আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা

বাংলা ভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী

সকল মহান ভাষা শহীদগণের প্রতি,
এবং ভাষা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত

সকল ভাষা সৈনিক
ও বীর বাঙ্গালীদের জানাই অশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলী,
সেইসাথে সকলকে জানাই

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা।

বিষয় সূচী

সাহিত্য (60) অন্যান্য কবিতা (53) ভালোবাসার পদবিন্যাস ( প্রেম সম্পর্কিত রচনা বিশেষ ) (53) আমার লেখা প্রবন্ধ-নিবন্ধ (37) কবিতা (35) দেশ নিয়ে ভাবনা (33) ফিচার (33) বাংলাদেশ (29) সমসাময়িক (28) খন্ড কাব্য (26) হারানো প্রেম (22) সংবাদ (18) কাল্পনিক প্রেম (16) ইতিহাস (15) প্রতিবাদ (15) সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ (15) Online Money Making Links (14) দেশাত্মবোধক কবিতা (13) আমার জীবনের দিনপঞ্জী (12) ধর্ম (12) প্রেমের কবিতা (11) ব্যক্তিত্ব (11) রাজনীতি (11) ধর্মীয় আন্দোলন (10) প্রবাসের কবিতা (10) খন্ড গল্প (9) জীবন গঠন (9) বর্ণমালার রুবাঈ (9) ইসলাম (8) প্রগতি (8) মানুষ ও মানবতা (8) হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ (8) VIDEOS (7) আমার লেখালেখির অন্তরালে (7) ইসলামী জাগরণ (7) মানব মন (7) ট্র্যাজেডি (6) শোক সংবাদ (6) সম্প্রীতি (6) নারী স্বাধীনতা (5) প্রেমের গল্প (5) বিজয় দিবসের ভাবনা (5) মৃত্যুপথ যাত্রী (5) সংবাদ মাধ্যম (5) স্মৃতিকথা (5) ঈদ শুভেচ্ছা (4) প্রবাস তথ্য (4) রমজান (4) শুভেচ্ছা (4) Computer Programer (3) আমার ছবিগুলো (3) আমার রাইটিং নেটওয়ার্ক লিংক (3) পর্দা (3) ফটিকছড়ি (3) বাংলাদেশের সংবিধান (3) বিশ্ব ভালবসা দিবস (3) শিক্ষা (3) শিক্ষার্থী (3) স্লাইড শো (3) News (2) VERIETIES POEMS OF VERIOUS POETS (2) আষাঢ় মাসের কবিতা (2) আষাঢ়ের কবিতা (2) ইসলামী রেনেসাঁ (2) ছাত্র-ছাত্রী (2) থার্টি ফাস্ট নাইট (2) নারী কল্যান (2) নারী প্রগতি (2) নির্বাচন (2) বর্ষার কবিতা (2) মহাসমাবেশ (2) শবেবরাত (2) শরৎকাল (2) শাহনগর (2) শ্রদ্ধাঞ্জলী (2) সত্য ঘটনা (2) সত্য-মিথ্যার দ্বন্ধ (2) সফলতার পথে বাংলাদেশ (2) Bannersআমার ছবিগুলো (1) DXN (1) For Life Time Income (1) For Make Money (1) Knowledge (1) Student (1) অদ্ভুত সব স্বপ্নের মাঝে আমার নিদ্রাবাস (1) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (1) আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত(সুন্নী) (1) উপন্যাস (1) কবি কাজী নজরুল ইসলাম (1) কোরআন - হাদিসের কাহিনী (1) গল্প (1) চট্টগ্রাম (1) চিকিৎসা ও চিকিৎসক (1) জমজম (1) জাকাত (1) তরুন ও তারুণ্য (1) নারী জাগরণ (1) পরকিয়ার বিষফল (1) ফটিকছড়ি পৌরসভা (1) বন্ধুদিবস (1) বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেম (1) বিবেক ও বিবেকবান (1) বিশ্ব বাবা দিবস (1) বিশ্ব মা দিবস (1) ভ্রমণ (1) মন্তব্য (1) মাহফুজ খানের লেখালেখি (1) রবি এ্যাড (1) রমজানুল মোবারক (1) রেজাল্ট (1) রোগ-পথ্য (1) লংমার্চ (1) শহীদ দিবস (1) শুভ বাংলা নববর্ষ (1) শৈশবের দিনগুলো (1) সমবায় (1) সস্তার তিন অবস্থা (1) সাভার ট্র্যাজেডি (1) সিটি নির্বাচন (1) স্বপ্ন পথের পথিক (1) স্বাধীনতা (1) হ্যালো প্রধানমন্ত্রী (1) ২১ ফেব্রোয়ারী (1)

APNAKE SHAGOTOM

ZAKARIA SHAHNAGARIS WRITING

সকলকে বাংলা নতুন বছরের শুভেচ্ছা

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আমরা আর বাংলা ভাষায় কথা বলতে চাইনা । নিজের মাতৃভাষাকে যখন-তখন যেখানে সেখানে অবমাননা করে তৎপরিবর্তে ইংরেজী ভাষা ব্যবহার করতে অভ্যাস্থ হয়ে যাচ্ছি বা হয়ে গেছি ।
আরও একটু এগিয়ে গেলে বলতে হয় - আমরা আজ বাঙ্গালী হয়ে বাঙ্গালী জাতিসত্বা ভুলে গিয়ে ইংরেজী জাতিসত্বায় রক্তের ন্যায় মিশে গেছি !

অথচ একদিন আমরা বাঙ্গালী জাতি একতাবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রীয় ভাষা উর্দুকে ত্যাগ করে নিজেদের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা তথা বাংলা ভাষাকে সর্বত্র প্রচলন করতে প্রাণ দিতে বাধ্য হয়েছিলাম ! ফলে বিজাতীয় ভাষা উর্দূকে অপসারন করে নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলার স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলা ভাষাকে ধারন করেছিলাম । যখন আমরা বাংলার সর্বত্র বাংলা ভাষায় কথা বলা শুরু করেছিলাম ,তখন কিন্তু বিশ্বায়নের যুগটা অনুপস্থিত ছিল তা নয় , বিশ্বায়নের যুগটা তখনও ছিল বিধায় আমরা ইংরেজী শিক্ষায় তখনও বাধ্য ছিলাম । অর্থাৎ যে জন্যে আজ আমরা ইংরেজী শিখছি সেইজন্যে তখনও ইংরেজী শিক্ষার প্রচলন ছিল । ছিল ইংরেজী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাও । তাই বলে সে সময় বর্তমান সময়ের মত মাতৃভাষা বাংলাকে অবমাননা করা হয়নি । মানুষ সে সময় বাংলায়ই কথা বলেছিল । শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রেই সে সময় ইংরেজী ব্যাবহার করেছিল বাঙ্গালী জাতি

conduit-banners

Powered by Conduit

ফ্লাগ কাউন্টার

free counters

MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY

PLEASE CLICK ON MY BANNERS. VISIT MY AFFILIATE SITE "MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY ( অনলাইনে অর্থোপার্জনের একটা মাধ্যম )" I HOPE IT WILL BE HELPFUL FOR YOU. Create your own banner at mybannermaker.com!
হারানো প্রেম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হারানো প্রেম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২২ মে, ২০১৬

পেশাদার প্রেমের কবিতা লেখক এবং অপেশাদার প্রেমের কবিতা লেখক দু'জনেই জীবনের বাঁচার তাগিদে প্রেমের কবিতা লিখে

একদা ভালবাসার বাগান তৈরী করে মনে 
যখন ফুটিয়েছি জুঁইফুল, 
মুখ ফিরিয়ে নিয়েছ তুমি
ভেঙ্গে দিয়েছ আমার মনের দুইকুল।
-------------------------------------

-:মুখবন্ধ :- 
বেশ অনেকদিন পর আবারও প্রেমের কবিতা লিখতে মন চাইল তাই চার লাইনের এ লেখা। আমার ছেলেদের মা যেদিন কহিল- "এখন বাচ্ছারা বড় হয়েছে, এসব লেখা দেখে বাচ্ছারা লজ্জা পায়"। সেদিন থেকেই আর প্রেমের কবিতা লেখবনা বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু আজ কেন যেন একটা প্রশ্ন মনের মাঝে ঘুরপাক খেতে থাকে - যে সব কবি প্রেমের কবিতা লেখে তাদের সন্তানরাও কি তাদের বাবার প্রেমের কবিতা দেখে লজ্জা পায় ? যদি সেসব প্রেমের কবিদের সন্তানরা তাদের বাবার লেখা প্রেমের কবিতার জন্য লজ্জা না পায় তবে আমার সন্তানরা কেন আমার লেখা প্রেমের কবিতার জন্য লজ্জা পাচ্ছে ? তবে কি আমি প্রফেশনাল লেখক নই বলে ?
আমি তো মনে করি, একজন প্রফেশনাল প্রেমের কবিতা লেখক যেমন প্রেমের কবিতা লিখে জীবনে বেঁচে থাকার তাগিদে অর্থ উপার্জন করে তেমনি আমি অপেশাদার লেখক হিসাবে প্রেমের কবিতা লিখি বেঁচে থাকার তাগিদে মনের সুখ উপার্জনের জন্য। সুতরাং পেশাদার প্রেমের কবিতা লেখক এবং অপেশাদার প্রেমের কবিতা লেখকদের মধ্যে আমি অমিল খুঁজে পাইনা এ কারণেই যে, দুজনেই জীবনের বাঁচার তাগিদে প্রেমের কবিতা লিখে। তবে কেন .... ?

শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০১৫

আসছে ফাগুনে দেখা হবে...

আসছে ফাগুনে দেখা হবে...
**************

ছবি : ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

 
বসন্তের ঝিরি ঝিরি মাতাল সমীরণের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে
তুমি আর আমি
সেই যে একদিন শিম্পাঞ্জীর খাঁচার কাছে
হাতে ছিল চারটে চিনে বাদাম
একটা ছিলে তুমি খেলে
আর একটা ছিলে শিম্পাঞ্জীর দিকে ছুঁড়ে দিলে!
তারপর অপলক নেত্রে তাকিয়ে রইলে
শিম্পাঞ্জীর মুখের দিকে!
বললাম-
এবার একটু আমার দিকে তাকাও।
তুমি বললে -
আসছে ফাগুনে দেখা হবে ভাল করে!
একবছর পেরিয়ে আবার যখন দু'জনেই একই স্থানে
বসন্তের নগ্ন ছোঁয়ায় অবগাহন করছি
ঠিক তখনই চারটে চিনে বাদাম তুমি হাতে নিলে।
একটা ছিলে তুমি আমার মুখের ভিতরে ডুকিয়ে দিলে
আর একটা ছিলে আমার হাতে দিয়ে বললে -
আমাকে খাইয়ে দাও!
তথাস্থ বলেই মুখে পুরে দিলাম দু'টি বাদামের দানা।
সেই যে চোখে চোখ রাখলে
অপলক চাহনীতে ঝলসে যেতে লাগল আমার সর্বাঙ্গ।
বললে -
মনে আছে গত বৎসর ঠিক এই দিনে কি বলেছিলাম ?
আমি কিন্তু কথা দিয়ে কথা রেখেছি,এবার তোমার পালা।
বললাম -
বুঝলামনা ?
তুমি বললে-
মনে নেই কি বলেছিলে ?
আমি বললাম -
সত্যিই মনে নেই।
সেই যে তোমার রাগ -
বুঝেছি এই তোমার ভালবাসা?
আর থামলেনা তুমি।
চলেই গেলে।
তারপরের দিন বললাম -
আসছে ফাগুনে দেখা হবে।

বুধবার, ২২ মে, ২০১৩

এতটুকুই ভুল - মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী


গতকাল একজনে একটা প্রেমের কবিতা লিখতে বলেছিল। কিন্তু প্রেমের কবিতা লিখতে এখন আর তেমন মন চায়না। যখন সে প্লীজ প্লীজ শুরু করল আমি আর তাকে ফিরাতে পারলামনা। বললাম ঠিক আছে লিখব। তবে প্রেম ট্রেম বুঝিনা। চিন্তায় যা আসে তাই লিখব। আবার বলতে পারবেনা আমি প্রেমের কবিতা লিখিনি। সে বলল ঠিক আছে, যা পার তাই লিখ। তাই লিখলাম এ লেখাটি -
**************
এতটুকুই ভুল
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------
এতটুকুই ছিল মোর ভুল,
যে ভুলে হারিয়েছি তোমায়
হয়ে গেছে সব ভন্ডুল।।
তুমি একদিন যেতে বলেছিলে
সেদিন আমি যেতে পারিনি,
পত্র লিখেই তা জানাতে চেয়েছি
সে পত্র লিখেও ভুলে আর ছাড়িনি।
এই-ই ছিল মোর ভুল,
আমার উপরে রাগ করেছ তুমি
গ্রহণ করনি আমার পাঠানো ফুল।।
কতবার কতভাবে ডেকেছি তোমায়,
মনে হল চলে গেছ সেই তুমি কোমায়।
জাগাতে চেয়েছি জাগনি তুমি,
বুঝাতে চেয়েছি বুঝনিও তুমি।
কোন লাভ হয়নি সেদিন তোমার কাছে গিয়ে -
তারপর আর হয়নি যাওয়া,
হয়নি আর তোমারই খোঁজ নেওয়া,
রইছি পড়ে আজও তোমার স্মৃতি নিয়ে।
জানতে চাইনি আর তোমার মনোভাব,
যদিও ছিল মোর জীবনে তোমার অভাব।
এই-ই ছিল মোর ভুল,
মুখ ফিরিয়ে নিয়েছ তুমি
ভেঙ্গে দিয়েছ মনের দুইকুল।।
=============

শুক্রবার, ৯ নভেম্বর, ২০১২

একদিন খুঁজবে আমায়


একদিন খুঁজবে আমায়
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

জানি একদিন বুঝবে তুমি,
হণ্যে হয়েই খুঁজবে আমায় -
নাগাল আমার সেদিন পাবেনা তুমি।।

ভাবিনি আমি কভু তুমি এমন হবে
আমারই কষ্ট দেখে তুমি নীরব রবে।
আসবেনা কোনদিন কাছে আমার
গলবেনা আমারই কষ্টে মনটা তোমার।
ভাবতে পারিনা আজও আমি
আমার মরণ দেখেও মুখ ফিরিয়ে রাখবে তুমি।।

ভুল ছিল আমারই তোমায় চাওয়া
ভেবেছিলাম তুমিই মোর শ্রেষ্ট পাওয়া।
সেই পাওয়া আর সেই চাওয়া
ছিল যে জীবনে এক ধাওয়া খাওয়া।
মর্মে মর্মে আজ তা বুঝছি আমি
দূরেই সরে যখন রয়েছ তুমি।
জানি একদিন খুঁজবে আমায় -
যতই আজ দূরে দূরে থাকোনা তুমি।।
================

শনিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১২

মনহীন এক মানুষ তুমি


মনহীন এক মানুষ তুমি
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
--------------------

সুরে সুরে গানে গানে
ডাকি যতই তোমায় ,
দূরে বসে কস্ট দাও
তুমি শুধু আমায়।
শুনেও তুমি শুননা
এই আমারই ডাক,
তোমায় ভালবাসি বলে
দিয়ে যাচ্ছি হাঁক।
পাষাণ হৃদয় তোমার জানি
এত পাষাণ জানতাম না ,
তোমার সাড়া পাবনা জানলে
কখনো ভালবাসতাম না।
জানলাম আজি ভুল করেছি
তোমায় ভালবেসে ,
মনহীন এক মানুষ তুমি
মনের টান বুঝবে তুমি কিসে ?
=============

বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১২

নীলটিপের আড়ালে


নীলটিপের আড়ালে
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

তুমি সব সময় লাল টিপ পড়তে !
একদিন বলাকা সিনেমার ভিতরে ছবি দেখার সময়
নায়িকাকেও দেখলাম লালটিপ লাগাতে !
তখনই বলেছিলাম , লালটিপ তোমাকে মানায় না।
বলেছিলে - তবে কি টিপ মানাবে আমায় ?
বলেছিলাম শো' শেষ হলে বাইরে গিয়ে বলব।
নিউমর্কেটের গেইট দিয়ে ঢুকতেই ডানপাশের স্টলে
দেখা গেলো রংবেরঙ্গের টিপের সমাহার।
বারোটা নীল টিপ খরিদ করে পড়িয়ে দিলাম তোমার কপোলে একটি।
সেই থেকে নীল টিপ তোমার কপালকে করেছিল দখল।
হারিয়েছিলাম আমার ভালবাসা সেই নীলটিপের আড়ালে !
যখনই দেখতাম তোমার ব্যস্ততা শুধুই নীলটিপ পরিপাটিতে,
আর আমি ! তোমার কাছে যেন অবাঞ্চিত এক ভালবাসার পূঁজারী !!
==================

সোমবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১২

যেওনা ফিরে


যেওনা ফিরে
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

এত কাছে এসেছো ,
ভাল যখন বেসেছো ,
মনে কছু নিওনা এই কালো মুখটা দেখে ;
মন চোখে দেখেছো ,
কত কথা বলেছো ,
সরাসরি দেখে এবার যেওনা গো বেঁকে ।
করোনা ঘৃণা কালো মুখটা দেখে ,
সুন্দর মুখটা তোমার ঘুরাওনা এদিকে ,
বিধাতার দেয়া এই কালো গাত্রবরণ - তাতে দোষ কি আমার বলো ?
দৃষ্টি দাও তোমার ঐ সুন্দর চোখে ,
বানাওনি তাহা তুমি নিজের থেকে ,
তবে গৌরব করবে কিভাবে তুমি - এই একটু বিবেক নিয়েই চলো ।

কালো আর ধলোতে করোনা কোন ভেদাভেদ,
মন তো একটাই কেন তবে এতটাই প্রভেদ,
মনের চোখে দেখেছি তোমায় - চেয়েছি তোমার মনটা পেতে,
ভালবাসতে গিয়ে করতে চাইনি তাই কখনোই তোমায় দর্শন ;
তোমার বাবার ঐ সম্পদের দিকে আমি কভু দেখিনি,
তোমাদের ঐ বিশাল প্রাসাদের প্রেমেও আমি পড়িনি,
শুধুই পড়েছি তোমার মায়ায় - কাছে এসে যেওনা ফিরে,
এসো দেখে যাও তোমার জন্য তাই হচ্ছে শুধুই হৃদয়ে রক্তক্ষরণ।
==================

বৃহস্পতিবার, ২৩ আগস্ট, ২০১২

অবশেষে আসলে তুমি


অবশেষে আসলে তুমি
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

[ ঘটনাটাকাল ১৯৯২ এর মাঝামাঝি সময় ]

সেঞ্চুরী মার্কেটের সম্মুখে আসার কথা ছিলো -
রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতে কেমন যেন লাগলো;
বললাম - অপেক্ষা করবো কফি হাউসে।
সেই থেকে অপেক্ষা -
কফির কাপে চুমুচ্ছিলাম অবিরত
গুনছিলাম প্রতীক্ষার প্রহর
ঘড়ির কাঁটার সাথে পাল্লা দিয়ে।

অবশেষে আসলে তুমি
একটা লাল গোলাপ হাতে নিয়ে,
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো
তোমায় কাছে পেয়ে।

অপরূপা লাগছিল তোমায়
দৃষ্টিতীর নিক্ষিপ্ত হচ্ছিলো তোমার হাস্যোজ্জ্বল মুখে !
আলো - আঁধারির লেডিস ক্যাবিনটি
যেন আলোকিত হয়ে উঠলো হঠাৎই
তোমার প্রদীপ্ত আলোয়।
অবাক চোখে তাকিয়ে রইলাম
মুক্তার দানার মতো দাঁতের ফাঁক দিয়ে
বেরিয়ে আসা তোমার কথার শব্দমালার দিকে !
====================

মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট, ২০১২

গোলাপেরও কাঁটা আছে


গোলাপেরও কাঁটা আছে
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

( নিজ হাতে বানানো , কাপড় দিয়ে তৈরী
কৃত্রিম গোলাপ দিয়ে প্রেম নিবেদনকারিনী
সেই “ ফারহানা ’’কে )

******************
ক্ষণে ক্ষণে মনে মনে চেয়েছি সাজাতে একটা বাগান,
ধীরে ধীরে পায়ে পায়ে এনেছি বাগানের সব জোগান।
শত শত গাছ আর শত শত চারা -
সবগুলো লাগিয়ে হলাম মাতোয়ারা।
নানা গাছে নানা ফুল ফুটিয়া ভরিল,
তার মাঝে লাল গোলাপ হৃদি হরিল !
বড় দূর্বল ছিলাম আমি এ গোলাপের প্রতি,
সকাল বিকাল পানি দেয়া আর যত্ন ছিলো অতি।
ক্রমে আমার সে গোলাপ ভালো লেগে গেলো,
ভালো লাগা থেকেই তা ভালোবাসায় এলো।
ভালোলাগা ভালোবাসার সে ফুল নিয়ে
অপরকে আকর্ষণ করি হৃদয় দিয়ে।
দিনান্তে মাস আর মাসান্তে বছর এমনিই গড়িয়ে যায়,
দেখতে দেখতে জীবনের তিনটা বছর গেলো যে হারায়।
গভীর থেকে গভীর হলো ভালোবাসা তাতে,
জমে গেলো ভালোবাসা দু’জনার সাথে।
দু’জনার অদেখায় অবস্থা হয় বড় শোচনীয়,
ভালবাসার টান যে অতি লোভনীয় !
সত্যিই , এমন ভালোবেসে ফেলেছিলাম গোলাপটাকে,
ভুলেই গেলাম , গোলাপ গাছে যে কাঁটা থাকে !
মনের অজান্তে গেলাম একদিন লাল গোলাপের কাছে,
ভালোবাসার গল্পে মনকে শান্তি দেবার উদ্দেশ্যও আছে।
গোলাপ ধরতেই হঠাৎ কাঁটার আঘাত !
আমার হৃদয় তাতে জর্জরিত হলো -
এমনি ভাবেই হয় ভালোবাসায় ব্যাঘাত !
আমার তা নাহি জানা ছিলো।
============

শুক্রবার, ৩ আগস্ট, ২০১২

একটি মেয়ের জীবনসঙ্গী পছন্দের বর্ণনা




একটি মেয়ের জীবনসঙ্গী পছন্দের বর্ণনা

মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

মেয়েটি কলেজে ছাত্রী । আধুনিক জমানার অত্যাধুনিক বড় লোকের শহুরে ললনা। বন্ধুত্বের খাতিরে একদিন তার অনুরোধে তার সাথে গিয়েছিলাম ঘুরতে লালবাগ কেল্লায়। সালটা ছিল ১৯৯২ইং । বিকেল তিনটায় দুইজন মৌচাক মোড় থেকে তার প্রাইভেট কারে করে রওয়ানা দিয়ে যখন লালবাগ দূর্গ গেইটে পৌঁছি , তখন প্রায় বিকেল ৩টা ২০ মিনিট। রৌদ্রতেজে আসেনি তখনো বিকেলের মিষ্টিমাখা উত্তাপ। তাই গাড়ীতে বসেই গেইটে দন্ডায়মান ঈগলু আইসক্রিমওয়ালার দিকে ইশারা করলাম। পাঁচ টাকা দামের তিনটা আইসক্রিম নিয়ে যখন আমি , মেয়েটি এবং ড্রাইভার খাওয়া শেষ করলাম , তখন বিকেলের মিষ্টিমাখা রোদ হাতছানি দিয়ে ডাকতে লাগল আমাদের। ড্রাইভারকে ছেড়ে দিয়ে আমরা দুজনে ডুকে গেলাম দূর্গ ময়দানে । চতুর্দিকে এক চক্ষর লাগিয়ে যখন আমরা দূর্গের উপরে উঠে বুড়িগঙ্গার দিকে দৃষ্টি দিলাম , তখন বিকেল সাড়ে পাঁচটা। মিষ্টিমাখা রোদ আর হিমেল সমীরণে মোহিত হলাম আমরা। দূর্গের পশ্চিম পাশে গিয়ে পলাস্তরা খসে যাওয়া ওয়ালে হেলান দিয়ে যখন দূর্গের উপরে বসলাম , তখন মনে উদিত হলো ইশা খাঁর সেই সতর্কবাণী - ” আমার শাসনামলে এক টাকায় আড়াই মন চাউল পাওয়া যায় ,আমার পরবর্তীতে যে শাসক এই মূল্যে এই দেশে চাউল বিতরণ করতে পারবে সে শাসকই এ দূর্গ চাইলে ভাংতে পারবে , নয়তো কারো অধিকার নেই এই দূর্গ ভাঙ্গার ! ” এই সতর্কবাণী কতটুকু সত্য জানিনা । এটা একটা শুনা কাহিনী। কিন্তু সেই সত্যতা প্রমাণ করে এই দূর্গের অস্থিত্ব থাকার মধ্য দিয়ে। ইশা খাঁর আমল থেকে এ পর্যন্ত এ দেশের কোন শাসক এক টাকায় আড়াই মণ চাউল বিতরণ করতে পারেনি এবং এই দূর্গ ভাংতেও পারেনি। শুনেছি কয়েকবার এই দূর্গের অভ্যান্তরে লোক পাঠানো হয়েছিল , তারা আর ফিরে আসেনি। এমনকি কুকুরও পাঠানো হয়েছিল যার আর ফিরে আসেনি। তাই পরবর্তিতে দূর্গের মুখটি বন্ধ করে দেয়া হয়। যা হোক লিখতে বসেছিলাম একটা মেয়ের পুরুষ পছন্দের কথা । লিখে ফেলেছি ইশা খাঁর আমল নিয়ে কথা ! গল্পের আয়োজন সম্ভবত এমনই ।
দূর্গের উপরে যখন বসলাম । একথা ওকথার পর মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলাম -

বলতো তোমার জীবন সঙ্গী কেমন চাও ? (আসলে ওর ভাই-ই আমাকে জিজ্ঞেস করতে বলেছিল তার কেমন ছেল পছন্দ)

- হঠাৎ এ প্রশ্ন কেন ?

- জানতে চাইলাম আর কি ? দেখি আমি তোমার উপযুক্ত কি না ? (একটু যোগ করলাম)।

- ও তাই ! সাহস তো কম না !

- এতে আবার সাহস লাগে নাকি ? একটা কথা জিজ্ঞেস করতে যদি সাহস লাগে , তবে আর পুরুষ হলাম কেন ?

- এই জন্যই তুমি আমার বন্ধু । যা বল অকপটে। সেটা খারাপ হোক আর ভাল । মনে আসলেই বলে ফেললে , আর তাতে কেউ রেগে যায় কি না দেখনা ! সত্যি তুমি খুব সহজ সরল ।

- থাক আর প্রশংস করতে হবেনা । যা জিজ্ঞেস করেছি তার উত্তর দাও ।

- উত্তর কি দিতেই হবে ?

- তোমার অসুবিধা হলে দিওনা , চল বের হয়ে যাই ( একটু রাগের ভান করলাম। সে জানে আমি একবার রাগলে তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ রাখি কম্পক্ষে পনের দিন)।

- তোমাকে নিয়ে এই হচ্ছে একটা সমস্যা । নাকের ডগায় যেন তোমার রাগ কিলবিল করে ।

- আর তোমাকে নিয়ে কোন সমস্যা নাই ?

- বল আমাকে নিয়ে কি সমস্যা ?

- এইযে ডুবে ডুবে প্রেম কর আর আমাকে কিছু জানাওনা । কেমন বন্ধু তুমি ?

- আমি প্রেম করি ! তোমাকে কে বলল ?

- কেউ বলতে হবে নাকি ? তোমার আচার আচরণেই তো বুঝা যায় ।

- কি আচরণ দেখেছ যে , আমি প্রেম করছি মনে হচ্ছে ?

- এই যে দুপুর দুইটায় ফোন করে জানালে এক্ষুনি বের হও , ঘুরতে যাব । প্রেম না করলে কি কেউ কাউকে বলে ?

- আহারে আমার প্রেমিকরে ! বিড়ি খায়না , সিগারেট খায়না , মদ খায়না , প্রেম কারে কয় তাও জানেনা , তার সাথে করব আমি প্রেম ! তুমি জাস্ট আমার বন্ধু। যদি প্রেম করতে চাও আজ থেকে বন্ধুত্ব কাট। আর প্রেম তো প্রশ্নই আসেনা।

- ওই তাই ! বুঝতে পারলাম ।

- কি বুঝতে পারলে ?

- তোমার কেমন ছেলে পছন্দ তা।

- কচু বুঝেছ । কচু চিন ?

- তুমি কয়টা কচু চিন সটা বল আগে ।

- কেন ওলকচু , মানকচু । আর কি কোন কচু আছে নাকি ?

- বুঝেছি তুমি কচু চিন , তবে যাতকচু, গুরা কচু , ছড়া কচু এগুলি চিননা ।

- আমি জন্মেছি শহরে । এতগুলো চিনব কি করে । তুমি গ্রামে জন্মেছ তাই তুমি অতসব জান ।

- তাইলে আবার বললে কেন যে আমি কচু চিনি কি না ?

- সরি ।

- হ , গ্রামের মানুষদের শহুরেরা সরি বললেই তারা মনে করে তাদের কেল্লাফতে। তাই ত বলি - কেন আমার সাথে প্রেম করতে তোমার বাধা ? আমি গ্রামের আর তুমি শহরের । কোথায় আকাশ আর কোথায় পাতাল ! ঠিক আছে । প্রেম করতে হবেনা আমার সাথে । আমি নিজেও জানি আমি তোমার উপযুক্ত না । বামন কখনো চাঁদের দিকে হাত বাড়িয়ে চাঁদ ধরতে পারেনা । এখন বল তোমার কেমন ছেলে পছন্দ?

- তুমি তো রেগে গেছ দেখছি । আমি বুঝতে পারিনি তুমি এত রেগে যাবে । সরি বন্ধু , মাফ করে দাও ।

- নাতো আমি রাগিনি । গ্রামের মানুষদের শহুরেদের সামনে রাগ করা শোভা পায়না। তেমনি আমারও না ।

- ঠিক আছে যতক্ষণ পার তুমি বলে গায়ের ঝাল মিঠাও , তবু রাগ করোনা। তুমিই তো আমার একমাত্র বন্ধু , যার সাথে আমার মনের সব কথা শেয়ার করি।

- ওকে , বাবা আমি রাগ করিনি । এখন বল তোমার কেমন ছেলে পছন্দ ?

- তুমি এই কথা নিয়ে আছ কেন ? কারো দালালী নিয়েছ নাকি ?

- দালালী নিলেই বা ক্ষতি কি যদি আমার বন্দুর কোনদিন উপকার হয় ।

- বুঝলামনা । উপকার মানে ?

- তোমার এত বুঝার কাম নেই । আপাতত উত্তর দিলেই চলবে ।

- ঠিক আছে উত্তর দিচ্ছি একটা শর্তে ।

- কি শর্ত ?

- এ কথা জানত চাচ্ছ কেন ?

- সেটা কয়েকদিন পরে বললে হয়না ?

- আজকে বললে অসুবিধা কি ?

- অসুবিধা আছে বলেইতো আজ বলা যাবেনা। যদি বলতে না চাও থাক , বলার দরকার নেই ।উঠ সন্ধ্যা হয়ে গেছে ।

- আবারও রাগ ! ঠিক আছে বাবা , বলছি । আমি এমন ছেলে পছন্দ করি - যে সিগারেট খায় , মদ খায় , নেশাখোর , সিনেমা দেখে , গুন্ডামী করে , মিথ্যা বলে , নারীদের প্রতি আসক্ত , সবসময় সেক্সুয়্যাল কথা বলে , লজ্জাহীন , ধুকাবাজ , চঞ্চল , বে-পরোয়া , লোভী , ধর্মাসক্ত নয় , মেয়ে দেখলেই যার জীবে জল আসে , মেয়েদের যে ছ্যাকা দিতে জানে , লড়াকু , শক্তিশালী , তেজোদীপ্ত , প্রতিজ্ঞাভঙ্গকারী , লুচ্ছা , বদমাস এই ধরণের ছেলেই আমার পছন্দ!

- এটা কি আমাকে থাপ্পড় দিলে নাকি আমাকে শিক্ষা দিলে ।

- না বন্ধু , কোনটাই না । যা সত্য তাই বলেছি । আমরা বেশীরভাগ মেয়েরা এই ধরণের ছেলেই পছন্দ করি। সহজ সরল ছেলেদের পছন্দ করে জীবন বরবাদ করে ফায়দা কি ?

- তবে তো তোমার পছন্দগুলির প্রত্যেকটি বিষয়ে ভাল করে জানতে হবে । কেন তোমাদের এই ধরণের ছেলে পছন্দ?

- আজকেই কি সব জানতে চাও ? সব আজকে জানিয়ে দিলে অন্যদিন কি বলব ? চল বেরিয়ে পড়ি । মাগরিবের সময় হয়ে গেছে । অন্যদিন বলব ।

সেদিনকার মত তার কাছ থেকে বিদায় নিলাম মৌছাক মোড়ে এসে । তারপর আরও একদিন …

===================== 

সোমবার, ১৬ জুলাই, ২০১২

অখ্যাত এক প্রেমের গল্প (০১)


অখ্যাত এক প্রেমের গল্প (০১)
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

একদিন একটা ছেলে মদিনার এক জনাকীর্ণ স্থানে বসে পরিশ্রান্ত শরীর ও মনে শক্তি সঞ্চার করছিল। চারিদিকে চলছিল মানবযাত্রা। আর সে আনমনে বসে টিপছিল মোবাইল বটম। হঠাৎ এক মেয়ে এসে বললো -


**আপনাকে কোথাও দেখেছি ।
*দেখতেই পারেন , পুরুষ মানুষ তো সব সময় রাস্তা দিয়েই হেঁটে যায় কারনে , অকারনে।
** না , তা নয় । আপনাকে বিশেষ একটা স্থানে দেখেছি।
* আচ্ছা দেখেছেন ভাল কথা , এখন আপনি কি চান তাই বলুন ।
** আচ্ছা মানুষ তো আপনি ! বলার পরিবেশ করতে পারলেই তো বলব, নাকি ?
* তবে কি আপনি বলতে চান - এটা দুষিত পরিবেশ !
** দুষিত ছিলনা , আপনার ব্যবহারে দুষিত হয়ে যাচ্ছে !
*ও তাই ! আমি কি আপনাকে তেমন কিছু বলেছি যে , আপনার ইজ্জত হানি হতে যাচ্ছে !
** বড় বিচিত্র মানুষ তো আপনি !
* আপনি কি আমাকে চিড়িয়াখানার চিড়িয়া ভাবছেন নাকি !
** আপনাকে তাই যদি ভাবা যেতো তবু ভাল হতো।
* বুঝেছি আপনার সাথে প্রেমের আলাপ না করাতেই মনে হয় আপনার খারাপ লাগছে।
** এই তো রেল তার লাইনের উপরে উঠতে শুরু করেছে।
* সেটা আগে বলবেন তো , আমাকে কোথাও দেখার ভান করে আপনি প্রেম করতে চাইছেন ! তবেই তো আপনকে কোলে বসিয়ে প্রেমের আলাপ শুরু করতাম।
** আপনি না একটা সীজ !
* দেইখেন সীজ কে পছন্দ করে , আবার বুকে জড়িয়ে ফেলতে যাবেন না।
** জড়িয়ে ফেলতে পারলে তো ভালই হতো , এত কথা বলা লাগতোনা।
* তাই , তবে বাধা দিচ্ছে কে ? সাহস থাকলে ...
** সাহস দেখতে চান ?
* দেখতে চাইনা , তবে দেখাতে চাইলে কেউ কি বাধা দিয়ে রাখতে পারে ?
** বুঝেছি , আপনাকে সেজে দিলে আপনি মানাও করেন না।
*এতই যখন বুঝেন এত কথা কেন ?
** কোন কথা না বলে , কিছু দেয়াতে কি মজা আছে ?
* তবে তো আপনি মজাও করতে জানেন দেখছি।
** মজা আর দেখাতে দিলেন কই ?
* আমি কি আর দেওয়া লাগে ? এতক্ষণ সেজ সেজে যে মজা দেখালেন...
** চলুন না একটু নিরিবিলি স্থানে বসে আলাপ করি ।
* কেন আপনি আমার কে ? পুলিশে দেখলে সোজা মুতাওয়া অফিসে । জানেন তো ?
** না জানলে কি এতক্ষণ আপনার সাথে কথা বলতাম ?
* বুঝলাম না।
** এত বুঝার কাম নেই । যা বলছি তাই করেন ।
* আপনি কি আমার ঘরণী নাকি যে , আপনার কথায় আমি উঠব বসব ?
** এই তো বুঝে গেছেন পুলিশে জিজ্ঞেস করলে কি পরিচয় দিতে হবে !
* মানে ?
** আবার মানে ? আমরা স্বামী-স্ত্রী ! বিয়ে করে বেড়াতে এসেছি।
* ঠিক আছে , তাই বলবো । তবে এক বিছানায় থাকতে রাজি আছেন তো ?
** আপনি না বেশী কথা বলেন ।
* হাঁ , সব সুবিধা আপনি ভোগ করবেন , আর আমার সুবিধার কথা বললে আমি বেশী কথা বলি , তাই না ?
** আচ্ছা , সুবিধা - অসুবিধা চিনেন আপনি ?
* কেন আপনি এখনো বুঝতে পারেননি , বুঝিয়ে দিতে হবে ?
** বুঝিয়ে দেয়ার দরকার নেই , অনেক বুঝে ফেলেছি ।
* কি বুঝেছেন ?
** এই , আপনি সুবিধাভোগী , স্বার্থপর ।
* আমি যদি তাই হই , আপনি ?
** এভাবে কি শুধু প্রশ্নোত্তর পর্ব চলবে ?
* আর কি করতে চান আপনি ?
** সেটা দেখানোর জন্যই তো বলছি একটু নিরিবিলিতে চলুন।
* ঠিক আছে , চলুন । দেখি আপনি কি দেখাতে চান ।
** চলুন ।
বলেই সেই ছেলেটির হাত ধরে টেনে নিয়ে বসাল এমন এক স্থানে , যেখানে দু'জনকে কেউ দেখবেনা। ছেলেটি বসেই বললো -
* কি দেখাবেন দেখান ।
** দেখাচ্ছি ।
এই বলেই মেয়েটি ছেলেটিকে কাছে টেনে নিয়ে .....
। এখানেই মেয়েটির সাথে ছেলেটির প্রথম দিনের পরিচয় পর্ব শেষ । শুরু হয় তিনদিন পর দ্বিতীয় দিনের পরিচয় পর্ব।
==================

সোমবার, ৯ জুলাই, ২০১২

আমি এক পরাজিত সৈনিক


আমি এক পরাজিত সৈনিক

মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

[বিঃদ্রঃ - এ লেখাটি উৎসর্গ করছি মীরপুর ঢাকার সেই ফারহানাকে (যার ছদ্ধনাম ছিল আজমুন্নাহার) – যে ২০ বছর আগে এ লেখাটি পড়ে পাঠিয়েছিল নিজ হাতে বানানো কাপড়ের একটা লালগোলাপ।

এ লেখাটি “সাপ্তাহিক দেশচিত্রের” ২৩–২৯ নভেম্বর – ১৯৯২ইং ১ম বর্ষ , ৪৯ সংখ্যা এবং একই সময়ের “অপরাধচিত্র” পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। প্রকাশিত হয়েছে দেখলাম আজই একটি ব্লগে-(http://dsore.blogspot.com/2011/10/blog-post_29.html)। এটি কিছুটা সংশোধন করে পুনরায় প্রকাশ করা হলো।]
*******************

জীবনযুদ্ধে আজ আমি এক পরাজিত সৈনিক। সকলের ঘৃণার পাত্র। সকলের কাছে আজ আমি এক অবাঞ্চিত ছেলে। সকলের খেলনার পুতুল। সকলের ষড়যন্ত্রে নিষ্পেষিত সমাজের এক দুষ্টগ্রহ। সমাজের কাছে চক্ষুসুল এক ব্যক্তি। পিতার নিরাদর, মায়ের মমতাহীনতা , ভাই-বোনদের অবজ্ঞা , ভাবীদের ঘৃণা , বন্ধুদের ষড়যন্ত্র , বান্ধবীদের প্রতারণা , শুভাকান্খীদের ছলনা , প্রতিবেশীদের তীরস্কার , সমাজের লাঞ্চনা , গ্রামের হেয়কার , দশের বাহির , দেশের গণনাহীনতায় আজ আমি অসহায়। ভীষণ পিপাসার্ত আমি। হৃদয় আমার জর্জরিত , শরীরের তাবৎ গীটগুলো লালাহীন। প্রতিটি শিরা-উপশিরায় ব্যর্থতার ছাপ সুস্পষ্ট। আত্মগ্লানীতে সমগ্র শরীর আজ বিষাদময় কন্টকে আবৃত।

আজ আমাকে দেখলেই পিতার স্নেহ জাগে স্বকরুন ভাবাবেগে। মায়ের মমতা নাড়া দেয় তার হৃদয়খণির অবাঞ্চিত স্থান থেকে। ভাই-বোনদের অবজ্ঞা তাদের কপালের উপর প্রকাশ ঘটে। ভাবীদের ঘৃণা প্রস্ফুটিত হয় লাল গোলাপের ন্যায়। বন্ধুদের ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার হয় আপাদমস্তক। বান্ধবীরা প্রতারণা করতে সুযোগ খুঁজে। শুভাকান্খীদের ছলনা ধারণ করে তীব্রবেগ। প্রতিবেশীরা উদ্যত হয় তিরস্কারে। সমাজ দান করে লাঞ্চনা। গ্রামবাসী হেয় মনে করে। দশজনের বাইরে পাতা হয় আমার আসন। দেশের আদমশুারীতে রাখা হয় আমায় গণনার বাহিরে।

আজ আমাকে দেখলেই ভাবীরা শব্দ করে ঘরের কপাট বন্ধ করে ছুঁড়ে ঘৃণার তীর। বোনেরা ধরে অপরিচিত রূপ। ভাগ্নে-ভাগ্নিরা মামা বলে স্বীকার করতে কষ্ট অনুভব করে। চাচা-চাচী ভিন্ন চোখে জরিপ করে। ভাতিজা-ভাতিজী চাচা বলতে সংকোচবোধ করে। আত্মীয়-স্বজন পরিচয় গোপন করে মুখ ফিরায়। প্রিয়জন করে মুখের উপর থুথু নিক্ষেপ। প্রেমিকা প্রেমের প্রতিদান চায় সম্পদের জয়কারে। ছাত্রবন্ধু চায় পকেটে টাকার ভাঁজ। শিক্ষক চায় প্রাইভেট পড়ানোর নামে টাকা উপার্জনের সুযোগ।

কিন্তু আমাকে কেউ চায়না। চায় আমার কাছ থেকে হাসিল করে নিতে যার যার উদ্দেশ্য। এটাই আমার বিগত জীবনের চাওয়া , পাওয়া আর অভিজ্ঞতা। তীক্ষ্ন অথচ ক্ষুদ্র , কম অথচ বিস্তর পরীক্ষার আয়োজন করে সকলের কাছ থেকে আমি এতটুকু সম্পদই সঞ্চয় করতে পেরেছি। এখন আমার এটাই একমাত্র সঞ্চিত ধন।

তবে যদি আমি প্রত্যেক বিষয়ে পাহাড়ের মত অটল আর নদীর স্রোতের মত গতিময় হতে পারতাম , যদি পারতাম বজ্রের ন্যায় হুন্কার ছাড়তে , হাতীর ন্যায় শরীর গড়তে , বাচালের ন্যায় বক বক করতে , রাক্ষসের ন্যায় ভক্ষণ করতে , বাঁদরেরে ন্যায় যত্রতত্র থাবা মারতে , নির্লজ্জের ন্যায় বেহায়া কথা বলতে , অভদ্রের ন্যায় গর্জিয়ে কথা বলতে , ভিখারীর প্রসারিত হাতকে লাথ্থি মেরে গুড়িয়ে দিতে , ভুখাদের কুড়ানো অন্নের থালা দরোজা বন্ধর ছলে ধাকা মেরে ছিটিয়ে ফেলে দিতে , অসহায়দের পাতানো হাতে থুথু দিতে , এতিমদের তাবৎ সম্পত্তি ভোগ করতে , অন্নের ঘাম ঝরানো সম্পদ জবর দখল করে নিজের অধিকারে নিয়ে আসতে – তবে হয়তো প্রতিষ্ঠা পেতাম সমাজের একজন আদরনীয় ব্যক্তি ও ব্যক্তিত্ব হিসাবে , বসার সুযোগ পেতাম সমাজের প্রতিটি স্তরে , নাম লেখাতে পারতাম বর্তমান মুখোশধারী ভদ্দরনোকদের মত সুশীল সমাজে (?) এর মানুষদের কাতারে , রাষ্ট্রীয় গণনায় দেশের নাগরিক হিসাবে পরিচিত হতে পারতাম। পারতাম উঁচুতলার মানুষদের জলসায় শামীল হতে , হতে পারতাম গ্রাম বা দেশবাসীর মাথার মুকুট ।

কিন্তু তা আমি হতে পারিনি। মনের অবাঞ্চিত দৃষ্টিকোণ থেকেও আসে সে সবে নিষেধাজ্ঞা। তাই আমি আজ তা হওয়া থেকে অনেক দূরে। এতে আমি অপারগ। বর্তমান সমাজনীতির কাছে আজ আমি পরাজিত। সমাজনীতির কাছে পরাজিত হয়ে অবস্থান করছি তাই সমাজ থেকে অনেক দূরে। জীবনের সর্বক্ষেত্রে , সমাজ থেকে , লোকালয় থেকে হয়েছি আমি বিচ্ছিন্ন।

আজ আমি হয়েছি জীবনযুদ্ধে পরাজিত এক সৈনিক। জীবনটা তাই আজ হয়েছে বড়ই দূর্বীসহ। আমি এই দূর্বীসহ সৈনিক জীবন থেকে মুক্তি চাই। চাই নির্মল ও সুস্থ সমাজের একজন সদস্য হতে।====================

রবিবার, ২৪ জুন, ২০১২

তোমারই অপেক্ষায়


তোমারই অপেক্ষায়
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
.............................

( আলামপুর গ্রামের সেই “ সালমা ’’ কে ,
যাকে নিয়ে কিঞ্চিত ভালোবাসা জন্মেছিলো মনে )
[ কবিতার দৃশ্যপঠ যেখান থেকে -
আলামপুর গ্রাম , চারিয়া , থানা-হাটহাজারী , জিলা - চট্টগ্রাম ।
রচনাকাল - ০১ / ১১ / ১৯৮৭ ইংরেজী , সময় - সকাল ০৭ টা ]
***********************

তোমারই অপেক্ষায় , পলকহীন নেত্রে
তোমারই পথপানে চেয়ে
আমি দাঁড়িয়ে আছি ।
শিশির স্নাতা রজনী ,
অসাড় নিস্তব্ধ সব গ্রামীণ মেঠোপথ ,
নেই কোন জনমানবের সঞ্চলন ।
পাশের বারান্দায় প্রদীপ্ত
তোমার দেয়া একটা কাঁচের প্রদীপ
নিভু নিভু ভাবে জ্বলছে ।
তোমার ভাবি বসা সেখানে
একটা টু ইন ওয়ান নিয়ে ।
রেকর্ড-প্লেয়ারে বেজে চলেছে -
“ ও আকাশ প্রদীপ জ্বেলোনা ’’
রোমান্টিক গানের মধুরিমা সুর !
অকস্মাৎ তোমার পদশব্দ
ধ্বণিত হয়ে তাল মিলালো
সেই সুরের ছন্দে !
হাঁটি হাঁটি পায়ে এগুলাম তথায়।
আমার আপাদমস্তক
তাবৎ লজ্জা ও গ্লাণীর ভারে ক্লীষ্ট।
মুখ দিয়ে কোন কথা সরছিলোনা।
তখন মনে হচ্ছিলো - ভাবি ,
আমার মনের পরিধি পরিমাপ করছিলো ,
উপলব্ধি করছিল আমার সব অঙ্গভঙ্গি ;
কিংকর্তব্যবিমূঢ় আমি !
যেন সবজান্তার সমক্ষে দন্ডায়মান আমি !
কোন কথা না বলে তোমায় কাছে ডাকলাম
দু’টি নেত্রের ইঙ্গিত সূচকে ।

সাড়াবিহীন তুমি অসাড় দাঁড়িয়ে রইলে ;
আমি চলে এলাম তোমার কাছ থেকে ।
ওভাবে সেদিন আমার চলে আসা ঠিক হয়নি ;
নাহ্ , কোন মতেই তা ঠিক হয়নি।
তোমার ঐ দু’টি হাতের তালুয়
আমার হৃদয়ের উদ্ভাবনা
মেঘের কোল ছুঁয়ে দিয়েছিল
উড়ন্ত পাখির মতোন !
আমিও তোমাকে কাছে আনতে চেয়েছিলাম ;
তুমি ছিলে সাড়াবিহীন ,
হৃদয়োঙ্গম করতে দাওনি ,
তুমি ফুটিয়ে দিয়েছিলে আমার দেহে
আকান্খার শুভ্র কুন্দকলি !
সেইদিন কিভাবে আমায় দিতে পারলে ব্যথা ?
বলেছিলাম মনে মনে এই যে দেখো !
তাকিয়ে দেখো , আমার মনে তুমি এসেছো।
লাস্যময়ী বালিকা তুমি , লজ্জাবতী “সালমা’’ নাম ,
তোমায় দেখার আনন্দে আমি
অকস্মাৎ উদ্বেলিত হলাম !
তোমাদের উঠোনের সম্মুখে
ছোট্ট গলিটায় যখন গেলাম -
তুমি “ সালমা ’’
আমার দিকে দু’হাত বাড়িয়ে দিলে !
আর তোমাকেছোঁয়ার আশায়
আমার দু’হাত গিয়ে দিলাম ।
চোখ তুলতেই দেখলাম -
তুমি তা হতে দিলেনা ;
সেই তুমি সামনে নেই !
===========

বৃহস্পতিবার, ২১ জুন, ২০১২

বৃষ্টি দিনের ভালোবাসার কথন : পর্ব-০২



বৃষ্টি দিনের ভালোবাসার কথন : পর্ব-০২
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
------------------------

১৪।
আমাকে একজন প্রশ্ন করলো -আচ্ছা তুমি যে সেদিন বৃষ্টি নিয়ে এত লেখা লিখেছ ,তোমাদের ওখানে কি বৃষ্টি হয় ? 
আমি জবাব দিলাম -আমাদের এখনে যে বৃষ্টি তা কেউ দেখতে পায়নাযে বৃষ্টিতে ভিজে সয়লাব হয়ে যায় বালিশের সর্বাঙ্গভাগ্য ভাল ফোমের বালিশ চুষে নেয় ,তাই রাস্তার স্রোত হয়ে বহেনা ।

১৫।
দুদিন আগে যখন শরীরটা খুব খারাপ লাগছিল ,তখন হঠাৎ একটা ম্যাসেজ আসল ফোনে। তাতে লেখা - মনে আছে তোমার সেই দিনটি ,আমরা শিম্পাঞ্জী দেখতেছিলাম ,হঠাৎ আসলো বৃষ্টি ! দু'জনে দৌড় দিলাম ,আর সবুজ ঘাসে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলাম আমিতুমি টেনে তুলে দু'হাতের উপর আমায় শুইয়ে দিলে দৌড় ! আর আমি চেয়ে থাকলাম তোমার মুখের দিকেদেখিনি তোমার মুখে কোন কষ্টের ছাঁপ। দেখেছি শুধুই আনন্দের হাসিতোমার সেই হাসিতে বুকটা ভরে যায় আমার এক অনাবিল আনন্দে , একরাশ ভালবাসায়

আশ্চর্যাম্বিত আমিএতগুলো বছর পেরিয়ে আজ একি দেখছি আমি ! আমাদের এ কথাটা আমরা দু'জন ছাড়া আর কেউতো জানেনা ! তবে -কার ম্যাসেজ ?ভালভাবে দেখলাম আবার ম্যাসেজটি। না ঠিকই আছেকিন্তু কে পাঠালো ?সে নয়তো ? ১৯ বছর পর নতুন করে আবার কি করে এলো সেই বসন্তের ডাক ?

১৬।
১৯৯৩ এর একদিনলালমাটিয়া মহিলা কলেজের গেইটে দাড়ানো আমিঅপেক্ষার অন্ত নেই। সে আসবে মিরপুর সেকসন ৬ থেকেসেদিন ছিল তার ইন্টারমেডিয়েট পরীক্ষার প্রথম দিনগুটি গুটি বৃষ্টিতে ভেজা জনপদইতস্তত থাকাতে থাকলাম আমি । না দেখা নেইহঠাৎ ই নজরে পড়লো ফারুক ভাইয়ের দিকেটেক্সী থেকে নামছে তারা দু'জনসেই-ই আমাকে ইশারা করলো ,ফারুক ভাই একটু দূরে অবস্থান নিল আমাদের সুযোগ করে দিয়ে। আর মাত্র দশ মিনিটযা বলার বলে ফেল ,ডুকে যেতে হবে হলেবললাম ,আজ রাতে জরুরীভাবে চট্টগ্রাম যাচ্ছি ,দু'দিন পর ফিরে আসব

ছল ছল নয়নে একবার দেখলো সে আমার দিকেতারপর কোন কথা না বলে হন হন করে চলে গেল গেইটের ভিতর দিয়েটিকেট নিতে হবে তাই আর সেদিন অপেক্ষা করা হলোনাদু'দিন পর যখন চট্টগ্রাম থেকে ফেরত আসলাম ,আসরের পর চিড়িয়ানার গেইটে দেখা হলো দু'জনের -সেই কি তুমুল বৃষ্টি ,আহ্ !

১৭।

"তার আর পর "! 
কেন যেন বৃষ্টি ভাল লাগতো দু'জনেরই" আষাঢ়ে মেঘের" তর্জন গর্জনে প্রকম্পিত ঢাকা নগরী । এরই মাঝে আমরা বেরিয়ে পড়তাম ডেটিং এ। রাস্তা থাকতো ফাঁকা। হতো তুমুল ধারে বৃষ্টিরিক্রাওয়ালা চেয়ে থাকতো মীরপুর সেকসন ৬ এর সেই ছোট্ট গলিটার দিকেকখন ডাক পড়বে তার তাই প্লাষ্টিক জড়িয়ে রেডি থাকতো সেআমাকে বলতো ভাইয়া ,আর কটু সবুর করন ,আমি টের পাচ্ছি এখনই চলে আসবেন আপা

রিক্সাওয়ালা আগেই রেডি থাকতো আমার জন্য সে সেকসন ৬ এর গলির মুখেতার আপা নাকি আমার সাথে ফোনে আলাপ হবার পর পরই বলে দিতো তাকে রেডি থাকতেরিক্সাওয়ালা ও হিসাব করে গলি মুখে এসে আমার জন্য দাঁড়াতআমাকে যখন দেখতো ,চিৎকার করে ডাক দিয়ে বলতো -ভাইয়া আমি এখানে ! আমার আর কষ্ট হতোনা তাকে খুঁজে পেতে

সেদিনও সে রেডি । আমি পৌঁছলেই ডেকে নিলো রিক্সায় । বললো সে -ভাইয়া বলছিলাম না ,চিন্তা কইরেননা। ঐ দেখেনমাথা বের করে দেখলাম। কাছেই চলে এসেছে সেহাতটা ধরে রিক্সায় টেনে তুলে নিলাম তাকে। চলতে শুরু করলো রিক্সা

ঝম ঝম করে কিছুক্ষণ পর শুরু হয়ে গেল বৃষ্টি। বললাম -আজ যেন একটু শীত শীত লাগছে। বললো সে - তবে তো একটা কাজ করতে হয়। আমি বললাম -কি ? সে বললো দেখোইনা কি করি ! এ কথা বলেই সে বাড়িয়ে দিলো তার হাত বৃষ্টির দিকেবৃষ্টিতে হাত বিজিয়ে আমার সার্টটা ফাঁক করে তার হাতটা আমার বুকে লাগিয়ে রাখল। বললাম -এটা কি হচ্ছে ? সে বললো শরীরে তাপ দিচ্ছি যাতে সর্দি না আসে !
==========================