আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা

বাংলা ভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী

সকল মহান ভাষা শহীদগণের প্রতি,
এবং ভাষা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত

সকল ভাষা সৈনিক
ও বীর বাঙ্গালীদের জানাই অশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলী,
সেইসাথে সকলকে জানাই

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা।

বিষয় সূচী

সাহিত্য (60) অন্যান্য কবিতা (53) ভালোবাসার পদবিন্যাস ( প্রেম সম্পর্কিত রচনা বিশেষ ) (53) আমার লেখা প্রবন্ধ-নিবন্ধ (37) কবিতা (35) দেশ নিয়ে ভাবনা (33) ফিচার (33) বাংলাদেশ (29) সমসাময়িক (28) খন্ড কাব্য (26) হারানো প্রেম (22) সংবাদ (18) কাল্পনিক প্রেম (16) ইতিহাস (15) প্রতিবাদ (15) সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ (15) Online Money Making Links (14) দেশাত্মবোধক কবিতা (13) আমার জীবনের দিনপঞ্জী (12) ধর্ম (12) প্রেমের কবিতা (11) ব্যক্তিত্ব (11) রাজনীতি (11) ধর্মীয় আন্দোলন (10) প্রবাসের কবিতা (10) খন্ড গল্প (9) জীবন গঠন (9) বর্ণমালার রুবাঈ (9) ইসলাম (8) প্রগতি (8) মানুষ ও মানবতা (8) হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ (8) VIDEOS (7) আমার লেখালেখির অন্তরালে (7) ইসলামী জাগরণ (7) মানব মন (7) ট্র্যাজেডি (6) শোক সংবাদ (6) সম্প্রীতি (6) নারী স্বাধীনতা (5) প্রেমের গল্প (5) বিজয় দিবসের ভাবনা (5) মৃত্যুপথ যাত্রী (5) সংবাদ মাধ্যম (5) স্মৃতিকথা (5) ঈদ শুভেচ্ছা (4) প্রবাস তথ্য (4) রমজান (4) শুভেচ্ছা (4) Computer Programer (3) আমার ছবিগুলো (3) আমার রাইটিং নেটওয়ার্ক লিংক (3) পর্দা (3) ফটিকছড়ি (3) বাংলাদেশের সংবিধান (3) বিশ্ব ভালবসা দিবস (3) শিক্ষা (3) শিক্ষার্থী (3) স্লাইড শো (3) News (2) VERIETIES POEMS OF VERIOUS POETS (2) আষাঢ় মাসের কবিতা (2) আষাঢ়ের কবিতা (2) ইসলামী রেনেসাঁ (2) ছাত্র-ছাত্রী (2) থার্টি ফাস্ট নাইট (2) নারী কল্যান (2) নারী প্রগতি (2) নির্বাচন (2) বর্ষার কবিতা (2) মহাসমাবেশ (2) শবেবরাত (2) শরৎকাল (2) শাহনগর (2) শ্রদ্ধাঞ্জলী (2) সত্য ঘটনা (2) সত্য-মিথ্যার দ্বন্ধ (2) সফলতার পথে বাংলাদেশ (2) Bannersআমার ছবিগুলো (1) DXN (1) For Life Time Income (1) For Make Money (1) Knowledge (1) Student (1) অদ্ভুত সব স্বপ্নের মাঝে আমার নিদ্রাবাস (1) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (1) আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত(সুন্নী) (1) উপন্যাস (1) কবি কাজী নজরুল ইসলাম (1) কোরআন - হাদিসের কাহিনী (1) গল্প (1) চট্টগ্রাম (1) চিকিৎসা ও চিকিৎসক (1) জমজম (1) জাকাত (1) তরুন ও তারুণ্য (1) নারী জাগরণ (1) পরকিয়ার বিষফল (1) ফটিকছড়ি পৌরসভা (1) বন্ধুদিবস (1) বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেম (1) বিবেক ও বিবেকবান (1) বিশ্ব বাবা দিবস (1) বিশ্ব মা দিবস (1) ভ্রমণ (1) মন্তব্য (1) মাহফুজ খানের লেখালেখি (1) রবি এ্যাড (1) রমজানুল মোবারক (1) রেজাল্ট (1) রোগ-পথ্য (1) লংমার্চ (1) শহীদ দিবস (1) শুভ বাংলা নববর্ষ (1) শৈশবের দিনগুলো (1) সমবায় (1) সস্তার তিন অবস্থা (1) সাভার ট্র্যাজেডি (1) সিটি নির্বাচন (1) স্বপ্ন পথের পথিক (1) স্বাধীনতা (1) হ্যালো প্রধানমন্ত্রী (1) ২১ ফেব্রোয়ারী (1)

APNAKE SHAGOTOM

ZAKARIA SHAHNAGARIS WRITING

সকলকে বাংলা নতুন বছরের শুভেচ্ছা

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আমরা আর বাংলা ভাষায় কথা বলতে চাইনা । নিজের মাতৃভাষাকে যখন-তখন যেখানে সেখানে অবমাননা করে তৎপরিবর্তে ইংরেজী ভাষা ব্যবহার করতে অভ্যাস্থ হয়ে যাচ্ছি বা হয়ে গেছি ।
আরও একটু এগিয়ে গেলে বলতে হয় - আমরা আজ বাঙ্গালী হয়ে বাঙ্গালী জাতিসত্বা ভুলে গিয়ে ইংরেজী জাতিসত্বায় রক্তের ন্যায় মিশে গেছি !

অথচ একদিন আমরা বাঙ্গালী জাতি একতাবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রীয় ভাষা উর্দুকে ত্যাগ করে নিজেদের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা তথা বাংলা ভাষাকে সর্বত্র প্রচলন করতে প্রাণ দিতে বাধ্য হয়েছিলাম ! ফলে বিজাতীয় ভাষা উর্দূকে অপসারন করে নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলার স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলা ভাষাকে ধারন করেছিলাম । যখন আমরা বাংলার সর্বত্র বাংলা ভাষায় কথা বলা শুরু করেছিলাম ,তখন কিন্তু বিশ্বায়নের যুগটা অনুপস্থিত ছিল তা নয় , বিশ্বায়নের যুগটা তখনও ছিল বিধায় আমরা ইংরেজী শিক্ষায় তখনও বাধ্য ছিলাম । অর্থাৎ যে জন্যে আজ আমরা ইংরেজী শিখছি সেইজন্যে তখনও ইংরেজী শিক্ষার প্রচলন ছিল । ছিল ইংরেজী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাও । তাই বলে সে সময় বর্তমান সময়ের মত মাতৃভাষা বাংলাকে অবমাননা করা হয়নি । মানুষ সে সময় বাংলায়ই কথা বলেছিল । শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রেই সে সময় ইংরেজী ব্যাবহার করেছিল বাঙ্গালী জাতি

conduit-banners

Powered by Conduit

ফ্লাগ কাউন্টার

free counters

MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY

PLEASE CLICK ON MY BANNERS. VISIT MY AFFILIATE SITE "MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY ( অনলাইনে অর্থোপার্জনের একটা মাধ্যম )" I HOPE IT WILL BE HELPFUL FOR YOU. Create your own banner at mybannermaker.com!
খন্ড গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
খন্ড গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০১৩

হাসিনার ফাঁসির রায় ঘোষনার আনন্দে এক থাপ্পড়ে বন্ধুর নাক ফাটিয়ে দেয়া হল !! - মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী

হাসিনার ফাঁসির রায় ঘোষনার আনন্দে
এক থাপ্পড়ে বন্ধুর নাক ফাটিয়ে দেয়া হল !!
- মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
------------------------


এক লোক গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। তার পাশেই বসা ছিল তার এক বন্ধু। বসে থাকাটা বন্ধুটি দেখে তার ঘুমন্ত বন্ধুটি ঘুমের ভিতরেই দুহাত তুলে মুনাজাত করছে ! বসে থাকা বন্ধুটি তা দেখে অবাক ! সে আরও দেখতে পেল ঘুমন্ত বন্ধুটি বিড় বিড় করে কি যেন বলছে। হঠাৎ করেই ঘুমন্ত বন্ধুটি উত্তেজিত হয়ে উঠে তার মুখে একটা থাপ্পর মেরে দিল সর্বস্ব শক্তি দিয়ে ! সেই সাথে সে চোখ খুলে বসা বন্ধুটির দিকে তাকিয়ে দেখতে পেল,তার নাক দিয়ে রক্ত ঝরছে। সে তড়িগড়ি করে উঠে বন্ধুকে কি হয়েছে জিজ্ঞেস করলে বন্ধুটি বলল

- থাপ্পর দিয়ে নাক ফাটিয়ে দিয়ে আবার জিজ্ঞেস করছস আমার কি হয়েছে ?
= কি ! আমি তোকে থাপ্পর দিয়েছি ? আরে আমি তো স্বপ্নের মাঝে খুশিতে টেবিলে থাপ্পড় দিয়েছি !
- তুই টেবিলে থাপ্পড় দিছস না ! দেখ এখন কি অবস্থা ? শালা ! এত খুশি কিল্লাই কস ত ?
= সরি দোস্ত ! আরে আমি কি স্বপ্ন দেখেছি তুই ত জানস না। জানলে তুই শুধু টেবিলে থাপ্পড় না, পুরা টেবিলটাই ভাইঙ্গে ফেলতি।
- তাই ! শুনি কি সেই স্বপ্ন ?
= দাঁড়া আগে তোর রক্ত পড়া বন্ধ করার ব্যবস্থা করি ([চট্টগ্রামের ভাষায়] "তুআইন্যা পাতা" পিষে রস বের করে তা নাকে লাগিয়ে দিল সে, মিনিটের মধ্যেই রক্ত বন্ধ হয়ে গেল বন্ধুর )।
- রক্ত বন্ধ হইছে এবার বল কি স্বপ্ন দেখছস, যার জন্য আমার নাকটাই ফাটাইয়্যা দিতে হল।
= আরে স্বপ্ন দেখি দেশে তত্ববধায়ক সরকার গঠন হইছে। আর হাসিনা সদলবলে গেফতার হইয়া রিম্যান্ডে গেছে। তত্ববধায়ক সরকারের প্রধান হইছে হেফাজতে ইসলামের আল্লামা আহমদ শফি সাহেব। তিনি নির্দেশ দিছেন মাওলানা হাফেজ জোনায়েদ সাহেবরে যেভাবে হাসিনা রিম্যান্ডে নিয়ে কথা আদায়ের চেষ্ঠা করেছে ঠিক সেভাবেই যেন হাসিনার মুখ থেকে কথা আদায় করা হয় যে , হাসিনার বাপকে কে মেরেছিল তা যেন সে বলে। রিম্যান্ডে হাসিনার কাছ থেকে কথা আদায়ের দায়িত্ব পড়ে নতুন সরকারের সেনা প্রধান মাওলানা হাফেজ জোনায়েদ সাহেবের উপর। এখন বুঝতে পারছস কি ঘটেছে হাসিনার উপর? শেষমেষ হাসিনা স্বীকার করতে বাধ্য হল, তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে তার অর্ডারেই। হাসিনা নিজে ক্ষমতা দখলের জন্য তার বাবাকে হত্যা করতে মেজর ডালিমরে নির্দেশ দিয়েছিল। রিম্যান্ড শেষ হল। আদালতে পিতৃ হত্যার আদেশ দাতা হিসাবে হাসিনার ফাঁসির রায় ঘোষনা করা হল। এই ঘোষনা শুনেই তো টেবিলে থাপ্পড় দিয়েছিলাম আনন্দের ঠেলায়।

সোমবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৩

এমন যেন না হয় কোন পুরুষের জীবন


এমন যেন না হয় কোন পুরুষের জীবন
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------


এক বিবাহিত পুরুষের সাথে একদিন এক অবিবাহিতা মেয়ের পরিচয় হল। এক মাস না যেতেই তাদের মধ্যে এমন বন্ধুত্ব হয়ে গেল যে মেয়েটি পুরুষটির বউ বাচ্চা রয়েছে জেনেও পুরুষটিকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিতে দ্বিধা করলনা। তখন পুরুষটি তারদিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল - তুমি কি সিরিয়াস ? মেয়েটি বলল - সিরিয়াস কিনা জানিনা , তোমার আমাকে বিয়ে করতেই হবে। পুরুষটি বলল- ওকে ,তবে আমাকে একটা প্রশ্নের উত্তর দাও। মেয়েটি জিজ্ঞেস করল - প্রশ্নটা কি ? পুরুষটা বলল - তোমার মধ্যে এমন কি বেশী আছে যে , যা আমার বউয়ের কাছে নেই , যে জন্য বউ থাকা সত্বেও তোমাকে বিয়ে করতে হবে ? তখন মেয়েটি বলল - তোমার বউয়ের চেয়ে আমি তোমাকে বেশী ভালবাসব। তখন পুরুষটি বলল - ওকে , তবে একটা কথা বলত - ধর , আজ থেকে আমি অক্ষম হয়ে গেলাম , তোমাকে কোন দিক দিয়েই আমি সুখী করতে পারছিনা , তখনও কি তুমি আমাকে ভালবাসবে ? মেয়েটি বলল - অবশ্যই। তখন পুরুষটি মেয়েটিকে বিয়ে করে একটা ফ্ল্যাট ভাড়া করে স্বামী স্ত্রী রূপে দিন কাটাতে লাগল। আর আগের বউ সন্তানের কোন খোঁজ খবর নিচ্ছিলনা। এভাবে কেটে গেল ৮টি বৎসর।
একদিন পুরুষটির এমন এক রোগ দেখা গেল , যে জন্য পুরুষটি তার পুরুষাঙ্গের শক্তি হারাল। কয়েকদিন পর রোড এক্সিডেন্টে হারাল দু’টি পা। এর কয়েকদিন পর গরম পানি চোখে পড়াতে হারাল দু’টি চোখ। এভাবে যখন সে অচল হয়ে গেল বেঁচে থাকার তাগিদে সে তার গ্রামের বাড়িটি বিক্রি করে খরচ করতে থাকল। একদিন বাড়ি বিক্রীর টাকাও যখন শেষ হয়ে গেল তখন মেয়েটি পুরুষটিকে অবহেলা করতে শুরু করল। ফ্ল্যাটে নিয়ে আসতে থাকল নিত্য নতুন পুরুষ সঙ্গী। পুরুষটির তখন এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজতে থাকল ।উপায়ন্তর না দেখে পুরুষটি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিল। কিন্তু ,মরার আগে প্রথম বউ ও বাচ্ছাদের একবার দেখার ইচ্ছা জেগে উঠল মনে। পুরুষটির এক বন্ধু তার সবসময় খোজ খবর নিত। বলতে গেলে সে অচল হয়ে যাবার পর এ বন্ধুটিই অন্ধের যষ্টির মত কাছে কাছেই থাকত। এ বন্ধুকেই সে পাঠাল প্রথম বউয়ের বাপের বাড়ি , যাতে তাদের একবারের জন্য তার কাছে নিয়ে আসে। পরদিন পুরুষটির প্রথম পরিবার তার কাছে চলে আসে। তার এ অবস্থা দেখে তারা আর ঠিক থাকতে পারলনা। প্রথম বউ আর বাচ্ছাদের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে।
প্রথম বউ স্বামীর কাছ থেকে এক পলকের জন্যও নড়েনা। স্বামীর যাতে কোন প্রকার কষ্ট না হয় তীক্ষ্ন দৃষ্টি প্রথম বউয়ের। এভাবেই কেটে যায় বেশ কয়েকমাস। প্রথম বউয়ের আন্তরিক ভালবাসার কাছে হার মেনে পুরুষটি আত্মহত্যার কথা ভুলে যায়।
একদিন তার দ্বিতীয় বউকে তার কাছে আসতে বলে। যখন সে আসে তখন পুরুষটি তাকে জিজ্ঞেস করে - তুমি যখন আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলে তখন তোমাকে প্রশ্ন করেছিলাম - তোমার মধ্যে এমন কি বেশী আছে যে , যা আমার বউয়ের কাছে নেই , যে জন্য বউ থাকা সত্বেও তোমাকে বিয়ে করতে হবে ? তুমি বিয়ের আগে বলেছিলে তুমি আমাকে আমার এই বউয়ের চেয়ে বেশী ভালবাসবে। এখন তোমার সেই ভালবাসা কোথায় ? এখন বলতো - আমার এই বউয়ের চেয়ে তোমার কাছে কি বেশী আছে ? এই কথা বলার সাথে সাথেই পুরুষটি দ্বিতীয় বউয়ের গলা টিপে ধরল। বলতে থাকল - তোমাদের মত মেয়েদের জন্যই কত শত সুন্দর পরিবার আজ ধ্বংসমুখী। তোকে বাঁচিয়ে রাখলে আমার পরিবারের মত আরও শত শত পরিবারে নেমে আসবে বিপর্যয়। মেরেই ফেলব তোকে। তোকেও মারব , আমিও মরব। দ্বিতীয় বউ যতক্ষণ পর্যন্ত মরলনা ততক্ষণ পর্যন্ত সে গলাটিপে ধরে থাকল। মরণ নিশ্চিত হয়েছে জেনে সে তার গলা ছেড়ে দিয়ে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে দিল।

বিঃদ্রঃ এমন যেন না হয় , কোন পুরুষের জীবন।

রবিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১২

রূপালী জ্যোৎস্নায় একদিন


রূপালী জ্যোৎস্নায় একদিন
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

রূপালী জ্যোৎস্নায় একদিন চাঁদপুরের মেঘনার কোলঘেঁসে হাঁটছিলাম তীরভাঙ্গা ঢেউয়ের তালে দিলভাঙ্গা প্রেমের ঢেউ সঙ্গী করে প্রিয়ার হাত ধরে। মেঘনার পাড়ে মাতাল ঢেউয়ের আঁচড়ে পড়া পানির মত আমাদের প্রেমের ঢেউ যেন উপচে পড়ছিল হৃদয়ের তটে। বাকরুদ্ধ আমরা দু'জন। চারিদিকে সুনসান নীরবতা। শুধুই ভেসে আসছে কানে শোঁ শোঁ ধ্বণিতে পানির সাথে বাতাসের প্রেমদ্বন্ধ। নদীর পানিগুলো চিক চিক করছিলো রূপালী চাঁদের আলোয়। মাঝে মাঝে দূর দিয়ে ভেসে যাচ্ছে জোনাকীর মত আলো জ্বালিয়ে লঞ্চ-ষ্টিমার-বোটগুলো। নীরবতা ভেঙ্গে জিজ্ঞেস করলাম প্রিয়াকে :

- এত জায়গা থাকতে রাতবিহারে এ স্থানটি বাচাই করলে কেন ?
- কেন, তোমার খারাপ লাগছে ?
- খারাপ লাগছেনা , জানার কৌতুহল।
- রূপালী জ্যোৎস্না নদীর ধারে যতটুকু সুন্দর লাগে অন্য কোনখানে তত সুন্দর লাগেনা। তাই তোমার আজকের আগমনকে স্মৃতিতে ধরে রাখার জন্য এই বিশেষ স্থান নির্ধারণ।
- সত্যিই তাই, খুবই সুন্দর লাগছে। এমন সুন্দর জ্যোৎস্না আর কখনো দেখা হয়নি। অনেক অনেক ধন্যবাদ এই বিশেষ স্থানে নিয়ে আসার জন্য।
- হাঁটতে হাটতে অনুভব হলো একটি মিষ্টি সুঘ্রান যেন আমোদিত করছে। তোমারও লাগছে নাকি ?
- লাগছে মানে ! আমি তো এই সুঘ্রানের জন্যই এখানে আসি বার বার। তুমি কি এখন খেয়াল করছ সেটা ?
- না , যখন ডানে মোড় নিয়ে যাত্রা শুরু করলাম তখন থেকেই।
- ও তাই, তুমি কি জান কতটি চম্পা ফুলের গাছ পেরিয়ে এলাম ?
- তা আমি কিভাবে জানব ? আমি তো গাছের দিকে তাকাই-ইনি।
- তবে কোন দিকে তাকিয়েছিলে ?
- তাকিয়েছিলাম রূপালী চাঁদ, রূপালী নদ আর জ্যোৎস্নামাখা তোমার রূপালী মুখের দিকে। গাছ দেখার সময় কি আর পেলাম ?
- বাহ্ ! কবি হয়ে গেলে দেখছি !
- কবি হয়েছি কিনা জানিনা, তবে এমন মধুর ক্ষণে কবিতা না লিখতে পারলেও কবি হতে কার না ইচ্ছে করে ? যা হোক, বললে নাতো কয়টা চম্পা গাছ পেরিয়ে এলাম ?
- দশটা । আমার নিজেরই আছে ছয়টা।
- তবে তো এটা চম্পা ফুলের একটা বাগান। কিন্তু তোমার ছয়টা মানে বুঝলামনা। তুমি কি এখানে চম্পা ফুলের গাছ লাগিয়েছ নাকি ?
- হ্যা , এটাকে চম্পা ফুলের বাগানই ধরে নিতে পার। সব মিলিয়ে পঁচিশটা গাছ হলে তো একটা বাগানই। আমি জানিনা আমি গাছ লাগিয়েছি কিনা। তবে বাবা বলেছে আমার বয়স যখন তিন বৎসর তখন আমাকে এখানে নিয়ে এসে আমার হাত দিয়ে দশটা গাছ লাগানো হয়েছিল। দশটা গাছের মধ্যে বেঁচে আছে ছয়টা। তাই ওগুলো আমার গাছ হিসাবেই মনে করি যদিও মালিকানা স্বত্ব দবী করিনা।
- দারুন তো ! তোমার গাছগুলো দেখতে হবে।
- ঠিক আছে ফিরতি পথে দেখিয়ে নেব।
- আমরা আর কতদূর যাব ?
- চম্পা গাছ যতদূর পর্যন্ত আছে ততদূর , তারপর ফিরব।
- আর কতক্ষন হাঁটতে হবে ?
- হিসাব কর , আরও পনেরোটা গাছ অতিক্রম করতে হবে।
- গাছ হিসাব করলে তোমার আার হিসাব কখন করব ?
- মানে ?
- জ্যোৎস্না রাতের প্রেমের হিসাব !
- বুঝলামনা। সেটা কি রকম ?
- কচি খুকী, সব বুঝাতে হবে।
- না বুঝলে বুঝাতে হবেনা ?
- বুঝানোর কাম নেই , গাছ গুণতে এসেছি যখন গাছই গুণে যাই।
- রাগ করছ কেন , তোমার কি করার ইচ্ছা তাই বল।
- তুমি গাছ গুণতে বলে কেন ?
- মনে কর একটা অঙ্ক করতে দিলাম।
- এই ধরণের অঙ্ক এ সময় ভাল লাগেনা।
- কোন ধরণের অঙ্ক ভাল লাগে ?
- রোমান্টিক সময় রোমান্টিক অঙ্ক ?
- রোমান্টিক অঙ্ক ! সেটা কি রকম ?
- এই যেমন ধর , আই লাভ ইউ কতবার বলা হলো ? আগামী দিনের ডেটিং সময় কবে হবে ? এই ধরণের আর কি ?
- বাহ্ ! বেশ রোমান্টিক হয়ে গেলে মনে হচ্ছে ?
- রোমান্টিক হতে পারলাম আর কই ?
- পারলেনা কেন ?
- গাছ গুণতে দিলে কি আর রোমান্টিক হওয়া যায় ?
- কি করতে দিলে রোমান্টিক হওয়া যায় ?
- তা কি শিখাতে হবে ?
- বা রে , আমি কি জানি নাকি , রোমান্টিক কিভাবে হয় ?
- না জানলে থাক, অন্যদিন প্রাক্টিক্যাললি শিখিয়ে দেব।
- ঠিক আছে। আমাদের এখানেই শেষ , চল একটু বসি।
- হ্যাঁ , একটু বসলেই ভাল হয়। পাও ধরে গেছে।
- দেখ দেখ পানির ঢেউ কিভাবে আঁচড়ে পড়ছে !
- তুমি ঢেউ দেখছ ? আমি অন্য কিছু দেখেছি।
- কি ?
- রূপালী ইলিশ !
- কোথায় ?
- পানির সাথে একটা গর্তে ডুকেছে দেখেছি।
- এখানে তো তেমন কিছু দেখছিনা , তোমার ওড়নাটা দাওতো !
- আমার ওড়না দিয়ে কি করবে ?
- দেখই না কি করি ?

দেরী না করে ওড়নাটা নিয়ে খাদে নেমে গেলাম আমি । দৃষ্টি সরাইনি আমার। মাছটি রয়ে গেছে সেখানে এখনো। ওড়নাটা মেলে গর্তে হাত দিয়ে চেপে ধরলাম। যা ভেবেছি তাই । মাছটা ছুটে যেতে প্রাণপণ চেষ্টা করল। পারলনা পালাতে। ধরাশায়ী হলো দুটি হাতের কাছে । ওড়নাটা দিয়ে ভাবে পেঁচিয়ে নিলাম। তুলে আনলাম উপরে। প্রিয়া তার ওড়নার দিকে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকল। বলল :
- এ কি করেছ তুমি ?
- কি করেছি মানে ! দেখছনা রূপালী জ্যোৎস্নার রূপালী ইলিশ ধরে এনেছি।
- তুমি কি পাগল ?
- এই জ্যোৎস্নায় একটু পাগল না হলে কি মানায় ?
- তাই বলে তুমি আমার ওড়না দিয়ে মাছ ধরবে ?
- আরে তুমি ওড়নার চিন্তা করছ , লাভ কি করেছি সেটা তুমি দেখছনা ?
- দিলে তো আমার ওড়নাটা শেষ করে।
- একটা ইলিশের দাম কত জান ? তোমার ওড়নার তিনগুণ।
- ওড়না শেষ হয়েছে তো কি হয়েছে ? স্মৃতিটার ভিত্তি তো মজবুত হয়েছে। এই স্মৃতি কি ভুলতে পারবে ?
- ঠিক আছে , ওড়নার কথা বাদ দিলাম। কোন সাহসে খাদে নেমেছ ? যদি পীচলে গিয়ে পানিতে চলে যেতে কি হত ভেবে দেখেছ ?
- কেন , তুমি আমাকে বাঁচাতে নামতেনা ?
- নামলে কি হত ? দু'জনেই মরতাম।
- মরণকে ভয় করছ কেন ?
- কেন তুমি ভয় করনা ?
- আমি ভয় করলে কি আজ এই রূপালী ইলিশ ধরতে পারতাম ?
- তোমার সাহস দেখে আমি অবাক না হয়ে পারছিনা।
- আর অবাক হবার দরকার নেই। চল , দেরী করার সময় নেই।
- চল , বাড়ি গিয়ে দেখো বাবা কি বলছে। প্রস্তুত থাক গালি শুনার জন্য।
- এই রূপালী ইলিশের কাছে হাজারো গালি কিছুই না।
- তুমি না একটা বদ্ধ উন্মাদ।
- তাই সই।
- তুমি একটা গাদা ।
- তাও মানতে রাজি।
- পাগল।
- পাগল হয়েই তো করতে পেরেছি মাছটা দখল। এবার তোমার গাছ দেখাও।
- ওই তো , ওখান থেকে আমার গাছগুলোর শুরু।
- বেশ বড় হয়েছে দেখছি।
- বড় হবে না ? চৌদ্দ বছর হয়ে গেছে বয়স ।
- দেখি লাইটা জ্বালাওতো মোবাইলের।
- কেন ?
- গাছগুলোতে কিছু একটা লেখা দেখা যাচ্ছে মনে হয় !
- এ দেখি সব আমার নাম লেখা। ব্যাপার কি ?
- আমি যতবারই আসি তোমার নামটা এসব গাছে লিখে দিই।
- কেন ?
- তোমাকে একদিন এই গাছগুলো দেখাব বলে।
- যদি আমি কখনো না আসতাম ?
- আমার ধারণা ছিল , তুমি একদিন আসবেই।
- এমন বিশ্বাস কেন হয়েছিল ?
- জানিনা।
- এ গাছটিতেই শুধু দেখলাম - "Z" IS MY LOVE. কার উদ্দেশ্যে এ লেখাটি ?
- এটাই তোমার জন্য আজকর শেষ অঙ্ক।
- মাছটা একটু ধর।
- কেন ?
- আমিও একটা কিছু লেখতে চাই।
ছুরি দিয়ে সামান্য জায়গার ছাল পরিস্কার করে খোদাই করে লিখে দিলাম প্রিয়ার সেই চম্পা গাছে - " আজকের এই রূপালী জ্যোৎস্নার রাতে রূপালী চাঁদের আলোয় আমাদের এই রাতবিহারের স্মৃতি অমলিন থাকবে - I LOVE YOU PRIYA."
============

বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১২

এক গাধা আর এক গাধীর কথোপকথন


এক গাধা আর এক গাধীর কথোপকথন
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
(গল্পের সাথে ছবির কোন সম্পৃক্ততা নেই। ছবিটি গল্পের সাদৃশ্যতার মিলন হিসাবে দেখানো হয়েছে।)
---------------------------------

গাধী : একটা ছবি দিও।

গাধা : কি করবে ছবি দিয়ে ?
গাধী : কি করব সেটা আমার ব্যাপার।
গাধা : কবে দিতে হবে ?
গাধী : রেডী থাকলে আজ দিও রেডী না থাকলে দুই/ তিনদিন পর দিলেও চলবে।
গাধা : কি ধরণের ছবি ?
গাধী : যে ধরণের ছবি তোমার পছন্দ।
গাধা : আমার পছন্দের ছবি তোমার পছন্দ হবে ?
গাধী : আমার পছন্দ হবে না কেন ? তুমি কি পঁচা ছবি দিবে নাকি ?
গাধা : তবুও তোমার রুচি আর আমার রুচি কি এক হবে ?
গাধী : আমাদের মন যেভাবে এক হয়েছে সেভাবে আমাদের রুচিও এক হবে।
গাধা : তবুও যদি বলতে আমার ছবি বাচাইয়ে সহজ হতো।
গাধী : বেশী বকবক করনাতো। ছবি দিতে বলেছি ভাল দেখে একটা ছবি দিলেই হবে।
গাধা : ঠিক আছে , কাল দিব।
গাধী : ঠিক আছে বলে , আবার বলোনা এসে ভুলে গেছ।
গাধা : আর বলতে হবেনা , তোমাকে তো আমি চিনিই।
গাধী : চিনই যখন এত কথা কিসের ? খালি প্যাঁচাল !
গাধা : তোমার সাথে প্যাঁচাল করলে যে আমার সুখ লাগে।
গাধী : ওকে , কাল ছবি না আনলে সুখ ভরিয়ে দিব।
গাধা : আর আনলে কি দেবে ?
গাধী : আদর।
গাধা : ঠিক আছে , কাল ছবি পেয়ে যাবে।

গাধা বাড়ি গিয়ে সারারাত জেগে একটা ছবি বাচাই করল। ন্যাংটা একটা সুন্দর মেয়ের ছবি ! পরদিন নিয়ে আসল সেটা গাধীর কাছে।

গাধা : এই নাও তোমার ছবি । সারারাত জেগে হাজারো ছবি থেকে বাচাই করে এই ছবিটাই আমার কাছে ভাল লাগল তাই নিয়ে এলাম।

গাধী ছবিটা হাতে নিয়ে দেখে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠল। সেই সাথে খাট্টাস করে গাধার গালে একটা চড় লাগিয়ে দিল।

গাধী : এটা কার ছবি ? তোমার গার্ল ফ্রেন্ডের ?
গাধা : ছিঃ কি বলছ ? ওটা আমার গার্লফ্রেন্ড হতে যাবে কেন ? আমার গার্লফ্রেন্ড তো তুমিই।
গাধী : তবে এ ছবি আনলে কেন ?
গাধা : বা রে ! তুমিই তো বললে সুন্দর দেখে একটা ছবি আনতে !
গাধী : এই তোমার সুন্দর ! আর আমি কি অন্য মানুষের ছবি আনতে বলেছি ?
গাধা : তবে কার ছবি আনতে বলেছ ?
গাধী : তোমার নিজের ছবি। তুমি না একটা আস্ত গাধা !
গাধা : তুমি কি আমাকে বলেছিলে , আমার নিজের ছবি আনতে ? তুমিও না একটা গাধী।
====================

বৃহস্পতিবার, ৩০ আগস্ট, ২০১২

ভালোবাসার ভুত সওয়ার


ভালোবাসার ভুত সওয়ার
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------
আজ একটা ছেলের সাথে একটা মেয়ের চ্যাট চলছিল। প্রায় পাঁচমিনিট কথা বলার পর মেয়েটি হঠাৎ করে বললো -
" i love you " !
তখন ছেলেটি বললো - কি বললে , বুঝিনাই?
মেয়েটি এবার বাংলায় বললো - " আমি তোমায় ভালবাসি " !
ছেলেটি বললো - বুঝিয়ে বল, এখনও বুঝিনাই ?
মেয়েটি তখন বললো - " তুমি কি কানে কম শুন ? "
ছেলেটি বললো - " এইযে এতক্ষণ কথা বলে আসলাম তোমার কি মনে হয়েছে, আমি কানে কম শুনি ? "
- না, তাতো মনে হয়নি !
- তবে এখন মনে হবার কারণ ?
- সেটা তো আমিও বুঝছিনা, একটা কথা দুইবার দুইভাবে বললাম , তুমি বলছ বুঝনি।
- না বুঝলে বুঝে নাও , কেন আমি বুঝছিনা ?
- তবে কি তুমি ইচ্ছা করেই কথাটা বুঝতে পারছনা ?
- যদি বলি তাই ?
- তবে কেন ?
- তোমাদের ভালোবাসার প্রতি আমার প্রচন্ড ঘৃণা।
- কেন ?
- কেন এর উত্তর দিতে চাইনা।
- কেন ?
- এই উত্তরটা তোমার বুঝে আসবেনা।
- তুমি বল , দেখি বুঝে আসে কিনা ?
- তোমার খারাপ লাগবে।
- খারাপ লাগলে আমার লাগবে , তোমার ক্ষতি কি ?
- আমি চাইনা , তোমকে যা তা শুনাতে।
- যা তা মানে ?
- আমার মুখ ছুটলে তোমাকেও গালি দিতে হবে ।
- আমাকে গালি দিতে হবে কেন ?
- কারন , উত্তরটাই সেইরকম।
- তবে কি বলছ কাউকে ভালবাসা অন্যায় ?
- ভালবাসা অন্যায় নয়, ভালবাসার নামে ছলনা করা অন্যায় ।
- তুমি কি আমাকে ছলনাকারী ভাবছ।
- মনে কর তাই।
- তবে কি তোমার বিয়ে করার ইচ্ছে নেই ?
- সেটা কেন বলছ ?
- যখন কোন মেয়ের প্রতিই তোমার বিশ্বাস নেই , তবে বিয়ে করবে কিভাবে ?
- বিয়ে তো করেই ফেলেছি ।
- কি ?
- কি মানে ? তোমার বিশ্বাস হয়না ?
- না ।
- না হলে কি করা, বিয়ে তো আমি করেছি সেটাই সত্য।
- আমাকে নাচাচ্ছ।
- তোমাকে নাচিয়ে আমার কি লাভ ?
- সত্যিই কি বিয়ে করেছ ?
- তুমি যদি মিথ্যা মনে কর , তাতে আমার কিছু করার নেই।
- বয়স কত তোমার ?
- প্রকৃত বয়স ৪৩ বৎসর।
- মিথ্যা বলছ। তোমার ছবিতে তা বুঝায়না ।
- আমার ছবিতে কি বুঝায় ?
- তোমার বয়স ৩০শে উপরে নয় ।
- তাই ! তবে তো তোমাকে বিয়ে করতে পারি।
- সেইজন্যই তো বললাম - তোমায় ভালবাসি।
- থাক আমাকে ভালবেসে তোমার জীবন নষ্ট করতে হবেনা। আমি তিন সন্তানের জনক।
- আর নাচিওনা তো !
- তোমার যদি নাচতে ইচ্ছে হয় নাচো । কিন্তু মনে রেখো - আমি আমার সত্যটাই বলেছি।
- আমি বিশ্বাস করিনা।
- ঠিক আছে , আজ তুমি আমার প্রোফাইল ও বিস্তারিত দেখে তারপর সিদ্ধান্ত নিও , বিশেষ করে আমার ছবির এ্যালবামগুলো দেখতে ভুলবেনা।
- ওকে , ভাল থেকো।
- তুমিও ভাল থেকো। পারলে মাথা থেকে ভালবাসার ভুতটা তাড়িয়ে দিও।
- খোদা হাফেজ ।
- খোদা হাফেজ।
-------------

বৃহস্পতিবার, ২৩ আগস্ট, ২০১২

অভিমানী ঝগড়া


অভিমানী ঝগড়া
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------
আজ এক মেয়ে বন্ধুর সাথে তুমুল ঝগড়া হলো । ঝগড়াটার একটা নাম দিলেই নয় । তাই নাম দিলাম " অভিমানী ঝগড়া " । ঝগড়াটা আর কিছুর জন্য নয় , নেটে এসে চ্যাটে ধরণা না দেয়ার শাস্তি ! তবে আর দেরী নয় , দেখুন আমাদের ঝগড়া।
আমি এক মিনিটের জন্য জরুরী প্রয়োজনে চ্যাট অপশনে অনলাইনে যখন আসি মেয়েটির ম্যাসেজ আসে :
- ম্যাসেজের রিপ্লায় না দিলে তোমার খবর আছে আজকে !
- এটা কোন ধরণের ম্যাসেজ ? আগে মানুষ সালাম দোয়া দেয় তারপর কিছু বলার থাকলে বলে । নেশা করে এসেছো নাকি ?
- তোমাকে সালাম দোয়া দিতাম আগে ! কাছে পাইলে চাবুক দিয়ে কসে মারতাম ।
- চাবুক কি ?
- পান্তা ভাতের ঘি ?
- বুঝেছি , আজ তুমি নশা করেই এসেছ । বড় লোকের বেটিরা এমনই হয়। নেশা চড়ে গেলে হুঁশ থাকেনা।
- হ্যাঁ আমি নেশা করেই এসেছি । তাতে তোমার কি ?
- আমার কি মানে ? তুমি আমাকে যা তা বলবে আর আমি শুনব ?
- শুনতে তো হবেই বাচাধন , শুনার মত কাজ যে কর তুমি !
- কি করেছি আমি ?
- ঈদ গেছে কয়দিন ?
- ঈদ কি ?
- তোমার মাথা ?
- আমার মাথা ঈদ হলো কেমনে ?
- কচি খোকা আমার ! সেটা বুঝনা দেখেই তো বুঝাতে চাইছি ।
- ঠিক আছে বুঝাও , আমার মাথা ঈদ হয় কেমনে ?
- প্রথমে একটা হেমার খুজে নাও ।
- তারপর ?
- তারপর হেমারটা দিয়ে তোমার মাথার উপরে জোরসে মার , বুঝবে তোমার মাথা কিভাবে ঈদ হল ।
- আমি তোমার মত নেশাখোর না, মাতাল হয়ে নিজেকে নিজেই শেষ করে দিতাম।
- ও তাই ! তবে ঈদ কি জিজ্ঞেস করলে কেন ?
- এর উত্তর দিতে গেলে তো তোমকে ভালভাবে বুঝাতে হবে ।
- ঠিক আছে বুঝাও ।
- আগে বল - অর্ধেক বুঝবে না কি পুরা বুঝবে ?
- যেটা ভাল হয় সেটা ।
- যদি তাই হয় , তোমাকে পুরাই বুঝাতে হবে ।
- ঠিক বুঝাও ।
- এভাবে কি বুঝানো যায় ?
- তবে কিভাবে বুঝানো যাবে ?
- তোমাকে আমার কাছে আসতে হবে , আমার সাথে খেতে হবে , আমার সাথে থাকতে হবে , আমার সাথে ঘুমাতে হবে । মোট কথা আমার সাথে ১২ বছর কাটাতে হবে আমার কাছে এসে ।
- ইয়ার্কী কর আমার সাথে ?
- ইয়ার্কী না সত্য বলছি ?
- তুমি না একটা ফাজিল।
- কি আমি ফাজল ? কি ফাজলামী করেছি তোমার সাথে ?
- এই যে , এগুলি যে বললে ফাজলামী ছাড়া আর কি ?
- সেটা ফাজলামী না , যা সত্য তাই বলছি । প্রবাসীদের কাছে ঈদ মূল্যহীন । তারা দেশ থেকে এসে প্রবাসী হয়ে ভুলে গেছে ঈদ কি ? আর কেন ভুলে গেছে সেটা বুঝতে হলে তোমাদের কে প্রবাসীদের সাথে জীবনযাপন করতে হবে । নয়তো বুঝবেনা। ঈদের দিনগুলোই তারা কত কষ্টে দিনযাপন করে তা তোমাদের বুঝে আসবেনা । তাই বলছিলাম - ঈদ কি ?
- সো সরি ! তোমাকে হার্ট করলাম ।
- না ঠিক আছে ।
- বল কি খবর , কেমন আছো ?
- আমরা তো ভালই , তোমার কথা শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেলো এসেছিলাম তোমার সাথে ঝগড়া করতে । এখন তোমার মনখুশি কিভাবে করা যায় , সে চিন্তাই করছি।
- থাক আর আমাদের জন্য চিন্তা করতে হবে না । তোমরা যারা দেশে আছ সুখেই থাক । তোমাদের সুখের মধ্য দিয়েই হোক আমাদের জীবনের পথচলা।
- দেশে এসে ঘুরে যাও ।
- আর দেশে ! ভাবছি আর দেশেই যাবোনা ।
- এমন করে বলনাতো ।
- কেমন করে বলতাম ? তুমি কি জাননা আমার খবর ?
- জানি বলেই বলেই তো বলছি , কয়েকদিন দেশে এসে মনকে ঠিক করে যাও।
- না বন্ধু , যে পরিস্থিতি মনে হয় দেশে আসা হবেনা বেশ কয়েকবছর। তবে কোরবানের পর একটা সিদ্ধান্তে আসতে পারব। কোরবানের পর আমার ভিসা রেন্যুর তারিখ। ভিসা রেন্যু হলে দেশে আসার চিন্তাভাবনা করব। ভিসা রেন্যু না হলে স্পন্সর থেকে পালাতে হবে । তার পর বিশ ত্রিশ বছর যা থাকতে পারি , এখানে থেকে কিছু একটা করার চেষ্ঠা করতে হবে।
- আসলে তোমার জন্য খুব খারাপ লাগছে।
- খারাপ লেগে কি হবে ?
- তাও ঠিক , কি করতে পারব আমি , শুধুমাত্র তোমাকে শান্তনা দেয়া ছাড়া ।
- এটুকুই চাই , আর বেশী কিছু না ।
- ঠিক আছে , আমি আর থাকতে পারছিনা , নেটে আসলে ইনবক্সে ম্যাসেজ দিও। আর সম্ভব হলে ফোন করো।
- ওকে , ভাল থেকো।
- তুমিও ভাল থেকো ।
- ঈদ মুবারক ।
- ঈদ মুবারক ।
==========

শুক্রবার, ৩ আগস্ট, ২০১২

একটি মেয়ের জীবনসঙ্গী পছন্দের বর্ণনা




একটি মেয়ের জীবনসঙ্গী পছন্দের বর্ণনা

মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

মেয়েটি কলেজে ছাত্রী । আধুনিক জমানার অত্যাধুনিক বড় লোকের শহুরে ললনা। বন্ধুত্বের খাতিরে একদিন তার অনুরোধে তার সাথে গিয়েছিলাম ঘুরতে লালবাগ কেল্লায়। সালটা ছিল ১৯৯২ইং । বিকেল তিনটায় দুইজন মৌচাক মোড় থেকে তার প্রাইভেট কারে করে রওয়ানা দিয়ে যখন লালবাগ দূর্গ গেইটে পৌঁছি , তখন প্রায় বিকেল ৩টা ২০ মিনিট। রৌদ্রতেজে আসেনি তখনো বিকেলের মিষ্টিমাখা উত্তাপ। তাই গাড়ীতে বসেই গেইটে দন্ডায়মান ঈগলু আইসক্রিমওয়ালার দিকে ইশারা করলাম। পাঁচ টাকা দামের তিনটা আইসক্রিম নিয়ে যখন আমি , মেয়েটি এবং ড্রাইভার খাওয়া শেষ করলাম , তখন বিকেলের মিষ্টিমাখা রোদ হাতছানি দিয়ে ডাকতে লাগল আমাদের। ড্রাইভারকে ছেড়ে দিয়ে আমরা দুজনে ডুকে গেলাম দূর্গ ময়দানে । চতুর্দিকে এক চক্ষর লাগিয়ে যখন আমরা দূর্গের উপরে উঠে বুড়িগঙ্গার দিকে দৃষ্টি দিলাম , তখন বিকেল সাড়ে পাঁচটা। মিষ্টিমাখা রোদ আর হিমেল সমীরণে মোহিত হলাম আমরা। দূর্গের পশ্চিম পাশে গিয়ে পলাস্তরা খসে যাওয়া ওয়ালে হেলান দিয়ে যখন দূর্গের উপরে বসলাম , তখন মনে উদিত হলো ইশা খাঁর সেই সতর্কবাণী - ” আমার শাসনামলে এক টাকায় আড়াই মন চাউল পাওয়া যায় ,আমার পরবর্তীতে যে শাসক এই মূল্যে এই দেশে চাউল বিতরণ করতে পারবে সে শাসকই এ দূর্গ চাইলে ভাংতে পারবে , নয়তো কারো অধিকার নেই এই দূর্গ ভাঙ্গার ! ” এই সতর্কবাণী কতটুকু সত্য জানিনা । এটা একটা শুনা কাহিনী। কিন্তু সেই সত্যতা প্রমাণ করে এই দূর্গের অস্থিত্ব থাকার মধ্য দিয়ে। ইশা খাঁর আমল থেকে এ পর্যন্ত এ দেশের কোন শাসক এক টাকায় আড়াই মণ চাউল বিতরণ করতে পারেনি এবং এই দূর্গ ভাংতেও পারেনি। শুনেছি কয়েকবার এই দূর্গের অভ্যান্তরে লোক পাঠানো হয়েছিল , তারা আর ফিরে আসেনি। এমনকি কুকুরও পাঠানো হয়েছিল যার আর ফিরে আসেনি। তাই পরবর্তিতে দূর্গের মুখটি বন্ধ করে দেয়া হয়। যা হোক লিখতে বসেছিলাম একটা মেয়ের পুরুষ পছন্দের কথা । লিখে ফেলেছি ইশা খাঁর আমল নিয়ে কথা ! গল্পের আয়োজন সম্ভবত এমনই ।
দূর্গের উপরে যখন বসলাম । একথা ওকথার পর মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলাম -

বলতো তোমার জীবন সঙ্গী কেমন চাও ? (আসলে ওর ভাই-ই আমাকে জিজ্ঞেস করতে বলেছিল তার কেমন ছেল পছন্দ)

- হঠাৎ এ প্রশ্ন কেন ?

- জানতে চাইলাম আর কি ? দেখি আমি তোমার উপযুক্ত কি না ? (একটু যোগ করলাম)।

- ও তাই ! সাহস তো কম না !

- এতে আবার সাহস লাগে নাকি ? একটা কথা জিজ্ঞেস করতে যদি সাহস লাগে , তবে আর পুরুষ হলাম কেন ?

- এই জন্যই তুমি আমার বন্ধু । যা বল অকপটে। সেটা খারাপ হোক আর ভাল । মনে আসলেই বলে ফেললে , আর তাতে কেউ রেগে যায় কি না দেখনা ! সত্যি তুমি খুব সহজ সরল ।

- থাক আর প্রশংস করতে হবেনা । যা জিজ্ঞেস করেছি তার উত্তর দাও ।

- উত্তর কি দিতেই হবে ?

- তোমার অসুবিধা হলে দিওনা , চল বের হয়ে যাই ( একটু রাগের ভান করলাম। সে জানে আমি একবার রাগলে তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ রাখি কম্পক্ষে পনের দিন)।

- তোমাকে নিয়ে এই হচ্ছে একটা সমস্যা । নাকের ডগায় যেন তোমার রাগ কিলবিল করে ।

- আর তোমাকে নিয়ে কোন সমস্যা নাই ?

- বল আমাকে নিয়ে কি সমস্যা ?

- এইযে ডুবে ডুবে প্রেম কর আর আমাকে কিছু জানাওনা । কেমন বন্ধু তুমি ?

- আমি প্রেম করি ! তোমাকে কে বলল ?

- কেউ বলতে হবে নাকি ? তোমার আচার আচরণেই তো বুঝা যায় ।

- কি আচরণ দেখেছ যে , আমি প্রেম করছি মনে হচ্ছে ?

- এই যে দুপুর দুইটায় ফোন করে জানালে এক্ষুনি বের হও , ঘুরতে যাব । প্রেম না করলে কি কেউ কাউকে বলে ?

- আহারে আমার প্রেমিকরে ! বিড়ি খায়না , সিগারেট খায়না , মদ খায়না , প্রেম কারে কয় তাও জানেনা , তার সাথে করব আমি প্রেম ! তুমি জাস্ট আমার বন্ধু। যদি প্রেম করতে চাও আজ থেকে বন্ধুত্ব কাট। আর প্রেম তো প্রশ্নই আসেনা।

- ওই তাই ! বুঝতে পারলাম ।

- কি বুঝতে পারলে ?

- তোমার কেমন ছেলে পছন্দ তা।

- কচু বুঝেছ । কচু চিন ?

- তুমি কয়টা কচু চিন সটা বল আগে ।

- কেন ওলকচু , মানকচু । আর কি কোন কচু আছে নাকি ?

- বুঝেছি তুমি কচু চিন , তবে যাতকচু, গুরা কচু , ছড়া কচু এগুলি চিননা ।

- আমি জন্মেছি শহরে । এতগুলো চিনব কি করে । তুমি গ্রামে জন্মেছ তাই তুমি অতসব জান ।

- তাইলে আবার বললে কেন যে আমি কচু চিনি কি না ?

- সরি ।

- হ , গ্রামের মানুষদের শহুরেরা সরি বললেই তারা মনে করে তাদের কেল্লাফতে। তাই ত বলি - কেন আমার সাথে প্রেম করতে তোমার বাধা ? আমি গ্রামের আর তুমি শহরের । কোথায় আকাশ আর কোথায় পাতাল ! ঠিক আছে । প্রেম করতে হবেনা আমার সাথে । আমি নিজেও জানি আমি তোমার উপযুক্ত না । বামন কখনো চাঁদের দিকে হাত বাড়িয়ে চাঁদ ধরতে পারেনা । এখন বল তোমার কেমন ছেলে পছন্দ?

- তুমি তো রেগে গেছ দেখছি । আমি বুঝতে পারিনি তুমি এত রেগে যাবে । সরি বন্ধু , মাফ করে দাও ।

- নাতো আমি রাগিনি । গ্রামের মানুষদের শহুরেদের সামনে রাগ করা শোভা পায়না। তেমনি আমারও না ।

- ঠিক আছে যতক্ষণ পার তুমি বলে গায়ের ঝাল মিঠাও , তবু রাগ করোনা। তুমিই তো আমার একমাত্র বন্ধু , যার সাথে আমার মনের সব কথা শেয়ার করি।

- ওকে , বাবা আমি রাগ করিনি । এখন বল তোমার কেমন ছেলে পছন্দ ?

- তুমি এই কথা নিয়ে আছ কেন ? কারো দালালী নিয়েছ নাকি ?

- দালালী নিলেই বা ক্ষতি কি যদি আমার বন্দুর কোনদিন উপকার হয় ।

- বুঝলামনা । উপকার মানে ?

- তোমার এত বুঝার কাম নেই । আপাতত উত্তর দিলেই চলবে ।

- ঠিক আছে উত্তর দিচ্ছি একটা শর্তে ।

- কি শর্ত ?

- এ কথা জানত চাচ্ছ কেন ?

- সেটা কয়েকদিন পরে বললে হয়না ?

- আজকে বললে অসুবিধা কি ?

- অসুবিধা আছে বলেইতো আজ বলা যাবেনা। যদি বলতে না চাও থাক , বলার দরকার নেই ।উঠ সন্ধ্যা হয়ে গেছে ।

- আবারও রাগ ! ঠিক আছে বাবা , বলছি । আমি এমন ছেলে পছন্দ করি - যে সিগারেট খায় , মদ খায় , নেশাখোর , সিনেমা দেখে , গুন্ডামী করে , মিথ্যা বলে , নারীদের প্রতি আসক্ত , সবসময় সেক্সুয়্যাল কথা বলে , লজ্জাহীন , ধুকাবাজ , চঞ্চল , বে-পরোয়া , লোভী , ধর্মাসক্ত নয় , মেয়ে দেখলেই যার জীবে জল আসে , মেয়েদের যে ছ্যাকা দিতে জানে , লড়াকু , শক্তিশালী , তেজোদীপ্ত , প্রতিজ্ঞাভঙ্গকারী , লুচ্ছা , বদমাস এই ধরণের ছেলেই আমার পছন্দ!

- এটা কি আমাকে থাপ্পড় দিলে নাকি আমাকে শিক্ষা দিলে ।

- না বন্ধু , কোনটাই না । যা সত্য তাই বলেছি । আমরা বেশীরভাগ মেয়েরা এই ধরণের ছেলেই পছন্দ করি। সহজ সরল ছেলেদের পছন্দ করে জীবন বরবাদ করে ফায়দা কি ?

- তবে তো তোমার পছন্দগুলির প্রত্যেকটি বিষয়ে ভাল করে জানতে হবে । কেন তোমাদের এই ধরণের ছেলে পছন্দ?

- আজকেই কি সব জানতে চাও ? সব আজকে জানিয়ে দিলে অন্যদিন কি বলব ? চল বেরিয়ে পড়ি । মাগরিবের সময় হয়ে গেছে । অন্যদিন বলব ।

সেদিনকার মত তার কাছ থেকে বিদায় নিলাম মৌছাক মোড়ে এসে । তারপর আরও একদিন …

===================== 

সোমবার, ১৬ জুলাই, ২০১২

অখ্যাত এক প্রেমের গল্প (০১)


অখ্যাত এক প্রেমের গল্প (০১)
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

একদিন একটা ছেলে মদিনার এক জনাকীর্ণ স্থানে বসে পরিশ্রান্ত শরীর ও মনে শক্তি সঞ্চার করছিল। চারিদিকে চলছিল মানবযাত্রা। আর সে আনমনে বসে টিপছিল মোবাইল বটম। হঠাৎ এক মেয়ে এসে বললো -


**আপনাকে কোথাও দেখেছি ।
*দেখতেই পারেন , পুরুষ মানুষ তো সব সময় রাস্তা দিয়েই হেঁটে যায় কারনে , অকারনে।
** না , তা নয় । আপনাকে বিশেষ একটা স্থানে দেখেছি।
* আচ্ছা দেখেছেন ভাল কথা , এখন আপনি কি চান তাই বলুন ।
** আচ্ছা মানুষ তো আপনি ! বলার পরিবেশ করতে পারলেই তো বলব, নাকি ?
* তবে কি আপনি বলতে চান - এটা দুষিত পরিবেশ !
** দুষিত ছিলনা , আপনার ব্যবহারে দুষিত হয়ে যাচ্ছে !
*ও তাই ! আমি কি আপনাকে তেমন কিছু বলেছি যে , আপনার ইজ্জত হানি হতে যাচ্ছে !
** বড় বিচিত্র মানুষ তো আপনি !
* আপনি কি আমাকে চিড়িয়াখানার চিড়িয়া ভাবছেন নাকি !
** আপনাকে তাই যদি ভাবা যেতো তবু ভাল হতো।
* বুঝেছি আপনার সাথে প্রেমের আলাপ না করাতেই মনে হয় আপনার খারাপ লাগছে।
** এই তো রেল তার লাইনের উপরে উঠতে শুরু করেছে।
* সেটা আগে বলবেন তো , আমাকে কোথাও দেখার ভান করে আপনি প্রেম করতে চাইছেন ! তবেই তো আপনকে কোলে বসিয়ে প্রেমের আলাপ শুরু করতাম।
** আপনি না একটা সীজ !
* দেইখেন সীজ কে পছন্দ করে , আবার বুকে জড়িয়ে ফেলতে যাবেন না।
** জড়িয়ে ফেলতে পারলে তো ভালই হতো , এত কথা বলা লাগতোনা।
* তাই , তবে বাধা দিচ্ছে কে ? সাহস থাকলে ...
** সাহস দেখতে চান ?
* দেখতে চাইনা , তবে দেখাতে চাইলে কেউ কি বাধা দিয়ে রাখতে পারে ?
** বুঝেছি , আপনাকে সেজে দিলে আপনি মানাও করেন না।
*এতই যখন বুঝেন এত কথা কেন ?
** কোন কথা না বলে , কিছু দেয়াতে কি মজা আছে ?
* তবে তো আপনি মজাও করতে জানেন দেখছি।
** মজা আর দেখাতে দিলেন কই ?
* আমি কি আর দেওয়া লাগে ? এতক্ষণ সেজ সেজে যে মজা দেখালেন...
** চলুন না একটু নিরিবিলি স্থানে বসে আলাপ করি ।
* কেন আপনি আমার কে ? পুলিশে দেখলে সোজা মুতাওয়া অফিসে । জানেন তো ?
** না জানলে কি এতক্ষণ আপনার সাথে কথা বলতাম ?
* বুঝলাম না।
** এত বুঝার কাম নেই । যা বলছি তাই করেন ।
* আপনি কি আমার ঘরণী নাকি যে , আপনার কথায় আমি উঠব বসব ?
** এই তো বুঝে গেছেন পুলিশে জিজ্ঞেস করলে কি পরিচয় দিতে হবে !
* মানে ?
** আবার মানে ? আমরা স্বামী-স্ত্রী ! বিয়ে করে বেড়াতে এসেছি।
* ঠিক আছে , তাই বলবো । তবে এক বিছানায় থাকতে রাজি আছেন তো ?
** আপনি না বেশী কথা বলেন ।
* হাঁ , সব সুবিধা আপনি ভোগ করবেন , আর আমার সুবিধার কথা বললে আমি বেশী কথা বলি , তাই না ?
** আচ্ছা , সুবিধা - অসুবিধা চিনেন আপনি ?
* কেন আপনি এখনো বুঝতে পারেননি , বুঝিয়ে দিতে হবে ?
** বুঝিয়ে দেয়ার দরকার নেই , অনেক বুঝে ফেলেছি ।
* কি বুঝেছেন ?
** এই , আপনি সুবিধাভোগী , স্বার্থপর ।
* আমি যদি তাই হই , আপনি ?
** এভাবে কি শুধু প্রশ্নোত্তর পর্ব চলবে ?
* আর কি করতে চান আপনি ?
** সেটা দেখানোর জন্যই তো বলছি একটু নিরিবিলিতে চলুন।
* ঠিক আছে , চলুন । দেখি আপনি কি দেখাতে চান ।
** চলুন ।
বলেই সেই ছেলেটির হাত ধরে টেনে নিয়ে বসাল এমন এক স্থানে , যেখানে দু'জনকে কেউ দেখবেনা। ছেলেটি বসেই বললো -
* কি দেখাবেন দেখান ।
** দেখাচ্ছি ।
এই বলেই মেয়েটি ছেলেটিকে কাছে টেনে নিয়ে .....
। এখানেই মেয়েটির সাথে ছেলেটির প্রথম দিনের পরিচয় পর্ব শেষ । শুরু হয় তিনদিন পর দ্বিতীয় দিনের পরিচয় পর্ব।
==================

বৃহস্পতিবার, ২১ জুন, ২০১২

বৃষ্টি দিনের ভালোবাসার কথন : পর্ব-০২



বৃষ্টি দিনের ভালোবাসার কথন : পর্ব-০২
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
------------------------

১৪।
আমাকে একজন প্রশ্ন করলো -আচ্ছা তুমি যে সেদিন বৃষ্টি নিয়ে এত লেখা লিখেছ ,তোমাদের ওখানে কি বৃষ্টি হয় ? 
আমি জবাব দিলাম -আমাদের এখনে যে বৃষ্টি তা কেউ দেখতে পায়নাযে বৃষ্টিতে ভিজে সয়লাব হয়ে যায় বালিশের সর্বাঙ্গভাগ্য ভাল ফোমের বালিশ চুষে নেয় ,তাই রাস্তার স্রোত হয়ে বহেনা ।

১৫।
দুদিন আগে যখন শরীরটা খুব খারাপ লাগছিল ,তখন হঠাৎ একটা ম্যাসেজ আসল ফোনে। তাতে লেখা - মনে আছে তোমার সেই দিনটি ,আমরা শিম্পাঞ্জী দেখতেছিলাম ,হঠাৎ আসলো বৃষ্টি ! দু'জনে দৌড় দিলাম ,আর সবুজ ঘাসে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলাম আমিতুমি টেনে তুলে দু'হাতের উপর আমায় শুইয়ে দিলে দৌড় ! আর আমি চেয়ে থাকলাম তোমার মুখের দিকেদেখিনি তোমার মুখে কোন কষ্টের ছাঁপ। দেখেছি শুধুই আনন্দের হাসিতোমার সেই হাসিতে বুকটা ভরে যায় আমার এক অনাবিল আনন্দে , একরাশ ভালবাসায়

আশ্চর্যাম্বিত আমিএতগুলো বছর পেরিয়ে আজ একি দেখছি আমি ! আমাদের এ কথাটা আমরা দু'জন ছাড়া আর কেউতো জানেনা ! তবে -কার ম্যাসেজ ?ভালভাবে দেখলাম আবার ম্যাসেজটি। না ঠিকই আছেকিন্তু কে পাঠালো ?সে নয়তো ? ১৯ বছর পর নতুন করে আবার কি করে এলো সেই বসন্তের ডাক ?

১৬।
১৯৯৩ এর একদিনলালমাটিয়া মহিলা কলেজের গেইটে দাড়ানো আমিঅপেক্ষার অন্ত নেই। সে আসবে মিরপুর সেকসন ৬ থেকেসেদিন ছিল তার ইন্টারমেডিয়েট পরীক্ষার প্রথম দিনগুটি গুটি বৃষ্টিতে ভেজা জনপদইতস্তত থাকাতে থাকলাম আমি । না দেখা নেইহঠাৎ ই নজরে পড়লো ফারুক ভাইয়ের দিকেটেক্সী থেকে নামছে তারা দু'জনসেই-ই আমাকে ইশারা করলো ,ফারুক ভাই একটু দূরে অবস্থান নিল আমাদের সুযোগ করে দিয়ে। আর মাত্র দশ মিনিটযা বলার বলে ফেল ,ডুকে যেতে হবে হলেবললাম ,আজ রাতে জরুরীভাবে চট্টগ্রাম যাচ্ছি ,দু'দিন পর ফিরে আসব

ছল ছল নয়নে একবার দেখলো সে আমার দিকেতারপর কোন কথা না বলে হন হন করে চলে গেল গেইটের ভিতর দিয়েটিকেট নিতে হবে তাই আর সেদিন অপেক্ষা করা হলোনাদু'দিন পর যখন চট্টগ্রাম থেকে ফেরত আসলাম ,আসরের পর চিড়িয়ানার গেইটে দেখা হলো দু'জনের -সেই কি তুমুল বৃষ্টি ,আহ্ !

১৭।

"তার আর পর "! 
কেন যেন বৃষ্টি ভাল লাগতো দু'জনেরই" আষাঢ়ে মেঘের" তর্জন গর্জনে প্রকম্পিত ঢাকা নগরী । এরই মাঝে আমরা বেরিয়ে পড়তাম ডেটিং এ। রাস্তা থাকতো ফাঁকা। হতো তুমুল ধারে বৃষ্টিরিক্রাওয়ালা চেয়ে থাকতো মীরপুর সেকসন ৬ এর সেই ছোট্ট গলিটার দিকেকখন ডাক পড়বে তার তাই প্লাষ্টিক জড়িয়ে রেডি থাকতো সেআমাকে বলতো ভাইয়া ,আর কটু সবুর করন ,আমি টের পাচ্ছি এখনই চলে আসবেন আপা

রিক্সাওয়ালা আগেই রেডি থাকতো আমার জন্য সে সেকসন ৬ এর গলির মুখেতার আপা নাকি আমার সাথে ফোনে আলাপ হবার পর পরই বলে দিতো তাকে রেডি থাকতেরিক্সাওয়ালা ও হিসাব করে গলি মুখে এসে আমার জন্য দাঁড়াতআমাকে যখন দেখতো ,চিৎকার করে ডাক দিয়ে বলতো -ভাইয়া আমি এখানে ! আমার আর কষ্ট হতোনা তাকে খুঁজে পেতে

সেদিনও সে রেডি । আমি পৌঁছলেই ডেকে নিলো রিক্সায় । বললো সে -ভাইয়া বলছিলাম না ,চিন্তা কইরেননা। ঐ দেখেনমাথা বের করে দেখলাম। কাছেই চলে এসেছে সেহাতটা ধরে রিক্সায় টেনে তুলে নিলাম তাকে। চলতে শুরু করলো রিক্সা

ঝম ঝম করে কিছুক্ষণ পর শুরু হয়ে গেল বৃষ্টি। বললাম -আজ যেন একটু শীত শীত লাগছে। বললো সে - তবে তো একটা কাজ করতে হয়। আমি বললাম -কি ? সে বললো দেখোইনা কি করি ! এ কথা বলেই সে বাড়িয়ে দিলো তার হাত বৃষ্টির দিকেবৃষ্টিতে হাত বিজিয়ে আমার সার্টটা ফাঁক করে তার হাতটা আমার বুকে লাগিয়ে রাখল। বললাম -এটা কি হচ্ছে ? সে বললো শরীরে তাপ দিচ্ছি যাতে সর্দি না আসে !
==========================