আমি তো মনে করি, একজন প্রফেশনাল প্রেমের কবিতা লেখক যেমন প্রেমের কবিতা লিখে জীবনে বেঁচে থাকার তাগিদে অর্থ উপার্জন করে তেমনি আমি অপেশাদার লেখক হিসাবে প্রেমের কবিতা লিখি বেঁচে থাকার তাগিদে মনের সুখ উপার্জনের জন্য। সুতরাং পেশাদার প্রেমের কবিতা লেখক এবং অপেশাদার প্রেমের কবিতা লেখকদের মধ্যে আমি অমিল খুঁজে পাইনা এ কারণেই যে, দুজনেই জীবনের বাঁচার তাগিদে প্রেমের কবিতা লিখে। তবে কেন .... ?
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা
বাংলা ভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী
সকল মহান ভাষা শহীদগণের প্রতি,
এবং ভাষা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত
সকল ভাষা সৈনিক
ও বীর বাঙ্গালীদের জানাই অশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলী,
সেইসাথে সকলকে জানাই
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা।
বিষয় সূচী
APNAKE SHAGOTOM
সকলকে বাংলা নতুন বছরের শুভেচ্ছা
অথচ একদিন আমরা বাঙ্গালী জাতি একতাবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রীয় ভাষা উর্দুকে ত্যাগ করে নিজেদের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা তথা বাংলা ভাষাকে সর্বত্র প্রচলন করতে প্রাণ দিতে বাধ্য হয়েছিলাম ! ফলে বিজাতীয় ভাষা উর্দূকে অপসারন করে নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলার স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলা ভাষাকে ধারন করেছিলাম । যখন আমরা বাংলার সর্বত্র বাংলা ভাষায় কথা বলা শুরু করেছিলাম ,তখন কিন্তু বিশ্বায়নের যুগটা অনুপস্থিত ছিল তা নয় , বিশ্বায়নের যুগটা তখনও ছিল বিধায় আমরা ইংরেজী শিক্ষায় তখনও বাধ্য ছিলাম । অর্থাৎ যে জন্যে আজ আমরা ইংরেজী শিখছি সেইজন্যে তখনও ইংরেজী শিক্ষার প্রচলন ছিল । ছিল ইংরেজী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাও । তাই বলে সে সময় বর্তমান সময়ের মত মাতৃভাষা বাংলাকে অবমাননা করা হয়নি । মানুষ সে সময় বাংলায়ই কথা বলেছিল । শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রেই সে সময় ইংরেজী ব্যাবহার করেছিল বাঙ্গালী জাতি ।
conduit-banners
Powered by Conduit |
রবিবার, ২২ মে, ২০১৬
পেশাদার প্রেমের কবিতা লেখক এবং অপেশাদার প্রেমের কবিতা লেখক দু'জনেই জীবনের বাঁচার তাগিদে প্রেমের কবিতা লিখে
আমি তো মনে করি, একজন প্রফেশনাল প্রেমের কবিতা লেখক যেমন প্রেমের কবিতা লিখে জীবনে বেঁচে থাকার তাগিদে অর্থ উপার্জন করে তেমনি আমি অপেশাদার লেখক হিসাবে প্রেমের কবিতা লিখি বেঁচে থাকার তাগিদে মনের সুখ উপার্জনের জন্য। সুতরাং পেশাদার প্রেমের কবিতা লেখক এবং অপেশাদার প্রেমের কবিতা লেখকদের মধ্যে আমি অমিল খুঁজে পাইনা এ কারণেই যে, দুজনেই জীবনের বাঁচার তাগিদে প্রেমের কবিতা লিখে। তবে কেন .... ?
শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০১৫
আসছে ফাগুনে দেখা হবে...
বুধবার, ২২ মে, ২০১৩
এতটুকুই ভুল - মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
শুক্রবার, ৯ নভেম্বর, ২০১২
একদিন খুঁজবে আমায়
শনিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১২
মনহীন এক মানুষ তুমি
বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১২
নীলটিপের আড়ালে
সোমবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১২
যেওনা ফিরে
বৃহস্পতিবার, ২৩ আগস্ট, ২০১২
অবশেষে আসলে তুমি
মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট, ২০১২
গোলাপেরও কাঁটা আছে
( নিজ হাতে বানানো , কাপড় দিয়ে তৈরী
কৃত্রিম গোলাপ দিয়ে প্রেম নিবেদনকারিনী
সেই “ ফারহানা ’’কে )
শুক্রবার, ৩ আগস্ট, ২০১২
একটি মেয়ের জীবনসঙ্গী পছন্দের বর্ণনা
দূর্গের উপরে যখন বসলাম । একথা ওকথার পর মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলাম -
বলতো তোমার জীবন সঙ্গী কেমন চাও ? (আসলে ওর ভাই-ই আমাকে জিজ্ঞেস করতে বলেছিল তার কেমন ছেল পছন্দ)
- হঠাৎ এ প্রশ্ন কেন ?
- জানতে চাইলাম আর কি ? দেখি আমি তোমার উপযুক্ত কি না ? (একটু যোগ করলাম)।
- ও তাই ! সাহস তো কম না !
- এতে আবার সাহস লাগে নাকি ? একটা কথা জিজ্ঞেস করতে যদি সাহস লাগে , তবে আর পুরুষ হলাম কেন ?
- এই জন্যই তুমি আমার বন্ধু । যা বল অকপটে। সেটা খারাপ হোক আর ভাল । মনে আসলেই বলে ফেললে , আর তাতে কেউ রেগে যায় কি না দেখনা ! সত্যি তুমি খুব সহজ সরল ।
- থাক আর প্রশংস করতে হবেনা । যা জিজ্ঞেস করেছি তার উত্তর দাও ।
- উত্তর কি দিতেই হবে ?
- তোমার অসুবিধা হলে দিওনা , চল বের হয়ে যাই ( একটু রাগের ভান করলাম। সে জানে আমি একবার রাগলে তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ রাখি কম্পক্ষে পনের দিন)।
- তোমাকে নিয়ে এই হচ্ছে একটা সমস্যা । নাকের ডগায় যেন তোমার রাগ কিলবিল করে ।
- আর তোমাকে নিয়ে কোন সমস্যা নাই ?
- বল আমাকে নিয়ে কি সমস্যা ?
- এইযে ডুবে ডুবে প্রেম কর আর আমাকে কিছু জানাওনা । কেমন বন্ধু তুমি ?
- আমি প্রেম করি ! তোমাকে কে বলল ?
- কেউ বলতে হবে নাকি ? তোমার আচার আচরণেই তো বুঝা যায় ।
- কি আচরণ দেখেছ যে , আমি প্রেম করছি মনে হচ্ছে ?
- এই যে দুপুর দুইটায় ফোন করে জানালে এক্ষুনি বের হও , ঘুরতে যাব । প্রেম না করলে কি কেউ কাউকে বলে ?
- আহারে আমার প্রেমিকরে ! বিড়ি খায়না , সিগারেট খায়না , মদ খায়না , প্রেম কারে কয় তাও জানেনা , তার সাথে করব আমি প্রেম ! তুমি জাস্ট আমার বন্ধু। যদি প্রেম করতে চাও আজ থেকে বন্ধুত্ব কাট। আর প্রেম তো প্রশ্নই আসেনা।
- ওই তাই ! বুঝতে পারলাম ।
- কি বুঝতে পারলে ?
- তোমার কেমন ছেলে পছন্দ তা।
- কচু বুঝেছ । কচু চিন ?
- তুমি কয়টা কচু চিন সটা বল আগে ।
- কেন ওলকচু , মানকচু । আর কি কোন কচু আছে নাকি ?
- বুঝেছি তুমি কচু চিন , তবে যাতকচু, গুরা কচু , ছড়া কচু এগুলি চিননা ।
- আমি জন্মেছি শহরে । এতগুলো চিনব কি করে । তুমি গ্রামে জন্মেছ তাই তুমি অতসব জান ।
- তাইলে আবার বললে কেন যে আমি কচু চিনি কি না ?
- সরি ।
- হ , গ্রামের মানুষদের শহুরেরা সরি বললেই তারা মনে করে তাদের কেল্লাফতে। তাই ত বলি - কেন আমার সাথে প্রেম করতে তোমার বাধা ? আমি গ্রামের আর তুমি শহরের । কোথায় আকাশ আর কোথায় পাতাল ! ঠিক আছে । প্রেম করতে হবেনা আমার সাথে । আমি নিজেও জানি আমি তোমার উপযুক্ত না । বামন কখনো চাঁদের দিকে হাত বাড়িয়ে চাঁদ ধরতে পারেনা । এখন বল তোমার কেমন ছেলে পছন্দ?
- তুমি তো রেগে গেছ দেখছি । আমি বুঝতে পারিনি তুমি এত রেগে যাবে । সরি বন্ধু , মাফ করে দাও ।
- নাতো আমি রাগিনি । গ্রামের মানুষদের শহুরেদের সামনে রাগ করা শোভা পায়না। তেমনি আমারও না ।
- ঠিক আছে যতক্ষণ পার তুমি বলে গায়ের ঝাল মিঠাও , তবু রাগ করোনা। তুমিই তো আমার একমাত্র বন্ধু , যার সাথে আমার মনের সব কথা শেয়ার করি।
- ওকে , বাবা আমি রাগ করিনি । এখন বল তোমার কেমন ছেলে পছন্দ ?
- তুমি এই কথা নিয়ে আছ কেন ? কারো দালালী নিয়েছ নাকি ?
- দালালী নিলেই বা ক্ষতি কি যদি আমার বন্দুর কোনদিন উপকার হয় ।
- বুঝলামনা । উপকার মানে ?
- তোমার এত বুঝার কাম নেই । আপাতত উত্তর দিলেই চলবে ।
- ঠিক আছে উত্তর দিচ্ছি একটা শর্তে ।
- কি শর্ত ?
- এ কথা জানত চাচ্ছ কেন ?
- সেটা কয়েকদিন পরে বললে হয়না ?
- আজকে বললে অসুবিধা কি ?
- অসুবিধা আছে বলেইতো আজ বলা যাবেনা। যদি বলতে না চাও থাক , বলার দরকার নেই ।উঠ সন্ধ্যা হয়ে গেছে ।
- আবারও রাগ ! ঠিক আছে বাবা , বলছি । আমি এমন ছেলে পছন্দ করি - যে সিগারেট খায় , মদ খায় , নেশাখোর , সিনেমা দেখে , গুন্ডামী করে , মিথ্যা বলে , নারীদের প্রতি আসক্ত , সবসময় সেক্সুয়্যাল কথা বলে , লজ্জাহীন , ধুকাবাজ , চঞ্চল , বে-পরোয়া , লোভী , ধর্মাসক্ত নয় , মেয়ে দেখলেই যার জীবে জল আসে , মেয়েদের যে ছ্যাকা দিতে জানে , লড়াকু , শক্তিশালী , তেজোদীপ্ত , প্রতিজ্ঞাভঙ্গকারী , লুচ্ছা , বদমাস এই ধরণের ছেলেই আমার পছন্দ!
- এটা কি আমাকে থাপ্পড় দিলে নাকি আমাকে শিক্ষা দিলে ।
- না বন্ধু , কোনটাই না । যা সত্য তাই বলেছি । আমরা বেশীরভাগ মেয়েরা এই ধরণের ছেলেই পছন্দ করি। সহজ সরল ছেলেদের পছন্দ করে জীবন বরবাদ করে ফায়দা কি ?
- তবে তো তোমার পছন্দগুলির প্রত্যেকটি বিষয়ে ভাল করে জানতে হবে । কেন তোমাদের এই ধরণের ছেলে পছন্দ?
- আজকেই কি সব জানতে চাও ? সব আজকে জানিয়ে দিলে অন্যদিন কি বলব ? চল বেরিয়ে পড়ি । মাগরিবের সময় হয়ে গেছে । অন্যদিন বলব ।
সেদিনকার মত তার কাছ থেকে বিদায় নিলাম মৌছাক মোড়ে এসে । তারপর আরও একদিন …
=====================
সোমবার, ১৬ জুলাই, ২০১২
অখ্যাত এক প্রেমের গল্প (০১)
*দেখতেই পারেন , পুরুষ মানুষ তো সব সময় রাস্তা দিয়েই হেঁটে যায় কারনে , অকারনে।
** না , তা নয় । আপনাকে বিশেষ একটা স্থানে দেখেছি।
* আচ্ছা দেখেছেন ভাল কথা , এখন আপনি কি চান তাই বলুন ।
** আচ্ছা মানুষ তো আপনি ! বলার পরিবেশ করতে পারলেই তো বলব, নাকি ?
* তবে কি আপনি বলতে চান - এটা দুষিত পরিবেশ !
** দুষিত ছিলনা , আপনার ব্যবহারে দুষিত হয়ে যাচ্ছে !
*ও তাই ! আমি কি আপনাকে তেমন কিছু বলেছি যে , আপনার ইজ্জত হানি হতে যাচ্ছে !
** বড় বিচিত্র মানুষ তো আপনি !
* আপনি কি আমাকে চিড়িয়াখানার চিড়িয়া ভাবছেন নাকি !
** আপনাকে তাই যদি ভাবা যেতো তবু ভাল হতো।
* বুঝেছি আপনার সাথে প্রেমের আলাপ না করাতেই মনে হয় আপনার খারাপ লাগছে।
** এই তো রেল তার লাইনের উপরে উঠতে শুরু করেছে।
* সেটা আগে বলবেন তো , আমাকে কোথাও দেখার ভান করে আপনি প্রেম করতে চাইছেন ! তবেই তো আপনকে কোলে বসিয়ে প্রেমের আলাপ শুরু করতাম।
** আপনি না একটা সীজ !
* দেইখেন সীজ কে পছন্দ করে , আবার বুকে জড়িয়ে ফেলতে যাবেন না।
** জড়িয়ে ফেলতে পারলে তো ভালই হতো , এত কথা বলা লাগতোনা।
* তাই , তবে বাধা দিচ্ছে কে ? সাহস থাকলে ...
** সাহস দেখতে চান ?
* দেখতে চাইনা , তবে দেখাতে চাইলে কেউ কি বাধা দিয়ে রাখতে পারে ?
** বুঝেছি , আপনাকে সেজে দিলে আপনি মানাও করেন না।
*এতই যখন বুঝেন এত কথা কেন ?
** কোন কথা না বলে , কিছু দেয়াতে কি মজা আছে ?
* তবে তো আপনি মজাও করতে জানেন দেখছি।
** মজা আর দেখাতে দিলেন কই ?
* আমি কি আর দেওয়া লাগে ? এতক্ষণ সেজ সেজে যে মজা দেখালেন...
** চলুন না একটু নিরিবিলি স্থানে বসে আলাপ করি ।
* কেন আপনি আমার কে ? পুলিশে দেখলে সোজা মুতাওয়া অফিসে । জানেন তো ?
** না জানলে কি এতক্ষণ আপনার সাথে কথা বলতাম ?
* বুঝলাম না।
** এত বুঝার কাম নেই । যা বলছি তাই করেন ।
* আপনি কি আমার ঘরণী নাকি যে , আপনার কথায় আমি উঠব বসব ?
** এই তো বুঝে গেছেন পুলিশে জিজ্ঞেস করলে কি পরিচয় দিতে হবে !
* মানে ?
** আবার মানে ? আমরা স্বামী-স্ত্রী ! বিয়ে করে বেড়াতে এসেছি।
* ঠিক আছে , তাই বলবো । তবে এক বিছানায় থাকতে রাজি আছেন তো ?
** আপনি না বেশী কথা বলেন ।
* হাঁ , সব সুবিধা আপনি ভোগ করবেন , আর আমার সুবিধার কথা বললে আমি বেশী কথা বলি , তাই না ?
** আচ্ছা , সুবিধা - অসুবিধা চিনেন আপনি ?
* কেন আপনি এখনো বুঝতে পারেননি , বুঝিয়ে দিতে হবে ?
** বুঝিয়ে দেয়ার দরকার নেই , অনেক বুঝে ফেলেছি ।
* কি বুঝেছেন ?
** এই , আপনি সুবিধাভোগী , স্বার্থপর ।
* আমি যদি তাই হই , আপনি ?
** এভাবে কি শুধু প্রশ্নোত্তর পর্ব চলবে ?
* আর কি করতে চান আপনি ?
** সেটা দেখানোর জন্যই তো বলছি একটু নিরিবিলিতে চলুন।
* ঠিক আছে , চলুন । দেখি আপনি কি দেখাতে চান ।
** চলুন ।
বলেই সেই ছেলেটির হাত ধরে টেনে নিয়ে বসাল এমন এক স্থানে , যেখানে দু'জনকে কেউ দেখবেনা। ছেলেটি বসেই বললো -
* কি দেখাবেন দেখান ।
** দেখাচ্ছি ।
এই বলেই মেয়েটি ছেলেটিকে কাছে টেনে নিয়ে .....। এখানেই মেয়েটির সাথে ছেলেটির প্রথম দিনের পরিচয় পর্ব শেষ । শুরু হয় তিনদিন পর দ্বিতীয় দিনের পরিচয় পর্ব।
সোমবার, ৯ জুলাই, ২০১২
আমি এক পরাজিত সৈনিক
[বিঃদ্রঃ - এ লেখাটি উৎসর্গ করছি মীরপুর ঢাকার সেই ফারহানাকে (যার ছদ্ধনাম ছিল আজমুন্নাহার) – যে ২০ বছর আগে এ লেখাটি পড়ে পাঠিয়েছিল নিজ হাতে বানানো কাপড়ের একটা লালগোলাপ।
এ লেখাটি “সাপ্তাহিক দেশচিত্রের” ২৩–২৯ নভেম্বর – ১৯৯২ইং ১ম বর্ষ , ৪৯ সংখ্যা এবং একই সময়ের “অপরাধচিত্র” পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। প্রকাশিত হয়েছে দেখলাম আজই একটি ব্লগে-(http://dsore.blogspot.com/2011/10/blog-post_29.html)। এটি কিছুটা সংশোধন করে পুনরায় প্রকাশ করা হলো।]
*******************
জীবনযুদ্ধে আজ আমি এক পরাজিত সৈনিক। সকলের ঘৃণার পাত্র। সকলের কাছে আজ আমি এক অবাঞ্চিত ছেলে। সকলের খেলনার পুতুল। সকলের ষড়যন্ত্রে নিষ্পেষিত সমাজের এক দুষ্টগ্রহ। সমাজের কাছে চক্ষুসুল এক ব্যক্তি। পিতার নিরাদর, মায়ের মমতাহীনতা , ভাই-বোনদের অবজ্ঞা , ভাবীদের ঘৃণা , বন্ধুদের ষড়যন্ত্র , বান্ধবীদের প্রতারণা , শুভাকান্খীদের ছলনা , প্রতিবেশীদের তীরস্কার , সমাজের লাঞ্চনা , গ্রামের হেয়কার , দশের বাহির , দেশের গণনাহীনতায় আজ আমি অসহায়। ভীষণ পিপাসার্ত আমি। হৃদয় আমার জর্জরিত , শরীরের তাবৎ গীটগুলো লালাহীন। প্রতিটি শিরা-উপশিরায় ব্যর্থতার ছাপ সুস্পষ্ট। আত্মগ্লানীতে সমগ্র শরীর আজ বিষাদময় কন্টকে আবৃত।
আজ আমাকে দেখলেই পিতার স্নেহ জাগে স্বকরুন ভাবাবেগে। মায়ের মমতা নাড়া দেয় তার হৃদয়খণির অবাঞ্চিত স্থান থেকে। ভাই-বোনদের অবজ্ঞা তাদের কপালের উপর প্রকাশ ঘটে। ভাবীদের ঘৃণা প্রস্ফুটিত হয় লাল গোলাপের ন্যায়। বন্ধুদের ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার হয় আপাদমস্তক। বান্ধবীরা প্রতারণা করতে সুযোগ খুঁজে। শুভাকান্খীদের ছলনা ধারণ করে তীব্রবেগ। প্রতিবেশীরা উদ্যত হয় তিরস্কারে। সমাজ দান করে লাঞ্চনা। গ্রামবাসী হেয় মনে করে। দশজনের বাইরে পাতা হয় আমার আসন। দেশের আদমশুারীতে রাখা হয় আমায় গণনার বাহিরে।
আজ আমাকে দেখলেই ভাবীরা শব্দ করে ঘরের কপাট বন্ধ করে ছুঁড়ে ঘৃণার তীর। বোনেরা ধরে অপরিচিত রূপ। ভাগ্নে-ভাগ্নিরা মামা বলে স্বীকার করতে কষ্ট অনুভব করে। চাচা-চাচী ভিন্ন চোখে জরিপ করে। ভাতিজা-ভাতিজী চাচা বলতে সংকোচবোধ করে। আত্মীয়-স্বজন পরিচয় গোপন করে মুখ ফিরায়। প্রিয়জন করে মুখের উপর থুথু নিক্ষেপ। প্রেমিকা প্রেমের প্রতিদান চায় সম্পদের জয়কারে। ছাত্রবন্ধু চায় পকেটে টাকার ভাঁজ। শিক্ষক চায় প্রাইভেট পড়ানোর নামে টাকা উপার্জনের সুযোগ।
কিন্তু আমাকে কেউ চায়না। চায় আমার কাছ থেকে হাসিল করে নিতে যার যার উদ্দেশ্য। এটাই আমার বিগত জীবনের চাওয়া , পাওয়া আর অভিজ্ঞতা। তীক্ষ্ন অথচ ক্ষুদ্র , কম অথচ বিস্তর পরীক্ষার আয়োজন করে সকলের কাছ থেকে আমি এতটুকু সম্পদই সঞ্চয় করতে পেরেছি। এখন আমার এটাই একমাত্র সঞ্চিত ধন।
তবে যদি আমি প্রত্যেক বিষয়ে পাহাড়ের মত অটল আর নদীর স্রোতের মত গতিময় হতে পারতাম , যদি পারতাম বজ্রের ন্যায় হুন্কার ছাড়তে , হাতীর ন্যায় শরীর গড়তে , বাচালের ন্যায় বক বক করতে , রাক্ষসের ন্যায় ভক্ষণ করতে , বাঁদরেরে ন্যায় যত্রতত্র থাবা মারতে , নির্লজ্জের ন্যায় বেহায়া কথা বলতে , অভদ্রের ন্যায় গর্জিয়ে কথা বলতে , ভিখারীর প্রসারিত হাতকে লাথ্থি মেরে গুড়িয়ে দিতে , ভুখাদের কুড়ানো অন্নের থালা দরোজা বন্ধর ছলে ধাকা মেরে ছিটিয়ে ফেলে দিতে , অসহায়দের পাতানো হাতে থুথু দিতে , এতিমদের তাবৎ সম্পত্তি ভোগ করতে , অন্নের ঘাম ঝরানো সম্পদ জবর দখল করে নিজের অধিকারে নিয়ে আসতে – তবে হয়তো প্রতিষ্ঠা পেতাম সমাজের একজন আদরনীয় ব্যক্তি ও ব্যক্তিত্ব হিসাবে , বসার সুযোগ পেতাম সমাজের প্রতিটি স্তরে , নাম লেখাতে পারতাম বর্তমান মুখোশধারী ভদ্দরনোকদের মত সুশীল সমাজে (?) এর মানুষদের কাতারে , রাষ্ট্রীয় গণনায় দেশের নাগরিক হিসাবে পরিচিত হতে পারতাম। পারতাম উঁচুতলার মানুষদের জলসায় শামীল হতে , হতে পারতাম গ্রাম বা দেশবাসীর মাথার মুকুট ।
আজ আমি হয়েছি জীবনযুদ্ধে পরাজিত এক সৈনিক। জীবনটা তাই আজ হয়েছে বড়ই দূর্বীসহ। আমি এই দূর্বীসহ সৈনিক জীবন থেকে মুক্তি চাই। চাই নির্মল ও সুস্থ সমাজের একজন সদস্য হতে।====================
রবিবার, ২৪ জুন, ২০১২
তোমারই অপেক্ষায়
বৃহস্পতিবার, ২১ জুন, ২০১২
বৃষ্টি দিনের ভালোবাসার কথন : পর্ব-০২
আমি জবাব দিলাম -আমাদের এখনে যে বৃষ্টি তা কেউ দেখতে পায়না। যে বৃষ্টিতে ভিজে সয়লাব হয়ে যায় বালিশের সর্বাঙ্গ। ভাগ্য ভাল ফোমের বালিশ চুষে নেয় ,তাই রাস্তার স্রোত হয়ে বহেনা ।
আশ্চর্যাম্বিত আমি। এতগুলো বছর পেরিয়ে আজ একি দেখছি আমি ! আমাদের এ কথাটা আমরা দু'জন ছাড়া আর কেউতো জানেনা ! তবে -কার ম্যাসেজ ?ভালভাবে দেখলাম আবার ম্যাসেজটি। না ঠিকই আছে। কিন্তু কে পাঠালো ?সে নয়তো ? ১৯ বছর পর নতুন করে আবার কি করে এলো সেই বসন্তের ডাক ?
কেন যেন বৃষ্টি ভাল লাগতো দু'জনেরই। " আষাঢ়ে মেঘের" তর্জন গর্জনে প্রকম্পিত ঢাকা নগরী । এরই মাঝে আমরা বেরিয়ে পড়তাম ডেটিং এ। রাস্তা থাকতো ফাঁকা। হতো তুমুল ধারে বৃষ্টি। রিক্রাওয়ালা চেয়ে থাকতো মীরপুর সেকসন ৬ এর সেই ছোট্ট গলিটার দিকে। কখন ডাক পড়বে তার তাই প্লাষ্টিক জড়িয়ে রেডি থাকতো সে। আমাকে বলতো ভাইয়া ,আর কটু সবুর করন ,আমি টের পাচ্ছি এখনই চলে আসবেন আপা।













