে যে সাহিত্যকর্ম সৃষ্টি হয়, তাই-ই পরিণত হয় কলমধারীদের সমাজ সংস্কারের এক একটা পদক্ষেপ হিসাবে। 
সমাজ সংস্কারমূলক লেখায় সকল কলম সৈনিক, বাতিলের বিরুদ্ধে সোচ্ছারিত মুজাহিদ এমনভাবে তাঁদের আলোচনা উপস্থাপন করতে স্বচেষ্ঠ থাকবেন, যাতে জনসমাজ আলোচিত বিষয়ের সঠিক দিক সহজেই অনুধবন করতে পারে। সঠিক দিক অবলম্বনে উৎসাহ পায়। যেন বুঝতে পারে আলোচিত বিষয়ের সমুহ লাভ-ক্ষতির বিষয়ে। অপরপক্ষে, লোক সমাজ ক্ষতির দিক অনুধাবনের মাধ্যমে সেদিক থেকে যেন সহজেই নিরুৎসাহিত হতে বাধ্য হয়।
এক্ষেত্রে প্রতিটি বিষয়ে আলোচনার সর্বাঙ্গ জুড়ে যদি বাস্তব প্রমাণ দাঁড় করানো যায়, তবে ফলাফল নব্বই শতাংশে এসে দাঁড়াবে বলে মনে করি। কারণ, একজন ছাত্র থিউরিক্যাল ক্লাস করে যতটা উপকৃত হয়, তার চেয়ে বেশী উপকৃত হয় প্রাক্টিক্যাল ক্লাস করে। অর্থাৎ, মানুষ অবাস্তব বা অদেখা বিষয়ের উপর যতটা জ্ঞানার্জন করতে পার, তার চেয়ে বেশী জ্ঞানার্জন করতে পারে বাস্তব বা চোখে দেখা বিষয়ের উপর।
যেহেতু, মনের চোখে দেখার চেয়ে চরর্মচক্ষে দেখাতেই ইস্পিত বিষয়ে বেশী আকর্ষণ করে, সেহেতু মানুষ অবাস্তব ধারণার চেয়ে বাস্তব ধারণাতেই বেশী আকর্ষিত হতে বাধ্য। যেমন – বর্তমান যুগের সবচেয়ে বেশী আকর্ষিত গণমাধ্যম হল ইন্টারনেট। যার সৌন্দর্য – উৎকৃষ্টতম – নিকৃষ্টতম দিক সম্পর্কে পরো বিশ্বের মানুষই কমেশী অবগত। অথচ, যরা এ ইন্টারনেট দেখেছে, ইন্টারনেটের ভিতরে যারাই প্রবেশ করেছে তারা সেদিক থেকে আর কোনদিকে ফিরছেনা। দুনিয়া চলে যাক চোখ তাদের ইন্টারনেটে। আর যারা এ ইন্টারনেট জগতকে এখনো দেখেনি তারা বলছে – ইন্টারনেট নিয়ে যারা বসে রয়েছে তারা এক একটা বদ্ধ পাগল ! কোন মানুষ এভাবে না খেয়ে না পরে কি রাত দিন ইন্টারনেট নিয়ে বসে থাকতে পারে ?
এই হলো বাস্তব ও অবাস্তব ধারণা। যারা ইন্টারনেট সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পেয়েছে, তারা রাত-দিন ইন্টারনেট নিয়ে বসে আছে, আরা যারা বাস্তব ধারণা পায়নি তারা বাস্তব ধারণারণার অধিকারীদের বলছে পাগল। আর তেমনই হলো , আমাদের বর্তমান সমাজের অবস্থা। মানুষ বর্তমানে নষ্ট দিকগুলোর বাস্তব ধারণা বেশী পেয়েছে বলেই পড়ে আছে তারা সেইসব নষ্ট পথের গলিতে। এখন তাদেরকে সেইসব নষ্ট পথের গলি থেকে ফেরাতে হলে প্রয়োজন উৎকৃষ্ট পথের দিশা স্বরূপ এক একটা ইন্টারনেট ওয়েব সাইট। যেগুলোতে দেখতে পাবে মানুষ মনোরম সকল দৃশ্য। জানতে পারবে মানুষ যে সাইটগুলো থেকে নতুন এক শান্তির জগতকে।
তাই, বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিতে সমাজকে সংস্কার করতে প্রতিদিন কলমযোদ্ধাদের অত্যাধুনীক গণমাধ্যমের দৃশ্যপঠে হাজির হতে হবে ইন্টারনেটের নোংরা সাইটগুলোর মত শক্তিশালী ও জনপ্রিয়তার লক্ষ্যে এক একটি সমাজ সংস্কার মূলক ওয়েবসাইট নিয়ে।

বর্তমান সমাজের নোংরা গলিতে সেইরূপ কতইনা নিত্য নতুন ওয়েব সাইটের ঠিকানা। প্রদর্শিত হচ্ছে যাতে বিবিধ নোংরা প্রদর্শনী। অথচ, এসব নোংরা সাইটের বিরুদ্ধে সমাজ সংস্কারমুলক তেমন সাইট পরিলক্ষিত হচ্ছেনা। ফলে ইন্টারনেট বিশ্ব হয়ে পড়ছে সভ্যতা বিধ্বংসী কর্ম নির্ভর এক বিশ্ব ফ্ল্যাটফরম রূপে। আর এই সভ্যতা বিধ্বংসী বিশ্ব ফ্ল্যাটফরমকে সভ্য রূপে রূপায়ীত করতে প্রয়োজন কলমধারীদের সভ্য সব লেখা দিয়ে ভরিয়ে দেবার। আলোচ্য “সমাজ সংস্কার’’ হোক তেমনই একটা উদ্যাগ। সমাজের নোংরা গলিতে বিচরণকারীদের জন্য “সমাজ সংস্কার’’ হোক কম্পিউটারের মণিটর সদৃশ। যাতে চোখ দিলে লোক সমাজ দেখতে পাবে নতুন নতুন এক একটি ওয়েব সাইট থেকে নতুন নতুন এক একটি সভ্য জগত।
আশাকরি প্রত্যেক কলম সৈনিক তাঁদের সমাজ সংস্করমূলক লেখায় সমাজের এক একটি নষ্ট দিক সম্পর্কে বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাতে স্বচেষ্ট থাকবেন। সেই সাথে সমাজ সংস্কার মূলক বিভিন্ন সাইট খুলে সেগুলোর মাধ্যমে সমাজ সংস্কার মূলক বিভিন্ন তথ্য দিয়ে ইন্টারনেটকে একটি বিশ্ব সভ্যতার বিশ্ব ফ্ল্যাটফরম হিসেবে রূপ দিতে সকলেই এগিয়ে আসবেন।
এ অধম সমাজ সংস্কার ও আত্মসংস্কারের অভিপ্রায় নিয়ে “সমাজ সংস্কার” মূলক এ লেখাটি সকলের সম্মুখে উপস্থাপন করলাম। নাকের ডগায় প্রদর্শিত সভ্য সমাজে আক্রান্ত একটা বিষব্যধি , নষ্ট সভ্যতার একটা নোংরা আয়োজন, বিশ্বকে কলুষিত ও কলঙ্কিত করার একটা বিশেষ দিন “বিশ্ব ভালোবাসা দিবস” আয়োজনের প্রতিবাদে উপস্থাপিত “সমাজ সংস্কার” মূলক আমার আজকের লেখার বিষয় হলো – “প্রেম বা ভালোবাসা”।
(ক) যা বলতে চাই
সাধারণভাবে বলতে গেলে, প্রেম বা ভালোবাসা হলো – মানবহৃদয়ের একটা টান বা আকর্ষনীয় দিক। একে অপরের প্রতি অনুরক্ত হওয়া। ভালোভাবে যুগোপযোগী ভাবনার আলোকে বুঝাতে গেলে, প্রেম বা ভালোবাসা হলো – দু’টি নরনারীর বিশেষ রূপে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত হবার আকুল বাসনার প্রকাশ্য পদচারণা। যা সাধারণতঃ আমাদের দেশের ভার্সিটি এলাকায় আর পার্কগুলোতে ঘুরতে গেলে দেখা যায় ! দেখা যায় ভালবাসা দিবস নামের বিশেষ দিনের নির্লজ্জতা ও সভ্য মানুষদের অসভ্য কর্মের উৎসবে। যে প্রেম মানুষকে নিয়ে যায় অধঃপতনের শেষ প্রান্তে। যে প্রেমে সুখ – শান্তির আড়ালে লুকিয়ে থাকে দুঃসহ যন্ত্রণা।
আর সভ্যতার পরিভাষায় প্রেম বা ভালোবাসা হলো – একটা চিরন্তন শ্বাশত সত্য কথা। প্রেম বা ভালোবাসা সাময়িক একটা প্রাণচাঞ্চল্যতার বহিঃপ্রকাশই নয়, বরং এটা মানুষের নৈতিক – দৈহিক ও মানষিক বিষয়েরও প্রচুর উন্নতির সোপান বিশেষ, যা মানুষকে এক সময় মহান করে তোলে। এ প্রেমই মানুষকে তার সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্যে যেতে সহায়তা করে। তাই এ প্রেম বা ভালবাসা মহান সৃষ্টিকর্তার এক বিশেষ নেয়ামত।
কিন্তু অধুনা যুগে যে প্রেম নামক সংক্রামক ব্যধীটা এই মানব সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছোঁয়াছে রোগের মত ছড়িয়ে পড়ছে, সেই প্রেম কখনোই সৃষ্টিকর্তার নেয়ামত হিসাবে ধর্তব্য বা গণ্য হবার নয়। কারণ, অধুনা যুগের এই সর্বনাশা প্রেম কাম বা রিপুর একটা সাময়িক চাঞ্চল্যের বহিঃপ্রকাশ তথা দেহজ তাড়না নির্ভর একটা অসভ্য কর্ম ব্যতিত আর কিছু নয়। এই প্রেম বা ভালবাসা সভ্য সমাজকে আক্রান্তকারী একটা বিশেষ ব্যধি, যার সংক্রমণে দেখা দিয়েছে সর্বত্র অসভ্যতার সব প্রতিফলন। আর এই প্রেমকে বিশ্ব স্বীকৃতি দিতে করা হয় নষ্ট সভ্যতার একটা নোংরা আয়োজন। সমগ্র বিশ্বকে কলঙ্কিত ও কলুষিত করার একটা বিশেষ দিন হিসাবে ১৪ই ফেব্রোয়ারীকে ঘোষনা করা হয় বিশ্ব ভালবাসা দিবস হিসাবে। যেদিন সংঘটিত হয় উম্মত মাতালদের মত বেশীর ভাগ তরুন - তরুনীদের মাঝে প্রেমের নামে দেহ আদান – প্রদানের অসভ্য কর্ম।
এই সেই প্রেম ! যাহা স্রেফ কাম – শিহরণ – বেডরুমের কোমল বিছানায়, মহানগরীর কোলাহলমুখর স্থানে গড়ে উঠা অভিজাত আবাসিক হোটেলের বদ্ধ কক্ষে , অভিজাত এলাকার অভিজাত গেষ্ট হাউজের রঙ্গমঞ্চে, রাস্তার পাশে গড়ে উঠা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মত পার্কের গাছের চিপায় বা নির্জন স্থানে, জাতীয় জাদুঘরের স্মরণীয়-বরনীয় ক্যাপসানের আড়ালে – চুমাচুমি, দেহ বিনিময় আর নাইট ক্লাবের প্রমোদবিহারেই সীমাবদ্ধ। আর এটাইতো এই সভ্যযুগের (?) প্রেম বা ভালবাসা ! যদি তা নাই-ই হতো , তবে এই প্রেম বা ভালবাসা মানুষদের সুন্দর জীবনকে অসুন্দর, কলষময় ও বিষাদময় করে তুলতোনা, গড়ে তুলতোনা মানুষদের মহান করে গড়ে তোলার স্থানে সমাজের এক নিকৃষ্ট জীব হিসাবে পরিগণিত করতে, মানব সমাজের কল্যান বয়ে আনার স্থলে অশান্তির দাবানল ছড়াতোনা, মানুষদের নৈতিক-দৈহিক ও মানষিক বিকাশের পরিবর্তে বিপর্যয় ঘটাতোনা।
আজকের এই প্রেম সমাজের প্রতিটি স্তরে একটা সংক্রামক রোগের কীট হিসাবে সকল কিশোর-কিশোরী, তরুন-তরুনী, যুবক-যুবতী সহ পরিণত বয়সের সকল মানুষের নির্দাঘ জীবনের সাথে জড়িয়ে গেছে। যার ফলে প্রায়ই সকলেই উক্ত প্রেম নামক সংক্রামক রোগের ছোঁয়ায় নিজেদের তীলে তীলে ধ্বংসের পাদপীঠে উপনীত করছে। নিজেদের নির্মল জীবনকে খুঁকড়ে খুঁকড়ে খাওয়াচ্ছে প্রেম নামক সংক্রামক ব্যাধির কীটকে। ফলশ্রুতিতে সমাজের প্রতিটি শাখা প্রশাখায় অশান্তির আগুন ধাউ ধাউ করে জ্বলছে।
মনের ভাবাবেগের উম্মত্ততায় বিকল্প পথহীন প্রেম বা ভালবাসা নামক মরণ ফাঁদে পা দিয়ে প্রেমের ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখে অধুনা যুগের প্রায়ই কিশোর-কিশোরী, তরুন-তরুনী, যুবক-যুবতী সহ পরিণত বয়সের কিছু বিশেষ শ্রেণীর জনগোষ্ঠী। যে প্রেমের একমাত্র মুখ্য উদ্দেশ্য ও গতানুগতিক ভাবধারাই হচ্ছে একটা দেহাতীত প্রেম, যা দেহের সাময়িক উত্তেজনা প্রশমনের মধ্যেই সীমিত। দেহজ উত্তেজনা প্রশমনের পরপরই উক্ত মানবশ্রেণীর প্রায়ই নর-নারী জীবনের বৃহত্তম ফাউলটিই করে বসে। নিষিদ্ধ কর্মের অথৈ সাগরে ডুব দিয়ে এ মানবশ্রেনী নিজ নিজ ব্যক্তিস্বত্তার সকল কিছুই জলাঞ্জলী দিয়ে হতাশায় আচ্ছাদিত হয়। তমসাচ্ছন্ন অন্ধকার গলিতে ঘুরপাক খেতে থাকে। প্রতারণার বিপদ সঙ্কুল পথে পা রেখে পিছলে পড়ে মসৃণ সরল রেখার জীবন পথে। কান্নাভরা জীবনের আঁখিযুগল থেকে নোনতা জল গিয়ে পড়ে জন্ম দেয় বেদনার মহাসরোবরে। যে সরোবর পাড়ি দেবার পথ খুঁজতে গিয়ে প্রায়ই এ মানবশ্রেণী গৃহছাড়া হয়, সমাজচ্যুত হয়। মরণপথের অচিন গলিতে এ মানবশ্রেণী প্রতিনিয়ত পদক্ষেপ ফেলছে। নেশার নীল রাজ্যের অধিবাসী হয়ে জীবন্ত লাশ হিসাবে পৃথিবীতে জীবনের ঘানী টানছে। জারজ সন্তান গর্ভে নিয়ে সমাজের অবাঞ্চিত কীট হিসাবে মুখে চুনকালী মেখে ঘুরছে সমাজপতিদের ধারে ধারে। আহ্ ! কতইনা জ্বালা !! কতইনা অশান্তি !!! কতইনা নরকযন্ত্রনার অনলদহন !!!!
প্রেম নামক দেহের জ্বালা সারতে না পেরে প্রেমিক নামক পশুরা এ্যাসিড দিয়ে ঝলসে দিয়েছে কতনা মায়াময় মুখ, যারা আজ বিকৃত রূপ নিয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছে, গুঙ্গাচ্ছে ! আহ্ ! কিই না নির্যাতন সইতে হয় এই সভ্য সমাজের অবিনাশী প্রেমে !!
নেশাগ্রস্থ হয়ে রাস্তার নিয়নবাতির আলোয় দুলছে মা-এর বুকের ধন ! পিতা-মাতার একমাত্র আদরের মেয়েটি তাদের মুখে চুনকালী লাগিয়ে হয়েছে প্রেমের টানে ঘরছাড়া !! স্বামীর প্রিয়তমা স্ত্রী পরকিয়া প্রেমে মত্ত হয়ে আপন গর্ভজাত তিন সন্তান ফেলে এক কচি ছেলের হাত ধরে বেরিয়ে গেছে অজানায় !!! পাঁচ সন্তানের পরিণত বয়সী পিতার সাথে ধনীর ঘরের আদরের দুলালী ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখছে !!!!
আহ্ ! কিই না রুচি আজকের যুগের মহাগ্রাসী প্রেমে ! কতই না সভ্য বর্তমান সভ্য সমাজের মানুষেরা !! প্রেমের স্বীকৃতি না পেয়ে আদরের সন্তান নীজ পিস্তলের গুলি বুকে ডুকিয়ে দুলছে !! রূপবতী একমাত্র মেয়েটি সতীত্ব বিসর্জন দিয়েও প্রেম প্রত্যাখাত হয়ে স্লিপীং পিল খেয়ে আত্মহত্যা করছে !!! ঘর বাঁধার স্বপ্ন ভঙ্গের কারনে প্রেমিক জুটি বিয়ের আসর থেকে লুকিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিচ্ছে !!! প্রেম প্রত্যাখান করায় বাসর ঘরে খুন হচ্ছে নব বর-বধু !!!! এসব কত অহরহ ঘটনাইতো ঘটছে বর্তমান যুগের এ প্রেম নামের সংক্রামক ব্যাধির কারণে !!!!!
বর্তমান যুগের এ প্রেম তাই অবৈধ, অশান্তির দাবানল, নিশ্চিত মরণ ফাঁদ, বিষধর সর্প, জীবন নাশক কটা সংক্রামক ব্যাধি, সমাজের বিনষ্টের একটা দুষ্ট কীট আর জাতীয় দুষমন – এহেন প্রেম। অধুনা যুগের এ প্রেম বা ভালবাসা হচ্ছে – দেশের মুল্যবান জনশক্তির ক্ষতিকর এক মারণাস্ত্র।এক নষ্ট সভ্যতার করুন রূপ। তাই, এ প্রম পরিত্যাজ্য, এ প্রেম অস্বীকার্য, এ প্রেম অমানানশীল ও অগ্রহণীয়।
যদি প্রেম করার এতই শখ জাগে, তবে মানানসই এক গ্রহণীয় প্রেমের সন্ধান করতে হবে। অনস্বীকার্য, গঠনশীল , সামাজিক প্রেম বাচাই করতে হবে। অপরিত্যাজ্য প্রেমের জগত সৃষ্টি করতে হবে ।কিন্তু, কোথায় সে প্রেম ?
হ্যাঁ, সে প্রেম এখনো জীবিত, শাশ্বত ও চিরন্তন। চিরজীবন্ত, গ্রহণীয় সেই প্রেম। চির অম্লান, অনস্বীকার্য সেই প্রেমই হলো – ইসলামী অবকাঠামোয় গঠিত প্রেম। যে প্রেমকে সমাজবদ্ধ মানুষ বিনা দ্বিধায় আজও স্বীকৃতি দান করে।
ইসলামী অবকাঠামোর প্রেম – ভালবাসা – বন্ধুত্বের একটা নিরধারাত গণ্ডি রয়েছে। ইসলামে প্রেম – ভালবাসা – বন্ধুত্ব প্রধানত দু’টি প্রকারেই দৃশ্যমান। তার মধ্যে প্রথমটি হলো - আল্লাহ বা আপন সৃষ্টিকর্তার সহিত প্রেম বা ভালবাসা ও বন্ধত্ব এবং দ্বিতীয়টা হলো – মাখলুক বা আল্লাহর সৃষ্টিকুলের সহিত প্রেম বা ভালবাসা ও বন্ধুত্ব।
প্রথম প্রকারের প্রেম বা ভালবাসা - আল্লাহর সহিত প্রেম :- ইহাই প্রকৃত প্রেম বা ভালবাসা। যে ভালবাসায় স্বর্গের পরশমাখা সুখানুভুতি শিহরণ জাগায় মানব মনে। আল্লাহ্ , যিনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা , রিযিকদাতা , তাঁকেই আমাদের আপন ছেলে-মেয়ে, মাতা-পিতা, স্বামী-স্ত্রী সবার চেয়ে বেশী ভালবাসতে হবে। তাঁর সাথেই সকলের চেয়ে বেশী প্রেম করতে হবে। তাঁর সাথেই সবচেয়ে বেশী বন্ধু্ব করতে হবে। প্রেম করে যদি মরতেই হয় একমাত্র তাঁরই মরতে হবে। তাঁরই জন্য সমাজ ছাড়তে হবে। তাঁরই জন্য পরিবার ত্যাগ করতে হবে। তাঁরই জন্য পিতামাতার অবাধ্য হতে হবে। তাঁরই জন্য পথে পথে উন্মাদ হয়ে ঘুরতে হবে। তিনি ব্যাতিত অন্য কারো জন্যই এসব করা যাবেনা। তাইতো মহান আল্লাহ বলেন – “যারা ঈমান্দার আল্লাহর জন্য ভালবসা তাদেরই সবচেয়ে প্রকট।’’
আল্লাহকে ভালবাসার নিদর্শন হচ্ছে , তার আদেশ নিষেধ মেনে চলা। তাঁর নবীকে ভালবাসা। তাঁর নবীকে অনুসরণ করা। আর এটাই আল্লাহর আদেশ। বিশেষ করে তাঁর নবী মুহাম্মদ(সঃ) কে ভালবাসতে হবে। তাঁর অনুসরণ ও অনুকরণ করতে হবে। তাই আল্লাহ পাক বলেন – “ হে নবী ! বলুন- যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাসো , তাহলে আমাকেই অনুসরণ করো’’।
অতএব, আল্লাহকে ভালবাসার ব্যাপারে যার দাবী যতটুকু সত্যি হবে, হযরত মুহাম্মদ(সঃ) কে অনুসরণ ও অনুকরণে সে ততটুকু যত্নবান হবে, তাঁর শিক্ষার আলোকে সে জীবনের পথ অবলম্বন করবে।

দ্বিতীয় প্রকারের প্রেম বা ভালবাসা – মাখলুক বা আল্লাহর সৃষ্টিকুলের সহিত ভালবাসা ঃ- এ প্রেম বা ভালবাসা আবার দুই প্রকার। যথা – ক) মানুষ জাতির প্রতি প্রেম বা ভালবাসা। খ) কোন প্রাণী বা বস্তুর প্রতি প্রেম বা ভালবাসা।
ক) প্রথমতঃ মানুষ জাতির প্রতি প্রেম বা ভালবাসা :- এ প্রেম ও কয়েকটি স্তরে বিভক্ত।যেমন –

১) নবী-রাসূলগণের প্রতি আত্মার বিশ্বাসের প্রেম।

২) মাতা-পিতার প্রতি ভক্তি ও মায়া এবং আত্মার প্রেম।

৩) স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার আত্মার ও নিবীড় ভালবাসা এবং দৈহিক বন্ধনের প্রেম।

৪) সন্তান-সন্ততির প্রতি স্নেহ ও আদরের প্রেম।

৫) আপন ভাই-বোনের প্রতি মায়া ও মমতার প্রেম।

৬) রক্ত সম্পর্কীয় বন্ধনের প্রতি আত্মার প্রেম।

৭) আপন আত্মীয়-স্বজনের প্রতি আত্মার প্রেম।

৮) পাড়া-প্রতিবেশীর প্রতি আত্মার প্রেম।

৯) অন্যান্য আত্মীয়ের প্রতি আত্মার প্রেম।

১০) এক মুসলমানের প্রতি অন্য মুসলমানের আত্মার ও ধর্মীয় প্রেম।

১১) উস্তাদ-সাগরেদের মধ্যকার আত্মার ও শিক্ষার প্রেম।

১২) পীর-মুরীদের মধ্যকার আত্মার ও শিক্ষার প্রেম।

১৩) নিজ ধর্ম ব্যতিত অন্য ধর্মের মানুষদের প্রতি মানব প্রেম।
উপরোক্ত তেরো স্তরের প্রেম বা ভালবাসার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও প্রকৃত ভালবাসা হচ্ছ, প্রথম স্তরের প্রেম অর্থাৎ নবী-রাসূলগণের প্রতি আত্মার ও বিশ্বাসের প্রেম। আবার নবী-রাসূলগণের প্রতি প্রেমের মধ্যে সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ(সঃ) এর প্রতি প্রেম-মহব্বত-বন্ধুত্ব-ভালবাসার সম্পর্ক স্থাপনই সর্বশ্রেষ্ট, যার অবস্থান উভয় জাহানে সমভাবে স্থায়িত্বশীল। ইহাই প্রকৃত প্রেম। এ প্রেমই বর্তমান দুনিয়ার সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য একটা উৎকৃষ্টতম প্রেম।
দ্বিতীয় উৎকৃষ্টতম প্রেম বা ভালবাসা হল, দ্বিতীয় স্তরের প্রেম - মাতা-পিতার প্রতি ভক্তি ও মায়া ও আত্মার প্রেম। আল্লাহ ও রাসূলের পর নিজ পিতা-মাতার প্রতি প্রেমের সুনিবীড় সম্পর্ক স্থাপন একটা উৎকৃষ্টতম প্রেম হিসাবে আল্লাহ ও রাসূলের কাছে গণ্য। তাই আল্লাহ ও রাসুলের পর আপন পিতা-মাতাকেই বেশী ভালবাসতে হবে।
তৃতীয় উৎকৃষ্টতম প্রেম বা ভালবাসা হলো, তৃতীয় স্তরের প্রেম – স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার আত্মার ও নিবীড় ভালবাসা এবং দৈহিক বন্ধনের প্রেম। মাতা-পিতার প্রতি প্রেমের সম্পর্ক স্থাপনের পর স্বামীর প্রতি স্ত্রীর এবং স্ত্রীর প্রতি স্বামীর প্রেমের সম্পর্ক স্থাপনই হলো উৎকৃষ্টতম প্রেম বা ভালবাসা। যার দ্বারা নতুন একটা সুন্দর পরিবার গঠিত হয়। দৈহিক প্রেমের সম্পর্ক স্থাপনের জন্য একমাত্র মাধ্যম স্বামী–স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ক। কোন নারী বা কোন পুরুষের জন্য প্রেমের (দৈহিক) সম্পর্ক স্থাপনের জন্য শর্ত হলো – তারা এই স্বামী-স্ত্রীর বন্ধনে বা বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। নয়তো কোন নারীর সহিত নরের এবং কোন নরের সহিত নারীর দৈহিক বন্ধনে আবদ্ধ হবার বা প্রেমে বন্দী হবার কোন বৈধতা নেই।
চতুর্থ উৎকৃষ্টতম প্রেম বা ভালবাসা হলো, চতুর্থ স্তরের প্রেম - সন্তান-সন্ততির প্রতি স্নেহ ও আদরের প্রেম। স্বামী-স্ত্রীর প্রেমের সম্পর্ক স্থাপনের পর আপন সন্তান-সন্ততিদের প্রতি প্রেমের সম্পর্ক স্থাপনই হল উৎকৃষ্টতম প্রেম। যা একটি পরিবারের সুন্দর ও নীবিড়ভাবে টিকে থাকার জন্য খুবই জরুরী।
পঞ্চম উৎকৃষ্টতম প্রেম বা ভালবাসা হলো, পঞ্চম স্তরের প্রেম - আপন ভাই-বোনের প্রতি মায়া ও মমতার প্রেম। আপন সন্তান-সন্ততির প্রতি প্রেমের সম্পর্ক স্থাপনের পর আপন ভাই-বোনের প্রতি প্রেমের সম্পর্ক স্থাপনই উৎকৃষ্টতম প্রেম। যা একটি পরিবারের সৌন্দর্য রক্ষা ও পারিবারিক উন্নতি এবং কল্যানে বৃহৎ শক্তি জোগায়।
ষষ্ট উৎকৃষ্টতম প্রেম বা ভালবাসা হলো, ষষ্ট স্তরের প্রেম - রক্ত সম্পর্কীয় বন্ধনের প্রতি আত্মার প্রেম। রক্তসম্পর্কীয় বন্ধনের মধ্যে আপন দাদা এবং তার পরিবার, চাচা এবং তার পরিবার, চাচাজাত ভাই-ভগ্নি এবং তাদের রক্তজাত সিলসিলার মানুষগুলো, ফুফু এবং তার পরিবার, ফুফুজাত ভাই-ভগ্নি এবং তাদের রক্তজাত সিলসিলার মানুষগুলো , আপন ভাই-বোনের সন্তান-সন্ততি এবং তাদের পরিবার, আপন ভাই-বোনের সন্তান-সন্ততিদের রক্তজাত সিলসিলার মানুষগুলো , নানা ও নানী এবং তাদের রক্তজাত সিলসিলার মানুষগুলো। আপন ভাই-বোনের প্রতি প্রেমের সম্পর্ক স্থাপনের পর এদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করাই উৎকৃষ্টতম প্রেম। যার দ্বারা একটা রক্ত সম্পর্ক চির অম্লান ও চির জীবন্ত থাকতে বহুদূর ব্যাপী কাজ করে এবং একটা রক্ত সম্পর্কীয় বিস্তৃত পরিবার গঠনে সহায়তা করে। আর এ প্রেমের মাধ্যমেই গড়ে উঠতে পারে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের হিংসা-জিঘাংসা-শত্রুতাবিহীন এক একটি বিশাল পরিবার। গঠিত হতে পারে এ প্রেমের মধ্য দিয়ে এক একটি সভ্য সমাজ। যার মাধ্যমেই রচিত হতে পারে এক একটি শান্তির সাম্রাজ্য। এই রক্ত সম্পর্কীয় বন্ধনের প্রতি প্রেমই প্রতিষ্টিত করতে পারে, বিশ্বকে একটা শান্তির জগত রূপে।
সপ্তম উৎকৃষ্টতম প্রেম বা ভালবাসা হলো, সপ্তম স্তরের প্রেম - আপন আত্মীয়-স্বজনের প্রতি আত্মার প্রেম। আর এ আত্মীয় স্বজনের মধ্যে আপন চাচীর বাবা ও মা ও তাদের পরিবার ও তাদের রক্তজাত সিলসিলার মানুষগুলো ও তাদের পরিবার, সৎ মা ও সৎ বাবা এবং তাদের বাবা ও মা ও তাদের পরিবার ও তাদের রক্তজাত সিলসিলার মানুষগুলো ও তাদের পরিবার, আপন ভাগিনা-ভাগিনীর পরিবার ও তাদের পরিবারভুক্ত মানুষগুলো। আপন ভাতিজা-ভাতিজীর পরিবার ও তাদের পরিবারভুক্ত মানুষগুলো, আপন মামা-মামী ও তাদের পরিবারভুক্ত মানুষগুলো, আপন খালা-খালু ও তাদের পরিবারভুক্ত মানুষগুলো। আপন ফুফি-ফুফা ও তাদের পরিবারের মানুষগুলো, চাচাত, খালাত, ফুফাতো, মামাতো এবং সৎ ভাই-বোনদের পরিবার ও তাদের পরিবারভুক্ত মানুষগুলো। রক্ত সম্পর্কীয় বন্ধনের প্রতি আত্মার প্রেমের সম্পর্ক স্থাপনের পর এদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করাই উৎকৃষ্টতম প্রেম।
অষ্টম উৎকৃষ্টতম প্রেম বা ভালবাসা হলো, অষ্টম স্তরের প্রেম – পাড়া-প্রতিবেশীর প্রতি আত্মার প্রেম। আপন আত্মীয়-স্বজনের প্রতি প্রেমের সম্পর্ক স্থাপনের পর পাড়া-প্রতিবেশীর প্রতি আত্মার প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন একটা উৎকৃষ্টতম প্রেম হিসেবে বিবেচ্য। এ প্রেম নিজেদের পারিপার্শিক নিরাপত্তা রক্ষায় বিশেষ ভুমিকা পালন করে।
নবম উৎকৃষ্টতম প্রেম বা ভালবাসা হলো, নবম স্তরের প্রেম – অন্যান্য আত্মীয়ের প্রতি আত্মার প্রেম। অন্যান্য আত্মীয়ের মধ্যে পাড়া- প্রতিবেশীদের আত্মীয়, আপনজনদের পরিচিত ও বন্ধুদের আত্মীয়, আপন বন্ধু তাদের বন্ধুদের আত্মীয় অর্থাৎ যাদের দূর সম্পর্কীয় আত্মীয় বলে ধরা হয় সেসব আত্মীয়। এদের সহিত আত্মীক প্রেমের সম্পর্কও একটা উৎকৃষ্টতম প্রেম। যা দ্বারা একটা বৃহৎ ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টি হয়।
দশম উৎকৃষ্টতম প্রেম বা ভালবাসা হলো, দশম স্তরের প্রেম – এক মুসলমানের প্রতি অন্য মুসলমানের আত্মার ও ধর্মীয় প্রেম। হাদীসে আছে – “প্রত্যেক মুসলমান একে অপরের ভাই’’। তাই এক মুসলমানের সাথে অন্য মুসলমানের আত্মীক ও ধর্মীয় প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন একটা উৎকৃষ্ট ও আবশ্যকীয় বিষয়। যা দ্বারা মুসলমানদের মধ্যে একাত্মতার সৃষ্টি হয়।

একাদশ উৎকৃষ্টতম প্রেম বা ভালবাসা হলো, একাদশ স্তরের প্রেম – উস্তাদ-সাগরেদের মধ্যকার আত্মার ও শিক্ষার প্রেম। মুসলমানের সহিত মুসলমানের প্রেমের সম্পর্ক স্থাপনের পর উৎকৃষ্টতম প্রেম হলো – উস্তাদ ও সাগরেদের মধ্যে গড়ে উঠা আত্মীক ও সাধারণ জ্ঞান আদান-প্রদানের প্রেম। যা দ্বারা দু’টি মানুষের জ্ঞান আহরনে বিশেষ ভুমিকা রাখে।
দ্বাদশ উৎকৃষ্টতম প্রেম বা ভালবাসা হলো, দ্বাদশ স্তরের প্রেম – পীর-মুরীদের মধ্যকার আত্মার ও শিক্ষার প্রেম। উস্তাদ-সাগরেদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপনের পর উৎকৃষ্টতম প্রেম হলো – পীর-মুরীদের মধ্যকার আত্মার ও ইহলৌকিক এবং আধ্যাত্বিক শিক্ষার লক্ষ্যে একে অপরের ঘনিষ্ট সহচর হিসাবে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন। যা দ্বারা মুরিদ পীরের কাছ থেকে জাগতিক ও আধ্যাত্বিক জ্ঞান অর্জন করে একজন খাঁটি মানুষ হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
ত্রয়োদশ উৎকৃষ্টতম প্রেম বা ভালবাসা হলো, ত্রয়োদশ স্তরের প্রেম – নিজ ধর্ম ব্যতিত অন্য ধর্মের মানুষদের প্রতি মানব প্রেম। পীর-মুরীদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপনের পর উৎকৃষ্টতম প্রেম হলো – মানব প্রেম বা মানুষের প্রতি মানুষের মানবতা সুলভ আচরণ। যদিও জগতের সকল মানুষ এ প্রেমে অন্তর্ভুক্ত। জগতের সকল মানুষকে এই প্রেমের চোখে দেখতে হবে যে , তারাও আল্লাহর প্রিয় সৃষ্টি। তাঁদের যখন আল্লাহ পাক পৃথিবীতে বাঁচিয়ে রেখেছেন , প্রতিবেশী হিসাবে তাদের সুখ-দুঃখ-নিরাপত্তার বিধানে তাদের দিকে মানুষ হিসাবে সম্মানের দৃষ্টি দিতে হবে। আল্লাহর নির্দেশীত পথে চলার জন্য তাদেরকে আহ্বান করতে হবে। যদি তারা আল্লাহর নির্দেশীত পথে যেতে রাজি না হয়, তবে তাদেরকে জোর করা যাবেনা। সে জন্য তাদের উপর জুলুম করা যাবেনা। তাদের সাথে প্রতিবেশী সুলভ আচরণ করতে হবে।
অবশ্য তারা যদি আল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভাবে যুদ্ধ ঘোষনা করে , তবে মুসলমানদের উচিত হবে তাদের বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়া। আল্লাহর জন্যই তখন মুসলমানদের জন্য জরুরী হয়ে যাবে, এসব অমুসলীমদের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করার।
উপোক্ত তেরোটি স্তরের প্রেম ছাড়া অন্য কোন প্রেম মানুষের জন্য বৈধ নয়।

খ) দ্বিতীয়তঃ কোন প্রাণী বা বস্তুর প্রতি প্রেম বা ভালবাসা ঃ- মানুষ ব্যতিত কোন প্রাণী বা বস্তুর সাথে প্রেম বা ভালবাসা স্থাপন একটা উৎকৃষ্টতম প্রেম বলে বিবেচিত হবে। যেমন – কেউ তার ঘোড়া কিংবা ঘড়িকে ভালবাসে।
প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য স্মরণ রাখা একান্ত কর্তব্য যে, উপরোক্ত ভালবাসার পাত্র সমষ্টির সবগুলোর সাথেই যেখানে যেভাবে বলা হয়েছে সে নিয়মানুষারে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন বৈধ। সমাজে গ্রহণীয়। তাই উপরোক্ত নিয়ানুষারে যার যত ইচ্ছা প্রেম করুন।
কিন্তু মনে রাখতে হবে – কোন মুসলীম মেয়ের সাথে যেমন কোন অমুসলীম ছেলের বিয়ে নামের দৈহিক মেলামেশার সামাজিক বৈধ স্বীকৃতি প্রেমের বন্ধন নিষিদ্ধ, তেমনি কোন মুসলীম ছেলের সাথে কোন অমুসলীম মেয়ের বিয়ে নামের দৈহিক মেলামেশার সামাজিক বৈধ স্বীকৃতি প্রেমের বন্ধন নিষিদ্ধ। আর মুসলীম হোক বা অমুসলীম কোন অবিবাহিত ছেলের সহিত কোন অবিবাহিত মেয়ের যেমন বিয়ের বন্ধন ব্যতিত দৈহিক মেলামেশার প্রেমের বন্ধন নিষিদ্ধ , তেমনি মুসলীম হোক বা অমুসলীম কোন অবিবাহিত মেয়ের সহিত কোন অবিবাহিত ছেলের বিয়ের বন্ধন ব্যতিত দৈহিক মেলামেশার প্রেমের বন্ধন নিষিদ্ধ।
বিশেষ করে প্রেমের নামে মুসলীম অবিবাহিত, বেগানা নর-নারীর মধ্যে ঘনিষ্টভাবে চলাফেরা অবৈধ। কেননা, তা ইসলাম মনোনীত নয়। সমাজ নীতিতেও তা পরিত্যাজ্য। আর এ অবৈধ প্রেম প্রতিরোধ কল্পেই ইসলামে পর্দার বিধান প্রবর্তীত হয়েছে। সমাজ নিয়মে বালক-বালিকা ও নর-নারীকে দেখা সাক্ষাতে বিধি-বিধান আরোপ করা হয়েছে। যাতে এভাবে তাদের চলাফেরাকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে বাধা প্রদান করা হয়েছে।
নর-নারী উভয়ের জন্যই সততা, সতীত্ব এবং ব্যক্তিত্ব সংরক্ষনের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে – পর্দা ব্যবস্থা। নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতা দমন এবং নর-নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে আল্লাহ পাক বলেন –“মু’মীনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে। তাদের যৌনাঙ্গ হেফাজত করে’’।

স্বয়ং স্রষ্টাই মানবজাতীকে নর ও নারী দু’টি শ্রেনীতে বিভক্ত করে সৃজন করে একের প্রতি অপরের আকর্ষণ দিয়েছেন অবিচ্ছেদ্যভাবে। এ থেকে বাহ্যতঃ মুক্তিলাভের কোন ব্যবস্থা নেই, চাই এ দুই শ্রেণী একত্রে থাকুক কিংবা পৃথকভাবে বসবাস করুক। নরের প্রতি নারীর এবং নারীর প্রতি নরের এ আগ্রহ ও আকর্ষণ চিরন্তন। নর-নারী মানবজাতীর অভিন্ন স্বত্তা হলেও তারা পৃথক স্বতন্ত্র শ্রেণীর। এদের মধ্যে সহজাত তীব্র আকর্ষণ বিদ্যমান। আর সে কারণে রয়েছে অঘটনের নানা উপছায়া উপস্থিত। এ আকর্ষণজনিত দূর্ঘটনা থেকে নর-নারীকে রক্ষা কল্পে পর্দা প্রথার অপরিহার্য। আর এ পর্দা দু’ভাবে পালনীয়। যথা : 
১) ভিতরের পর্দা বা মনের পর্দা :- নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই এ পর্দা অপরিহার্য। এটা মানব মনের জন্য একটা আবরণ বিশেষ। এ পর্দায় নারীর মনে চেতনা থাকবে যে, সে কোন পরপুরুষের দৃষ্টি সীমানায় যাবেনা। ভিন্ন পুরুষের খেয়াল তার মনে জাগাবেনা। তার ইজ্জত আবরু ভিন্ন পুরুষ থেকে রক্ষা করতে সচেষ্ঠ থাকবে। আর এ পর্দায় নরের মনে চেতনা থাকবে যে, সে কোন পরনারীর দিকে চোখ তুলে তাকাবেনা। কোন পরনারীকে নিয়ে মনে কোনরূপ জল্পনা-কল্পনা করবেনা। কোন পরনারীর দিকে দৃষ্টি পড়লে সাথে সাথে তার দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিবে।
২) বাহিরের পর্দা বা হিজাব :- বিশেষতঃ এ পর্দা নারীকেন্দ্রীক। এ পর্দার বিধান হচ্ছে – নারী কখনো পর্দাহীনভাবে ( চেহারা, বুক, পেঠ, পীঠ, চতর প্রভৃতি খোলা রেখে) পুরুষের সামনে যাবেনা। প্রয়োজন ব্যতিরেকে ঘর থেকে বের হবেনা। অন্তঃপরে বসবাস করবে। পুরুষদের সহিত পর্দাহীনভাবে অফিস করবেনা। পারঙ্গম অবস্থায় বাজার-মার্কেটে যাবেনা। স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-ভার্সিটি-যানবাহনে পুরুষের পাশাপাশি বসবেনা। জরুরী প্রয়োজনে বাড়ির বাহিরে যেতে হাত-পা সহ আপাদমস্তক বোরকা বা স্পষ্ঠমান অঙ্গ ঢাকা যায় এমন কাপড় দ্বারা আবৃত করবে। কোন পরপুরুষের সাথে জরুরী প্রয়োজনে কথা বলতে পর্দার আড়াল থেকে কর্কশ ভাষায় কথা বলবে ইত্যাদি।
পর্দা ভিতর ও বাহিরের দু’টোই রক্ষা করে চলতে হবে। এ দু’দিকের পর্দাই হলো প্রকৃত পর্দা। যে সমাজে এ পর্দা প্রথার প্রচলন হবে, সে সমাজে কোন ব্যভিচার থাকবেনা, অন্যায় – অপকর্ম থাকবেনা। নারীগণ নির্যাতিত হবেনা। পর্দা রক্ষা করা নর-নারী উভয়েরই প্রয়োজন।
পর্দা প্রথার কারণেই নারীরা দেয়ালের ভিতরে থাকবে। তাই তারা ঘরের ভিতরে থাকার উপযোগী। তাদের কর্মক্ষেত্র হচ্ছে - ঘরের আভ্যন্তরীন জগত। তারা ঘরের ভিতরে থেকে একদিকে করবে ঘরের যাবতীয় ব্যবস্থাপনা। অন্যদিকে করবে গর্ভধারণ, সন্তান প্রসব-লালন-ভবিষ্যতের উপযুক্ত নাগরীক গড়ে তোলার কাজ। তাই রাসূল(সাঃ) বলেন- “নারী-স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের পরিচালিকা, রক্ষণাবেক্ষনকারিনী ও কর্ত্রী”।

চলবে >>>>>>>>>>> ০২

বৃহস্পতিবার, ২১ জুন, ২০১২

পর্দা প্রগতির অন্তরায় নয়



পর্দা প্রগতির অন্তরায় নয়
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------------

স্রষ্টা যখন মানবজাতিকে সৃষ্টি করে পৃথিবীতে পাঠানোর ইচ্ছাপোষণ করলেন , তখন তিনি সেই মানবজাতি কিভাবে পৃথিবীতে বসবাস করবে তার একটি নিয়ম ও তিনি ঠিক করে দিয়েছিলেন । কারণ , সৃষ্টিকুলের মধ্যে একমাত্র মানব জাতিই সর্বদিক দিয়ে এগিয়ে , সৃষ্টির সেরা । আর সেরা হবার কারণে তারা তাদের সে মহত্বকে একজনের উপর আরেকজনের মহত্বকে প্রাধান্য দিয়ে বড় দেখানোর চেষ্ঠা করবে । ফলে তাদের মাঝে দেখা দিবে বিশৃন্খলতা । আর এই বিশৃন্খলতা সৃষ্টি করবে সর্বত্র অশান্তি ।
এই অশান্তির যাতে না হয় সে জন্য স্রষ্টা তার সর্বসেরা  সৃষ্টি মানবজাতকে তাদের জীবন পরিচালনার কিছু নিয়ম বেঁধে দিয়ে দুনিয়ায় বসবাস করার জন্য পাঠান । প্রকৃতপক্ষে মানবজাতকে দুনিয়ায় পাঠানোর মুলে রয়েছে স্রষ্টার শ্রেষ্ঠত্বকে মানুষের কর্মসমুহের মধ্য দিয়ে প্রকাশ করা । তাই সর্বসেরা সৃষ্টি মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব হবার মুল উপাদান বিবেক দিয়ে মানুষকে তিনি তাদের শ্রেষ্টত্ব প্রমাণের লক্ষ্যে জীবন পরিচালনার জন্য দুটি রাস্তা নির্ধারণ করে দিয়েছেন । আর বলে দিয়েছেন , বিবেকই তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের একমাত্র উপাদান , যারা সৃষ্টিকুলের সেরা হিসাবে নিজেদের প্রকাশ করতে পারবে । আর তা পারবে আটার হাজার সৃষ্টির মধ্যে সর্বসেরা সৃষ্টি একমাত্র মানুষরাই ।

এই বিবেক সম্পন্ন মানুষরা তাদের বিবেক দিয়ে নির্ধারণ করবে তারা কোন পথে যাবে । উক্ত দুটি রাস্তার মধ্যে একটা গিয়েছে অফুরন্ত সুখ শান্তি - সমৃদ্ধির দিকে । আর অন্যটি গিয়েছে অফুরন্ত অশান্তি দুঃখ অধঃপতনের দিকে । এখন যার যেভাবে খুশি সেভাবে তারা তাদের দুটি রাস্তার একটিকে নির্ধারণ করে তাদের জীবন পরিচালনা করবে । আর যে যে রাস্তা দিয়ে জীবন পথ অতিক্রম করবে , সে সে পথে গিয়ে স্রষ্টা প্রদত্ত্ব নির্ধারিত নিয়ামত প্রাপ্ত হবে ।

এ প্রসঙ্গে এক লেখকের ( বিশেষ কারণে লেখকের নামটি তুলে ধরতে পারছিনা বলে দুঃখিত ) একটা প্রবন্ধের সামান্য অংশ তুলে ধরতে চাই -
আজ আমাদের প্রত্যেকের মনে একটি জটিল প্রশ্ন অতিশয় তীব্রভাবে বারবার জাগ্রত হচ্ছে। তা এই যে,শান্তি কোথায় ? মানব জীবন আজ সকল প্রকার শান্তি হতে বঞ্চিত হলো কেন ? কেন আজ জাতিতে জাতিতে বিবাদ,রাজায় রাজায় ঘোর মনোমালিন্য,সবলের উৎপীড়ন ও নির্যাতনে দুর্বল আজ দুর্দশাগ্রস্ত ও নাজেহাল। বন্ধুত্ব বিশ্বাসঘাতকতায় পরিপূর্ণ,আর আমানতদারীর পরিবর্তে খেয়ানতের এতোটা প্রাবল্য কেন ? কেন মানুষের প্রতি মানুষ আস্থাহীন,ধর্মের নামে ধর্ম-ধ্বংসের বিরাট কারসাজিই বা কেন ? একই আদমের সন্তান হাজার গোত্রে বিভক্ত,এক গোত্রের সাথে অন্য গোত্রের ভয়ানক বিবাদ-বিসম্বাদ,মানুষের ভয়ে মানুষ সন্ত্রস্ত। এমনিভাবে অগণিত অপকর্মে কেন আজ আমাদের সুখময় জীবনের যাত্রাপথ সকল দিক দিয়ে বিপদ-সংকুল হয়ে উঠেছে। আরও চিন্তা করার বিষয় এই যে,সৃষ্টিলোকের অন্য কোনো ক্ষেত্রে কিন্তু কোনো প্রকার অশান্তি নেই,তারকারাজ্যে শান্তি বিদ্যমান, হাওয়ায় শান্তি,জলে শান্তি,স্থলে শান্তি  , এক কথায় মানুষ ছাড়া প্রাকৃতিক জগতের যে কোনো স্থানে শান্তি বিরাজমান ;শুধু মানুষই শান্তির সুশীতল ছায়া হতে বঞ্চিত। তাই মানব মনে আজ এটা এক জটিল সমস্যার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সমাধানের জন্য সমগ্র মানবজাতি অস্থির হয়ে উঠছে। আমি কিন্তু অতীব ধীরস্থিরভাবে উল্লেখিত জটিল প্রশ্নের সংক্ষেপে এ উত্তরই প্রদান করবো যে,মানুষ আজ তার শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের স্বভাবসিদ্ধ রীতিসমূহের বিরুদ্ধে চলতে গিয়েই পদে পদে অগণিত বিপদের সম্মুখীন হতে বাধ্য হয়েছে । আবার সে তার ভুল বুঝতে পেরে যখন আল্লাহর বিধানে বাধ্য হয়ে জীবনের যাত্রাপথ নির্ধারণে সচেষ্ট হবে,তখন তার হারানো শান্তি অবশ্যই ফিরে আসবে,অন্যথায় অশান্তি কখনো দূর হবে না,হতে পারে না। যেমন চলন্ত ট্রেনের দরজা ও তার পার্শ্ববর্তী রাস্তাকে যদি কেউ আপন ঘরের দরজা ও মেঝে মনে করে, তখন এ ভুল বুঝার জন্য ট্রেনের দরজা বা তৎপার্শ্ববর্তী রাস্তা কখনো তার থাকার ঘরের দরজা ও প্রাঙ্গণে পরিণত হবে না,পক্ষান্তরে,উল্লেখিত ভুল বুঝার শাস্তি স্বরূপ উক্ত অপচেষ্টাকারীর হয়তোবা পা ভাঙ্গবে,না হয় মাথা ফাটবে। এরপরও যদি উক্ত ব্যক্তি তার কৃতকর্মের ভুল বুঝতে সক্ষম না হয়,তবে ব্যাপারটা বড়ই দুঃখজনক ও লজ্জাকর হয়ে দাঁড়াবে। ’’

আজ বিবেকসম্পন্ন মানুষ বিবেকহারা । তাই তারা তাদের শ্রেষ্টত্বের গুণটি হারিয়ে ফেলেছে । ফলে তারা কোন রাস্তাটা ভাল , কোন রাস্তাটা খারাপ । কোন পথে গেলে তাদের ঠিক হবে , কোন পথে গেলে তাদের সমস্যা হবে , তা তারা বুঝতে পারছেনা । তাদের ভিতরের বিবেক কাজ করছেনা , তারা একজনের উপর আরেকজনের আধিপত্য বিস্তারের সংগ্রাম করছে। বিবেক হয়েছে তাদের ধ্বংস , সর্বসেরা সৃষ্টি পরিণত হতে যাচ্ছে সর্বনিকৃষ্ট সৃষ্টি হিসাবে । বিবেকহীন পশুদের কাজের চেয়েও সব নিকৃষ্ট কাজ করছে মানুষ , তাই মানুষের চেয়ে পশুদেরই শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে ভাবার সময় এসেছে।
পশুরা তার স্রষ্টার বিধান মেনে স্রষ্টার প্রভুত্ব স্বীকার করে তাদের জীবন পরিচালনা করে যাচ্ছে , আর মানুষ তাদের স্রষ্টার বিধান অমান্য করে স্রষ্টার বিকল্প হিসেবে নিজেদের প্রভু ভেবে জীবন পরিচালনা করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে । তাই স্রষ্টার নিয়মানুষারে মানুষ অশান্তির দাবানলে জ্বলছে , আর পশুরা শান্তির সুখরাজ্যে বিচরণ করছে ।

ব্যক্তি,সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় জীবন পরিচালনা করার জন্য  স্রষ্টা যে কল্যাণকর ও পরিপূর্ণকমাত্র জীবন ব্যবস্থা প্রদান করেছেন,তিনি তার নাম  রেখেছেন ইসলাম। এ প্রসংগে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আল কুরআনে ফরমান -নিশ্চয়ই ! আল্লাহর কাছে গ্রহনযোগ্য একমাত্র জীবন ব্যবস্থা হলো ইসলাম(সুরা আলে ইমরানঃ ১৯)।

যেদিন তিনি এই জীবন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ করে দিলেন , সেদিন তিনি তাঁর প্রতিনিধির কাছে পাঠালেন এই জীবন ব্যবস্থা ইসলাম সম্পর্কে বলে দিলেন - আজ আমি তোমাদের জন্য জীবন ব্যবস্থাকে পরিপূর্ণ করে দিলাম,তোমাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে সকল অনুগ্রহ সুসম্পন্ন করে দিলাম এবং ইসলাম কেই (আমার সকল নির্দেশ ও আইন-বিধানের আনুগত্য করে আমার দাসত্ব করার মাধ্যমে আমার কাছে পরিপূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করাকেই) তোমাদের জন্য একমাত্র জীবন ব্যবস্থা হিসাবে মনোনীত করলাম (সুরা মায়েদাঃ ৩)।

সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানব জাতির সকলের উদ্দেশ্যে আল কুরআনে নির্দেশ প্রদান করেছেন- হে মানুষ সকল ! তোমরা সেই রব এর সকল নির্দেশ ও আইন-বিধানের আনুগত্য করে তাঁরই দাসত্ব (ইবাদাত) করো;যিনি তোমাদের এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের সৃষ্টি করেছেন,আশা করা যায় তোমরা (দুনিয়া ও আখিরাতের সকল ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে পারবে। যিনি তোমাদের জন্য যমিনকে বিছানা বানিয়েছেন, আকাশকে ছাঁদ বানিয়েছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে ফল ফসলাদি উৎপন্ন করে তোমাদের জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন,তোমরা এসব জানো। সুতরাং (সাবধান!)কাউকে তাঁর সমকক্ষ গণ্য করোনা (সুরা বাকারাঃ ২১-২২)।

পর্দা সংরক্ষণ সম্পর্কে সৃষ্টিকর্তা মহান রাব্বুল আলামীন ঘোষনা দেন - 
"হে নবী! তুমি তোমার পত্নী, তোমার কন্যা এবং মোমেনগণের পত্নীগণকে বল, যেন তাহারা তাহাদের চাদর নিজেদের উপর (মাথা হইতে টানিয়া মুখমণ্ডল পর্যন্ত) ঝুলাইয়া লয়। এতদ্বারা তাহাদের পরিচয় অত্যন্ত সহজ হইবে এবং তাহাদিগকে কষ্ট দেওয়া হইবে না। বস্তুতঃ আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল,পরম দয়াময়।"(সূরা আহযাবঃ ৬০)

এ সম্পর্কে তিনি আরও ঘোষণা দেন - 
"এবং তুমি মুমেন নারীদিগকে বল,তাহারাও যেন নিজেদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থান সমূহের হিফাযত করে এবং নিজেদের সৌন্দর্যকে প্রকাশ না করে ,কেবল উহা ব্যতিরেকে যাহা স্বাভাবিক ভাবেই প্রকাশ পায়;এবং তাহারা ওড়নাগুলিকে নিজেদের বক্ষদেশের উপর টানিয়া লয়,এবং তাহার যেন তাহাদের স্বামীগণ অথবা তাহাদের পিতাগণ অথবা তাহাদের স্বামীর পিতাগণ অথবা তাহাদের পুত্রগণ অথবা তাহাদের স্বামীর পুত্রগণ অথবা তাহাদের ভ্রাতাগণ অথবা তাহাদের ভ্রাতুষ্পুত্রগণ অথবা নিজেদের ভগ্নি পুত্রগণ অথবা তাহাদের সমশ্রেণীর নারীগণ অথবা তাহারা যাহাদের মালিক হইয়াছে তাহাদের ডান হাত অথবা পুরুষদের মধ্য হইতে যৌন কামনা বিহীন অধীনস্থ ব্যক্তিগণ অথবা নারীদের গোপন বিষয় সমূহ সম্বন্ধে অজ্ঞ বালকগণ ব্যাতীত অপর কাহারও নিকট নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে।" (সুরা নম্বর ২৪ , আয়াত ৩২ )

পর্দা রক্ষায় তাঁর আরও ঘোষণা - 
"তুমি মুমেনদিগকে বল,তাহারা যেন নিজেদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাহাদের লজ্জাস্থান সমূহের হিফাযত করে। ইহা তাহাদের জন্য অত্যন্ত পবিত্রতার কারণ হইবে। নিশ্চয় তাহারা যাহা করে সেই সম্বন্ধে আল্লাহ ভালভাবে অবগত আছেন।" (সুরা নম্বর ২৪ , আয়াত ৩২ )

পর্দা সংরক্ষনে স্রষ্টা রাব্বুল আলামীনের আরও ঘোষনা -সূরা আল আহযাবের ৫৯ নং আয়াতে উল্লেখ আছেঃ

হে নবী আপনি আপনার পত্নী গনকে ও কন্যা গনকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগনকে বলুন,তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজের বউপর টেনে নেয় এতে তাদের চেনা সহজ হবে,ফলে তাদের উত্যক্ত করা হবে না ,আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু ’’


সূরা আন নূরের ৩১ নং আয়াতে উল্লেখে আছেঃ

ঈমানদার নারীদেরকে বলুন,তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যেৌন অঙ্গের হেফাজত করে তারা যেন যা সাধারনতঃ প্রকাশমান ,তাছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে এবং তারা যেন তাদের মাথায় ওরনা বক্ষদেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী,পিতা,শ্বশুর ,পুত্র,স্বামীর পুত্র ,ভ্রাতা ,ভ্রাতুস্পুত্র ,ভগ্নি পুত্র ,স্ত্রীলোক অধিকার ভুক্ত বাদী ,যৌন কামনা মুক্ত পুরুষ ও বালক ,যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ ,তাদের ব্যতিত কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে ,তারা যেন তাদের গোপন সাজ সজ্জা প্রকাশকরার জন্য জোরে পদচারনা না করে মুমিনগন ,তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর ,যাতে তোমরা সফলকাম হও ।’’


সূরা আন নূরের ৩০নং আয়াতে উল্লেখ আছেঃ

মুমিন দেরকে বলুন,তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং যৌনাঙ্গের হেফাজত করে ,এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে । নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবঞিত আছেন ।


 তিনি আরও বলেন - হে নবি,তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে ,কন্যাদেরকে ও মুমিন নারীদেরকে বল,তারা যেন তাদের জিলবাবের কিছু অংশ নিজদের উপর ঝুলিয়ে দেয়,তাদেরকে চেনার ব্যাপারে এটাই সবচেয়ে কাছাকাছি পন্থা হবে। ফলে তাদেরকে কষ্ট দেয়া হবে না। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল,পরম দয়ালু। (সুরা আহযাব-৫৯)

তিনি আরও ঘোষনা দেন - আর তোমরা নিজ গৃহে অবস্থান করবে এবং প্রাক- জাহেলী যুগের মত সৌন্দর্য প্রদর্শন করো না। (সুরা আহযাব-৩৩)

স্রষ্টা রাব্বুল আলামীনের প্রেরিত মানবজাতির কল্যান পথের দিশারী ,মানবজাতির মুক্তিদূত , মানবতার সংরক্ষণের প্রতীক হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
তিনজন মানুষ সম্পর্কে তোমরা আমাকে জিজ্ঞাসা কর না। (অর্থাৎ তারা সবাই ধ্বংস হবে।) যথা :
ক. যে ব্যক্তি মুসলমানদের জামাত থেকে বের হয়ে গেল অথবা যে কুরআন অনুযায়ী দেশ পরিচালনকারী শাসকের আনুগত্য ত্যাগ করল, আর সে এ অবস্থায় মারা গেল।
খ. যে গোলাম বা দাসী নিজ মনিব থেকে পলায়ন করল এবং এ অবস্থায় সে মারা গেল।
গ. যে নারী প্রয়োজন ছাড়া রূপচর্চা করে স্বামীর অবর্তমানে বাইরে বের হল।(হাকেম,সহিহ আল-জামে : ৩০৫৮)

তিনি বলেন,
যে নারী সুগন্ধি ব্যবহার করে বাইরে বের হল,অতঃপর কোন জনসমাবেশ দিয়ে অতিক্রম করল তাদের ঘ্রাণে মোহিত করার জন্য,সে নারী ব্যভিচারিণী।(আহমদ, সহিহ আল-জামে : ২৭০১)

ইমাম আহমদ রহ. উসামা বিন জায়েদের সূত্রে বর্ণনা করেন,
দিহইয়া কালবির উপহার দেয়া,ঘন বুননের একটি কিবতি কাপড় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পরিধান করতে দেন। আমি তা আমার স্ত্রীকে দিয়ে দেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাকে বলেন, কি ব্যাপার, কাপড় পরিধান কর না ? আমি বললাম,আল্লাহর রাসূল,আমি তা আমার স্ত্রীকে দিয়েছি। তিনি বললেন, তাকে বল,এর নীচে যেন সে সেমিজ ব্যবহার করে। আমার মনে হয়,এ কাপড় তার হাড়ের আকারও প্রকাশ করে দেবে। (আহমাদ,বায়হাকি)

নামাজ রোজার মতই পর্দাও একটি ফরজ । অবশ্যই পালনীয় একটা কর্ম । পর্দা শুধু বাহিরে বোরকা বা কালো কাপড়ের আচ্ছাদন ও নেকাব জাতীয় পোষাক এর নাম নয়,এবং এটি শুধু বিশ্বাসী মহিলাদের জন্য পালনীয় ও নয় বরং বালেগ মহিলা-পুরুষ নির্বিশেষে ইসলাম ধর্ম মতে অনুমিত ব্যক্তিবর্গ (মাহরাম) ছাড়া যে কারো কাছ থেকে পুরুষের ক্ষেত্রে নিজের চিন্তা ও দৃষ্টি ,এবং মহিলারদের ক্ষেত্রে চিন্তা,দৃষ্টি ও অঙ্গ হেফাযত করাই পর্দার অন্তর্ভুক্ত।দেহের পর্দা সরে গেলে অন্তরের পর্দা সরে যেতে এবং অন্তরের চরিত্র নষ্ট হতে খুব বেশী সময় লাগে না। লোভে পরা আর লোভ দেখানো উভয়ই উভয়ের জন্যে ক্ষতিকর। অন্তরের পর্দার বা চরিত্রের অজুহাতে দেহের পর্দার বিষয়ে অজুহাত দেয়া উচিত নয়। উভয়ই দরকার।

পর্দা প্রগতির অন্তরায় ’’ বলে যে ধূয়া উঠেছে,তা আমাদের দুমুখো ও মুনাফেকী মনোবৃত্তিরই পরিচায়ক। কেননা এ ধরনের শ্লোগান আল্লাহ তাঁর রাসূলের নির্দেশের বিরুদ্ধে অনাস্থা জ্ঞাপনেরই নামান্তর। এর পরিস্কার অর্থ এই দাঁড়ায় যে,আল্লাহ এবং রাসূল পর্দার ব্যবস্থা করে আমাদের উন্নতি ও প্রগতির পথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছেন (নাউযুবিল্লাহ)।
পর্দা আরবী হিজাব’’ শব্দের বাংলা ও উর্দূ তরজমা। কুরআন মজীদের যে আয়াতে মুসলমানদের আল্লাহ তাআলা রাসূলে করীম (সা. ) -এর ঘরে নিঃসংকোচে ও বেপরোয়াভাবে যাতায়াত করতে নিষেধ করেছেন, তাতে এ হিজাব’’ শব্দই উল্লেখ করা হয়েছে। 
আল্লাহ তাআলা ঘোষনা ,
যদি ঘরের স্ত্রীলোকদের নিকট থেকে তোমাদের কোন জিনিস নেয়ার প্রয়োজন হয়,তাহলে তা হিজাবের আড়াল থেকে চেয়ো।’’ 
কুরআনের এ নির্দেশ থেকেই ইসলামী সমাজে পর্দার সূচনা হয়। আর এ প্রসঙ্গে আরও যত আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে , তার সমষ্টিকেই পর্দার বিধান বলা হয়েছে।
আল কোরআনের সূরায়ে নূর ও সূরায়ে আহযাবে এ সম্পর্কিত নির্দেশাবলী বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। এ সব আয়াতে বলা হয়েছে যে,মহিলারা যেন তাদের মর্যাদা সহকারে আপন ঘরেই বসবাস করে এবং জাহেলী যুগের মেয়েদের মতো বাইরে নিজেদের রূপ সৌন্দর্যের প্রদর্শনী করে না বেড়ায়। তাদের যদি ঘরের বাইরে যাবার প্রয়োজন হয়,তবে আগেই যেন চাদর (কাপড়) দ্বারা তারা নিজেদের দেহকে আবৃত করে নেয় এবং ঝংকারদায়ক অলংকারাদি পরিধান করে ঘরের বাইরে না যায়। ঘরের ভেতরেও যেন তারা মাহরাম (যার সংগে বিয়ে নিষিদ্ধ ) পুরুষ ও গায়রে মাহরাম পুরুষের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে এবং ঘরের চাকর ও মেয়েদের ব্যতীত অন্য কারো সামনে যেন জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরে না বেরোয়।

রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ব্যাখ্যা করে বলেছেন
মহিলাদের সতর হচ্ছে মুখমন্ডল, হাতের কব্জা ও পায়ের পাতা ব্যতীত দেহের অবশিষ্টাংশ। এই সতরকে মোহররম পুরুষ এমন কি পিতা, ভাই প্রভৃতির সামনেও ঢেকে রাখতে হবে। মেয়েরা এমন কোন মিহি কাপড় পরিধান করতে পারবে না যাতে তাদের দেহের গোপনীয় অংশ বাইরে থেকে দৃষ্টিগোচর হতে পারে। তাছাড়া তাদেরকে মোহররম পুরুষ ছাড়া অন্য কারো সাথে ওঠা বসা কিংবা ভ্রমণ করতে রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট ভাষায় নিষেধ করেছেন।

যে সমাজে পর্দা প্রথাকে বিসর্জন দিয়ে নারীকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করে দেয়া হয়েছে,সেখানে পুরুষের মনে সম্ভ্রমবোধ জাগা তো দূরের কথা,বরং নারীর মহান মর্যাদাকেই সেখানে নগ্নতা ও উলংগতার চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে পৌঁছানো হয়েছে। এমনকি,তাতেও যেখানে মানুষের যৌন লালসা নিবৃত্ত হয়নি,সেখানে প্রকাশ্য ব্যভিচারকেই উৎসাহ দেয়া হয়েছে।

তাই পর্দার রক্ষার বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিচ্ছেন , দয়া করে তারা ধৈর্য্য সহকারে ( ইন্টারনেট থেকে সংগৃহিত ) একজন সম্মানীতা নারীর এ প্রবন্ধটি পড়ে দেখুন

পর্দা কি প্রগতির অন্তরায় ?
লিখেছেন - সাইয়েদা পারভীন রেজভী
 ----------------------------------------------------------------------------

১৯৫৫ সনের ২রা মার্চ মুলতান মেডিকেল কলেজে অনুষ্ঠিত তৎকালীন পাকিস্তান আন্তকলেজ বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয়েছিল। বিতর্কের বিষয়বস্তু ছিল পর্দা কি প্রগতির অন্তরায় ! এ প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার লাভ করেছেন মুলতান কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সাইয়েদা পারভীন রেজভী। তিনি পর্দার আড়াল থেকে বক্তৃতা করতে চেয়েছিলেন। অনুমতি না পেয়ে গায়ে চাদর জড়িয়ে তার বক্তব্য পেশ করেছেন।

তিনি বিভিন্ন অকাট্য যুক্তি-প্রমাণাদির সাহায্যে প্রমাণ করেছেন যে,পর্দা কোন মতেই প্রগতির অন্তরায় তো নয়ই বরং মানুষের সার্বিক প্রগতিতে পর্দার বিশেষ ভুমিকা রয়েছে। বিচারকদের শতকরা নিরানব্বই ভাগ রায় তাঁর পক্ষে হয়েছে। এখানে বক্তব্যটি তুলে ধরা হল ।
( ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত )

পর্দার বিধান


পর্দা কি আমাদের জাতীয় ও রাষ্টীয় প্রগতির অন্তরায়? এ প্রশ্নের মীমাংসার পূর্বে একটি কথা উত্তমরূপে জেনে নেয়া আবশ্যক যে,প্রকৃতরুপে পর্দা কাকে বলে?কেননা এতদ্ব্যতীত আমরা পর্দার উদ্দেশ্যপ্রয়োজনীয়তা এবং তার উপকারিতা অপকারিতা সম্যকরূপে উপলব্ধি করতে সক্ষম হব না। অতপর আমাদেরকে এ-ও সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে,আমরা মূলত কোন্ ধরনের প্রগ্রতি অর্জন করতে চাই? কারণ এ বিষয়ে কোন সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত ব্যতিরেকে পর্দা তার অন্তরায় কি না তা যথার্থরূপে অনুধাবন করা সম্ভব হবে না।

পর্দা আরবী হিজাবশব্দের বাংলা ও উর্দূ তরজমা । কুরআন মজীদের যে আয়াতে মুসলমানদের আল্লাহ তায়ালা রাসূলে করীম (সা)-এর ঘরে নিঃসংকোচে ও বেপরোয়াভাবে যাতায়াত করতে নিষেধ করেছেন,তাতে এ হিজাবশব্দই উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন যে,যদি ঘরের স্ত্রীলোকদের নিকট থেকে তোমাদের কোন জিনিস নেয়ার প্রয়োজন হয়,তাহলে তা হিজাবের আড়াল থেকে চেয়ো।

কুরআনের এ নির্দেশ থেকেই ইসলামী সমাজে পর্দার সূচনা হয়। অতপর এ প্রসংগে আর যত আয়াতই নাযিল হয়েছে,তার সমষ্টিকে আহকামে হিজাববা পর্দার বিধান বলা হয়েছে। সূরায়ে নূর ও সূরায়ে আহযাবে এ সম্পর্কিত নির্দেশাবলী বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। ওসব আয়াতে বলা হয়েছে যে,মহিলারা যেন তাদের মর্যাদা সহকারে আপন ঘরেই বসবাস করে এবং জাহেলী যুগের মেয়েদের মতো বাইরে নিজেদের রূপ সৌন্দর্যের প্রদর্শনী করে না বেড়ায়। তাদের যদি ঘরের বাইরে যাবার প্রয়োজন হয়,তবে আগেই যেন চাদর (কাপড়) দ্বারা তারা নিজেদের দেহকে আবৃত করে নেয় এবং ঝংকারদায়ক অলংকারাদি পরিধান করে ঘরের বাইরে না যায়। ঘরের ভেতরেও যেন তারা মোহাররম (যার সংগে বিয়ে নিষিদ্ধ) পুরুষ ও গায়রে মোহাররম পুরুষের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে এবং ঘরের চাকর ও মেয়েদের ব্যতীত অন্য কারো সামনে যেন জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরে না বেরোয়।

অতপর মোহাররম পুরুষদের সামনে বের হওয়া সম্পর্কে ও এ শর্ত আরোপ করা হয়েছে যে,তারা বেরোবার পূর্বে যেন কাপড়ের আঁচল দ্বারা তাদের মাথাকে আবৃত করে নেয় এবং নিজেদের সতর লুকিয়ে রাখে। অনুরূপভাবে পুরুষদেরকেও তাদের মা-বোনদের নিকট যাবার পূর্বে অনুমতি গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে,যেন অসতর্ক মুহুর্তে মা-বোনদের দেহের গোপনীয় অংশের প্রতি তাদের দৃষ্টি পড়তে না পারে।

কুরআন মজীদে উল্লেখিত এই সমস্ত নির্দেশকেই আমরা পর্দা বলে অভিহিত করে থাকি। রাসূলে করীম (সঃ) এর ব্যাখ্যা করে বলেছেন,মহিলাদের সতর হচ্ছে মুখমন্ডল,হাতের কব্জা ও পায়ের পাতা ব্যতীত দেহের অবশিষ্টাংশ। এই সতরকে মোহররম পুরুষ এমন কি পিতা,ভাই প্রভৃতির সামনেও ঢেকে রাখতে হবে। মেয়েরা এমন কোন মিহি কাপড় পরিধান করতে পারবে না যাতে তাদের দেহের গোপনীয় অংশ বাইরে থেকে দৃষ্টিগোচর হতে পারে। তাছাড়া তাদেরকে মোহররম পুরুষ ছাড়া অন্য কারো সাথে ওঠা বসা কিংবা ভ্রমণ করতে রাসূলে করীম (সা) স্পষ্ট ভাষায় নিষেধ করেছেন।

কেবল তাই নয়,রাসূলে করীম (স) মহিলাদেরকে সুগন্ধি মেখেও ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করেছেন। এমনকি তিনি মসজিদে জামায়াতের সাথে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে মহিলাদের জন্য পৃথক স্থান পর্যন্ত নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। নারী ও পুরুষকে মিলিতভাবে একই কামরায় বা একই স্থানে সালাত আদায়ের তিনি কখনো অনুমতি প্রদান করেননি। এমন কি সালাত শেষে খোদ নবী করীম (স) ও তাঁর সহাবাগণ মহিলাদেরকে মসজিদ থেকে আগে বের হওয়ার সুযোগ দিতেন এবং যতক্ষন পর্যন্ত তারা মসজিদ থেকে সম্পূর্ণরূপে বের না হতেন ততক্ষণ পুরুষরা তাঁদের কামরার ভেতরেই অপেক্ষা করতেন।

পর্দার এই সমস্ত বিধান সম্পর্কে যদি কারো মনে সংশয় থাকে,তাহলে তিনি কুরআনের সূরায়ে নূর ও সূরায়ে আহযাব এবং হাদীসের বিশুদ্ধ ও প্রামাণ্য গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন করে দেখতে পারেন। বর্তমান সময়ে আমরা যাকে পর্দা বলে অভিহিত করে থাকি,তার বাহ্যিক রূপে কিছুটা পরিবর্তন সাধিত হয়েছে বটে,কিন্তু মূলনীতি ও অন্তর্নিহিত ভাবধারার দিক দিয়ে রাসূলে করীম (স) কর্তৃক মদীনার ইসলামী সমাজে প্রবর্তিত পর্দা ব্যবস্থারই অনুরূপ রয়ে গেছে। অবশ্য আল্লাহ ও রাসূলের নামে আপনাদের মুখ বন্ধ করা আমার অভিপ্রায় নয়,কিন্তু এ কথা আমি নিতান্ত সততার খাতিরেই বলতে বাধ্য যে,অধুনা আমাদের মধ্যে পর্দা প্রগতির অন্তরায় বলে যে ধূয়া উঠেছে,তা আমাদের দুমুখো ও মুনাফেকী মনোবৃত্তিরই পরিচায়ক। কেননা এ ধরনের শ্লোগান আল্লাহ তাঁর রাসূলের নির্দেশের বিরুদ্ধে অনাস্থা জ্ঞাপনেরই নামান্তর। এর পরিস্কার অর্থ এই দাঁড়ায় যে,আল্লাহ এবং রাসূল পর্দার ব্যবস্থা করে আমাদের উন্নতি ও প্রগতির পথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছেন (নাউযুবিল্লাহ)।

বস্তুত পর্দা সম্পর্কে আমাদের মনে যদি এই বিশ্বাসই বদ্ধমূল হয়ে থাকে,তাহলে নিজেদেরকে মুসলিম বলে পরিচয় দেয়ারই বা আমাদের কি অধিকার আছে?আর যে আল্লাহ এবং রাসূল আমাদের ওপর এমনি একটি যুলুমমূলকব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়েছেন,তাঁদের বিরুদ্ধেই বা আমরা অনাস্থা জ্ঞাপন করি না কেন?বস্তুত এসব প্রশ্নকে এড়িয়ে গিয়ে এ কথা কেউ প্রমাণ করতে পারবে না যে,আল্লাহ এবং রাসূল মূলতই পর্দার কোন নির্দেশ দেননি। কারণ একটু পূর্বেই আমি কুরআন ও হাদীস থেকে উদ্ধৃতি পেশ করে অকাট্যরূপে প্রমাণ করেছি এটা কোন মনগড়া জিনিস নয়- বরং এ আল্লাহ এবং তদীয় রাসূলেরই প্রদত্ত বিধান । এ বিষয়ে আরো বিস্তারিতরূপে কারো জানার আগ্রহ থাকলে তিনি কুরআন-হাদীস থেকেই সরাসরি জ্ঞান লাভ করতে পারেন। আর হাদীসের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে যদি কেউ পর্দার বিধান সম্পর্কে সংশয় পোষণ করতে চান,তাহলে তিনি কুরআন মজীদ থেকেই তার সংশয় নিরসন করতে পারেন। কুরআনে এ সম্পর্কে এত সুস্পষ্ট ও খোলাখুলিভাবে আলোচনা করা হয়েছে যে,তাকে কূটতর্কের বেড়াজাল দিয়ে কোন প্রকারেই আড়াল করে রাখা সম্ভব নয়।


পর্দার উদ্দেশ্য

ইসলামে যে পর্দার বিধান দেয়া হয়েছে,তৎসম্পর্কে একটু তলিয়ে চিন্তা করলে আমরা তার তিনটি উদ্দেশ্য উপলব্ধি করতে পারিঃ প্রথমত,নারী ও পুরুষের নৈতিক চরিত্রের হেফাযত করা এবং নর নারীর অবাধ মেলামেশার ফলে সমাজে যেসব ত্রটি বিচ্যুতির উদ্ভব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে,সে সবের প্রতিরোধ করা। দ্বিতীয়ত,নারী ও পুরুষের কর্মক্ষেত্রকে পৃথক করা,যেন প্রকৃতি নারীর ওপর যে গুরুদায়িত্ব ন্যস্ত করেছে,তা সে নির্বিঘ্নে ও সুষ্ঠুভাবে পালন করতে পারে। তৃতীয়ত,পারিবারিক ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত ও সুদৃঢ় করা। কারণ জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে আর যত ব্যবস্থাই রয়েছে তার ভেতর পারিবারিক ব্যবস্থা শুধু অন্যতমই নয়;বরং এ হচ্ছে গোটা জীবন ব্যবস্থার মূল বুনিয়াদ। তাই যে দেশে বা যে সমাজে পর্দাকে বিসর্জন দিয়ে পারিবারিক ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত করার প্রচেষ্টা চলেছে,সেখানে মেয়েদেরকে শুধু পুরুষদের দাসী ও পদসেবিকাই বানানো হয়েছে এবং তাদেরকে সমস্ত ন্যায্য অধিকার প্রদানের নামে পর্দার বাঁধন থেকে আযাদ করে দেয়া হয়েছে। সেখানে পারিবারিক ব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে গুরুতর বিশৃংখলা। এ ইসলাম নারীকে তার ন্যায্য অধিকার প্রদানের সংগে সংগে পারিবারিক ব্যবস্থাকেও সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করেছে। কাজেই যে পর্যন্ত নারীর অধিকার সংরক্ষণের জন্যে পর্দার ব্যবস্থা না থাকবে, সে পর্যন্ত ইসলামের উদ্দেশ্য মোটেই সফল হতে পারেনা।

আমি আমার মা-বোনদেরকে ইসলামের উপরোক্ত উদ্দেশ্যাবলী সম্পর্কে শান্ত মস্তিষ্কে ধীর স্থীরভাবে চিন্তা করতে অনুরোধ জানাচ্ছি। অবশ্য যদি কেউ নৈতিক চরিত্রের প্রশ্নটিকে বিশেষ গুরুত্বর্পূণ বিষয় বলে মনে না করেন ,তবে তার সে ব্যাধির কোন প্রতিষেধক আমার কাছে নেই। কিন্ত যিনি নৈতিকতাকে জীবনের অমূল্য সম্পদ বলে মনে করেন,তাঁর একথা গভীরভাবে চিন্তা করে দেখা উচিত যে,যে সমাজে মেয়েরা চোখ ঝলসানো -পোশাক পরিচ্ছেদ ও অলংকারাদিতে সুসজ্জিতা হয়ে প্রকাশ্যে নিজেদের রূপ যৌবনের প্রদর্শনী করে বেড়ায় এবং সর্বত্র পুরুষদের সাথে অবাধ মেলামেশা করার সুযোগ পায়,সেখানে তাদের চারিত্রিক মেরুদন্ড ধ্বংসের কবল থেকে কিরূপে রক্ষা করা যেতে পারে? আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি যে,আমাদের দেশে নারী-পুরুষের মধ্যে যারা নিয়মিত খবরের কাগজ পড়ে থাকেন,তারা অনায়াসেই আমার এই উক্তির যথার্থতা উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন। সুতরাং এ বিষয়ে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা নিষ্প্রয়োজন।

কেউ কেউ বলে থাকেন,আমাদের সমাজ জীবনে যেসব অনাচার অনুষ্ঠিত হচ্ছে,তার মূলে নাকি রয়েছে পর্দাপ্রথা এবং পর্দার ব্যবস্থা না থাকলে মেয়েদের সম্পর্কে পুরুষদের নাকি মনে সম্ভ্রম ও শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত হত। যারা এরূপ ধারণা পোষণ করেন,তারা যে নিতান্তই ভ্রান্তির মধ্যে নিমজ্জিত রয়েছেন,তা আমি দৃঢ়তার সাথেই বলতে চাই। কারণ,যে সমাজে পর্দা প্রথাকে বিসর্জন দিয়ে নারীকে সম্পূর্ণ আযাদকরে দেয়া হয়েছে,সেখানে পুরুষের মনে সম্ভ্রম বোধ জাগা তো দূরের কথা,বরং নারীর মহান মর্যাদাকেই সেখানে নগ্নতা ও উলংগতার চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে পৌঁছানো হয়েছে। এমনকি,তাতেও যেখানে মানুষের যৌন লালসা নিবৃত্ত হয়নি,সেখানে প্রকাশ্য ব্যভিচারকেই উৎসাহ দেয়া হয়েছে। এর অনিবার্য প্রতিক্রিয়াস্বরূপ সমাজের বিভিন্ন স্তরে কিরূপ ভাঙন ও বিপর্যয়ের সৃষ্টি হতে পারে,তা আপনারা বৃটেন,আমেরিকা এবং তাদের অনুসারী তথাকথিত প্রগতিশীল দেশগুলোর পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট থেকেই সম্যক অনুধাবন করতে পারেন। আমার মা-বোনদের নিকট জিজ্ঞাস্য যে,পর্দা প্রথাকে বিসর্জন দিয়ে এহেন প্রগতিই কি তারা কামনা করেন?

বস্তুত এটা শুধু নৈতিক প্রশ্নই নয়;বরং এর সংগে আমাদের গোটা তাহযীব-তামাদ্দুন জড়িত রয়েছে। অধুনা দেশে নারী-পুরুষের মিলিত আচার অনুষ্ঠানের মাত্রা যত বেড়ে চলেছে,মেয়েদের পোশক-পরিচ্ছদ ও প্রসাধনী দ্রব্যের ব্যয় বাহুল্য ততই উর্ধমূখী হচ্ছে। এর ফলে একদিকে হালাল উপায়ে অর্থোপার্জনের প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে ,অপরদিকে সুদ,ঘুষ আত্মসাৎ,চোরাকারবারী প্রভৃতি সমাজধ্বংসী পাপাচারেরও ব্যাপক প্রচলন হচ্ছে। বলাবাহুল্য এই সমস্ত হারামখুরীর অভিশাপেই আজ আমাদের সামাজিক কাঠামো ঘুণে ধরা কাঠের ন্যায় দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং এর ফলে আজ দেশে আইনেরশাসনও সঠিকভাবে চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আমি আপনাদেরকে জিজ্ঞেস করতে চাই,যারা নিজেদের ব্যক্তিগত লালসা -বাসনার ব্যাপারে কোন সুনির্দিষ্ট নিয়ম -শৃংখলা মেনে চলতে অভ্যস্ত নয়,সামাজিক ব্যাপারে তারা কিরূপে নিয়ম-শৃংখলার অনুবর্তী হয়ে চলবে ? আর যে ব্যক্তি নিজের পারিবারিক জীবনেই কোন বিধি-বিধানের অনুবর্তী হতে পারে না,রাষ্ট্রীয় জীবনে তার কাছ থেকে আইনের আনুগত্যের আশা করাটা নিতান্তই বাতুলতা নয় কি?


নারী ও পুরুষের কর্মবন্টন

বস্তুত নারী ও পুরুষের কর্মক্ষেত্রকে খোদ প্রকৃতিই স্বতন্ত্র করে দিয়েছে। প্রকৃতি মাতৃত্বের পবিত্র দায়িত্ব সম্পূর্ণ নারীর উপর সোপর্দ করেছে এবং সেই সংগে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত স্থান কোথায়,তাও বাতলিয়ে দিয়েছে। অনুরূপভাবে পিতৃত্বের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে পুরুষের ওপর এবং সেই সংগে মাতৃত্বের মতো গুরুদায়িত্বের বিনিময়ে তাকে আর যেসব কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে,তাও প্রকৃতি সুস্পষ্টরূপে নির্ধারণ করে দিয়েছে। পরন্তু এ উভয় প্রকার দায়িত্ব পালনের জন্য নারী ও পুরুষের দৈহিক গঠন,শক্তি সামর্থ ও ঝোঁক প্রবণতায়ও বিশেষ পার্থক্য সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রকৃতি যাকে মাতৃত্বের জন্য সৃষ্টি করেছে,তাকে ধৈর্য,মায়া মমতা,স্নেহ ভালবাসা প্রভৃতি কতকগুলো বিশেষ ধরনের গুণে গুণান্বিত করেছে। নারীর ভেতরে এসব গুণের সমন্বয় না হলে তার পক্ষে মানব শিশুর লালন পালন করা সম্ভবপর হত কি? বস্তুত মাতৃত্বের মহান দায়িত্ব যার ওপর অর্পণ করা হয়েছে; তার পক্ষে এমন কোন কাজ করা সম্ভব নয়,যার জন্যে রুক্ষতা ও কঠোরতার প্রয়োজন। এ কাজ শুধু তার দ্বারাই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে ,যাকে এর উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে এবং সেই সংগে পিতৃত্বের মতো কঠোর দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

আজকে যারা সমান অধিকারের নামে নারী ও পুরুষের এই প্রকৃতিগত পার্থক্যকে মিটিয়ে দিতে চান,তাদেরকে আমি অনুরোধ করবো,আপনারা এ পথে কোন পদক্ষেপ নেয়ার আগে মনে করে নিন যে,এ যুগে পৃথিবীর আদতেই মাতৃত্বের কোন প্রয়োজন নেই। আমি দৃঢ়তার সংগেই বলতে চাই যে,আপনারা যদি এরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করত পারেন, তাহলে আনবিক ও উদযান বোমার প্রয়োগ ছাড়াই অল্প দিনের মধ্যেই মানবতার চূড়ান্ত সমাধি রচিত হবে। পক্ষান্তরে আপনারা যদি এরূপ সিদ্ধান্ত করতে না পারেন এবং নারীকে তার মাতৃসুলভ দায়িত্ব পালনের সংগে সংগে পরুষের মতো রাজনীতি,ব্যবসায় বাণিজ্য ,শিল্পকার্য ,যুদ্ধপরিচালনা ইত্যাদি ব্যাপারেও অংশ গ্রহণ করতে বাধ্য করেন,তাহলে তার প্রতি নিসন্দেহে চরম অবিচার করা হবে।

আমি আপনাদেরকে ন্যায়নীতির খাতিরে একটু ধীর স্থীরভাবে চিন্তা করতে অনুরোধ জানাচ্ছি। নারীর ওপর প্রকৃতি যে দায়িত্ব ন্যস্ত করেছে,তা নিসন্দেহে মানবতার অর্ধেক সেবা এবং এই সেবাকার্য সে সাফল্যের সংগেই সাধন করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে পুরুষের নিকট থেকে সে বিন্দুমাত্র ও সহযোগিতা পচ্ছে না,অথচ অবশিষ্ট অর্ধেকের অর্ধেক দায়িত্ব ও আবার আপনারা নারীর ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। এর ফল এ দাঁড়াবে যে,নারীকে পালন করতে হবে মোট দায়িত্বের তিন চতুর্থাংশ এবং পুরুষের ওপর বর্তিবে মাত্র এক-চতুর্থাংশ। আমি আপনাদেরকে বিনীতভাবে জিজ্ঞেস করতে চাই নারীর প্রতি এ কি আপনাদের সুবিচার?

অবশ্য মেয়েরা এ যুলুম অবিচারকে মেনে নিচ্ছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে এ যুলুমের বোঝাকে স্বেচ্ছায় কাঁধে তুলে নেয়ার জন্য লড়াই করছে তার মূল কারণ হচ্ছে এই যে,তারা পুরুষদের কাছে যথার্থ সমাদর পাচ্ছে না। ঘর সংসার ও মাতৃত্বের মতো কঠিন দায়িত্ব সঠিকরূপে পালন করা সত্ত্বেও আজ তারা সমাজে উপেক্ষিত ,অপাংক্তেয়। সন্তানবতী ও গৃহিনী মেয়েদেরকে আপনারা ঘৃণা করেন এবং স্বামী ও সন্তান-সন্ততির এত সেবা -যত্ন করা সত্ত্বেও আপনারা তাদের যথার্থ কদর করছেন না। অথচ এই সমস্ত কার্যে তাদের যে বিপুল ত্যাগ স্বীকার করতে হয় তা পুরুষদের সামাজিক,রাষ্ট্রীয়,অর্থনৈতিক ও যুদ্ধ বিগ্রহ সংক্রান্ত দায়িত্বের চাইতে কোন অংশেই কম নয়। বস্তুত এসব কারণেই মেয়েরা আজ অনন্যোপায় হয়ে দ্বিগুণ দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হচ্ছে। তারা পরিস্কার দেখতে পাচ্ছে যে,পুরুষ-সুলভ কার্যে অগ্রসর না হলে সমাজে তাদের যথাযোগ্য মর্যাদা নেই।


নারী ও প্রগতি

ইসলাম মাতৃত্বের দায়িত্ব পালন করার দরুন নারীকে শুধু পুরুষের সমান মর্যাদা দেয়নি,বরং কোন কোন পুরুষের চাইতেও বেশী মর্যাদা দিয়েছে। কিন্তু এটাকে আপনারা প্রগতির অন্তরায় বলে উপেক্ষা করছেন। আপনাদের দাবী হচ্ছে নারী মাতৃত্বের গুরুদায়িত্ব পালন করবে মাজিষ্ট্রেট হয়ে জেলার শাসন কার্যও পরিচালনা করবে এবং নর্তকী ও গায়িকা হয়েও আপনাদের চিত্তবিনোদনও করবে। কী অদ্ভুত আপনাদের খেয়াল।

বস্তুত আপনারা নারীর ওপর দায়িত্বের এরূপ দুরূহ বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন,যার ফলে সে কোন কাজই সুষ্ঠুভাবে সমাধা করতে পারছেনা। আপনারা তাকে এমন সব কাজে নিযুক্ত করছেন,যা জন্মগতভাবেই তার প্রকৃতি বিরুদ্ধ। শুধু তাই নয়,আপনারা তাকে তার সুখের নীড় থেকে টেনে এনে প্রতিযোগিতার ময়দানে দাঁড় করাচ্ছেন,যেখানে পুরুষের মুকাবিলা করা তার পক্ষে কোনক্রমেই সম্ভব নয়। এর স্বাভাবিক পরিণতি এই দাড়াবে যে,প্রতিযোগিতামূলক কাজে সে পুরুষের পেছনে পড়ে থাকতে বাধ্য হবে। আর যদি কিছু করতে সক্ষম হয় তবে তা নারীত্বের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যকে বিসর্জন দিয়েই করতে হবে। তথাপি এটাকেই আপনারা প্রগতি বলে মনে করেন আর এই তথাকথিত প্রগতির মোহেই আপনারা ঘর সংসার ও পারিবারিক জীবনের মহান কর্তব্যের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করছেন। অথচ এই ঘর-সংসারই হচ্ছে মানব তৈরীর একমাত্র কারখানা । এ কারখানার সাথে জুতা কিংবা পিস্তল তৈরির কারখানার কোন তুলনাই চলে না। কারণ এ কারখানা পরিচালনার জন্য যে বিশেষ ধরনের গুণাবলী,ব্যক্তিত্ব ও যোগ্যতা আবশ্যক,প্রকৃতি তার বেশীর ভাগ শক্তিই দিয়েছেন নারীর ভেতরে। এ কারখানার পরিসর বিস্তৃত-কাজও অনেক। যদি কেউ পরিপূর্ণ দায়িত্বানুভুতি সহাকারে এ কারখানার কাজে আত্মনিয়োগ করে ,তার পক্ষে বাইরের দুনিয়ায় নযর দেয়ার আদৌ অবকাশ থাকে না;বস্তুত এ কারখানাকে যতখানি দক্ষতা ও নৈপূন্যের সাথে পরিচালনা করা হবে,ততখানি উন্নত ধরনের মানুষই তা থেকে বেরিয়ে আসবে। কাজেই এ কারখানা পরিচালনার উপয়োগী শিক্ষা ও ট্রেনিংই নারীর সবচাইতে বেশী প্রয়োজন। এ জন্যেই ইসলাম পর্দাপ্রথার ব্যবস্থা করেছে। মোদ্দাকথা,নারী যাতে তার কর্তব্য থেকে বিচ্যুত হয়ে বিপথে চালিত না হয় এবং পুরুষও যাতে নারীর কর্মক্ষেত্রে অন্যায়ভাবে প্রবেশ করতে না পারে,তাই হচ্ছে পর্দার লক্ষ্য।

আপনারা আজ তথাকথিত প্রগতির মোহে পর্দার এ বিধানকে ধ্বংস করতে উঠে পড়ে লেগেছেন। কিন্তু আপনারা যদি এ উদ্দেশ্যে অটল থাকতে চান,তাহলে এর পরে দুটি পথের একটি আপনাদের অবলম্বন করতে হবে,হয় ইসলামের পারিবারিক ব্যবস্থার সমাধি রচনা করে আপনাদের হিন্দু কিংবা খৃষ্টানদের ন্যায় নারীকে দাসী ও পদসেবিকা বানিয়ে রাখতে হবে,নতুবা দুনিয়ার সমস্ত মানব তৈরির কারখানা ধ্বংস হয়ে যাতে জুতা কিংবা পিস্তল তৈরীর কারখানা বৃদ্ধি পায়,তার জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকতে হবে।

আমি আপনাদেরকে এ কথা দৃঢ়তার সাথে জানিয়ে দিতে চাই যে,ইসলামের প্রদত্ত জীবন বিধান ও সামাজিক শৃংখলা ব্যবস্থাকে চুরমার করে দিয়ে নারীর সামাজিক মর্যাদা এবং পারিবারিক ব্যবস্থাকে বিপর্যয়ের কবল থেকে বাচিঁয়ে রাখা কোনক্রমেই সম্ভব নয়। আপনারা প্রগতি বলতে যাই বুঝে থাকুন না কেন,কোন পদক্ষেপ নেয়ার আগে আপনাদের সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন যে,আপনারা কি হারিয়ে কি পেতে চান। প্রগতি একটি ব্যপক অর্থবোধক শব্দ। এর কোন নির্দিষ্ট কিংবা সীমাবদ্ধ অর্থ নেই। মুসলমানরা এককালে বংগোপসাগর থেকে আটলান্টিক মহাসাগর পর্যন্ত বিশাল বিস্তৃত রাজ্যের শাসনকর্তা ছিল । সে যুগে ইতিহাস দর্শন ও জ্ঞান বিজ্ঞানে তারাই ছিল দুনিয়ার শিক্ষা গুরু। সভ্যতা ও কৃষ্টিতে দুনিয়ার কোন জাতিই তাদের সমকক্ষ ছিলনা। আপনাদের অভিধানে ইতিহাসের সেই গৌরবোজ্জল যুগকে প্রগতির যুগ বলা হয় কিনা জানি না। তবে সেই যুগকে যদি প্রগতির যুগ বলা যায় তাহলে আমি বলব : পর্দার পবিত্র বিধানকে পুরোপুরি বজায় রেখেই তখনকার মুসলামনরা এতটা উন্নতি লাভ করতে সমর্থ হয়েছিল।

ইসলামের ইতিহাসে বড় বড় বৈজ্ঞানিক,দার্শনিক,চিন্তানায়ক,আলেম ও দিগ্বীজয়ী বীরের নাম উজ্জল হয়ে রয়েছে। সেসব বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিগণ নিশ্চয়ই তাদের মূর্খ জননীর ক্রোড়ে লালিত পালিত হননি। শুধু তাই নয়,ইসলামী ইতিহাসের প্রতি দৃষ্টিপাত করলে আমরা বহু খ্যাতনামা মহিলার নামও দেখতে পাই। সে যুগে তারা জ্ঞান-বিজ্ঞানে দুনিয়ায় অসাধারণ প্রসিদ্ধি অর্জন করেছিলেন। তাঁদের এই উন্নতি ও প্রগতির পথে পর্দা কখনই প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়নি। সুতরাং আজ যদি আমরা তাঁদেরই পদাংক অনুসরণ করে প্রগতি অর্জন করতে চাই তাহলে পর্দা আমাদের চলার পথে বাধার সৃষ্টি করবে কেন?


পর্দাহীনতার পরিণতি

অবশ্য পাশ্চাত্যের জাতিসমূহের বল্গাহীন জীবনধারাকেই যদি কেউ প্রগতিবলে মনে করেন তাহলে তার সে প্রগতির পথে পর্দা নিসন্দেহে প্রতিন্ধক হয়ে দাঁড়াবে। কেননা পর্দার বিধান মেনে চললে পাশ্চাত্য কায়দার প্রগতি অর্জন করা আদৌ সম্ভব নয়। কিন্তু আপনারা জেনে রাখুন,এ তথাকথিত প্রগতির ফলেই পাশ্চাত্যবাসীদের নৈতিক ও পারিবারিক জীবন আজ চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। সেখানে নারীকে তার নিজস্ব কর্মক্ষেত্র থেকে টেনে এনে পুরুষের কর্মক্ষেত্রে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে নারীও তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্যকে বিসর্জন দিয়ে পুরুষের সাথে প্রতিযোগিতা শুরু করে দিয়েছে। এর ফলে-অফিস আদালত ও কল-কলখানার কাজে কিছুটা উন্নতি সাধিত হয়েছে বটে। কিন্তু সেই সংগে সেখানকার পারিবারিক জীবন থেকেও শান্তি শৃংখলা বিদায় নিয়েছে। তার কারণ,যে সকল নারীকে অর্থোপার্জনের জন্যে বাইরে বাইরে ঘুরে বেড়াতে হয় তারা কখনো পারিবারিক শৃংখলা বিধানের প্রতি মনোযোগ দিতে পারেনা,আর তা সম্ভবও নয়।

এ জন্যেই আজ পাশ্চাত্যের অধিবাসীরা পারিবারিক জীবনের চাইতে হোটেল,রেস্তোরা ও ক্লাবের জীবনেই বেশী অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। সেখানে বহু মানব সন্তান ক্লাব রেস্তোরাতেই জন্মগ্রহণ করে,আর ক্লাব-রেস্তোরাঁতেই জীবনের শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে। মাতা-পিতার স্নেহ মমতা তারা কোনদিনও উপভোগ করতে পারে না। অপরদিকে দাম্পত্য অশান্তি, বিবাহ-বিচ্ছেদ এবং যৌন অনাচার সেখানে এরূপ প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে যে,আজ সেখানকার মনীষীরাই তাদের অন্ধকার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আতঁকে উঠছেন। মোদ্দাকথা,পশ্চিমা সভ্যতা বাহ্যিক চাকচিক্যের পশ্চাতে মানুষের জীবনধারাকে এমনি এক পর্যায়ে নিয়ে পৌঁছিয়েছে,যেখানে মানবতার ভবিষ্যত সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। এরূপ বল্গাহীন ও উচ্ছৃংখল জীবন ধারাকে যদি কেউ প্রগতির পরিচায়ক বলে মনে করেন,তবে তিনি তা সানন্দেই গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু ইসলাম এরূপ অভিশপ্ত জীবনকে আদৌ সমর্থন করে না।

এ ছাড়া দেখুন , নারীর মর্যাদা, অধিকার ও ক্ষমতায়ন  বিষয়ে এ প্রবন্ধটিও -
( ইন্টারনেট থেকে সংগৃহিত )
------------------


ইসলামে নারীর মর্যাদা, অধিকার ও ক্ষমতায়ন
লিখেছেন শাহ আব্দুল হান্নান
----------------------------

সমাজে নারীর অবস্থান এবং অধিকার নিয়ে আমরা নানা কথা শুনে থাকি ৷নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা বিষয়ে বর্তমানে যে কথাগুলো বলা হয় ,তার মধ্যে অনেকগুলোই গ্রহণযোগ্য ৷আবার কিছু কথার সাথে দ্বিমত পোষণ করার অবকাশ আছে৷ নারী-পুরুষ সকলেরই অধিকার প্রতিষ্ঠা হওয়া অনস্বীকার্য ৷কারণ সমাজ দিনে দিনে সামনে এগুচ্ছে৷ তাই শুধু নারী বা পুরুষের নয়,বরং সকল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হতে হবে ৷

গত পঞ্চাশ বছরে সমাজ অনেকটা এগিয়েছে ৷এ সময়ে পুরুষের সাথে নারীরাও সমান-সমান না হলেও,এগিয়ে এসেছে ৷ বেগম রোকেয়ার সময়ে যে সমাজ ছিল ,সে সমাজকে আমরা অনেক পেছনে ফেলে এসেছি ৷ তিনি দেখেছিলেন যে,সে সময়ে মেয়েরা লেখাপড়ার কোন সুযোগই পেতনা ৷সে সময়ে বেগম রোকেয়া জন্ম না নিলে এবং নারী শিক্ষার ব্যাপারে সাহসী উদ্যোগ না নিলে আজ আপনারা নারীরা কেউই কিন্তু পড়ালেখা শিখতে পারতেন না ৷অবশ্য আল্লাহ তায়ালা নিশ্চয়ই তখন অন্য কোন নারীকে পৃথিবীতে পাঠাতেন যিনি এই কাজটি করতেন ৷যা হোক,আমি সেদিকে গেলাম না৷ কারণ একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমার আলোচনা শেষ করতে চাই ৷

সারা পৃথিবীতে,বিশেষ করে আমাদের দেশে মানুষের উপর,বিশেষ করে নারীর উপর যে অত্যাচার চলছে তার একটা ফাউন্ডেশন আছে ,ভিত্তি আছে৷ অত্যাচারটা আকাশ থেকে আসছে না ৷নারীর উপরে পুরুষের ,কোন কোন ক্ষেত্রে নারীর যে অত্যাচার তার 'আইডিওলজিক্যাল ফাউন্ডেশন'টা হলোঃ সাধারণভাবে মানুষ বিশ্বাস করে-বিশেষ করে পুরুষরা বিশ্বাস করে যে- নারী পুরুষের চেয়ে ছোট ,তাদের কোয়ালিটি খারাপ এবং তারা নিচু৷ এই বিশ্বাস অবশ্য নারীর মধ্যেও কিছুটা বিদ্যমান৷ মানুষের মধ্যে কতগুলো বিভ্রান্তি থেকে এ বিশ্বাসের জন্ম৷ আর এই বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে আছে নারীর উপর অবহেলা,বঞ্চনা এবং নির্যাতন ৷

এখন আমাদের দেশ থেকে যদি নারী নির্যাতন বন্ধ করতে হয় ,তবে ইসলামকে বাদ দিয়ে তা করা যাবে না৷ আমি এটা খুব পরিষ্কারভাবে আপনাদের বলতে চাই যে ,ইসলামকে বাদ দিয়ে আমাদের মত দেশে ( যে দেশে মূলত নব্বই ভাগ মানুষ মুসলিম ) চলা যাবে না৷ যারা ইসলাম থেকে বিদ্রোহ করেছে তারা কিন্তু টিকতে পারেনি ,পারছে না৷ এক মহিলা বিদ্রোহ করেছিলেন -আমি নাম বলবো না -তার পরিণতি ভাল হয়নি৷ খারাপ হয়েছে ৷বিনীতভাবে বলতে চাই যে ,ইসলামের 'ফ্রেমওয়ার্ক '-এর মধ্যে আমরা যদি এগুতে পারি ,তবে তা সব চাইতে ভাল হবে৷ আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ,ইসলামে এরকম একটি 'ফ্রেমওয়ার্ক'আছে ,যা নারীদের সামনে এগিয়ে দিতে পারে ৷

আমি ইসলামকে বিকৃত করতে চাইনা ,বিকৃত করার পক্ষেও নই এবং ইসলামের কোনো টেম্পোরারী ব্যাখ্যা দেয়ার পক্ষে নই ৷ সত্যিকার অর্থেই ইসলাম নারীকে ক্ষমতায়িত করেছে এবং নারীকে সম্মানিত করেছে ৷ নারীকে অধিকার দিয়েছে ৷সেগুলো ব্যাখ্যা করার আগে আমি আইডিওলজিক্যাল ফাউন্ডেশন -এর নতুন ভিত্তি যেটা হতে পারে সেটা বলতে চাই ৷

কি সেই ভিত্তি ? যে ভিত্তির ওপর নারী -পুরুষের মৌলিক সাম্য বিদ্যমান ? আল্লাহ মানুষের চেহারা এক রকম করেন নাই ৷ সকল দিক থেকে রহ  in every dot যে কোনো দু'টি মানুষ সমান নয় ৷ ওজন ,উচ্চতা ,রঙ ,শিক্ষা ইত্যাদি সবকিছুতে একটি মানুষ থেকে আরেকটি মানুষ আলাদা ৷ কিন্তু মৌলিকভাবে প্রতিটি মানুষ সমান৷ আল্লাহ্র কাছে সমান৷ তার চারটি প্রমাণ আমি আপনাদের দিচ্ছি ৷

১. আল্লাহ তায়ালা এ কথা খুব স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন,মূল মানুষ হচ্ছে 'রূহ'৷ যাকে আমরা 'আত্মা'বলি ৷ মূল মানুষ কিন্তু শরীর না৷ দেহ তো কবরে পঁচে যাবে ৷ আমরা যারা ইসলাম বিশ্বাস করি তারা জানি ,মূল মানুষ হচ্ছে 'রূহ'৷আল্লাহ সকল মানুষকে,তার রূহকে একত্রে সৃষ্টি করেন,একই রকম করে সৃষ্টি করেন এবং একটিই প্রশ্ন করেন৷ আল্লাহর প্রশ্নের উত্তরও নারী-পুরুষ সকলে একই দিয়েছিল৷ আমি সূরা আরাফের একটি আয়াত বলিঃ ( বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম) 'ওয়া ইজা আখাজা রাব্বুকা'(যখন আল্লাহ তায়ালা বের করলেন),'মিম বানি আদামা'(আদমের সন্তানদের থেকে),'মিন জুহুরিহিম '(তাদের পৃষ্ঠদেশ থেকে-এটা একটা রূপক কথা ) 'জুররিয়াতাহুম '(তাদের সন্তানদেরকে ৷ অর্থাৎ সকল আত্মাকে) এবং সাক্ষ্য নিলেন তাদের ওপরে ,'আমি কি তোমাদের প্রভু নই ? 'তারা সকলে বললো - সকল পুরুষ এবং নারী বললো,'বালা '(হ্যাঁ ) ,'সাহেদনা '(আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,আপনি আমাদের প্রভু ) ৷( আয়াত নং-১৭২,সূরা আরাফ ) তার মানে আল্লাহ্র সঙ্গে একটি পয়েন্টে সকল নারী এবং পুরুষের একটি চুক্তি হলো যে,আপনি আমাদের প্রভু;আমরা আপনাকে মেনে চলবো ৷এক্ষেত্রে পুরুষের চুক্তি আলাদা হয়নি ৷নারীর চুক্তি আলাদা হয়নি৷ সুতরাং আমরা দেখলাম ,আমাদের Ideological foundation এর প্রথম কথা হচ্ছে এই যে,মূল মানুষ হচ্ছে 'রূহ'এবং তা সমান৷ এই সাম্যের পরে যদি কোনো অসাম্য থেকে থাকে তাহলে তা অত্যন্ত নগন্য Insignificant, Very Small ;তার মানে হচ্ছে ,মানুষের আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব এক এবং সে মানুষ হিসেবে এক৷ এটি হলো নারী -পুরুষের সাম্যের প্রথম ভিত্তি ৷

২. আমরা পুরুষরা গর্ব করি যে,আমাদের শারীরিক গঠন বোধহয় নারীর তুলনায় ভালো,আল্লাহ বোধহয় আমাদেরকে তুলনামূলকভাবে শ্রেষ্ঠ করে বানিয়েছেন এবং মেয়েরা আনকোয়ালিফায়েড ৷কিন্তু আল্লাহ একটি কথা কোরআনে খুব পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন যে ,সকল মানুষের মধ্যে পার্থক্য আছে,কিন্তু প্রতিটি মানুষ ফার্ষ্ট ক্লাশ ৷যারা নামাজ পড়েন তারা এই আয়াতটা জানেন ,সূরা 'ত্বীন'-এ আল্লাহ বলছেন (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম) 'লাকাদ খালাক্বনাল ইনছানা ফি আহছানি তাক্বওয়ীম'(নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম কাঠামোতে -পুরুষকে বলেন নাই ) ৷তার মানে আমাদের গঠনে পার্থক্য আছে ,আমরা এক না,আমরা ভিন্ন কাঠামোর ৷কিন্তু সবাই ফার্ষ্ট ক্লাস,সবাই ফার্ষ্ট ক্লাস ৷সুতরাং নারী -পুরুষের মৌলিক সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য,নতুন নারী আন্দোলনের জন্য অথবা নতুন মানব আন্দোলনের জন্য পুরুষদের এ কথা বলা ঠিক না যে ,মেয়েদের স্ট্রাকচার খারাপ ৷আল্লাহ্ তাতে অসন্তুষ্ট হবেন ৷আপনারা যারা মোমেন,যারা বিশ্বাসী-তারা এ কথা বলবেন না ৷সুতরাং নারী-পুরুষের মৌলিক সাম্যের এটা হলো দ্বিতীয় প্রমাণ ৷ মৌলিক এ কারণে বলছি যে ,নারী-পুরুষের মধে ছোটোখাটো পার্থক্য বিদ্যমান ৷

৩. আল্লাহ তায়ালা সুস্পষ্টভাবে বলছেন যে,সকল মানুষ এক পরিবারের ৷আদম এবং হাওয়া পরিবারের ৷ সূরা নিসার প্রথম আয়াতে আল্লাহ বলছেন ,"হে মানব জাতি ,সেই রবকে তুমি মানো যিনি তোমাদেরকে একটি মূল সত্ত্বা (নফস) থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং সেই সত্ত্বা থেকে তার সাথীকে সৃষ্টি করেছেন এবং এই দুই জন থেকে তিনি অসংখ্য নারী ও পুরুষ সৃষ্টি করেছেন"৷তার মানে আমরা এক পরিবারের ৷

আমরা হচ্ছি বনি আদম ৷আদমের সন্তান ৷আল্লাহ পাক কোরআন শরীফে অন্ততঃ ২০/৩০ বার বলেছেন ,'ইয়া বনি আদামা '(হে আদমের সন্তানেরা ) ৷বাপ-মা এবং সন্তানেরা মিলে যেমন পরিবার তৈরী হয়,তেমনি ইসলামের দৃষ্টিতে মানব জাতি একটি পরিবার ৷সব পরিবারের ওপর হলো মানব জাতির পরিবার ৷তার মানে আমাদের মৌলিক সম্মান ও মর্যাদা ,তা সমান ৷ছোট খাটো কারণে আমাদের মধ্যে পার্থক্য হয়ে যায় ৷তবে জাগতিক মর্যাদা আসল মর্যাদা না ৷

আইনের ভাষায় যেমন বলা হয়,আইনের চোখে সকল মানুষ সমান,তেমনি আল্লাহর কাছেও সবাই সমান ৷ আল্লাহ্র কাছে সম্মানের একমাত্র ভিত্তি হলো 'তাক্বওয়া'৷আল্লাহ বলেন নাই যে,তার কাছে পুরুষ সম্মানিত বা নারী সম্মানিত ৷
আল্লাহ বলছেন,
ইন্না আকরামাকুম ইন্দাল্লাহি (আল্লাহর কাছে),'আতক্বাকুম'(যে মেনে চলে আল্লাহকে) ৷ 
আল্লাহ্র কাছে যদি মর্যাদার এই ভিত্তি হয়,তাহলে মানুষের পার্থক্যে কি কিছু যায় আসে ?  আল্লাহ বলছেন তিনি 'তাক্বওয়া 'ছাড়া (আল্লাহকে কে মানে আর কে মানেনা) কোনো পার্থক্য করেন না ৷

" অতঃপর আমরা এক পরিবারের সন্তান,আমাদের মৌলিক মর্যাদা সমান ৷''(সূরা হুজুরাত ,আয়াত -১৩) 

আরেকটি কথা,কোরআনের সূরা নিসার একটি আয়াতের শেষ অংশে আল্লাহ বলছেন "এবং ভয় পাও সেই আল্লাহকে বা মান্য করো সেই আল্লাহকে ,যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে অধিকার দাবী করে থাক ৷এবং ভয় পাও ' গর্ভ'-কে বা 'মা'-কে৷ আল্লাহ বলছেন 'গর্ভ'-কে ভয় পাও ৷কোরআন শরীফের এই আয়াতটির তফসিরে সৈয়দ কুতুব নামে মিশরের একজন বিখ্যাত আলেম লেখেন ,এই ভাষা পৃথিবীর কোনো সাহিত্যে কোরআনের আগে লেখা হয় নাই ৷আল্লাহ 'গর্ভ '-কে ভয় করতে বলে মা '-কে সম্মান করার কথা বলেছেন,নারী জাতিকে সম্মান করার কথা বলেছেন ৷সুতরাং আমাদের মৌলিক সামাজিক মর্যাদা এক্ষেত্রেও সমান বলে প্রতীয়মান হলো ৷এটা আমাদের নতুন আইডিওলজিক্যাল ফাউন্ডেশনের তৃতীয় প্রমাণ ৷

৪. আল্লাহ্ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টির সময় বলে দিলেন যে,
"তোমরা সবাই খলিফা" ৷তিনি বললেন,"ইন্নি জায়লুন ফিল আরদে খলিফা "৷আল্লাহ বলেন নাই যে,নারী পাঠাচ্ছেন বা পুরুষ পাঠাচ্ছেন ৷ এমনকি তিনি বলেন নাই যে ,তিনি মানুষ পাঠাচ্ছেন;আল্লাহ বললেন,তিনি খলিফা পাঠাচ্ছেন ৷পাঠালেন মানুষ,বললেন খলিফা ৷মানুষকে তিনি খলিফা নামে অভিহিত করলেন ৷খলিফা মানে প্রতিনিধি ৷আমরা পুরো মানব জাতি হচ্ছি আল্লাহর প্রতিনিধি ৷পুরুষ ,নারী নির্বিশেষে আমরা প্রত্যেকে তাঁর প্রতিনিধি-আল্লাহর প্রতিনিধি ৷ তবে এ কথা ঠিক যে ,যদি আমরা গুণাহ্ করি,অন্যায় করি,খুন করি,অত্যাচার করি,জুলুম করি,ঈমান হারিয়ে ফেলি,তাহলে আমাদের খলিফার মর্যাদা থাকে না ৷কিন্তু মূলতঃ আমরা আল্লাহ পাকের খলিফা ৷(কুরআন ২:৩০; ৩৫:৩৯)

এই খলিফার মর্যাদার মধ্যেই রয়েছে সকল ক্ষমতায়ন ;যে ক্ষমতায়নের কথা আমরা বলি ৷ক্ষমতা ছাড়া কেউ কোনো দায়িত্ব পালন করতে পারে না ৷খেলাফতের দায়িত্ব পালন করতে গেলে প্রত্যেক নারী এবং পুরুষের কিছু ক্ষমতা লাগবে ৷ নারীর ক্ষমতায়নের ভিত্তি এই খেলাফতের মধ্যে রয়েছে ৷শুধু নারী নয়,'খেলাফত 'শব্দের মধ্যে নারী,পুরুষ,গরিব,দুর্বল সকলের ক্ষমতায়নের ভিত্তি রয়েছে ৷সুতরাং নারী পুরুষ মৌলিক সাম্যের এটি হলো চতুর্থ প্রমাণ ৷

ইসলাম চায় every man, every woman, every person should be empowered ;কিন্তু এই মুহর্তে যদি নারীরা বঞ্চিত থেকে যায়,তবে তাদেরকে ক্ষমতায়িত করতে হবে ৷পুরুষরা কোনোদিন বঞ্চিত হলে তাদেরকে ক্ষমতায়িত করতে হবে ৷তবে যে বঞ্চিত তার কথা আমাদের আগে ভাবতে হবে ;নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য বর্তমানে আমাদের আগে কাজ করতে হবে ৷

আজকে আপনাদের আলোচনায় মেয়েদের আসল কাজ কি,তা নিয়ে কথা উঠেছে ৷তারা কি ঘরে বসে থাকবে ? এমন প্রশ্ন উঠেছে ৷কোনো মেয়ে যদি তার স্বাধীন সিদ্ধান্তে ঘরে থাকতে চায়,তার সেটা করার অধিকার আছে ৷পুরুষের ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রযোজ্য ৷কিন্তু আল্লাহ কোথাও বলেন নাই যে,নারীদের ঘরে বসে থাকতে হবে ,বাইরের কাজ নারীরা করতে পারবে না ৷বরং আল্লাহ মূল দায়িত্ব নারী -পুরুষের একই দিয়েছেন ৷ সূরা 'তওবা'র ৭১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন যে,নারী পুরুষের দায়িত্ব ৬টি ৷আয়াতটি এরকম : মোমেন পুরুষ এবং মোমেন নারী একে অপরের অভিভাবক (ওয়ালী) ,একে অপরের বন্ধু,একে অপরের সাহায্যকারী (এই আয়াত কোরআন শরীফের সর্বশেষ সূরা সমুহের একটি ৷উল্লেখিত বিষয়ে আগে যে সকল আয়াত আছে সেগুলোকে এই আয়াতের আলোকে ব্যাখ্যা করতে হবে) ৷এই আয়াতে বলা হয়েছে যে,নারী পুরুষ একে অপরের অভিভাবক,গার্জিয়ান ৷অনেকে বলে যে,নারী গার্জিয়ান হতে পারে না ৷কিন্তু আল্লাহ বলেছেন,নারী গার্জিয়ান হতে পারবে ৷মূল কোরআনে এ ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই ৷ নারী -পুরুষের নির্ধারিত ৬টি ডিউটি হলোঃ

ক. তারা ভালো কাজের আদেশ দিবে ৷

খ. মন্দ কাজের ব্যাপারে নিষেধ করবে ৷
গ. উভয়ে নামাজ কায়েম করবে ৷
ঘ. যাকাত দিবে ৷
ঙ. আল্লাহকে মানবে ৷
চ. রসুলকে মানবে ৷


এসব কথার মাধ্যমে আল্লাহ নারীদের সকল ভাল কাজে অংশগ্রহণের কথা বলেছেন ৷এটাই ইসলামের নীতি ৷এ বিষয়ে আল্লাহ বলেছেন যে ,যারা এই ৬টি দায়িত্ব পালন করবে তাদের ওপর আল্লাহ তায়ালা রহমত করবেন ৷কোরআনের বেশ কয়েকটি তফসির পড়ে এবং পবিত্র কোরআন ও সুন্নাতে রাসুলে পুরোপুরি বিশ্বাসী একজন মানুষ হিসেবে আমি বিশ্বাস করি যে,এই ছয়টি দায়িত্বের মধ্যে নারী পুরুষ সবাই সমান ৷রাজনীতি ,সমাজসেবা ইত্যাদি সব কাজই এ ৬টির আওতায় পড়ে ৷

আমার মনে হয় আমরা ইসলামের মূল জিনিস পরিত্যাগ করে ছোট-খাটো জিনিস নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি ৷ মানুষের তৈরী বিভিন্ন কিতাবের ওপর নির্ভর করছি ৷আল্লাহর মূল কিতাবকে আমরা সেই তুলনায় গুরুত্ব দিচ্ছি বলে মনে হচ্ছে না ৷শেষে একটি কথা বলি ,ইসলামকে যদি আপনারা অন্যের মাধ্যমে শেখেন ,তবে আপনারা কখনোও মুক্তি পাবেন না ৷আপনাদেরকে কোরআনের পাঁচ-ছয়টি তাফসির নিজে পড়তে হবে ৷ অনেকে অনুবাদের মধ্যে তাদের নিজেদের কথা ঢুকিয়ে দেয় ৷ ফলে পাঁচ-ছয়টি বই পড়লে আপনারা বুঝতে পারবেন কোথায় মানুষের কথা ঢুকছে;আর আল্লাহর কথাটা কি ৷কয়েক রকম ব্যাখ্যা পড়লে আপনি ঠিক করতে পারবেন কোন ব্যাখ্যাটা ঠিক ৷মেয়েদের মধ্যে বড় তাফসিরকারক হয়নি ৷এটা মেয়েদের ব্যর্থতা ,মেয়ে তাফসিরকারকদের থাকলে হয়তো gender bias হতো না ৷তবে কোরআন শরীফের কিছু তাফসীর আছে যেগুলো free from gender bias ;যেমন মোহাম্মদ আসাদের " দি ম্যাসেজ অব কোরআন "৷

লেখক সাবেক সচিব,বাংলাদেশ সরকার

দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর ২৩তম উজ্জীবক প্রশিক্ষণে দেয়া  বক্তব্যের সংকলিত অংশ৷

==========================