আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা

বাংলা ভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী

সকল মহান ভাষা শহীদগণের প্রতি,
এবং ভাষা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত

সকল ভাষা সৈনিক
ও বীর বাঙ্গালীদের জানাই অশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলী,
সেইসাথে সকলকে জানাই

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা।

বিষয় সূচী

সাহিত্য (60) অন্যান্য কবিতা (53) ভালোবাসার পদবিন্যাস ( প্রেম সম্পর্কিত রচনা বিশেষ ) (53) আমার লেখা প্রবন্ধ-নিবন্ধ (37) কবিতা (35) দেশ নিয়ে ভাবনা (33) ফিচার (33) বাংলাদেশ (29) সমসাময়িক (28) খন্ড কাব্য (26) হারানো প্রেম (22) সংবাদ (18) কাল্পনিক প্রেম (16) ইতিহাস (15) প্রতিবাদ (15) সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ (15) Online Money Making Links (14) দেশাত্মবোধক কবিতা (13) আমার জীবনের দিনপঞ্জী (12) ধর্ম (12) প্রেমের কবিতা (11) ব্যক্তিত্ব (11) রাজনীতি (11) ধর্মীয় আন্দোলন (10) প্রবাসের কবিতা (10) খন্ড গল্প (9) জীবন গঠন (9) বর্ণমালার রুবাঈ (9) ইসলাম (8) প্রগতি (8) মানুষ ও মানবতা (8) হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ (8) VIDEOS (7) আমার লেখালেখির অন্তরালে (7) ইসলামী জাগরণ (7) মানব মন (7) ট্র্যাজেডি (6) শোক সংবাদ (6) সম্প্রীতি (6) নারী স্বাধীনতা (5) প্রেমের গল্প (5) বিজয় দিবসের ভাবনা (5) মৃত্যুপথ যাত্রী (5) সংবাদ মাধ্যম (5) স্মৃতিকথা (5) ঈদ শুভেচ্ছা (4) প্রবাস তথ্য (4) রমজান (4) শুভেচ্ছা (4) Computer Programer (3) আমার ছবিগুলো (3) আমার রাইটিং নেটওয়ার্ক লিংক (3) পর্দা (3) ফটিকছড়ি (3) বাংলাদেশের সংবিধান (3) বিশ্ব ভালবসা দিবস (3) শিক্ষা (3) শিক্ষার্থী (3) স্লাইড শো (3) News (2) VERIETIES POEMS OF VERIOUS POETS (2) আষাঢ় মাসের কবিতা (2) আষাঢ়ের কবিতা (2) ইসলামী রেনেসাঁ (2) ছাত্র-ছাত্রী (2) থার্টি ফাস্ট নাইট (2) নারী কল্যান (2) নারী প্রগতি (2) নির্বাচন (2) বর্ষার কবিতা (2) মহাসমাবেশ (2) শবেবরাত (2) শরৎকাল (2) শাহনগর (2) শ্রদ্ধাঞ্জলী (2) সত্য ঘটনা (2) সত্য-মিথ্যার দ্বন্ধ (2) সফলতার পথে বাংলাদেশ (2) Bannersআমার ছবিগুলো (1) DXN (1) For Life Time Income (1) For Make Money (1) Knowledge (1) Student (1) অদ্ভুত সব স্বপ্নের মাঝে আমার নিদ্রাবাস (1) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (1) আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত(সুন্নী) (1) উপন্যাস (1) কবি কাজী নজরুল ইসলাম (1) কোরআন - হাদিসের কাহিনী (1) গল্প (1) চট্টগ্রাম (1) চিকিৎসা ও চিকিৎসক (1) জমজম (1) জাকাত (1) তরুন ও তারুণ্য (1) নারী জাগরণ (1) পরকিয়ার বিষফল (1) ফটিকছড়ি পৌরসভা (1) বন্ধুদিবস (1) বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেম (1) বিবেক ও বিবেকবান (1) বিশ্ব বাবা দিবস (1) বিশ্ব মা দিবস (1) ভ্রমণ (1) মন্তব্য (1) মাহফুজ খানের লেখালেখি (1) রবি এ্যাড (1) রমজানুল মোবারক (1) রেজাল্ট (1) রোগ-পথ্য (1) লংমার্চ (1) শহীদ দিবস (1) শুভ বাংলা নববর্ষ (1) শৈশবের দিনগুলো (1) সমবায় (1) সস্তার তিন অবস্থা (1) সাভার ট্র্যাজেডি (1) সিটি নির্বাচন (1) স্বপ্ন পথের পথিক (1) স্বাধীনতা (1) হ্যালো প্রধানমন্ত্রী (1) ২১ ফেব্রোয়ারী (1)

APNAKE SHAGOTOM

ZAKARIA SHAHNAGARIS WRITING

সকলকে বাংলা নতুন বছরের শুভেচ্ছা

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আমরা আর বাংলা ভাষায় কথা বলতে চাইনা । নিজের মাতৃভাষাকে যখন-তখন যেখানে সেখানে অবমাননা করে তৎপরিবর্তে ইংরেজী ভাষা ব্যবহার করতে অভ্যাস্থ হয়ে যাচ্ছি বা হয়ে গেছি ।
আরও একটু এগিয়ে গেলে বলতে হয় - আমরা আজ বাঙ্গালী হয়ে বাঙ্গালী জাতিসত্বা ভুলে গিয়ে ইংরেজী জাতিসত্বায় রক্তের ন্যায় মিশে গেছি !

অথচ একদিন আমরা বাঙ্গালী জাতি একতাবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রীয় ভাষা উর্দুকে ত্যাগ করে নিজেদের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা তথা বাংলা ভাষাকে সর্বত্র প্রচলন করতে প্রাণ দিতে বাধ্য হয়েছিলাম ! ফলে বিজাতীয় ভাষা উর্দূকে অপসারন করে নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলার স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলা ভাষাকে ধারন করেছিলাম । যখন আমরা বাংলার সর্বত্র বাংলা ভাষায় কথা বলা শুরু করেছিলাম ,তখন কিন্তু বিশ্বায়নের যুগটা অনুপস্থিত ছিল তা নয় , বিশ্বায়নের যুগটা তখনও ছিল বিধায় আমরা ইংরেজী শিক্ষায় তখনও বাধ্য ছিলাম । অর্থাৎ যে জন্যে আজ আমরা ইংরেজী শিখছি সেইজন্যে তখনও ইংরেজী শিক্ষার প্রচলন ছিল । ছিল ইংরেজী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাও । তাই বলে সে সময় বর্তমান সময়ের মত মাতৃভাষা বাংলাকে অবমাননা করা হয়নি । মানুষ সে সময় বাংলায়ই কথা বলেছিল । শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রেই সে সময় ইংরেজী ব্যাবহার করেছিল বাঙ্গালী জাতি ।

conduit-banners

Powered by Conduit

ফ্লাগ কাউন্টার

free counters

MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY

PLEASE CLICK ON MY BANNERS. VISIT MY AFFILIATE SITE "MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY ( অনলাইনে অর্থোপার্জনের একটা মাধ্যম )" I HOPE IT WILL BE HELPFUL FOR YOU. Create your own banner at mybannermaker.com!

শনিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১২

চলতে হবে বিজয় ও স্বাধীনতার মূলপথে



চলতে হবে বিজয় ও স্বাধীনতার মূলপথে

মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী

----------------------

গতকাল একটা প্রবাসী সংগঠনের আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে তাদের এক অনুষ্টানে যোগ দিয়েছিলাম। আমরা প্রায় ৮০/৯০ জন তাতে অংশগ্রহণ করি। অনুষ্টানটি মুলতঃ বিজয় মাসের বরণ উপলক্ষ্যে আহবান করা হয়েছিল। যদিও আমি ঐ সংগঠনের কেউনা। তবুও দাওয়াত পেয়ে বন্ধুত্ব রক্ষার তাগিদে যেতে হয়েছিল। অনেকে অনেক ভাবে বিজয় দিবস নিয়ে এবং যুদ্ধকালীন স্মৃতির উপর আলোচনা করেন। শেষে এক বন্ধু বলে উঠল - এখানে একজন ভাই আছেন যিনি লেখালেখির সাথে যুক্ত। যদিও তিনি আমাদের সংগঠনের কেউ নন। আমার মনে হয় ওনার মুখ থেকে কিছু না শুনলে আজকের অনুষ্টানটা পরিপূর্ণ হবেনা। বুঝতে পারলামনা ঐ লোকটা কে ? আমি তখন অন্য রুমে একজনের সাথে কথা বলছিলাম।
যখন শুনলাম উপস্থাপক আমার নাম উচ্চারণ করছেন। তখন বুঝতে বাকি রইলনা এতক্ষণ কার কথা বলা হচ্ছিল। কারণ ঐ অনুষ্টানে আমার নামের সাথে মিলযুক্ত আর কেউ আসেনি। তাই মনে মনে "লা ইলাহা ইল্লা আন্তা ছুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ্জোয়ালিমীন" পড়তে লাগলাম। শেষ রক্ষা হলোনা। একটা লোক এসে আমাকে বলল - ভাইয়া প্লীজ একটু উঠে আসুন। আপনাকে আমাদের মাঝে কিছু বলতে হবে। আমি ওনাকে বললাম, ভাই আমি কি বলব, এসব আমার দ্বারা সম্ভব নয়, আমার একটু কলম চললেও মুখ বোমা মারলেও নড়চড় হয়না। লোকটি নাছোড়বান্দা। নিয়ে আমাকে যাবেই। শুরু করল হাত ধরে টানাটানি।

কি আর করা "যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই রাত হয়" এ পরিস্থিতিতে নিজেকে কিভাবে উপস্থাপন করব ঠিক করে নিয়ে উঠে গেলাম মঞ্চে। শুরু করলাম ওয়াজের মত করে। দেখুন আমার ভাষনটা কেমন হলো -" 

আচ্ছালামুআলাইকুম। আলহামদুলিল্লাহ !আলহামদুলিল্লাহিনাহমাদুহু,ওনাছতায়িনুহু,ওনাসতাগফিরহু, ওনাউযুবিল্লাহি মিন শুরুরী আনফুছিনা,ওমিন ছায়্যিআতি আ'মালিনা, ওমাইয়েহদিহিল্লাহু পালা মুদিল্লালাহ, ওমাইয়ুদলিলহু পালা হাদিয়ালাহ। ওনাশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওহদাহু লা শারিকালাহ্। ওবিযালিকা উমিরতু ওআনা আওয়ালুল মুছলিমীন। আল্লাহুম্মা ছাল্লি আলা মুহাম্মাদিইউ ওয়ালা আলি মুহাম্মদ কামা ছাল্লায়তা আলা ইব্রাহীমা ওয়ালা আলী ইব্রাহীম ইন্নাকা হামিদুম্মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিইউ ওয়লা আলি মুহাম্মদ কামা বারিকতা আলা ইব্রাহিমা ওয়ালা আলি ইব্রাহীম ইন্নাকা হামিদুম্মাজীদ।

আম্মা বাদ- আউজু বিল্লাহিমিনাশশায়ত্বানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। ক্বালাল্লাহ তাআলা -
আলিফ লাম মীম। যালিকাল কিতাবু লা রায়বা ফিহি হুদাল্লিল মুত্তাক্বীন। আল্লাজিনা ইউ'মিনুনা বিলগাইবি ওয়ুক্বিমুনাস্সালাতা ওয়ামিম্মা রাজাকনাহুম ইউনফিকুন। ওয়াল্লাজীনা ইউ'মিনুনা বিমা উনযিলা ইলায়কা ওয়মা উনযিলা মিন ক্বাবলিকা ওয়াবিল আখিরাতিহুম ইউক্বিনুন। উলায়িকা আলা হুদাম্মিররাব্বিহীম ওয়াউলায়িকা হুমুল মুফলিহুন।ওক্বালা রাসুলুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - ইন্নামাল আম'মালু বিন্নিয়্যাত।
উপস্থিত আজকের এই জলসার মাননীয় সভাপতি এবং প্রবাসী বন্ধুগণ আচ্ছালামু আলাইকুম ! আজ ৩০শে নভেম্বর, আগামী কাল ১ ডিসেম্বর। এই ডিসেম্বরটি মাসটি আমাদের বাংলাদেশীদের জন্য এক বিশেষ স্মরণীয় মাস হিসাবে চিহ্নিত। এ মাসের ১৬ ডিসেম্বর আমরা আমাদের মুক্তির যুদ্ধে বিজয় লাভ করেছিলাম। যে যুদ্ধে হারিয়েছিলাম আমরা আমাদের লক্ষ লক্ষ মা-বোন-ভাইদের। ডিসেম্বর মাসটি আসলেই তাদের স্মরনে আমরা বিভিন্ন কর্মসুচী পালন করি। এসব কর্মসূচীর সুত্র ধরেই মুক্তিযুদ্ধের বীরদের স্মরণে আমি যতটুকু জানতে পারছি আজকের এই অনুষ্টানের আয়োজন। সে জন্য সকলকে জানাই বিজয় মাসের শুভেচ্ছা।

আমি প্রথমেই হামদ্ ও নাতের পর আলকোরান থেকে সুরা বাক্বারার পাঁচটি আয়াত এবং আল হাদীসের অগণিত হাদিস থেকে একটি হাদিস পাঠ করেছি। আপনারা হয়তো মনে মনে ভাববেন লোকটারে বলতে বললাম কি আর সে বলে কি ! তারে কইলাম বিজয় দিবসের আলোচনা করতে আর সে কিনা করে ওয়াজ ! আপনাদের মনের এই জল্পনা দূরী করণে প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আসলে আমি কি বলতে কি বলছি মোটেই জানিনা। এ ধরণের বক্তব্য দানে আমি অভিজ্ঞ নই। তাই এই অবস্থা। আশা করছি আমাকে ক্ষমা করবেন। কিছু বলতে যখন এখানে উঠেছি, কিছু না বলে নেমে গেলে সেটা শোভনীয় হবেনা। তাই চেষ্টা করব অন্তত কিছু বলতে। তার আগে শ্রদ্ধা জানাই সেইসব শহীদ - বীর মুক্তিযোদ্বাদের, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ স্বাধীন (?)।

আমি যখন ইংরেজী শিক্ষা থেকে বের হয়ে তাবলীগে কিছুদিন সময় দিই, তখন আমাকে এক বিশেষ চিন্তার সাগরে ডুব দিতে হয়, যে চিন্তা আমাকে নিয়ে যায় মাদ্রাসা লাইনে। ভর্তি হই মাদ্রাসায়। তখন দারুন কোরান শামসুল উলুম মাদ্রাসা, চৌধুরী পাড়া, ঢাকায় হোষ্টেলে থেকেই শুরু করি আরবী পড়া। সেখানে উক্ত মাদ্রাসাসার মুহতামিম জনাব মাওলানা ইসহাক ফরিদী হজুরের তত্বাবদানে পরিচালিত হত বক্তৃতা শিক্ষার কোর্স। যাতে সকল ছাত্রকেই অংশ নিতে হত। সেই কোর্স থেকেই আমার বক্তৃতা শিক্ষা। আর তাই আমার আলোচনার শুরুটা ওয়াজের মত হয়ে গেল।

সে যাক, আমি উক্ত আয়াত ও হাদীসের আলোকে বিজয় দিবসের আলোচনাকে একটু ভিন্নতা দেয়ার চেষ্ঠা করছি। তাই বলে আমার এই আলোচনা ওয়াজ হিসেবে মনে করলে ভুল হবে। আমার পাঠকৃত আয়াত সমুহের বাংলা হলো - " আলিফ-লাম মীম। এই সেই কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নাই, এ সাবধানীদের জন্য পথ নির্দেশক। (সাবধানী ওরাই ) যারা অদৃশ্যে বিশ্বাষ করে, সালাত কায়েম করে এবং তাদের যা দান করেছি তা থেকে তারা ব্যয় করে। এবং যারা তাতে বিশ্বাষ করে যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং তোমার পুর্বে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, আর পরকালের প্রতি যারা দৃঢ় আস্থা রাখে। তারাই তাদের প্রতিপালকের নির্দেশিত পথে রয়েছে এবং তারাই পূর্ণ সফলকাম।" আর হাদিসটির বাংলা হলো - "প্রত্যেক কর্মই নিয়তের উপর নির্ভর্শীল।"

এখন আসুন আমরা বিজয় দিবস নিয়ে কিছু আলাপ করার চেষ্ঠা করি। যদি আমরা বিজয় দিবসের আলোচনা করতে যাই তবে উঠে আসে আমাদের স্বাধীনতার কথা। বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবস দুটোই অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে না পড়লে আমরা বিজয় দিবস পেতামনা। তাই স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস একসাথেই আমাদের আলোচনায় উঠে আসে। বিজয় দিবসের কথা বলতে গেলেই বলতে হয় স্বাধীনতার কথাও।

আমরা বাংলাদেশীরা স্বাধীন জাতি। রয়েছে আমাদের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করে বিজয় অর্জনের গৌরব। আমরা একটা বৃহৎ শোষক গোষ্টির পরাধীন থেকে নির্যাতন-নীপীড়নের অসহনীয় জ্বালায় অতীষ্ট হয়ে তাদের শৃন্খল থেকে নিজেদের ক্ষুদ্র শক্তি দিয়ে যুদ্ধ করে জয়ী হয়ে স্বাধীন হয়েছি। এটা আমদের কম গৌরবের কথা নয়।

কিন্তু সেই বিজয়ের গৌরব সেই স্বাধীনতার স্বাদ আমরা ঠিক কতটুকু অর্জন করতে পেরেছি বা আদৌ অর্জন করতে পেরেছি কিনা তা আমাদের ভাববার বিষয়। যদি এই গৌরব ও স্বাদ অর্জন করতে না পারি, তবে কেন পারলামনা - তা একটা প্রশ্নাধীন বিষয় বৈকি। আজ আমরা যদি ভাবি স্বাধীনতার তেতাল্লিশ বছর পরও দেখতে পাব আমরা কখনো স্বাধীন ছিলামনা। আমরা যে স্বাধীনতা চেয়েছি তা আমরা পাইনি। আমরা বিজয়ের গৌরবে গৌরান্বিত হতে পারিনি। এক ভিনদেশী শোষক গোষ্টির নির্যাতন সেল থেকে আমরা পরিবর্তিত হয়ে স্বদেশী শোষক গোষ্টির নির্যাতন সেলে স্থানান্তর হয়েছি। সেটা স্বাধীনতা নয়। সেটা বিজয় নয়। সেটা এক জেল থেকে অন্য জেলে স্থানান্তরের মত ঘটনা মাত্র। অথবা এক কারারক্ষীর মৃত্যুর পর নতুন আসা কারারক্ষীর অধীন সেলের আমরা বন্ধী ।

সেদিন আমরা যে নিয়তে দেশ স্বাধিনের যুদ্ধে নেমেছিলাম। আমাদের সে নিয়ত ঠিক ছিলনা বিধায় আমরা আমরা স্বাধীনতার স্বাদ পাওয়া থেকে বঞ্চিত। যেহেতু রাসুলের হাদীস - "প্রত্যেক কর্মই নিয়তের উপর নির্ভর্শীল।" নিয়ত ঠিক থাকলে সেই স্বাদ পাওয়া থেকে আমরা বঞ্চিত থাকতামনা। সেই নিয়তটি মুলতঃ নির্যাতকদের নির্যাতনের নতুন একটা ফর্মূলা। দেশের মানুষদের মুক্তিদান সে সময়কার নেতৃত্বের বাহিরের খোলস ছিল, সেই নেতৃত্বের আভ্যন্তরে ছিল যুদ্বে পরাজিত শোষকদের ন্যায় সেইসব নেতাদের স্বার্থসিদ্ধির একটা ইচ্ছা বা নিয়ত। ফলে, আমরা আজও রয়ে গেছি সেই একই শ্রেনীর শোষকগোষ্টির পেষন যন্ত্রের বলি হয়ে।

তাছাড়া, আমরা স্বাধারণ মানুষ সেদিন আমরা ভুল পথে পা বাড়িয়েছিলাম। আজও আমরা সেই ভুলপথ ধরেই হাঁটছি। ফলে আমরা আমাদের অভিষ্ঠ্য লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছিনা। আর যতদিন আমরা সেই ভুল পথ ধরে হাঁটবো, ততদিন সেই অভিষ্ঠ্য লক্ষ্যে পৌঁছা আমাদের দ্বারা সম্ভব হবেনা। কারন, মানবজাতির স্রষ্টার বিধান অমান্য করে কখনো সেই মানুষ নিদ্রিষ্ট লক্ষ্যস্থলে পৌঁছতে সফলকাম হবেনা। তাই স্রষ্টা তার মানবজাতি পরিচালনার বিধানগ্রন্থে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন - "এই সেই কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নাই, এ সাবধানীদের জন্য পথ নির্দেশক। (সাবধানী ওরাই) যারা অদৃশ্যে বিশ্বাষ করে, সালাত কায়েম করে এবং তাদের যা দান করেছি তা থেকে তারা ব্যয় করে। এবং যারা তাতে বিশ্বাস করে যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং তোমার পুর্বে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, আর পরকালের প্রতি যারা দৃঢ় আস্থা রাখে। তারাই তাদের প্রতিপালকের নির্দেশিত পথে রয়েছে এবং তারাই পূর্ণ সফলকাম।"

অতএব, আমাদেরকে চলতে হবে বিজয় ও স্বাধীনতার মূলপথে। খুঁজে নিতে হবে আমাদের সেই মুলপথ। মানতে হবে সেই মুল পথের দিক নির্দেশককে এবং স্রষ্টার সর্বশ্রষ্টে, সর্বত্র ও সার্বজনীন রূপে গ্রহণযোগ্য সেই বিধানকে। মহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে দুনিয়ায় স্বাধীন থাকার মুল বিধানের আলোকে চলতে সহায়তা করুন। আমীন।
=================

এক মুক্তিযোদ্ধার প্রশ্ন


এক মুক্তিযোদ্ধার প্রশ্ন
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

নয় মাস যুদ্ধ করে
যে স্বাধীনতার জন্য দিয়েছি প্রাণ
হারিয়েছি মা-বোনদের সম্ভ্রম ,

অর্জিত হয়েছে কি আজও সেই স্বাধীনতা ?
বিজয় পেয়েছি বলে করেছিলাম যেদিন উল্লাস -
জয় কি হয়েছে আমাদের
নাকি স্বীকার করেছি সেদিন
নতুন করে আর এক অধীনতা ?

আমি এক মুক্তিযোদ্ধা
কাঁধে বন্ধুক আর
অসীম সাহস নিয়ে
করেছি সেদিন মুক্তির জন্য যুদ্ধ ,
বুঝিনা কি করে নিয়েছিলাম মেনে
হয়েছিল সেদিন আমাদের মুক্তি
আমরা যে রয়ে গেছি আজও
সেই শোষক শ্রেনীর কাছে রূদ্ধ !
******************
লাল সবুজের এই পতাকা
আনলো যারা
বুকের তাজা রক্ত ঢালি ,
স্মরণ করি আজ তাহাদের
এই স্মরণ দিনে টগবগিয়ে উঠুক আবার
সকলেরই রক্ত নালী।
=========

শুক্রবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১২

আমার আমিরে আমি হারিয়ে খুঁজি


আমার আমিরে আমি হারিয়ে খুঁজি
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

আমার আমিরে আমি হারিয়ে খুঁজি -
গিয়েছি শৈশবের বন্ধুদের কাছে ,
খুঁজেছি তারুণ্যের দূর্বার গতিতে ,
গিয়ে পড়েছি যৌবনের স্বপ্নীল রাজ্যে,
পাইনা খুঁজে কোথাও আমারে আমি !
ঘুরেছি বিত্তশালীর আলীশান বাড়ির আকাশের সীমানায়,
মিশেছি পথের পাশে পড়ে থাকা মানুষদের সাথে,
থেকেছি গরীব -ভুখাদের কুড়েঘরে ,
কোথাও এই আমারে আমি খুঁজে পাইনি !
উঁচু তলার মানুষদের খাবার টেবিলে বসেছি অনেকবার,
ফাইভ স্টার হোটেলের বলরুমের রঙীন সাম্রজ্যে মাতাল হয়েছি কয়েকবার, 
পৃথিবীর তাবৎ অপরাধ সাম্রাজ্যের সদস্য হয়েছি বারবার,
তবুও এই আমারে আমি খুঁজে পাইনি !
এই আমারে আমি হারিয়েছি শতরূপে শতবার,
চিনতে চেয়েছি নিজেকে আমি শতভাবে শতরূপে,
বুঝতে চেয়েছি আমার আমিত্বকে আমি শতদিকে ফেলে ফেলে,
হয়নি চেনা হয়নি জানা হারিয়েছি আমার আমিরে আমি সর্বখানে,
ছুটে চলেছি অনবরত দিকবিদিক নিজেরে নিজে খুঁজতে,
খোঁজার হয়না শেষ - তবু চলছি অবিরাম এই আমারে আমি খুঁজতে।
==================

অজানা আহবান

অজানা আহবান
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

কতদিন ডেকেছো তুমি
আসিনি তোমার কাছে কখনো আমি ,
আজ যখন এসেছি কাছে
মুখ ফিরিয়ে রয়েছো তুমি !!

অকারণে কেন যে করছো এমন !
মুখ ফিরিয়েই থাকবে যখন ,
কেন তবে করেছো তুমি
এই আমায় এত জ্বালাতন ?
এই ভয়ে এতদিন দেখিনি তোমায়
তোমার ডাকে সাড়া দিইনি আমি ,
আজ যখন দিয়েছি সাড়া
জানিনা কেন শুনোনা তুমি।।

কেন যে আমায় ডেকে ডেকে
করে দিলে আমার দিক ভ্রান্ত ?
কেন যে আমার পীছু নিয়ে
এতটা সময় করেছো অতিক্রান্ত ?
তোমার ডাকে কেন দিয়েছি সাড়া
বুঝিনি , জানতে কেন চাওনি তুমি !
কেন যে এসেছি তোমার কাছে
পারিনি জানাতে তাহা তোমায় আমি।।
================

বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর, ২০১২

বাংলাদেশের টপ মডেল প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা


বাংলাদেশের টপ মডেল প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

আমাদের মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেকে নতুন পরিচয়ে পরিচয় দিয়েছেন সংসদে, আর তা হলো তিনি বাংলাদেশের জামদানী শাড়ীর মডেল হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। আর এই জামদানী শাড়ীকে বিশ্ব বাজারে তুলে ধরতে তিনি জামদানী শাড়ী পরেই বিদেশ সফরে যান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বেশিরভাগ সময়ই আমি জামদানি ব্যবহার করি। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশীয় এ পণ্যের ব্র্যান্ডিং করা। বিদেশে যখন যাই, তখনও বিশ্ববাসীর কাছে এ শাড়ি তুলে ধরতে আমি ব্যবহার করি। আমাদের লক্ষ্য জামদানি শিল্পের ব্যাপক উন্নয়ন করা।"
তিনি আরও বলেন, " ঢাকার জামদানি এরই মধ্যে বিশ্বের কাছে একটি ব্র্যান্ডিং হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছে। তবে আইনগতভাবে এটা হওয়া দরকার। আমাদের এ পণ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্থাত্ কপিরাইট আদায় করতে হবে। এজন্য আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। আমাদের প্রতিবেশী দেশও (ভারত) জামদানি শাড়িকে তাদের দেশের পণ্য হিসেবে পেটেম্লট অর্জনে আন্তর্জাতিকভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে আমরাও প্রতিযোগিতায় তাদের চেয়ে পিছিয়ে নেই। আমরাও স্বীকৃতি অর্জনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"
প্রধানমন্ত্রী নিজে মডেল হয়ে দেশের একটি উৎপাদিত পণ্য বিশ্ববাজারে বাজারজাতকরণের এই প্রচেষ্টা সত্যিই এক মহৎ উদ্বেগ এবং দেশের জন্য কল্যানীয়। তাই প্রধানমন্ত্রীর মডেল হিসেবে উপস্থাপনে রইল শুভকামনা।
(আমার দেশের সৌজন্যে - http://www.amardeshonline.com/pages/details/2012/11/22/174628#.UK2dV-T5yQw)
======================

সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১২

হে মুসলীম ! ঘুমাইওনা আর


হে মুসলীম ! ঘুমাইওনা আর
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

হে মুসলীম !
আর কত ঘুমাবে তোমারা নেশায় বুদ হয়ে ?
আর কত থাকবে চুপ তোমাদের ভ্রাতার মৃত্যু দেখে ?
আর কত থাকবে বিভোর মদ - নারী নিয়ে স্ফুর্তিতে ?
আর কত করবে তোমরা ইহুদী জাতির এজেন্টগিরি ?
আর কত জ্ঞান হারাবে ইহুদীদের প্রলোভনে ?

হে মুসলীম !
কেন করেছ গঠন তোমরা ওআইসি সংগঠন ?
মুসলমানদের মৃত্যু দেখেও কেন তোমাদের এই নির্লিপ্ততা ?
কোথায় তোমাদের সেই বিদ্রোহ বিবেক ?

হে মুসলীম !
ইতিহাস ঘেঁটে দেখ ,কিভাবে হয়েছিল ইসলামের প্রচার প্রসার ?
শুধু মসজিদে বসে দু'হাত তুলেই দোয়ার মাধ্যমে আসেনি ইসলামের বিজয়।
রাত্রের নির্জনে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আশায় আল্লাহকে সিজদা ,
আর দিনে বাতিলের বিরুদ্ধে সসস্ত্র সংগ্রামই ছিল ইসলাম বিজয়ের মুল সোপান।
নারীদেহ আর মদ-শরাব নিয়ে স্ফুর্তির মাধ্যমে অর্জিত হয়নি ইসলামের বিজয় কেতন,
ইসলামের বিজয় কেতন পত পত করে উড়েছিল জীবন দেয়া ও নেয়ার মাধ্যমেই।
মুসলীমের জীবন শুধু দেয়ার জন্যই নয় , বাতিলবাদীদের জীবন নেয়ার জন্যও।

হে মুসলীম !
তাকিয়ে দেখো , চতুর্দিকে হরণ হচ্ছে তোমাদের জান-মাল-ইজ্জত।
ইহুদীদের গুলিতে পাখির মত উড়ে উড়ে হাওয়া মিলিয়ে যাচ্ছে
তোমাদেরই সব শিশু সন্তান,
ফিলিস্তিনের আকাশ-বাতাসে উড়ছে উড়িয়ে দেয়া মুসলমানদের মৃতদেহ।
মুসলমানদের রক্তে রঞ্জিত ফিলিস্তিনের মাটি হারিয়েছে রক্ত চুষে নেবার ক্ষমতা,
ফিলিস্তিনের মাটি যায়না দেখা আর চারিদিকে বয়ে চলছে মুসলমানদের রক্তস্রোত।
শুধু ফিলিস্তিনই নয় , সুযোগ নিচ্ছে ইহুদী জাত পৃথিবীর সর্বত্র
মায়নামারের দিকে চেয়ে দেখো ,
শান্তির জন্য যেখানে ইহুদীরা দিয়েছে নোবেল প্রাইজ !
আর শান্তি মিশনের নামে সেখানে চলছে মুসলীম নিধনের প্রতিযোগীতা
চলছে সেথায় মুসলীম পুড়িয়ে মহাউল্লাস।

হে মুসলীম !
তোমরা না হযরত উমর - বীর সালাহউদ্দিনদের বংশধর ?
তোমরা না সেই বীর মুসলীম জাতির বিজয় পতাকাধারী ?
তোমরা না সেই বীর মুসলীমদের উত্তরাধিকারী,
যারা দিয়েছিল ইসলামের জন্য দেহদান ?
তোমরা না সেই বিরত্বগাঁথার ইতিহাসধারী ,
যারা মুসলীম ভাইদের রক্ষার জন্য করেছিল সসস্ত্র সংগ্রাম ?
তোমরা না সেই আলীর বংশধর ,
যার দ্বারা হয়েছিল খায়বারের ইহুদীদের দূর্গ পতন ?
তোমরা কি সেই মুসলীমদের অনুসারী নও ,
যাদের দ্বারা এসেছিল খন্দকযুদ্ধে বিজয় ?

হে মুসলীম !
তবে তোমরা কোন মুসলীম ,
ইসলামের ধ্বংস দেখেও তোমরা রয়েছ বধির -মুখহীন ?
তবে তোমরা কোন ইমানী আত্মীয় ,
আত্মীয়দের নিধনযজ্ঞ দেখেও তোমরা রয়েছ ঘুমে, গায়ে গণ্ডারের চামড়া জড়িয়ে ?
তবে কি তোমাদের ঈমানী বিবেক ,
মুসলীম নিধন দেখেও জাগেনা তোমাদের ঈমানী বিবেক শক্তি ?

হে মুসলীম !
জাগো , ঘুমাইওনা আর ,
সময় হয়েছে বিবেককে জাগাবার ,
জাগো , জাগো , জাগাও তোমাদের ঈমানী শক্তি,
গা নাড়া দিয়ে উঠো , করিওনা আর ইহুদীদের ভক্তি।
পেপসী - সেভেন আপ - কোকা কোলা -ফানটা
যা আছে ইহুদীদের তৈরী ব্রাণ্ড, ছাড়ো সেসব
ধ্বংস করো তাদের উৎপাদিত পণ্যের সকল প্রতিষ্টান।
ধ্বংস করো তাদের অর্থযোগানের সকল পথ ,
ভেঙ্গে ইহুদীদের যত অত্যাচারী হাত,
উড়িয়ে দাও তাদের যত উৎপাদিত পণ্য সরবরাহের রাস্তাঘাট,
ধ্বংস করো ইহুদীদের মুসলীম নিধনে ব্যবহৃত অস্ত্র সংগ্রহের সকল দিক,
বন্ধ করো তাদের যত গমনাগমন পথ।
যোগ দাও ইহুদী নিধনে ফিলিস্তিনীদের সাথে ,
যোগ দাও মুসলীম রক্ষায় সকল জনপদে নির্যাতিত মুসলীমদের সাথে।
=============

রবিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১২

এক বৎসরের গ্যারন্টিযুক্ত কমদামী কম্পিউটার


এক বৎসরের গ্যারন্টিযুক্ত কমদামী কম্পিউটার
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

আমি গত তিনবৎসর আগে দেশে যেতে একটা ডেস্কটপ কম্পিউটার নিয়েছিলাম। সাথে ছিল ১৯ ইঞ্চি একটা মাল্টিমেডিয়া মণিটর ও একটা এইচপি ফেক্স-স্ক্যানার-কপিয়ার-প্রিন্টার । আমি সবকিছু নিজের ইচ্ছামত যেটা বেশ ভাল মানের সেটাই পার্টস কিনে সংযোজন করেছিলাম। যেগুলোতে আমার খরচ হয়েছিল ৩৭০০ সাউদি রিয়াল তৎকালীন বাংলাদেশী মূল্য ছিল সব মিলিয়ে প্রায় ৬৭০০০ হাজার টাকা। কেনার পর এদেশে তা ব্যবহার করেছি প্রায় সাত বৎসর। উক্ত সাত বৎসরে কোনদিন নতুন করে ফর্মেট দিতে হয়নি, কম্পিউটার ডাক্তারের কাছেও যেতে হয়নি। সে অবস্থায়ই নিয়ে গেছি দেশে। দেশে গিয়ে ব্যবহার করেছি দুইমাস। তাও কোন সমস্যা হয়নি। দুইমাস পর যখন অর্থাভাব দেখা দিল সেই সাধের কম্পিউটারটি বিক্রি করে দিবার জন্য মার্কেটে নিয়ে গেলাম। মূল্য বলা হল ১২০০০ টাকা সব মিলিয়ে। আমি আকাশ থেকে পড়লাম। যে কম্পিউটারটি তখনও সাউদি আরবে সে অবস্থায় ৩০০০ সাউদি রিয়াল বা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৬০০০০ (ষাট) হাজার টাকা মূল্য , তা কিনা বাংলাদেশে যাওয়ায় ১২০০০ হাজার টাকা !
অবশ্য তখন বাংলাদেশে নতুন কম্পিউটার ১৫০০০ হাজার টাকায় বিক্রির বিজ্ঞাপণ দেখতে পেলাম পত্রিকায়। চিন্তা করতে লাগলাম। এত কম দামে কম্পিউটার কিভাবে পাওয়া যায় ? অনেক চিন্তার পর বের করতে পারলাম সমীকরণ। বাংলাদেশে সব কম্পিউটারই এক বৎসরের গ্যারান্টিযুক্ত। যদিও এক বৎসরের গ্যারান্টি দেয়া হয়, খারাপ হতে দু’দিনও লাগেনা। মেইড ইন জিনজিরার মত দোকান থেকে কিনে আনার পর যে কোন সময় সেই কম্পিউটার দূর্ঘটনায় আঘাত পেয়ে অচল হয়ে যেতে পারে। এখানেই হলো ৬০ হাজার টাকার অনুপাত ১২ হাজার টাকা হবার আসল গোমর। যখন দেখলাম আমার কম্পিউটারটা এখানে মূল্যহীন আর অর্থের খুবই প্রয়োজন , তখন অনেক কষ্টে ১৮ হাজার টাকায় ৮ বৎসরর প্রেমিকাকে অন্যের কছে বিক্রি করে দিলাম।
বন্ধুরা কেন এ লেখা লিখতে গেলাম হঠাৎ তা ভাবছেন তাই না ? তার একটা কারণ রয়েছে। বাংলাদেশের একটা বিজ্ঞাপণ দেখলাম আজ। এক বৎসরের গ্যারান্টিযুক্ত অল্প দামে কম্পিউটার বিক্রি হচ্ছে। মনে মনে কতক্ষণ হাসলাম। সেই মেইড ইন জিনজিরার হবে হয়তো। অজান্তে বিষ খাওয়ার মতো হয়তো কিনে নেবে কেউ। যখন বিষক্রিয়া আরম্ভ হবে তখন তো খবর হবেই।
আমি বর্তমানে যে কম্পিউটারটা ব্যবহার করছি তাতে খরচ হয়েছে ২৬০০ সাউদি রিয়াল। তিন বৎসর আগে দেশ থেকে আসার পর পরই কেনা হয়েছিল। আর একই কম্পিউটার রেডিমেড পাওয়া যেত তখন ৮০০ সাউদি রিয়াল। যাতে কিডনী দুইটার জায়গায় একটা , রক্তনালী লম্বার যায়গায় বাইটা, নাকের ছিদ্র দুইটা থাকলেও একটাতে নাসা জন্মাবার কারণে সর্বদাই বন্ধ। কান দুইটা থাকলেও এক কানে শ্রবণশক্তি নেই। সামনের দাঁতগুলো মুক্তার মত উজ্জল দেখালেও ভিতরের বড়দাঁতগুলো পোকাক্রান্ত। চোখ দুইটা থাকলেও একটাতে দৃষ্টিশক্তি নেই বললেই চলে। হাত দুইটা থাকলেও মানুষ মারতে গেলে এক হাতের জন্য যুদ্ধে পরাজিত হতে হয়। পাও দুইটা থাকলেও এক পা রড লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে কাপড় দিয়ে ঢেকে। মানুষের মূল্য যেমন এভাবেই কমে যায়, তেমনি কম্পিউটারের মূল্যও। বন্ধুরা , ভাবুন তো ! আপনি কম্পিউটার কিনলে বেশ দামে কিনবেন , নাকি কমদামী ? যদি কমদামে কিন্তে চান আমার কাছে আসলে একলক্ষ টাকা দামের কম্পিউটারের মতোই দেখতে একটা কম্পিউটার কিনে দেব মাত্র দশ হাজার টাকায়। মনে রাখবেন - এক বৎসরের গ্যারন্টি প্রদান করা হবে।
================

সোমবার, ১২ নভেম্বর, ২০১২

তাঁর স্মরণে, যিনি সকলের মালিক



তাঁর স্মরণে, যিনি সকলের মালিক
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
---------------------

এক.
ঘুমাইনি আজ তোমায় ভেবে ভেবে
দু’চোখের পাতা পুরোটা রাত হয়নি কো বন্ধ,
তোমায় নিয়ে ভাবার শেষ হলোনা তবু
প্রভাত হতেই জেগেছে মনে তোমায় নিয়েই দ্বন্ধ !

দুই.
একটিবার যদি বলতে - ভাল হয়ে যাও
তোমার দায়িত্ব আমিই নিলাম,
বিশ্বাস কর - ছেড়ে দিতাম পৃথিবীর সকল কিছুই
বলতাম - জীবনটা আজ তোমার জন্যই কোরবানী দিলাম।

তিন.
এরপর আর কিছু বলা যায়না
যেখানে দিয়েছি পুরো জীবনটাই কোরবানী,
এখন শুধু তোমার দিকেই চেয়ে থাকা
কখন হবে তোমার মেহেরবানী ?

চার.
বিশ্বাস কর আর নাইবা কর
তোমার জন্যই করেছি আমার জান কোরবান,
তোমারই পথেই রয়েছি পড়ে
তুলে নাও আমায় খোদা তুমি যে মেহেরবান।

পাঁচ.
প্রেমে পড়েছি আমি প্রেমে পড়েছি
সাধের জীবন তারেই আমি সপে দিয়েছি,
আমার জীবন যেই দিয়েছে সেই আমার সব
নয়তো সে আর অন্য কেহ সেই যে আমার রব।

ছয়.
সূর্য উঠে সকাল হলো আঁধার টুঁটে আলো ,
তোমার দয়ায় ঘুঁছে যাবে মনের যত কালো ,
ঘুরি ফিরি তোমার দ্বারে তাইতো আমি এখন
আশাই শুধু রহমতেরই দৃষ্টি তোমার দেখন।

সাত.
প্রেমের সুধা ঢালো সাকি
দৃষ্টি এদিক রাখি ,
যতই আমি হইনা মাতাল
যাবো তোমার নামটা ধরে ডাকি।
==============

শুক্রবার, ৯ নভেম্বর, ২০১২

মাথা ঘুরানীর ঔষধ


মাথা ঘুরানীর ঔষধ
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
---------------------

আজ একটা বিশেষ অভিজ্ঞতা লাভ করলাম। অবশ্য পুরানা পথের নাম পরিবর্তনের কারনেই মনে হয়েছিল নতুন অভিজ্ঞতা। যখন ভিতরে গেলাম বুঝতে পারলাম নামটা নতুন হলেও কাজটা পুরাতন। এ যেন পুরান মদের নতুন বোতলজাত হয়ে বাজারজাতের ঘটনা। আমাদের দেশে যেমন বিভিন্ন নামে মাদক বিক্রি হচ্ছে, তেমনি কিছু প্রবাসী কর্তৃক বিভিন্ন নাম দিয়ে হচ্ছে মেয়েদের শরীর বিক্রির ব্যবসা। অন্যান্য দেশের প্রবাসীদের মত আমাদের দেশের প্রবাসী নাগরিকরাও এ ব্যবসা থেকে পিছিয়ে নেই। তেমনই একটা ঘটনার বিবরণ এ লেখা।

যা হোক, আজ জোহরের পর ঝালমুরি কিনতে একটা মুদি দোকানে গেলাম আমি। যখন ক্যাশ কাউন্টারে টাকা দিতে গেলাম , তখন একটা লোক এসে ক্যাশিয়ারকে তার বাসায় যেতে বলল। ক্যাশিয়ার বলল তার মাথা ঘুরাচ্ছে যেতে পারবেনা। তখন লোকটি বলল - অসুবিধা নেই তার বাসায় মাথা ঘুরানীর ঔষধ আছে।
এদিকে গত দু'দিন ধরে আমিও ভীষন মাথার সমস্যায় ভুগছি। তাই কৌতুহল হলাম লোকটার কথায়। ভাবলাম ফার্মেসীর বাইরে সেক্সুয়াল ঔষধ বিক্রির এজেন্টেদের মত এরাও একটা ঔষধ কোম্পানীর এজেন্ট হতে পারে, যারা কাষ্টমার ফোন করলেই তাদেরকে ঔষধ সরবরাহ করে। এ ভাবনায় জিজ্ঞেস করলাম লোকটাকে - আমিও কি মাথা ঘুরানীর ঔষধ পেতে পারি ? সে বলল অবশ্যই পেতে পারেন। বিভিন্ন ধরণের মাথা ঘুরানীর ঔষধ আমাদের কাছে আছে। আরও কৌতুহল হয়ে জানতে চাইলাম - দাম কত পড়বে ? সে বলল - ৫০ থেকে ৩০০ রিয়ালের মধ্যে মাথা ঘুরানীর ঔষধ দেয়া যাবে। বললাম - তবে তো আপনার সথে যেতেই হয়। সে বলল - ঠিক আছে চলুন।
তার বাসায় গিয়েই দেখি সাদা-কালো-বেগুনী-লাল সহ বিভিন্ন ধরণের মেয়ে বসে আছে সেখানে। এ ধরণের বাসায় এসব মেয়ে ! আশ্চর্যাম্বিত হলাম আমি। তখন অন্য রুম থেকে একজন উচ্ছস্বরে বলতে লাগল - হাবিব, রেইট বলেছিস ? কোন রেইট এ কতক্ষণ থাকতে পারবে বলেছিস তো ?
বুঝতে আর বাকি রইলনা মাথা ঘুরানীর ঔষধ কি ? অন্যরুম থেকে যে কথা বলছিল সে বেরিয়ে এল রুম থেকে। আমাকে দেখেই লোকটির চোখ ছানাবড়া। ভয় ও পেল মনে হয়। এই লোকটাকে আমি অনেকদিন থেকে চিনি। পরিচিত লোক। বিশেষ অনুরোধের কারণে পূর্ণ পরিচয় দেয়া থেকে বিরত থাকলাম। যা হোক ভয়ের চাপ তার চোখে মুখে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ভয় পাওয়ারই কথা। গত পাঁচ বছর আগে ঠিক এ ধরণের অপকর্মের কারণেই এ গ্রুপের একজনকে ধরিয়ে দিয়েছিলাম পুলিশের হাতে। তখন তার অপরাধের মাত্রা এত বেড়ে গিয়েছিল যে যদি সে ৪৫ জন মেয়ে ও ১০০ এর উপর খদ্দের সহ পুলিশের হাতে ধরা খেত তবে বাংলাদেশের অবস্থান নরকের শেষ স্তরে পৌঁছে যেত। অবশ্য তখন সে একটি মেয়েসহ আমার কথায় ধরা দিতে বাধ্য হয়েছিল। তিনমাস জেলখাটিয়ে আবার আমিই তাকে শেষবারের মত জেল থেকে দেশে ফেরত পাঠানোর কাজে সহযোগিতা করেছিলাম। সে সময় আজকের এ লোকটিও জড়িত ছিল। সেদিন সে পালিয়ে গিয়ে বেঁচে যায়।
সেদিন বেঁচে গেলেও মনে করেছিলাম সে এ কাজ ছেড়ে দিবে কিন্তু আজ আবার তাকে দেখে বুঝলাম সে ঐ অপকর্ম ছাড়েনি। মেয়েগুলোর দিকে ইশারা করে ওদের দুজনকে জিজ্ঞেস করলাম- এগুলোই কি আপনাদের মাথা ঘুরানীর ঔষধ ? আবার শুরু করেছেন আপনারা ? পাঁচ বৎসর আগের কথা কি ভুলে গেছেন ?
তাদের মুখ যেন আটকে দিল কেউ, কথা না বলে নীচের দিকে চেয়ে থাকল। আজ ছেড়ে দিয়ে তাদের সংশোধনের একটা সুযোগ দেয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলাম। বললাম- আপনি তো আমাকে চিনেন । আমি কি করতে পারি তাও জানেন। দয়া করে এ পবিত্র স্থানে এসব বন্ধ করেন। টাকা কামানোর অনেক রাস্তা আছে ,সে পথগুলো অনুসরন করেন। এই ধরণের অপকর্ম করে দেশ ও দশের ক্ষতি করবেননা। যদি না শুনে এই কাজ করে যেতে থাকেন তবে পাঁচ বৎসর আগের একই ঘটনা ঘটাতে আমি বাধ্য হব।
তারা বলল- ঠিক আছে ভাই আমরা দুদিনেই এদেরকে সেটেল করে দিচ্ছে। দুদিনের মধ্যে কিছু করবেননা দয়া করে। আজকের মত চলে এলাম ঐ লোকদের সংশোধন হবার সময় দিয়ে।
উল্লেখ্য যে, এ লোকগুলো এ অপকর্মের সংগঠন করে খরিদ্দারদের পতি জনের কাছ থেকে পায় ৫০% আর বাকী ৫০% পায় মেয়েগুলো।
=================

একদিন খুঁজবে আমায়


একদিন খুঁজবে আমায়
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

জানি একদিন বুঝবে তুমি,
হণ্যে হয়েই খুঁজবে আমায় -
নাগাল আমার সেদিন পাবেনা তুমি।।

ভাবিনি আমি কভু তুমি এমন হবে
আমারই কষ্ট দেখে তুমি নীরব রবে।
আসবেনা কোনদিন কাছে আমার
গলবেনা আমারই কষ্টে মনটা তোমার।
ভাবতে পারিনা আজও আমি
আমার মরণ দেখেও মুখ ফিরিয়ে রাখবে তুমি।।

ভুল ছিল আমারই তোমায় চাওয়া
ভেবেছিলাম তুমিই মোর শ্রেষ্ট পাওয়া।
সেই পাওয়া আর সেই চাওয়া
ছিল যে জীবনে এক ধাওয়া খাওয়া।
মর্মে মর্মে আজ তা বুঝছি আমি
দূরেই সরে যখন রয়েছ তুমি।
জানি একদিন খুঁজবে আমায় -
যতই আজ দূরে দূরে থাকোনা তুমি।।
================

বৃহস্পতিবার, ৮ নভেম্বর, ২০১২

আমি এক ভীনগ্রহের আগন্তুক


আমি এক ভীনগ্রহের আগন্তুক
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

যখন সকলের সাথে মানিয়ে চলার চেষ্টা করলাম
সবাই ভাবতে লাগলো আমি ব্যক্তিত্বহীন !
যখন সহজ সরল ভাবে চলতে লাগলাম
সবাই ভাবতে লাগল আমি ভীতুর ডিম !
যখন সৎভাবে উপার্জন করে বাঁচতে চাইলাম
তখন সবাই ভাবতে লাগল আমার অর্থোপার্জনের ক্ষমতা নেই !
যখন মারামারি থেকে বেঁচে থাকতে চাইলাম
তখন সবাই ভাবতে লাগল আমার গায়ে শক্তি নেই !
যখন লাম্পট্য থেকে নিজেকে সরাতে চাইলাম
তখন সবাই ভাবতে লাগল আমি কাপুরুষ !
যখন সবার সাথে বিনয়ের সাথে কথা বলতে শুরু করলাম
তখন সবাই ভাবতে লাগল আমি তাদের ভয় করি !
যখন সকলকে সম্মান দিতে শুরু করলাম
তখন সবাই ভাবতে লাগল আমি নীচু দরজার একজন মানুষ !
যখন মেয়েদের শরীর ছোঁয়া থেকে বিরত হলাম
মেয়েরা বলতে লাগল আমি পুরুষত্বহীন !
যখন সিগারেট-মদ পান বন্ধ করলাম
তখন সবাই বলতে লাগল আমাকে পুরুষের মত লাগেনা !

এভাবেই বর্তমান তথাকথিত সভ্য সমাজের কাছে হয়ে গেছি বেমানান।
হারিয়ে ফেলেছি এই সভ্য সমাজে (?) বাস করার যোগ্যতা।
হয়ে গেছি যেন আমি এক ভীনগ্রহের আগন্তুক।
===================

বুধবার, ৭ নভেম্বর, ২০১২

রোগ বাড়ানোর ডাক্তার নয়, চাই রোগ তাড়ানোর ডাক্তার


রোগ বাড়ানোর ডাক্তার নয়,
চাই রোগ তাড়ানোর ডাক্তার
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

৩০/৩৫ বৎসর আগে দেশে ডাক্তার ছিলেন মানুষের রোগ তাড়াতে আর এখন দেশে ডাক্তার রয়েছে মানুষের রোগ বাড়াতে। উক্ত সময়ে ডাক্তারগণ ছিলেন দেশীয় অনুন্নত শিক্ষায় শিক্ষিত ছোট ছোট ডিগ্রীধারী। আর এখনকার ডাক্তারগণ বেশীর ভাগই বিদেশী উন্নত শিক্ষায় শিক্ষিত বড় বড় ডিগ্রীধারী। উক্ত সময়ের ডাক্তারগণের উপাধী ছিল বড় জোর চার/পাঁচটা অক্ষরের ছোট্ট পরিসরের এক একটা উপাধী। আর এখনকার ডাক্তারগণের উপাধী অসংখ্য শব্দের সমষ্টিযুক্ত বৃহৎ পরিষরের যেন মাইল মাইল লম্বা এক একটা উপাধী। সে সময়ের ডাক্তারগন ঔষধ দিতেন রোগীর শরীর পর্যবেক্ষণ করে। আর এখনকার ডাক্তারগণ ঔষধ দেন যন্ত্র উৎপাদিত কাগজ পর্যবেক্ষণ করে। সে সময়কার ডাক্তারগণ রোগ সারাতেন এক/দুই বোতল সিরাপ আর এক/দুই পাতা ট্যাবলেট দিয়ে। আর এখনকার ডাক্তার রোগ সারানোর নামে রোগ বাড়ানোর ঔষধ দেন ডজন ডজন লিকুয়িড ঔষধের বোতল আর শত শত ট্যাবলেট/ক্যাপসুলের পাতা দিয়ে। সে সময়ের ডাক্তার জ্বর সারাতেন কুইনাইন ট্যাবলেট আর এক বোতল কাগজে কাটা দা
গান্কিত লিকুয়িড পথ্য দিয়ে। আর এখনকার ডাক্তারগণ জ্বর সারানোর নামে জ্বর বাড়াতে উঠে পড়ে লাগেন ডায়াগনিস সেন্টার থেকে কমিশন নিয়ে।
সে সময়ের ডাক্তারগণের লক্ষ্য থাকতো রোগীর রোগ কিভাবে নির্মূল করা যায় সেদিকে। আর এখনকার ডাক্তারগণের লক্ষ্য থাকে কিভাবে রোগীদের রোগ দীর্ঘস্থায়ী করা যায় সেদিকে। সেসময়ের ডাক্তারগণের লক্ষ্য ছিল জনসেবা দিয়ে নিজের পেঠে অন্নদান। আর এখনকার ডাক্তারগণের লক্ষ্য হলো মানুষ বলি দিয়ে নিজেদের বিত্তশালী করনের ধ্যান।
বন্ধুরা ! ভাবছেন নিশ্চয় - কেন আমি ডাক্তারদের নিয়ে আজ লাগলাম ? তার একটাই কারণ - ডাক্তার যদি রোগী দেখে রোগই ধরতে না পারেন , তবে তিনি ডাক্তার সার্টিফিকেট নিলেন কিভাবে ? যদি ডাক্তার অনুমানের উপর ভর করে শুধুই ঔষধ দিয়ে যান আর রোগী সেই ঔষধ খেয়ে কোন উপকারই না পান তবে সে ডাক্তারকে কিভাবে ডাক্তার বলা যায় ? আগেকার কম শিক্ষিত ও উপাধীহীন ডাক্তারগণ কোন প্রকার ঠেস (টেস্ট) ছাড়াই ঔষধ দিয়ে রোগ সারাতেন। আর এখনকার উন্নত শিক্ষিত ও বড় বড় ডিগ্রীধারী ডাক্তারগণ শত শত ঠেস (টেস্ট) দিয়েও রোগ সারাতে পারছেননা, কেন ?
মূলতঃ বর্তমান ডাক্তারগণ এতই বাণিজ্যিক হয়ে গেছেন যে,রোগীদের রোগ সারানোর চেয়ে তারা রোগ বাড়াতেই রয়েছেন তৎপর, যাতে তারা রোগীদের শুয়ে রেখে তাদের রক্ত চুষতে পারে দীর্ঘমেয়াদী। তাদের কাছে ডাক্তারের মহৎ পেশাটি হয়ে গেছে একমাত্র টাকা উপার্জনের মাধ্যম , তাদের কাছে ডাক্তারের সেবা মুলক পেশাটি এখন আর সেবা হিসাবে গণ্য নয় । এখনকার ডাক্তারগণ তাই সেবক নন, হয়ে গেছেন তারা পেষক।
ডাক্তারদের এই বাণিজ্যিক ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে সেবামন নিয়ে ডাক্তারী পেশাকে ধারণ করা জরুরী। রোগীদের রোগ সারানোর ব্যবস্থা না করে দীর্ঘমেয়াদী রক্তচোষা তাদের কাছ থেকে কাম্য নয়। জরুরী ছাড়া যেন কোন রোগীকে ডায়াগনিস সেন্টারে পাঠানো না হয় সেরূপ পর্যবেক্ষণের চোখ থাকা প্রতিটি ডাক্তারের একান্ত প্রয়োজন। রোগ বাড়ানোর ডাক্তার নয়, চাই রোগ তাড়ানোর ডাক্তার। নামকরা ডিগ্রীধারী মানুষ মারার ডাক্তার চাইনা, চাই মানুষ বাঁচাবার প্রকৃত ডাক্তার।
==================

সোমবার, ৫ নভেম্বর, ২০১২

শুনেছিলে সেদিন হৃদয়ের কথন


শুনেছিলে সেদিন হৃদয়ের কথন
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

তোমার পীছে হেঁটে হেঁটে যতই আমি করেছি হুঙ্কার
সুন্দরী বলে তুমি দেখিয়েছিল আমায় অহঙ্কার ,
এত অহঙ্কার ভালোনা যতই তোমায় বুঝিয়ে বলি
শুনেও শুনতেনা তুমি পীছনে না দেখেই যেতে তুমি চলি !

একদিন হয়েছিল তোমার অহঙ্কারের পতন ,
যেদিন তুমি বেরিয়েছিলে সেজে মনের মতন।
বকাটেদের সাথে তখন কিই যে তোমার ধস্তাধস্তি
পারলেনা নিজেকে বাঁচাতে ভেঙ্গেছিল তোমার পাজরের অস্থি।
যখন পৌঁছলাম আমি তোমার নিকট হয়েছিল তোমার সবকিছু শেষ ,
অজোর ক্রন্দনে ভাসিয়েছিলে আমার বুক টেনেছিলে পীছনের রেশ।
একদিন যেই তুমি তাকাওনি এই আমার দিকে
সেইদিন বলেছিলে - বুঝেছিলে ভুল আপন সেই মানুষটিকে।

বলছিলাম সেদিন তোমায় -
তাকিওনা পীছনে আর সাজাও জীবন মনের মতন ,
মনের কথা যত বলেছিলে আমায় -
শুনেছিলে সেদিন তুমি এই হৃদয়ের সকল কথন।
====================

বৃহস্পতিবার, ১ নভেম্বর, ২০১২

একটা প্রশ্নের উত্তর জানতে চাই ?


একটা প্রশ্নের উত্তর জানতে চাই ?

মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

ইন্ডিয়ানরা দোলনার শিশু থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন ব্যক্তি পর্যন্ত সকলের মুখ থেকে উচ্চারিত " আমরা বিদেশী কোন কাপড় পড়বোনা " এই শক্তিধর শ্লোগানের মধ্য দিয়েই ইন্ডিয়া বস্ত্রশিল্পের দিক দিয়ে আজ স্বনির্ভর। " গড়ে উঠেছিল এক সময় সে দেশের ঘরে ঘরে বস্ত্র ফেক্টরী। একসময় আমাদের দেশ থেকে যারা ঘরপালানো হয়ে সেদেশে যেতো তারা অন্য কোন কাজ না পেলেও ইন্ডিয়ার " ভিওয়ান্ডি " নামক স্থানে গেলেই জুটে যেতো তাদের কাজ বস্ত্রবুননের ফেক্টরীতে। ইন্ডিয়া এভাবেই তাদের বস্ত্রশিল্পকে করেছে বিশ্বদরবারে সমাদৃত।



আর " স্বনির্ভরতা অর্জনে আমরা বিদেশী পণ্য বর্জন করব " এই মহামূল্যবান সুত্র দিয়েই ইন্ডিয়া আজ তার প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতাসম্পন্ন এবং তা অর্জনে স্বচেষ্ঠ। আজও দেখতে পাই তাদের সেই দেশপ্রেম এই প্রবাসে বসে। ইন্ডিয়ানরা দেশে যাবার সময় প্রবাস থেকে তেমন কোন মার্কেটিং করেনা, কোন প্রকার বস্ত্র তো নয়-ই । এই হলো ইন্ডিয়ানদের দেশপ্রেম আর দেশের স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য তাদের প্রচেষ্ঠা।

আর আমরা দেশপ্রেমের পরিচয় দিই দেশের কলকারখানায় উৎপাদিত পণ্য বসিয়ে রেখে এবং পঁচিয়ে ফেলে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানী করে বাজারজাত করার মাধ্যমে। এই ঈদের চ্যানেল আইয়ের কৃষকের ঈদ আনন্দ অনুষ্টানে সচিত্রে দেখানো হলো তারই একটা প্রমাণ। দেশে উৎপাদিত কোটি কোটি টাকার চিনি কারখানার গুদামে বসিয়ে রেখে বিদেশ থেকে চিনি আমদানী করে দেশের চিনি শিল্পকে কিভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে। দেশীয় চিনিকল ধ্বংস করে দেখানো হচ্ছে দেশপ্রেমের প্রদর্শনী। হায়রে দেশপ্রেমিক !

আমাদের নেতারা বিদেশ থেকে আমদানী করা সার্ট প্যান্ট গায়ে না জড়ালে তারা নেতা রূপে পরিচিতি পান না । আর ইন্ডিয়ার মহাত্মা গান্ধীর মত নেতারা উলঙ্গ পায়ে হেঁটে এক জোড়া সেলাইবিন কাপড় গায়ে দিয়েও পরিচিতি পান বিশ্বনেতা রূপে ! কি দারুন নেতাদের দেশপ্রেমের নমুনা !

ইন্ডিয়া আমাদের চ্যানেলগুলো সে দেশে প্রদর্শনে বন্ধ রেখেছে , আর আমাদের দেশ ইন্ডিয়ার চ্যানেলগুলো অবাধে খুলে দিয়েছে , দেশপ্রেমের নমুনা স্বরূপ ! আর বেশী কিছু তুলে ধরতে মন চাইছেনা ,তাই এখানেই ক্ষান্ত দিলাম। তবে শেষ করার আগে একটা প্রশ্নের উত্তর জানতে চাই - দেশপ্রেম কি ও কেন ?


সোমবার, ২২ অক্টোবর, ২০১২

বাংলাদেশের মুসলীম পরিচিতি


বাংলাদেশের মুসলীম পরিচিতি
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

আল্লাহর সান্নিধ্য পাবার পথ একটাই আর তা হল - ইসলাম। ইসলামী নীতিমালার আলোকে মানব জীবন পরিচালনার মধ্য দিয়ে যেতে হয় আল্লাহর সান্নিধ্যে। ইসলাম ব্যতিত অন্য কোন রাস্তা নেই আল্লার সান্নিধ্যে যাবার। আর এই ইসলাম পথের অনুস্মরণকারীরাই মুসলীম নামে পরিচত। ইসলামী পথ ধরে চলমান মুসলীমদের একটাই আদর্শ - রাসূল(সঃ) এর আদর্শ, একটাই নীতি - আলকোরানের নীতি। তাই আল্লাহর সান্নিধ্যে যাবার একমাত্র উপায় আলকোরানের নীতি ও রাসূল(সঃ) এর আদর্শ। আলকোরানের নীতি ও রাসূল(সঃ) এর আদর্শ মেনে নিয়েই যেতে হবে আল্লাহর সান্নিধ্যে।


কিন্তু মুসলীমদের জীবনযাত্রাপথ পর্যবেক্ষণ করলে মনে হয় তারা সেই পথে যাচ্ছেনা। তারা যাচ্ছে তাদের মনগড়া পথে। আল্লাহর সান্নিধ্যে যাবার নির্ধারিত সরল সোজা পথকে খন্ডিত করে তারা তাদের মনগড়া বিভিন্ন নামে বিভিন্ন পথ সৃষ্টি করে সে সকল পথে পরিচালিত হয়েছে। বিচ্যুৎ হয়েছে মুলপথ থেকে। ফলে রেললাইনের সোজা পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে দূর্ঘটনায় পতিত হবার মত মুসলীমদের ও আজ লাইনচ্যুত হয়ে আল্লাহর সান্নিধ্যে যাবার অভিপ্রায় হয়েছে অনিশ্চিত। তারা তাদের মনগড়া সৃষ্ট পথ দিয়ে কখনো আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছতে পারবেনা। তাদের সেইসব যাত্রাপথের মধ্যখানেই তারা পতিত হবে দূর্ঘটনায়।

বাংলাদেশের মুসলীমরাও তেমনি সত্যের সহজ সরল পথটিকে অনুস্মরণ না করে সৃষ্টি করে নিয়েছে তাদের নিজ নিজ পথ। যাতে তাদের লক্ষ্য আল্লাহর সান্নিধ্যে যাবার থাকলেও তারা সেখানে না গিয়ে মুল পথ পরিহার করার কারনে চলে যাবে ভিন্নপথে, এ যেন চট্টগ্রাম যাবার জন্য যাত্রাকারী কমলাপুর স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম যাবার পথ পরিহার করে ভিন্ন পথ ধরে চট্টগ্রাম যাত্রার ইচ্ছা করা। তেমনই মুসলমানরা আল্লাহর সান্নিধ্যে যাবার মুলপথ পরিহার করে বিভিন্ন পথে যাত্রা করেছে । এখন বিবেচ্য বিষয় এই সকল মনগড়া পথ দিয়ে তারা আল্লাহর সান্নিধ্যে যেতে পারবে কিনা । আল্লাহর সান্নিধ্যে যাবার মুল পথ পরিহার করে বাংলাদেশের মুসলীমরা যে সব রাস্তায় পরিচালিত হয়েছে, সেসব রাস্তার নামানুষারেই তারা বিভিন্ন নামের মুসলীম হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। তাই বুঝতে পারা যায়না , কারা সত্যিকার যারা আল্লাহর সান্নিধ্যে যেতে পারবে ?

নীচে বাংলাদেশের এইসব মনগড়া ইসলামের পথ অনুস্মরণকারী মুসলীমদের কিছু পরিচিতি দেয়া হল। এর বাইরেও থাকতে পারে আরও অগণিত মনগড়া ইসলামী পথের মুসলীম , যা আমার জ্ঞানের বাইরে।

বাংলাদেশের মুসলীম পরিচিতি :
সুন্নী মুসলীম , ওহাবী মুসলীম , মিলাদুন্নবী মুসলীম , সীরাতুন্নবী মুসলীম , দোয়াল্লীন মুসলীম , জোয়াল্লীন মুসলীম ,সেনা মুসলীম , শিবির মুসলীম , জামাতী মুসলীম , দরবারী মুসলীম, নিরপেক্ষ মুসলীম, কট্টর মুসলীম, কাঠমোল্লা মুসলীম , মৌলবাদী মুসলীম , শিয়া মুসলীম , আহলে হাদীস মুসলীম , সালাফী মুসলীম , দেওয়ানবাগী মুসলীম , কওমী মুসলীম , আলীয়া মুসলীম , আহলুসসুন্নাহ মুসলীম , আহলে বায়েত মুসলীম , মাইজভান্ডারী মুসলীম , সাঈদাবাদী মুসলীম , চরমোনাই মুসলীম , শর্ষীনাই মুসলীম , আটরশী মুসলীম , বাঈয়ীনাত মুসলীম , দেওবন্দী মুসলীম , সুফী মুসলীম , মাজার পূঁজারী মুসলীম , দিশেহারা মুসলীম , উগ্রপন্থী মুসলীম , জঙ্গী মুসলীম , উদারপন্থী মুসলীম , সাধারণ মুসলীম , সুবিধাবাদী মুসলীম , নও মুসলীম , ধর্মত্যাগী মুসলীম , বন্ধু মুসলীম , চিশ্তিয়া মুসলীম , কাদেরীয়া মুসলীম , নক্শবন্দীয়া মুসলীম , আহমদিয়া মুসলীম , সুদখোর মুসলীম , ঘুষখোর মুসলীম , ধর্ষক মুসলীম , দর্শক মুসলীম , বক্তা মুসলীম , স্রোতা মুসলীম , ফতোয়াবাজ মুসলীম , দূর্নীতিবাজ মুসলীম , পাকিস্তানী তৈয়বী মুসলীম , সৌদী আবদুল ওয়াহাব নজদী মুসলীম , মডার্ণ মুসলীম , গোঁড়া মুসলীম , ঘুমন্ত মুসলীম , জাগ্রত মুসলীম , অত্যাচারী মুসলীম , স্বৈরাচারী মুসলীম , যুক্তিবাদী মুসলীম , অন্ধ মুসলীম , গোস্ত খাইয়্যা মুসলীম , খাটি মুসলীম , ভন্ড মুসলীম , ধূর্ত মুসলীম , ধনী মুসলীম , দরিদ্র মুসলীম , শিক্ষিত মুসলীম , অশিক্ষিত মুসলীম , কুশিক্ষিত মুসলীম , সুশিক্ষিত মুসলীম , দূর্বল মুসলীম , সবল মুসলীম , নামাজী মুসলীম , বেনামাজী মুসলীম , নামধারী মুসলীম , ছলনাকারী মুসলীম , হানাফী মুসলীম , হাম্বলী মুসলীম , শাফেয়ী মুসলীম , মালেকী মুসলীম !

সর্বশেষে প্রশ্ন করতে হয় - এসব মুসলীমদের মধ্যে ইসলামের প্রকৃত নীতি ও আদর্শধারী আল্লাহর সান্নিধ্যে যাবার প্রকৃত মুসলীম কারা ?
===================

শনিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১২

দেশের জন্য জরুরী


দেশের জন্য জরুরী
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
--------------------

দেশের জন্য জরুরী আজ দশের একতা,
দেশের জন্য জরুরী আজ নতুন এক নেতা।
দেশের জন্য জরুরী আজ বিবেকের জাগরণ,
দেশের জন্য জরুরী আজ সঠিক পথের ধারন।
দেশের জন্য জরুরী আজ পুরান নেতার বয়কট,
দেশের জন্য জরুরী আজ দেশ গঠনের সংগঠক।
দেশের জন্য জরুরী আজ অসৎ লোকদের দমন,
দেশের জন্য জরুরী আজ ন্যায়বানদের আগমন।
দেশের জন্য জরুরী আজ ন্যায়বানদের আসন,
দেশের জন্য জরুরী আজ ন্যায়-নীতিরই শাসন।
দেশের জন্য জরুরী আজ সৎ সাহসী মানুষ,
দেশের জন্য জরুরী আজ সত্য-ন্যায়ের ফানুস।
দেশের জন্য জরুরী আজ নতুন অভিরুচি,
দেশের জন্য জরুরী আজ নতুন কর্মসূচী।
=================

শনিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১২

স্বপ্নজগতের সন্ধানে

স্বপ্নজগতের সন্ধানে
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী

কান্নার নোনা জলে ভাসিয়ে দু'চোখ
বিনিদ্র প্রহর কাটি নিত্যদিন,
প্রবাস নীড়ে খুঁজি শান্তি জীবন
কষ্টের সাগরে ভেসে বিরতিহীন।।

কাঁদে চোখ কাঁদে প্রাণ কাঁদে মনটা
দেশের টানেই শুধু মোর ,
অভিনয় করে যাই সুখে থাকার
সুখ নেই জীবনে তো কষ্টেই ভরপুর।
হাসিমুখ নিয়ে চলি
যদিও থাকি আমি শান্তিবিহীন -
শান্তি-সুখের দেখা হয়না কভু ,
ফিরে তাকায়না কখনো প্রভু ,
প্রবাস জীবনে করে যাই কর্ম তবু
এই আমি বিরতি বিহীন।।

একেলা একেলা কাটাই প্রবাস জীবন
এই যে আমার নিয়তির লেখা ,
জানি অভিসপ্ত এই জীবনখানি
তবুও চলে সুখ-শান্তির স্বপ্ন দেখা।
আশার মাঝেই কাটাই বেলা
স্বপ্ন দেখি প্রতিটা দিন -
আশায় আমার বুক যে ভরা ,
স্বপ্নজগত আর দেয়না ধরা ,
স্বপ্ন-আশার তরি নিয়ে তবুও
ঘুরছি আমি বিরামহীন।।
===========

বুধবার, ১০ অক্টোবর, ২০১২

আমি কি মানুষ নই ?


আমি কি মানুষ নই ?
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

নীরলে বসে ভেবে যাই
জীবনের সূদীর্ঘ সময়ের পথ চলার কথা,
মিলাতে পারিনা জীবনের সহজ সমীকরণ
মিলেনা জীবনের সুদীর্ঘ পথচলার হিসাব।
শুধুই ভেবে যাই - এই সুদীর্ঘ পথ চলা
কোথায় দাঁড় করালো আমায় ?
আমি কি দাঁড়াতে পেরেছি মানুষদের মাঝে ?
মানুষ কি আমাকে বলা যায় ?
না রয়ে গেছি এখনো অমানুষদের সমাজে ?
ভাবনার করিডোরে একাকী হাঁটি গুঁটি গুঁটি পায়ে
চারিদিকে নিস্বদ্ধতা ,অসাড় জনপদ
আর জনমানবহীন এক দ্বিপান্তর যেন আমার চারিপাশ !
কানের কাছে ধ্বনিত হয় যে চেঁচামেছি সেতো ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ,
জনমানবের শোরগোল যেন যায়না শুনা।
ভাবি, মানুষ থাকলেই তো মানুষদের শোরগোল যাবে শুনা
তবে জীবনের পথ ধরে আমার এ কোথায় আগমন !
যে পৃথিবী মানুষের জন্য গড়া সেখানে নেই মানুষদের বসতি,
মানুষের রূপ ধরে বসবাস সেখানে অদ্ভুত সব জীবের !
চারিদিকে ধাউ ধাউ করে জ্বলছে আগুন ,
বিপন্ন আজ মানবতার মসৃণ পথ ,
মানুষরূপী অদ্ভুত সেই জীবদের চলছে পৃথিবী ব্যাপী ধ্বংসযজ্ঞ ;
ভাবি , আমার এ কোথায় বসতি স্থাপন , কেন আমার এখানে আসা ?
তবে আমি কি মানুষ নই, আমিও কি সেই অদ্ভুত জীবদেরই একজন ?
=============================

মঙ্গলবার, ৯ অক্টোবর, ২০১২

Hello Today | ফটিছড়িতে সড়ক দূর্ঘটনায় স্কুলছাত্রী আহত

Hello Today | ফটিছড়িতে সড়ক দূর্ঘটনায় স্কুলছাত্রী আহত

আহত মেয়েটির জন্য দোয়া কামনা করছি
গ্রামীণ জনপদে প্রশাসনিক নিয়ম না থাকায় এভাবে চালকরা বেপরোয়া ভাবে গাড়ী চালিয়ে বিভিন্ন দূর্ঘটনা ঘটায়। যারা এ সমস্ত গাড়ী চালায় তাদের অনেকেরই নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। কোন মতে ড্রাইভিং শিখে তারা লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ী চালানো শুরু করে। যা দেখার জন্য প্রশাসনের কোন লোক নেই এইসব জনপদে। ফলে এক্সিডেন্ট করেই তারা পার পেয়ে যায়।

সোমবার, ৮ অক্টোবর, ২০১২

দূর্ঘটনায় আমার মেয়ে সামিরা : দোয়া কামনা

      দূর্ঘটনায় আমার মেয়ে সামিরা : দোয়া কামনা
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

আমার একমাত্র মেয়েটি গতকাল গাড়ী এক্সিডেন্টে ভীষণ ভাবে আহত হয়েছে। মুখে সেলাই করা হয়েছে ৫/৬ টা। এখনও কথা বলতে ও কিছু খেতে পারছেনা। খুবই কষ্টে তরল জাতীয় খাদ্য দেয়ার চেষ্ঠা করা হচ্ছে। তার সুস্থতার জন্য সকলের কাছে দোয়ার আবেদন রইল।