আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা

বাংলা ভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী

সকল মহান ভাষা শহীদগণের প্রতি,
এবং ভাষা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত

সকল ভাষা সৈনিক
ও বীর বাঙ্গালীদের জানাই অশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলী,
সেইসাথে সকলকে জানাই

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা।

বিষয় সূচী

সাহিত্য (60) অন্যান্য কবিতা (53) ভালোবাসার পদবিন্যাস ( প্রেম সম্পর্কিত রচনা বিশেষ ) (53) আমার লেখা প্রবন্ধ-নিবন্ধ (37) কবিতা (35) দেশ নিয়ে ভাবনা (33) ফিচার (33) বাংলাদেশ (29) সমসাময়িক (28) খন্ড কাব্য (26) হারানো প্রেম (22) সংবাদ (18) কাল্পনিক প্রেম (16) ইতিহাস (15) প্রতিবাদ (15) সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ (15) Online Money Making Links (14) দেশাত্মবোধক কবিতা (13) আমার জীবনের দিনপঞ্জী (12) ধর্ম (12) প্রেমের কবিতা (11) ব্যক্তিত্ব (11) রাজনীতি (11) ধর্মীয় আন্দোলন (10) প্রবাসের কবিতা (10) খন্ড গল্প (9) জীবন গঠন (9) বর্ণমালার রুবাঈ (9) ইসলাম (8) প্রগতি (8) মানুষ ও মানবতা (8) হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ (8) VIDEOS (7) আমার লেখালেখির অন্তরালে (7) ইসলামী জাগরণ (7) মানব মন (7) ট্র্যাজেডি (6) শোক সংবাদ (6) সম্প্রীতি (6) নারী স্বাধীনতা (5) প্রেমের গল্প (5) বিজয় দিবসের ভাবনা (5) মৃত্যুপথ যাত্রী (5) সংবাদ মাধ্যম (5) স্মৃতিকথা (5) ঈদ শুভেচ্ছা (4) প্রবাস তথ্য (4) রমজান (4) শুভেচ্ছা (4) Computer Programer (3) আমার ছবিগুলো (3) আমার রাইটিং নেটওয়ার্ক লিংক (3) পর্দা (3) ফটিকছড়ি (3) বাংলাদেশের সংবিধান (3) বিশ্ব ভালবসা দিবস (3) শিক্ষা (3) শিক্ষার্থী (3) স্লাইড শো (3) News (2) VERIETIES POEMS OF VERIOUS POETS (2) আষাঢ় মাসের কবিতা (2) আষাঢ়ের কবিতা (2) ইসলামী রেনেসাঁ (2) ছাত্র-ছাত্রী (2) থার্টি ফাস্ট নাইট (2) নারী কল্যান (2) নারী প্রগতি (2) নির্বাচন (2) বর্ষার কবিতা (2) মহাসমাবেশ (2) শবেবরাত (2) শরৎকাল (2) শাহনগর (2) শ্রদ্ধাঞ্জলী (2) সত্য ঘটনা (2) সত্য-মিথ্যার দ্বন্ধ (2) সফলতার পথে বাংলাদেশ (2) Bannersআমার ছবিগুলো (1) DXN (1) For Life Time Income (1) For Make Money (1) Knowledge (1) Student (1) অদ্ভুত সব স্বপ্নের মাঝে আমার নিদ্রাবাস (1) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (1) আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত(সুন্নী) (1) উপন্যাস (1) কবি কাজী নজরুল ইসলাম (1) কোরআন - হাদিসের কাহিনী (1) গল্প (1) চট্টগ্রাম (1) চিকিৎসা ও চিকিৎসক (1) জমজম (1) জাকাত (1) তরুন ও তারুণ্য (1) নারী জাগরণ (1) পরকিয়ার বিষফল (1) ফটিকছড়ি পৌরসভা (1) বন্ধুদিবস (1) বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেম (1) বিবেক ও বিবেকবান (1) বিশ্ব বাবা দিবস (1) বিশ্ব মা দিবস (1) ভ্রমণ (1) মন্তব্য (1) মাহফুজ খানের লেখালেখি (1) রবি এ্যাড (1) রমজানুল মোবারক (1) রেজাল্ট (1) রোগ-পথ্য (1) লংমার্চ (1) শহীদ দিবস (1) শুভ বাংলা নববর্ষ (1) শৈশবের দিনগুলো (1) সমবায় (1) সস্তার তিন অবস্থা (1) সাভার ট্র্যাজেডি (1) সিটি নির্বাচন (1) স্বপ্ন পথের পথিক (1) স্বাধীনতা (1) হ্যালো প্রধানমন্ত্রী (1) ২১ ফেব্রোয়ারী (1)

APNAKE SHAGOTOM

ZAKARIA SHAHNAGARIS WRITING

সকলকে বাংলা নতুন বছরের শুভেচ্ছা

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আমরা আর বাংলা ভাষায় কথা বলতে চাইনা । নিজের মাতৃভাষাকে যখন-তখন যেখানে সেখানে অবমাননা করে তৎপরিবর্তে ইংরেজী ভাষা ব্যবহার করতে অভ্যাস্থ হয়ে যাচ্ছি বা হয়ে গেছি ।
আরও একটু এগিয়ে গেলে বলতে হয় - আমরা আজ বাঙ্গালী হয়ে বাঙ্গালী জাতিসত্বা ভুলে গিয়ে ইংরেজী জাতিসত্বায় রক্তের ন্যায় মিশে গেছি !

অথচ একদিন আমরা বাঙ্গালী জাতি একতাবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রীয় ভাষা উর্দুকে ত্যাগ করে নিজেদের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা তথা বাংলা ভাষাকে সর্বত্র প্রচলন করতে প্রাণ দিতে বাধ্য হয়েছিলাম ! ফলে বিজাতীয় ভাষা উর্দূকে অপসারন করে নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলার স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলা ভাষাকে ধারন করেছিলাম । যখন আমরা বাংলার সর্বত্র বাংলা ভাষায় কথা বলা শুরু করেছিলাম ,তখন কিন্তু বিশ্বায়নের যুগটা অনুপস্থিত ছিল তা নয় , বিশ্বায়নের যুগটা তখনও ছিল বিধায় আমরা ইংরেজী শিক্ষায় তখনও বাধ্য ছিলাম । অর্থাৎ যে জন্যে আজ আমরা ইংরেজী শিখছি সেইজন্যে তখনও ইংরেজী শিক্ষার প্রচলন ছিল । ছিল ইংরেজী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাও । তাই বলে সে সময় বর্তমান সময়ের মত মাতৃভাষা বাংলাকে অবমাননা করা হয়নি । মানুষ সে সময় বাংলায়ই কথা বলেছিল । শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রেই সে সময় ইংরেজী ব্যাবহার করেছিল বাঙ্গালী জাতি

conduit-banners

Powered by Conduit

ফ্লাগ কাউন্টার

free counters

MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY

PLEASE CLICK ON MY BANNERS. VISIT MY AFFILIATE SITE "MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY ( অনলাইনে অর্থোপার্জনের একটা মাধ্যম )" I HOPE IT WILL BE HELPFUL FOR YOU. Create your own banner at mybannermaker.com!

বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১২

এক গাধা আর এক গাধীর কথোপকথন


এক গাধা আর এক গাধীর কথোপকথন
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
(গল্পের সাথে ছবির কোন সম্পৃক্ততা নেই। ছবিটি গল্পের সাদৃশ্যতার মিলন হিসাবে দেখানো হয়েছে।)
---------------------------------

গাধী : একটা ছবি দিও।

গাধা : কি করবে ছবি দিয়ে ?
গাধী : কি করব সেটা আমার ব্যাপার।
গাধা : কবে দিতে হবে ?
গাধী : রেডী থাকলে আজ দিও রেডী না থাকলে দুই/ তিনদিন পর দিলেও চলবে।
গাধা : কি ধরণের ছবি ?
গাধী : যে ধরণের ছবি তোমার পছন্দ।
গাধা : আমার পছন্দের ছবি তোমার পছন্দ হবে ?
গাধী : আমার পছন্দ হবে না কেন ? তুমি কি পঁচা ছবি দিবে নাকি ?
গাধা : তবুও তোমার রুচি আর আমার রুচি কি এক হবে ?
গাধী : আমাদের মন যেভাবে এক হয়েছে সেভাবে আমাদের রুচিও এক হবে।
গাধা : তবুও যদি বলতে আমার ছবি বাচাইয়ে সহজ হতো।
গাধী : বেশী বকবক করনাতো। ছবি দিতে বলেছি ভাল দেখে একটা ছবি দিলেই হবে।
গাধা : ঠিক আছে , কাল দিব।
গাধী : ঠিক আছে বলে , আবার বলোনা এসে ভুলে গেছ।
গাধা : আর বলতে হবেনা , তোমাকে তো আমি চিনিই।
গাধী : চিনই যখন এত কথা কিসের ? খালি প্যাঁচাল !
গাধা : তোমার সাথে প্যাঁচাল করলে যে আমার সুখ লাগে।
গাধী : ওকে , কাল ছবি না আনলে সুখ ভরিয়ে দিব।
গাধা : আর আনলে কি দেবে ?
গাধী : আদর।
গাধা : ঠিক আছে , কাল ছবি পেয়ে যাবে।

গাধা বাড়ি গিয়ে সারারাত জেগে একটা ছবি বাচাই করল। ন্যাংটা একটা সুন্দর মেয়ের ছবি ! পরদিন নিয়ে আসল সেটা গাধীর কাছে।

গাধা : এই নাও তোমার ছবি । সারারাত জেগে হাজারো ছবি থেকে বাচাই করে এই ছবিটাই আমার কাছে ভাল লাগল তাই নিয়ে এলাম।

গাধী ছবিটা হাতে নিয়ে দেখে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠল। সেই সাথে খাট্টাস করে গাধার গালে একটা চড় লাগিয়ে দিল।

গাধী : এটা কার ছবি ? তোমার গার্ল ফ্রেন্ডের ?
গাধা : ছিঃ কি বলছ ? ওটা আমার গার্লফ্রেন্ড হতে যাবে কেন ? আমার গার্লফ্রেন্ড তো তুমিই।
গাধী : তবে এ ছবি আনলে কেন ?
গাধা : বা রে ! তুমিই তো বললে সুন্দর দেখে একটা ছবি আনতে !
গাধী : এই তোমার সুন্দর ! আর আমি কি অন্য মানুষের ছবি আনতে বলেছি ?
গাধা : তবে কার ছবি আনতে বলেছ ?
গাধী : তোমার নিজের ছবি। তুমি না একটা আস্ত গাধা !
গাধা : তুমি কি আমাকে বলেছিলে , আমার নিজের ছবি আনতে ? তুমিও না একটা গাধী।
====================

অস্ত্রমিছিল


অস্ত্রমিছিল
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
---------------------

সাবধান ভাই সাবধান
আসছে ধেয়ে ছাত্রলীগ,
অস্ত্রমিছিল করছে তারা
অবস্থা যে বেগতিক।
ওরে তোরা যাসনে এখন
ঘরের বাহির হইসনা ,
রামদাওয়ের কোপে তোদের
জীবনটাকে দিসনা।
ক্ষমতারই দাপট তাদের
কিছুই তাদের হবেনা,
মারলে তোদের অস্ত্রাঘাতে
জেলে তারা যাবেনা।
গাড়ি পোড়াক মানুষ মারুক
এই নীতিতেই তাদের বাস ,
যতই করুক দেশের ক্ষতি
সেটাই তাদের সোনার চাষ।
সোনার ছেলের সোনার কর্ম
রামদাও আর পিস্তলে ,
দেখতে যাসনে কর্ম তাদের
লুকা মাটির নীচ তলে।
==========

নীলটিপের আড়ালে


নীলটিপের আড়ালে
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

তুমি সব সময় লাল টিপ পড়তে !
একদিন বলাকা সিনেমার ভিতরে ছবি দেখার সময়
নায়িকাকেও দেখলাম লালটিপ লাগাতে !
তখনই বলেছিলাম , লালটিপ তোমাকে মানায় না।
বলেছিলে - তবে কি টিপ মানাবে আমায় ?
বলেছিলাম শো' শেষ হলে বাইরে গিয়ে বলব।
নিউমর্কেটের গেইট দিয়ে ঢুকতেই ডানপাশের স্টলে
দেখা গেলো রংবেরঙ্গের টিপের সমাহার।
বারোটা নীল টিপ খরিদ করে পড়িয়ে দিলাম তোমার কপোলে একটি।
সেই থেকে নীল টিপ তোমার কপালকে করেছিল দখল।
হারিয়েছিলাম আমার ভালবাসা সেই নীলটিপের আড়ালে !
যখনই দেখতাম তোমার ব্যস্ততা শুধুই নীলটিপ পরিপাটিতে,
আর আমি ! তোমার কাছে যেন অবাঞ্চিত এক ভালবাসার পূঁজারী !!
==================

সোমবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১২

যেওনা ফিরে


যেওনা ফিরে
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

এত কাছে এসেছো ,
ভাল যখন বেসেছো ,
মনে কছু নিওনা এই কালো মুখটা দেখে ;
মন চোখে দেখেছো ,
কত কথা বলেছো ,
সরাসরি দেখে এবার যেওনা গো বেঁকে ।
করোনা ঘৃণা কালো মুখটা দেখে ,
সুন্দর মুখটা তোমার ঘুরাওনা এদিকে ,
বিধাতার দেয়া এই কালো গাত্রবরণ - তাতে দোষ কি আমার বলো ?
দৃষ্টি দাও তোমার ঐ সুন্দর চোখে ,
বানাওনি তাহা তুমি নিজের থেকে ,
তবে গৌরব করবে কিভাবে তুমি - এই একটু বিবেক নিয়েই চলো ।

কালো আর ধলোতে করোনা কোন ভেদাভেদ,
মন তো একটাই কেন তবে এতটাই প্রভেদ,
মনের চোখে দেখেছি তোমায় - চেয়েছি তোমার মনটা পেতে,
ভালবাসতে গিয়ে করতে চাইনি তাই কখনোই তোমায় দর্শন ;
তোমার বাবার ঐ সম্পদের দিকে আমি কভু দেখিনি,
তোমাদের ঐ বিশাল প্রাসাদের প্রেমেও আমি পড়িনি,
শুধুই পড়েছি তোমার মায়ায় - কাছে এসে যেওনা ফিরে,
এসো দেখে যাও তোমার জন্য তাই হচ্ছে শুধুই হৃদয়ে রক্তক্ষরণ।
==================

শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২

অপরাধীদের জন্য বিদেশ হোক কারাগার এবং সাজা হোক বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যম


অপরাধীদের জন্য বিদেশ হোক কারাগার
এবং সাজা হোক বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যম
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

[বিঃদ্র – আমার এই লেখাটি চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত অভিযান পত্রিকার অক্টোবর ২০০২ ইং সংখ্যায় পূর্ব প্রকাশিত। লেখাটি ঈষৎ সংশোধনের মধ্য দিয়ে পুণরায় প্রকাশ করা হল।]

**********************

শ্রমশক্তি, জনশক্তি, মেধাশক্তি (অর্থাৎ কর্ম, কর্মদক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা)-এ তিনটি শক্তি যে জাতি বক্ষে ধারণ করেছে, সে জাতি খুব অল্প সময়েই স্বর্ণশিখরে আরোহন করেছে। অপর পক্ষে অলসতা, অবহেলা, শ্রমহীনতা (অর্থাৎ কর্মে অলসতা, কর্মে অবহেলা, কর্মে বিমুখতা)-এ তিন শত্রু যে জাতি বক্ষে ধারণ করেছে, সে জাতি কালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

আজকের চীন, জাপান, জার্মানের দিকে তাকিয়ে দেখলে বুঝা যাবে, তারা কত পরিশ্রমী জাতি। অলসতাহীন সামান্য মেধার উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে কতইনা তারা উন্নতির শিখরে আরোহন করেছে। ছোট্টকালে পড়েছিলাম , চীন জাতি বিশ্বের সর্বাধিক পরিশ্রমী জাতি। তাদের মাঝে নেই কোন অলসতা, নেই কোন অবহেলা। তাই তারা সভ্য জাতি। চীন, জাপান, জার্মানে নেই কোন অপরাধ প্রবনতা। আছে শুধুই উন্নয়নের চিন্তা।

আর একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে , অষ্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার ন্যায় উন্নয়মুখী কর্মধারা। কি আছে মালয়েশিয়া আর সিঙ্গাপুরে ? কতদিন লাগল এ দু’টি দেশ উন্নয়নের শিখরে আরোহন করতে ? অল্প দূরের এ দু’টি দেশের উন্নয়নে আমরা আমাদের দেশের জনশক্তি রফ্তানী করছি । আর তারা কিভাবে করছে আমাদের দেশ থেকে জনশক্তি আমদানী ? কিভাবে তারা এ জনশক্তি কাজে লাগাচ্ছে ? কিভাবে তারা দেশের মানুষ দেশের বাইরে যেতে না দিয়ে দেশেই থাকতে বাধ্য করছে আর কিভাবে অন্য দেশ থেকে মানুষ নিয়ে সেখানে তাদেরকে বেতন দিয়ে পুষছে ?

সিঙ্গাপুরে আছে শুধু একটা পোর্ট বা পোতাশ্রয়। আর মালয়েশিয়ায় কি আছে তা জানে তারাই , যারা এদেশ থেকে সেখানে বেড়াতে গেছে বা সেদেশের কলকারখানার কর্মী হয়ে গেছে। মালয়েশিয়া পর্যটনের দেশ। কলকারখানার দেশ। আমাদের দেশের অর্ধেক সম্পদও উক্ত দু’টি দেশে রয়েছে কিনা সন্দেহ। অথচ কত উন্নত এ দু’টি দেশ ! এশিয়ার উক্ত ছোট্ট দু’টি দেশ আজ অল্প সময়ে ধনী দেশে রূপান্তরিত। কিভাবে ? তাদের এ রূপান্তর আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের মত দেশের সম্পদ লুন্ঠণ , ভাগাভাগি করে নিজেদের গোলাভর্তি করে নয় , নয় চুরি - ডাকাতি – রাহাজানী – খুন – অপহরণ – চিন্তাই – করেও । একমাত্র মেধা ও শ্রম দিয়ে এবং অলসতাকে দূরে ঠেলে দেশপ্রেমের মত শক্তিশালী অস্ত্রের জোরে অল্প সময়েই বিশ্বের বুকে এ দু’টি দেশ নিজেদের দাঁড় করিয়ে দিয়েছে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে। আর আমরা সে দু’টি দেশের সমবয়সী হওয়া সত্বেও এখনো কত পিছিয়ে !

যা হোক , উন্নয়নশীল দেশের গল্প বলে কলেবর বৃদ্ধি করা আমার উদ্ধেশ্য নয়। আমরা কেন উন্নয়নের পথে পিছিয়ে এবং কিভাবে উন্নয়নের পথে পরিভ্রমণ করতে পারি সেটা নিয়ে কিছু লেখাই আমার উদ্দেশ্য।

অলসতা, অবহেলা, দূর্নীতি, কর্মবিমুখতা, মেধাশক্তির অস্বীকার ও নির্লিপ্ততা, সময়ানুবর্তিতার অনুপস্থিতি, পারস্পরিক রেষারেষি, মেধা বিকাশে প্রতিবন্ধকতা, অসুস্থ রাজনীতি, আত্মবিশ্বাসের অভাব, বেকারত্বের লালন, কর্মক্ষত্র সৃষ্টির জ্ঞানহীনতা, অপরাধ প্রবণতা, উন্নত চিন্তার অনাগ্রহ, দলাদলি, সঠিক কর্মপদ্ধতির অভাব, সর্বোপরী ক্ষমতার লড়াইয়ে উপনীত হওয়া – ইত্যাদি কারণে আমাদের দেশ আজ উন্নতির সোপান থেকে পীছনে পড়ে আছে।
আমাদের দেশের একটি রসাত্মক প্রবাদ- “নয়টার গাড়ী কয়টা ছাড়ে”? অর্থাৎ, যে গাড়ী নয়টায় ছাড়ার কথা সে গাড়ী ছাড়ার কোন টাইম নেই বা কয়টায় ছাড়বে তার কোন ঠিক নেই। সময় বেঁধে দেয়া থাকলেও আমাদের দেশে কর্মটি নির্ধারিত সময়ে করা হয়না। তাই, আমরা পিছিয়ে আছি। সময়ানুবর্তীতা আমাদের কাছে অনুপস্থিত। ঘড়ি হাতে থাকলেও আমরা বলতে পারিনা সঠিক সময়। আমরা যখন বেলা নয়টায় ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে অফিসে যেতে তৈরী হই, চীনজাতি তখন তাদের দিনের অর্ধেক কাজ সমাপ্ত করে ফেলে। চীন জাতিরা ভোর চারটায় ঘুম থেকে উঠার সময় বিছানা ঘুটিয়ে ফেলে। আবার রাতে ঘুমুতে যাবার সময় রাত দশটায় বিছানা বিছায়। বিছানা ঘুটিয়ে ফেলার কারণ হল, তারা যদি কখনো ঘরে আসে তবে একটু শুতে মন চাইবে। তাই দুপুরে চেয়ারে হেলান দিয়ে তারা সামান্য বিশ্রামের পর শুরু করে পুনরায় কর্ম। এমনই এক পরিশ্রমী জাতি চীন।

অথচ আমরা ! বেলা ন’টায় ঘুম থেকে উঠি। অফিসে উপস্থিত হই দশটা বা এগারোটায়। চা পান, গায়ের কোট খুলে চেয়ার সাজিয়ে রেখে, গলার টাঁই বা ফাঁস ঢিলা করে কাজ শুরু করি এগারোটা বা বারোটায়। আবার দুপুরে রেষ্ট তিনঘন্টা। আবার কাজের ফাঁকে রয়েছে বিপরীত লিঙ্গের সহকর্মীর সাথে আলাপচারিতা আর এখন নতুন যোগ হয়েছে ফেইসবুকের মঞ্চে সময় কাটানো। কর্মদিবস শেষ বিকেল পাঁচটায়। সব মিলিয়ে যদি ঠিক ভাবে কাজের হিসাব করি, তবে আমাদের দিনের কর্মঘন্টা হবে দুই থেকে তিনঘন্টা। অথচ মে দিবস পালন করা হয় আট ঘন্টা শ্রমের স্বার্থে। কিন্তু, আমাদের দেশে কিছু সৎ ও ন্যায়-পরায়ন সময়ের মূল্য দানকারী মহৎ ব্যক্তি মহোদয় এবং কলকারখানার হার্ডকোর লেবার ব্যতিত আদৌ অফিসারদের কেউ আট ঘন্টা কর্ম করেন কি না জরীপের বিষয়।

বিগত ১৯শে জুলাই ২০০২ ইং তারিখে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় – “মিটিং, সিটিং, ইটিং – এ মন্ত্রী সচিবদের দিনে ১৯০ কর্মঘন্টা (অতিবাহিত)’’। এই যদি হয় একটি দেশের অবস্থা তবে সেই দেশ কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে সেটাই বিবেচ্য। যদি সাধারণ শ্রমিকদের ন্যায় আমাদের অফিসারগণ দৈনিক ওভারটাইম বাদ দিয়ে আট ঘন্টা পরিশ্রমও যথাযতভাবে করতেন তবে আমাদের সোনার বাংলা সোনার মোড়কে মোড়ানো যেতো বৈকি।

যা হোক, আমার উপস্থাপিত বিষয় – “অপরাধীদের জন্য বিদেশ হোক কারাগার এবং সাজা হোক বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যম’’। আসলেই আমরা বাংলাদেশীরা অলস জাতি। “অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা’’। যার দরুন আমাদের দেশে আজ অপরাধ প্রবনতার বৃদ্ধিতা। আমাদের মাঝে যদি এ অলসতা না থাকতো তবে অপরাধ প্রবনতা এতবেশী বৃদ্ধি পেতোনা। প্রতিটি অপরাধের পশ্চাতে কাজ করে মস্তিষ্কের অলসতা। যে অপরাধ করে তার চিন্তায় যদি কোন উদ্ভাবনা শক্তি বা সুষ্ঠ ও সুন্দর কর্ম চিন্তা থাকতো, তবে সে অপরাধ করতোনা। তার উদ্ভাবনা শক্তি ও কর্মচিন্তা দিয়ে অপরাধ না করে সে কোনকিছু উদ্ভাবন করতো, নয়তো কোন একটা সুন্দর কাজ করতে স্বচেষ্ট থাকতো। আমাদের দেশে কর্মক্ষেত্র সৃষ্টির পারিবারিক চাপ না থাকায় পারিবারিক সদস্য কোন অপরাধের দিকে ঝুঁকে পড়ে। যদি পারিবারিক ভাবে কর্মক্ষেত্র সৃষ্টির কোন চাপ পারিবারিক সদস্যের উপর থাকতো , তবে কোন অপরাধ সংঘটিত হবার কারণ থাকতোনা।

আমাদের দেশে অপরাধী ধরা পড়লে পাঠিয়ে দেয়া হয় কারাগারে। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর সাজা দেয়া হয় তাদের কারাগারে আটক রেখে। সেখানে অপরাধীরা বেকার ভাবে বসে থাকে। খায়, ঘুমায়। চিন্তায় তাদের জন্ম নেয় কিভাবে তারা আরো বড় অপরাধী হতে পারবে। কারাগারে আটক বড় বড় অপরাধীদের মিশে ছোট অপরাধীরাও বড় অপরাধী হয়ে এক সময় বের হয়। কারণ, কারাগারে আটক অপরাধী গুরুরা সেখানে বসে তাদের অতীত জীবনের অভিজ্ঞতা সাগরেদদের বয়ান করে থাকে। যার ফলে সাগরেদরা গুরুদের দেয়া বয়ান অনুযায়ী কাজ করতে ইচ্ছাপোষণ করে। পরবর্তীতে সাগরেদরা কারাগার থেকে বের হয়ে শুরু করে আবার অপরাধের। কি লাভ হলো তাদের কারাগারে আটক রেখে ? কোন লাভই হয়নি, হয়নি তারা সংশোধন। হয়েছে সরকারের লোকসান। অর্থভান্ডারের অর্থ কমেছে। অপরাধীদের বসিয়ে বসিয়ে বেকার রেখে বছরের পর বছর খাওয়াতে হয়। এক টাকাও অর্থভান্ডারে জমা হয়না, হয় খরচ। অপরাধীদের কারাগারে এভাবে আটকে রেখে তাদের সংশোধন করা যায়না। বরঞ্চ সে অপরাধীদের বড় অপরাধী হিসেবেই রূপান্তর করা যায়। করা হয় জাতির ক্ষতি।করা হয় জাতীয় নিরাপত্তার বিলুপ্তি।

এমতাবস্থায় আমার একটা প্রস্তাব হলো – যে অপরাধীই ধরা পড়ুকনা কেন তাকে সংশোধন এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থে এমন সাজা দেয়া হোক, যাতে অপরাধী নিজে সংশোধন হবে, সেই সাথে সেই অপরাধী তার পারিবারিক ও জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখবে। আজ দেশের অনেক মেধাবী ও দক্ষ জনশক্তি বিদেশে অবস্থান করছে। তারা বৈদেশীক মুদ্রা অর্জন করে তা দেশে পাঠিয়ে জাতীয় উন্নয়নে ভুমিকা রাখছে। অথচ এদের প্রায়ই জনসমষ্টি দেশে কাজ না পেয়ে অপরাধীদের ভয়ে দেশান্তরীত হয়েছে। যাদের দিয়ে দেশ অনেক উন্নতির পথ সৃষ্টি করতে পারতো।

অন্যদিকে দেশে অবস্থানকারী অপরাধীরা জাতীয় উন্নয়নের বিবিধ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তাই, অপরাধীদেরকে জনশক্তি রফতানী হিসাবে বিদেশে পাঠিয়ে দেশের জাতীয় উন্নয়নে সম্পৃক্ত করা যেতো। দেশের মেধাশক্তি বিদেশে না পাঠিয়ে একমাত্র অপরাধীদেরকেই বিদেশে পাঠিয়ে বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনের পদক্ষেপ নেয়াই হতো শোভনীয়। মেধাশক্তি দেশে কাজে লাগিয়ে এবং অপরাধীদের সাজা হিসাবে বিদেশে পাঠিয়ে দেশের উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতা দূর করে উন্নয়ন করা যেতো।

এখন যারা বিদেশে অবস্থান করছে তাদের বেশীর ভাগই দুই/তিন বৎসর পূর্বে দেশে গমন করতে পারেনা, পারেনা বিদেশে কোন অপরাধ করতে। কাজ না করেও বিদেশে বসবাস করতে পারেনা। খেতে গেলেই কাজ করতে হয় বিদেশে। তাই , যদি কোন অপরাধীর ধরা পড়ে জেলে যেতে হয়,তবে তাকে জেলে পাঠিয়ে সাজা দেয়ার চাইতে নিদ্রিষ্ট মেয়াদে বিদেশ পাঠিয়ে দেয়াই ভাল হবে বলে মনে করি। যদি সরকারী ভাবে অথবা আদালত কর্তৃক পারিবারিক ভাবে চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ঐ অপরাধীকে সাজা স্বরূপ দুই বৎসর , তিন বৎসর, পাঁচ বৎসর , দশ বৎসর এভাবে বিভিন্ন মেয়াদের জন্য বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়, তবে অপরাধী নিজেও সংশোধন হবে, সাথে সাথে পারিবারিক ও জাতীয় উন্নয়নে বৈদেশীক মুদ্রা পাঠিয়ে অংশগ্রহণ করতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারী ভাবেই (জেলে বসিয়ে বেকার ভাতা না দিয়ে) অপরাধীদের দেশের রাজস্ব ফান্ড থেকে ঋণ স্বরূপ বিদেশ যাবার খরচ প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে বিদেশ পাঠানো যেতে পারে। কেননা, ঐ অপরাধীদের কারাগারে ভরে রাখলে সরকারের বা দেশের যে ক্ষতি হবে , তাদেরকে বিদেশ পাঠালে সেই ক্ষতি থেকে দেশ বা সরকার নিরাপদ থাকতে পারবে। বরঞ্চ সরকার তাতে লাভবান হবে।

যদি অপরাধীদের সরকারীভাবে জনশক্তি রপ্তানী হিসাবে বিদেশ পাঠায়, তবে সরকারের লাভবান হবার পথ এভাবে করা যায় – সরকার যে দেশে তাদেরকে জনশক্তি হিসাবে রপ্তানী করবে সে দেশের সহিত একটা চুক্তি করবে যে, উক্ত অপরাধী (জনশক্তি)কে সে দেশে নিদ্রিষ্ট মেয়াদে নিয়োগ দান করা হবে। আর তাকে ঐ নিদ্রিষ্ট মেয়াদের পূর্বে দেশে গমনের ছাড়পত্র দেয়া যাবেনা। তার জন্য নিদ্রিষ্ট মজুরী বাবদ অর্জিত বৈদেশীক মুদ্রার একটা নিদ্রিষ্ট অংশ তার নিজের খরচের জন্য নির্ধারিত করে দিয়ে বাকি অর্থ সরকার নিজ আওতাধীনে দেশে আনার ব্যবস্থা করবে। ঐ অর্থ থেকে সরকারের প্রদানকৃত খরচ কিস্তিতে গ্রহণ করে বাকি অর্থ তার পরিবারের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। এমতাবস্থায় উক্ত অপরাধীর সাজাও হবে, তার দ্বারা বৈদেশীক মুদা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে সহযোগীতা ও করা হবে।

তাছাড়া, অপরাধী নিজেকে সংশোধন ও কর্মমুখী করে নিবে। বেকারত্বের চিন্তা তার কাছ থেকে সরে যাবে। সরে যাবে তার মাথা থেকে অপরাধ প্রবনতার ভুত। অপরাধ চিন্তা তার মাথা থেকে সরে গিয়ে কর্মমুখী হয়ে প্রতিষ্ঠিত হবে সে একজন ভাল মানুষ রূপে। সাজাকালীন তার পাঠানো যে অর্থ সঞ্চিত হবে দেশে, সাজা শেষে সে দেশে এসে সেই সঞ্চিত অর্থ নিয়ে ভাল একটা কাজের সন্ধানে নামতে পারবে। অপরাধী থেকে মানুষ হয়ে পরিচিতি লাভ করতে পারবে।

দেশের লক্ষ লক্ষ অপরাধী আজ বিভিন্ন কারাগারে আটক রয়েছে। সরকার তাদের লালন করছে সরকারী রাজস্ব ফান্ড থেকে খরচ দিয়ে। কোটি কোটি টাকা তাদের পীছনে ব্যয় হচ্ছে। জাতীয় আর্থিক ফান্ডের ক্ষতি হচ্ছে তাতে। ওদিকে তাদের আটক রাখায় তাদের পরিবার আর্থিক ভাবে অভাব অনটনে ধুঁকে ধুঁকে মরছে।দেশের লক্ষ লক্ষ অপরাধী দেশের সর্বত্র অপরাধী জীবন নিয়ে আইন ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ঘুরছে তারা বেকার হয়ে। জাতীয় উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বিভিন্নভাবে। বাড়ছে অপরাধ । হচ্ছে ক্ষতি নানামুখী। সরকারের দায়িত্ব – আটক সাজাপ্রাপ্ত ঐ সব অপরাধীদের বসিয়ে বসিয়ে না খাওাইয়ে ঐ খরচ দ্বারা উক্ত অপরাধীদের সংশোধনের উপযুক্ত পথে পরিচালিত করা। অর্থাৎ যে টাকা দিয়ে কারাগারে তাদের লালন করা হবে, সে টাকা দিয়ে বিদেশে জনশক্তি হিসেবে তাদেরকে রপ্তানী করা। তাদের মাধ্যমে আয়কৃত অর্থ দ্বারা তাদের ধ্বংসপ্রায় পরিবারকে নতুন জীবন দান করা এবং জাতীয় উন্নয়নে তাদেরকে সম্পৃক্ত করা।

আর দেশের অভান্তরে যারা বিভিন্ন অপরাধে লিপ্ত রয়েছে , তাদেরকেও ধরপাকড় করে প্রথমে কারাগারে নেয়া। সেখান থেকে আদালতের মাধ্যমে সাজা প্রদান করে উক্ত সাজা মোতাবেক নিদ্রষ্ট মেয়াদে বিদেশে প্রেরণের ব্যবস্থা করা। দেশের মেধাশক্তি , দক্ষ জনশক্তি বিদেশে প্রেরণ না করে অপরাধীদেরকেই বিদেশে প্রেরণের টার্গেট করা সরকারের একান্ত দায়িত্ব । এভাবে অপরাধীদের জন্য বিদেশ হবে কারাগার, আর তাদের সাজা হবে বিদেশ গিয়ে কর্ম করা। বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে সহযোগীতা করা। বিদেশে নিদ্রিষ্ট মেয়াদী অবস্থানই প্রত্যেক অপরাধীর জন্য মুলতঃ সংশোধন হবার আসল স্থান।

তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমার এ প্রস্তাব বিবেচনার জন্য উত্থাপন করছি – প্রত্যেক অপরাধীকে সাজা দিন বিদেশে পাঠিয়ে কায়িক শ্রমের মাধ্যমে, কারাগারে আটকিয়ে রেখে জামাই আদরে খাইয়ে নয়। জাতীয় স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। জাতীয় উন্নয়নে সহায়ক হবে বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনে অপরাধীদের বিদেশ প্রেরণ। নতুন নতুন কারাগার নির্মাণ করে জাতীয় আর্থিক ফান্ডের অপচয় করা থেকে বিরত থাকুন। দেশের অলস মস্তিষ্কগুলো সচল করুন। ঘুমন্ত প্রতিভাকে জাগ্রত করতে স্বচেষ্ঠ হোন। মেধাশক্তি বিদেশে পাচার না করে দেশে রাখুন। দেশের দক্ষ জনশক্তিকে বহির্বিশ্বে না পাঠিয়ে দেশের কাজেই লাগান। যদি এইসব মেধাশক্তি বহির্বিশ্বে গিয়ে সেসব দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে পারে , তবে তারা নিজেদের দেশের কল্যানে আসতে পারছেনা কেন ? তা একটিবার বিশুদ্ধ মন নিয়ে ভাবুন। যদি তারা নিজেদের মেধা দিয়ে পৃথিবীর রূপ পাল্টে দিতে পারে , তবে তারা নিজেদের ছোট্ট এই দেশটির রূপ পাল্টাতে পারবেনা কেন ? একটু চোখ খুলে দেখুন সমস্যা কোথায় ?

আমাদের দক্ষ জনশক্তি ও মেধাগুলো পরদেশে গিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে পারে , তবে তারা নিজেদের দেশেও কাজ করে , মেধা খাটিয়ে, শ্রম দিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়ে বলতে পারবে “আমরাও আমাদের দেশকে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে গড়তে পারি উন্নত দেশগুলোর মতন”। আর এ জন্য প্রয়োজন সঠিক উদ্যোগ। এতেই দেশ সফলতার মুখ দেখবে। তাই শ্রমক্ষেত্র তৈরী করে অলস, বেকার, ও অবহেলীত আমাদের বিপুল পরিমাণ মানবসম্পদকে কাজে লাগান। দেশ স্বর্ণশিখরে উন্নীত হবেই।

পরিশেষে বলতে হয় – অপরাধীদের জন্য বিদেশ হোক কারাগার এবং তাদের সাজা হোক বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যম – এটাই কামনা করি।
====================

শুক্রবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১২

সেইদিন আর বেশী দূরে নয়, যেইদিন সমগ্র বিশ্বজনপদ হবে মুসলমানদের করতলগত - ইনশাআল্লাহ


সেইদিন আর বেশী দূরে নয়,
যেইদিন সমগ্র বিশ্বজনপদ হবে মুসলমানদের করতলগত - ইনশাআল্লাহ
(দয়া করে লেখাটি শেয়ার করুন অন্যদের মাঝে)
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

সমগ্র বিশ্বের প্রায় ২০০কোটি মুসলীমের অন্তর আজ বিক্ষুব্ধ, উত্থাল তাদের ঈমানী জোশ। কিন্ত এ ক্ষুব্ধ মন আর ঈমানী জোশ তাদের অন্তরের ভিতরেই ঢেউ খেলছে। বাহিরে তাদের সেই শক্তি মৃত। তাদের সেই উত্থাল তরঙ্গ আছড়ে পড়েনা যুতসই এক সম্মিলিত তালে। ফলে তারা কিছুই করতে পারেনা তাদের সেই ক্ষুব্ধ মন আর ঈমানী জোশ দিয়ে কোনোব্যাঙ্গের মতই দুই একটা লাফ দিয়েই আবার ঘরের কোনে চুপসে বসে থাকতে দেখা যায় তাদের। হারিয়ে যায় তাদের ক্ষোভ আর ঈমানী জোশ। আর সেই সুযোগে অজগর সাপ তেড়ে আসে তাদের দিকে তার গলাদকরণের লক্ষ্য নিয়ে। এক সময় অজগরের খাদ্য রূপে কনোব্যাঙ গুলো ব্যবহৃত হতে থাকে।


এমনই এক অবস্থার সম্মুখীন আজকের বিশ্ব মুসলীম। তাদের কোনোব্যাঙ এর মত রূপ দেখে অজগর রূপী সাম্রাজবাদী আমেরীকা তাদের উপর লুলোপ দৃষ্টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করছে সমগ্র মুসলীম জনপদে। শিকার হচ্ছে তারা আমেরীকার উলঙ্গ থাবার। করতলগত হচ্ছে তারা সামাজ্যবাদী আমেরীকার। পরিণত হচ্ছে তারা সেই আমেরীকার ভোগ বিলাসের সামগ্রী রূপে।
এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে ধর্ম যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। ইসলাম বিরোধী নানা ধরণের আয়োজনের মাধ্যমে মুসলমানদের উপর অত্যাচারের খড়ক দিয়ে মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসে হানছে আঘাত। বিভিন্ন অজুহাত খাড়া করে সাম্রাজ্য বিস্তারে মুসলীম জনপদে দিচ্ছে হানা। সমগ্র মুসলীম জনপদের জনতাদের করছে করতলগত। পরিণত করছে তাদের শিকার রূপে।

এমনই এক ধর্মযুদ্ধে লিপ্ত হবার একটা বিশেষ আয়োজন - মুসলমানদের জন্য অবমাননাকর ও নিন্দনীয় বিষয়কে তুলে ধরা এবং হযরত মুহাম্মদের (সাঃ) চরিত্রের ওপর কালিমা লেপন করার চরম দৃষ্টতার প্রদর্শন ‘ইনোসেন্স অব মুসলিমস বা মুসলমানদের অজ্ঞতা’ নামের ছবি বা চলচ্চিত্র নির্মাণ। এই ছবিতে ইসলামকে 'ক্যান্সার' হিসেবে চিত্রিত করা হয়। বিদ্রূপ , হেয় এবং চরিত্রের ওপর কালিমা লেপন করা হয় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উপর।
নবীর কোনো ধরনের চিত্র অঙ্কন বা তাঁর চেহারার উপস্থাপন মুসলমানদের কাছে নিষিদ্ধ। অথচ মুসলমানদের বিশ্বাসে আঘাত দিতে চলচ্চিত্রটিতে মহানবী (সা.)-কে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। এই চলচ্চিত্রে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাম মুবারকে এক ব্যক্তিকে দেখানো হয়েছে, যাকে প্রতারক, নারী লোভী, সমকামী এবং যৌন হয়রানিকারী হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে। (নাঊযুবিল্লাহ!)।

এক মার্কিন ইহুদির অত্যন্ত কাঁচা হাতে তৈরি এ চলচ্চিত্রটির একটি বিজ্ঞাপণ ২০১২ সালের জুলাই মাসে ইউটিউবে প্রথম প্রচারিত হয়। বিজ্ঞাপনটি শুরু হয়েছে মিসরীয় পটভূমিতে। প্রথম দৃশ্যেই দেখানো হয়, একদল মিসরীয় মুসলমান খ্রিষ্টানদের বাড়িঘর লুটপাট করছে এবং আগুনে জ্বালিয়ে দিচ্ছে, অথচ মিসরের নিরাপত্তা বাহিনী দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। এরপর হঠাৎ করে মহানবী (সাঃ) কে ব্যঙ্গ করে তৈরি এক কল্পচিত্র শুরু হয়। এর বিভিন্ন দৃশ্যে মুসলমানদের জন্য অবমাননাকর বিষয় প্রচার করা হয়। আর এটি মুসলমানদের নজরে আসে এ সেপ্টেম্বরে। দুই ঘন্টার ‘ইনোসেন্স অব মুসলিম’ নামের ইসলাম অবমাননাকর এ চলচ্চিত্রটি মার্কিন নাগরিক কুচক্রী ইহুদী স্যাম বেসিল ২০১১ সালে পরিচালনা ও প্রযোজনা করে।

ইউটিউবে যে ১৩ মিনিটের বিজ্ঞাপন চিত্রটি প্রচারিত হয়, তাতে দেখা যায়, জর্জ ধ্বনির জায়গায় ইসলামের নবীর নাম ব্যবহূত হয়েছে। এটি প্রথমবার এগার হাজার দর্শক দেখে। এর প্রচার আরও রগরগে করতে আরবীতে অনুবাদ করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়া হয়। এতে বিষয়টি আরো ৭০ হাজার দর্শকের নজরে আসে। স্বঘোষিত ইসলাম বিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত ইসরাইলি বংশোদ্ভুত মার্কিন নাগরিক স্যাম ভেসিলি (৫২) নামের এক ব্যক্তি এই বিজ্ঞাপন চিত্রটি ইউটিউবে তুলে দেয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ওয়েবসাইটে বলা হয়, স্যাম একজন মার্কিন ইহুদি ইসরায়েলি আমেরিকান । ক্যালিফোর্নিয়ায় তাঁর ভবন নির্মাণের ব্যবসা। ওয়াল স্ট্রিটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্যাম দাবি করে, চলচ্চিত্রটি নির্মাণের জন্য সে ১০০ জন ইহুদি দাতার কাছ থেকে ৫০ লাখ ডলার পেয়েছে। ৫০ লাখ ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই ছবিতে অর্থায়ন করে এক প্রবাসী মিসরীয় খ্রিস্টান। এতে ইহুদি দাতাদেরও সহায়তা রয়েছে।

ইসলামবিদ্বেষী লেখক ও পরিচালক বাসিলের এ ছবিটি এখনো মুক্তি পায়নি। তবে এর অংশবিশেষ ইতিমধ্যেই অনলাইনে ভিডিও দেখার জনপ্রিয় মাধ্যম ইউটিউবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। চলচ্চিত্রটির অন্যতম অভিনেত্রী দাবি করেছেন, পরিচালক ও নির্মাতারা তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করেছে। চলচ্চিত্রটি যে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে নির্মিত, তা তাঁকে একবারের জন্যও বলা হয়নি। ক্যালিফোর্নিয়ার বেকারসফিল্ডের অধিবাসী সিন্ডি লি গার্সিয়া চলচ্চিত্রটির একটি ছোট মুহূর্তে অভিনয় করেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে গার্সিয়া বলেন, ‘ওটা আমার কাছে ছিল একেবারে অসার, যা ধারণ করা হচ্ছিল তা ছিল খুবই অগোছালো। যারা কাজ করছিল, তাদের আচরণও ছিল সন্দেহজনক।’

সাক্ষাত্কারে গার্সিয়া আরও বলেন, ‘গত বছর গ্রীষ্মে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি গির্জার ভেতরে চলচ্চিত্রটি ধারণ করা হয়। সে সময় অভিনেতারা একটি সবুজ পর্দার সামনে অভিনয় করেন, যাতে পরে পটভূমিতে ভিন্ন কিছু যুক্ত করা যায়।‘ তিনি আরও বলেন, ‘শুটিংয়ে প্রায় ৫০ জন অভিনেতা-অভিনেত্রী অংশ নিয়েছিলেন। নির্মাতারা তাঁদের বলেছিল, ডেজার্ট ওয়্যারিয়র নামের একটি ঐতিহাসিক আরব মরু অভিযানকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্রটি তৈরি হচ্ছে’। গার্সিয়া বলেন, দুই হাজার বছর আগের সামাজিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তাঁদের অভিনয় করতে বলা হয়েছিল। পরিচালক বলেছিল, ‘ধরে নাও, এখন এটা যিশুর সময়।’

এটি নিয়েই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষোভ। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ(সঃ)কে কটাক্ষ করে আমেরিকায় এ চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতিবাদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ চলছে। মঙ্গলবার রাতে মিশরের কায়রো ও লিবিয়ার বেনগাজিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে হামলা চালায় বিক্ষুব্ধরা। বেনগাজির হামলায় লিবিয়ায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টোফার স্টিভেনসসহ চারজন নিহত হয়।

এ বিক্ষোভের পর মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও বিক্ষোভ হয়েছে। তিউনিসিয়া, ফিলিস্তিন, মরক্কো ও সুদানে হাজার হাজার মানুষ মার্কিন বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। ফিলিস্তিনের গাজায় বিক্ষোভকারীরা জাতিসংঘ দপ্তরের সামনে জড়ো হয়ে মার্কিন পতাকায় আগুন দিয়েছে। মরক্কোর রাজধানী রাবাতে মার্কিন দূতাবাসের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় মার্কিন দূতাবাসে হামলা হয়েছে। রাজধানী সানায় বিক্ষোভকারী জনতাকে ঠেকানোর জন্য পুলিশ এলোপাথারি গুলি চালিয়েছে। এতে অন্তত এক বিক্ষোভকারী নিহত ও অপর অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। গুলির পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাস এবং পানি কামানও ব্যবহার করে পুলিশ। কিন্তু সহিংস আচরণ করেও তাদেরকে শেষ পর্যন্ত ঠেকানো যায়নি । বিক্ষুব্ধ লোকজন দূতাবাস চত্বরে ঢুকে পড়ে এবং সেখানে পার্ক করা বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ইরাক এবং ইরানেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। আরো কয়েকটি দেশে বিক্ষোভ করার ডাক দিয়েছে বিভিন্ন দল ও সংগঠন। আমেরিকার এক ইহুদিবাদী বিশ্বনবী(স.)এর অবমাননা করে স্বল্প দৈর্ঘ্য সিনেমা তৈরি করেছে বলে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর গোটা মুসলিম বিশ্ব প্রতিবাদমুখর। একই কারণে ও লিবিয়ার পাকিস্তান মার্কিন দূতাবাসে হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে। বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এবং কনস্যুলেটে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করে নির্মাণ করা আমেরিকান চলচ্চিত্রটি নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে ভারত সরকার। চলচ্চিত্রটিকে ঘিরে দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রোধে সরকার এমন চিন্তাভাবনা করছে। চলচ্চিত্রটি নিষিদ্ধ করতে ভারত সরকারের কাছে সংখ্যালঘু মুসলিমরা আবেদনও করেছে।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে কোনোব্যাংঙের রূপধারণকারী মুসলীমরা এবার মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বিশ্বমুসলিম কে সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলে তাদের সেই কলঙ্কিত অধ্যায়ের সমাধি রচনা করবে। দেখিয়ে দিবে তারা মুসলীমদের ক্ষমতা। প্রদর্শন করবে ইসলামের অলৌকিক সেই মহাশক্তি। এ ধর্ম যুদ্ধে মুসলীমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমস্বরে ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বণিতে বিশ্বকে করবে প্রকম্পিত। বাতিল শক্তিকে কাবু করে ঐশী শক্তি দিয়ে আল্লাহর অস্থিত্ব করবে সমুজ্জ্বল। ২০০ কোটি মুসলীম তাদের জনপদকে প্রসারিত করে দেখাবে সাম্রাজ্যবাদী আমেরীকা তাদেরই করতলগত। সাম্রাজ্যবাদী আমেরীকাকে অস্থিত্বহীন করে দেখিয়ে দেবে তারা আল্লাহর অস্থিত্ব।

সমগ্র বিশ্বের প্রায় ২০০কোটি মুসলীমের অন্তরে গর্জে উঠা আজকের এই বিক্ষুব্ধ ধ্বণি আর উত্থাল তাদের ঈমানী জোশ দেখে বলতে হয় - সেইদিন আর বেশী দূরে নয়, যেইদিন সমগ্র বিশ্বজনপদ হবে মুসলমানদের করতলগত - ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহ মুসলমানদের সেই ঐশী ক্ষমতা দানে ঈমানের ভিত্তি মজবুত করে সকল মুসলমানকে বাতিলের মোকাবেলায় আল্লাহর সৈনিক রূপে গড়ে তুলুন। আমীন। (তথ্যসুত্র ঃ ইন্টারনেট)
===================

সোমবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১২

জমজমের পানি গ্যাষ্ট্রিক রোগের মহৌষধ হিসাবে প্রমাণিত


জমজমের পানি গ্যাষ্ট্রিক রোগের মহৌষধ হিসাবে প্রমাণিত
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

আমি সৌদি আরবের মদিনায় আসি ১৬/১২/২০০০ ইং সালে। তখন আমার শরীরে একটি মাত্রই রোগ ছিল - গ্যাস্ট্রিক। যার জন্য আমাকে খেতে হতো দৈনিক তিনটা নিউসেফটিন আর অথবা নিউট্যাক। সৌদিতে আসার পর যখন মসজিদে নববীতে গেলাম, দেখলাম বিশেষ বিশেষ স্থানে সাজিয়ে রাখা আছে জমজমের পানি পানের আয়োজন। মসজিদের ভিতর থেকে তেমন পানি বাইরে নিতে দেয়া হয়না। জিজ্ঞেস করলাম বাহিরে পাওয়া যায় কিনা ? জানতে পারলাম লোকজনের চাহিদা মোতাবেক জমজমের পানি মসজিদে নববীর বাহিরে বাউন্ডারীর ভিতরেই উত্তর-পশ্চিম কোণে এক নিদ্রিষ্ট স্থান থেকে সরবরাহ করা হয়।
তারপর দিন থেকেই সপ্তাহে দুইবার উক্ত স্থান থেকে ২০ লিটারের গ্যালনে করে নিয়ে আসতে থাকি জমজম। তারপর সিদ্ধান্ত নিলাম। জমজমই যেহেতু সর্বরোগের মহৌষধ , আমার গ্যাষ্ট্রিক রোগ নির্মূলে এ জমজমে বিশ্বাস করেই দেখি। সৌদিতে আসার পাঁচদিন পর থেকেই জমজমের পানিকে ঔষধ হিসাবে পান করতে থাকি। যেদিন থেকে ঔষধের নিয়তে দৈনিক তিনবার জমজম পান শুরু করি , সেদিন থেকে যত কষ্টই হতো দেশ থেকে নিয়ে আসা নিউট্যাক ট্যাবলেট মুখে তুলিনি। এইভাবে তিনমাস ঔষধ হিসাবে পান করি শুধুমাত্র জমজম, মাঝখানে অন্য কোন ঔষধ খাইনি। দুই মাস পর অনুভব করলাম আমার রোগ কষ্ট তেমন অনুভব হচ্ছেনা। তবুও ভাবলাম মনে মনে ধরে নেয়া তিন মাসের কোর্সটি আর এক মাসের জন বাদ দিব কেন ? তাই কোর্সটি শেষ করলাম। তিনমাস শেষে আমি দূরারোগ্য রোগ গ্যাস্ট্রিক থেকে সমপূর্ণ মুক্ত হলাম । সেই থেকে এই পর্যন্ত ১২ টি বৎসর আর কখনো গ্যাষ্ট্রিক আমার কাছে আসেনি। আলহামদুলিল্লাহ। এই অমিয় সুধা নাকি হাজিদের বাংলাদেশে পরিবহনে বাধা দিচ্ছে বাংলাদেশ বিমান !

যুগ যুগ ধরে চলে আসা নিয়ম ভঙ্গ করে বাংলাদেশ বিমানের হাজিদের জমজমের পানি পরিবহনে বাধাদান প্রমাণ করে বর্তমান সরকারের আমলে মুসলীমদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মনোভাবের উপর আরও একটা কুঠারাঘাত।
যুগ যুগ ধরে হাজিদের জমজমের পানি পরিবহনে বিমানগুলোর কোন অসুবিধা হয়নি বা সমস্যা সৃ্টি করেনি, কিন্তু হঠাৎ এখন কি এমন সমস্যা সৃষ্টি হয়ে গেলো যে হাজিরা হজ্জে গিয়ে জমজমের পানি আনতে পারবেনা ?
হজ্জে গিয়ে পরিবার পরিজনের জন্য হাজিরা সাধারণত প্রধান দুটি জিনিস আগেই সংগ্রহ করে রাখে। এক জমজমর পানি আর দ্বিতীয়টি হল খেজুর। আর কিছু হাজিরা দেশে আনুক না আনুক , কিন্তু এ দুটি জিনিস হাজিরা না আনলেই নয়। জমজমের পানি সর্বরোগের মহৌষধ , যা মুসলমানদের বিশ্বাস। তাই জমজমে পানি আনতে বাধাদান এ বিশ্বাসে বাধাদান।
অবশ্য বিমান বাংলাদেশ থেকেই হাজিদেরকে এই পানি সরবরাহ করবে বলে বলছে, কিন্তু তা যে খাটি জমজমের পানিই হবে তার নিশ্চয়তা কতটুকু বাংলাদেশের ভেজাল মানুষদের ভেজাল মনোভাবের আঙ্গিকে প্রশ্ন থেকে যায়। অথচ এই পানি হাজিরা সরাসরি নিজ হাতে নিলে কোন প্রকার সন্দেহ থাকতোনা। সর্বোপরি , জমজমের পানি নিতে বাধাদান একটা বিতর্ক বিষয়ের নামান্তর।
=============

রবিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১২

তোমায় নিয়েই যত গান আর সুর


তোমায় নিয়েই যত গান আর সুর
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
--------------------

তোমায় নিয়েই আমার সব গানের কথা,
তোমার স্মরণেই আসে সব সুর যে সেথা।।


আমারই গানগুলো শুধু গান নয়
হৃদয়ের জমানো কথা ,
আমারই সুরগুলো শুধু সুর নয়
তোমায় না পাওয়ার বিরহ ব্যাথা।।

তোমায় ডাকি আমি গানে গানে,
তোমাকে পাই কাছে সুরের টানে।
গানের মাঝেই বলি তোমারই সাথে কথা ,
সুরের মাঝেই ভুলি তোমায় না পাওয়ার ব্যাথা।।

বলতে পারিনা আমি যে কথা তোমায়
গান গেয়েই বলে যাই সে কথা ,
গানের সুরেই আমি বুঝাই তোমায়
বুঝাতে পারিনা আমি মনের যে ব্যাথা ।।

তোমাকে স্মরণ করি গানে গানে , 
সুর উঠে গানে মোর তোমার টানে। 
তোমায় নিয়েই আমার যত গানের কথা, 
তোমার টানেই উঠে সূর যে সেথা।।
==================

মঙ্গলবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১২

ক্ষুধার বিরুদ্ধে নির্বাক আন্দোলন


ক্ষুধার বিরুদ্ধে নির্বাক আন্দোলন
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

এমন কিছু মানুষ আছে -
যারা অন্যের আনন্দে তারা নিজেদের আনন্দ খুঁজে,
যারা অন্যের সুখের মধ্যে নিজেদের সুখ খোঁজে,
যারা অন্যের দুঃখকে নিজেদের পাথেয় স্বরূপ গ্রহণ করে,
যারা অন্যের ক্রন্দনে নিজেদের সিক্ত করে,
যারা অন্যের ব্যাথাকে নিজেদের শরীরে মেখে নেয়,
যারা অন্যের চাহিদাকে নিজেদের চাহিদার সাথে বন্টন করে নেয়,
যারা অন্যের দৈন্যদশা নিজেরাই ছটফট করে কাতরাতে থাকে,
এ পৃথিবীতে তারাই মানুষ ;
আর অন্যসব মানুষের চামড়া দিয়ে তৈরী তাদের মূর্তি, তারা মানুষ নয়।

নিজেদের সুখ ধ্বংস করে
যারা অন্যকে সুখ প্রদান করে ,
ছবির এ মেয়েটি তাদেরই একজন।
কমনীয় চেহারা আর অপলক দৃষ্টিতে যার ক্ষুধার জ্বালা।
নিজেদের আনন্দ বিলীন করে
যারা অন্যের মনে আনন্দ এনে দেয়
ছবির এ মেয়েটি তাদেরই একজন।
নিষ্পাপ চেহারা আর করুন দৃষ্টিতে যার একমুঠো ভাতের সন্ধান ।

এ পৃথিবীতে যারা মানুষ
তারাই এগিয়ে আসবে এদের অন্নের সংস্থানে,এদের ভুখা নিবারণে ;
ফুল নিয়ে পথে পথে এমনই লাখো মানবফুল
ভুখা নিবারণের মিছিল নিয়ে ঘুরছে লোকালয়-জনপদে,
দেখিয়ে যাচ্ছে তাদের ক্ষুধার জ্বালা,
করে যাচ্ছে তারা ক্ষুধার বিরুদ্ধে নির্বাক আন্দোলন।
=====================

বৃহস্পতিবার, ৩০ আগস্ট, ২০১২

ভালোবাসার ভুত সওয়ার


ভালোবাসার ভুত সওয়ার
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------
আজ একটা ছেলের সাথে একটা মেয়ের চ্যাট চলছিল। প্রায় পাঁচমিনিট কথা বলার পর মেয়েটি হঠাৎ করে বললো -
" i love you " !
তখন ছেলেটি বললো - কি বললে , বুঝিনাই?
মেয়েটি এবার বাংলায় বললো - " আমি তোমায় ভালবাসি " !
ছেলেটি বললো - বুঝিয়ে বল, এখনও বুঝিনাই ?
মেয়েটি তখন বললো - " তুমি কি কানে কম শুন ? "
ছেলেটি বললো - " এইযে এতক্ষণ কথা বলে আসলাম তোমার কি মনে হয়েছে, আমি কানে কম শুনি ? "
- না, তাতো মনে হয়নি !
- তবে এখন মনে হবার কারণ ?
- সেটা তো আমিও বুঝছিনা, একটা কথা দুইবার দুইভাবে বললাম , তুমি বলছ বুঝনি।
- না বুঝলে বুঝে নাও , কেন আমি বুঝছিনা ?
- তবে কি তুমি ইচ্ছা করেই কথাটা বুঝতে পারছনা ?
- যদি বলি তাই ?
- তবে কেন ?
- তোমাদের ভালোবাসার প্রতি আমার প্রচন্ড ঘৃণা।
- কেন ?
- কেন এর উত্তর দিতে চাইনা।
- কেন ?
- এই উত্তরটা তোমার বুঝে আসবেনা।
- তুমি বল , দেখি বুঝে আসে কিনা ?
- তোমার খারাপ লাগবে।
- খারাপ লাগলে আমার লাগবে , তোমার ক্ষতি কি ?
- আমি চাইনা , তোমকে যা তা শুনাতে।
- যা তা মানে ?
- আমার মুখ ছুটলে তোমাকেও গালি দিতে হবে ।
- আমাকে গালি দিতে হবে কেন ?
- কারন , উত্তরটাই সেইরকম।
- তবে কি বলছ কাউকে ভালবাসা অন্যায় ?
- ভালবাসা অন্যায় নয়, ভালবাসার নামে ছলনা করা অন্যায় ।
- তুমি কি আমাকে ছলনাকারী ভাবছ।
- মনে কর তাই।
- তবে কি তোমার বিয়ে করার ইচ্ছে নেই ?
- সেটা কেন বলছ ?
- যখন কোন মেয়ের প্রতিই তোমার বিশ্বাস নেই , তবে বিয়ে করবে কিভাবে ?
- বিয়ে তো করেই ফেলেছি ।
- কি ?
- কি মানে ? তোমার বিশ্বাস হয়না ?
- না ।
- না হলে কি করা, বিয়ে তো আমি করেছি সেটাই সত্য।
- আমাকে নাচাচ্ছ।
- তোমাকে নাচিয়ে আমার কি লাভ ?
- সত্যিই কি বিয়ে করেছ ?
- তুমি যদি মিথ্যা মনে কর , তাতে আমার কিছু করার নেই।
- বয়স কত তোমার ?
- প্রকৃত বয়স ৪৩ বৎসর।
- মিথ্যা বলছ। তোমার ছবিতে তা বুঝায়না ।
- আমার ছবিতে কি বুঝায় ?
- তোমার বয়স ৩০শে উপরে নয় ।
- তাই ! তবে তো তোমাকে বিয়ে করতে পারি।
- সেইজন্যই তো বললাম - তোমায় ভালবাসি।
- থাক আমাকে ভালবেসে তোমার জীবন নষ্ট করতে হবেনা। আমি তিন সন্তানের জনক।
- আর নাচিওনা তো !
- তোমার যদি নাচতে ইচ্ছে হয় নাচো । কিন্তু মনে রেখো - আমি আমার সত্যটাই বলেছি।
- আমি বিশ্বাস করিনা।
- ঠিক আছে , আজ তুমি আমার প্রোফাইল ও বিস্তারিত দেখে তারপর সিদ্ধান্ত নিও , বিশেষ করে আমার ছবির এ্যালবামগুলো দেখতে ভুলবেনা।
- ওকে , ভাল থেকো।
- তুমিও ভাল থেকো। পারলে মাথা থেকে ভালবাসার ভুতটা তাড়িয়ে দিও।
- খোদা হাফেজ ।
- খোদা হাফেজ।
-------------

রবিবার, ২৬ আগস্ট, ২০১২

আমি চলার পথের অধীন


আমি চলার পথের অধীন
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
---------------------

চলতে চলতে আজও রয়েছি চলার পথে
জানা হয়নি আজও এ চলার পথের শেষ যে কোথা ,
জনসমুদ্রের ঢেউয়ের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছি অজানা লক্ষ্যে
জনৈক আমি পরিচয়হীন ,হয়নি তৈরী মোর কোন পরিচয় গাঁথা।
মানুষের মাঝে যাবেনা পাওয়া খুঁজে
এই আমার মতন অন্য কেহ,
সময়ের বিবর্তনে ক্ষয়ে ক্ষয়ে দাঁড়িয়েছে
রূপহীন জীবনের পাটাতনে আমার এই যে দেহ ।
হতাশার গ্লানী আর না পাওয়ার আক্ষেপ
জীবনকে আমার করে দিয়েছে মূল্যহীন ,
' আশাই জীবনের একমাত্র ভেলা '
হয়েছে তাই আমার জীবন এই চলার পথেরই অধীন।
======================

শনিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১২

‘শিয়া মতবাদের' ব্যবচ্ছেদ

UMAIA MOSQUE SIRYA - A MASJID OF SIA
‘শিয়া মতবাদের' ব্যবচ্ছেদ
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------


কেন আমার এ প্রবন্ধ লেখা ?

আমি ‘শিয়া মতবাদ’ সম্পর্কে ছিলাম সম্পূর্ণ অজ্ঞ। অর্থাৎ শিয়া নামে মুসলমানদের একটা বিতর্কিত দল আছে বিশ্বব্যাপী তা আমি জানতাম না। খবরের কাগজে দেখতাম ঢাকার বংশাল হোসেনী দালান থেকে মহররম পালনের উদ্দেশ্যে মুসলমানদের তাজিয়া মিছিল বের হচ্ছে । কিন্তু এইসব মুসলমানের আভ্যান্তরীন বিষয়ে ছিলাম সম্পূর্ণ অজ্ঞ। মনে পড়ে গেল সেই চিরন্তন কথাটি – “যে ভ্রমণ করেনি তার কিছুই জানা হলোনা”। সত্যিই তাই অনুভব করেছিলাম যেদিন বিদেশে এসে এইসব মুসলমানদের আভ্যান্তরীন বিষয়ে জানতে পারলাম। ১৬ই ডিসেম্বর ২০০০ ইং তারিখে দেশ ত্যাগ করে যখন সৌদি আরবের মদিনায় এসে কর্মস্থলে পৌঁছলাম, তখন জ্ঞান রাজ্যের দ্বার যেন মুক্ত হয়ে গেল। জানতে পারলাম এই শিয়া নামের বিতর্কিত মুসলীমের এ দলটি সম্পর্কে। বুঝতে পারলাম আমি যে স্পন্সরের হয়ে এখানে কাজ করতে এসেছি , সেই স্পন্সরই এ বিতর্কিত মুসলীমদের একজন।
২০০০ সালে যখন কর্মে যোগ দিলাম মুক্ত হতে থাকল এ দলের আভ্যন্তরিন দিক সমুহ। আমার স্পন্সরের ইসলামী আকিদা অনুসরণ আমাকে অবাক করলো, ভাবিয়ে তুলল আমায়। এ কোন ধরণের মুসলীম ? মনের অজান্তেই বের হয়ে এল এ প্রশ্ন! যাদের নামাজ পড়তে দেখি দুই ওয়াক্ত , তাও লুকিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে গিয়ে। তারা মুসলমানদের মসজিদে নামাজ না পড়ে মাটির নীচে লুকিয়ে নামাজ পড়ে। আরও কত কিছু দেখলাম যা সবই এই প্রবন্ধেই উল্লেখ রয়েছে । এসব দেখে আমি আমার ভিসা যার কছ থেকে কিনেছি তাকে জিজ্ঞেস করলাম – এগুলো কোন ধরণের মুসলীম । সে বললো এগুলো শিয়া মুসলীম ।এদের ইসলামী আকিদা আমাদের মত নয়। সেদিনই প্রথম জানলাম এ শিয়া মুসলীম সম্পর্কে। তারপর তাদের সম্পর্কে বিস্তারত জানার কৌতুহল জেগে উঠল মনে। সেই সুত্রেই দেশ থেকে ডাকযোগে ইসলামী ম্যাগাজিনগুলোর গ্রাহক হতে থাকি। সংগ্রহ করতে থাকি এ বিষয়ক বিভিন্ন বই–কিতাব। জানা হলো অনেক কিছু। আর এ সকল তথ্য দিয়েই এ প্রবন্ধের আয়োজন।

‘শিয়া মতবাদ’ কি ?

সাহাবায়ে কেরামের কাল থেকেই মুসলীম উম্মাহর মধ্যে ‘শিয়া’নামক একটা দল সৃষ্টি হয়ে মুসলীম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতির ক্ষেত্রে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করে রেখেছে*১। মৌলিকভাবে শিয়া একটি বিভ্রান্ত দলের নাম। এদের মধ্যে অনেক দল-উপদল রয়েছে*২।
প্রথমদিকে এ ফেরকাটি সৃষ্টির পেছনের কারণ রাজনৈতিক হলেও পরবর্তীতে ইসলামের মৌলিক আকিদা বিশ্বাসের ঠিক বিপরীত ধ্যান-ধারণা দ্বারা প্রচারিত হয়েছে*৩। তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান(রাঃ)এর শাসনামলে আবদুল্লাহ ইবনে সাবা নামক ইয়েমেনের এক ইহুদী পণ্ডীত মুসলমানদের ছদ্মবেশে মদিনায় এসে মুসলমানদের মধ্যে দলাদলীর সৃষ্টি করে। কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার পর আবদুল্লাহ ইবনে সাবার দলটিই ‘শিয়া আন্দোলনকে’ একটি ধর্মীয় ফেরকায় রূপান্তর করে*৪।
‘শিয়া মতবাদ’ হলো মূলতঃ ইহুদী মতবাদের দ্বিতীয় সংস্করন*৫।ইসলামের প্রতি এক বিদ্বেষী মতবাদের নামই হলো ‘শিয়া মতবাদ’। শিয়া আকিদা যদি সত্যি হয় তবে ইসলাম হবে মিথ্যা। আর ইসলাম যদি সত্যি হয় তবে শিয়া মতাদর্শের বাতুলতা সম্পর্কে সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই*৬।

‘শিয়া মতবাদ’ উৎপত্তির মূলে ঃ
শিয়ানে আলী বা আলী (রাঃ)এর প্রতি নিবেদিত প্রাণদের দলটি ছিল শুরুতে একটি রাজনৈতিক মতভেদ মাত্র। হযরত রাসূলে কারীম (সাঃ)এর ওফাতের পর মুসলমানদের খলিফা কে হবেন , তা নিয়ে সৃষ্ট মতভেদ থেকে ক্ষুদ্র একটি দল হযরত আলী (রাঃ)কে খেলাফতের বৈধ উত্তরাধীকারী এবং তাঁর পূরববর্তী তিন খলিফাকে অন্যায়ভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলেন বলে মনে করতো। এ ভিন্নমতটিই রাজনৈতিক মতপার্থক্যের সীমা অতিক্রম করে ধর্মীয় আঁকার ধারণ করে*৭।
‘শিয়া মতবাদ’ হযরত(সাঃ)এর ওফাত দিবস থেকেই নবীর সহিত উম্মতের সম্পর্কচ্ছেদ ঘটাতে এবং দ্বীনের মূলোৎপাঠনে স্বচেষ্ঠ। ফলে ইসলামের মোকাবেলায় ইহুদী কর্তৃক শিয়া ধর্মের উৎপত্তি ঘটে*৮। ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান(রাঃ)এর হত্যার ষড়যন্ত্র ছিল ইহুদী ষড়যন্ত্র। এরপর হযরত আলী(রাঃ)এর ওফাত। এরপর শিয়া ধর্মের উৎপত্তি। ইহুদী পণ্ডীত আবদুল্লাহ ইবনে সাবা আল ইহুদীর চিন্তা-চেতনার আলোকেই এই ‘শিয়া মতবাদ’এর উৎপত্তি*৯।
ইসলামের চিরশত্রু এ ফিৎনা সৃষ্টিকারী ইহুদীদের মূলনায়ক মুনাফিক আবদুল্লাহ ইবনে সাবা আল ইহুদী এবং তার মদদপুষ্টরা ইসলামের প্রবাহমান স্রোতধারাকে স্তব্ধ করার লক্ষ্যে এবং মুসলীম ঐক্যে ফাটল ধরিয়ে দেয়ার নিমিত্তে হযরত আলী(রাঃ)এর প্রেমে মুগ্ধ হবার রূপ দিয়ে শিয়া ফেরকার ভিত্তি স্থাপিত হয়*১০।

‘শিয়া মতবাদ’এর ভিত্তি রচনাকারী মূল নায়কের পরিচয় ঃ
‘শিয়া মতবাদ’এর মূল উদগাতা ছিল ইহুদী তাত্বিক আবদুল্লাহ ইবনে সাবা আল ইহুদী। ইয়েমেনের অধিবাসী এ ধূর্ত লোকটি তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান(রাঃ)এর শাসনামলে মদীনায় আগমন করে নিজেকে একজন নিষ্টাবান মুসলমান রূপে প্রকাশ করে খলিফার নৈকট্য প্রাপ্তদের মধ্যে স্থান করে নিতে স্বচেষ্ঠ হয়। কিন্তু, উসমান(রাঃ) তার গতিবিধি দেখে সন্দিহান হয়ে তাকে দূরে সরিয়ে দেন। এ ব্যক্তিই পরে এমন একটি বক্তব্য দাঁড় করায় যে , হযরত নবী করীম(সাঃ)এর পর তাঁর বৈধ উত্তরাধীকারী ছিলেন হযরত আলী(রাঃ)। কিন্তু, চক্রান্ত করে তাঁকে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এ ব্যক্তি হযরত উসমান(রাঃ)এর বিরুদ্ধেও নানা ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করতে থাকে*১১। ফলশ্রতিতে হযরত উসমান(রাঃ) দুষ্কৃতকারীর হাতে শাহাদত বরণ করেন।
আর এ আবদুল্লাহ ইবনে সাবা আল ইহুদীই প্রথম ব্যক্তি যে প্রচার করেছিল যে , হযরত আলী(রাঃ) মৃত্যুবরণ করেননি, তিনি আবার ফিরে আসবেন। শুধু ক’দিনের জন্য একটি পর্বতের অপর প্রান্তে লুকানো অবস্থায় থাকবেন। তার এ চিন্তা-চেতনায় নির্ভর করে মুসলমানদের মধ্যে ভাঙ্গন সৃষ্টির স্থায়ী রূপ দেয়া হলো তাও ইহুদীদের হাতে*১২।

‘শিয়া মতবাদ’এর জন্মদিন ঃ

ঐতিহাসিক হিট্টির মতে – ১০ই মুহররম ‘শিয়া মতবাদ’এর জন্ম হয়*১৩।


বহুধাবিভক্ত ‘শিয়া মতবাদ’এ বিশ্বাসীরা ঃ

ইহুদী তাত্বিক আবদুল্লাহ ইবনে সাবা আল ইহুদীর চিন্তা-চেতার ধারায় শেষ পর্যন্ত শিয়ারা একটা বিরাট দলে পরিণত হয়ে যায়। কালে কালে তারা ইসলামী আকিদা বিশ্বাসের সমান্তরাল নতুন আকিদা-বিশ্বাস , এবাদত পদ্ধতি এবং চিন্তা চেতনার সৃষ্টি করে*১৪। বিচিত্র বিশ্বাসের অনুসারী হয়ে তারা পরবর্তীতে বহুধাবিভক্ত হয়ে বিভিন্ন উপদলে অস্থিত্ব লাভ করে। এমনকি ৭০(সত্তর) এরও অধিক উপদলে বিভক্ত হয়ে যায়। এসব কোন কোন উপদলের বিশ্বাস এতই জগণ্য যে, তাদেরকে কোন মাপেই মুসলীম উম্মাহর অংশ রূপে গণ্য করার উপায় নেই*১৫।
শিয়াদের বহুধাবিভক্ত উপদলের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী যে দল , সেটি হলো – ‘শিয়ায়ে ইমামিয়া বা শিয়ায়ে ইসনা আশারিয়া’। বর্তমানে এ দলটিই ‘শিয়া’ নামে পরিচিত। অন্যান্য উপদলগুলোর মধ্যে – দরুজী, হুমাইরী , গোরাবী দলগুলো অন্যতম*১৬।

‘শিয়ায়ে ইমামিয়া বা শিয়ায়ে ইসনা আশারিয়া’এর বিংশ খ্রীষ্টাব্দের ইমাম ঃ

বিগত বিংশ খ্রীষ্টাব্দে ‘শিয়ায়ে ইমামিয়া বা শিয়ায়ে ইসনা আশারিয়া’র পথ প্রদর্শক ও মহান নেতা ছিল ইরানী বিপ্লবের আহ্বায়ক আয়াতুল্লাহ রুহুল্লা খোমেনী*১৭।

শিয়াদের আকিদা-বিশ্বাস ঃ

• শিয়াদের মূল দল তথা ইহুদী পণ্ডীত আবদুল্লাহ ইবনে সাবার মতাদর্শীরা দাবী করে যে, খলিফা হবার অধিকারী ছিলেন হযরত আলী(রাঃ)। এটা তাঁর রাজনৈতিক অধিকার নয় , ধর্মীয় অধিকার। সাহাবায়ে কেরামের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ট অংশ হযরত আলী(রাঃ)কে খলিফা রূপে মনোনীত না করে ধর্মচ্যুত হয়েছিলেন*১৮।
• শিয়াদের আরেক দল আরও একটু অগ্রসর হয়ে হযরত আলী(রাঃ) সম্পর্কে এরূপ ধারণা প্রচার করতে থাকে যে , প্রকৃত প্রস্তাবে হযরত আলী(রাঃ)ই নবী ছিলেন। ফিরিস্তা জীবরাঈল(আঃ) ভুলক্রমে ওহী হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) র নিকট নাযিল করে ফেলেছিলেন*১৯।
• শিয়াদের আরেক দলের বিশ্বাস যে, কারবালার ঘটনার পর বিদ্রোহ ঘোষনাকারী নিখোঁজ হওয়া মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাকে ইরাকের একটি পাহাড়ী অঞ্চলে সুরক্ষিত করে রাখা হয়েছে। কেয়ামতের আগে দাজ্জালের মোকাবেলা করার উদ্দেশ্যে প্রতিশ্রুত ইমাম মাহদীর সহযোগী রূপে তাঁর আবির্ভাব হবে*২০।
• শিয়াদের উপদল সমুহের একটি বিরাট অংশের ধারণা – ইবলিশ শয়তান পৃথিবীর প্রতি ইঞ্চি জমিনে সিজদা করে সমগ্র ভূ-ভাগই নাপাক করে ফেলেছে। একমাত্র কারবালার ঐ অংশটুকুই এ অভিশাপ থেকে মুক্ত আছে, যে অংশে হযরত ইমাম হোসাইন(রাঃ) এবং আহলে বাঈতের সদস্যগণ তাবু স্থাপন করেছিলেন*২১।
• শিয়াদের ‘আকিদায়ে ইমামত’ হলো- ইসলামী আকিদা মতে একজন স্বতন্ত্র শরীয়াতধারী নবীর যে অর্থ , অবস্থান ও মর্যাদা; তাদের নিষ্পাপ ইমামেরও ঠিক একই অর্থ, মর্যাদা ও মহত্ত্ব*২২।
• শিয়াদের মতে, নবী করীম(সাঃ)এর ওফাতের পর সমগ্র সাহাবায়ে কেরামদের মধ্যে যাঁরা হযরত আবু বক্কর সিদ্দীক(রাঃ)কে খলিফা পদে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁর হাতে বাইয়াত নিয়েছিলেন , তাঁরা সকলেই কাফেরে পরিণত(নাউযুবিল্লাহ)। কেননা, তাঁরা নিষ্পাপ ইমাম হযরত আলী(রাঃ) এর হাতে বাইয়াত হন নাই। এটাই হলো শিয়াদের সাহাবায়ে কিরামের প্রতি বিদ্বেষ*২৩।
• শিয়াদের মতে, কিয়ামত পর্যন্তের জন্য নবী করীম(সাঃ) মানুষের হিদায়াতের উদ্দেশ্যে প্ররীত হয়েছিলেন- এটা সত্য নয়। নবী করীম(সাঃ) এর ওফাতের পর একদিনের জন্যও ইসলাম টিকে থাকেনি। কারণ, দীর্ঘ ২৩(তেইশ) বছরে ইসলামের যে সেনাদল তিনি নিজের ও উম্মতের মধ্যে সেতুবন্ধন রূপে তৈরী করেছিলেন, সে সেনাদলের গোটা জামাতই নবী করীম(সাঃ)এর ওফাতের পর ধর্মান্তরিত হয়ে গেছে (নাউযুবিল্লাহ)। শিয়াদের সাহাবায়ে কিরামের প্রতি বিদ্বেষের এটা আর একটা নমুনা*২৪।
• শিয়াদের মতে, কোরআন মজিদ অবিকৃত থাকেনি। বর্তমান আকারে যে কোরআন মজিদ মুসলমানদের হাতে আছে , তা নির্ভেজাল কোরান নয় বরং তা হযরত উসমান(রাঃ) কর্তৃক সংকলিত কোরআন*২৫।
• শিয়াদের প্রসিদ্ধ আলেম ও মুহাদ্দিস ‘নূরী তাবরছি’ কোরআনে কারীমের মধ্যে পরিবর্তন পরিবর্ধনের প্রমাণের লক্ষ্যে একটি বৃহৎ গ্রন্থ রচনা করেছেন। যার নাম ‘ফছলুল খিত্বাব ফি এছবাতি তাহরীফে কিতাবে রাব্বিল আরবাব’। এ গ্রন্থে লেখা হয়েছে যে, পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও রূপান্তরের ক্ষেত্রে কোরআনে কারীম তাওরাত ও যবুর , ইঞ্জিলের মতই (নাউযুবিল্লাহ)*২৬। এ কিতাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, মূল কোরআনে কারীম যা নিয়ে হযরত জীবরাঈল(আঃ) রাসূলে কারীম(সাঃ) এর নিকট অবতীর্ণ হয়েছিলেন তার মধ্যে ১৭০০০(সতেরো হাজার) আয়াত ছিল। কিন্তু, বর্তমানে মুসলমানদের নিকট যে কোরআন শরীফ বিদ্যমান আছে , সে কোরআনের মধ্যে হযরত আয়শা(রাঃ) এর গণনানুযায়ী মাত্র ৬৬৬৬ (ছয় হাজার ছয়শত ছেষট্টি)টি আয়াত রয়েছে*২৭।
• শিয়ারা ইসলামের কলেমায় সন্তুষ্ট নয় বরং তারা কালেমার সহিত ‘আলী ওয়ালিউল্লাহ্ অছি রাসূলুল্লাহ ( আলী(রাঃ) রাসূল(সাঃ)এর একমাত্র ওয়ারিশ ও তাঁর সরাসরি খলিফা )’ প্রভৃতি বাক্য যোগ করে*২৮।
• শিয়ারা কারবালার ঘটনার পর থেকে মুহররম মাসের প্রথম দশ দিন শোকদিবস পালন করে*২৯।
• শিয়াদের উপদল – দরুজী, হুমাইরী, গোরাবী মতাদর্শীরা প্রচার করে যে, পবিত্র কোরানের একটি উল্লেখযগ্য অংশ হযরত ফাতেমা(রাঃ) এবং হযরত আলী(রাঃ) এর উপর নাযিল হয়েছিল- সেই অংশটুকুই হচ্ছে আসল কোরআন*৩০।
• শিয়ায়ে ইসনা আশারিয়্যার মতাদর্শীদের আকিদা-বিশ্বাস হলো- তারা হযরত আলী(রাঃ)কে খোদা বলে দাবী করে। সে জন্য তারা ‘ইয়া আলী মদদ’ বলে তাঁকে সম্বোধন করে এবং বলে যে – আল্লাহ তাআলা হযরত জীবরাঈল(আঃ)কে পাঠিয়েছিলেন হযরত আলী(রাঃ)কে নবী বানাতে। কিন্তু, জীবরাঈল(আঃ) ভুল করে মুহাম্মদ(সাঃ)কে নুবুওয়াত দিয়ে দেন*৩১।এদের আরো আকিদাগুলো হলো-
১। দু’একজন ছাড়া সব সাহাবীরাই কাফির (নাউযুবিল্লাহ)*৩২।
২। হযরত আবু বক্কর(রাঃ) ও হযরত উমর(রাঃ) কাফির (নাউযুবিল্লাহ)*৩৩।
৩। হযরত আবু বক্কর(রাঃ) ও হযরত উমর(রাঃ)কোরানের মুখালেফাত, বিরোধীতাকারী (নাউযুবিল্লাহ)*৩৪।
৪। শিয়াদের ইমামদের উপর ঈমান আনা নবীদের উপর ঈমান আনার সমান*৩৫।
৫। শিয়াদের ইমামদের হাতে জান্নাত-জাহান্নাম, তাদের ইমামরা যাকে ইচ্ছা জান্নাত ও জাহান্নামে পাঠাতে পারবে*৩৬।
৬। মুতা (কিছুক্ষণের জন্য) বিবাহ করা অনেক সওয়াবের কাজ, এটা কোন জেনা নয়*৩৭।
৭। হযরত আয়শা(রাঃ) জেনাকারিনী (নাউযুবিল্লাহ)*৩৮।
৮। বর্তমান কোরআন আসল কোরআন নয়, আসল কোরআন ৪০ পারা এবং ৬০ হাত লম্বা*৩৯।
৯। হযরত উমর(রাঃ) রাসূল(সাঃ)এর ঘরে আগুন লাগিয়েছেন (নাউযুবিল্লাহ)*৪০।
১০। শিয়াদের প্রসিদ্ধ আলেম ও লেখক ‘বাকর মজলিসি’ তাঁর স্বীয় গ্রন্থ ‘হায়াতুল ক্বুলুব’এর মধ্যে উম্মুল মু’মেনীন হযরত আয়শা(রাঃ) ও হযরত হাফসা(রাঃ)কে বারবার মুনাফিক বলে আখ্যায়িত করেছেন। এমনকি তিনি একথাও লখেছেন যে, হযরত আয়শা(রাঃ) ও হযরত হাফসা(রাঃ) রাসূল(সাঃ)কে বিষপান করিয়ে শহীদ করে দিয়েছেন (নাউযুবিল্লাহ)*৪১।
১১। শিয়াদের প্রামাণ্য গ্রন্থ ’উসূলে কাফী’ তে কোরআনের আয়াত - ‘ওয়ালাকিন্নাল্লাহা হাব্বাবা ইলাইকুমুল ঈ’মানা ওয়াযাইয়্যানাহু ফি ক্বুলুবিকুম ওয়াকাররাহা ইলাইকুমুল কুফরা ওয়ালফুসুকা ওয়াল ইসইয়ান’- এর ব্যাখা প্রসঙ্গে লেখা হয়েছে যে, আয়াতটির মধ্যে ‘ঈমান’ দ্বারা হযরত আলী(রাঃ)কে ও ‘কুফর’ দ্বারা ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বক্কর(রাঃ)কে এবং ‘ফুসক’ দ্বারা দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর(রাঃ)কে বুঝানো হয়েছে*৪২।
১২। ইসনা আশারিয়্যার বিংশ খ্রীষ্টাব্দের ইমাম খোমেনী তাঁর লিখিত ফার্সীগ্রন্থ ‘কাশফুল আসরার’ এর ধারাবাহিক আলোচনার মধ্যে প্রথম শিরোনাম স্থাপন করেন- ‘মুখালাফাতে আবু বক্কর বা নচ্ছে কোরআন’(কোরআনের সাথে আবু বক্করের বিরোধতা)। আর দ্বিতীয় শিরোনামে লিখেন - ‘মুখালাফাতে উমর বা কোরআনে খোদা (আল্লাহর কোরআনের সাথে উমরের বিরোধীতা)*৪৩।

শিয়াদের ব্যাপারে মুসলমানদের মতামত ঃ

১। যাঁরা হযরত আবু বক্কর(রাঃ) ও হযরত উমর(রাঃ)এর চেয়ে হযরত আলী(রাঃ)কে উচ্চ মর্যাদাশীল রূপে বিশ্বাস করে, তাদেরকে কাফির বলা যাবেনা, তবে এ কারনে তারা ভুলের মধ্যে আছে*৪৪।
২। যারা মনে করে কোরআন শরীফ হুবহু নেই, কিছু বেশ কম হয়েছে এবং যারা মনে করে আল্লাহর আত্মা হযরত আলী(রাঃ)এর মধ্যে প্রবেশ করেছে- তাদেরকে মুসলমান বলা যাবেনা*৪৫।
৩। শিয়াদের ‘আকিদায়ে ইমামাত’ হযরত(সাঃ) এর খতমে নুবুওয়াতের বিরুদ্ধে এক প্রকাশ্য বিদ্রোহ এবং ইসলামের শাশ্বত বিধানের বিকৃতি সাধনে এক জগণ্য ষড়যন্ত্র। শিয়াদের এ ‘আকিদায়ে ইমামাত’ হলো ইসলামের সর্বস্বীকৃত ‘আকিদায়ে খতমে নুবুওয়াত’এর বিলুপ্তি সাধন করতঃ মিথ্যা নুবুওয়াতের চোরাপথ খোলার এক মন্ত্র রচনা। শিয়াদের ‘আকিদায়ে ইমামাত’ আদতেই দূর্বল ভিত্তির উপর প্রতিষ্টিত। যে কারনে বেশীদিন এর ভার রক্ষা করা যায়নি। ফলে তাদের ইমামগণের সিলসিলা ১২ নম্বরে সমাপ্ত করে শেষ ইমামকে এক অজানা গর্তে গায়েব করে দেয় ২৬০ হিজরীতে। তারপর সাড়ে ১১শত বছর গত হলেও এ পর্যন্ত কেহ জানেনা তাদের ১২তম ইমাম কোথায় কি অবস্থায় আছেন*৪৬।
৪। যেহেতু তিন খলিফা [হযরত আবু বক্কর(রাঃ) ও হযরত উমর(রাঃ) এবং হযরত উসমান(রাঃ)] এর আমলে হযরত আলী(রাঃ) স্বয়ং আপন হাতে মুসলমানদের বাইয়্যাত গ্রহণের আহ্বান জানাননি, সেহেতু হযরত আলী(রাঃ)এর প্রতিও শিয়ারা ক্ষীপ্ত*৪৭।
৫। কোরআনের আয়াত – ‘আমিই এই কোরআনকে নাযিল করেছি এবং আমিই এর হিফাজতকারী’- আল্লাহর এ দৃঢ় বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ ও মিথ্যা সাব্যস্থকারী হলো শিয়াদের কোরআন বিকৃতির আকিদা*৪৮।
৬। কোরআনের আসল কপি ১২তম ইমামের সহিত অজানা গর্তে লুকিয়ে আছে, শিয়াদের এ আকিদা তাদের দু’চারজন আলেম ব্যতিত বাকি সকলরই স্বীকৃত*৪৯।
৭। ইসলামের প্রথম কালেমা ও কোরআনের প্রতি যেখানে আস্থা নেই , সেখানে তাদের মধ্যে ইসলামের কিছুই বাকি থাকতে পারেনা*৫০।
৮। যে সকল শিয়া নিম্নলিখিত আকিদায় বিশ্বাসী , তারা কাফের। আর যারা তাদের অনুসরণ করবে তারাও কাফের। কাফের সাব্যস্থকারী আকিদাগুলো হল –
ক) কোরআন পরিবর্তনের আকিদা।
খ) আল্লাহর উপর মিথ্যাচারর অপবাদ আরোপ।
গ) আম্বিয়ায়ে কিরামের প্রতি ‘তাকিয়া’ বা মুনাফেকির অপবাদ।
ঘ) হযরত আবু বক্কর(রাঃ), হযরত উমর(রাঃ) এবং হযরত উসমান(রাঃ) এর উপর কুফর ও মুনাফেকির অপবাদ আরোপ এবং তাঁদের সাহাবিত্ব ও খেলাফত অস্বীকার।
ঙ) শিয়াদের ইমামদেরকে নিষ্পাপ ও আলেমুল গায়েব রূপে বিশ্বাস পোষণ।
চ) খতমে নুবুওয়াত আকিদার অস্বীকার ইত্যাদি।
শিয়া সম্প্রদায়ের ইসনা আশারিয়্যা দলের লোকেরা উল্লেখিত আকিদাগুলো পোষণ করে বিধায় তারাও কাফের*৫১।
৯। শিয়ারা কারবালার বাইরে সিজদা করার জন্য কারবালার বিশেষ স্থানের মাটি সংগ্রহ করে এবং সেই মাটি দ্বারা ছোট ছোট চাকতি তৈরী করে চাকতীতে কপাল ঠেকিয়ে সিজদা করে। এমনকি পবিত্র মক্কার বাইতুল্লাহ শরীফ এবং মদীনার মসজিদে নববীতে নামাজ পড়ার সময়ও তারা সেই চাকতি ব্যবহার করে। অথচ এটা হাদীস শরীফের সুস্পষ্ট ঘোষণার বিপরীতে একটা বাড়াবাড়ি। কেননা, রাসূল(সাঃ) স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, আল্লাহ পাক সমগ্র ভূ-ভাগই আমার জন্য মসজিদ বা সেজদার স্থান সাব্যস্থ করেছেন*৫২।
১০। আবু হনিফা নামে হযরত আলী(রাঃ)এর কোন সন্তান ছিলনা। হযরত ফাতেমা(রাঃ)র ইন্তেকালের পর হানাফিয়্যা গোত্রের খাওলা বিনতে জাফর ইবনে কাইস নামীয় এক মহিলাকে হযরত আলী(রাঃ) বিয়ে করেছিলেন। এই মহিলার গর্ভে তাঁর যে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়েছিল তাঁর নাম ছিল মুহাম্মদ। বনি হানাফিয়্যার উক্ত মহিলাকে বিবি হানাফিয়্যা নামে ডাকা হতো বলেই তাঁর গর্ভজাত সন্তানকে মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যা ডাকা হতো। কারবালার ঘটনার পর তিনি বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। এমনি এক যুদ্ধে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। শিয়া মতালম্বীরা তাঁর নিখোঁজ হবার ঘটনাটি নিয়ে নানা গল্পের সৃষ্টি করে। অথচ, ইসলামের ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য সুত্রগুলিতে এ ধরণের কোন তথ্যের উল্লেখ নাই*৫৩।

সবশেষে বলতে হয়, শিয়ারা একটা বিভ্রান্ত ফেরকা। এদের অধিকাংশই কাফের। প্রাথমিক অবস্থায় রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে বৃহত্তর মুসলীম উম্মাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও পরবর্তীতে আকিদা – বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও বড় ধরণের বিভ্রান্তিতে জড়িয়ে তারা মিল্লাতে ইসলামিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে*৫৪।
শিয়াদের মতাদর্শ সম্পর্কে পূর্ণ রূপে জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে প্রয়োজন হবে আরও অধিক অধায়নের*৫৫।
==================

তথ্যসুতের বিবরণ ঃ

১। মাসিক মদীনা, জুলাই-২০০৩ সংখ্যা,

পৃষ্ঠা-৪৭ ,
সুত্র নং- ৪,৭,১৫,১৮,১৯,৫৪

২। মাসিক মদীনা, অক্টোবর-২০০৩ সংখ্যা,
পৃষ্ঠা-৪৬ ,
সুত্র নং- ১,১১,১৪,১৫,১৬,৩০

৩। মাসিক মদীনা, নভেম্বর-২০০৩ সংখ্যা,
পৃষ্ঠা-৫৭ ,
সুত্র নং- ২,৩,২১,৫২,

৪। মাসিক মদীনা, জুলাই-২০০৫ সংখ্যা,
পৃষ্ঠা-০৯ ,
সুত্র নং- ৯,১২,

৫। মাসিক মদীনা, সেপ্টেম্বর-২০০২ সংখ্যা,
পৃষ্ঠা-৫৯ ,
সুত্র নং-২০,৫৩

৬। দাওয়াতুল হক, মে-২০০২ সংখ্যা,
পৃষ্ঠা-৫৫ ,
সুত্র নং- ৪৪,৪৫

৭। দাওয়াতুল হক, অক্টোবর/নভেম্বর-২০০৩ সংখ্যা,
পৃষ্ঠা-৩৯,৪০,
সুত্র নং- ৬,৮,২৫,২৮,৪৬,৪৭,৪৮,৪৯,৫০

৮। দাওয়াতুল হক, নভেম্বর-২০০৩ সংখ্যা,
পৃষ্ঠা-৩৯ ,
সুত্র নং- ২২,২৩,২৪

৯। দাওয়াতুল হক, মার্চ-২০০৪ সংখ্যা,
পৃষ্ঠা-১৫,
সুত্র নং-১৩,২৯

১০। দাওয়াতুল হক, ফেব্রোয়ারী-২০০৫ সংখ্যা,
পৃষ্ঠা-১২,৪০,
সুত্র নং- ৫,১০,১৬,১৭,২৬,২৭,৩১,৩২,৩৩,৩৪,৩৫,৩৬,৩৭,৩৮,৩৯,৪০,৪১,৪২,৪৩,

১১। দাওয়াতুল হক, মার্চ-২০০৫ সংখ্যা,
পৃষ্ঠা- ৩৯
সুত্র নং- ৫১

১২। ফাসলুন খিত্তাব
পৃষ্ঠা-৭০ ,
সুত্র নং-২৬,

১৩। কাশফুল আসরার
পৃষ্ঠা-১৭,১১৭,১৪৪,১৫০,১৭৬,৯৫০
সুত্র নং-৩৩,৩৪,৩৫,৩৭,৩৯,৪৩,

১৪। হায়াতুল ক্বুলুব
পৃষ্ঠা-৮৭০
সুত্র নং-৪১

১৫। উসূলে কাফী
পৃষ্ঠা-২৬৯
সুত্র নং-৪২

১৬। আহসানুল ফতোয়া
পৃষ্ঠা-৭৫
সুত্র নং-৪৪,৪৫

১৭। ফতোয়ায়ে আলমগিরীয়্যা দ্বিতীয় খন্ড
পৃষ্ঠা-২৬৩,২৬৪
সুত্র নং-৫১

১৮। সুত্র – ৫৫ এর জন্য দেখুন ঃ
ক) সুরা বাকারা , আয়াত-২
খ) সুরা হিজর, আয়াত-৯
গ) সুরা মু’মিনুন , আয়াত-৭
ঘ) মাসিক মুঈনুল ইসলাম,জুন-২০০২ইং সংখ্যা, পৃষ্টা-৪০
ঙ) মাসিক মুঈনুল ইসলাম,এপ্রিল-২০০৫ইং সংখ্যা, পৃষ্টা-৩১
চ) ফতোয়ায়ে শামী ৩য় খন্ড, ২৯৪ পৃষ্ঠা
ছ) আল মাওছুয়াতুল ফিকহিয়্যাহ- ৩৫/১৪
জ) বাদায়ী- ৭/১০২,১০৩
ঝ) হাশিয়াতুস সিহাব – ৩/৩৭২,৩৭৩,৩৮৩,৩৮৪
ঞ) মিশকাত শরীফ – ১/১১
ট) গুণিয়াতুত্তালেবীন (আবদুল কাদের জিলানী রহঃ)
ঠ) তোহফায়ে ইসনা আশারিয়্যা (শাহ আবদুল আজীজ মুহাদ্দেস দেহলভী রহঃ)
=================

বৃহস্পতিবার, ২৩ আগস্ট, ২০১২

অভিমানী ঝগড়া


অভিমানী ঝগড়া
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------
আজ এক মেয়ে বন্ধুর সাথে তুমুল ঝগড়া হলো । ঝগড়াটার একটা নাম দিলেই নয় । তাই নাম দিলাম " অভিমানী ঝগড়া " । ঝগড়াটা আর কিছুর জন্য নয় , নেটে এসে চ্যাটে ধরণা না দেয়ার শাস্তি ! তবে আর দেরী নয় , দেখুন আমাদের ঝগড়া।
আমি এক মিনিটের জন্য জরুরী প্রয়োজনে চ্যাট অপশনে অনলাইনে যখন আসি মেয়েটির ম্যাসেজ আসে :
- ম্যাসেজের রিপ্লায় না দিলে তোমার খবর আছে আজকে !
- এটা কোন ধরণের ম্যাসেজ ? আগে মানুষ সালাম দোয়া দেয় তারপর কিছু বলার থাকলে বলে । নেশা করে এসেছো নাকি ?
- তোমাকে সালাম দোয়া দিতাম আগে ! কাছে পাইলে চাবুক দিয়ে কসে মারতাম ।
- চাবুক কি ?
- পান্তা ভাতের ঘি ?
- বুঝেছি , আজ তুমি নশা করেই এসেছ । বড় লোকের বেটিরা এমনই হয়। নেশা চড়ে গেলে হুঁশ থাকেনা।
- হ্যাঁ আমি নেশা করেই এসেছি । তাতে তোমার কি ?
- আমার কি মানে ? তুমি আমাকে যা তা বলবে আর আমি শুনব ?
- শুনতে তো হবেই বাচাধন , শুনার মত কাজ যে কর তুমি !
- কি করেছি আমি ?
- ঈদ গেছে কয়দিন ?
- ঈদ কি ?
- তোমার মাথা ?
- আমার মাথা ঈদ হলো কেমনে ?
- কচি খোকা আমার ! সেটা বুঝনা দেখেই তো বুঝাতে চাইছি ।
- ঠিক আছে বুঝাও , আমার মাথা ঈদ হয় কেমনে ?
- প্রথমে একটা হেমার খুজে নাও ।
- তারপর ?
- তারপর হেমারটা দিয়ে তোমার মাথার উপরে জোরসে মার , বুঝবে তোমার মাথা কিভাবে ঈদ হল ।
- আমি তোমার মত নেশাখোর না, মাতাল হয়ে নিজেকে নিজেই শেষ করে দিতাম।
- ও তাই ! তবে ঈদ কি জিজ্ঞেস করলে কেন ?
- এর উত্তর দিতে গেলে তো তোমকে ভালভাবে বুঝাতে হবে ।
- ঠিক আছে বুঝাও ।
- আগে বল - অর্ধেক বুঝবে না কি পুরা বুঝবে ?
- যেটা ভাল হয় সেটা ।
- যদি তাই হয় , তোমাকে পুরাই বুঝাতে হবে ।
- ঠিক বুঝাও ।
- এভাবে কি বুঝানো যায় ?
- তবে কিভাবে বুঝানো যাবে ?
- তোমাকে আমার কাছে আসতে হবে , আমার সাথে খেতে হবে , আমার সাথে থাকতে হবে , আমার সাথে ঘুমাতে হবে । মোট কথা আমার সাথে ১২ বছর কাটাতে হবে আমার কাছে এসে ।
- ইয়ার্কী কর আমার সাথে ?
- ইয়ার্কী না সত্য বলছি ?
- তুমি না একটা ফাজিল।
- কি আমি ফাজল ? কি ফাজলামী করেছি তোমার সাথে ?
- এই যে , এগুলি যে বললে ফাজলামী ছাড়া আর কি ?
- সেটা ফাজলামী না , যা সত্য তাই বলছি । প্রবাসীদের কাছে ঈদ মূল্যহীন । তারা দেশ থেকে এসে প্রবাসী হয়ে ভুলে গেছে ঈদ কি ? আর কেন ভুলে গেছে সেটা বুঝতে হলে তোমাদের কে প্রবাসীদের সাথে জীবনযাপন করতে হবে । নয়তো বুঝবেনা। ঈদের দিনগুলোই তারা কত কষ্টে দিনযাপন করে তা তোমাদের বুঝে আসবেনা । তাই বলছিলাম - ঈদ কি ?
- সো সরি ! তোমাকে হার্ট করলাম ।
- না ঠিক আছে ।
- বল কি খবর , কেমন আছো ?
- আমরা তো ভালই , তোমার কথা শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেলো এসেছিলাম তোমার সাথে ঝগড়া করতে । এখন তোমার মনখুশি কিভাবে করা যায় , সে চিন্তাই করছি।
- থাক আর আমাদের জন্য চিন্তা করতে হবে না । তোমরা যারা দেশে আছ সুখেই থাক । তোমাদের সুখের মধ্য দিয়েই হোক আমাদের জীবনের পথচলা।
- দেশে এসে ঘুরে যাও ।
- আর দেশে ! ভাবছি আর দেশেই যাবোনা ।
- এমন করে বলনাতো ।
- কেমন করে বলতাম ? তুমি কি জাননা আমার খবর ?
- জানি বলেই বলেই তো বলছি , কয়েকদিন দেশে এসে মনকে ঠিক করে যাও।
- না বন্ধু , যে পরিস্থিতি মনে হয় দেশে আসা হবেনা বেশ কয়েকবছর। তবে কোরবানের পর একটা সিদ্ধান্তে আসতে পারব। কোরবানের পর আমার ভিসা রেন্যুর তারিখ। ভিসা রেন্যু হলে দেশে আসার চিন্তাভাবনা করব। ভিসা রেন্যু না হলে স্পন্সর থেকে পালাতে হবে । তার পর বিশ ত্রিশ বছর যা থাকতে পারি , এখানে থেকে কিছু একটা করার চেষ্ঠা করতে হবে।
- আসলে তোমার জন্য খুব খারাপ লাগছে।
- খারাপ লেগে কি হবে ?
- তাও ঠিক , কি করতে পারব আমি , শুধুমাত্র তোমাকে শান্তনা দেয়া ছাড়া ।
- এটুকুই চাই , আর বেশী কিছু না ।
- ঠিক আছে , আমি আর থাকতে পারছিনা , নেটে আসলে ইনবক্সে ম্যাসেজ দিও। আর সম্ভব হলে ফোন করো।
- ওকে , ভাল থেকো।
- তুমিও ভাল থেকো ।
- ঈদ মুবারক ।
- ঈদ মুবারক ।
==========