আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা

বাংলা ভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী

সকল মহান ভাষা শহীদগণের প্রতি,
এবং ভাষা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত

সকল ভাষা সৈনিক
ও বীর বাঙ্গালীদের জানাই অশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলী,
সেইসাথে সকলকে জানাই

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা।

বিষয় সূচী

সাহিত্য (60) অন্যান্য কবিতা (53) ভালোবাসার পদবিন্যাস ( প্রেম সম্পর্কিত রচনা বিশেষ ) (53) আমার লেখা প্রবন্ধ-নিবন্ধ (37) কবিতা (35) দেশ নিয়ে ভাবনা (33) ফিচার (33) বাংলাদেশ (29) সমসাময়িক (28) খন্ড কাব্য (26) হারানো প্রেম (22) সংবাদ (18) কাল্পনিক প্রেম (16) ইতিহাস (15) প্রতিবাদ (15) সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ (15) Online Money Making Links (14) দেশাত্মবোধক কবিতা (13) আমার জীবনের দিনপঞ্জী (12) ধর্ম (12) প্রেমের কবিতা (11) ব্যক্তিত্ব (11) রাজনীতি (11) ধর্মীয় আন্দোলন (10) প্রবাসের কবিতা (10) খন্ড গল্প (9) জীবন গঠন (9) বর্ণমালার রুবাঈ (9) ইসলাম (8) প্রগতি (8) মানুষ ও মানবতা (8) হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ (8) VIDEOS (7) আমার লেখালেখির অন্তরালে (7) ইসলামী জাগরণ (7) মানব মন (7) ট্র্যাজেডি (6) শোক সংবাদ (6) সম্প্রীতি (6) নারী স্বাধীনতা (5) প্রেমের গল্প (5) বিজয় দিবসের ভাবনা (5) মৃত্যুপথ যাত্রী (5) সংবাদ মাধ্যম (5) স্মৃতিকথা (5) ঈদ শুভেচ্ছা (4) প্রবাস তথ্য (4) রমজান (4) শুভেচ্ছা (4) Computer Programer (3) আমার ছবিগুলো (3) আমার রাইটিং নেটওয়ার্ক লিংক (3) পর্দা (3) ফটিকছড়ি (3) বাংলাদেশের সংবিধান (3) বিশ্ব ভালবসা দিবস (3) শিক্ষা (3) শিক্ষার্থী (3) স্লাইড শো (3) News (2) VERIETIES POEMS OF VERIOUS POETS (2) আষাঢ় মাসের কবিতা (2) আষাঢ়ের কবিতা (2) ইসলামী রেনেসাঁ (2) ছাত্র-ছাত্রী (2) থার্টি ফাস্ট নাইট (2) নারী কল্যান (2) নারী প্রগতি (2) নির্বাচন (2) বর্ষার কবিতা (2) মহাসমাবেশ (2) শবেবরাত (2) শরৎকাল (2) শাহনগর (2) শ্রদ্ধাঞ্জলী (2) সত্য ঘটনা (2) সত্য-মিথ্যার দ্বন্ধ (2) সফলতার পথে বাংলাদেশ (2) Bannersআমার ছবিগুলো (1) DXN (1) For Life Time Income (1) For Make Money (1) Knowledge (1) Student (1) অদ্ভুত সব স্বপ্নের মাঝে আমার নিদ্রাবাস (1) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (1) আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত(সুন্নী) (1) উপন্যাস (1) কবি কাজী নজরুল ইসলাম (1) কোরআন - হাদিসের কাহিনী (1) গল্প (1) চট্টগ্রাম (1) চিকিৎসা ও চিকিৎসক (1) জমজম (1) জাকাত (1) তরুন ও তারুণ্য (1) নারী জাগরণ (1) পরকিয়ার বিষফল (1) ফটিকছড়ি পৌরসভা (1) বন্ধুদিবস (1) বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেম (1) বিবেক ও বিবেকবান (1) বিশ্ব বাবা দিবস (1) বিশ্ব মা দিবস (1) ভ্রমণ (1) মন্তব্য (1) মাহফুজ খানের লেখালেখি (1) রবি এ্যাড (1) রমজানুল মোবারক (1) রেজাল্ট (1) রোগ-পথ্য (1) লংমার্চ (1) শহীদ দিবস (1) শুভ বাংলা নববর্ষ (1) শৈশবের দিনগুলো (1) সমবায় (1) সস্তার তিন অবস্থা (1) সাভার ট্র্যাজেডি (1) সিটি নির্বাচন (1) স্বপ্ন পথের পথিক (1) স্বাধীনতা (1) হ্যালো প্রধানমন্ত্রী (1) ২১ ফেব্রোয়ারী (1)

APNAKE SHAGOTOM

ZAKARIA SHAHNAGARIS WRITING

সকলকে বাংলা নতুন বছরের শুভেচ্ছা

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আমরা আর বাংলা ভাষায় কথা বলতে চাইনা । নিজের মাতৃভাষাকে যখন-তখন যেখানে সেখানে অবমাননা করে তৎপরিবর্তে ইংরেজী ভাষা ব্যবহার করতে অভ্যাস্থ হয়ে যাচ্ছি বা হয়ে গেছি ।
আরও একটু এগিয়ে গেলে বলতে হয় - আমরা আজ বাঙ্গালী হয়ে বাঙ্গালী জাতিসত্বা ভুলে গিয়ে ইংরেজী জাতিসত্বায় রক্তের ন্যায় মিশে গেছি !

অথচ একদিন আমরা বাঙ্গালী জাতি একতাবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রীয় ভাষা উর্দুকে ত্যাগ করে নিজেদের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা তথা বাংলা ভাষাকে সর্বত্র প্রচলন করতে প্রাণ দিতে বাধ্য হয়েছিলাম ! ফলে বিজাতীয় ভাষা উর্দূকে অপসারন করে নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলার স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলা ভাষাকে ধারন করেছিলাম । যখন আমরা বাংলার সর্বত্র বাংলা ভাষায় কথা বলা শুরু করেছিলাম ,তখন কিন্তু বিশ্বায়নের যুগটা অনুপস্থিত ছিল তা নয় , বিশ্বায়নের যুগটা তখনও ছিল বিধায় আমরা ইংরেজী শিক্ষায় তখনও বাধ্য ছিলাম । অর্থাৎ যে জন্যে আজ আমরা ইংরেজী শিখছি সেইজন্যে তখনও ইংরেজী শিক্ষার প্রচলন ছিল । ছিল ইংরেজী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাও । তাই বলে সে সময় বর্তমান সময়ের মত মাতৃভাষা বাংলাকে অবমাননা করা হয়নি । মানুষ সে সময় বাংলায়ই কথা বলেছিল । শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রেই সে সময় ইংরেজী ব্যাবহার করেছিল বাঙ্গালী জাতি

conduit-banners

Powered by Conduit

ফ্লাগ কাউন্টার

free counters

MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY

PLEASE CLICK ON MY BANNERS. VISIT MY AFFILIATE SITE "MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY ( অনলাইনে অর্থোপার্জনের একটা মাধ্যম )" I HOPE IT WILL BE HELPFUL FOR YOU. Create your own banner at mybannermaker.com!

সোমবার, ২০ আগস্ট, ২০১২

বাংলা গানের বিশ্বায়ন প্রসঙ্গে


বাংলা গানের বিশ্বায়ন প্রসঙ্গে
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------
আজকের একটা অভিজ্ঞতা বর্ণনা না করলেই নয়। আজকের ১০০টিরও উপরে ওয়েবসাইট ঘুরে দেখতে পেলাম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অমুসলীম ও মুসলীম শিল্পীরা ঈদের উপর যে গান গেয়েছেন তার তুলনায় আমাদের দেশের শিল্পীরা ঈদকে নিয়ে তেমন উল্লেখযোগ্য গান পরিবেষন করেননি। আমাদের দেশের শিল্পীরা দেশকে শুধুমাত্র বস্তাপঁচা কিছু প্রেমের গান উপহার দেয়া ছাড়া জীবনমুখী কোন গান উল্লেখযোগ্যভাবে উপহার দিতে পারেননি। আর তারা দিতে পারবেনইবা কিভাবে ? যে দেশে নিজেদের অস্তিত্ব বিলীন করে ঈদের দিনেও রাস্তায় রাস্তায় বজ্রনিনাদ সাউন্ড সিস্টেম লাগানোর মাধ্যমে হিন্দী গান পরিবেষনে ব্যস্ত সেই দেশে এ ধরণের আশা বাতুলতা মাত্র। তবুও মনে করি আমাদের এখনও এমন কিছু শিল্পী রয়েছেন যাঁরা দেশের এ ক্রান্তিলগ্নে তাদের হারানো ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে চেষ্ঠা করবেন।
আমাদের দেশে আগে যে গানগুলো হতো সেগুলো ছিল গভীর অর্থবোধক জ্ঞান। অবশ্য এদিক দিয়ে অনুন্নত গান পরিবেষণে শিল্পীদের দোষ দেয়া যায় না , কারণ তারা গান রচনা করেননা , তারা অন্যদের রচিত গানে কন্ঠ দেন। কিন্তু আধুনীক যুগের বেশীর ভাগ শিল্পীরা একটা গান রচনা থেকে শুরু করে বাজারজাত করা পর্যন্ত সবকিছু নিজেরাই করেন। তাদের কাছে অনুন্নত গান পরিবেষণ কোনমতেই কাম্য নয় , অথচ সেসব শিল্পীদের কাছ থেকে অতীতের মত অর্থবোধক কোন মুল্যবান গান পরিবেষিত হচ্ছেনা , আশা করাও যাচ্ছেনা। ফলে বাংলাদেশের শিল্পীরা উন্নত বিশ্বে অনুন্নতই রয়ে যাচ্ছে।
বর্তমান যুগে যারা প্রেমের গান রচনা করছেন , তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি - অতীতের প্রেমের গানগুলো দিয়ে আপনাদের প্রেমের গানগুলো বিচার করুন । তবেই বেরিয়ে আসবে আপনাদের হাত দিয়ে গানের অমরত্বতা। একজন শিল্পী মন্তব্য করেছিলেন ব্যান্ড সংগীত এসে গানের জগতকে করেছে কলুষিত। আসলেই ঠিক । ব্যান্ডের গানগুলোকে শুধুমাত্র চিল্লানী , গলা ফাটানী , অযৌক্তিক উশৃন্খলার আয়োজন ছাড়া আর কিছুই ভাবা যায় না। হয়তো মাঝে মাঝে দুই একটা গান ব্যান্ডগুলো ভাল করে। কিন্তু বেশীর ভাগই অর্থহীন চিল্লাচিল্লি রূপেই প্রদর্শিত হয়।
আজ দেশের ঈদ আয়োজনে হিন্দী গানের আয়োজন দেখে মনে হয়েছিল বাংলা গানের মৃত্যু হয়েছে বাংলাদেশে। এমন হলে দেশের বাংলা গানের শিল্পীদের গানের জগত থেকে মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। অথচ বাংলা গানের শিল্পীরা এ অবস্থার বিরুদ্ধে কোন অবস্থান নিচ্ছেননা । তাতে মনে হচ্ছে হিন্দী গানের আছরে বাংলা গান বাদ দিয়ে বাংলা গানের শিল্পীরা অচিরেই হিন্দী গান গাইতে শুরু করবে। এভাবেই একদিন আত্মহত্যা করবে বাংলাগানের জগত । যেভাবে মরণ হয়েছে বাংলা সভ্য সমাজের সংস্কৃতি ।
বলছিলাম আমাদের দেশে ঈদের গান হয়না । ঈদের গান পরিচয়ে যে গানগুলো হয় , তা হচ্ছে তথা কথিত প্রেমের গান। আজ নেট ব্রাউজ করে কুমার শানুর "আজকে খুশির বাঁধ ভেঙ্গেছে , ঈদ এসেছে ভাই ঈদ এসেছে" ঈদের গানটি পেলাম । এ ধরণের গান আমাদের বাংলাদেশে কয়টি হয়েছে আমার জানা নেই। যদিও হয়ে থাকে হাতে গোনা একটি বা দুটি পাওয়া যেতে পারে। অথচ অন্যান্য দেশে এই ধরণের ঈদের গান রচিত হয়েছে অসংখ্য।
যদি আমাদের শিল্পীদের কাছ থেকে উন্নত গান প্রকাশ না হয় , তবে তারা বিশ্বমঞ্চে দাঁড়াবে ? কিভাবে হবে বাংলাদেশের বাংলা গানের বিশ্বায়ন ? এ বিষয়ে সঙ্গীতবোদ্ধাদের দৃষ্টি দেয়ার প্রয়োজন আছে কি ?
========================

ঈদ আনন্দে আমি


ঈদ আনন্দে আমি
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

বালিশটা ভিজে গেছে কান্নার জলে ,
ঈদটা জড়িয়ে গেছে কষ্টের গলে।
ঈদ আনন্দে ডুবেছি আজ ঘুমের ঢলে ,
বিছানাটা হারিয়েছে মোর সুখের তলে ।
সারাদিন শুয়েছিলাম খালি বিছানায় ,
ঈদ বলে আমার কাছে কিছু নাই ।
আজ তেইশটি ঈদ হারিয়েছি অভাবের টানাপোড়নে,
প্রবাস নীড়ে করেছি জীবন ক্ষয় সংসারের জোড়নে।
ভাবতে পারিনি ঈদের আনন্দ নিয়ে তেইশটি বছর ,
হয়নি তাই জীবনের আটহাজার তিনশত পঁচান্নব্বই দিনে সুখের দৃষ্টিগোছর।
============

শনিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১২

ঈদের শিক্ষা


ঈদের শিক্ষা
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
---------------------

শাওয়ালেরই চাঁদ উঠেছে দেখো সবাই ঐ,
বাঁকা চাঁদটি আসলো আজি ঈদ আনন্দ লই।
খুশির দিনটি এলোরে আজ একটি বছর পর,
আনন্দেতে মাতবো সবাই আসবে যে আজ গায়ে খুশির জ্বর।
সবার ঘরে খুশির জোয়ার ভাসবে দেখো আজ,
বন্ধ হলো সবার ঘরে সবার সকল কাজ।


নতুন নতুন পোষাক পরে সাজবে ভোরে সকল,
ঈদের খুশি রাস্তাঘাটকে করবেরে কাল দখল।
ঈদগাহেতে যাবে সবাই ভোরে উঠে কাল,
ধনী গরীব থাকবেনা তায় দেখবো সবে এক মানুষের পাল।
সাম্য ঐক্যের মিলন হবে ঐ ঈদেরই মাঠে,
হিংসা বিবাদ ভুলে সবাই ঈদ বিনিময় করবে রাস্তাঘাটে।
আপন হয়ে করবে সবে পথশিশুদের দুঃখ দূর,
এতিম গরীব সকল শিশু ঈদ আনন্দে হবে বিভোর।


ঈদের শিক্ষা নবী(সঃ)’র দীক্ষা
করবে গ্রহণ আজ সবে,
কারো প্রতি কারো অবহেলা নয়
সকল মানুষ যেন হয় এক এইভবে।
--------------------------

ঈদ মুবারক


ঈদ মুবারক
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

চাঁদ চোখে পড়েছে খুশির জোয়ার এসেছে,
ঈদ মুবারক ঈদ মুবারক
আনন্দের দিন এসেছে।।
ঈদের সালাম জানায় সবে জানায় শুভেচ্ছা,
ঈদ মুবারক ঈদ মুবারক
সবার মনে জেগেছে আজ ঈদ আনন্দের ইচ্ছা।
চাঁদ দেখে সবাই আজ উল্লাসে যে মেতেছে,
ঈদ মুবারক ঈদ মুবারক
সোরগোল আজ উঠেছে।।

কালকে মোদের ঈদের দিন খুশি নিয়ে এসেছে,
ঈদ মুবারক ঈদ মুবারক
সবার মুখে ফুঠেছে।।
বড় ছোট ধনী গরীব ঈদ আনন্দে ভেসেছে,
ঈদ মুবারক ঈদ মুবারক
ঈদটা যে আজ সবার জন্য এসেছে।
মুসলমানদের ঘরগুলো আজ ঈদের সাজে সেজেছে,
ঈদ মুবারক ঈদ মুবারক
খুশির দিন আজ এসেছে।।

ত্রিশ রোজা শেষ হয়েছে আজ ঈদ যে এসেছে,
ঈদ মুবারক ঈদ মুবারক
আজকে খুশির ঢল যে নেমেছে।।
ভাইয়ে ভাইয়ে মিলন হবে হিংসা বিদ্বেষ থাকবেনা,
ঈদ মুবারক ঈদ মুবারক
আজকে কেউ শত্রুতা ভেদাভেদ রাখবেনা।
ঈদ এসেছে ঈদ এসেছে মিলন হবার দিন এসেছে,
ঈদ মুবারক ঈদ মুবারক
সবাইকে আজ এক করনে আজকের ঈদ এসেছে।।
=====================

অপরিচিতার ফোনকল


অপরিচিতার ফোনকল
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------
আজ হঠাৎ করে বাংলাদেশ থেকে একটা অপরিচিত কল আসল দুপুরে। আমি সাধারণতঃ অপরিচিত নাম্বারের কল রিসিভ করিনা। যেসব বন্ধুবান্ধব আমার কাছে কল করেন তাদের সব নাম্বার এন্ট্রি করা আছে। আর যারা নতুন ভাবে কল করতে চান , তাদেরকে বলে দেয়া হয় আপনার নাম্বারটা আগেই বলে দিবেন যাতে কোন সময় কল করলে আমি সহজই রিসিভ করতে পারি। এ ছাড়া নতুন কোন কল আমি রিসিভ করিনা। আজকের কলটাও আমি প্রায় দশবার রিং করার পর রিসিভ করতে বাধ্য হই। রিসিভ করে তো আমি অবাক। মেয়েটি এমন ভাবে কথা বলতে শুরু করল যেন সে আমার খুব কাছের একজন চেনা জানা কেউ। পরে কথা বার্তা শেষ হলে পরিচয় পাই তার। বাড়ি সিলেট , ইন্টারমিডিয়েট সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্রী। সিলেট টাউনেই বসবাস। দেখুন তার সাথে আলাপের খতিয়ান ।
- হ্যালো !
- তুমি কোথায় বলতো !
- আমি কোথায় মানে ! আপনি কে ?
- ন্যাকামী করোনা । তোমাকে ভাল করেই চিনি । মিথ্যা বলে পার পেতে পারবেনা !
- আচ্ছা ঠিক আছে , আগে আপনার পরিচয় দিন।
- আমার পরিচয় দিতে হবেনা । প্যাঁচাল বাদ দিয়ে ঈদ মোবারক জানাতে দেরী করছ কেন বলতো !
- আচ্ছা আপনি কি পাগল নাকি উন্মাদ বলেন তো ?
- জানি তো তুমি না চেনার ভান করে এভাবেই বলবে !
- আসলে সত্যিই আপনাকে আমি চিনতে পারছিনা।
- আর চিন্তে হবেনা। আচ্ছা তুমি কি আর পরিবর্তন হবেনা !
- আশ্চর্য তো ! আপনি আপনার পরিচয়টা দিচ্ছেননা কেন ? বললামনা আমি আপনাকে চিনতে পারছিনা। এভাবে আমাকে ডিস্টার্ব করবেননা তো। আপনি আমার পরিচিত কেউ হলে পরিচয়টা দেন নয়তো আমি কল অফ করছি।
- ঠিক আছে , কল অফ করবেননা প্লীজ ।
- তাহলে বলুন আপনি কে ?
- আমি আপনার একজন ফ্যান ভাবতে পারেন। ফেইসবুকে আপনার লেখা পড়ি । ভাল লাগে ।আর আপনার লেখা ভাল লাগতে লাগতে আপনাকেও ভাল লাগতে শুরু করল। যখন দেখলাম ফেইসবুকে আপনার ঈদ শুভেচ্ছা আসেনি । তখন একটু দুষ্টামী করলাম । মনে করেছিলাম ফেইসবুকে আপনার শুভেচ্ছায় আপনাকেও ঈদ শুভেচ্ছা জানাবো । কিন্তু তা না পেরে কল করে দেখলাম আপনাকে পাই কিনা ।
- ওহ সরি ! আপনার বাড়ি কোথায় জানতে পারি ?
- ঠিক আছে , সরি বলতে হবেনা , সরি তো আপনকেই বলতে হয় , আপনাকে অনেক্ষণ ডিষ্টার্ব করলাম। সো সরি, মনে কিছু নিবেননা প্লীজ। আমার বাড়ি সিলেট।
- ও তাই ! কি করেন আপনি ?
- আমি একজন কলেজ ছাত্রী ।
- কোন কলেজে পড়েন ?
- দুঃখিত এ উত্তরটি এখন দিতে পারছিনা।
- ঠিক আছে , কোন ইয়ারে ?
- ইন্টারমিডিয়েট সেকেন্ড ইয়ারে।
- নাইস ।
- থ্যান্কস। ওকে অনেক ডিস্টার্ব করলাম। এখন রাখি ।
- ঈদ মোবারক তো জানালেননা এখনও।
- ও তাইতো , ঈদ মোবারক।
- আপনাকেও।
- ভাল থাকবেন।
- আপনিও ভাল থাকবেন।
- আল্লাহ হাফেজ।
- আল্লাহ হাফেজ।
===========

শুক্রবার, ১৭ আগস্ট, ২০১২

যখন তুমি


যখন তুমি
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

যেদিন তুমি গেছ চলে
হারিয়ে তোমায় কষ্ট পেলাম,
হঠাৎ করেই তোমায় আজি
কাছে পেয়ে ধন্য হলাম।।

কেন যে সেদিন গেলে চলে
পারিনি বুঝতে তাহা আজও আমি ,
দিয়েছিলে বড় ব্যথা সেদিন
হঠাৎ করে চলে গিয়ে তুমি।
যাবেই যখন তুমি ডাকিনি পীঁছু
শুনবেনা বলেই সেদিন বলিনি কিছু।
আজ এসেছো তুমি কাছে আমার
বলব যে আজ সব না বলা কথা ,
হৃদয়ের ব্যথা সব ঝাড়বো যে আজ
পাও যদিও তুমি মনে ব্যাথা।

তোমায় যখন নতুন করে কাছে পেলাম
ব্যথা ভরা হৃদয়ে আজ শান্তি পেলাম।।
----------------------------

গরীবদের জাকাত গ্রহণ ধনীদের জন্য একটা কল্যানকর অর্জন


গরীবদের জাকাত গ্রহণ
ধনীদের জন্য একটা কল্যানকর অর্জন
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে জাকা গ্রহণ করতে গিয়ে গরীব মানুষরা মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছেন।এইভাবে জাকাতের নামে বড়লোকি
দেখানো ও মানুষ মারার আয়োজন না করে , যারা প্রকৃতই জাকাত দিয়ে তাদের জীবন ও সম্পদের ভুলত্রুটি সংশোধন করে নিজেদের কলুষমুক্ত করতে চান , তাঁরা সুন্দর একটা নিয়ম নীতির আলোকে এ জাকাত প্রদান করতে পারেন।
গরীবদের জাকাত গ্রহণ ধনীদের জন্য একটা কল্যানকর অর্জন। তাই যারা বা যে সব ধনীরা গরীবদের দূর্ভাগা বা গরীব বলে তাদেরকে জাকাত প্রদানের নাম দিয়ে তাদের তামাশা দেখার আয়োজন করে সেসব ধনীদের মত দূরভাগা ও নীচুমনের মানুষ আর নেই। অথচ এ কথা বুঝেও না বুঝার ভান করে তথাকথিত ধনীরা নিজেদের সম্পদশালী রূপে প্রকাশ করার জন্য গরীবদেরকে জাকাত প্রদানের নাম করে তাদের তামাশা দেখা ও গরীব মারার আয়োজন করে।
আমি এমন কিছু আল্লাহর বান্দাদের দেখেছি যারা যাকাত দেয়ার সময় হলে ধন সম্পদের সঠিক হিসাব নির্ধারণ করে যা যাকাত আসত তা গরীবদের একটা লিষ্ট করে তাদের ঘরে ঘরে পৌঁছিয়ে দিতেন। গরীবদের গরীব হিসাবে দেখানোর জন্য ঘরের বাহিরে লাইন ধরিয়ে তাদের প্রদর্শনীর আয়োজন করতেন না। তারা যে জাকাত প্রদান করতেন অন্য মানুষরা তা দেখতে পেতনা। যা শুধু আল্লহ ও যিনি জাকাত গ্রহণ করেছেন তিনিই দেখতেন।
আর এখন ধনীরা জাকাত দেন নিজেদের জাকাত দাতা হিসাবে মানুষদের প্রমাণ দেয়ার জন্য। জানিনা এসব জাকাত দাতাদের জাকাত প্রদান আল্লাহর কাছে কতটুকু গ্রহণযোগ্য। অবশ্য এতে জাকাত দাতাদের একটাই উপকার হচ্ছে বলে আমার ধারণা - তা হলো তারা বড়লোক বলে মানুষের কাছে প্রমাণিত হচ্ছেন। মানুষরা তাদেরকে বড়লোক মনে করে ভয়ে সালাম দিচ্ছে।
কিন্তু জাকাত প্রদানের উপকারিতা এতে অর্জন হতে পারেনা , জাকাত প্রদান এ জন্যে নয়। জাকাত প্রদান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। ধনীদের এদিকে দৃষ্টি দিয়েই জকাত প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে । তবেই হবে তাদের জাকাত প্রদানের স্বার্থকতা।
--------------------------

শরতের রূপ


শরতের রূপ
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
--------------------

বর্যা হলো শেষ এবার শুরু শরতকাল,
কাশফুলেতে সাজবে পথ দেখবো এবার শিশির মাখা সকাল।
ভাদ্র হলো শুরু আজ আসলো শরতকাল,

শিউলী ফুল ফুটবে রাতে দূর আকাশে ভাসবে মেঘের পাল।
সোনা রোদের দিনগুলো সব লাগবে মধুর বেশ,
রূপ মনোহর তাক লাগিয়েই শরত-বিকেল শেষ।
শরত রাতের চাঁদের হাসি সুখে ভাসায় মন,
রংবেরং এর ঘুড়ির মেলায় সাজবে দিনে শরতের গগণ।
শিউলী ফুলের গাঁথবে মালা গ্রাম-কিশোরী সব,
সান্ধ্যবেলায় ঝিঁ ঝি পোকা করবে কলরব।
চিরল চিরল পাতা চিরে বাঁধবে বাসা সকল বাবুই পাখী ,
মাছরাঙ্গা বসবে ধ্যানে মাছ শিকারে তার চোখটা রাখি।
লুকোচুরি খেলা খেলবে সূয্যিমামা শরত মেঘের সাথে,
পথের ধারে জ্বলবে জোনাক অন্ধকার সব শরতের রাতে।
লাল সাদা শাপলারা সব হাসবে সবুজ পাতায় মুখটি টিপে,
ঝিরি ঝিরি বইবে বাতাস জনপদের শান্তি দ্বীপে।
শাকসব্জীর বীজ বুনবে মাঠে মাঠে সকল চাষী,
বিল ডোবাতে মিলবে দেখা কচুরিফানার ফুলের হাসি।
গ্রামবাসীরা উঠবে মেতে জ্যোৎস্না রাতের গল্পতে,
শুভ্রমেঘে চাঁদ লুকাবে মুচকি হেসে অল্পতে।
শরতের রূপ দেখবে যদি গ্রাম চলে যাও শহুরে সব,
মন পবনের নায়ে ভেসে শরতের রূপ করো অনুভব।
======================

মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট, ২০১২

স্বপ্নদেবীর ভালোবাসায়


স্বপ্নদেবীর ভালোবাসায়
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------
( ভুমিকা ঃ- আজ একটা বিচিত্র স্বপ্ন দেখি – একটা চাকরীতে জয়েন্ট করার মাধ্যমে যখন মালিকের বাসায় আমাকে থাকতে দেয়া হয়, তখন মালিকের ছোট বোনের নজর পড়ে আমার উপর ! হঠাৎ রাত্রে মেয়েটি রান্না ঘরে উপস্থিত হয় একা। এটা ওটা নেয়ার ভান করে আমার সাথে কথা বলতে চায়।
উল্লেখ্য যে, ঐ রান্নাঘরটি আমাদের উভয়ের জন্যই। রান্নাঘরের সাথেই তিন রুমের একটা ঘরে আমাকে থাকতে দেয়া হয়। এই সুযোগে মেয়েটি রান্না ঘরে আসার ছল করে আমার দরজা টুকতে থাকে। দরজা খুলতেই ডুকে ড়ে আমার রুমে। আর শুরু করে আমার সাথে কথা। অনিন্দ্য সুন্দর যেন স্বপ্নদেবী এ মেয়েটির সাথে স্বপ্নে কথোপকথনের বর্ণনাই এ কবিতার উপলক্ষ্য – মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী )।
***********************

অপরূপা একটা মেয়ে স্বপ্নে দেখি আজ ,
গোলগাল মিষ্টিমাখা চেহারায় তার ছিল ভীষন লাজ !
“ক্যায়ফ আল হাল ইয়া হাবীবি ?’’*১
প্রশ্ন ছিল তার ,
“আলহমদুলিল্লাহ !’’*২
বলেই আমি জবাব দিলাম যার।
“ইন্তি ক্যায়ফ ?’’*৩
প্রশ্ন দিয়ে শুরু করলাম কথা ,
“আলহামদুলিল্লাহ,তাইয়্যাব !’’*৪
বলেই চোখগুলো তার নাচায় অযথা !
“লেইশ জি’তু ইন্দী ?’’*৫
প্রশ্ন করলাম আমি ,
“লেইশ হাজা সাওয়ালাক ?’’*৬
বলেই তার মুখটা গেল থামি !
“মাফি জ্বা’লান ইয়া হাবীবি।’’*৭
বুঝলাম তার মনে রাগ চলে এলো ,
“আনা আসফ্,ইছমা’-ইন্তি নিসা ওআনা ওয়াহেদ রিজ্বাল,ওনাহনু লাহাল।’’*৮
এ কথাতেই যেন মুখ থেকে তার মেঘটা সরে গেলো !
“লা,ইয়া হাবীবি,আনা মাফি জ্বা’লান,কালামাক সাহিহ্।’’*৯
এ কথাতেই দেখলাম তার পূর্বাবস্থা ফিরে এলো ,
“আনা হুব্বুক,জি’তু আনা জিয়ারাতাক শুয়াইয়া,মাফি সাই তানি।’’*১০
এভাবে এক নিঃশ্বাসেই সে তার ভালোবাসার কথা বলে গেলো !

এক স্বপ্নদেবীর সাথে আজ এভাবেই জড়ালাম ভালোবাসায় ,
চাকরীর জন্য ভাসলাম যেন আমি এক সর্বনাশায়।
*************************

নোটঃ- আরবীগুলোর বাংলা অর্থ
*১ – কেমন আছ বন্ধু ?
*২ – (ঐ)আল্লাহর প্রসংশা করছি (যিনি আমাকে উত্তম অবস্থায় রেখেছেন)।
*৩ – তুমি কেমন ?
*৪ – (ঐ)আল্লাহর প্রসংশা করছি (যিনি আমাকে উত্তম অবস্থায় রেখেছেন)। ভাল।
*৫ – আমার কাছে কেন এসেছো ?
*৬ – এ প্রশ্ন করছো কেন তুমি ?
*৭ – রাগ করোনা বন্ধু।
*৮ – আমি দুঃখিত। শোন-তুমি মেয়ে আর আমি একজন পুরুষ।আর এখন একা।
*৯ – না,বন্ধু ! আমি রাগ করিনি। তুমি ঠিক বলেছো।
*১০- আমি তোমায় ভালোবাসি।তোমায় একটু দেখতে এসেছি। আর কিছু নয়।
====================

রবিবার, ১২ আগস্ট, ২০১২

জীবনে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে উপনিত হতে বে-আইনী হয়ে সৌদিতে অবস্থানের চেষ্ঠা করাই সর্বশেষ সিদ্ধান্ত


জীবনে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে উপনিত হতে
বে-আইনী হয়ে সৌদিতে অবস্থানের চেষ্ঠা করাই
সর্বশেষ সিদ্ধান্ত
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

আজ আমার ঘুমানোর সময়টায় ঘুমালামনা । নিমগ্ন হয়েছি নিজ জীবন ও পারিবারিক চিন্তায়। দীর্ঘ সাড়ে সাত ঘন্টা বিছানায় এপাশ ওপাশ গড়াগড়ির মধ্য দিয়ে জীবনের সর্বশেষ বেঁচে থাকার লড়াইয়ে উপনিত হবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর তা হচ্ছে । সৌদিতে আইনি ভাবে থেকে যখন জীবনাবস্থা পাল্টাতে পারিনি, আনতে পারিনি পারিবারিক জীবনের স্বচ্ছলতা, তাই বে-আইনি হয়ে যাব। যা হবে হউক স্পন্সরবিহীন হয়ে যাব।

স্পন্সরের কাছে ১২ বৎসর জীবনের মুল্যবান সময় কাটিয়ে দিয়ে যখন জীবন ও পরিবারের কোন কুল কিনারা হলোনা , তখন এ সিদ্ধান্তগ্রহণ ছাড়া আর কোন উপায় দেখছিনা। এখন জীবনযুদ্ধে বেঁচে থাকার এটিই একমাত্র উপায় আমার জন্য। কারণ আমার স্পন্সরের কাছে ভবিষ্যত পুরো জীবন কাটিয়ে দিলেও আমার জীবন ও পরিবারের কোন কুল কিনারা হবেনা। তাই সর্বশেষ বেঁচে থাকার উপায় হিসাবে হজ্জের পর স্পন্সরহীন হয়ে সৌদিতে অবস্থানের চেষ্ঠা করাই উৎকৃষ্ট হবে মনে করছি।

যদিও এতে সৌদিতে অবস্থানের কোন নিশ্চয়তা নেই। আছে শত শত বিপদসঙ্কুল অবস্থার আয়োজন। যেমন যে কোনদিন ধরা পড়লে জেল কেটে দেশে চলে যেতে হবে চিরদিনের জন্য , দেশে টাকা পাঠানোর পথে প্রতিবন্ধকতা নিরন্তর , চাকরী পেতে সার্বক্ষণিক সমস্যা , ঘুমানোর জন্য বাসা ভাড়া করতে ভোগান্তি , চিকিৎসার জন্য হসপিটালে ভর্তি বা ডাক্তারের কাছে যেতে সমুহ বিপদ, বন্ধুত্বহীনতা , ছুটিতে দেশে যাওয়া যাবেনা কখনো , দেশে যাবার ইচ্ছা করলে একবারেই যাবার আয়োজন করতে হবে, ইত্যাদি হাজারো দুশ্চিন্তায় নিজেকে সার্বক্ষণিক মগ্ন রাখতে হবে।

তবুও মনে করছি আমার জন্য এ ছাড়া আর কোন পথ নেই। বে-আইনী হয়ে সৌদিতে অবস্থানের চেষ্ঠা করা ছাড়া জীবনে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে সর্বশেষ এইভাবে উপনিত হওয়া ছাড়া আমার আর কোন পথ খোলা নেই।
================

বৃহস্পতিবার, ৯ আগস্ট, ২০১২

এ কেমন ভেদাভেদ


এ কেমন ভেদাভেদ
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

আমি কথা বলতে জানিনা-
দশজনের সামনে যদি আমাকে বলা হয় - তুমি কিছু বল

এটম বোমা মারলে তার তেজস্ক্রিয়তা নষ্ট হয়ে যেতে বাধ্য
তবুও আমার মুখ দিয়ে একটা শব্দ বের হবেনা !
দশহাজার জনের সামনে যদি বলা হয় - তুমি কিছু লিখ
তবে হাজারো বাঁধ দিয়েও আমার লেখা বন্ধ করা যাবেনা ।

এ কেমন মানুষের মাঝে ভেদাভেদ !
কেউ বলে যায় অবিরত
তার মুখে কলুপ দিয়ে এঁটে দিলেও বন্যার পানির মতো
বাঁধ উপচে পড়ে কথার ঢেউ !
আবার কেউ লিখে যায় নিরন্তর !
তার কলম ধরে থামিয়ে দিতে চাইলেও
থামেনা তার কলম ! কালবোশেখী ঝড়ের মতো
ঝরতে থাকে অনবরত তার কলম দিয়ে শব্দের বর্ষণ !

তাই হয়তো কিছু মানুষ বক্তা -
সারাদিন বকবক করে বকতে থাকাই তাদের কাজ ।
আর কিছু মানুষ লেখক -
সারাদিন কসকস করে লিখতে থাকাই তাদের কাজ ।

এদের মধ্যখানে রয়েছে কিছু মানুষের বসতি
যাদের কাজ - কথা কম কাজ বেশী ,
আর এরাই বেশী রোজগারে অভিলাষী ।

আবার এদের ভিতরে রয়েছে আরও কিছু ব্যতিক্রম ধর্মী
মানুষ রূপী অমানুষ -
যারা বক্তা সেজে বাচালতায় করে অন্যের ক্ষতি ,
যারা লেখক সেজে লেখা দিয়ে পড়ায় অন্যের গলায় ফাঁসি,
যারা নিশ্চুপ থেকে চুপে চুপে অন্যকে করে ধ্বংস !

হায়রে মানুষ ! একই জাত একই গোষ্ঠি ,
তার মাঝেই কত ভেদাভেদ ! মানবতার নীতিতে নেই তাদের তুষ্টি।
-------------------------------------------------

রবিবার, ৫ আগস্ট, ২০১২

সকলকে বন্ধুদিবসের শুভেচ্ছা


সকলকে বন্ধুদিবসের শুভেচ্ছা
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
---------------------- 

লাখের উপরে বন্ধু আমার লিস্টে দেখতে পাই
প্রকৃত বন্ধু কোন সে জন খুঁজে নাহি পাই !

বুঝতে আমি পারিনি আজও বন্ধু কারে কয় ,
বন্ধু চেনার তরেই আমার জীবন হলো ক্ষয়।
তবুও মানি বন্ধু সবাই লিস্টে যত আছে ,
তাদের কাছে মিনতি মোর সারা জীবন থেকো সবে কাছে।
******************************
বন্ধুদিবস হোক সকলের জন্য আনন্দমুখর।
চিরজাগ্রত হোক সকলের বন্ধুত্বের বন্ধন।
বন্ধুদিবসের এই দিন নিয়ে আসুক সকল বন্ধুত্বের বন্ধনে সুদৃঢ়তা -
এই কামনায় এসো সবাই পালন করি আজকের - "বন্ধুদিবস"।
==========================

শুক্রবার, ৩ আগস্ট, ২০১২

একটি মেয়ের জীবনসঙ্গী পছন্দের বর্ণনা




একটি মেয়ের জীবনসঙ্গী পছন্দের বর্ণনা

মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

মেয়েটি কলেজে ছাত্রী । আধুনিক জমানার অত্যাধুনিক বড় লোকের শহুরে ললনা। বন্ধুত্বের খাতিরে একদিন তার অনুরোধে তার সাথে গিয়েছিলাম ঘুরতে লালবাগ কেল্লায়। সালটা ছিল ১৯৯২ইং । বিকেল তিনটায় দুইজন মৌচাক মোড় থেকে তার প্রাইভেট কারে করে রওয়ানা দিয়ে যখন লালবাগ দূর্গ গেইটে পৌঁছি , তখন প্রায় বিকেল ৩টা ২০ মিনিট। রৌদ্রতেজে আসেনি তখনো বিকেলের মিষ্টিমাখা উত্তাপ। তাই গাড়ীতে বসেই গেইটে দন্ডায়মান ঈগলু আইসক্রিমওয়ালার দিকে ইশারা করলাম। পাঁচ টাকা দামের তিনটা আইসক্রিম নিয়ে যখন আমি , মেয়েটি এবং ড্রাইভার খাওয়া শেষ করলাম , তখন বিকেলের মিষ্টিমাখা রোদ হাতছানি দিয়ে ডাকতে লাগল আমাদের। ড্রাইভারকে ছেড়ে দিয়ে আমরা দুজনে ডুকে গেলাম দূর্গ ময়দানে । চতুর্দিকে এক চক্ষর লাগিয়ে যখন আমরা দূর্গের উপরে উঠে বুড়িগঙ্গার দিকে দৃষ্টি দিলাম , তখন বিকেল সাড়ে পাঁচটা। মিষ্টিমাখা রোদ আর হিমেল সমীরণে মোহিত হলাম আমরা। দূর্গের পশ্চিম পাশে গিয়ে পলাস্তরা খসে যাওয়া ওয়ালে হেলান দিয়ে যখন দূর্গের উপরে বসলাম , তখন মনে উদিত হলো ইশা খাঁর সেই সতর্কবাণী - ” আমার শাসনামলে এক টাকায় আড়াই মন চাউল পাওয়া যায় ,আমার পরবর্তীতে যে শাসক এই মূল্যে এই দেশে চাউল বিতরণ করতে পারবে সে শাসকই এ দূর্গ চাইলে ভাংতে পারবে , নয়তো কারো অধিকার নেই এই দূর্গ ভাঙ্গার ! ” এই সতর্কবাণী কতটুকু সত্য জানিনা । এটা একটা শুনা কাহিনী। কিন্তু সেই সত্যতা প্রমাণ করে এই দূর্গের অস্থিত্ব থাকার মধ্য দিয়ে। ইশা খাঁর আমল থেকে এ পর্যন্ত এ দেশের কোন শাসক এক টাকায় আড়াই মণ চাউল বিতরণ করতে পারেনি এবং এই দূর্গ ভাংতেও পারেনি। শুনেছি কয়েকবার এই দূর্গের অভ্যান্তরে লোক পাঠানো হয়েছিল , তারা আর ফিরে আসেনি। এমনকি কুকুরও পাঠানো হয়েছিল যার আর ফিরে আসেনি। তাই পরবর্তিতে দূর্গের মুখটি বন্ধ করে দেয়া হয়। যা হোক লিখতে বসেছিলাম একটা মেয়ের পুরুষ পছন্দের কথা । লিখে ফেলেছি ইশা খাঁর আমল নিয়ে কথা ! গল্পের আয়োজন সম্ভবত এমনই ।
দূর্গের উপরে যখন বসলাম । একথা ওকথার পর মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলাম -

বলতো তোমার জীবন সঙ্গী কেমন চাও ? (আসলে ওর ভাই-ই আমাকে জিজ্ঞেস করতে বলেছিল তার কেমন ছেল পছন্দ)

- হঠাৎ এ প্রশ্ন কেন ?

- জানতে চাইলাম আর কি ? দেখি আমি তোমার উপযুক্ত কি না ? (একটু যোগ করলাম)।

- ও তাই ! সাহস তো কম না !

- এতে আবার সাহস লাগে নাকি ? একটা কথা জিজ্ঞেস করতে যদি সাহস লাগে , তবে আর পুরুষ হলাম কেন ?

- এই জন্যই তুমি আমার বন্ধু । যা বল অকপটে। সেটা খারাপ হোক আর ভাল । মনে আসলেই বলে ফেললে , আর তাতে কেউ রেগে যায় কি না দেখনা ! সত্যি তুমি খুব সহজ সরল ।

- থাক আর প্রশংস করতে হবেনা । যা জিজ্ঞেস করেছি তার উত্তর দাও ।

- উত্তর কি দিতেই হবে ?

- তোমার অসুবিধা হলে দিওনা , চল বের হয়ে যাই ( একটু রাগের ভান করলাম। সে জানে আমি একবার রাগলে তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ রাখি কম্পক্ষে পনের দিন)।

- তোমাকে নিয়ে এই হচ্ছে একটা সমস্যা । নাকের ডগায় যেন তোমার রাগ কিলবিল করে ।

- আর তোমাকে নিয়ে কোন সমস্যা নাই ?

- বল আমাকে নিয়ে কি সমস্যা ?

- এইযে ডুবে ডুবে প্রেম কর আর আমাকে কিছু জানাওনা । কেমন বন্ধু তুমি ?

- আমি প্রেম করি ! তোমাকে কে বলল ?

- কেউ বলতে হবে নাকি ? তোমার আচার আচরণেই তো বুঝা যায় ।

- কি আচরণ দেখেছ যে , আমি প্রেম করছি মনে হচ্ছে ?

- এই যে দুপুর দুইটায় ফোন করে জানালে এক্ষুনি বের হও , ঘুরতে যাব । প্রেম না করলে কি কেউ কাউকে বলে ?

- আহারে আমার প্রেমিকরে ! বিড়ি খায়না , সিগারেট খায়না , মদ খায়না , প্রেম কারে কয় তাও জানেনা , তার সাথে করব আমি প্রেম ! তুমি জাস্ট আমার বন্ধু। যদি প্রেম করতে চাও আজ থেকে বন্ধুত্ব কাট। আর প্রেম তো প্রশ্নই আসেনা।

- ওই তাই ! বুঝতে পারলাম ।

- কি বুঝতে পারলে ?

- তোমার কেমন ছেলে পছন্দ তা।

- কচু বুঝেছ । কচু চিন ?

- তুমি কয়টা কচু চিন সটা বল আগে ।

- কেন ওলকচু , মানকচু । আর কি কোন কচু আছে নাকি ?

- বুঝেছি তুমি কচু চিন , তবে যাতকচু, গুরা কচু , ছড়া কচু এগুলি চিননা ।

- আমি জন্মেছি শহরে । এতগুলো চিনব কি করে । তুমি গ্রামে জন্মেছ তাই তুমি অতসব জান ।

- তাইলে আবার বললে কেন যে আমি কচু চিনি কি না ?

- সরি ।

- হ , গ্রামের মানুষদের শহুরেরা সরি বললেই তারা মনে করে তাদের কেল্লাফতে। তাই ত বলি - কেন আমার সাথে প্রেম করতে তোমার বাধা ? আমি গ্রামের আর তুমি শহরের । কোথায় আকাশ আর কোথায় পাতাল ! ঠিক আছে । প্রেম করতে হবেনা আমার সাথে । আমি নিজেও জানি আমি তোমার উপযুক্ত না । বামন কখনো চাঁদের দিকে হাত বাড়িয়ে চাঁদ ধরতে পারেনা । এখন বল তোমার কেমন ছেলে পছন্দ?

- তুমি তো রেগে গেছ দেখছি । আমি বুঝতে পারিনি তুমি এত রেগে যাবে । সরি বন্ধু , মাফ করে দাও ।

- নাতো আমি রাগিনি । গ্রামের মানুষদের শহুরেদের সামনে রাগ করা শোভা পায়না। তেমনি আমারও না ।

- ঠিক আছে যতক্ষণ পার তুমি বলে গায়ের ঝাল মিঠাও , তবু রাগ করোনা। তুমিই তো আমার একমাত্র বন্ধু , যার সাথে আমার মনের সব কথা শেয়ার করি।

- ওকে , বাবা আমি রাগ করিনি । এখন বল তোমার কেমন ছেলে পছন্দ ?

- তুমি এই কথা নিয়ে আছ কেন ? কারো দালালী নিয়েছ নাকি ?

- দালালী নিলেই বা ক্ষতি কি যদি আমার বন্দুর কোনদিন উপকার হয় ।

- বুঝলামনা । উপকার মানে ?

- তোমার এত বুঝার কাম নেই । আপাতত উত্তর দিলেই চলবে ।

- ঠিক আছে উত্তর দিচ্ছি একটা শর্তে ।

- কি শর্ত ?

- এ কথা জানত চাচ্ছ কেন ?

- সেটা কয়েকদিন পরে বললে হয়না ?

- আজকে বললে অসুবিধা কি ?

- অসুবিধা আছে বলেইতো আজ বলা যাবেনা। যদি বলতে না চাও থাক , বলার দরকার নেই ।উঠ সন্ধ্যা হয়ে গেছে ।

- আবারও রাগ ! ঠিক আছে বাবা , বলছি । আমি এমন ছেলে পছন্দ করি - যে সিগারেট খায় , মদ খায় , নেশাখোর , সিনেমা দেখে , গুন্ডামী করে , মিথ্যা বলে , নারীদের প্রতি আসক্ত , সবসময় সেক্সুয়্যাল কথা বলে , লজ্জাহীন , ধুকাবাজ , চঞ্চল , বে-পরোয়া , লোভী , ধর্মাসক্ত নয় , মেয়ে দেখলেই যার জীবে জল আসে , মেয়েদের যে ছ্যাকা দিতে জানে , লড়াকু , শক্তিশালী , তেজোদীপ্ত , প্রতিজ্ঞাভঙ্গকারী , লুচ্ছা , বদমাস এই ধরণের ছেলেই আমার পছন্দ!

- এটা কি আমাকে থাপ্পড় দিলে নাকি আমাকে শিক্ষা দিলে ।

- না বন্ধু , কোনটাই না । যা সত্য তাই বলেছি । আমরা বেশীরভাগ মেয়েরা এই ধরণের ছেলেই পছন্দ করি। সহজ সরল ছেলেদের পছন্দ করে জীবন বরবাদ করে ফায়দা কি ?

- তবে তো তোমার পছন্দগুলির প্রত্যেকটি বিষয়ে ভাল করে জানতে হবে । কেন তোমাদের এই ধরণের ছেলে পছন্দ?

- আজকেই কি সব জানতে চাও ? সব আজকে জানিয়ে দিলে অন্যদিন কি বলব ? চল বেরিয়ে পড়ি । মাগরিবের সময় হয়ে গেছে । অন্যদিন বলব ।

সেদিনকার মত তার কাছ থেকে বিদায় নিলাম মৌছাক মোড়ে এসে । তারপর আরও একদিন …

===================== 

শুক্রবার, ২০ জুলাই, ২০১২

কোরআন ও হাদিসের আলোকে রমজান


কোরআন ও হাদিসের আলোকে রমজান
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

আল কোরআনে মাহে রমজান ও রোযা সম্পর্কীয় কিছু আয়াত ঃ

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন -

১। “হে মু'মিনগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে,যেমনি ফরয করা হয়েছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর; যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পার’’। (সূরা বাকারা: ১৮৩)।
২। “রমজান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের হিদায়াতের জন্য।” (সূরা বাকারা- ১৮৫)।
৩। “কদরের রাত, হাজার মাস থেকেও উত্তম।” (সূরা কদর: ৩)।
৪। “তোমরা খাও পান কর, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয় আল্লাহ অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না’’। (সূরা আ'রাফ: ৩১)।
৫। “তোমাদের জন্য রোযার বিধান দেয়া হল,যেমন বিধান ছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের জন্য,যেন তোমরা নিজেদেরকে রক্ষা করতে শিখ অশুভের হাত থেকে।”(সূরা বাকারা: ১৮৩)।
৬। “নিশ্চয়ই আমি তা (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে। আর কদরের রাত সম্বন্ধে তুমি কী জানো? কদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, বিরাজ করে ঊষার আবির্ভাব পর্যন্ত।’’ (সূরা আল-কদর, আয়াত ১-৫)।
৭। “রমজান মাস, এতে মানুষের দিশারি এবং সৎ পথের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে আল-কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে।’’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৮৫)।
৮। “তোমাদের মধ্যে কেউ পীড়িত হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময় সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে। এ (সিয়াম) যাদের অতিশয় কষ্ট দেয় তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদ্ইয়া—একজন মিসকিনকে অন্নদান করা। যদি কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎ কাজ করে, তবে সেটা তার পক্ষে অধিকতর কল্যাণকর। তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে, তারা যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে। আর কেউ পীড়িত থাকলে অথবা সফরে থাকলে অন্য সময় এই সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য যেটা সহজ সেটাই চান এবং যা তোমাদের জন্য ক্লেশকর, তা চান না এ জন্য যে তোমরা সংখ্যা পূরণ করবে।’’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৪-১৮৫)।
৯। “তোমরা স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হবে না, যখন তোমরা মসজিদে ইতিকাফে থাকবে।’’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৭)।
১০। “যদি কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎ কাজ করে, তবে তা তার পক্ষে অধিক কল্যাণকর। আর যদি তোমরা উপলব্ধি করতে, তবে বুঝতে রোযা পালন করাই তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণপ্রদ।’’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৪)।
১১। “শপথ আত্মার এবং যিনি তা সুঠাম করেছেন তাঁর, অতঃপর তাঁকে পাপাচারের ও ধার্মিকতার পথ শিক্ষা দিয়েছেন। সুতরাং সে সফলকাম, যে আত্মশুদ্ধি অর্জন করে। আর সে ব্যর্থ, যে নিজেকে কলুষিত করে।’’ (সূরা আশ-শামস, আয়াত: ৭-১০)।
১২। “আর তোমরা পানাহার করো, যতক্ষণ না কালো রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রাত্রি পর্যন্ত রোযা পূর্ণ করো।’’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৮৭)।
১৩। “রমজান মাসে মানুষের পথপ্রদর্শক এবং সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী রূপে আল কোরআন নাজিল হয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে তারা যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে।'’ (বাকারা : ১৮৫)।
১৪। “সিয়াম নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের। তোমাদের মধ্যে কেউ ব্যাধিগ্রস্ত হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে। এটা যাদেরকে অতিশয় কষ্ট দেয়, তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদ্রা একজন অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান করা। যদি কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎ কাজ করে এটা তার পক্ষে অধিক কল্যাণকর। আর সিয়াম পালন তথা রোযারাখাই তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণপ্রসূ যদি তোমরা জানতে।” (সুরা বাক্বারা ১৮৩-১৮৪)।


মাহে রমজান ও রোযা বিষয়ক কিছু হাদীস ঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন -

১। “তোমাদের নিকট বরকতময় মাস রমজান এসেছে, যার সিয়াম আল্লাহ তোমাদের উপর ফরয করেছেন’’। (সুনান নাসায়ী: ২০৭৯)।
২। “এক রমজান তার পূর্ববর্তী রমজানের মধ্যবর্তী সময়ের সকল সগীরা গুনাহ মিটিয়ে দেয়।” (সহীহ মুসলিম: ৩৪৪)।
৩। “সবরের মাসে সাওম পালন ও প্রত্যেক মাসে তিনদিন সাওম পালন অন্তরের অস্খিরতা দূর করে।” (মুসনাদ আহমাদ: ৭২৬১)।
৪। “যখন রমজান আগমন করে তখন খুলে দেয়া হয় জান্নাতের দরজাসমূহ এবং বন্ধ করে দেয়া হয় জাহান্নামের প্রবেশ পথগুলো। আর শৃকôখলিত করা হয় শয়তানদের।” (সহীহ মুসলিম: ১৭৯৩)।
৫। “এ মাসের প্রত্যেক রাতেই আল্লাহ তার কতিপয় বান্দাহকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।” (সুনান তিরমিযী: ৬১৮)।
৬। “রমজান মাসের সিয়াম দশ মাসের সমতূল্য এবং শাওয়ালের ছয় দিনের সিয়াম দুই মাসের সমতুল্য। এ যেন সারা বছরের সিয়াম।” (মুসনাদ আহমাদ: ২১৭৮)।
৭। “এ মাসের প্রতি রাতেই আহ্বানকারী ঘোষণা দেয়, হে কল্যাণ কামনাকারী,কল্যাণের দিকে আস। হে অকল্যাণ কামনাকারী থেমে যাও।” (সুনান তিরমিযী: ৬১৮)।
৮। “রমজান মাসে কৃত প্রত্যেক মুসলমানের দোয়া কবুল হয়ে থাকে।” (মুসনাদ আহমাদ: ৭১৩৮)।
৯। “তোমাদের নিকট বরকতময় মাস রমজান এসেছে, যার সিয়াম আল্লাহ তোমাদের উপর ফরয করেছেন।” (সুনান নাসায়ী: ২০৭৯)।
১০। “সাওম পালনকারীদেরকে রাইয়ান নামক দরজা হতে ডাকা হবে।” (সহীহ বুখারী: ১৭৬৪)।
১১। “তোমাদের কারোর যুদ্ধক্ষেত্রের ঢালের ন্যায় সাওমও জাহান্নামের ঢালস্বরূপ।” (সুনান নাসায়ী: ২২০০)।
১২। “কিয়ামতের দিনে সাওম ও কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে।” (মুসনাদ আহমাদ: ৬৩৩৭)।
১৩। “কোন ব্যক্তির ফিতনা তার পরিবার, জান, মাল, সন্তান ও প্রতিবেশির মাঝে। যাকে মিটিয়ে দেয় সালাত, সাওম,সাদাকাহ, সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ।” (সহীহ বুখারী ৪৯৪)।
১৪। “কেবল সাওম ছাড়া আদম সন্তানের প্রত্যেক আমল তার জন্য; সাওম আমার জন্য আমি নিজে এর প্রতিদান দিব।” (সহীহ বুখারী: ১৭৭১)।
১৫। “যার হাতে আমার জীবন তার কসম, রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহ তা'আলার নিকট মিশকের ঘন্সাণের চেয়েও অধিক উত্তম।” (সহীহ বুখারী: ১৭৬১)।
১৬। “যে মিথ্যা কথা ও কাজ এবং মূর্খতা পরিত্যাগ করতে পারল না তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।” (সহীহ বুখারী: ১৭৭০)।
১৭। “কত সাওম পালনকারী রয়েছে যারা অনাহার ছাড়া আর কিছু পায় না।” (মুসনাদ আহমাদ: ৯৩০৮)।
১৮। “সাওম ঢাল স্বরূপ।তোমাদের কেউ যেন সাওম পালনের দিনে অশ্লীল আচরণ ও শোরগোল না করে। যদি তাকে কেউ গালি দেয় বা তার সাথে ঝগড়া করে তখন সে যেন বলে ‘আমি রোযাদার'।” (সহীহ বুখারী: ১৭৭১)।
১৯। “নবীজী (স·) ছিলেন মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি দানশীল। তিনি সবচেয়ে বেশি দান করতেন রমজান মাসে।” (সহীহ বুখারী: ৫)।
২০। “যে ঈমান ও সওয়াবের উদ্দেশ্যে রমজানের রাতে সালাত আদায় করে তার অতীতের পাপসমূহ মা করে দেয়া হয়। (সহীহ বুখারী: ৩৬)।
২১। "সাওম ও কুরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে।" (মুসনাদ আহমাদ: ৬৩৩৭)।
২১। “যে ব্যক্তি রমজান মাসে পেয়েও তার পাপ ক্ষমা করাতে পারেনি তার নাক ধুলায় ধূসরিত হোক।” (সুনান তিরমিযী: ৩৪৬৮)।
২২। “রমজান মাসে উমরা আদায় আমার সাথে হজ্ব আদায়ের সমতূল্য। (সহীহ বুখারী: ১৭৩০)।
২৩। “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করতেন’’ (সহীহ বুখারী: ১৮৮৫)।
২৪। “যে কোন রোযাদারকে ইফতার করাবে সে রোযাদারের অনুরূপ সওয়াব লাভ করবে, তবে তাতে রোযাদারের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমবে না।' (সুনান তিরমিযী: ৭৩৫)।
২৫। “রমজান মাসে কৃত প্রত্যেক মুসলমানের দোয়া কবুল হয়ে থাকে’’।(মুসনাদ আহমাদ: ৭১৩৮)।
২৬। “তোমরা সাহরী খাও, কারণ সাহরীতে বরকত রয়েছে।” (সহীহ বুখারী: ১৭৮৯)।
২৭। “মু'মিনের উত্তম সাহরী হল খেজুর।” (সুনান আবু দাউদ: ১৯৯৮)।
২৮। “তোমরা তাড়াতাড়ি ইফতার কর এবং দেরিতে সাহরী কর’’।(আসসিলসিলাতুস সহীহা: ১৭৭৫)।
২৯। “আমাদের রব তাবারাকা ওয়া তা'আলা প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন, কে আছ! যে আমার নিকট দোয়া করবে আমি তার দোয়া কবুল করব। কে আছ! যে আমার নিকট চাইবে আমি তাকে দান করব। কে আছ! যে আমার কাছে মা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব।” (সহীহ বুখারী: ১০৭৭)।
৩০। “মানুষ যতদিন পর্যন্ত তাড়াতাড়ি ইফতার করবে ততদিন কল্যাণের সাথে থাকবে।” (সহীহ বুখারী: ২৮২১)।
৩১। “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের পূর্বে তাজা খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। যদি তাজা খেজুর পাওয়া না যেত তবে শুকনো খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। যদি শুকনো খেজুর পাওয়া না যেত তাহলে কয়েক ঢোক পানি দ্বারা ইফতার করতেন।” (সুনান আবু দাউদ: ২০০৯)।
৩২। “তিন ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়, ন্যায়পরায়ণ নেতা,রোযাদার যখন ইফতার করে,নির্যাতিত ব্যক্তি।” (সুনান তিরমিযী: ২৪৪৯)।
৩৩। “যে কোরা রোযাদারকে ইফতার করাবে সে রোযাদারের অনুরূপ সওয়াব লাভ করবে, তবে তাতে রোযাদারের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমবে না।” (সুনান তিরমিযী: ৭৩৫)।
৩৪। “যে মিথ্যা কথা ও অন্যায় কাজ পরিত্যাগ করেনি তার পানাহার ত্যাগ আল্লাহর কোন কাজে আসবে না।” (সহীহ বুখারী: ১৭৭০)।
৩৫। রাসূলুল্লাহ (স·)বলেন, যখন ইফতার করতেন তখন বলতেন-

“পিপাসা নিবারণ হল, শিরা-উপশিরা সিক্ত হল এবং প্রতিদান সাব্যস্ত হল ইনশাআল্লাহ ’’।(সুনান আবু দাউদ: ২০১০)।
৩৬। আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন-

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযা অবস্খায় তাকে চুম্বন করতেন এবং রোযা অবস্খায় আলিঙ্গন করতেন।” (সহীহ মুসলিম: ১৮৫৪)।
৩৭। “রাসূলুল্লাহ (স.) যখন রমজানের শেষ দশকে পৌঁছতেন তখন লুঙ্গি শক্ত করে বেঁধে নিতেন (প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন), রাত্রি জাগরণ করতেন,পরিবারবর্গকে নিদন্সা থেকে জাগিয়ে দিতেন’’। (সহীহ বুখারী: ১৮৮৪)।
৩৮। “রাসূলুল্লাহ (স.) রমজানের শেষ দশকে ইবাদত-বন্দেগীতে যে পরিশন্সম করতেন অন্য সময় তা করতেন না।'’ (সহীহ মুসলিম: ২০০৯)।
==================

স্বাগতম মাহে রমজানুল মোবারক



স্বাগতম মাহে রমজানুল মোবারক 

মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী 

---------------------- 

বিসমিল্লাহির রাহমানীর রাহীম।

আল্লাহুম্মা ছাল্লি আ’লা মুহাম্মাদানিন্নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়ালা আলিহী ওয়াছহাবিহী ওয়াবারিক ওয়াছাল্লিম।

রমজান মাসের পরিচয়,মাহাত্ম্য,প্রয়োজনীয়তা এবং রোযা পালন নিয়ম ঃ

স্বাগতম মাহে রমজানুল মুবারক। একটি বছর ঘুরে আবারও অসংখ্য নিয়ামত ও সুসংবাদের বার্তা নিয়ে আমাদের দরজায় এসে উপস্থিত হলো মানবজাতির ইহলৌকিক কল্যাণ ও পারলৌকিক মুক্তির দিকদর্শন গ্রন্থ পবিত্র আল কুরআন অবতীর্ণের মাস, আত্মিক প্রশান্তি লাভের মাস, ইসলামের বিজয়ের মাস, বরকতের মাস, গুনাহ মাফের মাস, হাজার মাসের চেয়েও উত্তম রাত ক্বদরের রাত বিশিষ্ট মাস, দোয়া কবুলের মাস, ধৈর্য ধারণের মাস, সাহায্য-সহযোগিতা-সমবেদনা-সহমর্মিতা প্রদর্শনের মাস, মঙ্গল ও কল্যাণের প্রতি আহ্বানের মাস, সাম্য–মৈত্রী-ঐক্য-ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের মাস, রোজা পালনের মাস, স্বর্গদ্বার সমূহ উন্মুক্ত এবং নরকদ্বার সমূহ বন্ধের মাস, নিয়ামতপূর্ণ মোবারকময় মাস, নরক থেকে মুক্তির মাস, পবিত্র মাস, সংযম সাধনার মাস, স্থিতিশীলতা–শান্তি-সমপ্রীতি–নিরাপত্তার মাস, দশমাস রোজা পালনের সমপরিমাণ সাওয়াব বিশিষ্ট মাস, আত্মশুদ্ধির মাস, আত্মবিশ্লেষণের মাস, সমবেদনা প্রকাশের মাস, রিজিক বাড়ার মাস, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের মাস, তাকওয়া অর্জনের মাস, আত্মোন্নয়নের মাস, রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস এবং মুসলমানের শান্তির সওগাত পবিত্র মাহে রমজান।



ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের তৃতীয় স্তম্ভটি হচ্ছে সিয়াম বা রোযা। রোযা অর্থ আত্মসংযম। মাহে রামাদান বা রমজান মাস মুসলমানদের জন্য আল্লাহর তরফ থেকে এক বিশেষ রহমত স্বরুপ। এই রমজান মাস আল্লাহর তরফ থেকে বান্দার জন্য রহমত-বরকত-মাগফেরাত হিসেবে অভির্ভূত হয়ে থাকে। মানুষের দেহ ও মনকে সংযমের শাসনে রেখে ইসলামি শরিয়ত বা জীবনবিধানের পরিপন্থী যাবতীয় অসামাজিক ও অমানবিক কাজ পরিহার করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ ও তাকওয়া অর্জনের কঠোর সিয়াম সাধনাই হচ্ছে মাহে রমজানের মূলকথা। রোযা পালনের মধ্য দিয়ে মানুষের ইচ্ছাশক্তির বিকাশ, সংযম ও আত্মোন্নয়ন ঘটে। যা কিছু কল্যাণকর তার সঙ্গে রয়েছে এই পবিত্র মাসের সম্পর্ক।

মানুষের কথাবার্তায়, আচার-আচরণে, কাজকর্মে ও চলাফেরায় ধৈর্য ধারণের মাধ্যমেই সিয়াম সাধনা পরিপূর্ণ হয়। এটি এমন এক মাস যে মাসে মানুষ নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সুযোগ পায়। পরিশুদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের তওফিক অর্জন করে।

এটি এমন এক মাস যে মাসে পাপ থেকে ক্ষমা পাওয়ার সুযোগ ঘটে। কোরআন এবং হাদীসে এই রমজান শরীফ সম্পর্কে সুস্পষ্ট বিধান আবর্তিত হয়েছে এবং প্রতিটি সক্ষম মুসলমানের উপর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, সাথে সাথে এর অসংখ্য ফজিলতও বর্ণনা করা হয়েছে। রোজাদারের পুরস্কার স্বয়ং আল্লাহপাক তার বান্দাদেরকে প্রদান করবেন বলে ঘোষনা করা হয়েছে। রমজান হলো কৃচ্ছ্রসাধন করে আখিরাতের সম্বল সংগ্রহের এক উত্তম সময়। জাগতিক ধন-সম্পদ উপার্জনে যেমন বিশেষ মৌসুম ও উপলক্ষ আছে, তেমনি রমজান মাসও সৎকর্ম ও আখিরাতের নেকি লাভের উত্তম মৌসুম। আর এসব আমলের প্রতিদান হলো বেহেস্ত। পবিত্র রমজান মাস আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে ক্ষমা ও মার্জনালাভের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট মাস। রমজান মাসের সাধনা একজনকে কালগত দুটি দিকের সাথেই সম্পৃক্ত করে। একদিকে আমরা অতীতের সাথে সম্পৃক্ত হই কৃত মন্দ কাজগুলোর এবং অমনোযোগিতা, ব্যর্থতা ও অবহেলার খতিয়ানের জন্য। সেজন্য আমরা ক্ষমা প্রার্থী হই আল্লাহর নিকট। অপরদিকে, নিজেদেরকে প্রস্তুত করি ভবিষ্যতের জন্য। রোযা কেবল খাবার ও সম্ভোগ থেকে বিরত থাকাকে বুঝায় না, সব রকমের অন্যায়-অশুভ চিন্তা, আকাঙ্ক্ষা ও কাজ থেকে দূরে থাকাও বুঝায়। মানুষের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক উন্নয়নে রোযা সহায়ক ভূমিকা পালন করে। নিজেকে পরিশুদ্ধ করার, শোভামণ্ডিত করার, আল্লাহর সাথে ও অন্যদের সাথে নিজেকে আরও ঘনিষ্ঠ করার সাধনার এ মাসে আমরা আমাদেরকে চিন্তা, মনন, বাচন, আচরণ ও কর্মে আরও উন্নত করতে পারবো এবং সামনের দিনগুলো আমরা আরও সুন্দরভাবে যাপন করতে শিখব এই আশা করতে পারি নিজের জন্য এবং সকল সিয়াম সাধকদের জন্য।

মাহে রমজানের রোজার উদ্দেশ্য হচ্ছে পশু প্রবৃত্তিকে দমন করা এবং ঈমানি শক্তিতে বলীয়ান হওয়া। মাহে রমজানে সিয়াম সাধনা বা রোযাব্রত পালন মানব জীবনকে পূতপবিত্র ও সুন্দরতর করে গড়ে তোলার একটি অত্যন্ত কার্যকরী পন্থা। মানুষের আত্মশুদ্ধির একটি বলিষ্ঠ হাতিয়ার সিয়াম পালন বা রোযা। বিশেষত, মাহে রমজানে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে মানুষ তার পাশবিক প্রবৃত্তিকে সংযত এবং আত্মিক শক্তিকে জাগ্রত ও বিকশিত করে তোলার পরিপূর্ণ সুযোগ লাভ করে। কুপ্রবৃত্তির হাতিয়ার বা অস্ত্রকে দুর্বল করে বশে আনার লক্ষ্যে আল্লাহ তাআলা সিয়াম সাধনার অপূর্ব সুযোগ দিয়েছেন। মাহে রমজানের রোযা আত্মশুদ্ধি ও চরিত্র উন্নয়নের এক বিশেষ প্রক্রিয়া। সিয়াম বা রোযা দ্বারা শরীর, মন ও আত্মা বিধৌত হয়। দেহ যখন সংযমের শাসনের অধীন থাকে, আত্মা তখন সবল হয়ে ওঠে। সত্যকে গ্রহণ ও ধারণ করার ক্ষমতা অর্জন করে। রোযা বা সিয়াম সাধনার চর্চায় মানুষ এক অমিয় সুধা লাভ করে। এতে মানুষ জাগতিক লোভ-লালসা, অতিরিক্ত ধনসম্পদ অর্জনের মারাত্মক ব্যাধি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার সুযোগ পায়। আর অন্তরের বিশুদ্ধতা বা আত্মশুদ্ধির হাতিয়ার রোযা দ্বারাই অর্জিত হয়। মাহে রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। এ মাসে মানবীয় মন্দ স্বভাবগুলো থেকে বিরত থাকা রোযা আদায়ের জন্য শর্তারোপ করা হয়েছে। তাই পবিত্র রমজান মানুষকে এসব মন্দ স্বভাব পরিহার করে সৎ স্বভাব অর্জন করতে শিক্ষা দেয়। সিয়াম সাধনায় পাশবিক প্রবৃত্তি যখন দমে যায়, তখন মানবাত্মার তেজ ও প্রাণশক্তি বাড়তে থাকে। রোযার দ্বারা মানুষের আত্মার উন্নতি সাধিত হয়।

এ রমজান মাসে যারা ধৈর্যের সঙ্গে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবেন, মহান আল্লাহ তাদের সাহায্য করবেন। সিয়াম বা রোযা ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে ত্যাগের মাধ্যমে ধৈর্য ধারণের অভ্যাস গড়তে শেখায়। এ মাস মানুষকে ধৈর্যশীল হওয়া ও সংযমবোধ শেখায়। ঈমান ও সৎকর্ম চালু রাখা এবং সত্য-ন্যায়ের সংরক্ষণ ব্যক্তি ও সমাজের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ। এ কঠিন কাজ সম্পাদনের জন্য যে ধৈর্য ও সহনশীলতার প্রয়োজন, তা মাহে রমজানের দীর্ঘ সিয়াম সাধনার মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব। মাহে রমজানে কঠোরভাবে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে ধৈর্য ও সহনশীলতার যে মানবিক গুণটি অর্জিত হয়, তা শুধু ব্যক্তি পর্যায়ের গুণই নয় বরং এ মহৎ গুণটি কারও মধ্যে সৃষ্টি হলে ঈমানদারের সমষ্টিগত জীবনে অপরের জন্য তা উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে, মানুষকে কঠিন ও দুর্গম পথপরিক্রমায় চলতে শক্তি জোগায়। রোযা পালনের মাধ্যমে অর্জিত ধৈর্য ও সহনশীলতা ঈমান ও তার ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম সাধনায় প্রচুর নিয়ামক শক্তি সঞ্চার করে। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে অর্জিত সহনশীলতা তাই শুধু ব্যক্তিগত কল্যাণই বয়ে আনে না, বরং মুসলমান সমাজের জন্য একটি দলগত কল্যাণ বয়ে আনে।

আল্লাহ পাক তাঁর অসীম দয়া, ক্ষমা ও পরিত্রাণ প্রাপ্তির জন্য মাসব্যাপী রোজা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, যেন সংযমের মাধ্যমে বান্দারা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও পরিশুদ্ধি অর্জন করেন। রোজার উদ্দেশ্য হচ্ছে আত্মসংযম, আত্মসংশোধন ও কৃচ্ছ্র সাধন। মানবজীবনকে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও পরিশুদ্ধ করে গড়ে তোলার একটি অত্যন্ত কার্যকরী দৈহিক ইবাদত রোযা। শারীরিক রোযার মূল ভিত্তি হচ্ছে অন্তরের রোযা। তাই রোযার জন্য নিজেদের মন-মানসিকতা, চিন্তা-ভাবনা, ধ্যান-ধারণা ও প্রবৃত্তিকে দমন ও কলুষমুক্ত হতে হবে। সৎ নিয়ত, স্বচ্ছ চিন্তা-পরিকল্পনা, একনিষ্ঠতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও পরিশুদ্ধতা হচ্ছে অন্তরের মূল কথা।

রোযা মানুষকে আত্মনিয়ন্ত্রণ লাভের শিক্ষা দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেহির খাওয়া, ইফতার করা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা, জামাতে খতমে তারাবি পড়া প্রভৃতি ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে নিয়মানুবর্তিতাও শেখায়। মাহে রমজানে ইফতার থেকে সেহরী পর্যন্ত যে রুটিন অনুযায়ী দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করতে হয়, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ। মাহে রমজান মানুষকে সৎ, নির্লোভ ও আত্মসংযমী হতে শেখায়। কাজকর্মে, ব্যবসা-বাণিজ্যে, সর্বোপরি এমন এক আলোকিত মানুষ হতে শেখায়, যিনি ঘুষ-দুর্নীতি ও অপকর্ম থেকে মুক্ত। কাম, ক্রোধ, লোভ-মোহ, পরচর্চা, মিথ্যাচার, যেকোনো ধরনের অনিষ্টকর ও পাপ কাজ ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। রোজাদার ব্যক্তি তাঁর জাগতিক লোভ-লালসার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও প্রবণতার সব খারাপ দিককে দূরে সরিয়ে রাখেন এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে কৃচ্ছ্র সাধন করে নিজেকে সর্বোত্তম মানুষে রূপান্তরিত হওয়ার এ সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগান। ফলে তিনি নম্রতা, সংযম, উদারতা, শিষ্টতা ইত্যাদি সৎগুণ চর্চার মাধ্যমে আল্লাহর প্রতিনিধিরূপে নিজেকে পরিপূর্ণতা দিতে পারেন। মানুষের জন্য তাই সিয়াম সাধনা একটি উৎকৃষ্ট আত্মশুদ্ধির কর্মকৌশল, যে কৌশল অবলম্ব্বনে একদল পরিশুদ্ধ মানুষ সব কলুষতার ঊর্ধ্বে উঠে, পূতপবিত্র পরিশীলিত মন নিয়ে নিজেকে মানবসেবায় উৎসর্গ করতে পারে।

মাহে রমজানে সিয়াম সাধনা মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ও সাম্য সৃষ্টি করে। মাহে রমজানে সিয়াম সাধনা বা রোযাব্রত পালন সমাজে সাহায্য-সহযোগিতা, সমবেদনা তথা সহমর্মিতা প্রদর্শনের অন্যতম মাধ্যম। মাহে রমজান সামাজিক ঐক্য ও নিরাপত্তা বিধানে এবং একটি সংঘাতমুক্ত গঠনমূলক আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। রমজান মাসে কঠোর সিয়াম সাধনার মাধ্যমে রোজাদার ব্যক্তিরা অপরের বদনাম ও কূটনামি থেকে বিরত থাকেন। তাঁরা সকল প্রকার ঝগড়া-বিবাদ, ফিতনা-ফ্যাসাদ, অযথা বাগিবতণ্ডা ও যাবতীয় খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকেন। তাঁদের মুখ থেকে কোনো প্রকার অশ্লীল কথা বের হয় না। যদি কোনো রোযাদার লোককে কেউ গালিগালাজ ও ঝগড়া-বিবাদে প্ররোচিত করতে চায়, তখন সেই রোযাদার যদি উত্তেজিত না হয়ে ঝগড়া-বিবাদ ও গালিগালাজ থেকে দূরে সরে যান, তাহলে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট হয় না এবং একটি আদর্শ নৈতিকতাপূর্ণ সহনশীল সমাজ গড়ে ওঠে। মাহে রমজানে সমাজের স্থিতিশীলতা, শান্তি, সমপ্রীতি ও নিরাপত্তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিদ্যমান। সমাজের প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মানুষ যদি মাহে রমজানের মতো অন্যান্য মাসেও আত্মসংযমের সঙ্গে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-দল-মতনির্বিশেষে সব ধরনের বিরোধ এড়িয়ে যান, তাহলে কোনোরূপ সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় না। তাই সমাজ জীবনে পরস্পরের প্রতি সাহায্য-সহযোগিতা, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এবং সাম্য, মৈত্রী, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের ক্ষেত্রে রোযার ভূমিকা অনস্বীকার্য। মাহে রমজান প্রকৃত অর্থেই যেন মানুষের মনের পশুত্ব, আত্মঅহমিকা, হিংস্রতাসহ সব অমানবিক দোষ-ত্রুটি জ্বালিয়ে ভস্ম করে ও ধৈর্য-সহনশীলতা বিকশিত করে।

মুসলিম উম্মাহর জন্য রমজান মাসের শ্রেষ্ঠতম নিয়ামত আল্লাহর বাণী আল কোরআনুল কারিম। এই মাসে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়। মানব জাতির পথ-প্রদর্শক হিসেবে আল্লাহ এই মহাগ্রন্থ নাজিল করেন। মাহে রমজান হচ্ছে পবিত্র কোরআন মজিদের শিক্ষা অর্জন ও বিস্তারের মাস।
রোযাদারেরা যেন রোযা পালন ও পবিত্র কোরআনের মহিমাময় আদর্শের পরিপূর্ণ অনুশীলনের মাধ্যমে মাহে রমজানে প্রশিক্ষণ লাভ করতে পারেন এবং জীবন-দর্শন হিসেবে আল-কোরআনের আলোকে নিজেদের চরিত্র গঠন করতে পারেন,পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে নিজেদের প্রশিক্ষিত করার জন্য মাহে রমজানই উত্তম। এই মাহে রমজানে সব ধর্মপ্রাণ মুসলমানের আল-কোরআনের চর্চা ও অনুশীলনে আত্মনিয়োগ করা বাঞ্ছনীয়। পবিত্র কোরআনের মর্মবাণী উপলব্ধি করে ইসলামের বিধান অনুসারে জীবনযাপন করতে পারলেই মাহে রমজানের যথার্থ হক আদায় হবে। রমজান মাস আমাদের জন্য কোরান অনুযায়ী নিজেকে গড়ার বিশেষ প্রশিক্ষণ কাল এবং আমাদেরকে কোরান দানের জন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা বিশেষভাবে প্রকাশের কাল। রমজান মাসে আল্লাহ কোরান অবতীর্ণ করা শুরু করেন।

যে রাতে প্রথম কোরান নাজিল হয় সে রাতকে আল্লাহ মহিমান্বিত রাত ও মর্যাদার রাত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এ রাতের মহিমা ও মর্যাদা কোরানের জন্যই, কোরানের মহিমা ও মর্যাদার জন্য। আল্লাহ কোরানের মাধ্যমে ঘোষণা করেছেন নিজের এবং জগতে মানুষের মহিমা ও মর্যাদা। কাজেই এ রাত হয়ে উঠেছে প্রকৃত প্রস্তাবে আল্লাহ ও মানুষের মহিমা আর মর্যাদার রাত। কোরান এসেছে মানুষের পথ-নির্দেশনার জন্য। এ রাতেই শুরু হয়েছিল মানুষের জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞা পূর্ণ বিষয়াদির নিষ্পত্তি এবং মানুষের জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় শান্তির সম্প্রসারিত বার্তা। এ রাত তাই আমাদের কাছে সহস্র মাসের চেয়েও উত্তম রাত। এ রাত রমজান মাসের রাত এবং রমজান মাসের শেষ দশ দিনের কোন এক বেজোড় রাত। কাজেই রমজান মাস এবং এ মাসের শেষ দশ দিন আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। রমজান মাস এবং কদরের রাত মানব জাতির ইতিহাসে মানুষের সাথে তার প্রতিপালকের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ যোগাযোগের মাস ও রাত।

আল্লাহ এ মাসকেই বেছে নিয়েছেন মানুষের জন্য বিশেষ সাধনার মাস হিসেবে। এই সাধনাই সিয়াম সাধনা। তদুপরি, এ মাসের শেষের দশ দিন আমরা পালন করি আরও কঠোর সাধনা যাকে বলা হয় এতেকাফ। উদ্দেশ্য একটিই আর তা হলো তাকওয়া অর্জন। তাকওয়ার অর্থ হলো - সচেতনতা, সংযম, বিচারশীলতা, সতর্কতা। এ সচেতনতা যেমন আল্লাহ সম্বন্ধে, তেমনই নিজের সম্বন্ধে, তেমনই জীবনে দায়িত্বের গুরুভার সম্বন্ধে।

মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা বা রোযাকে দেহের জাকাত স্বরূপ বলা হয়েছে। জাকাত আদায় করলে যেমন মানুষের উপার্জিত সব ধনসম্পদ পবিত্র হয়, তেমনি রমজান মাসে রোজা পালন করলে সারা শরীর পবিত্র হয়ে যায়।বস্তুর পবিত্রতা হাসিলের জন্য যেমন জাকাত দিতে হয়, তেমনি মানুষের শরীর তথা আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য সত্যিকারের সিয়াম বা রোযা পালন করতে হয়।

জাকাত দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়ের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও রমজান মাসই জাকাত আদায়ের সর্বোত্তম সময়। মাসব্যাপী রোযা রেখে রোজাদার লোকেরা পরস্পরের প্রতি সহমর্মী ও সহানুভূতিশীল হয়ে পড়েন। ফলে বিত্তবানেরা বেশি বেশি দান-খয়রাত, সাদকা, জাকাত দিতে উৎসাহিত হন। কেননা রমজান মাসে যেকোনো ধরনের দান-সাদকা করলে অন্য সময়ের চেয়ে ৭০ গুণ বেশি সওয়াব হাসিল হয়। তাই রমজান মাসে রোজাদার মুমিন বান্দারা একসঙ্গে জাকাত ও ফিতরা আদায় এ দু’টি আর্থিক ইবাদত করে থাকেন।

মাহে রমজানসহ সারা বছর নিজের ও পরিবারের যাবতীয় খরচ বাদ দিয়ে যদি কোনো মুসলমানের কাছে নিসাব পরিমাণ অর্থাৎ বছরের আয় থেকে ব্যয় বাদ দিয়ে যদি কমপক্ষে সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ তোলা রৌপ্য অথবা সমমূল্যের ধন-সম্পদ থাকে, তবে তার সম্পদের শতকরা আড়াই টাকা হিসাবে আল্লাহর নির্ধারিত খাতে গরিব-মিসকিনদের মধ্যে বণ্টন করতে হয়, আর এটাই হলো জাকাত। যার ওপর জাকাত ফরজ হয়েছে, তাকে অবশ্যই জাকাত দিতে হবে। আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক ধন-সম্পদের ৪০ ভাগের ১ ভাগ অসহায় গরিব-দুঃখীদের জাকাত প্রদান করে রোজাদার আত্মিক প্রশান্তি লাভ করে থাকেন।

জাকাত গরিবের প্রতি ধনীর অনুগ্রহ নয়, বরং তা গরিবের ন্যায্য অধিকার। এভাবে জাকাতের মাধ্যমে ধনী রোজাদারেরা গরিবদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করেন। ধনী রোজাদার লোকেরা যদি ঠিকমতো জাকাত আদায় করেন, তাহলে সমাজে কোনো অন্নহীন, বস্ত্রহীন, আশ্রয়হীন, শিক্ষাহীন লোক থাকতে পারে না। মাহে রমজানে যে জাকাত-ফিতরা প্রদান করা হয়, কতিপয় ধনী লোক গরিবদের প্রতি তা দয়া বা অনুগ্রহ বলে মনে করেন। আর গরিব-দুঃখীদের মনে করা হয় করুণার পাত্র। কিন্তু ধনীর অর্থ-সম্পদে দরিদ্র অসহায়দের অধিকার রয়েছে। রমজান মাসে ধনী লোকেরা জাকাত-ফিতরা দিয়ে সেই দায়িত্বমুক্ত হচ্ছেন মাত্র। আর জাকাত-ফিতরা আদায় না করলে তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করেননি বলে দোষী সাব্যস্ত হবেন। জাকাত-ফিতরা বা দান-খয়রাত করুণার বিষয় নয়, এগুলো হলো বান্দার হক। রোজা পালনকারী প্রত্যেক ধনী ব্যক্তিরই আল্লাহকে ভয় করে কড়ায়-গন্ডায় জাকাত আদায় করা উচিত।

রমজান মাসে বঞ্চিতদের অধিকার রক্ষায় ও সমাজের ধনী-দরিদ্রের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণে জাকাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। জাকাতের প্রকৃত হক্বদার হচ্ছে তারা, যারা কর্মক্ষমতাহীন এবং যারা কর্মক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও উপার্জনহীন অথবা পর্যাপ্ত পরিমাণে উপার্জন করতে পারছে না। এমতাবস্থায় দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্বিপাকে ধনী লোকেরা যদি রমজান মাসে অগ্রিমও জাকাত আদায় করেন, তাহলে সব ধরনের অভাবী, দুর্দশাগ্রস্ত, দুর্গত মানুষের অভাব দূরীকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিধান ও পুনর্বাসন করা সহজ হতে পারে। মাহে রমজানে জাকাতকে সঠিক খাতে এবং সহায়-সম্বলহীন দুস্থ এতিমদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে ব্যবহার করতে পারলে সমাজ থেকে সহজেই অভাব-অনটন ও দারিদ্র্য বিমোচন করা সম্ভব হবে।

মানুষের সুপ্রবৃত্তিগুলো মানব মনে ইসলাম-নির্দেশিত শান্তি, শৃঙ্খলা, ঐক্য, সাম্য, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব, প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসা প্রভৃতি মহৎ কাজের প্রতি অনুরাগ এনে দেয়। আর কুপ্রবৃত্তি বা কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য এ ষড়িরপুসমূহ মানবজীবনে অনৈক্য, হিংসা, বিদ্বেষ, অন্যায়, অত্যাচার, ব্যভিচার, নির্মমতা, পাশবিকতা, হত্যাকাণ্ড, ধনসম্পদের লোভ-লালসা, আত্মসাৎ প্রবণতা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, চাঁদাবাজি, ঘুষ-দুর্নীতি, অশান্তি, বিশৃঙ্খলা প্রভৃতি অনৈসলামিক ও অমানবিক কার্যকলাপের উদ্ভব ঘটায়।
মানুষের কুপ্রবৃত্তির এ তাড়না থেকে আত্মশুদ্ধির উপায় এবং উন্নততর জীবনাদর্শের অনুসারী হওয়ার জন্যই মাহে রমজানে রোজা রাখার বিধান করা হয়েছে।

রোজার মাধ্যমে কুপ্রবৃত্তির ওপর বিবেকের পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়, এর দ্বারা মানুষের পাশবিক শক্তি অবদমিত হয় এবং রুহানি শক্তি বৃদ্ধি পায়। রমজান মাসের প্রশিক্ষণের ফলে একজন ধর্মভীরু মানুষ হালাল খানাপিনা এবং জৈবিক রিপুর তাড়না ও কামনা-বাসনা থেকে দূরে থাকতে সক্ষম হন।প্রতিটি রোযাদারের মধ্যে যখন মানবিক গুণাবলি বিকশিত হবে, প্রতিটি মানুষ যখন হবে প্রকৃত মানুষ, থাকবে না হিংসা-বিদ্বেষ, মারামারি, হানাহানি, সন্ত্রাস, ঘুষ-দুর্নীতি, অরাজকতা, সামপ্র্রদায়িকতা ও মানুষে মানুষে ভেদাভেদ। চূর্ণ হবে মানুষের অহমিকা ও আমিত্ববোধ, যা সব অন্যায় ও অনাচারের জন্মদাতা। সৃষ্টি হবে মানুষে মানুষে সম্প্রীতি। এ অশান্ত পৃথিবীর বুকে বয়ে চলবে শান্তির সুশীতল বায়ু। এ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়েই প্রতিবছর মাহে রমজান মুসলিম উম্মাহর দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়।

রোজার মূল লক্ষ্য হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টি আর রোযার ব্যবহারিক উদ্দেশ্য হলো কুপ্রবৃত্তি দমন, আত্মসংশোধন, আত্মসংযম ও খোদাভীতি অর্জন। রমজান মাসের রোযার মাধ্যমে রোযাদার খোদাভীতি অর্জন করেন, সৃষ্টিকর্তার শোকর আদায় করতে শেখেন এবং আল্লাহর হুকুমের কদর বুঝতে পারেন। প্রকৃতপক্ষে সব কাজকর্মের মধ্য দিয়ে রোযাদার মানুষ মূলত আল্লাহর আদেশ-নিষেধগুলোকে মেনে চলার চেষ্টা করেন। রোযা রাখার কারণে মানুষ নিজের নফস বা আত্মাকে কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ প্রভৃতি কুপ্রবৃত্তি থেকে পরিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে। মানুষ তার সমস্ত কামনা-বাসনা ও লোভ-লালসা পরিত্যাগ করে বিভিন্ন যাতনা ও দুঃখ-কষ্ট সহ্য করে খোদাভীতি অর্জনে ব্রতী হয়।

দেহকে আত্মনিয়ন্ত্রণে আনতে হলে দৈহিক প্রেরণাকে সংযত করতে হয়। আত্মিক শক্তিকে সমৃদ্ধ করতে হয়। দৈহিক কামনা-বাসনাকে সংযত করার জন্য একদিকে ক্ষুধা-তৃষ্ণার কষ্ট সহ্য ও রিপুর তাড়নাকে পরিত্যাগ করতে হয়, অন্যদিকে জিহ্বা ও মনের চাহিদা এবং অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এভাবে দৈহিক আকাঙ্ক্ষা ও প্রেরণাকে যত সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, অন্য কোনোভাবে তা সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যবিশারদগণ বলেন - শরীরটাকে ভালো রাখতে চাও তো রোযা করো। নীরোগ, দীর্ঘজীবী ও কর্মক্ষম সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হলে বছরের কিছুদিন উপবাসের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খাদ্যাভাব বা আরাম-আয়েশের জন্য মানুষের শরীরের যে ক্ষতি হয়, রোযা তা পূরণ করে দেয়।

মাহে রমজানে একজন রোযাদার সারা দিনের ক্লান্তি, অবসাদ ও কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে সিয়াম সাধনা করে উন্নত মানবিক গুণাবলি অর্জনে সক্ষম হন। মাহে রমজানের সিয়াম সাধনার মধ্যে রোযাদারদের জন্য রয়েছে অশেষ কল্যাণ ও উপকার। স্বাস্থ্যগতভাবে এবং মানসিক উৎকর্ষ সাধনের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। রোযার মাধ্যমে মানুষের আত্মিক ও নৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটে। লোভ-লালসা, হিংসা-ঈর্ষা, প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষমুক্ত হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিশ্ব মানবসমাজ ও সম্প্রদায়কে সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য মাহে রমজান এক নিয়ামক শক্তি। রোযার মধ্যে এমন একটি অপ্রতিরোধ্য আধ্যাত্মিক চেতনাশক্তি আছে, এমন এক বরকতময় ও কল্যাণকর উপাদান আছে, যা মানুষকে সব রকমের পাপাচার, অনাচার থেকে ঢালস্বরূপ রক্ষা করে, তেমনি তাকে পাপের কালিমামুক্ত এক পবিত্র, পরিশুদ্ধ খাঁটি মানুষ করে তোলে।

রমজান মাসে শুধু রোযাদারই নন বরং আল্লাহর সব সৃষ্টি তাঁর অশেষ রহমতলাভে ধন্য হয়। এ নিয়ামতপূর্ণ মোবারকময় মাসে আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিনের অপার রহমতের দরজাগুলো তাঁর নেক বান্দাদের জন্য খুলে দেয়া হয়। দরজা খোলার অর্থ হচ্ছে, রমজান মাসে আল্লাহর অসীম রহমত উম্মতের ওপর অবিরাম বৃষ্টির মতো বর্ষিত হতে থাকে। সৎকাজ ও নেক আমলগুলো আল্লাহতায়ালার দরবারে পেশ করা এবং দোয়া কবুল হয়।

মানবজীবনের সামগ্রিক কল্যাণ লাভের প্রত্যক্ষ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা রমজান মাসের সিয়ামের মধ্যে নিহিত রয়েছে। রোযার মৌলিক উদ্দেশ্যই হচ্ছে জীবনকে পবিত্র ও পরিশীলিত রাখা। আর একটি পবিত্র ও পরিশীলিত জীবন সর্বদাই সমাজ ও মানবতার জন্য নিবেদিত হয়ে থাকে। রোযাদার মাহে রমজানের মাসব্যাপী নফসের সঙ্গে রীতিমতো যুদ্ধ করেন, যার ফলে পরিশুদ্ধতার সৌকর্য-শোভায় তিনি সুশোভিত হওয়ার সুযোগ লাভ করেন। রোযা পালনের মধ্য দিয়ে মানুষ পরিশুদ্ধতার শীর্ষে পৌঁছাতে পারে।
মাহে রমজানের আরেক অর্থ জ্বালিয়ে ফেলা, ভস্ম করা। এবারের মাহে রমজান প্রকৃত অর্থেই যেন মানুষের পশুত্ব, আত্মঅহমিকা, হিংস্রতাসহ সব অমানবিক দোষ-ত্রুটি ভস্ম করে, ধৈর্য-সহনশীলতা, প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসা-হূদ্যতা বিকশিত করে এবং মানবিক গুণাবলি অর্জন করে যেন আমরা মুত্তাকি হয়ে নিজেদের মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করতে পারি।
রমজান মাস যেন মানুষে মানুষে সমপ্র্রীতি ও ভালোবাসা গড়ে ওঠার অবলম্বন হয়। সমাজ থেকে যেন সব ধরনের অরাজকতা-অনাচার দূরীভূত হয়, মানুষ যেন খুঁজে পায় সত্য, সুন্দর ও মুক্তির পথ। আল্লাহ তাআলা আমাদের যথাযথভাবে মাহে রমজানের গুরুত্ব উপলব্ধি করার এবং এ মাসের মূল উদ্দেশ্য মানবজীবনকে সুন্দর-সুশৃঙ্খল ও পরিশীলিত করার জন্য বেশি বেশি নেক আমল করার তাওফিক দান করুন! আমীন।

রোযা পালনের সংক্ষিপ্ত নিয়ম

যাদের উপর রোযা ফরয ঃ

ক) মুসলিম নর-নারীর উপর রোযা ফরয।
খ) প্রাপ্ত বয়স্ক নর-নারীর উপর রোযা ফরয।
গ) সুস্থ মস্তিক সম্পন্ন নর-নারীর জন্য রোযা ফরয।
ঘ) মুকিম নর-নারীর উপর রোযা ফরয।
ঙ) সামর্থ্যবান নর-নারীর উপর রোযা ফরয।
চ) মাসিক বন্ধ এমন নারী।

যাদের উপর রোযা ফরয নয় ঃ

ক) অপ্রাপ্ত বয়স্কের উপর রোযা ফরয নয়।
খ) পাগলের উপর রোযা ফরয নয়।
গ) মুসাফিরের উপর রোযা ফরয নয়।
ঘ) সামর্থ্যহীন লোকের উপর রোযা ফরয নয়। (যেমন অতি বার্ধক্যের কারণে যে ভাল-মন্দের পার্থক্য করতে পারে না এমন ব্যক্তি। যে অসুস্থতার কারণে রোযা রাখতে সামর্থ নয় এমন ব্যক্তি। গর্ভবতী ও দুগ্ধদান কারী নারী নিজের ও সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা করলে রোযা ছাড়তে পারবে। পরে কাযা আদায় করে নিবে)।

যে সব কারনে রোযা ভঙ্গ হয় ঃ

ক) রোযার সময়ে ইচ্ছাকৃতভাবে খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা। (চাই তা স্বাস্খ্যের জন্য উপকারী হোক বা তিষ্ঠার জন্য।) যেমন ধুমপান,তামাক পান ইত্যাদি।
খ) রোযা অবস্খায় যৌন মিলন ঘটানো। (এতে কাযা ও কাফ্ফারা উভয়টি ওয়াজিব হবে।)
গ) জাগ্রত অবস্খায় চুম্বন, স্পর্শ, হস্তমৈথুন, আলিঙ্গন, সহবাস ইত্যাদির মাধ্যমে বীর্যপাত ঘটানো।
ঘ) পানাহারের বিকল্প হিসেবে রক্তগ্রহণ, স্যালাইনগ্রহণ, এমন ইনজেকশন নেয়া বা আহারের কাজ করে, যথা- গ্লুকোজ ইনজেকশন ইত্যাদি নেয়া। অনুরূপ রক্তরণ মিটানোর জন্য ইনজেকশনের মাধ্যমে রক্ত প্রদান করা।
ঙ) ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা। তবে অনিচ্ছাকৃত বমি করলে তাতে রোযা ভঙ্গ হবে না।
চ) মহিলাদের হায়েজ (ঋতুস্রাব) ও নিফাস (প্রসবজনিত রক্তক্ষরণ) হওয়া।

যে সব কারনে রোযা ভঙ্গ হয় না ঃ

ক) ভুলবশত পানাহার বা স্ত্রী সহবাস করা।(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কেউ যদি রোযা অবস্খায় ভুলবশত: পানাহার করে সে যেন তার রোযা পূর্ণ করে; কেননা আল্লাহই তাকে পানাহার করিয়েছেন।)
খ) শরীর বা কাপড়ে সুগন্ধি ব্যবহার করা। এমনকি নাকে মুখে ঘন্সাণযুক্ত তেল ব্যবহার করা। চোখে সুরমা ব্যবহার করা।
গ) রোযা অবস্খায় স্বপ্নদোষ হওয়া। এমনকি কারো প্রতি অসৎ দৃষ্টি নিক্ষেপের কারণে বীর্যপাত ঘটা। অনুরূপ কোন রোগের কারণে উত্তেজনা ব্যতীত বীর্যপাত ঘটা।
ঘ) স্বাভাবিক কোন কারণে যেমন কেটে যাওয়া, দাঁত উঠানো, নাকের রোগ ইত্যাদিতে রক্ত বের হলে রোযা ভাঙ্গবে না।
ঙ) স্বামী-স্ত্রী চুম্বন-আলিঙ্গন। তবে শর্ত হল - বীর্যপাত না ঘটা। (তবে যে ব্যক্তি চুম্বন-আলিঙ্গনের পর নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে না বলে আশংকা রয়েছে, তার জন্য এরূপ করা সঠিক হবে না।)
চ) অপবিত্র অবস্থায় সকাল করা। এমনকি তাতে সারাদিন গড়িয়ে গেলেও রোযা নষ্ট হবে না।
ছ) সাওম পালন অবস্থায় মিসওয়াক করা।
জ) খাবারের স্বাদ পরীক্ষা করার জন্য জিহ্বায় তার স্বাদ গ্রহণ করা। (তবে তা যেন পেটে চলে না যায়।)
ঝ) অসুস্থতার কারণে গ্যাস জাতীয় স্প্রে ব্যবহার করা। ডায়াবেটিস রোগীর ইনসুলিন ব্যবহার করা।
ঞ) পরীক্ষার জন্য রক্ত প্রদান করা।
ট) কুলি করার সময় অনিচ্ছাকৃত মুখে পানি ঢুকে যাওয়া।
ঠ) সূর্য ডুবে গেছে অথবা ফজর এখনো হয়নি ভেবে পানাহার করা।
ড) এমন ইনজেকশন নেয়া যা খাবারের সহায়ক নয়। যেমন পায়ুপথে ডুশ ব্যবহার করা অথবা রোগে ইনজেকশন নেয়া।

যেসব কারণে রমজান মাসে রোযা ভঙ্গ করা যেতে পারে, কিন্ত পরে কাজা আদায় করতে হবে ঃ

ক) মুসাফির অবস্থায়।
খ) রোগ বৃদ্ধির বেশি আশঙ্কা থাকলে।
গ) গর্ভের সন্তানের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলে।
ঘ) যদি এমন তৃষ্ণা বা ক্ষুধা হয়, যাতে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকতে পারে।
ঘ) শক্তিহীন বৃদ্ধ হলে।
ঙ) কোনো রোযাদারকে সাপে দংশন করলে।
চ) মেয়েদের হায়েজ-নেফাসকালীন রোযা ভঙ্গ করা যায়।

রোযা ভঙ্গের কাফফারা ঃ

শরিয়তে কঠোর নিষেধ থাকা সত্ত্বেও বিনা কারণে কেউ রোযা ভঙ্গ করলে তার উপর কাজা ও কাফফারা উভয়ই আদায় করা ওয়াজিব। যতটি রোযা ভঙ্গ হবে ততটি রোযা আদায় করতে হবে। কাজা রোযার ক্ষেত্রে একটির পরিবর্তে একটি।

কাফফারা আদায় করার তিনটি নিয়ম।

ক) এক একটি রোযা ভঙ্গের জন্য একাধারে ৬০টি রোযা রাখতে হবে। কাফফারা ধারাবাহিকভাবে ৬০টি রোযাই রাখতে হবে, মাঝে কোনো একটি রোযা ভঙ্গ হলে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে।
খ) যদি কারও জন্য ৬০টি রোযা পালন সম্ভব না হয়, তাহলে সে ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা খানা দেবে। অপরদিকে কারও অসুস্থতাজনিত কারণে রোযা রাখার ক্ষমতা না থাকলে ৬০ জন ফকির, মিসকিন, গরিব বা অসহায়কে প্রতিদিন দুই বেলা করে পেট ভরে খানা খাওয়াতে হবে।
গ) গোলাম বা দাসী আজাদ করে দিতে হবে।
===============================