আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা

বাংলা ভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী

সকল মহান ভাষা শহীদগণের প্রতি,
এবং ভাষা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত

সকল ভাষা সৈনিক
ও বীর বাঙ্গালীদের জানাই অশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলী,
সেইসাথে সকলকে জানাই

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা।

বিষয় সূচী

সাহিত্য (60) অন্যান্য কবিতা (53) ভালোবাসার পদবিন্যাস ( প্রেম সম্পর্কিত রচনা বিশেষ ) (53) আমার লেখা প্রবন্ধ-নিবন্ধ (37) কবিতা (35) দেশ নিয়ে ভাবনা (33) ফিচার (33) বাংলাদেশ (29) সমসাময়িক (28) খন্ড কাব্য (26) হারানো প্রেম (22) সংবাদ (18) কাল্পনিক প্রেম (16) ইতিহাস (15) প্রতিবাদ (15) সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ (15) Online Money Making Links (14) দেশাত্মবোধক কবিতা (13) আমার জীবনের দিনপঞ্জী (12) ধর্ম (12) প্রেমের কবিতা (11) ব্যক্তিত্ব (11) রাজনীতি (11) ধর্মীয় আন্দোলন (10) প্রবাসের কবিতা (10) খন্ড গল্প (9) জীবন গঠন (9) বর্ণমালার রুবাঈ (9) ইসলাম (8) প্রগতি (8) মানুষ ও মানবতা (8) হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ (8) VIDEOS (7) আমার লেখালেখির অন্তরালে (7) ইসলামী জাগরণ (7) মানব মন (7) ট্র্যাজেডি (6) শোক সংবাদ (6) সম্প্রীতি (6) নারী স্বাধীনতা (5) প্রেমের গল্প (5) বিজয় দিবসের ভাবনা (5) মৃত্যুপথ যাত্রী (5) সংবাদ মাধ্যম (5) স্মৃতিকথা (5) ঈদ শুভেচ্ছা (4) প্রবাস তথ্য (4) রমজান (4) শুভেচ্ছা (4) Computer Programer (3) আমার ছবিগুলো (3) আমার রাইটিং নেটওয়ার্ক লিংক (3) পর্দা (3) ফটিকছড়ি (3) বাংলাদেশের সংবিধান (3) বিশ্ব ভালবসা দিবস (3) শিক্ষা (3) শিক্ষার্থী (3) স্লাইড শো (3) News (2) VERIETIES POEMS OF VERIOUS POETS (2) আষাঢ় মাসের কবিতা (2) আষাঢ়ের কবিতা (2) ইসলামী রেনেসাঁ (2) ছাত্র-ছাত্রী (2) থার্টি ফাস্ট নাইট (2) নারী কল্যান (2) নারী প্রগতি (2) নির্বাচন (2) বর্ষার কবিতা (2) মহাসমাবেশ (2) শবেবরাত (2) শরৎকাল (2) শাহনগর (2) শ্রদ্ধাঞ্জলী (2) সত্য ঘটনা (2) সত্য-মিথ্যার দ্বন্ধ (2) সফলতার পথে বাংলাদেশ (2) Bannersআমার ছবিগুলো (1) DXN (1) For Life Time Income (1) For Make Money (1) Knowledge (1) Student (1) অদ্ভুত সব স্বপ্নের মাঝে আমার নিদ্রাবাস (1) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (1) আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত(সুন্নী) (1) উপন্যাস (1) কবি কাজী নজরুল ইসলাম (1) কোরআন - হাদিসের কাহিনী (1) গল্প (1) চট্টগ্রাম (1) চিকিৎসা ও চিকিৎসক (1) জমজম (1) জাকাত (1) তরুন ও তারুণ্য (1) নারী জাগরণ (1) পরকিয়ার বিষফল (1) ফটিকছড়ি পৌরসভা (1) বন্ধুদিবস (1) বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেম (1) বিবেক ও বিবেকবান (1) বিশ্ব বাবা দিবস (1) বিশ্ব মা দিবস (1) ভ্রমণ (1) মন্তব্য (1) মাহফুজ খানের লেখালেখি (1) রবি এ্যাড (1) রমজানুল মোবারক (1) রেজাল্ট (1) রোগ-পথ্য (1) লংমার্চ (1) শহীদ দিবস (1) শুভ বাংলা নববর্ষ (1) শৈশবের দিনগুলো (1) সমবায় (1) সস্তার তিন অবস্থা (1) সাভার ট্র্যাজেডি (1) সিটি নির্বাচন (1) স্বপ্ন পথের পথিক (1) স্বাধীনতা (1) হ্যালো প্রধানমন্ত্রী (1) ২১ ফেব্রোয়ারী (1)

APNAKE SHAGOTOM

ZAKARIA SHAHNAGARIS WRITING

সকলকে বাংলা নতুন বছরের শুভেচ্ছা

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আমরা আর বাংলা ভাষায় কথা বলতে চাইনা । নিজের মাতৃভাষাকে যখন-তখন যেখানে সেখানে অবমাননা করে তৎপরিবর্তে ইংরেজী ভাষা ব্যবহার করতে অভ্যাস্থ হয়ে যাচ্ছি বা হয়ে গেছি ।
আরও একটু এগিয়ে গেলে বলতে হয় - আমরা আজ বাঙ্গালী হয়ে বাঙ্গালী জাতিসত্বা ভুলে গিয়ে ইংরেজী জাতিসত্বায় রক্তের ন্যায় মিশে গেছি !

অথচ একদিন আমরা বাঙ্গালী জাতি একতাবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রীয় ভাষা উর্দুকে ত্যাগ করে নিজেদের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা তথা বাংলা ভাষাকে সর্বত্র প্রচলন করতে প্রাণ দিতে বাধ্য হয়েছিলাম ! ফলে বিজাতীয় ভাষা উর্দূকে অপসারন করে নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলার স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলা ভাষাকে ধারন করেছিলাম । যখন আমরা বাংলার সর্বত্র বাংলা ভাষায় কথা বলা শুরু করেছিলাম ,তখন কিন্তু বিশ্বায়নের যুগটা অনুপস্থিত ছিল তা নয় , বিশ্বায়নের যুগটা তখনও ছিল বিধায় আমরা ইংরেজী শিক্ষায় তখনও বাধ্য ছিলাম । অর্থাৎ যে জন্যে আজ আমরা ইংরেজী শিখছি সেইজন্যে তখনও ইংরেজী শিক্ষার প্রচলন ছিল । ছিল ইংরেজী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাও । তাই বলে সে সময় বর্তমান সময়ের মত মাতৃভাষা বাংলাকে অবমাননা করা হয়নি । মানুষ সে সময় বাংলায়ই কথা বলেছিল । শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রেই সে সময় ইংরেজী ব্যাবহার করেছিল বাঙ্গালী জাতি

conduit-banners

Powered by Conduit

ফ্লাগ কাউন্টার

free counters

MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY

PLEASE CLICK ON MY BANNERS. VISIT MY AFFILIATE SITE "MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY ( অনলাইনে অর্থোপার্জনের একটা মাধ্যম )" I HOPE IT WILL BE HELPFUL FOR YOU. Create your own banner at mybannermaker.com!

মঙ্গলবার, ১০ মে, ২০১১

আমরা চাই শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ [ সমগ্র বাংলাদেশের সকল নাগরিকদের কাছে খোলাচিঠি ]



আমরা বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ নাগরিক

আমরা চাই শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ
শান্তির লক্ষ্যে আহবান

[ সমগ্র বাংলাদেশের সকল নাগরিকদের কাছে খোলাচিঠি ]
------------------------------------

সম্মানীত ,
দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী সকল স্তরের নাগরিক মহোদয়গন !
শুরুতেই সকলকে জানাচ্ছি যথাবিহীত সম্মান এবং সংগ্রামী শুভেচ্ছা ।

আমরা সকলেই অবগত যে , একটি দেশের সকল নাগরিক জাতীয়তা স্বত্বায় প্রত্যেকেই একই জাতি । আমরা যেহেতু বাংলাদেশের নাগরিক , সেহেতু আমরা প্রত্যেকেই একই পরিচয়ে পরিচিত , একই পরিচয় প্রত্যেকের । আর সেটা হলো - আমরা বাংলাদেশী ।

যদিও আমরা দেশ স্বাধীনের সময় সকল নাগরিক একত্রে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করলেও , সবাইকে একজাতি মেনে নিলেও পরবর্তীতে আমরা সকল নাগরিকদের একচোখে দেখিনি । একই জাতি হিসাবে গণ্য না করে দেশের একাংশ নাগরিকদের বিভিন্ন সম্প্রদায়ে ভাগ করে ফেলেছি নিজেদের সুবিধার্থে , অবহেলিত করে রেখেছি তাদের । অথচ এরকম হবার কথা ছিলোনা । নাগরিকদের ধর্ম পালনের মধ্যে বিভিন্নতা থাকতে পারে , নাগরিক হিসাবে তাদের পরিচয় , তাদের অধিকার , তাদের দায়িত্ব সবারই একই মাপের হওয়ার কথাছিলো । কিন্তু আমরা তা না করে আমরা তাদের বিভিন্ন উপাধি দিয়ে ( আধিবাসী , উপজাতী ইত্যাদি ) গোত্রে ভাগ করে নাগরিক হিসাবে প্রাপ্ত সুযোগ - সুবিধাকেও বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে ভাগ করে নিয়ে কোন কোন নাগরিকের সুযোগ - সুবিধা বৃদ্ধি করে কোন কোন নাগরিকের সুযোগ - সুবিধা কমিয়ে দিয়েছি ।

আমরা যদি আমাদের দেশের পাহাড়ী অঞ্চলের দিকে তাকাই তবে দেখতে পাব বাংলাদেশের একাংশ নাগরিক দেশের বৃহৎ সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত । অথচ তারাও একদিন এদেশ স্বাধীন করার জন্য বন্দুক কাঁধে নিয়েছিল । জীবনের স্বার্থ ত্যাগ করে তারাও সেদিন দেশের অভ্যান্তরে ভালোভাবে বাঁচার আশায় দেশরক্ষায় যুদ্ধের ময়দানে নেমেছিলো । অথচ যুদ্ধ পরবর্তীতে দেশ স্বাধীন হবার পর দেশের কোন সরকারই এসব অঞ্চলের মানুষদের নগরিক সুযোগ - সুবিধার দিকে নজর দেয়নি । তারা এসব অঞ্চলের নাগরিকদের বিভিন্ন উপাধি দিয়ে কোনঠাসা করে রেখেছে যুগযুগ । ফলে সেসব অঞ্চলে দেখা দিয়েছে চরম অশান্তি । তাদের অধিকার আদায়ে গঠিত হয়ে শান্তিবাহিনী ।

নাগরিক সুযোগ - সুবিধা বঞ্চিত এসব অঞ্চল তাদের হাতে ছেড়ে দেয়ার জন্য বলা হচ্ছে । তারা সুযোগ পাচ্ছে বলার দেশের অভ্যান্তরে আরও একটি দেশ গঠনের ! তারা আজ সেইসব অঞ্চলে স্বাধীনতার ডাক দিচ্ছে । কেন এমন হবে  ? একমাত্র কারন , সমগ্র দেশের নাগরিকদের প্রতি সরকারের দৃষ্টির বিভিন্নতা ।

সরকার আলোকিত জনপদকেই আলোকিত করনে ব্যস্ত , অন্ধকার জনপদের দিকে সরকারের দৃষ্টির অভাবে আজ দেশের অভ্যান্তরেই আর একটি দেশ গঠনের চেষ্ঠা চলছে , চাওয়া হচ্ছে একটি স্বাধীন দেশ থেকে আর কটি স্বাধীনতা ! এটা কোন স্বাধীন দেশের কাম্য নয় ।

যে কোন স্বাধীন দেশের নাগরিকদের সুযোগ - সুবিধা সকল নাগরিকদের জন্য একই হতে হবে , এটাই নিয়ম । নয়তো সেটা স্বাধীন দেশ থাকবেনা , সৈরাচারী দেশ হিসাবেই পরিগণিত হবে । দেশের নাগরিকগণ উশৃন্খল হয়ে উঠবে । চারিদিকে দেখা দিবে অশান্তির অগ্নোৎপাত ।

আমরা এদেশের নগরিক । এদেশ আমাদের মর্যাদার প্রতীক । কেননা , এদেশ আমাদের জন্মভূমি । আমরা মুসলিম , আমরা হিন্দু , আমরা খ্রীষ্টান , আমরা বুদ্ধ - আমাদের ধর্ম যাই হোক না কেন , আমরা এ দেশেই জন্মেছি । তাই এদেশ আমাদের । এদেশ আমাদের কাছে সবচেয়ে মর্যাদাবান । আমাদের গর্ভধারিনী - জন্মদাত্রী মাতা আমাদের গর্ভধারণ - জন্মদেবার কারনে যেরূপ আমাদের কছে মর্যাদাবান , তেমনি আমাদের জন্মের পর কিংবা আশ্রয় গ্রহনের পর এই ভূমি আমাদেরকে বুকে ধারণ করার কারনে , আমাদের আশ্রয়দেবার কারনে এদেশ  মা ’’ এর মতোই মর্যাদাবান । আমাদেরকাছে মায়ের যেরূপ মর্যাদা , আমাদের মা আমাদের কাছে যেরূপ সম্মনের যোগ্য , আমাদের কাছে আমাদের দেশেরও সেরূমর্যাদা , সেরূপ সম্মানের যোগ্য ।

সুপ্রিয় দেশপ্রেমিক !
আমরা এদেশে জন্মেছি বলেই এদেশ আাদের কাছে পরম পূঁজনীয় । মা - মাটি - মাতৃভূমি ; এ ত্রিমাতৃক আশ্রয়স্থল আমাদের জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত । আমাদেরকে জন্মদিয়েছেন যিনি - সেই মা , আমা ভূমিষ্ঠ হয়েছি যে মাটিতে - সেই মাটি , আর আমার ভূমিষ্ঠকালীন মাটি যে দেশে অবস্থিত - সেই দেশ ; এ তিনের সমন্বয়েই আমাদের জীবনযাত্রা পথের সূচনা ।

মা-কে যেমন আমরা আমাদের জন্মদেবার কারনে অবমাননা করতে পারিনা । তেমনি অবমাননা করতে পারিনা সেই মাটি ও সেই দেশকে - যা আমাদের ধারণ করেছিলো । কিন্তু , আজ আমরা সেই বৃহৎভুল এবং গাদ্দারীটাই সকলে করছি । আজ আমরা প্রত্যেকেই ব্যক্তিগত স্বার্থান্ধত্বের গেড়াকলে আটকে এবং লোভ - লালসা - কামনা - বাসনা তথা ষঢ়রিপু ( কাম , ক্রোধ , লোভ , মোহ , মদ , পরশ্রীকাতরতা ) এর অভিলাষে মত্ত হয়ে সেই মা - মাটি - মাতৃভূমির অবমাননা করছি প্রতিনিয়ত , প্রতিস্থানে । আমরা ঘূর্ণাক্ষরেও বুঝতে স্বচেষ্ঠ হচ্ছিনা যে , কিভাবে আমরা জন্মস্থানের মাটি - মাতৃভূমির সম্মানকে লাঞ্চিত - পদদলিত করছি , করছি আমাদের মায়ের সম্মানকে ক্ষুন্ন ।

নির্দ্বিধায় আজ আমরা চুরি - ডাকাতি - রাহজানী - খুন - গুম - অপহরণ - ধর্ষণ - ব্যাভিচার - অবিচার - অন্যায় - অত্যাচার - জুলুম ইত্যাদি বিবিধ অপকর্ম ঘটিয়ে করছি মা - মাটি - মাতৃভূমির সম্মানের ক্ষতি । ক্ষণিকের সুখ ( ? ) ভোগে আমরানিজেদের কোথায় নিয়ে গিয়ে দাঁড় করাচ্ছি তা এতটুকু ও ভাবতে পারছিনা ! না পারছি সুখভোগ করতে , না পারছি শান্তিলাভ করতে । না পারছি পরিবারে খাঁপ খেতে , না পারছি সমাজে মুখ দেখাতে । আর না পারছি স্বাধীন দেশের স্বাধীন রাজপথে স্বাধীন ভাবে বিচরণ করতে ।

ক্ষণিকের সুখভোগে মত্ত হয়ে আজ আমরা সর্বক্ষেত্রে অবাঞ্চিত হয়ে গেছি । ক্ষণিকের সুখভোগে অংশ নিয়ে আজ আমরা নিজেদের জীবনে অশান্তিতো ডেকে আনছিই , সাথে সাথে অশান্তির আগুন জ্বালাচ্ছি পরিবার - প্রতিবেশী - সমাজ - সমগ্র দেশেও । মানুষ হয়ে অমানুষের কর্ম করে নিজেদের আড়াল করছি মানুষদের কাতার থেকে । দিক-বিদিক জ্ঞান হারিয়ে পশুত্বের রূপ গ্রহন করছি মনের অজান্তে । মানুষ থেকে পশুতে রূপান্তর - কোন বিবেকবান মানুষের কাম্য হতে পারেনা ।

তাই ,  আর নয় ; আসুন আমরা মানুষ - মানুষ হয়েই থাকি । যারা মানুষ থেকে পশুতে রূপান্তর হয়েছি ; আসুন আবার আমরা মানুষে রূপান্তর হই । কারন , মানুষই সৃষ্টির সেরা । নষ্ট বিবেককে সংশোধন করে আসুন আমরা মায়ের সম্মান দিই, আমাদের বক্ষে ধারণ কারি মাটিকে মূল্যায়ন করি , স্বদেশের সুনাম রক্ষা করি ।

আসুন দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হই , সকল প্রকার অন্যায় থেকে নিজেদের বাঁচাই , অন্যদেরও বাঁচতে সহযোগীতা করি । আসুন স্বদেশের সুনাম অর্জনে স্বচেষ্ঠ হই , দেশজ কল্যানে আত্মনিয়োগ করি , দেশের উন্নয়নে সৎচিন্তা করি ।

আসুন আত্মপরিচয় দানে এগিয়ে আসি , দেশীয় সংস্কৃতিকে বিশ্বমানের করে তুলি , দেশীয় সংস্কৃতির ধ্বংস সাধনের কর্মকান্ড পরিহার করি , বিজাতীয় সংস্কৃতির অশুভ ছায়ার মূলোৎপাঠন করে ধারন করি স্বজাতীয় সংস্কৃতির সুন্দর রূপকে , ভিনদেশী সংস্কৃতির ভয়াল রূপ আমদানী না করে সাজাতে থাকি স্বদেশীয় সংস্কৃতির মনমুগ্ধকর রূপ দিয়ে সমগ্র দেশের সার্বিক অবয়ব ।

আসুন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে দেশের সকল নাগরিক এক হই , বিদেশ থেকে পণ্য আমদানী না করে বিদেশে নিজেদের পণ্য রফ্তানীর বাজার গঠন করি , পার্শবর্তী দেশ ভারতীয় নাগরিকদের মতো প্রতিজ্ঞা করি - আমরা বিশ্বের যেখানেই থাকিনা কেন বিদেশী মাল আমরা খরিদ করবোনা , আমাদের স্বদেশীয় পণ্যই হোক আমদের উপযুক্ত পণ্য ।

সুপ্রিয় সমাজসেবক !
আমরা যে সমাজে বাস করছি তা এখন ঘুণে ধরা সমাজে রূপান্তরিত । ধীরে ধীরে ঘুণপোকা সে সমাজকে নষ্ট করে চলেছে । আমাদের ঘুমের মধ্যে আমাদের ঘুণে কাটা সমাজ ধ্বংস হতে যাচ্ছে । ছোট - বড় অন্যায় - অপরাধে জন্মলাভ করছে সেইসব ঘুণপোকা । এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই সে সমাজ আমাদের জন্য বাসযোগ্যহীন হয়ে পড়বে । তাই , আসুন - আমরা জাগ্রত হই , নিদ্রা ভেঙ্গে সমাজের দিকে দৃষ্টি দিই , ঘুণে ধরা সমাজকে বাঁচাই , ধ্বংসপ্রায় সমাজকে বাসযোগ্য করে আবার গড়ে তুলতে সকলেই স্বচেষ্ঠ হই ।

সুপ্রিয় জনদরদী !
আমরা ধর্মীয় বন্ধনে আবদ্ধ সবাই । এমন কোন ব্যক্তি বা মানুষ নেই যার কোন ধর্ম নেই । প্রতিটি মুসলীম যেমন ইসলাম ধর্মের ধর্মীয় বন্দনে আবদ্ধ । তেমনি , প্রতিটি হিন্দু , প্রতিটি বৌদ্ধ , প্রতিটি খ্রীষ্টান , এমনি আরো যারা আছে সকলেই স্ব স্ব ধর্মীয় বন্ধনে আবদ্ধ , যার কোন ধর্ম নাই বলে , তার ও একটা নিজস্ব ধর্ম রয়েছে - সেটা হচ্ছে তার নিজ জীবন পরিচালনার নিয়ম-নীতি , সে তার জীবন কিভাবে পরিচালনা করবে সেই চিন্তাটাই তার ধর্ম । একটা জীবনকে সুন্দর রূপে , সুশৃন্খলভাবে , বিশ্বজগতের কল্যানে , শান্তির সহিত পরিচালনা করার নামই ধর্ম ।

পৃথিবীতে প্রতিটি ধর্মের আবির্ভাবই হয়েছে শান্তির সওগাত নিয়ে । এমন কোন ধর্ম নেই যাতে শান্তির বার্তা দেয়া হয়নি । তৎসত্বেও আমরা দেখতে পাচ্ছি সমগ্র দেশব্যাপী তথা সমগ্র বিশ্বে অশান্তির দাবানল ধাউ ধাউ করে জ্বলছে । আর সেই অশান্তির দাবানল সৃষ্টি করছি আমরাই , ধর্মের বন্ধনে আবদ্ধ মানুষজাতিই 

কারণ কি ? কারণ একটাই - আমরা মানুষ হয়ে ও মনুষ্যত্বের গুণটা অর্জন করতে পারিনি , পারছিনা বা করছিনা । আমরা ধর্মের বন্ধনে থেকে ও ধর্ম মানছিনা । যেরূপ কোন সন্তান মায়ের উদর থকে জন্ম নিয়েও সে তার মা-কে মানেনা । মা-য়ের অবাধ্যতা করে । যেরূপ আমরা সমাজে বাস করেও সমাজকে মানছিনা , সমাজের নিয়মবদ্ধ আচার - আচরনের বিরোধীতা করছি ।

এর কমাত্র কারণ , আমাদের নির্মল মন এবং সুন্দর খোলা চোখ স্বার্থপরতার কালো আবরনে ঢেকে গেছে । আমরা সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিজাত হয়েও স্রষ্টার নিয়ম লঙ্গন করে অমানুষ হয়ে গেছি । ধর্মের গণ্ডীতে থেকেও ধর্মের নিয়ম বিরোধীতা করে ধর্মচ্যুত হয়ে গেছি । কোন সন্তান যেমন পিতামাতার অবাধ্য হয়ে ত্যাজ্য ঘোষিত হয় , কোন লোক যেমন সমাজবিরোধী কর্ম করে সমাজচ্যুত হয় , কোন নাগরিক যেমন দেশদ্রোহী কর্মে জড়িয়ে দেশান্তরী হয় । তেমনি , আজ আমাদের অবস্থা ।

আর তাই , আমরা আজ অশান্তির আগুনে জ্বলে পুড়ে অঙ্গার হচ্ছি চতুর্দিকে । মানুষের পীঠ দেয়ালে ঠেকে গেলে যেমন সে নববলে বলিয়ান হয়ে বাঁচার চেষ্ঠা করে , তেমনি আমাদের পীঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে । অশান্তির দাবানলে জ্বলতে জ্বলতে আর যায়গা নেই যে আমাদের জ্বলবার । এখন ধ্বংসের পাদপীঠে দন্ডায়মান আমরা ।


যদি আমরা বাঁচতে চাই , তবে এখনই আমাদের নব বলে বলিয়ান হয়ে বাঁচার চেষ্ঠা করতে হবে । এখনই ভাবতে হবে আমাদের কি করা উচিত । কি করলে আমরা বাঁচব - সে পথেই আমাদের ধাবিত হতে হবে ।


তাই , হে বন্ধু ! আসুন আমরা সেই পথ আবিস্কার করি , সে পথে অভিযান চালাই - যে পথে আমাদের বাঁচার দিক পরিলক্ষিত হবে , যে পথ দেখাবে আমাদেরকে সুখ - শান্তির সাম্রাজ্য । আপনি মুসলীম - হিন্দু - বৌদ্ধ - খ্রীষ্টান বা অন্য যাই ই হোন না কেন , নিজ নিজ ধর্মের নীতিমালা সঙ্গে নিয়ে শান্তির পথে অভিযান চালান ।


সুপ্রিয় মানবতার সৈনিক !

আমরা মানুষ । সৃষ্টিজাত হিসাবে আমরা একই জাতি । সমগ্র মানবধর্ম এক এবং অভিন্ন । আমরা সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী । আমরা বাংলাদেশী জাতীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ একই জাতি । তাই , আর নয় সংখ্যালঘু  আর সংখ্যাগরিষ্ঠতার মধ্যে প্রভেদ । আর নয় ধনী আর গরীবের মধ্যে ভেদাভেদ ।


আর নয় স্বার্থান্ধত্বের স্বরোষে একে অন্যকে আক্রমন । আর নয় - চুরি , ডাকাতি , রাহাজানী , সুদ , ঘুষ , খুন , গুম , অপহরণ , ধর্ষণ , অন্যায় , অবিচার , অনাচার , অত্যাচার ,  ব্যভিচার , জুলুম ইত্যাদি কুকর্মের মাঝে পথ চলা । আর নয় - আপন জাতিকে ধ্বংস করা ।

সময় এসেছে গান করার -
 গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান ,

মিলিয়া ভাউলা গান আর মুর্শীদি গাইতাম ,

আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম -
আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম ! ’’


সময় এসেছে - আমাদের একে অপরকে জানার , ভাই হয়ে ভাইকে চেনার । সময় এসেছে - জাতিকে চেনার । সময় এসেছে - ব্যক্তিবিশেষ সংশোধন হবার ।


তাই , আসুন - আমরা মনুষ্য জাতি একে অপরকে চিনি , জানি । ভাই হয়ে ভাইকে চিনি , জানি । ব্যক্তিবিশেষ সংশোধিত হই । আসুন - সৎকাজের ব্রতী হই । সকল অসৎ , অপকর্ম থেকে অন্যদের বিরত রাখার চেষ্ঠা করি নিজেরাও বিরত থাকি । আসুন - শান্তির পথ ধরি । শান্তি রক্ষায় নিজেদের নিয়োজিত করি ।


যুবকদের খুনরাঙ্গা পথেই হয়েছিলো একদিন এই পৃথিবী সভ্য । আসুন - সেইসব যুবকদের মতো মন নিয়ে শান্তি রক্ষার অভিযানে যোগ দিই । অস্ত্র নয় , যুদ্ধ নয় , রক্তের হোলিখেলা নয় । আসুন - বিনা অস্ত্রে , মনোবল নিয়ে , ধর্মের নিয়ম নিজ নিজ মুখে ও চরিত্রে ধারণ করে লাইফ ইনস্যুরেন্স করি ।

তবেই হবে সমাজে শান্তির আবাসন । তবেই হবে মানবতার মুক্তি । নিজ নিজ ধর্মগ্রন্থ হাতে নিন । কিভাবে ? কোথায় ? কি করতে হবে ? তাহাই দিবে সঠিক নির্দেশনা ।


গণ্ডারের চামড়া গায়ে জড়িয়ে জীবন উপভোগ করাতে আনন্দ নেই , নেই সুখ । শান্তির মখমল পোশাক গায়ে জড়িয়ে নিজকে প্রদর্শন করাতেই আনন্দ , সুখ । তাই , বাস্তবতার আলোকে সুখ - শান্তির জীবন সাজাতে আসুন - শাশ্বত সত্যের শান্তি পথে । পদ সঞ্চালন করুন অস্ত্রের ঝনঝনাতিতে নয় , শান্তি ও নিরস্ত্রভাবে সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম পরিচালনায় । সকলকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা ।
======================= 

সুপ্রিয় বন্ধু !
আপনি যদি জনদরদী , সমাজসেবী ও দেশপ্রমিক মনোভাবাপন্ন হোন , তবে নিশ্চয়ই  শুনে আনন্দিত হবেন যে  , দেশের প্রত্যেক জিলার তারুণ্যদ্বিপ্ত বেশ কিছু লোকের আমরা একদল শান্তিকামী জনতা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে দাঙ্গা - হাঙ্গামা বিহীন নিরস্ত্র হাতে জনগন , সমাজ ও দেশের শান্তিরক্ষা কল্পে সৎকাজের আদেশ দান ও অসৎ কাজে বাধা দান ’’ মুলক দেশব্যাপী সার্বিক অনিয়ম - জুলুম - দূর্নীতি - অন্যায় এবং অশান্তিকর কর্মকান্ডসমুহের বিরুদ্ধে একটি দলমত নবায়নী বা সংশোধন ভিত্তিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ শান্তিকামী একটা আদর্শ জনগোষ্ঠি গঠন বা সমাজসেবা মূলক একটা প্রতিষ্ঠান গঠনের লক্ষ্যে দেশর সকল ধর্মাবলম্বী , চিন্তাবিদ , দার্শনিক , সমাজসেবক , দেশপ্রমিক , আদর্শিক ব্যক্তিদের সৎ চিন্তার ফসল নিয়ে একটি আদর্শ সমাজের মডেল বাস্তবায়নের অভিপ্রায়ে ইনশাআল্লাহ শিঘ্রই মাঠে নামতে যাচ্ছি ।
তাই , সমগ্র বাংলাদেশের প্রতিটি জনপদের সকল ধর্মাবলম্বী প্রতিটি পরিবার থেকে একজন করে শান্তিকামী লোক আত্মনিবেদিত সমাজকর্মী হিসাবে আমাদের সদস্যভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি । এমতাবস্থায়  , আপনি এদেশের প্রকৃত নাগরিক হিসাবে মুসলীম - হিন্দু - বৌদ্ধ - খ্রীষ্টান কিংবা অন্য যে কোন ধর্মাবলম্বীই হোন না কেন , আমরা আপনাকে আমাদের শান্তিরক্ষার অভিযাত্রী দলের একজন একনিষ্ঠ আত্মনিবেদিত শান্তিকর্মী হিসাবে পেতে চাই । তাই , আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ থাকবে , আমাদের অভিযাত্রী দলের সদস্য হয়ে শান্তির সংগ্রামে যোগ দিতে তৈরী হবার জন্য ।
মহান আল্লাহ পাক অধম ও অকল্যানকর সকল পথ পরিহার করে উত্তম ও কল্যানকর পথ অবলম্বনে সকলকে সহায়তা করুন । আমীন ।

যোগাযোগ -
আহবায়ক ,
আমরা শান্তিকামী বাংলাদেশী নাগরিক

ই-মেইল  
amra.shantikami.bangladeshi@gmail.com
            Amra.manush.hote.chai@gmail.com
        amrashantikamibangladeshinagorik@hotmail.com


ফেইসবুক প্রোফাইল -
 আমরা বাংলাদেশের শান্তিকামী নাগরিক (আমরা শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ চাই) ’’

লেখালেখির উপর একটা মন্তব্য




লেখালেখির উপর একটা মন্তব্য 


আমি জটিল রচনার বিপক্ষে আমি যা লিখি তা যদি সাধারণ পাঠক বুঝতে না পারে তবে আমার লেখার স্বার্থকতা কোথায় ? কিন্তু এই কথাটা অনেক লেখক বুঝতে চান না আমরা যা রচনা করি সাধারণ পাঠকদের বোধগম্যের দিকে দৃষ্টি রেখেই রচনা করা উচিত বলেই আমি মনে করি আমাদের ভাবা প্রয়োজন - আমরা কেন লিখছি , কার জন্য লিখছি ? যদি আমার লেখা সাধারণ পাঠক বুঝতে না পারে , তবে সেটা আমি কার জন্য লিখলাম ? আমরা জ্ঞান দিতে যাবো কাদের কে ? যাঁরা জ্ঞানী তাঁদের কে , নাকি যাঁরা জ্ঞানের আলোয় আলোকিত নন তাঁদের কে ?
আমাদের বেশীর ভাগ লেখকই দেখতে পাচ্ছি জ্ঞানী লোকদেরই জ্ঞান দান করতে স্বচেষ্ঠ ! তাঁরা লিখায় যেন বলতে চান - জ্ঞানী লোকরাই আমার লেখা পড়ুক , সাধারণ পাঠক আমার লেখা পড়ে কি বুঝবে , করবে কি ? এই হলো আমাদের লেখক সমাজের বেশীরভাগ লেখকদের একটা বিরাট রোগ তাঁরা সাধারণ পাঠকদের উপযোগী করে কোন কিছুই লিখতে চান না
স্কুল - কলেজ গঠিত হয় জ্ঞানহীনদের জ্ঞানদানের জন্য জ্ঞানীদের জন্য নয় আমি মনে করি লেখকদের এক একটি লেখা সমাজ সংশোধনের এক একটা হাতিয়ার যদি এই হাতিয়ার সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রেনা পৌঁছায় , তবে সমাজ সংশোধন হবে কি করে ? যারা হাতিয়ার বানায় তাদের কাছেই যদি হাতিয়ার রখে দেয়া হয় , তবে সেই হাতিয়ার বানানোর প্রয়োজনীয়তা কি আমার বুঝে আসেনা
আমরা এই যে কবিতা লিখি, গল্প লিখি , উপন্যাস লিখি -   তা কেন লিখি ? কাদের জন্য লিখি ? আমরা কি ভাবি - আমাদের লেখাগুলো পড়ে জ্ঞানহীন লোকেরা আমাদের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হোক ? আমরা কি ভাবি - আমাদের লেখাগুলো পড়ে একজন সাধারণ মানুষের কতটুকু উপকার হচ্ছে ? আমরা কি ভাবি - আমাদের লেখাগুলো আদৌ কোন সাধারণ মানুষ পড়তে পারছে কি না ?
আমাদের জীবন যেমন জটিল করে ফেলেছি আমরা  , তেমনই আমাদের লেখালেখির জগতও আধুনীকতার নামে জটিল করে ফেলেছি আজকের আমাদের লেখাগুলো হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষদের বোধগম্যের বাইরে ! সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের কোন উপকারেই আসছেনা আমাদের লেখা
আগে ঘরে ঘরে দেখতাম পুঁথি রাখা হতো সহজ সরল সহজবোধ্য সকলের বোধগম্য কাব্যবিশেষ বইয়ের নাম পুঁথি গ্রাম-গঞ্জে সবাই হারিকেন জ্বালিয়ে পুঁথি পড়তো মা - বোনরা গোল দিয়ে বসতো পুঁথির আড্ডায় ! এমন কোন ঘর ছিলোনা , যেখানে পুঁথি পরার আয়োজন ছিলোনা । আমি এখনও ধরে রেখেছি আমার ঘরের বুকসেল্ফে কয়েকটা পুঁথি আমার বাবার দিনের
আমার বাবা ছিলেন তদানিন্তন বার্মা ( বর্তমান মায়নামার ) -য় কর্মশেষে রাত্রে সঙ্গীদের কাছ থেকে সবুজসাথী বা বাল্যশিক্ষা পড়ুয়া একজন শিক্ষিত আর তিনিই পড়তেন পুঁথি - সয়ফুল মুল্লুক বদিউজ্জামান , দাতা হাতেম তাই , মাওলানা রুমীর মসনবী শরীফ ইত্যাদি আরও কত কি !
আর এখন আমাদের লেখাগুলো প্রতিটা ঘরে দূরে থাক গ্রামের মেট্রিক পাশ ছাত্রদের হাতে ও দেখতে পাইনা ! জিজ্ঞেস করলে বলে - যেটা বুঝিনা সেটা নিয়ে ঘাটাঘাটি করে লাভ কি ? কি সব কবিতা লেখে কবিরা , একটা শব্দও বুঝা যায়না !
এখন ভাবুন আমাদের লেখা কার জন্য ? আমরা কেন লিখি ফেইসবুকের লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারী দেখুনতো কয়জন পড়ছে আমাদের লেখা  ? কেন পড়ছেনা , আমরা কি জানতে ছেয়েছি কখনো  ? আমাদের লেখা আমরাই পড়ছি , আর কেউ পড়ছেনা , কেন ?
আসলে আমরা সবকিছুর মতো আমাদের লেখাকেও জটিল করে ফেলেছি , তাই আমাদের লেখার পাঠক শুধু আমরাই , অন্য কেহই আমাদের লেখা পড়ছেনা

ভুলত্রুটি মার্জনীয়

বুধবার, ৪ মে, ২০১১

আরবে মহিলা কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে



সৌদি আরবে মহিলা কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে 
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
-----------------------------------------------------

[ আমার এ লেখাটি বায়তুশ শরফের মুখপত্র মাসিক দ্বীন দুনিয়া , সেপ্টেম্বর ২০০৩ ইং সংখ্যায় “ মধ্যপ্রাচ্যে মহিলা কর্মী নিয়োগ ঃ বাংলাদেশের নবদিগন্ত উম্মোচন -ঃ একটা জরুরী মতামত ঃ- ’’ নামে পূর্বে প্রকাশিত ।
বর্তমান সরকারের পূণরায় সৌদি আরবে মহিলা কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষীতে লেখাটির কিছুটা সংশোধন করে পুণরায় জনসম্মুখে প্রকাশের ব্যবস্থা নেয়া হলো । ]
বর্তমান সরকারের সৌদি আরবে মহিলা কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত , বিগত সরকারের একটা ভুল সিদ্ধান্তের অনুরূপ সিদ্ধান্ত ।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে মহিলা কর্মী পাঠানোর সংবাদটি দেখে বিষ্ময় প্রকাশ ও আক্ষেপ করা ছাড়া উপায় নেই । মদিনাবাসী প্রায়ই প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিকদের একটাই বক্তব্য - ছিঃ ! কি করতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার ? তবে কি দেশটাকে ইজ্জত বিক্রির দেশ বা নারীর সতীত্ব রফতানীর দেশ বলে পুণরায় চিহ্নিত করতে যাচ্ছে সরকার ?
হ্যাঁ , নতুন করে সৌদি আরবে মহিলা কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত জানতে পেরে এ মন্তব্যটাই ছিল মদিাবাসী প্রবাসী বাংলাদেশীদের । কেউ কেউ বলছেন , চাঁদা সংগ্রহ করে দেশের প্রতিটি দৈনিক - সাপ্তাহিক - পাক্ষিক - মাসিক পত্রিকাসমুহ সহ প্রত্যেকটি টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রদানের মাধ্যমে এখানকার পরিস্থিতি সমপর্কে দেশের মা-বোনদের জানিয়ে দেবে । জানিয়ে দেয়া হবে মাতৃজাতের প্রতি বৈরী মনোভাবের কথা । জানিয়ে দেবে মাতৃজাতের উপর অসম্মানের কথা ।
আর এ কথাটিই সরকারের দৃষ্টিতে ফেলার জন্যই আমার এ লেখার উপস্থাপনা । বর্তমান সরকারের সৌদি আরবে মহিলা কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত , বিগত সরকারের একটা ভুল সিদ্ধান্তের অনুরূপ সিদ্ধান্ত । কারণ , যে খরচে বিদেশে মহিলা কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে , একই খরচে দেশের লক্ষ লক্ষ বেকার পুরুষ কর্মী পাঠিয়ে দেশের অপরাধ জগতের সদস্য কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই শ্রেয় মনে করছি । দেশের বেকার মহিলাদের বিদেশে না পাঠিয়ে স্বদেশেই তাদের জন্য কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে সেখানেই তাদের নিয়োগ দিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করার চিন্তা করা যেতে পারে । দেশের নারীদের সম্মানের সহিত দেশেই বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিয়ে দেশে অবস্থানকারী অপরাধ জগতের লক্ষ লক্ষ বেকার ও অপরাধীদের ধরে বিদেশে পাঠিয়ে বৈদেশীক মুদ্রার্জনের চিন্তা করাই উচিত বলে মনে করি এবং এটাই বর্তমান সরকারের জন্য বুদ্ধিমত্তার পরিচয় বহন করবে ।
যতটুকু জানি , যৌন হয়রানীর অভিযোগে এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে নারী পাচার বন্ধের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৮ ইং সালে একটি নির্বাহী আদেশ জারী করেছিলো । সে আদেশটি শিথিল করে তথাকথিত নারী পাচারের রাস্তাটি যৌন হয়রানীতে আবদ্ধ রাখার জন্য নারী কর্মী ( নারীর ইজ্জত ) রফতানীর একটি মতামত প্রকাশ হয়েছিলো বিগত সরকারের পক্ষ থেকে । উক্ত মতামতের ভিত্তিতে নাকি পঁয়ত্রিশ বৎসরের বেশী বয়সী মহিলারা তাদের স্বামীসহ ( তাদের সন্তান-সন্ততি বতিত ) বিদেশ গমন করতে পারবে । তাতে আরও মতামত ব্যক্ত করা হয়েছিলো যে , যারা যাবে তাদের বেতন পাঁচশত সৌদি রিয়াল , থাকা - খাওয়া ফ্রি ।
যা হোক , বিগত সরকারের মতামতের সংবাদটি না তুলে সে আঙ্গিকে কিছু অভিজ্ঞতালব্ধ মতামত পেশ করা একান্ত কর্তব্য বলে মনে করছি । নতুন করে সৌদি আরবে মহিলাকর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত , দেশের নারীদের অধিক উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে ভিন্নদেশে পাচার করে তাদেরকে দেহ ব্যবসায় ঠেলে দেয়ার শামিল হবে ।
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখযোগ্য যে , সৌদি আরবে মহিলা কর্মী পাঠানোর পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পতি অনুরোধ করবো , বর্তমানে বিদেশের মাটিতে যে সকল বাংলাদেশী মহিলারা ( সরকারী হিসাবে ) অবস্থান করছেন , তাদের প্রবাসী জীবনের ইতিবৃত্তি জানার জন্য । বিশেষ করে যারা গৃহপরিচারিকা , নার্স ও গার্মেন্টস কর্মী তাঁদের প্রবাসের জীবনালেখ্য জানা একান্ত প্রয়োজন আছে বলে মনে করি । বিভিন্ন রিপোর্টে দেখেছি , এঁরা বিদেশে নিজেদের জন্য যেমন আলাদা একটা পরিচয় তৈরী করতে পেরেছেন , ঠিক তেমনি অবদান রেখে যাচ্ছেন দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখার ক্ষেত্রে । উল্লেখিত কথাটি যদিও বাস্তব , কিন্তু তাঁরা যে একটা আলাদা পরিচয় তৈরী করেছেন , তাদের সে পরিচয়টা দেশে ঠিক কতটুকু গ্রহণীয় ?
আমরা যারা বিদেশে আছি , দেখছি বাংলাদেশী মহিলা যাঁরা নিম্নতম বেতনে গৃহপরিচারিকা , নার্স ও গার্মেন্টস কর্মী হিসাবে বিদেশে এসেছেন , তাঁরা তাঁদের আলাদা পরিচয়টা কিভাবে তৈরী করছেন । অনেক বাংলাদেশী মহিলা পাঁচশত রিয়াল বেতনে এসে খেতে না পেয়ে বারবণিতা সেজে এদেশের কঠরতম আইন ফাঁকি দিয়ে পুরুষদের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিয়ে ঘুরছে । তাদের বয়স কম না হলেও ৩০ থেকে ৪০ এর কোটায় ।
আমার পার্শ্ববর্তী এক লোক তেমনি কজন মহিলাকে জিজ্ঞেস করেছিলো , তার বাড়ি কোথায় ? তার সাথে বিয়ে বসবে কিনা ? তখন মহিলাটি নাকি বলেছিলো - “ আমার বাড়ি কোথায় তা দিয়ে আপনার কাম কি ? প্রয়োজন থাকলে ভিতরে নেন , না চাইলে বলুন চলে যাই । আমি নাম-ঠিকানা বলবো , আর আপনি বাংলাদেশে গিয়ে তা প্রচার করবেন । সবাই শুনবে আমার বিরত্বগাঁথা । আমি বাংলাদেশে গেলে নিজ বাড়িতে উঠতে না পারার একটা বিহীত ব্যবস্থা হয়ে যাবে , এই তো ? ’’ কথাগুলো বলেই নাকি মহিলাটা তাড়াতাড়ি চলে গিয়েছিলো !
এতো গেলো বাংলাদেশী মহিলা কর্মীদের একটি দিক পরিচিতি । আর একটা দিকের কথা বলি - ইন্দোনেশিয়ার কিছু মহিলা কর্মীদের দেখা-শুনার অভিজ্ঞতা দিয়ে । ইন্দোনেশিা থেকে আসা কিছু মহিলা কর্মীর কথা জানি , যারা সৌদিদের বাসায় কাজ করে । বয়সও তাদের কম না । ৩০ / ৩৫ তো হবেই , এমনকি ৪০ / ৪৫ ও হতে পারে । যদিও ধরা যায়না তাদের বয়স । শুনেছি , এদেশে আসতে তাদেরকে জন্মনিরোধক মেয়াদী ভ্যাকসিন দিয়ে প্রবেশ করতে হয় সৌদিতে । প্রতিটি মহিলা আসেও সেরূপ ভ্যাকসিন গ্রহণ করে । এখানে এসে শুরু হয় তাদের কাজ । বাসায় যদি কোন বৃদ্ধ পুরুষও থাকে তবে ঐ মহিলা কর্মী তার হাত থেকেও নিস্তার পায়না । এমনতর অবস্থা প্রায় শুনা যায় পুরুষ কর্মীদের বেলায়ও । তারা ফাঁদে পড়ে বাড়ির কচি - যুবা এমনকি মধ্যবয়স্কা মহিলারও । শেষে অতিষ্ঠ হয়ে নিজেই টাকা পয়সা ফেলে অন্যত্র চলে গেছে পালিয়ে ।
সৌদির আইনগত কারনে অনেক বিবাহযোগ্য ছেলে - মেয়ের বিয়ের বয়স পেরিয়ে গেলেও তারা টাকার অভাবে বিয়ের পীড়িতে বসতে পারছেনা । কিন্তু , যৌবন কতদিন ধরে রাখা যায় ? ফল-ফ্রুটের শক্তিকে কতদিন দমন রাখা যায় ? তাই তারা পরিবারের কর্তাকে মহিলা কর্মী বা পুরুষ কর্মী সংগ্রহ করার জন্য ভিসা বের করতে চাপ সৃষ্টি করে । ঘরর ভতরগত অন্যায় কর্ম সরকার দখতে পায়না । তাইতো , কর্মী এনে ঐ কর্মীর উপর ছড়াও হতে পারে বিবাহযোগ্য ছেলে-মেয়েরা । ঐ কর্মী জওয়ান হউক কিংবা বুড়ো , তাতে আপত্তি নেই ।
আর মহিলা কর্মীর সাথে যদি স্বামীও বিদেশ গমন করে , তবে তাতে যে ঐ মহিলা কর্মী নিস্তার পাবে তেমন আশা বৃথা বৈ কিছু নয় । একটা কথা আছে - বিদেশ হলো বি-প্যাঁচ বা পদে পদে বিপদ । তাই বলছি - কোন মহিলা কর্মীর স্বামী সাথে আসলেও সে স্বামী এখানে এসে সৌদিদের কেনা দাস বা গোলামের মতো হয়ে যায় । সৌদিদের ইচ্ছার উপরই নির্ভর করবে তাদের স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় সত্ত্বা । এক্ষেত্রে তার সামনে তার স্ত্রীর সাথে সৌদি পুরুষ যদি যা তা ব্যবহার করে করে তবে সে স্বামী নির্বাক হয়ে চেয়ে থাকবে । তার কিছুই করার ক্ষমতা থাকবেনা । কিছু করতে চাইলে নয়তো তার জেল , নয়তো তার দেশ ফেরত এ দু’টির একটি নির্ধারিত ।
২০০৩ সালে এমনই একটি ঘটনা ঘটেছিল বলে শুনেছি মক্কায় । স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই সৌদিতে কর্ম নিয়ে এসেছিলো । কিছুদিন পর এক ইন্দোনেশিয়ান মহিলা কর্মীর সাথে সম্পর্কের অভিযোগ তুলে তার মালিক ঐ স্বামীকে জেলে ভরে দেয় । স্ত্রীর চিন্তায় স্বামী ঐ জেলেই মৃত্যুবরণ করে ।
বর্তমান সরকার কত বেতনে মহিলা কর্মী সৌদি আরবে পাঠাতে যাচ্ছে জানা নেই । বিগত সরকারের সিদ্ধান্তানুযায়ী যদি পাঁচশত রিয়াল বেতন নির্ধারণ করে মহিলা কর্মী পাঠায় তবে ঐ কর্মীরা যে কয়েকদিন পর বাধ্য হয়ে বিপথে পা বাড়াবে তার শতভাগ গ্যারান্টি দিতে আমাদের আপত্তি নেই । কেননা , সৌদিরা কর্মীদের যত ভালো খানাই দিক না কেন , ঐ কর্মীরা সে খানা খেয়ে জীবন ধারণ করতে সমর্থ হবেনা । সৌদিতে একজন সর্বনিম্ন বেতনধারী ব্যক্তির থাকা - খাওয়া - আনুসাঙ্গিক খরচ বাবদ নুন্যতম ৪০০ / ৬০০ রিয়াল চলে যায় । তারপর দুই বৎসর পর তার টিকেট লাগবে , লাগবে ইকামা , লাগবে ব্যগেজ ভরার খরচ , লাগবে বসন - ভুষন । এই খরচ ঐ কর্মী কিভাবে , কোথ্থেকে জোগাড় করবে ? তাই , বাধ্য হয়ে ঐ কর্মী অনৈতিক কর্মে জড়িত হয়ে যাবেই ।
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ না করে পারছিনা । বাংলাদেশের শ্রমিকরা তাদের সরকারের অদূরদর্শী ও অকার্যকর বৈদেশীক শ্রম বিনিময় ব্যবস্থার কারণে বিদেশের মাটিতে এমনই অবহেলিত - পদদলিত যে , যেন তারা মানুষই নয় । যার ফলে তাদের উপর নানা রকম অত্যাচার - উৎপীড়ন করতেও বিদেশীরা ছাড়েনা । পথের কুকুর - বিড়ালও বাংলাদেশের শ্রমিকদের চেয়ে উত্তম সৌদিদের কাছে । যদি তা না হতো সৌদিরা যা না খায় , ঝুঁটা , মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার গুলো বাংলাদেশীদের খেতে বলতোনা । এখানে এসে অন্যরা যে কাজ করে ১২০০ রিয়াল বেতন পায় , সে একই কাজে ডাবল খাটুনি দিয়েও বাংলাদেশীরা পায় ২৫০ রিয়াল ( বলদিয়ার রোড ক্লিনার কর্মী ) !
একমাত্র বাংলাদেশীদের দ্বারাই যেমন - তেমন কর্ম আদায় করে নিতে পারে বিদেশীরা । তাছাড়া , যেখানে ইন্দোনেশিয়া , ফিলিপাইন , শ্রীলন্কা , ইন্ডিয়া , পাকিস্তান ইত্যাদি দেশের শ্রমিকরা ১০০০ রিয়ালের বেতনে চাকরী করতে আসছে , সেখানে একই কর্মে একমাত্র বাংলাদেশীরাই আসে ২৫০ / ৫০০ রিয়ালের বেতনে চাকরী করতে ! আর আসার পর বলতে বাধ্য হয় “ কেন আসলাম ’’ ? এখানে এসেই যখন পড়ে , জীবন বাঁচানোর তাগিদে হলেও যেমন তেমন কাজ করতে বাধ্য হয় । সময় মত দেশের মুখ দেখতে পারেনা । জীবন - যৌবন শেষ করে যা ও একদিন দেশে ফেরে তখন তারা পরিবারের সাথে খাঁপ খেতে পারেনা । চলে অশান্তির দাবানল সমগ্র পরিবারে । দেখা দেয় তখন বিবিধ অনাকান্খিত ঘটনাবলী । তাই , সকলের প্রতি পরামর্শ , কোন কর্মী যাতে ১২০০ রিয়ালের কম বেতনে সৌদিতে পাড়ি না জমায় ।
সবচেয়ে জরুরী একটা বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুধাবনে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে , দেশে বর্তমানে বেকার কর্মক্ষম পুরুষের সংখ্যা কত তার পরিসংখ্যান এ মুহূর্তে আমার জানা নেই । তবে এটা জানি , লক্ষ লক্ষ এমনকি দেশের মোট জনসংখ্যার অধিকাংশ পুরুষই দেশের সর্বত্র বেকার ছন্নছাড়া জীবন নিয়ে পথে পথে ঘুরছে । চাকরীর আশায় বিভিন্ন অফিস আদালতে গিয়ে গিয়ে ধর্ণা দিচ্ছে , চাকরী পাচ্ছেনা । চাকরী না পেয়ে জীবন বাঁচানোর তাগিদে অস্ত্র হাতে নিয়ে পথে দাঁড়াচ্ছে । কেড়ে নিচ্ছে পূঁজিপতিদের ধন , করছে সম্পদশালীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় , কেড়ে নিচ্ছে সুন্দর সুন্দর জীবনগুলো । কেন ? একটিই কারণ , বেকারত্বের দূর্বীসহ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবার লক্ষ্য । তাদের জীবনকে সুন্দর রূপে বিকশিত করার অদম্য অভিপ্রায় । একমুঠো অন্নের জন্য , পিতা - মাতা - ভাই - বোন - স্ত্রী - সন্তানদের পেঠে একমুঠো অন্ন প্রদানের জন্য ।
দেশের অভ্যান্তরে এতগুলো বেকার প্রতিপালন করে ঘরের ভিতর যারা কর্মরত মহিলা তাদেরকে বিদেশ পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারের এত তোড়জোড় কেন ? তবে কি বাংলাদেশ সরকার নারীদের ইজ্জত রফ্তানীর মত আরও একটা দূর্নাম কুড়াতে স্বচেষ্ঠ হচ্ছে ? নাকি বেকার পুরুষদের দেশে বেকার করে রেখে দেশের নোংরা রাজনীতিতে তাদেরকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের লক্ষ্যে এ ধরণের সিদ্ধান্ত ? এ হলো সচেতন নাগরিকদের মন আলোড়িত একটা প্রশ্ন ।
যে সিদ্ধান্তে মহিলা কর্মী বিদেশে পাঠানোর মাধ্যমে বৈদেশীক মুদ্রার্জনের লক্ষ্য নিরূপিত হচ্ছে , সে সিদ্ধান্তে দেশের বেকার পুরুষ কর্মী পাঠিয়ে সে লক্ষ্য কি অর্জন করা যায়না ? মহিলা কর্মীদের চেয়ে আরো অধিক বৈদেশীক মুদ্রার্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকাকে স্বচল করতে স্বচেষ্ঠ হবে ।
অতএব সার্বিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ থেকে কোন মহিলাকর্মী বিদেশে না পাঠাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেশের নাগরিক হিসাবে আমরা বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি । আশা করছি , বিদেশে মহিলা কর্মী না পাঠানোর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন । দেশের সম্মান রক্ষার্থে সরকার বিদেশে মহিলা কর্মী পাঠানোর ব্যাপারে সুষ্ঠ ও বিবেক সম্পন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে স্বচেষ্ঠ হবেন । এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শুভবুদ্ধি ও সৎবিবেক জাগ্রত হবে , এ কামনাই করছি ।
[ বিঃ দ্রঃ আমার এ লেখা আরব জাতিকে কটাক্ষ ও হেয় প্রতিপন্ন করতে নয় , আরবদেশে যা ঘটেছে , যা ঘটমান , যা ঘটিতব্য সেদিকে আলোকপাত করেই লেখা । ] 

=================================================================

সোমবার, ২ মে, ২০১১

একটাই কষ্ট





একটাই কষ্ট   
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী 
---------------------------- 

এই বুকে একটাই কষ্ট -
হলোনা কেউ আমার স্বজন ;
কেটে গেলো জীবনটা মোর
স্বজনদের আপন ভেবে -
করেছে আমায় তারা সদা বিভাজন !

থাকতে চেয়েছি স্বজনদের মাঝে
সবাই ভেবেছে আমায় পর ,
গিয়েছি তাদের কাছে আপন হয়ে -
করেছে আমায় তারা মনের বাহির
দিয়েছে থাপ্পর !

স্বজন বিহীন একলা জীবন
বয়ে বেড়াই এই আমি ,
মনের কষ্ট মনেই থাকে
জানে শুধু মোর অন্তর্যামী ।
=============================  

বুধবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১১

ফেইসবুকে মেধাচোরদের উৎপাত





ফেইসবুকে মেধাচোরদের উৎপাত 
 ( FACEBOOK A MEDHACHORDER UTPAT )
-----------------------------------------------  


ফেইসবুকে মেধাচোরদের উৎপাত বেড়েই চলেছে । তারা অন্যজনের লেখাগুলো নিজেদের নামে প্রকাশ করে মূল লেখকদের হয়রানী করছে , তাদের ভুল / অন্যায় ধরিয়ে দেবার পরও তারা ন্যাক্কারজনক কাজটি করে যাচ্ছে । যাঁরা ফেইসবুকে লেখালেখি করছেন প্লীজ এইসব মেধাচোরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এগিয়ে আসুন ।
আজ আমার কাছে তেমনি একজন ধরা পড়েছে , যে আমার কিছু লেখা তার ওয়ালে প্রকাশ করেছে । আমি তাকে মন্তব্য স্বরূপ অবহিত করলে সে আমার লেখাগুলো তার নামে প্রকাশ্য রেখে আমার   মন্তব্যগুলো ডিলেট করে দেয় । রানা আহমেদ ( Rana Ahmed ) নামের এই ব্যাক্তি একজন ভাল শিক্ষিত হওয়া সত্বেও মেধাচুরির মত অপকর্মটি করে যাচ্ছে । এইভাবে আরও কয়েকজন বিভিন্ন গ্রুপে ধরা পড়েছে । এইসব মেধাচোরদের বিরুদ্ধে এ্যাকশান গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করি ।

FACEBOOK A MEDHACHORDER UTPAT BEREI CHOLECHE , TARA ANNER LEKHAGULU NIJEDER NAME PROKASH KORE MUL LEKHOKDER HOYRANI KORCHE , TADER VUL / ANNAY  DHORIEY DEBAR POR O TARA NEKKARJONOK KAJTI KORE JACCHE . JARA FACEBOOK A LELKALEKHI KORCHEN PLEASE AEISOB MEDHACHORDER BIRUDDHE BEBOSTA NITE AGIEY ASUN.
AAJ AMAR KACHE TEMNI AKJON DHORA PORECHE , JE AMAR KICHU LEKHA TAR WALL A PROKASH KORECHE .AMI TAKE MONTOBBO SHORUP ABOHITO KORLE SE AMAR LEKHAGULU TAR NAME PROKASSHO REKHE AMAR MONTOBBOGULU DELATE KORE DEY. " Rana Ahmed " NAMER AEI BEKTI AKJON VALO SHIKKHITO HOWA SOTTE O MEDHACHOURIR MOTO APOKORMOTI KORE JACCHE. AEI VABE R O KOYEKJON BIVINNO GROUP A DHORA PORECHE. AEISOB MEDHACHORDER BIRUDDHE ACTION GROHON KORA UCHIT BOLE MONE KORI .
========================================================================= 

বুধবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১১

সকলকে বাংলা নতুন বছরের শুভেচ্ছা








সকলকে বাংলা নতুন বছরের শুভেচ্ছা 
-------------------------------------------------------- 

নতুন বছরের যাত্রালগ্নে সকলের জীবনযাত্রা সূচীত হোক নতুন ধারায়  সুখ-শান্তির আয়োজনে । ভরে উঠুকসকলের জীবন আনন্দের সমারোহে । সকলের চিন্তা ও মননে উদ্ভাসিত হোক মানবিক কল্যান । মানবতার তরে নব বলে বলিয়ান হয়ে নতুন রূপে ধরা দিক সকলেরআপন বিবেক । সকলের হৃদয় পরিণত হোক দেশপ্রেমের ভান্ডারে । ভরপুর হোক সকলের মন সকলের প্রতি ভালোবাসায় । 
================================================================= 

বৃহস্পতিবার, ১৭ মার্চ, ২০১১

সরকার বা জনপ্রতিনিধির শাসন কর্তৃত্বের অধিকার বনাম জনগন বা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার



সরকার বা জনপ্রতিনিধির শাসন কর্তৃত্বের অধিকার 
বনাম 
জনগন বা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার 
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
============


মানুষ সামাজিক জীব । তাই ,মানুষ সমাজ গড়ে । সমাজের অধিবাসীদেরসুস্থ ও স্বাধীনরূপে জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজন একটি সমাজ , একটি রাস্ট্র । সমাজের মানুষ বিশেষ বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে । সামাজিক সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান হলো রাস্ট্র ।

রাস্ট্র হলো একটি সার্বভৌম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান । রাস্ট্র চিন্তাবিদ অধ্যাপক গার্নারের মতে - "অত্যাধিক ব্যাক্তি নিয়ে গঠিত এমনই একটি জনসমাজ - যা নির্দিষ্ঠ ভুখণ্ডে একটি সুসংগঠিত সরকার নিয়ে বহিঃশত্রুর নিয়ন্ত্রনমক্ত অবস্থায় বসবাস করে এবং যার প্রতি জনগণ অনুগত - তাই হলো রাস্ট্র"। রাস্ট্রবিজ্ঞানের জনক এরিষ্টটলের মতে - "কিছু সংখ্যক পরিবার ও গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত সংগঠণই হলো রাষ্ট্র "।

সুতরাং , একটি রাস্ট্রগঠনে প্রয়োজন চারটি উপাদান । যথা - জনসমষ্ঠি , নির্দিষ্ঠ ভুখণ্ড , সার্বভৌমত্ব ও সরকার । এ চারটি উপাদান দ্বারা গঠিত বলেই রাস্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রাণী । আর উক্ত চারটি উপাদান হলো রাস্ট্র নামক প্রানীটির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ।

একটি প্রাণীর যে কোন একটি অঙ্গ অকেজো হয়ে গেলে যেমন সে প্রাণী চলতে পারেনা । তেমনি একটি রাস্ট্র নামক রাজনৈতিক প্রাণীর চারটি উপাদান বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যে কোন একটি অকেজো হয়ে গলে সে রাস্ট্র চলতে পারেনা বা রাস্ট্রগঠনের উপাদানগুলোর যে কোন একটিকে বাদ দিয়ে কোন রাস্ট্রের অস্থিত্ব কল্পনা করা যায়না ।

পৃথিবীর রাস্ট্রগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি রাস্ট্র হলো বাংলাদেশ । একটি রাস্ট্র গঠনে যে চারটি উপাদান প্রয়োজন সেই চারটি উপাদান দ্বারা গঠিত বলেই বাংলাদেশ নামক ছোট্ট ভূ-খন্ডটি একটি রাস্ট্র । এর রয়েছে বিপুল পরিমান জনগোষ্ঠী , রয়েছে নিদ্রিষ্ঠ ভু-খন্ড , রয়েছে সরকার আরও রয়েছে সার্বভৌমত্ব ।

কিন্তু ইদানিং মনে হচ্ছে , বাংলাদেশ নামক রাস্ট্রটি কিছু সংখ্যক ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর দলপতিদের দ্বারা রাস্ট্রীয় সংজ্ঞা থেকে বিচ্ছিন্ন হবার ষড়যন্ত্রের ফাদে আঁটকে গেছে । তারা যেন চাইছে জনমানবহীন বা জনগোষ্ঠীহীন একটি রাস্ট্র । যেখানে থাকবে একটা ক্ষমতার গদি , একটা ভু-খন্ড আর সার্বভৌমত্ব । যেখানে তাদের পরিবার ব্যতিত বা তাদের দলের লোক ব্যতিত অন্য কোন জনগন থাকতে পারবেনা । তাই , তারা জনগনের তোয়াক্কা না করে শুধুমাত্র রাস্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করার মানসে ও রাস্ট্রীয় সম্পদ গ্রাস করার মহাপরিকল্পনায় অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে । আর জনগনের মৌলিক অধিকার বা চাহিদার পাত্তা না দিয়ে তাদের নিয়ে খেলছে নষ্ট রাজনীতির নোংরা খেলা ।

অথচ , যেখানে রাস্ট্র গঠনের জন্য জনগন অপরিহার্য , যেখানে জনসমষ্ঠি রাস্ট্রের প্রাণস্বরূপ , সেখানে সে রাস্ট্রে জনগনের কোন মূল্য নেই । নেই জনসমষ্ঠির প্রতি সরকারের কোন দরদ । যে জনসমষ্ঠি দ্বারা নির্বাচিত হয় সরকার , সে সরকার নির্বাচিত হবার পর যেন মনে করে জনগনতো কিছুইনা , রাস্ট্রই তাদের সব !

যেহেতু , সরকারবিহীন যেমন রাস্ট্র অচল , তেমনি জনগণ ব্যতিত সরকারও অচল । জনগণের প্রয়জনে যেমন সরকার , তেমনি সরকারের ও প্রয়োজন জনগণের । সেহেতু , সরকারকে মনে রাখতে হবে - তার সরকারের কর্তৃত্বের মূলেই হলো জনগণ । জনগণের প্রতিনিধিই হলো সরকার ।

তাই , সরকারকে জনগণের কথা ভাবতে হবে । জনসমষ্ঠির কলানে সরকারকে দৃষ্টি দিতে হবে । সরকারকে জনসমষ্ঠির মৌলিক চাহিদা পুরণ বা অধিকার রক্ষায় আত্মনিয়োগ করতে হবে । কেননা , জনগণের মৌলিক চাহিদা পুরণ বা অধিকার রক্ষার জন্যই সরকারর শাসন করার অধিকার জন্মে বা সরকারের উপর জনগণ কর্তৃক শাসনকর্তৃত্বের ভার অর্পিত হয় ।

ইসলামী বিধান অনুসারে মানুষের মৌলিক চাহিদা বা অধিকার ছয়টি । যথা - অন্ন , বস্ত্র , বাসস্থান , চিকিৎসা , নিরাপত্তা ও শিক্ষা । আর দেশের সার্বিক কল্যানে আরও একটি চাহিদা বা অধিকার নিরূপন করা যায় , তা হলো - কর্মসৃষ্ঠি বা বেকারত্ব দূরীকরন ।

যে লোক , যে সংগঠন , যে শাসক , যে সরকার উপরোক্ত মানুষের মৌলিক সাতটি চাহিদা পুরণ করতে পারবে ; সে লোক , সে সংগঠন , সে শাসক , সে সরকার চিরকাল মনের মণিকোঠায় জাগ্রত থাকবে । অক্ষুন্ন থাকবে তার ক্ষমতার সম্মান । শ্রদ্ধা করবে জনগণ তার ক্ষমতার শক্তিকে । সর্বোপরি , তার কর্তৃত্বের অবস্থানকে সুদৃঢ় রাখতে জনগণই ঢাল হিসাবে ব্যবহৃত হবে স্ব-ইচ্ছার ভিত্তিতে । তাই , যে লোক , যে সংগঠন , যে শাসক , যে সরকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করনে নির্বাচিত হবে , তাকে জনগণের উক্ত সাতটি মৌলিক চাহিদা পুরণ বা অধিকার রক্ষায় প্রাণপণ লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে হবে , জনগণ ধ্বংসের লড়াইয়ে নয় ।

মানুষের প্রথম ও প্রধান মৌলিক চাহিদা বা অধিকার হলো - অন্ন সংস্থান বা আহারের ব্যবস্থা ঃ

মানুষের ভুখা নিবারনের বা বুভুক্ষ মানুষদের জন্য প্রয়োজন অন্ন সংস্থান । তাই , জনপ্রতিধিকে ভাবতে হবে , কিভাবে জনগণের মুখে আহার তোলা যায় , কিভাবে জনগণ আহারের সুষ্ঠব্যবস্থা করতে পারে । এলাকা ভিত্তিক জনপ্রতিনিধির উচিত হবে , তার এলাকায় জনগণের সুষ্ঠরূপে অন্নসংস্থান হচ্ছে কিনা তার দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেয়া । জনগণের আহার সংস্থানের পথে প্রতিবন্ধকতা দুরীকরনে জনপ্রতিনিধি কর্তৃক ব্যবস্থা নিতে হবে ।

বাংলাদেশ নামক এ রাস্ট্রটির প্রায়ই সকল জনগণই একমুঠো ভাতের ব্যবস্থাপনায় সময় ক্ষ্যাপন করে । একমুঠো ভাতের জন্য হাহাকার করছে এ রাস্ট্রের প্রায়ই জনগণ । অথচ জনপ্রতিনিধিত্বকারী সরকারের সেদিকে দৃ্টি নেই ।

বর্তমানে এক কেজি চাউলের দাম যদি হয় নিম্নতম ২৫/৩০ টাকা , একজন খেটে খাওয়া মানুষের বেতন যদি হয় ২০০ টাকা দৈনিক , আর যদি তার থাকে পাঁচ সদস্যের পরিবার [ পরিবারের আহার যোগানদানকারী একমাত্র ব্যক্তি , তার ( কর্ম অক্ষম) বৃদ্ধ মা-বাবা , ( কর্মসক্ষম সদা পারিবারিক কর্মে ব্যস্ত ) তার স্ত্রী তার দুই সন্তান ( লেখা-পড়ায় ব্যস্ত । যেহেতু ছেলে হোক মেয়ে হোক দুটি সন্তানই যথেষ্ঠ - সরকারের নির্ধারিত ) ] তবে কিভাবে সে তার অন্ন সংস্থান করবে ? যে সরকার জনগণকে অভুক্ত রাখে সে সরকারের প্রতি জনগণ কিভাবে সন্তুষ্ট থাকবে ?

বর্তানে লক্ষ্য করা যায় - জাতীয় বাজেটে যে সব জিনিসের দাম বাড়ানো হয় সে বই গরীবদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস , যা তারা ক্রয় না করলে পরিবার অচল হয়ে পড়বে । আর যে সব জিনিসের দাম কমানো হয় তার সবই উচ্চবিলাসী উঁচু মহলে অবস্থানকারী কোটিপতি তথা মন্ত্রীমিনিষ্টারদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস , যা ক্রয় না করলে তাদের কোটিপতি পদবীর সম্মানে বা মন্ত্রীমিনিষ্টারদের ইগোতে আঘাত হানবে বলে তারা মনে করে ।

জনগণের সন্তুষ্টি অর্জনে সরকারকে গরীব মারার বাজেট না করে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে এমন বাজেট করতে হবে । জনপ্রতিনিকে জনগণের সুষ্ঠ আহার ব্যবস্থাপনার জন্য প্রথমেই চাউলের দাম কমানোর ব্যবস্থা নিতে হবে , সেই সাথে নিত্য প্রয়োজনীয় আনুসাঙ্গিক খাদ্যসামগ্রীরও দাম কমানোর ব্যবস্থা নিতে হবে । জনপ্রতিনিধির জন্য এটাই হবে জনগণের প্রধান মৌলিক চাহিদা পুরণ বা অধিকার রক্ষার কর্মসুচী ।

প্রাথমিক ভাবে এই একটা মাত্র চাহিদা বা অধিকার রক্ষা বা নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা নিতে পারলেই জনপ্রতিনিধি জনগণের বাহবা কুড়াবেন । জনপ্রতিনিধি হবেন জনগণর মাথার মুকট ।

জনপ্রতিনিধিকে ভাবতে হবে ৬০০০ ( ছয় হাজার ) টাকা বেতনধারী জনগণের আর্থিক ব্যবস্থাপনার কথা , ৬০০০০ ( ষাট হাজার ) টাকা বেতনধারীর ব্যবস্থাপনার কথা নয় । কেননা , বাংলাদেশ নামক রাস্ট্রটির বেশীরভাগই জনগণ অত্যন্ত গরীব । ধনী যারা আছে তারা অল্পসংখ্যক । তাই , বেশীরভাগ গরীবদের আর্থিক অসচ্ছলতার দিক বিবেচনায় এনে জাতীয় বাজেট নির্ধারন করতে হবে । ধনীদের আর্থিক স্বচ্ছলতার দিকবিবেচনা করে নয় । তবেই হবেন জনপ্রতিনিধিগণ জনগণের আত্মার সাথী ।

মানুষের দ্বিতীয় মৌলিক চাহিদা বা অধিকার হলো - বস্ত্রের সংস্থান ঃ

মানুষের লজ্জাস্থান ঢাকবার জন্য প্রয়োজন বস্ত্র । বাংলাদেশ নামক রাস্ট্রটির পথে ঘাটে দৃষ্টি রাখলেই দেখা যায় দেশের এক বৃহদাংশ জনসমষ্ঠি বস্ত্রের অভাবে কিভাবে কালযাপন করছে । অগণিত মা - বোনদের লজ্জাস্থান ঢাকবার প্রয়োজনীয় বস্ত্রটি না থাকাতে ঘরের আবদ্ধ কুঠুরীতে আবদ্ধ থাকতে হচ্ছে । রাজধানীর ফুটপাত বা রেললাইনের ধারে ভাসমান সংসার গুলোর দিকে দৃষ্টি রাখলেই বুঝা যায় ওখানকার মা-বোন গুলোর নগ্নদেহ কিভাবে সভ্যসমাজের (?) পরিবেশ অলন্কৃত (?) করছে । এভাবেই দেশের প্রতিটি জনপদে শোভা পাচ্ছে বস্ত্রের অভাবে নারীজাতির অসম্মানতা , বণীআদমদের নগ্নদেহের প্রদর্শনী ।

তাই , জনপ্রতিনিধিকে ভাবতে হবে বস্ত্রহীন জনগনের মাঝে বস্ত্রের সুষ্ঠ সংস্থান কিভাবে করা যায় ? এ জন্য বস্ত্রের মূল্য কমানোর ব্যবস্থা নিতে হবে । এলাকা ভিত্তিক বস্তহীনদের কাছে বস্ত্রের সুস্ঠ ব্যবস্থাপনায় জনপ্রতিনিধির আত্মনিয়োগ জনগণের বস্ত্রাধিকার রক্ষা বা জনগণের দ্বিতীয় মৌলিক চাহিদা বা অধিকার রক্ষার কর্মসূচী হিবে প্রতীয়মান হবে ।

মানুষের তৃতীয় মৌলিক চাহিদা বা অধিকার হলো - বাসস্থানের সংস্থান ঃ

মানুষের মাথা গুঁজার ঠাই হিসাবে প্রয়োজন একটা বাসস্থান । যেখানে তারা শান্তিতে নিদ্রাযাপন করতে পারবে । বাংলাদেশ নামক রাস্ট্রটির পল্লীঅঞ্চল , শহরতলী এবং শহরগুলোর রাস্তার ধারে দৃ্ষ্টি দিলে দেখা যায় অগণিত বণি আদম কিভাবে বসতিগড়ে তোলে দিনযাপন করছে । তাদের না আছে ঘর , না আছে সমাজ আর না আছে শান্তিতে নিদ্রা যাবার পরিবেশ ।

তাই , জনপ্রতিনিধিকে ভাবতে হবে কিভাবে বাসস্থানহীন জনগণের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করা যায় ? এজন্য বাসস্থান নির্মানের সকল সামগ্রীর মূল্য কমানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এলাকা ভিত্তিক বাসস্থানহীন জনগণের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করনে জনপ্রতিনিধির পদচারণা জনগণের তৃতীয় মৌলিক চাহিদা বা অধিকার রক্ষার কর্মসূচী হিসাবে বিবেচিত হবে ।

মানুষের চতুর্থ মৌলিক চাহিদা বা অধিকার হলো - চিকিৎসা প্রাপ্তি ঃ

মানুষের অসুস্থতাজনিত সমস্যা থেকে নিস্কৃতি পাবার জন্য প্রয়োজন চিকিৎসা সেবা । দেশের বৃহদাংশ জনগণ পয়োজনীয় এই চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত । বিবিধ অসুবিধার কারনে এসব জনগণ সুচিকিৎসার অভাবে বিভিন্ন দূরারোগ্য রোগে ভুগছে , পতিত হচ্ছে মৃত্যুমুখেও ।

একটা তথ্য এখানে না দিলেই নয় । প্রথমেই বলতে হয় দেশের ডাক্তারদের কমার্শিয়াল হয়ে যাওয়াতে বা ডাক্তারদের সেবানীতি বাদ দিয়ে বানিজ্যনীতির মুখাপেক্ষী হয়ে যাওয়াতে দেশের জনগণ আজ চিকিৎসা সেবার কাছে অসহায় । নামধারী চিকিৎসা সেবার কাছে বন্দী আজ মানবতা । বঞ্চিত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা থেকে দেশের লক্ষ লক্ষ জনগণ । অনির্ধারিত সিরিয়াল ফি এবং ৩০০ টাকা ভিজিট দিয়ে ডাক্তারের টেবিল পর্যন্ত পৌঁছলেই ধরিয়ে দেয়া হয় একটা রিসিট প্যাথলজি টেস্টের জন্য , সেটা জ্বর হোক কিংবা সর্দি-কাশি । টেস্ট করতেই হবে নয়তো ডাক্তার কিছুই বুঝতে পারবেননা ! টেস্ট আবার একটাও না কয়েকটা । সব মিলিয়ে ১০০০ টাকার উপর থেকে নিয়ে সাধারণ চিকিৎসার জন্য ১০০০০ টাকা পর্যন্ত প্যাথলজি টেস্ট । এই টেস্ট রিপোর্ট ডাক্তারের কছে নিয়ে যাবার পরও ওনার সঠিক রোগ চেনা হয়না ! প্রেসক্রিপশনে লিখতে থাকেন ঔষধের ফিরিস্তি । সর্দি জ্বরের জন্য লেখা হয় ৫০০ থেকে ২০০০ টাকার ঔষধ । সবগুলো খাওয়ার পর অবনতি ছাড়া কোন উন্নতি না হলে আবার প্রথমবারের মতো ডাক্তারের কছে গমন । এভাবে তিন চারবারে ৫/১০ হাজার টাকার ঔষধ খাবার পর কিছু না হলে আবার নতুন করে টেস্ট । এ শুধু সর্দি জ্বরের জন্য । এটা শুধু ডাক্তারদের বর্তমান সেবানীতির বদলে বানিজ্যনীতির কথা বলছি । তাঁরা এতই বানিজ্যিক হয়ে গেছেন যে, রোগীদের ভালো করার দিকে তাদের নজর নেই , তাদের নজর কমিশনের দিকে । তাদের প্রথম কমিশন ডায়াগনিস বা প্যাথলজি সেন্টার থেকে । দ্বিতীয় কমিশন ঔষধ কোম্পানীগুলো থেকে । তৃতীয় কমিশন প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো থেকে ।

তাই , আজ ডাক্তারের অভাব নেই , বেঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে , উঠছে রোগীদের চিকিৎসা সেবাদানের নামে প্যাথলজি সেন্টার - ডায়াগনিস সেন্টার - প্রাইভেট ক্লিনিক । তিন মাসের কোর্স , ছয় মাসের কোর্স , এক বৎসরের প্রাইভেট কোর্সে নামধারী ডাক্তার হয়ে রোগীদের নিয়ে জমজমাট ব্যবসায় মেতে উঠছে , উঠেছে সেইসব নামধারী ডাক্তার । যারা বিদেশের ডিগ্রীধারী ডাক্তার তারাতো নেমেছে প্রতিযোগিতায় শহরের অলিগলিতে বড় বড় সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে রোগীদের মনোযোগ আকর্ষণে । কোনমতে তারা একটা রোগী ধরতে পারলেই তাদের এক বৎসরের কামাই হয়ে যায় , আর ঐ রোগী চলে যায় চির বাসস্থানে । এই হলো বর্তানকার চিকিৎসা সেবা !

তাই , জনপ্রতিনিধিকে ভাবতে হবে কিভাবে অসুস্থ জনগণের জন্য চিকিৎসা সেবা প্রদানের সুব্যবস্থা করা যায় ? এজন্য সহজলভ্য ও সুলভ মুল্যের চিকিৎসা - পথ্য প্রাপ্তির ব্যবস্থা নিতে হবে । এলাকা ভিত্তিক অসুস্থ রোগীদের সুচিকিৎসা প্রাপ্তির ব্যবস্থা করনে জনপ্রতিনিধির বিশেষ অবদান জনগণের চতুর্থ মৌলিক চাহিদা বা অধিকার রক্ষার পদক্ষেপ হিসাবে জনগণের দৃষ্টিগোচরহবে ।

মানুষের পঞ্চম মৌলিক চাহিদা বা অধিকার হলো - নিরাপত্তা প্রাপ্তি ঃ

জনগণের জান - মাল - ইজ্জতের নিরাপত্তা বিধান সুনিশ্চিত করাই জনপ্রতিনিধির অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্ম ।

তাই , জনপ্রতিনিধিকে ভাবতে হবে কিভাবে জনগণের জান - মাল - ইজ্জতের নরাপত্তা দান করা যায় ? এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে । এলাকা ভিত্তিক জনগণ ও প্রশাসন সঙ্গে নিয়ে জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা দানে জনপ্রতিনিধির সর্বোচ্ছ ব্যবস্থা গ্রহণে আত্মনিয়োগ মানুষের পঞ্চম মৌলিক চাহিদা বা অধিকার রক্ষায় বৃহৎ অবদান বলে বিবেচিত হবে ।

মানুষের ষষ্ট মৌলিক চাহিদা বা অধিকার হলো - বেকারের কর্মসংস্থান ঃ

দেশের লক্ষ লক্ষ জনগণ বেকার অবস্থায় কালযাপন করছে । দেশে কর্মের অভাবে অনেক শিক্ষিত জনগণ বিপথে পা বাড়াচ্ছে । জনশক্তি থাকা সত্বেও দেশ কর্মসংস্থানের অভাবে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারছেনা । মানুষের বেকারত্ব গুছিয়ে দেশকে স্বনির্ভরতা অর্জনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য প্রয়োজন বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাকরন ।

তাই , জনপ্রতিনিধিকে ভাবতে হবে কিভাবে বেকারত্ব দুরীকরনের ব্যবস্থা নেয়া যায় ? এজন্য বেকারদের পূণর্বাসন বা কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে নতুন নতুন কর্মপন্থা আবিষ্কার করে নতুন নতুন কর্ম প্রতিষ্ঠান গঠণ করতে হবে । এলাকাভিত্তিক বিপুল সংখ্যক বেকার জনসমষ্ঠকে কজে লাগিয়ে দেশের উন্নতির পথ সুগম করনে জনপ্রতিনিধির আত্মউদ্যোগ জনগণের ষষ্ঠ মৌলিক চাহিদা বা অধিকার রক্ষার বিশেষ কর্মসূচী হিসাবে গণ্য হবে ।

মানুষের সপ্তম মৌলিক চাহিদা বা অধিকার হলো - শিক্ষার্জন ঃ

মানুষের আত্মনির্ভরশীল হয়ে গড়ে উঠার , একজন আলোকিত মানুষ হিসাবে পরিচিতি পাবার এবং দেশের আদর্শ নাগরিক হিসাবে স্থান পাবার লক্ষ্যে প্রয়োজন শিক্ষা ।

তাই , জনপ্রতিনিধিকে ভাবতে হবে কিভাবে অশিক্ষিত মানুষদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলা যায় ? এজন্য জনগণর শিক্ষালাভের পথ সুগম করতে হবে । এলাকা ভিত্তিক শিক্ষাকেন্দ্রের ব্যবস্থা , উৎকৃষ্ঠতম শিক্ষাদাতা নিয়োগ , শিক্ষা উপকরণ সহজলভ্য করনসহ অশিক্ষিতদের শিক্ষাগ্রহণের লক্ষ্যে উদ্বুদ্ধকরনে জনপ্রতিনিধির আত্মপ্রচারণা জনগণের সপ্তম মৌলিক চাহিদা বা অধিকার রক্ষার পরিচায়ক হিসাবে গণ্য হবে ।

এভাবে প্রত্যেক এলাকার জনপ্রতিনিধি নিজ নিজ এলাকার মানুষ বা জনগণের মৌলিক চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে তাঁর আত্মনিয়োগ ও বিশেষ ভুমিকা পালনের মধ্য দিয়ে জনগণের অন্তরে স্থান করে নিতে পারেন । ফলে তিনি জনগণের অন্তর থেকে ছিটকে পড়বেননা কখনো । জনগণ তাঁকে জনপ্রতিনিধি হিসাবে ধরে রাখতে চাইবে আজিবন ।

জনপ্রতিনিধিদের মনে রাখতে হবে - জনগণ আর কিছুই চায়না । চায় - তাদের মৌলিক চাহিদা বা অধিকারের গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা । আর চায় - তাদের মৌলিক অধিকারের কথা সরকারের কাছে জানানোর জন্য এবং মৌলিক অধিকার সরকারের কাছ থেকে আদায়ের জন্য একজন যোগ্যতম প্রতিনিধি । আর সে প্রতিনিধি যদি তাদের চাহিদাকে সরকারের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য সদা স্বচেষ্ঠ থাকেন , আর তাদের মৌলিক অধিকার আদায় বা রক্ষায় সে প্রতিনিধি সদা আত্মনিমগ্ন থাকেন , তবে সে প্রতিনিধিকে জনগণ বয়কট করতে চাইবে কেন ? তার পক্ষে ভোট না দিয়ে জনগণ অন্যের পক্ষে ভোট দিতে যাবে কেন ?

আসলে আমাদের তথা বাংলাদেশ নামক রাস্ট্রটির সরকার তথা জনগণের প্রতিনিধিরা তাঁদের আপন আপন কর্তব্যকে অবহেলা করে , জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে সর্বদাই নিজেদের থলে ভর্তিতে বা জনগণের জন্য বরাদ্দ অংশ আত্মসাত করে নিজেদের উদরপূ্তি করনে নিমগ্ন বিধায় তাঁরা “ আমও গেলো , থলেও গেলো ’’ অবস্থায় পতিত হন ।

তাঁরা যদি একটু চিন্তা করতেন বা ভাড়া নেয়া বাগানের ফলগুলো প্রতিশ্রতি মোতাবেক তাঁরা নিতেন আর বাগানটি যথাযতভাবে মালিককে ফেরত দেয়ার পক্ষপাতি হতেন । তবে কোন জনপ্রতিনিধিই পূণর্বার ঐ বাগান ভাড়া পেতে চাপের মুখে পড়তেননা ।

অথচ , এখন প্রায়ই জনপ্রতিনিধি বাগান ভাড়া নিয়ে বাগানটি সহ দখলে নেবার চেষ্ঠায় থাকেন । ফলে তাঁদের বাগানতো ছাড়তেই হয় , কখনো কখনো নিজেদের জন্য নির্ধারিত ফল প্রাপ্তি থেকেও বঞ্চিত হন তাঁরা । এমনকি অনৈতিক কর্মে জড়িত হয়ে বাগান মালিকের কাছ থেকে উত্তম-মধ্যম প্রাপ্তিসহ লাল দালানের বাসিন্দাও হন কোন কোন জনপ্রতিনিধি ।

তাই প্রত্যেক জনপ্রতিনিধিকে প্রথমেই জনগণের কথাই ভাবতে হবে । ভাবতে হবে জনগণের দুঃখ দূর্দশা দুরীকরনেই তাঁকে জনপ্রতিনিধি বানানো হয়েছে , তাই তাদের দুঃখ দুর্দশা দুরীকরনের ব্যবস্থা নিতে হবে , তাদের অধিকার বা রক্ষায় সজাগ থাকতে হবে , তাদের অন্ন - বস্ত্র - বাসস্থান - শিক্ষা - চিকিৎসার ব্যবস্থা করন সহ তাদের নিরাপত্তা দান ও বেকারত্ব দূরীকরনে সুষ্ঠ ব্যবস্থা নিতে হবে । তবে সম্ভব জনপ্রতিনিধি হয়ে আজিবনের জন্য জনগণের মনের মণিকোঠায় স্থান করে নেয়া ।

অতএব , মানুষ বা জনগণের সাতটি মৌলিক চাহিদা বা অধিকার রক্ষার গ্যারান্টিই হলো প্রত্যেক জনপ্রতিনিধির ক্ষমতায় টিকে থাকার বা ক্ষমতায় আরোহনের মুল চাবিকাঠি । যে জনপ্রতিনিধি জনগণের উক্ত সাতটি মৌলিক অধিকার রক্ষার গ্যারান্টি দিতে পারবেন সে জনপ্রতিনিধিই হবেন আজিবন ক্ষমতাপ্রাপ্ত জননেতা । যে দল জনগণের উক্ত সাতটি মৌলিক অধিকার রক্ষার গ্যারান্টি দিতে পারবেন সে দলই হবে আজিবন ক্ষমতাপ্রাপ্ত জননন্দিত দল । যে সংগঠন জনগণের উক্ত সাতটি মৌলিক অধিকার রক্ষার গ্যারান্টি দিতে পারবে সে সংগঠনই হবে আজিবনের জন্য জনস্বীকৃত কল্যানকামী সংগঠন । যে শাসক জনগণের উক্ত সাতটি মৌলিক অধিকার রক্ষার গ্যারান্টি দিতে পারবেন সে শাসকই হবেন আজিবনের জন্য জনস্বীকৃত উপযুক্ত শাসক। যে সরকার রাস্ট্রের জনগণের উক্ত সাতটি মৌলিক চাহিদা পুরণ বা অধিকার রক্ষার সুনিশ্চিত গ্যারান্টি দিতে পারবে সে সরকারই হবে আজিবনের জন্য শাসন কর্তৃত্বের অধিকারী । সে সরকারই হবে রাস্ট্রের জন্য অনন্তকাল অবধি একটি জনপ্রতিনিধিত্বকারী উত্তম সরকার । যার আনুগত্য করতে প্রত্যেক নাগরিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ।

মহান আল্লাহ পাক পরওয়ারদিগার সকল জনপ্রতিনিধিকে উত্তম বিবেক দানে সহায়তা করুন । আমীন ।
==============