আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা

বাংলা ভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী

সকল মহান ভাষা শহীদগণের প্রতি,
এবং ভাষা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত

সকল ভাষা সৈনিক
ও বীর বাঙ্গালীদের জানাই অশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলী,
সেইসাথে সকলকে জানাই

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা।

বিষয় সূচী

সাহিত্য (60) অন্যান্য কবিতা (53) ভালোবাসার পদবিন্যাস ( প্রেম সম্পর্কিত রচনা বিশেষ ) (53) আমার লেখা প্রবন্ধ-নিবন্ধ (37) কবিতা (35) দেশ নিয়ে ভাবনা (33) ফিচার (33) বাংলাদেশ (29) সমসাময়িক (28) খন্ড কাব্য (26) হারানো প্রেম (22) সংবাদ (18) কাল্পনিক প্রেম (16) ইতিহাস (15) প্রতিবাদ (15) সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ (15) Online Money Making Links (14) দেশাত্মবোধক কবিতা (13) আমার জীবনের দিনপঞ্জী (12) ধর্ম (12) প্রেমের কবিতা (11) ব্যক্তিত্ব (11) রাজনীতি (11) ধর্মীয় আন্দোলন (10) প্রবাসের কবিতা (10) খন্ড গল্প (9) জীবন গঠন (9) বর্ণমালার রুবাঈ (9) ইসলাম (8) প্রগতি (8) মানুষ ও মানবতা (8) হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ (8) VIDEOS (7) আমার লেখালেখির অন্তরালে (7) ইসলামী জাগরণ (7) মানব মন (7) ট্র্যাজেডি (6) শোক সংবাদ (6) সম্প্রীতি (6) নারী স্বাধীনতা (5) প্রেমের গল্প (5) বিজয় দিবসের ভাবনা (5) মৃত্যুপথ যাত্রী (5) সংবাদ মাধ্যম (5) স্মৃতিকথা (5) ঈদ শুভেচ্ছা (4) প্রবাস তথ্য (4) রমজান (4) শুভেচ্ছা (4) Computer Programer (3) আমার ছবিগুলো (3) আমার রাইটিং নেটওয়ার্ক লিংক (3) পর্দা (3) ফটিকছড়ি (3) বাংলাদেশের সংবিধান (3) বিশ্ব ভালবসা দিবস (3) শিক্ষা (3) শিক্ষার্থী (3) স্লাইড শো (3) News (2) VERIETIES POEMS OF VERIOUS POETS (2) আষাঢ় মাসের কবিতা (2) আষাঢ়ের কবিতা (2) ইসলামী রেনেসাঁ (2) ছাত্র-ছাত্রী (2) থার্টি ফাস্ট নাইট (2) নারী কল্যান (2) নারী প্রগতি (2) নির্বাচন (2) বর্ষার কবিতা (2) মহাসমাবেশ (2) শবেবরাত (2) শরৎকাল (2) শাহনগর (2) শ্রদ্ধাঞ্জলী (2) সত্য ঘটনা (2) সত্য-মিথ্যার দ্বন্ধ (2) সফলতার পথে বাংলাদেশ (2) Bannersআমার ছবিগুলো (1) DXN (1) For Life Time Income (1) For Make Money (1) Knowledge (1) Student (1) অদ্ভুত সব স্বপ্নের মাঝে আমার নিদ্রাবাস (1) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (1) আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত(সুন্নী) (1) উপন্যাস (1) কবি কাজী নজরুল ইসলাম (1) কোরআন - হাদিসের কাহিনী (1) গল্প (1) চট্টগ্রাম (1) চিকিৎসা ও চিকিৎসক (1) জমজম (1) জাকাত (1) তরুন ও তারুণ্য (1) নারী জাগরণ (1) পরকিয়ার বিষফল (1) ফটিকছড়ি পৌরসভা (1) বন্ধুদিবস (1) বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেম (1) বিবেক ও বিবেকবান (1) বিশ্ব বাবা দিবস (1) বিশ্ব মা দিবস (1) ভ্রমণ (1) মন্তব্য (1) মাহফুজ খানের লেখালেখি (1) রবি এ্যাড (1) রমজানুল মোবারক (1) রেজাল্ট (1) রোগ-পথ্য (1) লংমার্চ (1) শহীদ দিবস (1) শুভ বাংলা নববর্ষ (1) শৈশবের দিনগুলো (1) সমবায় (1) সস্তার তিন অবস্থা (1) সাভার ট্র্যাজেডি (1) সিটি নির্বাচন (1) স্বপ্ন পথের পথিক (1) স্বাধীনতা (1) হ্যালো প্রধানমন্ত্রী (1) ২১ ফেব্রোয়ারী (1)

APNAKE SHAGOTOM

ZAKARIA SHAHNAGARIS WRITING

সকলকে বাংলা নতুন বছরের শুভেচ্ছা

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আমরা আর বাংলা ভাষায় কথা বলতে চাইনা । নিজের মাতৃভাষাকে যখন-তখন যেখানে সেখানে অবমাননা করে তৎপরিবর্তে ইংরেজী ভাষা ব্যবহার করতে অভ্যাস্থ হয়ে যাচ্ছি বা হয়ে গেছি ।
আরও একটু এগিয়ে গেলে বলতে হয় - আমরা আজ বাঙ্গালী হয়ে বাঙ্গালী জাতিসত্বা ভুলে গিয়ে ইংরেজী জাতিসত্বায় রক্তের ন্যায় মিশে গেছি !

অথচ একদিন আমরা বাঙ্গালী জাতি একতাবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রীয় ভাষা উর্দুকে ত্যাগ করে নিজেদের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা তথা বাংলা ভাষাকে সর্বত্র প্রচলন করতে প্রাণ দিতে বাধ্য হয়েছিলাম ! ফলে বিজাতীয় ভাষা উর্দূকে অপসারন করে নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলার স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলা ভাষাকে ধারন করেছিলাম । যখন আমরা বাংলার সর্বত্র বাংলা ভাষায় কথা বলা শুরু করেছিলাম ,তখন কিন্তু বিশ্বায়নের যুগটা অনুপস্থিত ছিল তা নয় , বিশ্বায়নের যুগটা তখনও ছিল বিধায় আমরা ইংরেজী শিক্ষায় তখনও বাধ্য ছিলাম । অর্থাৎ যে জন্যে আজ আমরা ইংরেজী শিখছি সেইজন্যে তখনও ইংরেজী শিক্ষার প্রচলন ছিল । ছিল ইংরেজী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাও । তাই বলে সে সময় বর্তমান সময়ের মত মাতৃভাষা বাংলাকে অবমাননা করা হয়নি । মানুষ সে সময় বাংলায়ই কথা বলেছিল । শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রেই সে সময় ইংরেজী ব্যাবহার করেছিল বাঙ্গালী জাতি

conduit-banners

Powered by Conduit

ফ্লাগ কাউন্টার

free counters

MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY

PLEASE CLICK ON MY BANNERS. VISIT MY AFFILIATE SITE "MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY ( অনলাইনে অর্থোপার্জনের একটা মাধ্যম )" I HOPE IT WILL BE HELPFUL FOR YOU. Create your own banner at mybannermaker.com!

রবিবার, ৮ জুলাই, ২০১২

ইতিহাসে ৮ জুলাই

ইতিহাসে ৮ জুলাই

মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী

-----------------------

রাষ্ট্রপতি ও বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম এর মৃত্যু ঃ ১৯৯৭ সালের এইদিনে - বাংলাদেশের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ঢাকায় মৃত্যু বরণ করেন। ১৯১৬ সালে তিনি রংপুর জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি রংপুর জেলা স্কুলে পড়া লেখা করেন এবং পরবর্তিতে কারমাইকেল কলেজে ভর্তি হন। এরপর তিনি কলকাতা প্রসিডেন্সি কলেযে পড়ালেখা করেন ও ইউনিভার্সিটি ল' কলেজ থেকে আইনে ডিগ্রি লাভ করেন। কলকাতা কোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ করার পর ১৯৪৭ সালে সায়েম ঢাকা চলে আসেন। ঢাকায় এসে তিনি ঢাকা হাইকোর্টে প্রাকটিস শুরু করেন। বাঙ্গালি রাজনীতিবিদ এ.কে. ফজলুল হকের সাথেও তিনি কাজ করেন। একসময় তিনি ঢাকা হাই কোর্ট বার এসোসিয়েশনের নির্বাচিত মহাসচিব ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট হন। ১৯৬২ সালের ৩ জুলাই তিনি বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তাঁকে ১২ জানুয়ারি , ১৯৭২ এ দেশের প্রথম প্রধান বিচারপতির দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি। তিনি ৬ নভেম্বর ১৯৭৫ থেকে ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।


১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ও ৬ নভেম্বর এর সামরিক অভ্যুত্থানের পর বিচাপতি সায়েমকে দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি হয়ে তিনি সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে সামরিক আইন জারি করেন এবং নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা করেন। ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর তিনি সামরিক আইন প্রশাসকের পদ থেকে অব্যাহতি নিয়ে সেনা প্রধান জিয়াউর রহমানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগ করেন। ১৯৭৭ এর ২১ এপ্রিল তিনি দূর্বল স্বাস্থ্যের কারণে জিয়াউর রহমানের হাতে রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে দিয়ে অবসরগ্রহণ করেন। বিচারপতি সায়েম তার আত্মজীবনী "বঙ্গভবনে:শেষ অধ্যায় (At Bangabhaban : Last Phase)" লিখে প্রকাশ করেন ১৯৮৮ সালে। এ বইটিতে তিনি ১৯৭৫-৭৭ এর মাঝের দেশের রাজনৈতিক ঘটনাগুলো উল্লেখ্য করেন।

অবিসংবাদী জননেতা, কমরেড জ্যোতি কিরণ বসুর জন্ম ঃ ১৯১৪ সালের এইদিনে - বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি কমিউনিস্ট নেতা, পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী, ভারতীয় উপমহাদেশের বরেন্য বামপন্থী রাজনীতিবিদ, অবিসংবাদী জননেতা, কমরেড জ্যোতি কিরণ বসু (যিনি জ্যোতি বসু নামেই বিখ্যাত) কলকাতার ৪৩/১ হ্যারিসন রোডস্থ (বর্তমান মহাত্মা গান্ধী রোড) বাসভবনের এক সম্ভ্রান্ত বাঙ্গালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল জ্যোতিরিন্দ্র বসু; ডাকনাম ছিল গনা। জ্যোতি বসুর পিতা নিশিকান্ত ছিলেন এক প্রথিতযশা ডাক্তার এবং মা হেমলতা ছিলেন এক গৃহবধূ। তিনি বাবা-মার তৃতীয় সন্তান। তাঁর সাথে বাংলাদেশের নাড়ির টান রয়েছে। কারন বসু পরিবারের আদিনিবাসও ছিল ব্রিটিশ বাংলা প্রদেশের ঢাকা জেলার (অধুনা বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার) বারদী গ্রামে। একসময় ছেলেবেলাও কেটেছে তার বারদিতে।

১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে তাঁর পিতামাতা ওল্ড হিন্দুস্তান বিল্ডিং-এর (বর্তমান ফুটনানি চেম্বার) একটি ভাড়াবাড়িতে উঠে আসেন। ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতারই ৫৫ এ হিন্দুস্তান রোডস্থ নিজস্ব বাসভবনে উঠে আসেন তাঁরা। তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় কলকাতার ধর্মতলার লরেটো স্কুলে ১৯২০ সালে, ছয় বছর বয়সে। স্কুলে ভর্তির সময়ই নিশিকান্ত বসু ছেলের নাম ছোট করে জ্যোতি বসু রাখেন। জ্যোতি বসু ১৯২০ সালে কলকাতার ধর্মতলার মেয়েদের স্কুল লোরেটোতে প্রথম ভর্তি হয়েছিলেন। লরেটো স্কুলে পাঁচ বছর পড়ার পর তিনি ১৯২৫ সালে কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলে পড়া শুরু করেন। এরপর ১৯২৫ সালে দ্বিতীয় শ্রেণিতে সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল থেকে সিনিয়র কেমব্রিজ বা নবম শ্রেণি পাস করেন। ম্যাট্রিকুলেশন পাস করার পর ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সসহ প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। পরে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স সম্পন্ন করেন।

গ্র্যাজুয়েশন সম্পূর্ণ করার পর ১৯৩৫ সালে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষার্থে তিনি বিলেত চলে যান। সেখান থেকে ব্যারিস্টারি পাস করেন। সেখানে পড়াশোনা করতে গিয়ে তিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। সে সময় ব্রিটেনে যেসব ভারতীয় ছাত্র পড়াশোনা করত তাদের অধিকাংশই ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে জড়িত ছিল। এই স্বাধীনতা সংগ্রামীরা মূলত ইন্ডিয়া লীগ ও লন্ডন মজলিস নামে দুটি প্লাটফর্মে কাজ করত। জ্যোতি বসু এই দুটি সংগঠনেই সক্রিয়ভাবে কাজ করা শুরু করেন। ১৯৩৭ সালেই তিনি ইন্ডিয়া লীগের সদস্য হন। ১৯৩৮ সালে জ্যোতি বসু ও তাঁর সহকর্মীদের উদ্যোগে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর ব্রিটেন সফরের সময় সভার আয়োজন করা হয়। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের লন্ডন সফরকালেও একই ধরনের উদ্যোগ নেন জ্যোতি বসু।

লন্ডনে থাকাকালীন সেখানকার ভারতীয় ছাত্রদের নিয়ে গড়ে ওঠা লন্ডন মজলিশের তিনি ছিলেন প্রথম সম্পাদক। ইংল্যান্ডে গ্রেট ব্রিটেনের কমিউনিস্ট পার্টির সাথে তার সখ্যতা বাড়ে। বিশিষ্ট কমিউনিস্ট দার্শনিক ও লেখক রজনী পাম দত্ত কর্তৃক কমিউনিস্ট মতাদর্শে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হন জ্যোতি বসু। লন্ডনে আইন পড়তে গিয়েই রাজনীতিতে তাঁর দীক্ষা হয়। ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডনে আইন পড়তে পড়তেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, আইন ব্যবসা নয়, কমিউনিস্ট রাজনীতিই হবে তার জীবনের ব্রত।

তখন বিশ্বে ফ্যাসীবাদী অভ্যূত্থান শুরু হয়েছে। লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্সে হ্যারল্ড লাস্কির বক্তৃতা শুনতে শুনতে তিনি উদ্দীপ্ত হয়ে পড়লেন। কার্ল মার্কসের দাস ক্যাপিটাল এবং এঙ্গেলসের কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো পড়ে মেতে উঠলেন রাজনীতিতে। সে সব সভায় ব্রিটেনের লেবার ও কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকতেন। ব্রিটেনে অধ্যয়নকালেই তিনি প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হ্যারল্ড লাক্সির বক্তৃতা শোনার জন্য লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিক্সে যেতেন। এ সময় তিনি প্রখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা রজনীপাম দত্তের সংস্পর্শে আসেন। মূলত তাঁর অনুপ্রেরণাতেই তিনি মার্কসীয় দর্শনের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। একসময় বন্ধু ভূপেশ গুপ্তের অনুপ্রেরণায় গ্রেট ব্রিটেনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরিচিত হন। স্নেহাংশু আচার্য, হীরেন মুখার্জি, ইন্দ্রজিৎ গুপ্ত, এন কে কৃষাণ প্রমুখ বহু তরুণ ভারতীয় সে সময় বিলেতে বিদ্যার্থী থাকাকালে কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত হন। সে সময় কমিউনিস্ট জুজুতে সারা ইউরোপ কাঁপছে। এই অবস্থাতেই তিনি ব্রিটেনের কমিউনিস্ট পার্টির পরামর্শে পূর্ব লন্ডনে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের সংগঠিত করার উদ্যোগ নেন। মূলত এর মধ্য দিয়েই তিনি সরাসরি শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে কাজ করা শুরু করেন। এক পর্যায়ে ব্রিটেনের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। কিন্তু ব্রিটেনের কমিউনিস্ট পার্টির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক হ্যারি পোলিত তাঁকে এতে নিরুৎসাহিত করেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ। তাই তিনি যদি এই পার্টির সদস্য হন তাহলে ভারতে ফিরে যাওয়া তাঁর পক্ষে কঠিন হবে। জ্যোতি বসু সিদ্ধান্ত নেন, ভারতে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবেন। ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। লন্ডনের মিডল টার্ম থেকে তিনি ১৯৪০ সালে ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করেন।

সেই বছরই তিনি দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে এসেই 'কাকাবাবু' কমরেড মোজাফ্ফর আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং নিষিদ্ধঘোষিত গোপনে কর্মরত কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। প্রথমে কিছুদিন বোম্বে থাকার পরে তিনি কলকাতায় চলে আসেন। আর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন রেল শ্রমিকদের নেতা হিসাবে। স্বাধীনতার পূর্বে দেশের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, তেভাগা আন্দোলন ও বঙ্গবিভাগ নিয়ে আইনসভায় বিভিন্ন আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন তিনি। স্বাধীনোত্তর পশ্চিমবঙ্গে খাদ্য আন্দোলন, শিক্ষক আন্দোলন, বন্দীমুক্তি, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত আন্দোলনের পুরোভাগে থাকেন জ্যোতি বসু। এই সময় একাধিকবার বিভিন্ন কারণে কারারুদ্ধও হতে হয় বসু সহ তৎকালীন শীর্ষস্থানীয় কমিউনিস্ট নেতাদের। রাজ্যের ক্ষমতায় এসে জ্যোতি বসু পাটশিল্প, কয়লাশিল্প ইত্যাদির রাষ্ট্রায়াত্ত্বকরণ এবং জমিদারি প্রথার উচ্ছেদের ঘোষনা করেন। জমিদারি প্রথার উচ্ছেদের পাশাপাশি ভূমিহীনদের মধ্যে জমিবণ্টন নিয়ে তার উদ্যোগ ভারতের ইতিহাসে চিরদিন লেখা থাকবে। তার সরকারের ৩৬ দফা কর্মসূচীর অবদান পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে চিরঋনী করে রেখেছে।

মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকে দেশ শাসনের দর্শন ব্যক্ত করে তিনি বলেছিলেন, “আমরা রাইটার্স বিল্ডিং থেকে ক্ষমতা প্রয়োগ করব না, আমরা আমাদের কর্মসূচী রূপায়ণ করব মাঠ আর কারখানা থেকে, জণগণের সহায়তা নিয়ে, কারণ এরাই আমাদের ক্ষমতার উৎস।” সারা পৃথিবীতে কোন একটি নির্বাচিত সরকারে একনাগাড়ে বহু বছর শাসন করার কৃতিত্ত্ব আর কোন রাজনীতিকের নেই। এমন এই মানুষটি ছিলেন বাঙ্গালী। দেশে বিদেশে এমন কোন বাঙ্গালী নেই যিনি জ্যোতি বসুর নাম শোনেননি। ছাত্রাবস্থায় উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে গিয়ে তিনি কমিউনিস্ট ভাবাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন।

১৯৪০ সালে ভারতে ফিরে এসে প্রথমে আইন ব্যবসাতে যুক্ত হলেও অচিরেই সেই পেশা ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে। সেই সময় ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের জনক ছিলেন প্রবাদপতিম নেতা মুজফফর আহমেদ। তার সাথে যুক্ত হয়ে তিনি বামপন্থী আন্দোলনকে নিয়ে গেলেন একটি বিশেষ জায়গায়। ১৯৪৩ সালে সালে সিপিআই'র প্রথম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। সেই কংগ্রেস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত পার্টির বঙ্গীয় প্রাদেশিক সম্মেলনে তিনি প্রদেশ কমিটির সংগঠক নির্বাচিত হন। তখন থেকেই তিনি পার্টিনির্দেশে সার্বক্ষণিকভাবে বেঙ্গল-আসাম রেলওয়েতে ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। একই সঙ্গে তিনি বন্দর ও ডক শ্রমিকদেরও সংগঠিত করার উদ্যোগ নেন। দীর্ঘ ৬৭ বছর তিনি একটানা সেই পার্টি-সার্বক্ষণিকের জীবনযাপন করে গেছেন।

১৯৪৬ সালে তিনি অবিভক্ত বঙ্গপ্রদেশের আইনসভায় ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম প্রতিনিধি হিসাবে নির্বাচিত হন। অসংখ্যবার ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামের দায়ে তিনি গ্রেফতার বরন ও আত্মগোপনে বাধ্য হন। এরপরে দেশভাগের পরেও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। ড. বিধানচন্দ্র রায়ের মুখ্যমন্ত্রীত্বের সময় তিনি হন পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিরোধী দলনেতা। এই সময় ভারত সরকার তার দলকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করলে তিনি আবারো গ্রেফতার হন। এ সময় পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ডা. বিধানচন্দ্র রায়। জ্যোতি বসু তখন বিরোধী দলনেতার ভূমিকা পালন করেন। বিধানসভার একজন তরুণ সদস্য হিসেবে তিনি সে- সময়ের কংগ্রেস-নীতির ব্যাপক গঠনমূলক সমালোচনা করেন। শুধু সংসদেই আলোচনা-সমালোচনা নয়, একই সঙ্গে তিনি রাজপথে কংগ্রেসের জনবিরোধী নীতির বিপক্ষে লাগাতার আন্দোলন গড়ে তোলেন। ট্রেড ইউনিয়ন নেতা হিসেবে রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারী এবং শ্রমিক-মজুরদের মধ্যে তিনি জনপ্রিয় তো ছিলেনই, পাশাপাশি ছাত্র ও তরুণদের মধ্যে তিনি পার্টিকে বিস্তৃত করতে সক্ষম হন। সে সময় জ্যোতি বসু পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতেও ঐতিহাসিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। এ সময় তিনি ঐতিহাসিক খাদ্য আন্দোলনেরও নেতৃত্ব দেন।

১৯৪৬ সালে যখন সারা ভারতে দাঙ্গা ছড়িয়ে পরে তখন মহাত্মা গান্ধী কলকাতার বেলেঘাটায় আসেন। জ্যোতি বসু তাঁর সঙ্গে সেখানে দেখা করেন এবং সর্বদলীয় শান্তি রক্ষা কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেন। ১৯৪৬ সালে জ্যোতি বসু প্রথম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হন। বেঙ্গল-আসাম রেলওয়ে নিয়ে গঠিত আসন বা কনস্টিটুয়েন্সি থেকে তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৫১ সালে তিনি দলীয় মুখপত্র 'স্বাধীনতা' পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হন। ১৯৫৩ সালে তিনি সিপিআই'র পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৪ সালে জ্যোতি বসু সিপিআই'র কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৬৪ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যায়। সেখান থেকে অনেকেই বেরিয়ে এসে নতুন করে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি-মার্কসবাদী (সিপিআই-এম বা সিপিএম) নামে সংগঠন গড়ে তোলেন। জ্যোতি বসু তখন সিপিএম-এর পলিটব্যুরোর সদস্য নির্বাচিত হন। তবে দল ভাগ হলেও সমস্ত বামপন্থী দলকে নিয়ে তিনি একসাথে লড়াই আন্দোলন চালিয়ে যান। ১৯৬৭ সালেই পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস সরকারের পতন হলে জ্যোতি বসু পশ্চিমবঙ্গের যুক্তফ্রন্ট সরকারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৬৭-৬৯ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন। তখন যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বাংলা কংগ্রেসের নেতা অজয় মুখার্জি। এ সরকারকে বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে দেয়া হয়নি। ষড়যন্ত্র করে তাঁকে অপসারণ করা হয়।

১৯৭২ সালে কংগ্রেস ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে পুনরায় ক্ষমতায় আসে। সিদ্ধার্থ শংকর রায় তখন কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। সিপিএম নির্বাচন বয়কট করে। ১৯৭৭ সালেই সিপিএম-এর নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকার প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে এককভাবে ক্ষমতায় আসে। জ্যোতি বসু পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৭৭ সালের ২১ জুন শপথ নেন পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। ১৯৯৬ সালে ভারতে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠিত হলে জ্যোতি বসুকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় সব দল মিলে। কিন্তু সিপিএম-এর পলিটব্যুরো সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করায় জ্যোতি বসু ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ ছেড়ে দেন।

২০০০ সালের ২৮ জুলাই সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক চলাকালীন হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন জ্যোতি বসু। চিকিৎসার পর সুস্থ্য হয়ে উঠে ১৫ আগস্ট নিজেই জানান ১৫ সেপ্টেম্বরের পর অবসর নিতে চলেছেন তিনি। তবে পার্টির চাপে অবসরের তারিখ নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত পিছিয়ে যায়। ৩ নভেম্বর শেষ বারের মতো পশ্চিমবঙ্গ এর রাজ্য সচিবালয় মহাকরণে আসেন বসু। ৫ নভেম্বর রাজারহাট নিউটাউনে একটি আবাসিক ভবনের অনুষ্ঠানে যান। সেটিই ছিল তাঁর জীবনের শেষ সরকারি অনুষ্ঠান। একটানা ৮৫৪০ দিন (২৩ বছর) মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০০০ সালের ৬ নভেম্বর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের হাতে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব অর্পণ করে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বিদায় সংবর্ধনা সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেন জ্যোতি বসু। এটাই কোনো ভারতীয় মুখ্যমন্ত্রীর সর্বোচ্চ কার্যকাল। শুধু ভারতে নয়, গোটা বিশ্বেই অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে ছয়-ছয়বার একটানা নির্বাচিত হয়ে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ঘটনা আর নেই বললেই চলে। বিরল এই ঘটনা তাঁর ও তাঁর পার্টির অসাধারণ জনপ্রিয়তা ও নানা বৈরী শক্তির ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূলতার মুখেই তা বজায় রাখতে পারার কৃতিত্বের প্রমাণ বহন করে। পার্টির শৃঙ্খলা ও যৌথ সিদ্ধান্তের প্রতি তাঁর আনুগত্য ছিল নিটোল। একজন ভালো কমিউনিস্টের জন্য যা থাকা একান্ত আবশ্যক।

মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অবসর নেয়ার পরও জ্যোতি বসু দলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন দীর্ঘদিন। ২০০৫ সালে দলের ১৮তম কংগ্রেসে তিনি পুনরায় পলিটব্যুরোর সদস্য হন। কিন্তু ২০০৬ সালের মাঝামাঝি শারীরিক কারণে দলের রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চাইলে দলের অনুরোধে ১৯তম কংগ্রেস পর্যন্ত তিনি সেই দায়িত্ব পালন করেন। সেই বছর ২৩ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় সরকার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্ন প্রদান করতে চাইলে তিনি তা গ্রহণে অসম্মত হন। এরপরে ২০০৭ সালের ১৭ মার্চ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় জ্যোতি বসুকে সাম্মানিক ডি. লিট. সম্মান প্রদান করে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হলে ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি বসু বিধাননগরের অ্যাডভান্সড মেডিকেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে (আমরি হসপিটাল) ভর্তি হন। । সতের দিনের দীর্ঘ অসুস্থতার পর ১৭ জানুয়ারি ভারতীয় সময় সকাল ১১ টা ৪৭ মিনিটে জ্যোতি বসুর জীবনাবসান হয়। তাঁর দেহের সৎকার হয় নি - তিনি তাঁর চোখ দান করে গেছেন ; তাঁর মরদেহ ব্যবহৃত হবে মেডিক্যাল কলেজের গবেষণায়। তাঁর মৃত্যু উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গে ১৮ জানুযারী ২০১০ সোমবার সরকারী ছুটি পালিত হয়। ২০ জানুযারী তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। তার শেষযাত্রায় ভারতের সব দল তো বটেই, পৃথিবীর নানা দেশের রাষ্ট্রনেতারা উপস্থিত থেকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, জ্যোতি বসুর কোন বিকল্প হয়না। তিনি কমিউনিস্ট নেতা, জননেতা, রাষ্ট্রনেতাও বটে।

জ্যোতি বসু ভারতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন সন্দেহ নেই। তার জন্যেই ভারত-বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জলচুক্তি হয়েছিল। বাংলাদেশের যুদ্ধের সময় বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষকে আশ্রয় দেবার ক্ষেত্রেও তার অবদান চিরস্মরনীয় থাকবে। অতি সম্প্রতি তার দল কেরালা ও পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা থেকে সরে গেলেও এখনো একক দল হিসাবে সবচেয়ে বেশী ভোট পেয়েছে তারা। এখনো ত্রিপুরা রাজ্যের ক্ষমতায় আছে তার দল। আর এই কৃতিত্তের জন্যে দলের যে মানুষটির অবদান সবচেয়ে বেশী, তার নাম অবশ্যই জ্যোতি বসু।

জ্যোতি বসু তাঁর সারা জীবনের উদাহরণ দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন যে, তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ ভালো কমিউনিস্ট এবং সেজন্য তিনি মানুষ হিসেবেও হয়ে উঠতে পেরেছিলেন অনন্যসাধারণ মানবতাবাদী, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, প্রগতিবাদী মানুষ। তাঁর দরদ ছিল অপরিসীম। এসব গুণের জন্যই তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হতে পেরেছিল। কমরেড জ্যোতি বসু প্রয়াত, কিন্তু তিনি চিরঞ্জীব। শ্রমজীবী মানুষের মুক্তি সংগ্রামের অব্যাহত কাফেলার ধারায় জীবন্ত হয়ে থাকবেন জ্যোতি বসু অগণিত কাল ধরে। তিনি ইতিহাসের মহানায়ক। মুক্ত মানবের মুক্ত সমাজ রচনার দ্বারা সভ্যতার নতুন দিগন্ত অবারিত করার বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের তিনি ছিলেন এক মহান স্থপতি। তিনি বিশ্ব সভ্যতার এক অনন্য সম্পদ। ভারতবর্ষ ও বিশ্ব সভ্যতা তাঁকে নিয়ে গর্ব করতে পারে।

বেগম খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনার সেলফোনে কথা বলা ঃ ২০০৭ সালের এইদিনে - দীর্ঘ দিন পর অভিন্ন সঙ্কটে প্রধান দুই দলের অস্তিত্ব আরো বিপন্ন হতে পারে­ এই আশঙ্কায় বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সেলফোনে কথা বলেন। এরই মধ্য দিয়ে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ দুই নেত্রীর মধ্যকার ব্যবধান কমে আসতে থাকে। পরিবর্তিত পরিস্খিতিতে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং রাজনৈতিক ইনস্টিটিউশনকে ‘ধ্বংসের হাত থেকে’ বাঁচাতে তারা নিজেরাই উদ্যোগী হন। এদিন দুপুরে শেখ হাসিনার সাথে একটেলের একটি পার্টনার ফোনে দুই নেত্রী কথা বলেন। সে সময় বেগম খালেদা জিয়ার পাশে বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব গয়েশ্বর চন্দ্ররায় এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কাছে বেগম মতিয়া চৌধুরী উপস্খিত ছিলেন। সাবেক স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে এই দুই নেত্রী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে এক হয়েছিলেন। এর দু’দিন আগেও দু’নেত্রীর মধ্যে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়। ওই আলোচনায় দুই নেত্রী রাজনৈতিক ইনস্টিটিউশন রক্ষায় একযোগে কথা বলতে একমত হন।

ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নৌ দুর্ঘটনায় ‘এমভি নাসরিন’ এর সলিল সমাধি ঃ ২০০৩ সালের এইদিনে - ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নৌ দুর্ঘটনা ‘এমভি নাসরিন’ ডুবে ৬৪১ জনের মৃত্যু ঘটে। এদিন ঢাকা থেকে লালমোহনগামী ‘এমভি নাসরিন-১’ চাঁদপুরের ডাকাতিয়া এলাকায় অতিরিক্ত যাত্রী ও মাল বোঝাইয়ের কারণে পানির তোড়ে তলা ফেঁটে গেলে প্রায় ২ হাজারের বেশি যাত্রীসহ এটি ডুবে যায় মেঘনা নদীতে। এ দুর্ঘটনায় ১২৮ পরিবারের প্রধানসহ সরকারিভাবে ৬৪১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু বেসরকারি হিসেবে লাশ উদ্ধার করা হয় প্রায় ৮০০। দুর্ঘটনার দুইদিন পর ভোলার মেঘনা পরিণত হয়েছিল লাশের নদীতে।

যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান টটাম ও’নিল জাডেনের জন্ম ঃ ১৯৯৮ সালের এইদিনে - বিস্ময় বালক হলিউডের অভিনেতা, র‌্যাপার, গীতিকার, ড্যান্সার ও যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান টটাম ও’নিল জাডেন জন্মগ্রহণ করে। জাডেন পিতা উইল স্মিথ-এর সঙ্গে পারসুইট অব হ্যাপিনেস ছবিতে অভিনয় করে। এটাই ছিল জাডেনের অভিনয়ে হাতেখড়ি। প্রথম ছবিতেই তার তাক লাগানো অভিনয় তাকে একাধিক পুরস্কার এনে দেয়।

২০০৮ সালে মুক্তি পায় তার দ্য ডে দ্য আর্থ স্টুড স্টিল ছবিটি। এ বছরেই মুক্তি পায় জ্যাকি চ্যানের সঙ্গে দ্য কারাতে কিড। অল্প কিছু ছবিতে অভিনয় করেই জাডেন প্রমাণ করেছে হলিউডে এখনো অনেক চমক দেখানো বাকি তার। রয়েছে আরো অনেকে শার্লি টেম্পল (দ্য লিটিল প্রিন্সেস), জুডি ফস্টার (ট্যাক্সি ড্রাইভার), নাটালি পোর্টম্যান (দ্য প্রফেশনাল), এনজো স্টেইয়োলা (দ্য বাইসাইকেল থিফ), আবিগালি ব্রেসলিন (লিটিল মিস সানসাইন) লিন্ডা ব্লেয়ার (দ্য এক্সোরসিস্ট)।

মাত্র ১০ বছর বয়সে অস্কারের আলো ঝলমলে বিশাল মঞ্চে নতুন ইতিহাসের জন্ম দেয় টটাম ও’নিল। ১৯৭৪ সালে মুক্তি পায় তার পেপার মুন ছবিটি। এ ছবিতে তার অনবদ্য অভিনয় তাকে একাডেমি এ্যাওয়ার্ড, গোল্ডেন গ্লোবসহ আরো অনেক পুরস্কার ভূষিত করে। সবচেয়ে কমবয়েসী হিসেবে তার অস্কার জয় শিশুদের অভিনয় ইতিহাসে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই ছবির সহঅভিনেতা ছিল বাবা রায়ান ও’নিল। শিশু বয়সের সফল ক্যারিয়ারে টটাম অভিনয় করেছে দ্য ব্যাড নিউজ রেয়াবস, লিটল ডার্লিং, ইন্টারন্যাশনাল ভেলভেট এর মতো সাড়া জাগানো ছবিতে।

চাঁদের বুকে নামা তৃতীয় মানুষ Charles “Pete” Conrad এর মৃত্যু ঃ ১৯৯৯ সালের এইদিনে - চাঁদের বুকে নামা তৃতীয় মানুষ Charles “Pete” Conrad মৃত্যুবরণ করেন। Apollo 12 মিশনের মাধ্যমে চাঁদে অবতরণ করেন Charles “Pete” Conrad। তিনি ২ জুন, ১৯৩০ আমেরিকার পিনসেলভেনিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। অভিযানে অংশ নেয়ার সময় তার বয়স ছিল ৩৯ বছর ৫ মাস ১৭ দিন। Charles “Pete” Conrad এর মিশন উৎক্ষেপণ: ১৪ নভেম্বর, ১৯৬৯ এবং চাঁদে পৌঁছে: ১৯ নভেম্বর, ১৯৬৯ আর পৃথিবীতে ফিরে আসে: ১৪ নভেম্বর, ১৯৬৯।

নাসার মহাকাশমুখী সর্বশেষ খেয়াযান আটলান্টিস উৎক্ষেপণ ঃ ২০১১ সালের এইদিনে - মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা খেয়াযান আটলান্টিস উৎক্ষেপণ করে। আর এর মধ্যদিয়ে মার্কিন শাটল কর্মসূচি এসটিএস-১৩৫র পরিসমাপ্তি ঘটে। আটলান্টিসের ক্রুদের মধ্যে ছিলেন মিশন কমান্ডার ক্রিস ফারগুন, পাইলট ডগ হারলে, মিশন বিশেষজ্ঞ স্যান্ডি মাগনাস ও রেক্স ওয়ালহেইম। এই মিশন ১২ দিনের। গন্তব্য আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন। উৎক্ষেপণের সময় আটিলান্টিসের শরীরের ভার ছিল ৩.৫ টন। এর এক-তৃতীয়াংশই ভবিষ্যতের মহাকাশ পর্যটকদের জন্য খাদ্য !

মহাকাশফেরির বিকল্প বাহন শাটল কর্মসূচি বন্ধ করা হলেও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) যাতায়াত ও রসদ আনা-নেওয়ার জন্য রাশিয়ান মহাকাশযান সয়ুজকে ব্যবহার করবে নাসা। স্পেস শাটলের বিকল্প হিসেবে নাসা তৈরি করছে মহাকাশযান ওরিয়ন। তাছাড়া নাসার কিছু মহাকাশযান নির্মাণাধীন আছে যেমন-ক্রু এক্সপ্লোরেশন ভেহিকল (সিইভি), এরেস ১ ও ৫। বিকল্প বাহন হিসেবে ব্যবহূত হতে পারে স্পেস-এক্সের ফ্যালকন-৯ ও ড্রাগন মহাকাশযান এবং অরবিটাল সায়েন্স করপোরেশনের টরাস-২ ও সিগনাস মহাকাশযান।

১৯৭২ সালের তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন আনুষ্ঠানিকভাবে নাসার স্পেস শাটল কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ১৯৮১ সালের ১২ এপ্রিল প্রথম স্পেস শাটল কলাম্বিয়া উৎক্ষেপণ করে আমেরিকার ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স ও স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নাসা)। পৃথিবীর চতুর্দিকে ৩৬ বার প্রদক্ষিণ করার পর এটি দুদিন পর ১৪ এপ্রিল পৃথিবীতে ফিরে আসে। এরপর চ্যালেঞ্জার, এন্ডেভার, ডিসকভারি আর আটলান্টিস এই ৫টি নভোযান ৩০ বছর ধরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে মানুষ ও রসদ আনা নেওয়া করেছে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে এসে মহাশূন্যে স্পেস শাটলের অভিযান কেবল আর বিজ্ঞানী এবং মহাকাশ গবেষকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকল না। নাসার কল্যাণে মহাশূন্য অভিযান পরিণত হয়েছিল আকর্ষণীয় ভ্রমণের বিষয়ে। এর আগের অভিযানে আটলান্টিসের প্রথম মিশন সম্পন্ন হয়েছিল ১৯৮৫ সালের ৩ অক্টোবর।

অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম ঃ ১৯৭২ সালের এইদিনে - বিশিষ্ট ভারতীয় ক্রিকেটার তথা ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (দাদা, মহারাজ, প্রিন্স অফ কলকাতা) বেহালা, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম চন্ডিদাস গঙ্গোপাধ্যায় ও মাতার নাম নিরুপা গঙ্গোপাধ্যায়। সৌরভ মূলত তাঁর দাদার সাহায্যে ক্রিকেট জীবনে প্রতিষ্ঠিত হন। তিনি প্রথম জীবনে স্কুল ও রাজ্যের হয়ে ক্রিকেট খেলা শুরু করেন ক্রিকেট জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য পেতে থাকেন তিনি।

তিনি তাঁর জীবনের প্রথম একদিনের আন্তজার্তিক ম্যাচ খেলেন ১১ই জানুয়ারী, ১৯৯২ সালে। কিন্তু তিনি সেই অভিষেক ম্যাচে মাত্র তিন(৩) রান করেন, যার ফলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে দল থেকে বাদ পড়েন। তার পর ১৯৯৩-১৯৯৪ এবং ১৯৯৪-১৯৯৫ সালের রঞ্জি ট্রফিতে চমৎকার সাফল্য লাভ করেন যার ফলে তিনি আবার ১৯৯৬-এর ইংল্যান্ড সফরের জন্য খেলার সুযোগ পান। এরপরে সেই সফ- রেই তিনি তাঁর জীবনের প্রথম টেষ্ট খেলেন ২০ই জুন, ১৯৯৬ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। তিনি সেই সফরে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছিলেন। তিনি তাঁর ক্রিকেট জীবনে সর্বমোট ৩১১টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এবং ১১,৩৬৩ রান সংগ্রহ করেছেন। পাশাপাশি তিনি ১১৩টি টেস্ট খেলেছেন ও ৭,২১২ রান সংগ্রহ করেছেন। ভারতকে তিনি ৪৯টি টেস্ট ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যার মধ্যে ভারত জিতেছিল ২১টি ম্যাচে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ভারতকে ১৪৬টি একদিনের আন্তজার্তিক ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যার মধ্যে ভারত জিতেছিল ৭৬ টি ম্যাচে। তিনি ভারতের একজন মিডিয়াম পেসার বোলারও ছিলেন।

বাঁহাতি ক্রিকেটার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় অদ্যাবধি ভারতের সফলতম টেস্ট অধিনায়ক বলে বিবেচিত হন। ২০০৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে তাঁর অধিনায়কত্বেই ভারত ফাইনালে পৌঁছে যায়। ২০০৮ সালের ৭ অক্টোবর সৌরভ ঘোষণা করেন যে সেই মাসে শুরু হতে চলা টেস্ট সিরিজটিই হবে তাঁর জীবনের সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ। ২০০৮ সালের ২১ অক্টোবর সৌরভ তাঁর সর্বশেষ প্রথম-সারির ক্রিকেট ম্যাচটি খেলেন। ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলার পর তিনি ক্রিকেট থেকে অবসর নেন।

এরপরে ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০-এ আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলেন এবং ২০০৮ ও ২০১০-এ এই দলকে নেতৃত্ব দেন। ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত আইপিএলের চতুর্থ সিজনে নিলামে তিনি অবিক্রীত থেকে গেলেও শেষ পর্যন্ত পুনে ওয়্যারিআর্সের দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৭২ অনূর্দ্ধ ১৫ বাংলার হয়ে ওড়িশার বিরুদ্ধে শতরান, ১৯৯১ সালে পূর্বাঞ্চলের হয়ে দলীপ ট্রফিতে ১২১ রান তাঁকে ভারতীয় দলে যায়গা করে দিয়েছিল।

ভাষাবিদ আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন ইসহাক ঃ ২৪৪ (হিজরি) সালের এইদিনে - বিখ্যাত মুসলিম মনীষী ও ভাষাবিদ আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন ইসহাক বা 'ইবনে সাকিত' আব্বাসীয় শাসক মুতাওয়াক্কিলের হাতে শাহাদাত বরণ করেন। তিনি দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের খুযিস্তানে জন্মগ্রহন করেন এবং পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের সাথে ইরাকের বাগদাদে গিয়ে লেখাপড়া শুরু করেন। নিজের মেধার গুণে তিনি অতি অল্প সময়ের মধ্যেই বিজ্ঞ মহলে পরিচিতি লাভ করেন এবং এ কারণে আব্বাসীয় শাসক মুতাওয়াক্কিল নিজের সন্তানদের শিক্ষক হিসেবে ইয়াকুব বিন ইসহাককে নিয়োগ দেন। কিন্তু বিশ্বনবী (সাঃ) এর আহলে বাইতের প্রতি তার গভীর অনুরাগের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ার কারণে মুতাওয়াক্কিল তাকে হত্যা করেন। ইবনে সাকিত ২০টিরও বেশী বই রচনা করেছেন।

কোরআন বিশেষজ্ঞ আবু আলী আব্দুল্লাহ ইবনে বানা ঃ ৪৭১ (হিজরি) সালের এইদিনে বিশিষ্ট মুসলিম ফকীহ, মোহাদ্দেস ও কোরআন বিশেষজ্ঞ আবু আলী আব্দুল্লাহ ইবনে বানা ৮৫ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। ইতিহাস, নৈতিকতা, হাদিস ও কোরআনের ওপর তিনি ব্যাপক গবেষণা করেন এবং ঐ গবেষণালব্ধ ফলাফল তিনি বই আকারে লিখে রেখে যান। ইবনে বানার বইয়ের সংখ্যা দেড়শ'রও বেশী বলে ধারণা করা হয়। বর্তমানে তার হাতের লেখা তিনটি বই সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কেন্দ্রীয় পাঠাগারে সংরক্ষিত আছে। এছাড়া ইবনে বানা প্রতিদিন যে ডাইরি লিখতেন, তা থেকে হিজরি পঞ্চম শতকের মুসলিম ইতিহাস, বিশেষ করে বাগদাদের শাসকদের সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায়।

দার্শনিক শাহাবুদ্দিন সোহরাওয়ার্দি ঃ ৫৪৯ (হিজরি) সালের এইদিনে - ইরানের বিখ্যাত পন্ডিত ও দার্শনিক শাহাবুদ্দিন সোহরাওয়ার্দি শহীদ হন। তিনি ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত যানজানের কাছে জন্মগ্রহন করেন। আল্লাহ প্রদত্ত মেধাকে কাজে লাগিয়ে তিনি ইসলামের ওপর ব্যাপক গবেষণা করেন। বিশেষ করে তিনি দর্শন শাস্ত্রে তৎকালীন যুগের সেরা পন্ডিতে পরিণত হন। মরহুম সোহরাওয়ার্দি বিশ্বের বহু মুসলিম দেশ সফর করে নিজের জ্ঞানভান্ডার সমৃদ্ধ করেন। তিনি দর্শনশাস্ত্রে নতুন ধারার প্রবর্তন করেন। তার পূর্ববর্তী দার্শনিকদের ব্যাখ্যার বিপরীতে তিনি মনে করতেন, কোন সত্য উদঘাটনের জন্য যুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি যথেষ্ট নয় বরং এর সাথে এরফান বা আধ্যাত্মিক জ্ঞানকেও যুক্ত করতে হবে। সোহরাওয়ার্দির এই দর্শন, তার বিরোধী চিন্তাধারার বুদ্ধিজীবীদের ক্ষিপ্ত করে তোলে এবং তাদের প্ররোচনায় তাকে গ্রেফতার ও হত্যা করা হয়। অল্পদিনের জীবনে সোহরাওয়ার্দি ফার্সি ও আরবি ভাষায় বহু বই লিখে যান, যা আজো দর্শনশাস্ত্রের ছাত্র-শিক্ষকদের কাছে মূল্যবান জ্ঞানভান্ডার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিখ্যাত তিলসিত চুক্তি স্বাক্ষরিত ঃ ১৮০৭ সালের এইদিনে ঃ রাশিয়ার তিলসিত এলাকায় বিখ্যাত তিলসিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। রুশ সম্রাট প্রথম আলেক্সান্ডার ও ফ্রান্সের সম্রাট নেপোলিয়নের মধ্যে ঐ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ইতিহাসখ্যাত ঐ চুক্তিতে রাশিয়া ও ফ্রান্সের সম্রাটগণ তাদের কোনো একটি দেশে তৃতীয় কোন শক্তি হামলা চালালে পরস্পরকে সাহায্য করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন। কিন্তু দুই দেশের এই বন্ধুত্ব মাত্র তিন বছর অর্থাৎ ১৮১০ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়। ঐ বছর রুশ সরকার এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে সক্ষম হয় যে, নেপোলিয়নের সাথে বন্ধুত্ব এবং তাকে সহযোগিতা করলে রাশিয়ার বৈদেশিক বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ কারণে রাশিয়া তার পানিসীমা ও বন্দরগুলো সব দেশের জাহাজের জন্য উন্মুক্ত করে দেয় এবং রাশিয়ায় ফরাসী পন্যের ওপর ব্যাপক আমদানী শুল্ক ধার্য্য করে। এ পরিস্থিতিতে ফরাসী সম্রাট নেপোলিয়ন ১৮১২ সালের ২৪শে জুন অকস্মাৎ রাশিয়া আক্রমণ করেন এবং এর ফলে দুই সাম্রাজ্যের মধ্যে ৫ বছরের মিত্রতার অবসান ঘটে।

কিম ইয়েল সুং এর পরলোকগমন ঃ ১৯৯৪ সালের এইদিন ঃ উত্তর কোরিয়ার সাবেক নেতা ও সেদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মহাসচিব কিম ইয়েল সুং পরলোকগমন করেন। ১৯৪৫ সালে তিনি সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন হিসেবে উত্তর কোরিয়ায় প্রত্যাবর্তন করেন। কিম ইয়েল সুং ১৯৪৮ সালে কোরিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বের ভার গ্রহন করেন এবং গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়া প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি সেদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। কোরিয়ো যুদ্ধের সময় সুং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন এবং ১৯৭২ সালে তিনি কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। কোরিয়ার বিভক্তি এবং কোরিও উপদ্বীপে মার্কিন হস্তক্ষেপের স্পর্শকাতর সময়ে কিম ইয়েল সুং উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেন। একই সাথে তিনি সে সময়কার দুটি বৃহৎ কমিউনিস্ট শাসিত দেশ রাশিয়া ও চীনের সাথে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার নীতিও গ্রহন করেন। এছাড়া দেশের পুনর্গঠন ও শিল্প উন্নয়নে কিম ইয়েল সুং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিম ইয়েল সুং এর মৃত্যুর পর তার ছেলে কিম জং ইল উত্তর কোরিয়ার নেতা নির্বাচিত হন।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুগুরি সন্দিন্তি রাজশেখর রেড্ডি ঃ ১৯৪৯ সালের এইদিনে - ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুগুরি সন্দিন্তি রাজশেখর রেড্ডি (ওয়াইএসআর ) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন। পুলিভেন্দুলা বিধানসভা থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভায় ছয় বার নির্বাচিত রাজশেখর রেড্ডি কুদ্দাপা লোকসভা কেন্দ্র থেকে ৯ম, ১০ম, ১১শ ও ১২শ লোকসভায় নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাজশেখর রেড্ডির হেলিকপ্টার নাল্লামালা জঙ্গলের কাছে নিখোঁজ হয়ে যায়। ৩ সেপ্টেম্বর সকালে সংবাদমাধ্যম জানায় যে কুর্নুলথেকে ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে রুদ্রকোন্ডা পাহাড়ের চূড়ায় সেই হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে। সেই দিনই পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নেওয়া হয় এবং অন্যান্য আরোহীদের সঙ্গে রাজশেখর রেড্ডির মৃত্যুর কথাও ঘোষণা করা হয়।

ইংরেজ কবি জিওফ্রে চসারের সুবিখ্যাত 'ক্যান্টারবেরি টেলস' ঃ ১৯৯৮ সালের এইদিনে - খ্যাতনামা ইংরেজ কবি জিওফ্রে চসারের সুবিখ্যাত 'ক্যান্টারবেরি টেলস' কাব্যগ্রন্থের একটি মূল কপি বিশ্বের সবচেয়ে দামি বইয়ের মর্যাদায় আসীন। কারণ এটি লন্ডনের 'ক্রিস্টিস' নিলাম ঘরে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৬০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছিল! বইটি ছাপা হয়েছিল ১৪৭৭ সালে।

নাথুলা পাস উম্মুক্ত ঃ ২০০৬ সালের এইদিনে - দীর্ঘ ৪৪ বছর বন্ধ থাকার পর নাথুলা পাস সীমান্ত পথটি ভারত চীনের সাথে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে খুলে দেয়। নাথুলা পাস ভারত ও চীনের মধ্যে একমাত্র স্থল সীমান্ত পথ। ভারত-চীন পথটি হিমালয়ের ১৪,৪২৫ ফুট উচুতে অবস্থিত। পথটিতে ভারতের সিকিম রাজ্যের সীমান্তের সঙ্গে চীনের তিব্বতের সীমান্ত মিলেছে। ১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধের সময় ভারতের সাথে চীনের এই বাণিজ্য পথটি বন্ধ হয়ে যায়।

টোকিও ব্যাঙ্কের বেইজিং শাখা ঃ ১৯৯৫ সালের এইদিন - বেইজিংয়ে প্রথম বিদেশী ব্যাঙ্ক খোলা হয়। টোকিও ব্যাঙ্কের বেইজিং শাখা চীনা গণ ব্যাঙ্কের সদর দপ্তরের অনুমোদন পেয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১৮৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত টোকিও ব্যাঙ্ক হচ্ছে জাপানের পেশাগত বিদেশী মুদ্রা ব্যাঙ্ক। টোকিও ব্যাঙ্ক চীনের সঙ্গে প্রায় ৪০ বছর ধরে আদান-প্রদান করেছে, চীনের বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য ঋণ দিয়েছে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চীনের অর্থনৈতিক নির্মানকাজে সমর্থন দিয়েছে।

চীনের টেলিযোগাযোগ নেট প্রতিষ্ঠিত ঃ ১৯৮৬ সালের এইদিন - চীনের অভ্যন্তরীণ উপগ্রহ টেলিযোগাযোগ নেট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। টেলিযোগাযোগ উপগ্রহ হচ্ছে বিষুবরেখার উপর ৩৬ হাজার কিলোমিটার উঁচু স্থানে বসানো সমকালীন উপগ্রহ রিলে স্টেশন হিসেবে আঞ্চলিক টেলিযোগাযোগ বাস্তবায়নের আধুনিক পদ্ধতি।

নেটোর পূর্ব-মুখী পরিকল্পণা ঃ ১৯৯৭ সালের এইদিন - নেটোর পূর্ব-মুখী সম্প্রসারণ পরিকল্পণা শুরু। নেটোর শীর্ষ সম্মেলন স্পেনের মাদ্রিদের পৌর সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। ১৬টি সদস্য দেশের রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানগণ পাঁচ ঘন্টা ধরে তুমুল বিতর্ক করার পর চেক প্রজাতন্ত্র, হাংগেরি এবং পোল্যান্ডকে নেটোতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন, অবশেষে উল্লেখিত তিনটি দেশ ১৯৯৯ সালের এপ্রিল মাসে নেটোর ৫০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আনুষ্ঠানিকভাবে নেটোর সদস্যে পরিণত হয়। এ থেকে প্রতিপন্ন হয়েছে যে, ৩ বছর ধরে পরিকল্পিত নেটোর পূর্ব-মুখী সম্প্রসারণ পরিকল্পণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

অভিনেত্রী ভিভিয়ান লেইগ ঃ ১৯৬৭ সালের এইদিনে – অস্কার প্রাপ্তা শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী ভিভিয়ান লেইগ ক্ষয়রোগে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনের নিজ বাসস্থানে ৫৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯১৩ সালের ৫ নভেম্বর তিনি ভারতের দার্জিলিংয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা-মা ব্রিটিশ নাগরিক। তাঁর প্রথম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হচ্ছে "Gone with the wind"। এই চলচ্চিত্র মুক্তি পাবার অব্যবহিত পরেই বিশ্ব চলচ্চিত্র জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেন তিনি। সেই বছরই তিনি অস্কার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পুরস্কার পান।

শিল্পী আমিনুল ইসলাম ঃ ২০১১ সালের এইদিনে - শিল্পী আমিনুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করেন। ৭ নভেম্বর, ১৯৩১ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

ভাস্কো ডা গামা ঃ ১৪৯৭ সালের এইদিনে - নৌ অভিযাত্রি ভাস্কো ডা গামা লিসবন থেকে ভারতে যাত্রা শুরু করেন।

কলকাতা বুক সোসাইটি ঃ ১৮১৭ সালের এইদিনে - কলকাতা বুক সোসাইটি স্থাপিত হয়।

লর্ড ক্যানিং কর্তৃক ‘শান্তি’ ঘোষণা ঃ ১৮৫৮ সালের এইদিনে - সিপাহি বিদ্রোহের অবসানের পর লর্ড ক্যানিং ‘শান্তি’ ঘোষণা করেন।

ভারতের সংবিধান সংস্কার ঃ ১৯১৮ সালের এইদিনে - ভারতের সংবিধান সংস্কার সম্পর্কে মন্টেগু-চেমসফোর্ড রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।

ব্রিটেনের কেনিয়া অধিগ্রহণ ঃ ১৯২০ সালের এইদিনে - ব্রিটেন কেনিয়া অধিগ্রহণ করে।

কবি পার্সি বিসি শেলি ঃ ১৮২২ সালের এইদিনে - ইংরেজ কবি পার্সি বিসি শেলির মৃত্যু।

দার্শনিক এর্নস্ট ব্লখ ঃ ১৮৭৫ সালের এইদিনে - জার্মান দার্শনিক এর্নস্ট ব্লখের জন্ম।

বিষ্ণু দে ঃ ১৯০৯ সালের এইদিনে - বিষ্ণু দের জন্ম।

ঔপন্যাসিক অ্যানথোনি হোপ ঃ ১৯৩৩ সালের এইদিনে - ইংরেজ ঔপন্যাসিক অ্যানথোনি হোপের জন্ম।

ধনকুবের ডেভিড রকফেলার ঃ ১৯৩৯ সালের এইদিনে - মার্কিন ধনকুবের ডেভিড রকফেলারের জন্ম।

অভিযাত্রী স্যার উইলিয়াম এডওয়ার্ড পিয়ারি ঃ ১৮৫৫ সালের এইদিনে - মেরু অভিযাত্রী স্যার উইলিয়াম এডওয়ার্ড পিয়ারির মৃত্যু।

কার্ক মার্শম্যান ঃ ১৮৭৭ সালের এইদিনে - বাংলা সংবাদপত্র জগতের অন্যতম পুরোধা জন কার্ক মার্শম্যানের মৃত্যু।

জার্মানি ইতালিয়া চ্যাম্পিয়ন ঃ ১৯৯০ সালের এইদিনে - আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে পশ্চিম জার্মানি বিশ্বকাপ ইতালিয়া চ্যাম্পিয়ন হয়।

ফার্স্ট লেডি বেটি ফোর্ড ঃ সালের এইদিনে - যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি বেটি ফোর্ড মৃত্যুবরণ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ৩৮তম প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডের স্ত্রী।
================

প্রভাতের নতুন সূর্য যেন তুমি (হ্যালো টু ডে সম্পাদক - জনাব আলী কদর পলাশের শুভ জন্মদিনে)


প্রভাতের নতুন সূর্য যেন তুমি
(হ্যালো টু ডে সম্পাদক -
জনাব আলী কদর পলাশের শুভ জন্মদিনে)
- মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
------------------------

 [জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ,
দিতে চাই এক নবজীবনের সওগাত।]

********************
প্রভাতের সূর্ষোদয়ের মতো
এমনই একদিন এসেছিলে তুমি ,
আলোকিত হয়েছিল জননীর কোল
ফুটেছিল ধরণীর তলে একটা নিষ্পাপ ফুল।
বাগানে নতুন আসা ফুলের মতো
বরণ করেছিল তোমায় আনন্দের সমারোহে ;
ঘরের প্রতিটি মানুষ -
আদরে আদরে ভরিয়ে দিয়েছিল তোমার সর্বাঙ্গ
মনে করেছিল সবাই – এইতো আকশের চাঁদ !
মৃত্যু যাতনা পেরিয়ে নবজীবন প্রাপ্ত জননী যখন
দেখল তার পাশে শোয়ে আছে নাড়ী ছেড়া ধন,
আনন্দ-খুশির মূর্ছনায় ঝলঝল করছিল জননীর মুখ
পেয়ে গেছে যেন সে ধরণীর মাঝেই স্বর্গসুখ !

স্বর্গসুখ নিয়ে এদিন তুমি এসেছিলে মায়ের কোল জুড়ে
দিয়েছিলে ভুলিয়ে মায়ের বেদনা সকল ,
আনন্দের জোয়ারে ভাসিয়ে সকলেরে
নিয়েছিলে এই পৃথিবীতে দখল ।
হেসেছিল পৃথিবী তোমার আগমনে , উঠেছিল দুলে
বরণ করেছিল তোমায় - এক নতুন আশার মুলে।
তোমার আগমনে যেভাবে হেসেছে পৃথিবী
সেভাবেই হাসতে থাকবে সদা তোমার কর্মফলে ,
তোমার আগমনে যেভাবে হয়েছে আলোকিত মায়ের মুখ
সেভাবে থাকবে আলোকিত তোমার জীবনচারে।
তোমার আগমনে সেদিন মা-জননী যেভাবে পেয়েছিল স্বর্গসুখ ,
সেভাবেই পেয়ে যাবে সুখ অনন্তকাল তোমারই কর্মগুণে।
তোমার আসার আনন্দে যেমন হয়েছিল সকলেই আত্মহারা
তেমনি সবাই থাকবে আনন্দে মাতোয়ারা
তোমার কর্মে যখন থাকবে মানবতার ধারা।

প্রথম দিনের ফুটা ফুলের মতো
জীবন হোক তোমার বরণীয় ।
প্রথম দিনের ফুটা নিষ্পাপ ফুলের মতো
জীবনাচরণ হোক তোমার – উদ্ভাসিত ।
পৃথিবীতে প্রথম দিন আগমনের মতো
সকলের মাঝে হোক তোমার উপস্থিতি,
পৃথিবীতে তোমার আগমনের আনন্দের মতো
হোক সকলেই আনন্দিত তোমায় দেখে।
তোমার জীবন হোক সেই ফুলটির মতো
যা বাগানের ফুটা সেই শ্রেষ্ট ফুল।
তোমার জীবন হোক সেই রাঙ্গা প্রভাতের সূর্যের মতো
যা দিগন্তে ঊষামান লালিলাময় প্রভাতের অরুণ রবি।
তোমার জীবনের পথচলা হোক
সেই মসৃন পথ দিয়ে দ্রুত চলার মত
যেভাবে যানজটহীন রাস্তা দিয়ে
দ্রুততার সহিত চলে যায় কোন ভিআইপির গাড়ী।
তোমার জীবনকর্ম হোক সে মানুষটির মতো
যেন মানবতার জয়ের লক্ষ্যে চলমান
মানবতার ঝান্ডাধারী এক নির্ভীক সৈনিক।
এমনই আশায় হোক তোমার এই নব পদযাত্রা ,
এমনই কর্মে হোক তোমার আগামী দিনের আয়োজন।
======================

শনিবার, ৭ জুলাই, ২০১২

সমবায় কি ও কেন ? (পর্ব-১)


সমবায় কি ও কেন ? (পর্ব-১)
(আজকের আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস স্মরণে)
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
-----------------------

আন্তর্জাতিক সমবায় দিবসে সকল সমবায়ীদের প্রতি শুভেচ্ছা।

সমবায় কি বা সমবায়ের পরিচয় ঃ

সমবায় শব্দের বাংলা আভিধানিক অর্থ - মিলন ,নিত্য সম্বন্ধ, একত্র হবার বুদ্ধি ও প্রয়াস, সমবেত বা যৌথ কর্মপ্রচেষ্ঠা। ইংরেজীতে যা CO-OPERATIVE নামে অভিহীত। সমবায় অর্থ হলো – আত্মসাহায্য ও পারস্পরিক সহযোগীতা।

ব্যাপক অর্থে সমবায় হচ্ছে – একাধিক লোকের শতস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ন্যায়-নীতির ভিত্তিতে গঠিত ও পরিচালিত একটা কর্মপ্রচেষ্ঠা। সমশ্রেনী বা সমপেশাভুক্ত সকলের সাবলম্বী হবার একটা উত্তম পন্থা ও মহৎ প্রেরণা। সর্বোপরী সমবায় হলো – একটা আন্দোলন।

প্রতিটি মানুষের একটা জন্মগত বৈশিষ্ঠ যে , সে সাংগঠনিক জীবন চায়। চায় একটা স্বীকৃতি। কিছু মানুষের সম্মিলিত সহাবস্থানে সৃষ্ঠ তেমনই একটি সাংগঠনিক জীবন ও স্বীকৃতির নাম সমবায়।

এক সমবায়ী বলেছিলেন – “Co-operative , this is a various business. It’s not a package program but it’s a long term practice – অর্থাৎ সমবায়, ইহা একটি বাস্তব ভিত্তিক ব্যবসা। ইহা গাঁটবাধা কোন কর্মসুচী নয়, কিন্তু ইহা একটা দীর্ঘায়িত অনুশীলন”।

Co-operation বা সহযোগীতা কথাটা থেকেই Co-operative বা সমবায় কথাটার জন্ম। সমবায় হলো – পরস্পরের সহযোগীতায় পরস্পরের অগ্রগতির পথে প্রতিবন্ধকতা দূর করার একটা উপায়।

সাম্য – ঐক্য – সততার সমন্বয়ে সৃষ্ট একটা জোটই হলো সমবায়। সমবায় একটি আচরণ বিজ্ঞান। একক প্রচেষ্ঠা যেখানে ব্যর্থ সেখানেই প্রয়োজন দলগত প্রচেষ্ঠা। সমন্বিত প্রচেষ্ঠায়ই আনতে পারে আশাতীত সাফল্য। একটা চিন্তা একজনে না করে বহুজনের মধ্যে যদি সেটা বিস্তার ঘটানো যায় তবে এর কাটামো থেকে চূড়ান্ত অবস্থাবধি আমুল পরিবর্তন সম্ভব। চূড়ান্ত অবস্থায় আমুল পরিবর্তন আনায়নে আশাতীত সাফল্য লাভের লক্ষ্যে সমন্বিত এক প্রচেষ্ঠার নামই সমবায়।

সমবায় মানে আত্মসাহায্য ও পারস্পরিক সহযোগীতা। সমবায় সংগঠন একটি আইনগত স্বতন্ত্র ও কৃত্রিম স্বত্তা। সমবায় সাংবিধানিক মালিকানার দ্বিতীয় সেক্টর। সমবায় একটা সুশৃন্খল ও গণতান্ত্রিক আর্থ-সামাজিক সংগঠন।

সমবায় একটি সামাজিক অর্থনৈতিক ও ঐতিহাসিক ঘটনা। সমবায় হলো সমাজতন্ত্রের জন্য একটা পরিপূর্ণ প্রস্তুতি। সমবায় হলো লক্ষ লক্ষ কৃষক সাধারণের কাছে ক্ষুদ্র খোদকস্থ জোত থেকে বৃহৎ যৌথ অর্থনীতিতে উত্তরণের সবচেয়ে সহজ-সরল আয়ত্বাধীন একটা পথ। সমবায় কৃষকদের এক একটা বাহিনী বা স্তরকে নয়, সমগ্র গরীব - মাঝারী জোতগুলোকে মেলাবার একটা পথ। কবি রবীন্দ্রনাথের ভাষায় – “ অনেক গৃহস্থ , অনেক মানুষ একজোট হইয়া জীবিকা নির্বাহ করিবার যে উপায়, তাহাকেই ইউরোপে আজকাল Co-operative প্রণালী আর বাংলায় সমবায় প্রণালী নাম দেওয়া হইয়াছে”।

সমবায় হলো পূঁজিবাদী সমাজের একমাত্র যন্ত্র – নতুন ক্ষমতা যাকে চূর্ণ করেনা , টিকিয়ে রাখে , ঢেলে সাজায় , বিকশিত ও সম্পূর্ণ করে, গণসংগঠন হিসাবে গণউদ্যোগকে প্রণোদিত করে, দেশকে খাদ্য জোগাতে সাহায্য করে, সাহায্য করে নতুন ক্ষমতাকে।

সমবায় হলো একটা আদর্শ, একটা দর্শন ও একটা অর্থনৈতিক কাজের পদ্ধতি। সমবায় হলো সাবলম্বিতা অর্জনের লক্ষ্যে একটা ঐক্যবদ্ধ কর্মপ্রয়াস। দশে মিলে সুনিদ্রিষ্ট নীতিমালা ও আদর্শের ভিত্তিতে কাজ করাই হচ্ছে সমবায়ের মূল দর্শন।

সমবায় সংগঠন হচ্ছে – সংগবদ্ধ অর্থনৈতিক কাজের একটি পরিশৃন্খল রূপ। জনসাধারণের আর্থসামজিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে একটি সুশৃন্খল মানবসংগঠন হচ্ছে সমবায়। সমবায় স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীর একটা সংগঠন। সমবায় একটি Concept বা ধারণা, একটা Movement বা অবস্থান পরিবর্তনের আন্দোলন।

মানুষকে কুসংস্কার থেকে মুক্ত করে অমুলক ধারণাক পাল্টে উন্নতর কিছু ধারণা , মতাদর্শ দান এবং সত্যিকার ও অর্থবহভাবে বেঁচে থাকার স্বার্থেই সমবায়। অনেক মানুষ একজোট হয়ে জীবিকা নির্বাহ করার যে উপায় , তাই উন্নত দেশের Co-operative বা সমবায় প্রণালী। যা আমাদের দেশকে দারিদ্রতা থেকে বাঁচাবার একমাত্র উপায়। তাই, দেশের দারিদ্রতা দূরীকরনের জন্যই সমবায়। একের নয় , সমষ্ঠগত উন্নয়নের জন্যই সমবায়। কতক নয় , বহু মানুষের কল্যানের জন্যই সমবায়। সমবায় উত্তরণের জন্য, স্বপ্নলোকের রাজ্য জয়ের জন্যই সমবায়। টেকসই করার লাগসই প্রযুক্তিই হচ্ছে সমবায়। সমবায় হচ্ছে – সমমনা মানুষদের একত্রিত চিন্তা ও সম্ভাবনাময় বহুমুখী কার্যক্রমের আত্মপ্রকাশ।

জীবন যাত্রাপথে স্বচ্ছতা আনায়নে কিছু উদ্যোগী মানুষ সমমনা হয়ে একই ঘরের সদস্য স্বরূপ একই ঘরে অবস্থানের মত সহাবস্থানের একটি জোট গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে সামান্য পূজি ধাপে ধাপেএকটা পাত্রে সঞ্চয়ের মাধ্যমে একে অপরকে সহযোগীতা দান এবং একে অপরের কল্যান চাওয়ার নামই হচ্ছে সমবায়।

সবশেষে , সমবায়ের পরিচয় দিতে গিয়ে বলতে হয় –
সমবায়
যুগে যুগে মানুষ চলতে চেয়েছে একা
হতে চেয়েছে মানী,
একক বলয়ে সময় কাটিয়ে
এনেছে জীবনে গ্লানী।
যেদিন থেকেই জেনেছে মানুষ
সামাজক জীব তারা,
সেদিন থেকেই মানুষ জাতি
মেনে নিল সমাজ গঠনের ধারা।
সমাজবদ্ধ হয়ে যখন মানুষ জাতি
করলো আত্মপ্রকাশ ,
চতুর্দিকেই দেখা দিলো
গৌরান্বিত সভ্যতার ক্রমবিকাশ!
একাত্বতার দিকবলয়ে
প্রবেশ করে মানুষ
দূর করে সেই একাকীত্বের গ্লানী ,
ফিরে পায় হুঁশ।
পৃথিবীতে যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে
মুলে ছিল তা একতায় নির্ভর -
একতা – এই একটি মাত্রই মত,
যুগে যুগে বিশ্ব নবরূপ নিয়েছে –
হয়েছ সবে স্বনির্ভর ;
মুলে ছিল তার – যুবদের খুনরাঙ্গা পথ।
পৃথিবীতে যা কিছু বৃহৎ সৃষ্টি –
মূলে ছিল তার ছোট্ট ছোট্ট বিষয় ,
দেখো ! ব্যাংকের ঐ বিশাল টাকার স্তুপ –
সেতো বহু মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়।
যুগে যুগে মানুষ হয়েছে একতা ,
সংগঠন করে দেখিয়েছে সমতা ;
প্রগতির ধারাকে রেখেছে বহতা ,
দেখিয়েছে মানুষ নিজেদের ক্ষমতা।
যুগে যুগে মানুষ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ,
পাল্টিয়েছে পৃথিবীর শোভা ;
বহু মানুষের ভিন্ন মত ঐক্য হেছে,
সমবায় গড়ে করেছে মানুষকে মনোলোভা।

**********************
সকলের জন্যই সকল মানুষ
জীবনতরী চলমান - বয়ে যাওয়া সময়ের তালে তালে ,
অনন্তের পথে ধীরে ধীরে যাচ্ছে তাহা গন্তব্যে চলে ।
আপন আপন জীবন নিয়ে ব্যস্ত মানুষ পুরু জীবন ভরি ,
মানবতার মৃত্যু হচ্ছে আজ মানুষের ব্যস্ততার চাপে পড়ি !
সৃষ্টির সেরা মানবজাতির নহে নহে ইহা ধর্ম ,
মানুষতো এসেছে পৃথিবীতে দেখাতে মানবতার কর্ম ।
মানবজীবন নয়তো শুধুই আপনারে নিয়ে বিব্রত রহিতে ,
সকলের জন্যই সকল মানুষ লিখেছে মানবধর্ম বহিতে ।

=======================

সমবায়ের সংজ্ঞা ঃ

বিভিন্ন দার্শনিক , চিন্তাবিদদের দৃষ্টিতে সমবায় বিভিন্ন রূপে ধরা দিয়ছে । সমবায়ের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে কালবার্ট বলেন – “ কোন সংগঠনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত আত্মসাহায্যের নামই সমবায় ।

সি এফ ষ্ট্রিকল্যাণ্ড সমবায়ের সংজ্ঞা দেন এভাবে – “কতিপয় ব্যক্তির যৌথ উদ্যোগে বিশেষ একটি লক্ষ্যে উপণিত হবার উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি আন্দোলন, যা কারো একক প্রচেষ্ঠায় সাধন সম্ভব নয়, তাই সমবায়”।

স্যার এম এল ডালিং সমবায়ের সংজ্ঞা যেটি দেন , তা হলো – “ সমশ্রেণী বা পেশাভুক্ত কিছু লোক একে অন্যের সাহায্যে নিজেদের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নতির জন্য সংস্থা গঠন করে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তা পরিচালনা করা। সমবায় হচ্ছে একটি ধর্ম যা ব্যবসায়ে প্রয়োগ করা হয়।

সমবায়ের লক্ষ্য ঃ

সকলের সার্বিক মঙ্গল ও সুখী জীবনের নিশ্চয়তা বিধানই সমবায়ের লক্ষ্য।

সমবায়ের উদ্দেশ্য ঃ

মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের সমাজ থেকে বিতাড়ন করা , শোষকদের কাছ থেকে দরিদ্র ও স্বল্পভিত্বদের মুক্তি পেতে সাহায্য প্রদান করা, উন্নত সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, উন্নত কৃষি ব্যবস্থার ও ঋণের বোঝার মুক্তি দান করা, ন্যায্য মু্ল্য পাবার ব্যবস্থ করা ও ন্যায্য মুল্যে ভোগপণ্য বিক্রি করাই হলো সমবায়ের উদ্দেশ্য ।

সমবায়ের বৈশিষ্ঠ্য ঃ

একক প্রচেষ্ঠা যেখানে ব্যর্থ সমবায় সেখানে যে কোন জটিল ও বড় কাজ সম্পাদনে সক্ষম।পূঁজি গঠনে , নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্বের বিকাশ সাধনে সমবায় মানুষকে সংঘবদ্ধ করে সুশৃন্খল ও শক্তিশালী করে তোলে। ব্যবহারকারীর স্বার্থ সংরক্ষনের জন্য সমবায় উৎপাদনকারীকে তার উৎপাদনে সর্বাদিক প্রতিষ্ঠার সুযোগ প্রদান করে।

যেহেতু সমবায় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সদস্যগণ গণতান্ত্রিক উপায়ে তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন দ্রুত করতে পারে , সেহেতু সমবায় মানুষের অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠার প্রতিষ্ঠান বটে। যেহেতু সমবায় প্রচেষ্ঠায় মানুষ তাদের শক্তি সঞ্চয় করে পূঁজি গঠন করতে পারে এবং শ্রমজীবি মানুষেরা সমবায়ের মাধ্যমে বাঁচতে পারে, সেহেতু শ্রমজীবি মানুষের আত্মপ্রতিষ্ঠায় ও তাদের জীবন মান উন্নয়নের একটি প্রতিষ্ঠান।

সমবায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অব্যাহত সম্পদকে উৎপাদনমুখী সম্পদে রূপান্তর করা যায়। সমবায় দেশের ধন সম্পদ গুটিকতক মানুষের হাতে পুঞ্জীভুত হওয়া থেকে মুক্ত করে এবং সম্পদকে পরিব্যপ্ত করে। উন্নত ব্যবসা , উন্নত চাষাবাদ ও উন্নত জীবনযাত্রায় সমবায় একটি পরীক্ষিত উপায়।

সমবায়ের গুরুত্ব ঃ

সমবায় সাধারণ মানুষকে বিশেষকরে কৃষক ও শ্রমজীবি মানুষদেরকে একটি সংগঠনের অধীনে সংঘবদ্ধ করে। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এক গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পান করে, শেয়ার ও সঞ্চয় সংগ্রহ করে তাদের পূঁজি গঠনে সাহায্য করে। মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য এবং তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা আনায়নের জন্য সাহায্য হিসাবে উৎপাদন কাজে তাদের শ্রম ও পূঁজি বিনিয়োগের পথ সুগম করে। তাই সমবায়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম।

সমবায়ের প্রয়োজনীয়তা ঃ

দরিদ্র ও অশিক্ষিত লোকের ক্ষুদ্র শক্তিকে একত্রিত করে একটি অর্থবহ উৎপাদন সক্ষম দল প্রতিষ্ঠিত করার উপায় হচ্ছে সমবায়। অথচ এ ধরণের সংগঠনের অভাবে এদের শক্তিকে কাজে লাগানো যাচ্ছনা। এদের প্রত্যেকের আর্থিক সম্পদ এত কম যে একক প্রচেষ্টায় কোন আর্থিক উৎপাদন কর্ম পরিচালনা করা এদের পক্ষে সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন তাদের কর্মসংস্থানে সম্পদ সৃষ্টি ও উৎপাদনে এবংসম্পদের সুষম বন্টনে সমবায় দেশের অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে উৎপাদন ও বন্টন প্রক্রিয়ায় সমবায়ী তৎপরতা একটি অতীব প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বিধায় এদেশে তথা যে কোন দরিদ্র দেশে সমবায় একটি অতি উপযোগী ও প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান।

==============

ইতিহাসে ৭ জুলাই


ইতিহাসে ৭ জুলাই
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------


মুক্তিসংগ্রামী দীনেশচন্দ্র গুপ্তের ফাঁসি কার্যকর ঃ ১৯৩১ সালের এইদিনে - ভারতের স্বাধীনতা (বৃটিশ বিরোধী) আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী স্বনাম ধন্য বাঙালি বিপ্লবী ও মুক্তিসংগ্রামী দীনেশচন্দ্র গুপ্ত ১৯৩১ সালের ৭ই জুলাই আলীপুর জেলে ফাঁসির দণ্ডে দন্ডিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ফাঁসি কার্যকর করার সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। তিনি ১৯১১ সালের ৬ ডিসেম্বর (বাংলা ১৩১৮ সনের ২০ অগ্রহয়ণ) তৎকালীন ঢাকা জেলার বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলার যশোলঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম সতীশচন্দ্র গুপ্ত। আর মা’য়ের নাম বিনোদিনী দেবী। ছোটবেলায় দীনেশ গুপ্তের ডাকনাম ছিল নসু। চার ভাই ও চার বোনের মধ্যে দীনেশ গুপ্ত ছিলেন পিতামাতার তৃতীয় সন্তান। তিনি দীনেশ গুপ্ত নামেই সমধিক পরিচিত।


গৌরীপুরের পাঠশালাতেই দীনেশের শিক্ষারম্ভ। পরে নয় বছর বয়সে ভর্তি হন ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে। বাল্যকাল থেকেই দীনেশ ছিলেন নির্ভীক, বেপরোয়া ও বাগ্মী। এই সময় থেকেই তাঁর মনে স্বদেশ চেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতার আদর্শ সঞ্চারিত হয়েছিল। কৈশোরে দীনেশ বেঙ্গল ভলেন্টিয়ার্স (বিভি) নামে একটি গুপ্ত বিপ্লবী সংগঠনের সদস্য হন। ১৯২৬ সালে ঢাকা বোর্ড থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি মেদিনীপুরে কর্মরত তাঁর বড়োদাদা যতীশচন্দ্র গুপ্তের কাছে বেড়াতে আসেন। এই সময় থেকেই মেদিনীপুর শহরে বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তোলার সুপ্ত বাসনা তাঁর মনে জাগে।


১৯২৮ সালে তিনি ঢাকা কলেজ থেকে আইএসসি পরীক্ষা দেন। দলের তরফ থেকে দীনেশকে মেদিনীপুরে বিভির শাখা স্থাপনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মেদিনীপুরে এসে দল সংগঠন ও সদস্য সংগ্রহের পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যান তিনি। তিনি ঢাকা ও মেদিনীপুরে বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন। ঢাকা কলেজে পড়ার সময় ১৯২৮ সালে দীনেশ 'ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস'-এর কলকাতা সেশনের প্রাক্কালে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস সংগঠিত 'বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্সে যোগদান করেন। এ বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স একটি সক্রিয় বিপ্লবী সংগঠনে পরিবর্তিত হলে কুখ্যাত ব্রিটিশ পুলিশ অফিসারদেরকে হত্যা ও নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করা হয়।


স্থানীয় বিপ্লবীদের আগ্নেয়াস্ত্র চালনা শেখানোর জন্য দিনেশ গুপ্ত কিছু সময় মেদিনীপুরেও ছিলেন। তাঁর প্রশিক্ষিত বিপ্লবীরা ডগলাস(Douglas), বার্জ(Burge) এবং পেডি(Peddy)--এই তিনজন জেলা ম্যাজিস্ট্রটকে পরপর হত্যা করেছিল। সংগঠনটি জেলখানার বন্দীদের উপর পাশবিক নির্যাতনের জন্য কুখ্যাত ইন্সপেক্টর জেনারেল কর্নেল এনএস সিম্পসনকে হত্যার টার্গেট করে। এই বিপ্লবীরা সিদ্ধান্ত নেয় যে তাঁরা শুধু সিম্পসনকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হবেন না, বরং কলকাতার ডালহৌসি স্কোয়ারে অবস্থিত ব্রিটিশ শাসকদের সচিবালয় রাইটার্স ভবনে আক্রমণ করে ব্রিটিশ অফিস পাড়ায় ত্রাস সৃষ্টি করবেন। এ স্বপ্ন সফল করতে ১৯৩০ সালের ৮ ডিসেম্বর বিপ্লবী বিনয় বসুর নেতৃত্বে তিনি ও বাদলগুপ্ত কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিং (বর্তমান মহাকরণ) ভবনে ইউরোপীয় পোশাকে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে প্রবেশ করে অভিযান চালিয়ে কারা বিভাগের অত্যাচারী ইন্সপেক্টর জেনারেল সিম্পসনকে গুলি করে হত্যা করেন। ব্রিটিশ পুলিশও তখন গুলি শুরু করে।


যার ফলশ্রুতিতে এই তিন তরুণ বিপ্লবীর সাথে পুলিশের একটি সংক্ষিপ্ত বন্দুকযুদ্ধ হয়। পুলিশ দ্রুতই তাঁদেরকে পরাভূত করে ফেলে। কিন্তু এই তিনজনের গ্রেফতার হওয়ার কোনো ইচ্ছে ছিল না বিধায় বাদল গুপ্ত পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে মৃত্যুবরণ করেন এবং অন্যদিকে বিনয় এবং দিনেশ নিজেদের রিভলবার দিয়ে নিজেদেরকেই গুলি করেন। বিনয়কে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তিনি ডিসেম্বরের ১৩ তারিখ , ১৯৩০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। দীনেশ কোনো রকমে এ চরম আঘাত থেকে বেঁচে ওঠেন। তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করা হলে বিচারের রায়ে সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ড এবং খুনের জন্য ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডের আদেশ হয়। মৃত্যুর পূর্বে দীনেশ তাঁহার মা, বোন, প্রত্যেকের নিকট পত্র লিখে যান। যাতে লেখা থাকে মৃত্যুর জন্য শোক না করার অনুরোধ বাক্য। এই চিঠিগুলি ভারতের বিপ্লবী ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল এবং সাহিত্যিক বিচারেও অত্যন্ত মূল্যবান।


১৯৩১ সালের ৭ জুলাই দীনেশের ফাঁসির তারিখে তিনি ভোরবেলা স্নান করে ফাঁসির পোশাক পরলেন। অতপর হাঁসিতে হাঁসিতে সার্জেন্টকে বলিলেন¾“এবার যাওয়া যেতে পারে। ধীর গম্ভীর পদক্ষেপে ফাঁসিমঞ্চের দিকে অগ্রসর হলেন মৃত্যুঞ্জয়ী দীনেশ। সার্জেন্টকে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন ¾“তোমার কিছু বলার আছে কি বন্দী?” দীনেশের উত্তর¾ দিল “প্লিজ স্টপ। আমাদের বলার অধিকার যে কারা কেড়ে নিয়েছে, সে কথা তোমরাই ভাল জান। ডু ইওর ডিউটি, আই এম রেডি।” পর মুহূর্তে দীনেশ ফাঁসির মঞ্চে উঠে স্বহস্তে ফাঁসি-রজ্জু গলায় পরেন। বন্দেমাতরম, বন্দেমাতরম, বন্দেমাতরম বলতে বলতে ফাঁসি-রজ্জুতে শেষ নি:শ্বাস থমকে যায়। সেই সাথে নিবে যায় বিপ্লবী দীনেশ গুপ্তের জীবন প্রদীপ।


৮ জুলাই সমস্ত কলিকাতা নগরী শোকাভিভুত হয়ে হরতাল পালন করে। লক্ষ লক্ষ বিষাদ-ক্লিষ্ট নর-নারী মনুমেন্টের নীচে সমবেত হয়ে সেদিন বিকালবেলা দীনেশের বিপ্লবী কর্মকান্ডের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এবং ভারতমাতার স্বাধীনতা জন্য লড়াই-সংগ্রাম করার শপথ নেয়। আর বিপ্লবী তরুণরা ঘোষণা করেছিল¾ “দীনেশ আমাদের জাতীয় বীর। অন্যায়ভাবে তাঁর ফাঁসি আমরা কিছুতেই বরদাস্ত করব না। এর প্রতিশোধ আমরা নিবই।


সত্যিই বিপ্লবীরা এর প্রতিশোধ নিয়েছিলেন। ইংরেজদের তাড়িয়েছেন ভারতবর্ষ থেকে। বাংলাসহ ভারতের অন্যান্য অংশে বিনয়, বাদল এবং দিনেশকে শহীদ বিপ্লবী হিসেবে সম্মান করা হয়। ভারত স্বাধীন হবার পর তাঁর ও তাঁর অপর দুই সহবিপ্লবীর সম্মানার্থে কলকাতার প্রসিদ্ধ ডালহৌসি স্কোয়ারের নাম বিনয়-বাদল-দীনেশ বাগ (সংক্ষেপে বিবাদীবাগ) রাখা হয়। বাংলাসহ ভারতের অন্যান্য অংশে বিনয়, বাদল এবং দিনেশকে শহীদ হিসেবে সম্মান করা হয়। ভারত উপমহাদেশে বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারতমাতা স্বাধীন হয়, তার মূলে যে সকল বিপ্লবী রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ঢাকার এই বিনয়-বাদল-দীনেশ অন্যতম।


জাসদের প্রতিষ্ঠাতা মেজর জলিল মুক্তি লাভ করেন ঃ ১৯৭২ সালের এইদিন - স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজবন্দী , আধিপত্যবাদবিরোধী এক সংগ্রামী চেতনা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের প্রতিষ্ঠাতা মেজর জলিল মুক্তি লাভ করেন। স্বাধীনতার পরপর ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশের সম্পদ ও পাকিস্তানিদের ফেলে যাওয়া অস্ত্রশস্ত্র লুটপাট করে নিয়ে যেতে থাকে। যশোরে লুটের মাল বয়ে নেয়া ভারতীয় সেনাবাহিনীর গাড়িবহরকে বাধা দেয়ায় ১৯৭১ সালের ৩১ ডিসেম্বর মেজর জলিলকে গ্রেফতার এবং যশোর সেনানিবাস অফিসার্স কোয়ার্টারের একটি নির্জন বাড়িতে তাকে আটকে রাখা হয়। তিনিই ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজবন্দী।


১৯৪২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার উজিরপুর থানা সদরে মামার বাড়িতে মেজর জলিলের জন্ম। ১৯৬০ সালে মেজর জলিল উজিরপুর ডব্লিউবি ইনস্টিটিউশন থেকে কৃতিত্বের সাথে ম্যাট্রিক পাস করেন। ওই সময় তিনি পথের কাঙাল ও রীতি নামে দু’টি উপন্যাস লেখেন। তবে পাণ্ডুলিপি দু’টি হারিয়ে যায়। ১৯৬১ সালে জলিল ইয়াং ক্যাডেটে ভর্তি হন। পাকিস্তানের মারিতে তিনি শিক্ষাগ্রহণ করেন। ১৯৬৩ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে কাকুলে সামরিক একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি কমিশন লাভ করেন এবং আর্টিলারিতে যোগ দেন।


ওই বছর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে ১২ নম্বর বেঙ্গল রেজিমেন্টের অফিসার হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৬ সালে মেজর জলিল সামরিক একাডেমি থেকে গ্র্যাজুয়েশন লাভ করেন। পরে তিনি মুলতান থেকে ইতিহাসে এমএ ডিগ্রি নেন। অসুস্থ মাকে দেখতে এক মাসের ছুটি নিয়ে ১৯৭১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশে আসেন। ২৬ মার্চ থেকেই মেজর জলিল মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে নিজেকে নিয়োজিত করেন। ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত বরিশাল ও পটুয়াখালীকে তিনি মুক্ত অঞ্চল হিসেবে রাখতে সক্ষম হন। ৭ এপ্রিল মেজর জলিল খুলনা রেডিও স্টেশন মুক্ত করতে অপারেশন চালান। ২১ এপ্রিল অস্ত্র সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সুন্দরবনের পথ ধরে ভারতে যান। ফিরে এসে ৯ নম্বর সেক্টরের প্রধান হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮ ডিসেম্বর বরিশালে মেজর জলিলকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। ২১ ডিসেম্বর বরিশাল হেমায়েত উদ্দীন খেলার মাঠে বিশাল জনসভায় তিনি ভাষণ দেন। সেক্টর কমান্ডারদের প্রায় সবাইকেই খেতাব দেয়া হলেও তাকে বঞ্চিত করা হয়। ’৭২-এর ৩১ অক্টোবর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে এম এ জলিলের রাজনীতিতে পদার্পণ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ১৯৭৩ সালে সংসদ নির্বাচনে বরিশালের বাকেরগঞ্জ-উজিরপুরসহ পাঁচটি আসনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে তার বিজয় ছিল নিশ্চিত। কিন্তু ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ তাকে বিজয়ী হতে দেয়নি। বলা যায়, রাজনীতিতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত শেখ মুজিবের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছিলেন মেজর জলিল।


১৯৭৪ সালের ১৭ মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশ গুলি করলে জাসদের বহু নেতাকর্মী নিহত হন। মেজর জলিল নিজেও হন আহত। তাকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৭৫ সালের ৮ নভেম্বর তিনি মুক্তি লাভ করেন। ২৩ নভেম্বর তাকে আবার গ্রেফতার করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য মেজর জলিলের মৃতুদণ্ড মওকুফ করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। প্রায় সাড়ে চার বছর কারাভোগের পর ১৯৮০ সালের ২৬ মার্চ তিনি মুক্তিলাভ করেন। ১৯৮২ সালের আগস্ট মাসে তিনি টাঙ্গাইলের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের কন্যা সায়মা আকতারকে বিয়ে করেন। ১৯৮৪ সালের ৩ নভেম্বর তিনি জাসদ থেকে পদত্যাগ করেন।


এ প্রসঙ্গে তিনি তার কৈফিয়ত ও কিছুকথা গ্রন্থে লিখেছেনঃ ‘দলীয় জীবনে জাসদের নেতাকর্মীরা ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রায় সম্পূর্ণভাবে বিসর্জন দেয়ার ফলে নৈতিকতা এবং মূল্যবোধে পরিচালিত সমাজদেহ থেকে নিজেরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও সমাজে বসবাসরত জনগণকে ঐতিহ্যবাহী ইসলামি সাংস্কৃতিক জীবন এবং মূল্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে মোটেও সক্ষম হয়নি। প্রচলিত পারিবারিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক জীবনধারা থেকে কেবল নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে রাখলেই বিকল্প সংস্কৃতি জন্ম নেয় না, বরং এ ধরনের রণকৌশল অবলম্বন সমাজে প্রচলিত নীতি, নৈতিকতা, আচার-অনুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতি তাচ্ছিল্য, উপহাস ও ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়, যা প্রকারান্তরে বিপ্লবী আন্দোলনের বিপক্ষে চলে যায়।‘ইসলাম ধর্ম এ দেশের শতকরা ৯০ জন গণমানুষের কেবল ধর্মীয় বিশ্বাসই নয়, ইসলাম ধর্মভিত্তিক নীতি-নৈতিকতা, আচার-অনুষ্ঠান, উৎসব-পর্ব, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং এ দেশের সাধারণ গণমানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা ঘটনার সাথে ইসলাম ধর্ম অঙ্গাঙ্গিভাবেই জড়িত। জন্ম-পর্ব থেকে শুরু করে জানাজা পর্যন্ত ইসলামের নীতি-নির্দেশের আওতায় নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জীবন। এমন একটি জীবন দর্শনকে অবহেলা, উপেক্ষা কিংবা সম্পূর্ণভাবে পরিহার করে চলার নীতিকে বাস্তবসম্মত কিংবা বিজ্ঞানসম্মত বলা যায় না। প্রগতিশীল আন্দোলনের স্বার্থেই ইসলাম ধর্মের বিজ্ঞানসম্মত মূল্যায়ন অত্যাবশ্যকীয় বলে আমি মনে করি। কারণ ইসলাম শোষণ-জুলুম, অন্যায়, অসুন্দরসহ সব রকম স্বৈরশাসন এবং মানুষের ওপর প্রভুত্বের ঘোর বিরোধী। ইসলাম পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, রাজতন্ত্র উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়। সম্পদের ব্যক্তিমালিকানা ইসলামে নিষিদ্ধ, কারণ সব সম্পদের মালিকানা একমাত্র আল্লাহরই। মানুষ হচ্ছে তার কেবল প্রয়োজন মেটানোর জন্য আমানতদার বা কেয়ারটেকার।’


মেজর জলিল এমন কিছু গ্রন্থ লিখে গেছেন, যা আমাদের জাতীয় জীবনের সন্ধিক্ষণে দিকনির্দেশনার কাজ করবে। তার একটি গ্রন্থের নাম অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা দেশপ্রেমের বলিষ্ঠ ও উচ্চকিত স্লোগানে রূপান্তরিত হয়েছে। তার লেখা আটটি গ্রন্থ হলোঃ ১. সীমাহীন সমর (মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ডায়রি), ২. মার্কসবাদ (প্রবন্ধ), ৩. সূর্যোদয় (রাজনৈতিক উপন্যাস), ৪. কৈফিয়ত ও কিছু কথা (প্রবন্ধ), ৫. দাবী আন্দোলন দায়িত্ব (প্রবন্ধ), ৬. দৃষ্টিভঙ্গি ও জীবন দর্শন (প্রবন্ধ), ৭. অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা (প্রবন্ধ), ৮. A Search for Identity (Essays).


জাসদ থেকে পদত্যাগের মাত্র ১৬ দিন পর মেজর জলিল ‘জাতীয় মুক্তি আন্দোলন’ নামে একটি দল গঠন করেন। এ সময় তিনি মরহুম হাফেজ্জী হুজুরের নেতৃত্বে ‘সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদ’ গঠনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮৫ সালের জানুয়ারি মাসে তাকে গৃহবন্দী করা হয়। এক মাস ছিলেন বন্দী। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যোগদানের কারণে ১৯৮৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে ১৯৮৮ সালের মার্চ পর্যন্ত সরকার তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রাখে। এর আগে মেজর জলিল লিবিয়া, লেবানন, ইরান, ব্রিটেন ও পাকিস্তানে কয়েকটি আন্তর্জাতিক ইসলামি সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৮৮ সালের ১১ নভেম্বর মেজর জলিল পাকিস্তান যান। ১৬ নভেম্বর রাজধানী ইসলামাবাদে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হলে সাথে সাথে তাকে ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ১৯ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ২২ নভেম্বর তার লাশ ঢাকায় আনা হয়। পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মেজর জলিলের লাশ দাফনের মাধ্যমেই মিরপুরের মুক্তিযোদ্ধা গোরস্থানে লাশ দাফন শুরু হয়।


অলরাউন্ডার মোহাম্মদ আশরাফুল অ্যাশের জন্ম ঃ ১৯৮৪ সালের এইদিনে - বাংলাদেশী ক্রিকেটার অলরাউন্ডার মোহাম্মদ আশরাফুল অ্যাশ (Ash) ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ডানহাতি ব্যাটিং স্টাইল এবং ডানহাতি লেগ ব্রেক বোলিং স্টাইলের এ খেলোয়াড়ের ওডিআই অভিষেক - ১১ এপ্রিল, ২০০১ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এবং টেস্ট অভিষেক - ৬ সেপ্টেম্বর, ২০০১ শ্রীলংকার বিপক্ষে। তাঁর সেরা অর্জনের মধ্যে - কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে টেস্ট শতক করার রেকর্ডের অধিকারী (১৭ বছর ৫৯ দিন)। ২০০১ সালের ৮ সেপ্টেম্বরে তাঁর অভিষেক টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১১৪ রান করে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। ২০০৪ সালে জাতীয় দলে ভারতের বিরুদ্ধে ১৫৮ রান করেন, যা তার ব্যক্তিগত দ্বিতীয় শতক এবং কোন বাংলাদেশী ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ টেস্ট রান। ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনি ১৩৬ রান করেন। টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে তার অভিষেক হয় ২০০৭ এ, শ্রীলংকার বিপক্ষে। ২০০৭-০৮ এর দক্ষিণ আফ্রিকা ট্যুরের একটি টেস্টে আশরাফুল খুবই ব্যতিক্রমী উপায়ে এবি ডি ভিলিয়ার্সকে আউট করেন। বোলারের হাত থেকে ছুটে যাওয়া বল দু'বার বাউন্স খায় এবং ব্যাটসম্যান বলটিকে সজোরে হিট না করে বোলারের হাতে তুলে দেন। আশরাফুল বলটিকে লুফে নেন। ক্যারিয়ারের শুরুটা ভালো না হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কিছু বিখ্যাত জয়ে আশরাফুলের অনেক অবদান রয়েছে। ২০০৫ সালের ১৮ জুন তারিখে ইংল্যান্ডের কার্ডিফে ন্যাটওয়েস্ট সিরিজে তৎকালীন বিশ্বের একনম্বর ক্রিকেট পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্মরনীয় জয়ে আশরাফুল ১০০ রান করেন। এটি তার একমাত্র শতক এবং খেলাটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরনীয় ম্যাচ।


ভারতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি জন্মগ্রহণ করেন ঃ ১৯৮১ সালের এইদিনে - ভারতের বিহারের রানচিতে ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সফলতম অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি জন্মগ্রহণ করেন। রাহুল দ্রাবিড়ের হাত ঘুরে ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর থেকেই দলকে তিনি স্বর্ণ সাফল্যে ভাসিয়ে চলেছেন। তার নেতৃত্বে ভারত টি২০ বিশ্বকাপসহ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে। ঘরোয়া টি২০ ক্রিকেট আইপিএলেও ধোনির নেতৃত্বে টানা দুই আসরে ট্রফি জিতেছে চেন্নাই সুপার কিংস। এ ছাড়া তাঁর নেতৃত্বেই চ্যাম্পিয়ন্স লীগের শিরোপা বগলদাবা করে চেন্নাই। নেতৃত্ব পাওয়ার পর থেকেই প্রতিটি ঘরানায় এমন তাক লাগানো সাফল্য পেয়ে চলেছে ভারত। তার স্পর্শে সবকিছুই যেন পরশপাথরে পরিণত হচ্ছে ! ২০০৭ সালে জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর থেকে ক্রিকেট বিশ্বে ধোনিই সফলতম অধিনায়ক।


সাঁওতালদের বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠে ঃ ১৮৫৫ সালের এইদিনে - সান্তাল জনতার হাতে কুখ্যাত মহাজন কেনারাম ভগত ও দিঘি থানার অত্যাচারী দারোগা মহেশাল দত্তসহ ১৯ জনকে হত্যার মধ্যদিয়ে সাঁওতালদের বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠে। সাঁওতাল বিদ্রোহ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে শুধুমাত্র প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামই নয়_ ব্যাপক কৃষক সম্প্রদায়ের দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে, বাঁচার অধিকারের দাবিতে কৃষক সমাজের প্রথম গণসংগ্রাম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ বিদ্রোহকে নির্মূল করার জন্য কোম্পানির বড় কর্তারা ৩৭শ. ৭ম, ৩১শ রেজিমেন্ট, হিল রেঞ্জার্স, ৪৩, ৪২ ও ১৩ রেজিমেন্ট প্রভৃতিকে ব্যবহার করেছিল। সাঁওতাল নেতাদের ধরিয়ে দেয়ার জন্য সেদিন কমিশনার প্রধান নায়েকের জন্য ১০ হাজার টাকা, সহকারী নায়েকের প্রত্যেকের জন্য ৫ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় নায়েকদের জন্য এক হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। এই ইতিহাসখ্যাত আন্দোলনে আদিবাসী সাঁওতাল নারীদের অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে। অধিকার আদায়ের আন্দোলনে আদিবাসী নারীরা ঘরের কোণে লুকিয়ে থাকেনি, নরম হাতেই অস্ত্র তুলে।


স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের পরলোকগমন ঃ ১৯৩০ সালের এইদিনে - স্কটিশ সাহিত্যিক, শার্লক হোম্‌সের গল্পসমূহের জন্য বিখ্যাত অসামান্য প্রতিভাধর লেখক স্যার আর্থার কোনান ডয়েল ইংল্যান্ডের ক্রবরোতে পরলোকগমন করেন। গল্প, নাটক, প্রেমকাহিনী, কবিতা, ননফিকশন, রম্যরচনা, ঐতিহাসিক রচনা প্রভৃতি লেখার মাধ্যমে বিশ্বসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। ডয়েলের জীবন ছিল বহুমাত্রিক এবং রোমাঞ্চপূর্ণ। ইতিহাসবিদ, তিমি শিকারি, ক্রীড়াবিদ, যুদ্ধ-সাংবাদিক, আত্মিকবাদী হিসেবেও তিনি সমধিক পরিচিত।


১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দের ২২ মে ডয়েলের জন্ম স্কটল্যান্ডের এডিনবরায়। ভেষজ ব্যবসায় গা-ছাড়া ভাবের কারণে ডয়েলের হাতে বিস্তর অবসর ছিল। এই অবসরেই তিনি বিখ্যাত শার্লক হোমসের গল্পগুলো লিখতে থাকেন। বোয়ের যুদ্ধকালে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মাঠ-চিকিত্সাকেন্দ্রে অবদান রাখার জন্য ১৯০২ সালে তাকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এই অসামান্য প্রতিভাধর লেখকের রচনার মধ্যে আছে - কল্পবিজ্ঞান গল্প, নাটক, প্রেমের উপন্যাস, কবিতা, ননফিকশন, ঐতিহাসিক উপন্যাস এবং রম্যরচনা।


আর্থার কোনান ডয়েলের জীবন ছিল বহুমাত্রিক এবং রোমাঞ্চপূর্ণ। তিনি একাধারে ছিলেন একজন ইতিহাসজ্ঞ, তিমি শিকারী, ক্রীড়াবিদ, যুদ্ধ-সাংবাদিক এবং আত্মিকবাদী। জীবনের প্রথমভাগে, তিনি এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভেষজবিদ্যা বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তাঁর প্রথম সাফল্য ছিল 'রক্তসমীক্ষা'(A Study in Scarlet)'। এটি সর্বপ্রথম ১৮৮৭ সালে বীটনের বড়দিনের বার্ষিকী (Beeton's Christmas Annual) তে প্রকাশিত হয়। ১৮৯০ সালে 'চিহ্নচতুষ্টয়'(The Sign of Four) প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি ভেষজ-ব্যবসা ছেড়ে দেন এবং লেখা-লেখিতে পুরোমাত্রায় আত্মনিয়োগ করেন।


তিনি অনেক গল্প, কল্প-কাহিনী এবং ইতিহাস-কেন্দ্রিক রোমাঞ্চ কাহিনী লিখলেও বিখ্যাত চরিত্র শার্লক হোম্‌স-কে নিয়ে লেখা গোয়েন্দা-কাহিনীগুলিই তাকে বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দিয়েছে। এই হোমস্ চরিত্রটির উপর একঘেয়েমিজনিত বিরক্তির কারণে ডয়েল যখন 'তার শেষ অভিবাদন'(His Last Bow)-এ হোম্‌স-কে মেরে ফেলেন, তখন জনতার দাবির মুখে হোমস চরিত্রটিকে অলৌকিকভাবে পুনরুজ্জীবিত করতে বাধ্য হন। বাস্তব জীবনেও তিনি দু-দুবার গোয়েন্দাগিরি করে অন্যায়ভাবে দোষী-সাব্যস্ত ব্যক্তিদের নির্দোষ প্রমাণ করতে সফল হন।


সোলাইমান দ্বীপপুঞ্জ স্বাধীনতা লাভ করে ঃ ১৯৭৮ সালের এইদিনে - উত্তর পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত সোলাইমান দ্বীপপুঞ্জ স্বাধীনতা লাভ করে। ইউরোপীয়রা প্রথম ১৫৬৭ সালে এই দ্বীপপুঞ্জ আবিস্কার করে। ১৮৮৫ সালে জার্মান সোলাইমান দ্বীপপুঞ্জ দখল করে এবং এর মালিকানা দাবী করে। কিন্তু এর প্রায় দশ বছর পর বৃটিশরা ঐ দ্বীপ দখল করে নেয়। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর সোলাইমান দ্বীপপুঞ্জে বৃটিশ উপনিবেশের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাকামী আন্দোলন গড়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৭৮ সালে উপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি লাভ করে। এই দ্বীপপুঞ্জের মোট আয়তন ২৯ হাজার বর্গ কিলোমিটার এবং প্রশান্ত মহাসাগরে অষ্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত।


লন্ডনে ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণ ঃ ২০০৫ সালের এইদিনে - লন্ডনের তিনটি মেট্রো ষ্টেশন এবং একটি বাসষ্ট্যান্ডে ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণে ব্রিটেনের ইতিহাসে রচিত হয় এক কালো অধ্যায়। সকাল আটটা ৫১ মিনিট থেকে শুরু করে ৯টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত একে একে বিস্ফোরিত হয় বোমা। পৃথিবীর টেরোরিস্ট আক্রমণের ইতিহাসে যোগ হয় সেদিন নুতন ঘৃণা। ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে পড়ে ৫২ জন মানুষ, ৭০০ এরও বেশী মানুষ আহত হয়। উত্তর বৃটেনের স্কটল্যান্ডে শিল্পোন্নত আটটি দেশের শীর্ষ বৈঠক জি-৮ সম্মেলনের সময়ে এই বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা ইরাক ও আফগানিস্তানে মার্কিন হামলা এবং দেশ দুটির জনগণের উপর হত্যা নির্যাতন চালানোর কাজে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বৃটেনেরও অংশগ্রহণের প্রতিবাদে ঐ বোমা বিষ্ফোরণ ঘটানো হতে পারে। অন্যদিকে এ বিস্ফোরণের ফলে বৃটেনের নিরাপত্তা বিভাগের দুর্বলতাও ফুটে উঠেছে। বৃটিশ সরকার বিস্ফোরণের জন্য সেদেশের মুসলমানদেরকে দায়ী করে এবং তাদের উপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করে।


টানাকা কাখুই জাপানের প্রধানমন্ত্রী ঃ ১৯৭২ সালের এইদিনে - ডিগ্রিবিহীন নিরীহ নাগরিক টানাকা কাখুই জাপানের প্রধানমন্ত্রী হন। টানাকা কাখুই জাপানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাপানে দেশজুড়ে "টানাকা উষ্ণতা" জেগে উঠেছে। সাধারণ মানুষের চোখে টানাকা হচ্ছেন দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ এবং অঘটন ঘটন-পটিয়সী একজন বলিষ্ঠ ব্যক্তি, দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর জাপানের প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে কমবয়সী রাজনীতিবিদ। তাঁর জন্ম স্থান এক দিনে হঠাৎ জনপ্রিয় পর্যটন স্থানে পরিণত হয়েছে।


জাতিসংঘের কোরিয় বিষয় পরিচালনা কার্যালয় প্রতিষ্ঠা ঃ ১৯৫০ সালের এইদিনে - জাতিসংঘ কোরিয় বিষয় পরিচালনা কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। পরের দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট তুর্মান জেনারেল ম্যাক আর্থারকে কোরিয়ায় জাতিসংঘের প্রধান সেনাপতি নিয়োগ করেন। তারপর তারা ব্রিটেন, ফ্রান্স, তুরস্ক, ক্যানাডা, অস্ট্রেলিয়া, গ্রীস, ফিলিপাইন, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, বেলজিয়াম, লোকসেম্বার্গ এবং ঈথিওপিয়া প্রভৃতি ১৫টি দেশের সঙ্গে জোট বেঁধে কোরিয়া আগ্রাসন যুদ্ধ বাঁধিয়েছে।


লুগো সেতু ঘটনা ঃ ১৯৩৭ সালের এইদিনে - "৭ জুলাই ঘটনা " সংঘটিতহয়। এই দিনে জাপানী বাহিনী বেইজিংয়ের লুগো সেতুর নিকটবর্তী উয়ানপিং নগরে গোলা বর্ষণ করে। চীনের বাহিনী তাদের প্রতিরোধ করে। জাপানী বাহিনী এই ওজুহাতে চীনে সার্বিক আগ্রাসী যুদ্ধ বাঁধায়। "৭ জুলাই ঘটনাকে" "লুগো সেতু ঘটনা"ও বলা হয়।


রানতুন বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি ঃ ১৯৫৭ সালের এইদিনে - চীনের পর্বতারোহী রানতুন বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি করেন। এদিন চীনের নারী ও পুরুষ মিশ্র পর্বতারোহী দলের ৩৩ জন এ্যাথলেট বেইজিং সময় বিকাল ৬টা ২০ মিনিটে সমুদ্রতল থেকে ৭৫০০ মিটার উচু সিনচিয়াংয়ের মুসতাগ পাহাড়ের পর্বত শৃঙ্গে আরোহণ করে নিরাপদে সর্বাধিক জনসংখ্যা বিশিষ্ট দলগত পর্বতারোহণের ক্ষেত্রে একটি নতুন বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি করেন।


নরওয়ের স্বাধীনতা লাভ ঃ ১৯০৪ সালের এইদিনে - নরওয়ে স্বাধীনতা লাভ করে। এর আগে ১৮১৪ সালে সুইডেন ইউনিয়নে সম্পৃক্ত হবার পর ১৯ শতকে নরওয়ে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে লিপ্ত হয়।


সাহিত্যিক মুন্সী মেহেরুল্লাহর মৃত্যুবরণ ঃ ১৯১০ সালের এইদিনে - বাংলাদেশের ইসলামী চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক, সাহিত্যিক মুন্সী মেহেরুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন।


বাংলাদেশে ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম ঘোষণা ঃ ১৯৮৮ সালের এইদিনে - বাংলাদেশ সংসদে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী গৃহীত হবার মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম ঘোষণা করা হয়।


শুক্র গ্রহের ট্রানজিট ঃ ২০০৪ সালের এইদিনে - ১২২ বছর পর শুক্র গ্রহের ট্রানজিট বাংলাদেশের আকাশে পরিস্কার দেখা যায়।


সেলজুকী রাষ্ট্রের সূচনা ঃ ১০৩৭ সালের এইদিনে - সেলজুকী রাষ্ট্রের সূচনা হয়।


শাহ আবদুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী (রহ.) ঃ ১৮২৩ সালের এইদিনে - শাহ আবদুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী (রহ.) মৃত্যুবরণ করেন।


ভারতের প্রথম সিনেমা ঃ ১৮৯৬ সালের এইদিনে - বোম্বাইয়ে ভারতের প্রথম সিনেমা প্রদর্শিত হয়।


বঙ্গভঙ্গ ঘোষণা ঃ ১৯০৫ সালের এইদিনে - লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গ ঘোষণা করেন।


বিবিসি প্রথম গ্রামোফোন রেকর্ডের অনুষ্ঠান ঃ ১৯২৭ সালের এইদিনে - বিবিসি প্রথম গ্রামোফোন রেকর্ডের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে।


ভ্যাটিকান সিটির রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ ঃ ১৯২৯ সালের এইদিনে - ভ্যাটিকান সিটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করে।


রামনাথ বিশ্বাসের সাইকেলে চড়ে বিশ্ব ভ্রমন ঃ ১৯৩১ সালের এইদিনে - বিশিষ্ট ভূপর্যটক রামনাথ বিশ্বাস সাইকেলে চড়ে বিশ্ব পরিক্রমা শুরু করেন।


মার্ক শাগালের জন্ম ঃ ১৮৮৭ সালের এইদিনে - রুশ চিত্রশিল্পী মার্ক শাগালের জন্মগ্রহণ করেন।


সাহিত্যিক নরেন্দ্র দেবের জন্ম ঃ ১৮৮৮ সালের এইদিনে - সাহিত্যিক নরেন্দ্র দেব জন্মগ্রহণ করেন।


প্রবোধ কুমার সান্যাল জন্ম ঃ ১৯০৫ সালের এইদিনে - সাহিত্যিক প্রবোধ কুমার সান্যাল জন্মগ্রহণ করেন।


প্রথমবারের মত কৃত্রিম অঙ্গ মানবদেহে সংস্থাপন ঃ ২০১১ সালের এইদিনে - ইতিহাসে প্রথমবারের মত কৃত্রিমভাবে তৈরি অঙ্গ মানবদেহে সংস্থাপন করা হয়। অঙ্গটি তৈরি করা হয় ইংল্যান্ডে আর অস্ত্রোপচার হয় সুইডেনে।


পাকিস্তানের টেস্ট অলরাউন্ডার নাভিদ আনজুমের জন্ম ঃ ১৯৬৩ সালের এইদিনে - পাকিস্তানের টেস্ট অলরাউন্ডার নাভিদ আনজুম জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮৯-৯০ সালে দু’টি টেস্ট খেলেন তিনি।


ইংল্যান্ডের পেসার বিল হিথচের মৃত্যুবরণ ঃ ১৯৬৫ সালের এইদিনে - ইংল্যান্ডের পেসার বিল হিথচ মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৯১১-২১ সালে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে ৭টি টেস্ট খেলেছেন ।
===================== 

শুক্রবার, ৬ জুলাই, ২০১২

অভিনন্দন মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী


অভিনন্দন মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী !
মুহাম্মদ জকারিয়া শাহনগরী
---------------------

অভিনন্দন মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী !
অবশেষে আপনি জনতাকে আপনার দরবার পর্যন্ত গমনের সুযোগ দিলেন । দেশের নাগরিক পেল আপনার সাথে সরাসরি কথা বলার অধিকার। যে সুযোগ ইতিপূর্বে কোন সরকার প্রধানের কাছ থেকে দেশের জনগণ কখনো পায়নি, সুযোগটা আপনার কাছ থেকেই জনগণর প্রথম পাওয়া। গণতান্ত্রিক সরকারের একটা নমুনা দেখিয়ে দিলেন আপনি বিচক্ষণতার সহিত জনগণকে তাদের চাহিদা সরাসরি আপনাকে জানানোর জন্য নিজের মোবাইল নাম্বার ও ইমেইল ঠিকানা প্রদান করে । এটা দেশের নাগরিকদের জন্য দেশপ্রধানের কাছ থকে কম পাওয়া নয় । কিন্তু দেশের নাগরিকদের প্রকৃত পাওয়াটা সেদিনই হবে যেদিন নাগরিকদের আবেদনকৃত চাহিদা আপনার দ্বারা তড়িৎ গতিতে পুরণ হবে।

এভাবেই দেখেছিলাম ইন্ডিয়ান একটা ফিল্মে একজন নায়কের ২৪ ঘন্টা সময়ের মধ্যে একটা দেশের সকল অনিয়মকে নিয়মবদ্ধ করার এবং সকল দূর্নীতিকে উচ্ছেদ করে নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত করার এক দুরূহ অভিযানের সাফল্য।
কিন্তু আপনার হাতে ২৪ ঘন্টা নয়, রয়েছে মূল্যবান একটি বছরের উর্ধ্ব সময়। আর এই একবৎসর সময় খুব একটা কম সময় নয় একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক যোগ্য নেতার কাছে । এক্ষেত্রে একটা কথা মনে রাখতে হবে , নেতা কখনো অন্যের নির্দেশে চলেনা , নেতা সবসময় অন্যকে নির্দেশ দেয় । আপনার ঘরে যারা অবস্থান করছে তারা সবাই আপনার নয় , তাদের মাঝেই রয়েছে আপনাকে ধ্বংস করার ছদ্ধবেশধারী কিছু লোক , যারা আপনার সৎ নেতৃত্বকে দাবিয়ে রাখতে সবসময় কাজ করে যাচ্ছে । তাই একজন যোগ্য নেতার জন্য প্রয়োজন সবদিকে তীক্ন দৃষ্টি রাখা। আর সব দকের মধ্যে রয়েছে - সামনে-পীছে-ডান-বায়-চতু্কোণ-উর্ধ্ব-নিম্ন-গুপ্তাঙ্গ-জিহ্বা-কর্ণ-নাসিকা-চোখ ইত্যাদি। আশা করছি এই একবৎসরে নিজের যোগ্য নেতৃত্বের পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে দেশ গড়ার কারিগর রূপে নিজেকে দেশের একজন সফল নেতা হিসাবে প্রতিষ্টিত করে যেতে সক্ষম হবেন এবং এ সফলতার অভিযানে তীক্ষ্ন দৃষ্টি রেখে সম্পূর্ণ নিজ মনের মতামত নিয়ে এ সফলতার অভিযান পরিচালনা করবেন। আর এ সফলতার অভিযানে রইল আপনার জন্য শুভকামনা ।

যে সকল নাগরীক তাদের অভিযোগ সরাসরি দেশপ্রধানের কাছে জানাতে চান তারা এই নাম্বার ও ইমেইল ঠিকানায় জানাতে পারেন -
মোবাইল - গ্রামীণ নম্বর ০১৭১১৫২০০০০ এবং একটেল (বর্তমানে রবি) নম্বর ০১৮১৯২৬০৩৭১
ইমেইল ঠিকানা - Sheikhhasina@hotmail.com
==========================

ইতিহাসে ৬ জুলাই

ইতিহাসে ৬ জুলাই

মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী

-----------------------


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু ঃ ১৯৫৩ সালের এইদিনে - রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের পাশে রাজশাহী শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দুরে পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে ৷ সেদিন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংখ্যা ছিলো মাত্র ১৬১জন৷ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ছিলেন ইতরাত হোসেন জুবেরী৷

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর পাকিস্তান সরকার দেশের সব কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করে৷ রাজশাহীতে এ সময় স্যাডলার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে আন্দোলন শুরু হয়৷ ভাষা আন্দোলনের কিছুদিন আগ থেকেই রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলন বেশ জোরে শোরেই শুরু হয়৷ ১৯৫০ সালের ১৫ নভেম্বর রাজশাহীর বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের নিয়ে ৬৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়৷ ১৯৫২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী শহরের ভূবন মোহন পার্কেরাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য সর্বপ্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয়৷ প্রথম দাবি ওঠে রাজশাহী কলেজেই৷

১৯৫২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শহরের সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গনে সমবেত হয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ পাস করার দাবি তোলে৷ এই দাবি পাঠিয়ে দেয়া হয় তত্‍কালীন এমএলএ ও মন্ত্রীদের কাছে৷ পরবর্তীতে ১৩ ফেব্রুয়ারি ভূবন মোহন পার্কেই অনুষ্ঠিত হয় আরও একটি জনসভা৷ ক্রমেই তীব্র হতে থাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি৷ এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানাতে গিয়ে কারারুদ্ধ হন ১৫ ছাত্রনেতা৷ পরে ছাত্রজনতার পক্ষ থেকে ঢাকায় একটি ডেলিগেশন পাঠানো হয়৷ এভাবে একের পর এক আন্দালনের চাপে স্থানীয় আইন পরিষদ রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়৷ এই আন্দোলনে একাত্ব হন পূর্ববঙ্গীয় আইনসভার সদস্য প্রখ্যাত আইনজীবী মাদার বখশ৷

১৯৫৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ভূবন মোহন পার্কে আরও একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাদারবখশ সরকারকে হুশিয়ার করে বলেন, যদি রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন না হয় তবে উত্তরবঙ্গকে একটি স্বতন্ত্র প্রদেশ দাবি করতে আমরা বাধ্য হব৷ মাদার বখশের এই বক্তব্যে সাড়া পড়ে দেশের সুধী মহলে৷ টনক নড়ে সরকারেরও৷ অবশেষে ১৯৫৩ সালের মার্চ ৩১ প্রাদেশিক আইনসভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আইন পাশ হয়৷ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন মাদারবখশ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য প্রফেসর ইতরাত হোসেন জুবেরীকে সঙ্গে নিয়ে৷ এ দুজনকে যুগ্ম সম্পাদক করে মোট ৬৪ সদস্য বিশিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়৷ আনুষ্ঠানিকভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৫৪ সাল থেকে৷

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ক্লাস শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী কলেজে৷ উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের দফতর প্রতিষ্ঠা করা হয় পদ্মার তীরের বড়কুঠি নামে পরিচিত ঐতিহাসিক রেশম কুঠির ওপর তলায়৷ বড়কুঠির কাছেই তত্‍কালীন ভোলানাথ বিশ্বেশ্বর হিন্দু একাডেমিতে চিকিত্‍সাকেন্দ্র ও পাঠাগার তেরি করা হয়৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীহ্মা নিয়ন্ত্রকের দফতর স্থাপন করা হয় জমিদার কুঞ্জমোহন মৈত্রের বাড়িতে৷ বড়কুঠিপাড়ার মাতৃধাম এ স্থাপন করা হয় কলেজ পরিদর্শক দফতর৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম রেজিস্ট্রার নিযুক্ত হন ওসমান গনি ও প্রথম পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিযুক্ত হন অধ্য আব্দুল করিম৷ শহরের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া করা বাড়িতে গড়ে ওঠে ছাত্রাবাস৷ রাজশাহী কলেজ সংলগ্ন ফুলার হোস্টেলকে রুপান্তরিত করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস হিসেবে৷ বড়কুঠি এলাকার লালকুঠি ভবন ও আরেকটি ভাড়া করা ভবনে ছাত্রী নিবাস স্থাপন করা হয়৷

১৯৬১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয় মতিহারের নিজস্ব ক্যাম্পাসে৷ এই ক্যাম্পাসটি গড়ে ওঠে অস্ট্রেলিয়ান স্থপতি ড. সোয়ানি টমাসের স্থাপত্য পরিকল্পনায়৷ দক্ষিণ দিক দিয়ে ছুটে চলেছে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক, উত্তরের রেললাইনের মাঝে ছায়া ঢাকা সবুজ শ্যামলে ঘেরা এই ক্যাম্পাস৷ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম লাইব্রেরীটি এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা এদেশের সর্বপ্রথম স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর৷ রয়েছে সাবাস বাংলাদেশ নামে একটি অপুর্ব শৈলির ভাষ্কর্য৷ আর রয়েছে গোল্ডেন জুবিলি টাওয়ার৷ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য হিসেবে কর্মরত আছেন প্রফেসর আব্দুস সোবহান৷

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস জড়িত হয়েছে বেশ কয়েকজন প্রতিথযশা ব্যাক্তিত্বের স্মৃতিতে৷ এখানে শিক্ষকতা করেছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত তাত্ত্বিক রাজনীতিবিদ বদরুদ্দীন উমর, প্রখ্যাত ভাষাবিজ্ঞানী ও সাহিত্যক ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ড. মুহাম্মদ এনামুল হক, তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি হাবিবুর রহমান, খ্যাতনামা ঐতিহাসিক ডেভিড কফ, নৃবিজ্ঞানী পিটার বাউচি, কারেন্স ম্যালেনি , জোহানা কর্ক প্যাট্রিক, বিশিষ্ট ঐতিহাসিক প্রফেসর আব্দুল করিম, রমিলা থামার , উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথা সাহিত্যক হাসান আজিজুল হক প্রমূখ।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একমাত্র বাঙালি অকুতোভয় বীরসেনা ইন্দ্রলাল রায় ঃ ১৯১৮ সালের এইদিনে - প্রথম বাঙালি বিমান চালক, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একমাত্র ভারতীয় বৈমানিক, প্রথম মহাযুদ্ধের বিস্মৃতপ্রায় এক অকুতোভয় বীরসেনানী , ব্রিটিশ রাজকীয় বিমান বাহিনীর ১৯ বছর বয়সী তরুণ পাইলট - ইন্দ্রলাল রায় একটি জার্মান জঙ্গীবিমান ধ্বংস করার মাধ্যমে প্রথম বাঙালি ফাইটার পাইলট এবং প্রথম বাঙালি বা ভারতীয় ‘ফ্লাইং এইস’ হিসেবে আকাশযুদ্ধে প্রথম সফলতা লাভ করেন।

এরপর তিনি ৮ জুলাই তারিখে চার ঘন্টায় তিনটি, ১৩ জুলাই দুইটি, ১৫ জুলাই দুইটি, এবং ১৮ জুলাই তারিখে একটি শত্রুবিমান ধ্বংস করেন। তাঁর সর্বশেষ সাফল্য আসে ১৯ জুলাই তারিখে। ১৯১৮ সালের এদিন তিনি ডগফাইটের সময় একটি জার্মান জঙ্গীবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেন। এটি ছিল তাঁর দশম শত্রু বিমান শিকার, যে কৃতিত্বের জন্য তিনি পেয়েছিলেন ‘ফ্লাইং এইস’ (Flying Ace) উপাধি। এই উপাধি পেতে যেখানে সাধারণত পাঁচটি শত্রুবিমান ঘায়েল করাই যথেষ্ট, সেখানে তিনি খতম করেছিলেন দশটি ! আকাশ যুদ্ধের সেই প্রথম যুগে, তরুন এক ফাইটার পাইলটের মাত্র তের দিনের, ১৭০ উড়াল-ঘন্টার এক অতি সংক্ষিপ্ত লড়াই জীবনের পক্ষে এটি ছিল এক অসামান্য বীরত্বপূর্ণ কৃতিত্ব , যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। । ৬ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত মাত্র তের দিনে দশটি শত্রুবিমান ঘায়েল করে তিনি ঠাঁই পেয়ে যান ইতিহাসের পাতায়।

বরিশালের এক জমিদার পরিবারের সন্তান ইন্দ্রলাল রায় ১৮৯৮ সালের ২ ডিসেম্বর তারিখে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ব্যারিস্টার পি. এল. রায় ও মাতার নাম ললিতা রায়। ১৯১১ সাল পর্যন্ত তিনি কেনিংস্টন-এর সেন্টা পল'স স্কুল-এ পড়াশোনা করেন। বৈমানিক হিসেবে যোগদানের আগে তিনি সর্বশেষ ব্যালিওল বৃত্তি লাভ করেন। এই বৃত্তি নিয়ে তিনি ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়েপড়াশোনা করতে যান। সেখানে তিনি পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। এরপর তিনি অক্সফোর্ডে পড়ার জন্য বৃত্তিলাভ করেন। কিন্তু অক্সফোর্ডে পড়তে না গিয়ে তিনি বিমানচালনার নেশায় ১৯১৭ সালের এপ্রিল মাসে ১৮ বছর বয়সে ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানবাহিনী (Royal Flying Corps)-তে অফিসার ফ্লাইং ক্যাডেট হিসেবে নাম লেখান।

একই বছরের ৫ জুলাই তারিখে তিনি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন লাভ করেন। পেশাগত প্রশিক্ষণশেষে তিনি ৩০ অক্টোবর ১৯১৭ তারিখে ফ্রান্সে যুদ্ধরত রাজকীয় ৫৬ স্কোয়াড্রনে যোগ দেন। ৬ নভেম্বর ১৯১৭ তারিখে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রথমে তাঁকে মৃত ঘোষণা করে মর্গে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু তিনি সেখানে হুঁশ ফিরে পান। তবে তাঁকে শারীরিক কারণে গ্রাউন্ডেড করা হয়। তারপর তিনি অনেক সাধ্য-সাধনা করে, পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া সত্ত্বেও, আবার সক্রিয় যুদ্ধে ফিরে যান এবং তাঁকে লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়। ১৯১৮ সালের ১৯ জুন তারিখে তাঁকে ফ্রান্সে যুদ্ধরত রাজকীয় ৪০ স্কোয়াড্রনে বদলি করা হয়।

ইন্দ্রলাল রায় ছিলেন ব্রিটিশ রাজ এর অধীন রয়েল ফ্লাইং কর্‌প্‌স (এপ্রিল ১৯১৭ – জুলাই১৯১৮)এর সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট। তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ফ্রান্সের পক্ষ হয়ে জার্মানির বিপক্ষে মিত্রশক্তির পক্ষে বেশ কয়েকটি সামরিক অভিযানে অংশ নেন এবং যুদ্ধবিমান চালনায় দক্ষতার পরিচয় দেন এবং ১৮ জুলাই তার বিমান ভূপাতিত হয় এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। এই সাফল্যের জন্য ইংল্যান্ড সরকার তাকে মরণোত্তর ডিস্টিংগুইশ্‌ড ফ্লাইং ক্রস (Distinguised Flying Cross-ডিএফসি) সম্মানে ভূষিত করে।

কাটাখালী যুদ্ধ সংঘটিত ঃ ১৯৭১ সালের এইদিনে - শেরপুরের রাঙ্গামাটি গ্রামের ঐতিহাসিক কাটাখালী যুদ্ধ সংঘটিত হয়। কালের স্বাক্ষী হয়ে আছে ঐতিহাসিক কাঁটাখালী ব্রীজ। ৭১ এর জুলাই মাসের চার তারিখ শনিবার ভোরে কোম্পানি কমান্ডার নাজমুল আহসানের নেতৃত্বে ৫৩ জনের এক মুক্তিযোদ্ধা দল অবস্থান নেন মালিঝি ইউনিয়নের রাঙামাটি গ্রামে আতর আলীর বাড়ীতে। ৫ জুলাই রাতে সফলতার সাথে অপারেশন শেষ করে মুক্তিযোদ্ধারা দু’টি দলে বিভক্ত হয়ে আশ্রয় নেয় খাটুয়াপাড়ার হাজী নঈমদ্দিন ও হাজী শুকুর মামুদের বাড়িতে। বাড়ির চারপাশে দিগন্ত বির্স্তৃত বিল আর একটি নদী। মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান টের পেয়ে এলাকার জালালউদ্দিন মিস্ত্রি ও তার ছোট ভাই হক আলী শেরপুরের কামারুজ্জামানকে এবং ঝিনাইগাতী আহম্মদ নগর পাকসেনাদের ক্যাম্পে খবর দেয় এবং তাদের পথ দেখিয়ে গ্রামে নিয়ে আসে।

এদিন সকালে কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই গ্রামে প্রবেশের একটি মাত্র কাঁচা সড়কের দু’দিক থেকে ব্যারিকেড দেয় পাকসেনা ও রাজাকার আলবদররা। গ্রামবাসীদের অনুরোধে মুক্তিযোদ্ধারা বিলের পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মরক্ষার্থে গুলি করতে করতে পিছু হটে। এ সময় পাক হানাদারদের বেপরোয়া গোলা বর্ষণে কোম্পানি কমান্ডার ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের শেষ বর্ষের মেধাবী ছাত্র নাজমুল আহসান, তার চাচাত ভাই মোফাজ্জল হোসেন ও ভাতিজা আলী হোসেন শহীদ হন। বাকি মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান পেলেও, তাদের ৬০/৭০ জনকে কোমরে দড়ি বেঁধে লাঠিপেটা করতে করতে নিয়ে যাওয়া হয় বর্তমান খাটুয়াপাড়া বেসরকারী রেজিষ্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। আগুন লাগিয়ে দেয় বাড়িঘরে। ধর্ষণ করে নারীদের। অমানবিক নির্যাতন করে লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে ৬ জন গ্রামবাসীকে। আহত হন অনেকে। দালালদের বাঁধার মুখে সেদিন লাশও দাফন করতে পারেননি শহীদদের স্বজনরা।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুককে হত্যার প্রচেষ্টা ঃ ২০১১ সালের এইদিনে - জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুককে হত্যার প্রচেষ্টা করা হয়। এদিন বিরোধী দলের ৪৮ ঘণ্টা হরতাল চলাকালে সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউতে পুলিশ তাকে বুটের আঘাত ও বেধড়ক পিটিয়ে রাজপথে রক্তাক্ত করে। তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে সেদিন ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরছিল। জীবন বাঁচাতে একপর্যায়ে দৌড়ে তিনি এমপি হোস্টেল ন্যাম ভবনের ভেতর আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে সেখানে গিয়েও পুলিশ তার ওপর হামলা চালায়। নজিরবিহীন বর্বরোচিত এ হামলায় তিনি প্রায় মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছে গিয়েছিলেন।

সেদিনের এ হামলা সম্পর্কে প্রখ্যাত সাংবাদিক আতাউস সামাদ “আমরা দুঃখিত ও লজ্জিত জয়নুল আবদিন ফারুক’’ শীর্ষক তার কলামে লিখেন –“বর্বর পুলিশ জাতীয় সংসদ এলাকায় তার ওপর বারবার হামলা চালায়, দফায় দফায় লাঠিপেটা করে, বুট জুতা দিয়ে তার শরীর মাড়িয়ে দেয় এবং তাকে আছাড় মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। এতে তিনি একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। সে সময় তার জিহ্বা ঝুলে পড়ে। আমরা অতীব দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম যে, এ দেশে আমাদের জাতীয় সংসদ এলাকার মধ্যে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য পুলিশের হাতে অকল্পনীয়ভাবে নির্যাতিত ও জখম হওয়ার পরও জাতীয় সংসদ এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি করল না বা স্পিকার নিজেও উদ্যোগ নিয়ে অন্তত সদস্যদের অধিকার কমিটিকে দুঃখজনক বিষয়টি দেখতে বললেন না। আমরা হতাশ হলাম।’’

ঘটনার পরদিন অধিকাংশ জাতীয় দৈনিক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের ওপর পুলিশের পৈশাচিক নির্যাতনের খবর নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। দৈনিক আমার দেশের শিরোনাম ছিল -“ফ্যাসিস্ট সরকারের উন্মত্ততা, হত্যার উদ্দেশেই ফারুকের ওপর পুলিশি আক্রমণ’’, দৈনিক যুগান্তরের শিরোনাম ছিল -“পুলিশের লাঠিপেটায় রক্তাক্ত ফারুক”, দৈনিক প্রথম আলোর শিরোনাম ছিল –“ফারুককে কেন্দ্র করে উত্তাপ”, দৈনিক সকালের খবরের শিরোনাম ছিল –“ফারুকের জামা খুলে লাঠিপেটা”, নয়াদিগন্তের শিরোনাম ছিল –“হরতালে বেপরোয়া পুলিশ, রক্তাক্ত ফারুক” ইত্যাদি। এই হামলার নায়ক ছিলেন পুলিশের দুই কর্মকর্তা এডিসি হারুন ও এসি বিপ্লব। সরকার এদের দু’জনকে পুরস্কৃত করেছিল। দিয়েছিল পদোন্নতি।

প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ জন্মগ্রহণ করেন ঃ ১৯৪৬ সালের এইদিনে - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর ৪৩তম প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ নিউ হ্যাভেন, কানেক্টিকাট এ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রেসিডেন্ট হবর পুর্বে ৪৬তম টেক্সাসের গভর্নর (জানুয়ারি ১৭ ,১৯৯৫ – ডিসেম্বর ২, ২০০০) ছিলেন। প্রেসিডেন্ট হিসাবে তাঁর অভিষেক হয় জানুয়ারি ২০, ২০০১। তিনি ২০০০ ও২০০৪ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের বড় ছেলে এই জর্জ ডব্লিউ বুশ । কলেজ শিক্ষা শেষে বুশ পারিবারিক তেলের ব্যবসায় যোগ দেন এবং ১৯৭৮ সালে হাউজ অফ রিপ্রেসেনটিটিভের জন্য প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতা করে পরাজিত হন। পরবর্তিতে টেক্সাস রেঞ্জার বেসবল দলের যৌথ মালিকানা ভোগ করেন এবং টেক্সাসের গভর্নরের জন্য প্রচারণায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে আবার রাজনীতিতে ফিরে আসেন। ১৯৯৪ সালে অ্যান রিচার্ডসকে পরাজিত করে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হন। ২০০০সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রতিদ্বন্দ্ব্বি হিসেবে এক বিতর্কিত বিজয় অর্জন করেন। দেশব্যাপী গণভোটে সর্বোচ্চ ভোট না পেলেও ইলেক্টোরাল ভোটে সংখ্যা গরিষ্ঠতা পান।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরে ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার কর মওকুফ করেন এবং কোন শিশু আইনের বাইরে থাকবে না শীর্ষক আইন প্রণয়ন করে বিশেষ আলোচিত হন। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর ১১তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর তিনি বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় আফগানিস্তারের তালেবান সরকারকে উৎখাত করার জন্য সেদেশে আগ্রাসন চালান। মূল উদ্দেশ্য ছিল আল কায়েদা ধ্বংস করে ওসামা বিন লাদেনকে আটক করা। ২০০৩ সালের মার্চ মাসে বুশ ইরাক দখলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন সেদেশে অবৈধ গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে যা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ঘোষণা ১৪৪১-এর পরিপন্থী। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অজুহাত দেখিয়ে ইরাক দখল করলেও সেখানে কোন গণবিধ্বংসী অস্ত্র পাওয়া যায়নি। তার ঘোষণা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। নিজেকে তিনি "যুদ্ধ রাষ্ট্রপতি" অভিধায় আখ্যায়িত করেছেন। ইরাক যুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে অনেকটা বিশৃঙ্খল অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও ২০০৪ সালের নির্বাচনে তিনি পুনরায় নির্বাচিত হন। ইরাক যুদ্ধ বিষয়ে অনেক সীমাবদ্ধতার স্বীকার হলেও তিনি প্রতিপক্ষ জন কেরির প্রচারণাকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে সক্ষম হন।

এই নির্বাচনের পর বুশের কঠোর সমালোচনা হতে থাকে। ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলার পরপর যেখানে বুশের পক্ষে জনগণের অবস্থান ছিল শতকরা ৯০ ভাগ সেখানে ২০০৭ সালের জুন মাসের হিসাবে তা শতকরা ২৬ ভাগে নেমে আসে। বিগত ৩৫ বছরে কোন মার্কিন রাষ্ট্রপতির জন্য এটিই ছিল সর্বনিম্ন। এর আগে হ্যারি ট্রুম্যান এবং রিচার্ড নিক্সন এর চেয়ে কম স্কোর করেছিলেন। বাল্য জীবনে বুশ ম্যাসাচুসেটসের অ্যানডোভারে অবস্থিত ফিলিপ অ্যাকাডেমিতে পড়াশোনা করেন। সেখানে নিয়মিত বেসবল খেলতেন এবং সিনিয়র থাকা অবস্থায় সেখানকার অল-বয়েজ স্কুল বেসবল দলের চিয়ারলিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই বুশ পরবর্তিতে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন শুরু করেন। ১৯৬৮ সালে এখান থেকে ইতিহাস বিভাগে বিএ ডিগ্রী লাভ করেন। কলেজে সিনিয়র থাকাকালে বুশ স্কাল অ্যান্ড বোন সোসাইটি নামক একটি সংগঠনের সদস্য ছিলেন।

১৯৬৮ সালের মে মাসে ভিয়েতনাম যুদ্ধ চলাকালে এর বিশেষ গুরুত্ব বিবেচনায় অতিরিক্ত সেনা সদস্য ভর্তি করা হচ্ছিল। পাইলটদের অ্যাপটিচুড পরীক্ষার সর্বনিম্ন মানের চেয়ে কম নম্বর পাওয়া সত্ত্বেও বুশকে টেক্সাস এয়ার ন্যাশনাল গার্ডে ভর্তি করে নেয়া হয়। ১৯৭২ সালে বুশ নিজের ইচ্ছায় আলবামা এয়ার ন্যাশনাল গার্ডে বদলি হয়ে যান। উদ্দেশ্য ছিল সেখানকার একটি রিপাবলিকান সিনেট প্রচারণা অংশ নেয়া। ১৯৭৩ সালের অক্টোবর মাসে তাকে টেক্সাস এয়ার ন্যাশনাল গার্ড থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। তিনি হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে ভর্তি হন এবং সেখানে তার ছয় বছর ব্যাপী সার্ভিস অবলিগেশন সম্পন্ন করেন। এ সময়ে বেশ কিছু বিষয়ে তিনি অনিয়ম করেছেন এবং কয়েকটি সুবিধার অপব্যবহার করেছেন বলে প্রমাণ রয়েছে। এ সময় তিনি এতোটাই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন যে তার নিজের ভাষায় এ সময়টি ছিল তার জন্য দায়িত্বজ্ঞানহীন যৌবনের নোমাডীয় যুগ।

১৯৭৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর অপরাধে তাকে মেইনের কেনেবাংকপোর্টে পরিবারের নিজস্ব গ্রীষ্মকালীন আবাস স্থলের নিকট থেকে আটক করা হয়েছিল। দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ১৫০ ডলার জরিমানা করা হয় এবং ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত মেইনে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করা হয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করার পর বুশ টেক্সাসে পারিবারিক তেল ব্যবসায় যোগ দেন। ১৯৭৭ সালে বন্ধুদের মাধ্যমে তার সাথে লরা ওয়েল্‌চের পরিচয় হয় যে স্কুল শিক্ষক এবং গ্রন্থাগারিক ছিল। তারা বিয়ে করে টেক্সাসের মিডল্যান্ডে আবাস স্থাপন। বুশ নিজ পরিবারের এপিস্কোপাল চার্চ পরিত্যাগ করে স্ত্রীর ইউনাইটেড মেথডিস্ট চার্চে যোগ দেন। ১৯৭৮ সালে তিনি টেক্সাসের ১৯তম কংগ্রেশনাল জেলা থেকে হাউজ অফ রিপ্রেসেনটিটিভ্‌সের জন্য প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতা করেন। তার প্রতিদ্বন্দ্ব্বী কেন্ট হ্যান্স টেক্সাসের গ্রামবাসীদের সাথে বুশের কোন সম্পর্ক নেই বলে অভিযুক্ত করেন। বুশ ৬,০০০ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান।

তিনি আবার তেল ব্যবসায় ফিরে যান, কয়েকটি বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার এবং সিনিয়র অংশীদারের দায়িত্ব পান। ১৯৮৮ সালে বাবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রচারণায় সহায়তা করার জন্য বুশ পরিবারের সাথে ওয়াশিংটন ডি সি-তে চলে যান। প্রচারণাকাজ শেষে টেক্সাসে ফিরি গিয়ে ১৯৮৯ সালের এপ্রিল মাসে টেক্সাস রেঞ্জার্‌স বেসবল ফ্রাঞ্চাইজের একটি শেয়ার ক্রয় করেন। বাবার নামের সাথে পার্থক্য করার জন্য বুশকে মাঝেমাঝে জর্জ বুশ জুনিয়র নামে আখ্যায়িত করা হয়। কিন্তু বাবা এবং ছেলের নাম আসলে এক নয়। বাবার নাম জর্জ হার্বার্ট ওয়াকার বুশ, আর ছেলের নাম জর্জ ওয়াকার বুশ। তাই বুশের নামের সাথে জুনিয়র যোগ করাটা সঠিক নয়। তার অন্য একটি ডাক নাম "ডুবিয়া"। এই শব্দটি আসলে তার মধ্য নামে উপস্থিত ডব্লিউ বর্ণের পূর্ণ রূপ হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলে প্রচলিত। এটি দ্বারাও বাবার সাথে তার নামের পার্থক্য করা যায়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর অনেক সময় তাকে "বুশ ৪৩" এবং তার বাবাকে "বুশ ৪১" নামে ডাকা হতো।

চলচ্চিত্র পরিচালক মনি কাউলের মৃত্যু ঃ ২০১১ সালের এইদিনে - ভারতের বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক মনি কাউল দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভুগে নয়াদিল্লীর নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে নতুন ধারা প্রবর্তনে তার অগ্রণী ভূমিকা ছিল। ১৯৭৯ সালে ‘উসকি রোটি’ নির্মাণের মাধ্যমে পরিচালনা শুরু করেন তিনি। মাত্র ২৫ বছর বয়সে তার তৈরি প্রথম ছবি 'উসকি রোটি' সারা ভারতে আলোড়ন তোলে। এরজন্য তিনি বেস্ট ফ্লিমফেয়ার ক্রিটিক অ্যাওয়ার্ড পান। তিনি ১৯৮৯ সালে ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড পান ‘সিদ্ধেশ্বরী’র (১৯৮৯) তথ্যচিত্রের জন্য। তার শেষ ছবি 'অ্যা মাঙ্কিজ রেনকোট' মুক্তি পায় ২০০৫ সালে। ছবি তৈরি ছাড়া চিত্রশিল্পী আর ধ্রুপদী সঙ্গীতের গায়ক হিসেবেও খ্যাতি পান মনি কাউল। আশাদ কা এক দিন, ডুভিডা ও ইডিয়ট ছবির জন্য তিনি পুরস্কৃত হন। কীর্তিমানের মৃত্যু নেই। পরিচালক মনি কাউল জীবদ্দশায় ৬৬ বছরে নির্মাণ করেছেন হাতেগোনা কয়েকটি সিনেমা এবং ডকুমেন্টারি। তিনি খ্যাতির পেছনে না ছুটে খুঁজেছেন শিল্প।

ঔপন্যাসিক গি দ্য মোপাসাঁর মৃত্যু ঃ ১৮৯৩ সালের এইদিনে - বিখ্যাত ফরাসি কবি, গল্পকার ও ঔপন্যাসিক গি দ্য মোপাসাঁ মৃত্যুবরণ করেন। গি দ্য মোপাসাঁ (৫ আগস্ট, ১৮৫০ - ৬ জুলাই, ১৮৯৩) ১৮৬৯ সালে মোপাসঁ প্যারিসে আইন বিষয়ে লেখাপড়া শুরু করেন, কিন্তু এসময় তাঁকে ফরাসি-প্রুশীয় যুদ্ধের কারণে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হয় । এরপর ১৮৭২ থেকে ১৮৮০ সাল পর্যন্ত তিনি সিভিল সার্ভেন্ট হিসেবে ফ্রান্সের নৌ মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কাজ করেন। ১৮৮০ সালে একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের মধ্যে দিয়ে তাঁর সাহিত্যজগতে পদার্পণ। মাত্র এক দশক সাহিত্যচর্চার সুযোগ পান মোপাসাঁ।

এই সংক্ষিপ্ত সময়ে তিনি তিনশ' ছোট গল্প, ছয়টি উপন্যাস, বেশ কিছু কবিতা এবং তিনটি ভ্রমণকাহিনী লেখেন। দুর্ভাগ্যবশত তারুণ্যের শুরুতেই তিনি সিফিলিস রোগে আক্রান্ত হন, যা তাঁকে ধীরে ধীরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। শেষে মারাত্মক মানসিক বৈকল্যের শিকার হয়ে ১৮৯২ সালের ২ জানুয়ারি কন্ঠনালী কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্যারিসের একটি প্রাইভেট অ্যাসাইলামে ভরতি করা হয়, এবং সেখানেই পরের বছর( ১৮৯৩ সালের ৬ই জুলাই), ৪৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন এই প্রতিভাবান সাহিত্যিক। গাই দে মোপাসাঁ ছিলেন (১৮৫০---১৮৯৩) ১৯ শতাব্দীতে ফ্রান্সের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ আধুনিক সাহিত্য সমালোচকদের অন্যতম। তিনি আজীবন পরিশ্রমী রচনা লেখেন, অবশেষে অতিরিক্ত ক্লান্তির ফলে মন্তিষ্ক-বিকৃতির শিকার হয়ে পাগলা গারদে ভর্তি হন। তাঁর প্রধান রচনা হলো "চর্বি বল", "স্বাভাবিক উষ্ণ প্রস্রবণসমূহ" এবং "সুন্দরী বান্ধবী" ইত্যাদি।

এডিবি মহাপরিচালক কুনিও সেঙ্গা ভারতকে করিডোর দেওয়ার পরামর্শ দেন ঃ ২০০৯ সালের এইদিনে - বাংলাদেশ সফররত এডিবি মহাপরিচালক কুনিও সেঙ্গা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ভারতকে করিডোর দেওয়ার পরামর্শ দেন। এডিবির মহাপরিচালক বলেছেন,‘‘ভারতকে করিডোর দিলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’’

হংকং আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর প্রতিষ্ঠিত ঃ ১৯৯৮ সালের এইদিনে - হংকং আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর প্রতিষ্ঠিত হয়। সবচেয়ে সতেজ এবং এশিয়ার একমাত্র পদপ্রার্থী হিসেবে হংকং আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর "বিংশ শতাব্দীর দশটি শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যের" অন্যতম নির্বাচিত হয়। ১৫৫ বিলিয়ন হংকং ডলার ব্যয়ে নির্মিত হংকং আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের মোট আয়তন ১২৪৮ হেকটর, এটি ৮৬টি ফুটবল মাঠের সমান, অর্থাৎ পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম স্থাপত্য।

হলোপাইপার আলফা অয়েল রিগ দুর্ঘটনা ঃ ১৯৮৮ সালের এইদিনে - জুলাই সমুদ্র উপকুল বর্তী হলোপাইপার আলফা অয়েল রিগ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়। এটা ছিল পৃথিবীর একক বৃহত্তম তেল উৎপাদক, প্রতিদিন ৩১৭.০০০ ব্যারেল তেল উৎপাদন হত এখানে। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে মেইনটেনেন্স টেকনিশিয়ানরা ১০০ টি নিরাপত্তা ভাল্বস্ সংস্কার করেন । ভুল বশত: ০১ টি ভাল্বস্‌ প্রতিস্থাপন করতে ভুলে যায় । ঐ দিন রাত ১০.০০ টার সময় তেল উৎপাদন শুরু করলে দুই ঘন্টার মধ্যে ৩০০ ফুট লম্বা এই Oil Rig ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয়। যার ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১৬৭ কর্মীর প্রাণনাশ এবং $৩.৪ বিলিয়ন ডলার।

চীনের মহান বিপ্লবী চু দে ঃ ১৯৭৬ সালের এইদিনে - চীনের মহান বিপ্লবী, চীনের জাতীয় গণ-কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান, চীনা গণ-মুক্তি-ফৌজের সর্বাধিনায়ক এবং সমরবিদ্যা-বিশারদ চু দে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি চীনের গণ-বিপ্লব এবং গঠনকাজের জন্য অতুলনীয় অবদান রাখেন। ১৯১১ সালের বিপ্লবে তিনি ইউন্নানে সশস্ত্র বিদ্রোহে অংশ নেন। ১৯১৫ সালে ইউয়ান মিকাইয়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে অংশ নেন। ১৯২৭ সালে তিনি নানছাং বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন। ১৯২৮ সালে চিংকাংশান পাহাড়ে গিয়ে লাল ফৌজের চতুর্থ বাহিনীর সেনাপতি হন। নয়া চীন প্রতিষ্ঠার পর তিনি কেন্দ্রীয় গণ সরকারের ভাইস-চেয়ারম্যান, গণ-কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান, চীন গণ প্রজাতন্ত্রের মার্শ্যাল হন।

পূর্ব আফ্রিকার মোলাওয়ি বৃটেন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে ঃ ১৯৬৪ সালের এইদিনে - পূর্ব আফ্রিকার মোলাওয়ি বৃটেন থেকে স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়। অতীতে এই দেশটিকে নিয়াসাল্যান্ড বলা হতো। ১৮৫৯ সালে স্কটল্যান্ডের খ্রীষ্টান মিশনারীদের একটি গ্রুপ এবং বিখ্যাত বৃটিশ আবিস্কারক ডেভিড লিভিংস্টোন মোলাওয়িতে যান। এরপর সেখানে বৃটেনের উপনিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। বৃটেন এই অঞ্চলে পর্তুগাল ও জার্মানীর হামলা প্রতিহত করেছিল। ১৯৫৩ সালে নিজ উপনিবেশ গুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য এবং এই উপনিবেশ গুলোতে লুণ্ঠন সহজ করার জন্য দক্ষিণ ও মধ্য আফ্রিকায় রোডেশিয়া ও নিয়াসাল্যান্ড ফেডারেশন গঠন করে। কিন্তু স্থানীয় অধিবাসীরা এই ফেডারেশন গঠনের বিরোধীতা করে। অবশেষে ১৯৬২ সালে জনতার ব্যাপক বিক্ষোব ও সশস্ত্র বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়লে ১৯৬৩ সালে এই ফেডারেশন বাতিল করা হয় এবং গঠিত হয় মোলাওয়ি প্রজাতন্ত্র। মোলাওয়ির আয়তন এক লক্ষ ১৮ হাজার ৪৮৪ বর্গ কিলোমিটার। তাঞ্জানিয়া, জাম্বিয়া ও মোজাম্বিক দেশটির প্রতিবেশী।

কমোরো দ্বীপপুঞ্জের স্বাধীনতা অর্জন ঃ ১৯৭৫ সালের এইদিনে - আফ্রিকান কমোরো দ্বীপপুঞ্জ ফরাসী দখলদারিত্ব থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে। অতীতে এই দেশটি ছিল আরবদের আওতাধীন এবং ফলে সেখানকার অনেক মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। ষোড়শ শতাব্দীতে পুর্তুগীজরা দেশটি দখল করে এবং ১৮৪২ সাল থেকে ফরাসী উপনিবেশবাদীরা দেশটির কিছু অংশ দখল করে। এরপর ধীরে ধীরে পুরো কমোরো ফরাসীদের দখলে চলে যায়। অবশেষে কমোরোর জনগণের স্বাধীনতা সংগ্রাম ১৯৭৫ সালে বিজয় অর্জন করে এবং দেশটি স্বাধীনতা অর্জন করে। কমোরো দক্ষিণ পূর্ব আফ্রিকায় ভারত মহাসাগরে অবস্থিত। দেশটির আয়তন ১৮৬২ বর্গ কিলোমিটার।

লুই পাস্তুরের রোগ প্রতিরোধক টীকা আবিস্কার ঃ ১৮৮৫ সালের এইদিনে - বিখ্যাত ফরাসী চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধক টীকা আবিস্কার করেন। তার এ আবিস্কারের ফলে বিভিন্ন জন্তু ও বিশেষ করে কুকুর থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম রোগগুলো সারিয়ে তোলার পথ সুগম হয়।

কবি দান্তে আলিঘিইরির জন্ম ঃ ১২৬৫ সালের এইদিনে - ইতালীর বিশ্বখ্যত কবি দান্তে আলিঘিইরি ফ্লোরেন্স শহরে জন্মগ্রহণ করেন। একজন বড় কবি বা সাহিত্যিক হওয়া ছাড়াও তিনি ছিলেন একজন রাজনৈতিক কর্মকর্তা। তার লেখা অনেক কাব্যের মধ্যে ডিভাইন কমেডী বিখ্যাত। এই কাব্য পৃথিবীর অধিকাংশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৩২১ সালে তিনি মৃত্যুবরণ।

আগ্রা বিধ্বস্ত ঃ ১৫০৫ সালের এইদিনে - সিকান্দার শাহ লোদির রাজত্বকালে ভয়ানক ভূমিকম্পে আগ্রা বিধ্বস্ত হয়।

বিশ্বের প্রথম বিমানের আটলান্টিক পাড়ি ঃ ১৯১৯ সালের এইদিনে - বিশ্বের প্রথম বিমান (ব্রিটিশ আর-৩৪) আটলান্টিক পাড়ি দেয়। লন্ডন থেকে নিউ ইয়র্ক যেতে সময় নেয় ১০৮ ঘণ্টা।

কথাশিল্পী উইলিয়াম ফকনারের মৃত্যু ঃ ১৯৬২ সালের এইদিনে - নোবলেজয়ী মার্কিন কথাশিল্পী উইলিয়াম ফকনার মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৯৪৯ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর প্রধান রচনা হলো "আওয়াজ ও পাগল"। তাঁকে ইউরোপীয় ও মার্কিন সাহিত্য মহলের আধুনিক উচ্চ শ্রেণীর লেখক হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি নিথেতো আলকালা-থামোরারই তর‌্রেসের জন্ম ঃ ১৮৭৭ সালের এইদিনে - স্পেনের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি নিথেতো আলকালা-থামোরাই তর‌্রেস জন্মগ্রহণ করেন। নিথেতো আলকালা-থামোরাই তর‌্রেস অল্পকালের জন্য দ্বিতীয় স্পেনীয় প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং এরপর ১৯৩১ থেকে ১৯৩৬ পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ফেব্রুয়ারি ১৮, ১৯৪৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

জর্জ সায়মন ও'মের মৃত্যু ঃ ১৮৫৪ সালের এইদিনে - জার্মান পদার্থবিদ জর্জ সায়মন ও'ম মিউনিখে মৃত্যুবরণ করেন। জর্জ সায়মন ও'ম মার্চ ১৬, ১৭৮৯ সালে লাঙ্গেন, জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৮২৬ সালে তিনি ও'মের সূত্রস্থাপন করেন।

মিশরের ফেরাউন দ্বিতীয় রেমেসিসের মমি আবিষ্কৃত ঃ ১৯৭৯ সালের এইদিনে - মিশরে নীল নদের তীরে বিনানুল মূলক নামক গুহায় মিশরের ফেরাউন দ্বিতীয় রেমেসিসের মমি আবিষ্কৃত হয়।

ব্যকরণবিদ কুরতুবীর মৃত্যু ঃ ৮২১ সালের এইদিনে - ব্যকরণবিদ কুরতুবী মৃত্যুবরণ করেন।

লন্ডন শহরে শেষবারের মতো ট্রাম ঃ ১৯৫২ সালের এইদিনে - লন্ডন শহরে শেষবারের মতো ট্রাম চলাচল।

মালায়ির (ন্যায়াসাল্যান্ড) স্বাধীনতা লাভ ঃ ১৯৬৪ সালের এইদিনে - তিয়াত্তর বছর ব্রিটিশ অধিকারে থাকার পর মালায়ি (ন্যায়াসাল্যান্ড) স্বাধীনতা লাভ করে।

প্রাচ্যবিদ্যা মহার্ণব নগেন্দ্রনাথ বসুর জন্ম ঃ ১৮৬৬ সালের এইদিনে - বাংলা বিশ্বকোষের প্রথম সংকলক প্রাচ্যবিদ্যা মহার্ণব নগেন্দ্রনাথ বসু জন্মগ্রহণ করেন।
==============


বৃহস্পতিবার, ৫ জুলাই, ২০১২

ইতিহাসে ৫ জুলাই


ইতিহাসে ৫ জুলাই 
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী 
---------------------- 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত : ২০১০ সালের এইদিনে - জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হয়েছিল । জাবি ছাত্রলীগের ইতিহাসে যুক্ত হয়েছিল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের এক নতুন মাত্রা। সেদিন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত আটজন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশত মারাত্মক আহত হয়। প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মরণ যুদ্ধে লিপ্ত হয় দুই গ্রুপ। ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করে এক পক্ষ অন্য পক্ষকে। গুলি করে হলের চার তলার ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয় সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের পাঁচ ছয় কর্মীকে । এদিন দেশবাসী হতবাক হয়ে পড়ে চার তলা থেকে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে নিচে ফেলে দেয়ার লোমহর্ষক ঘটনা দেখে। অনেক ছাত্র জীবন বাঁচাতে ভয়ে লাফ দেন হলের ছাদ থেকে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সকল রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ প্রতিরোধ দিবস : ২০০৯ সালের এইদিনে - ভারত রাষ্ট্রের বৃহৎ রাষ্ট্রসূলভ দাম্ভিক আস্ফালনের ও তার অনুসৃত সম্প্রসারণবাদী নীতির বিরুদ্ধে ৭টি সুনির্দিষ্ট ইস্যুতে ‘ল্যাম্পপোস্ট’ ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করে। এই কর্মসূচী পালনকালে ভারতীয় দূতাবাসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ নির্দেশে দূতাবাসের নিজস্ব ভারতীয় পুলিশ ও বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী যৌথভাবে বিক্ষোভকারীদের উপর বর্বোরোচিত তাণ্ডব চালিয়েছিল। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামক বিদ্যমান রাষ্ট্রটির নতজানু ও সেবাদাসমূলক অবস্থান ও ভারত রাষ্ট্রের সম্প্রসারণবাদী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়ে পড়ে এবং তার বিরুদ্ধে গণসচেতনতা ও গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার নৈতিক প্রত্যয়ে ল্যাম্পপোস্ট এইদিনকে “ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ প্রতিরোধ দিবস” হিসেবে পালনের ঘোষণা দেয়।
পাকিস্তানের জেনারেল মোঃ জিয়াউল হকের এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির ক্ষমতা দখল : ১৯৭৭ সালের এইদিনে - পাকিস্তানের জেনারেল মোঃ জিয়াউল হক এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জুলফিকার আলী ভুট্টোর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির ক্ষমতা দখল করেন। তিনি নিজেই একাধারে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ভুট্টোকে ফাঁসী দেন। তৃতীয়বারের মত পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন, সংবিধান স্থগিত করেন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা নিষিদ্ধ করেন ও সংবাদপত্রগুলো বন্ধ করে দেন।
রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ ফরহাদ : ১৯৩৮ সালের এইদিনে - রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ ফরহাদ পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার জমাদারপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৮ সালের দিকে দিনাজপুরের তেভাগা আন্দোলন তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শ তৈরীতে প্রভাব রাখে। এই সময়ে মোহাম্মদ ফরহাদ রাজনীতিতে প্রভাবিত হয়ে পড়েন এবং ঐ সময় হতেই মোহাম্মদ ফরহাদ সমাজতন্ত্রের প্রতি আকর্ষিত হয়ে দিনাজপুর কমিউনিস্ট পার্টির সাথে সম্পৃক্ত হন। ১৯৫৮ সালে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসেন। তিনি ছিলেন ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের মূল নেতা । ১৯৬৮ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়ে তিনি ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি, ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনীর বিশেষ সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৭ সালের ৯ই অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ভাষা সৈনিক শেখ আমান উল্লাহ : ১৯২৯ সালের এইদিনে - কলারোয়ার ঝাঁপাঘাট গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ভাষা সৈনিক শেখ আমান উল্লাহ। ১৯৪৮ সালে যশোর এম এম কলেজে একাদশ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেন। সে সময়ের ছাত্র আন্দোলনে সামনে থেকে তিনি নেতৃত্ব দেন। ৪৮ থেকে ৫২’র একুশে ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত ভাষার দাবিতে সংঘটিত দক্ষিণ জনপদের সবগুলো আন্দোলন-সংগ্রামে শেখ আমান উল্লাহ অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর নামে কলারোয়ায় গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান ‘শেখ আমান উল্লাহ ডিগ্রী কলেজ’ আজ দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষ কলেজগুলোর মধ্যে অন্যতম। ২০০৮ সালে উপজেলা প্রশাসন তাঁর নামে কলারোয়ার একটি প্রধান সড়কের নামকরণ করে।
প্রথম বাবা দিবস পালন : ১৯০৮ সালের এইদিনে - বাবা দিবস উদযাপনের প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল । যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় এইদিন মিসেস গ্রেস গোল্ডেন ক্লেইটনের উদ্যোগে এই দিবসটিকে প্রথম বাবা দিবস হিসাবে পালন করা হয়। ১৯৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন জুন মাসের তৃতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবস হিসেবে নির্ধারণ করেন। ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন প্রতি বছর বাবা দিবস পালনের রীতি চালু করেন। সেই থেকে প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার পালিত হচ্ছে বাবা দিবস। বাবার প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা জানানোই এই দিবসের প্রাতিপাদ্য বিষয়। অনেক সন্তানই আছে, যারা বাবা-মায়ের দেখাশোনার প্রতি খুব একটা মনোযোগী নয়। মা দিবস বা বাবা দিবস তাদের চোখের সামনের পর্দাটি খুলে ফেলে বাবা-মায়ের প্রতি তার দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে বলা যায়, পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করতে বাবা দিবসের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। আমাদের পরিবার তথা সমাজে বাবার যে গুরুত্ব তা আলাদাভাবে তুলে ধরাই বাবা দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য। ২০১০ সালের বাবা দিবসে কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই ৯৫ মিলিয়ন শুভেচ্ছা কার্ড পেয়েছিলেন বাবারা।
ঢাকা জাতীয় জাদুঘরের ৩৮, ৩৯ এবং ৪০ নম্বর গ্যালারি বন্ধ : ২০০৯ সালের এইদিনে : জনকণ্ঠ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা জাতীয়জাদুঘরের ৩৮, ৩৯ এবং ৪০ নম্বর এই তিনটি গ্যালারি বন্ধ করে দেয়া হয়। ২০০৯ এর ৬ জুন জনকণ্ঠ পত্রিকায় উক্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
আলবের্তো জিলার্দিনো ("ইল গিলা") : ১৯৮২ সালের এইদিনে - ইটালীয় ফুটবলার আলবের্তো জিলার্দিনো ("ইল গিলা") জন্মগ্রহণ করেন। আলবের্তো জিলার্দিনো এ সি মিলান ও ইটালি জাতীয় দলের একজন স্ট্রাইকার। তিনি ২০০৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইটালীয় দলের সদস্য ছিলেন।
আলজেরিয়ার স্বাধীনতা লাভ : ১৯৬২ সালের এইদিনে - ফরাসী দখলদারিত্ব থেকে উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়া স্বাধীনতা লাভ করে। আলজেরীয়দের স্বাধীনতা সংগ্রামে দশ লক্ষ মানুষ শাহাদত বরণ করেন। ফরাসী উপনিবেশবাদীরা ১৮৩০ সালে আলজেরিয়া দখলের জন্য হামলা চালায়, কিন্তু আলজেরীয় জনগণ তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। আমীর আবদুল ক্বাদেরের নেতৃত্বে প্রতিরোধ যোদ্ধারা ফরাসীদের বেশ কয়েকবার পরাজিত করে। কিন্তু ১৭ বছর ধরে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পর তিনি ফরাসীদের হাতে বন্দী হন। এর ফলে আলজেরিয়ার একটা বড় অংশ ফরাসী উপনিবেশবাদীদের দখলে চলে যায়। পরে ফরাসী উপনিবেশবাদীরা ধীরে ধীরে নৃশংস পন্থায় গোটা আলজেরিয়ায় উপনিবেশ কায়েম করে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় আলজিয়ার্স শহর অস্থায়ী ফরাসী সরকারের রাজধানী ছিল। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর পরই আলজেরীয় জনগণ স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু করলে তাদেরকে স্বায়ত্ত্বশাসন দেয়া হয়। কিন্তু স্বাধীনতা সংগ্রামীরা যুদ্ধ চালিয়ে গেলে অবশেষে ১৯৬২ সালের এ দিনে আলজেরিয়া পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে।
ভেনিজুয়েলার স্বাধীনতা লাভ : ১৮১১ সালের এইদিনে - ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলা স্বাধীনতা লাভ করে। ষোড়শ শতকের প্রথম দিক থেকে ভেনিজুয়েলা ছিল স্পেনের উপনিবেশ। স্পেনীয় উপনিবেশ বাদীদের শোষণ ও লুণ্ঠন ছাড়াও ভেনিজুয়েলার হাজার হাজার রেড ইন্ডিয়ান স্পেনীয় উপনিবেশবাদীদের হাতে নিহত হয় এবং তাদের সহায় সম্পদ বহিরাগত স্পেনীয়রা দখল করে। উনিশ শতকের প্রথম দিকে ফ্রান্সিসকো মিরান্ডার নেতৃত্বে ভেনিজুয়েলার জনগণ স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু করে। মিরান্ডা ১৮০৬ সালে প্রথমবারের মতো দেশকে স্বাধীন করার উদ্যোগ নেন, কিন্তু ব্যর্থতার সম্মুখীন হন। পরবর্তী বছরগুলোতে তিনি দক্ষিণ আমেরিকার বিখ্যাত স্বাধীনতাকামী নেতা সাইমন বুলিভারের সহযোগীতায় সংগ্রাম অব্যাহত রাখেন এবং ১৮১১ সালে স্পেনীশ সেনাদের পরাজিত করে ভেনিজুয়েলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
নিউটনের বিখ্যাত গ্রন্থ প্রকাশ : ১৬৮৭ সালের এইদিনে - নিউটনের বিখ্যাত গ্রন্থ 'ফিলোসফিয়া ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথামেটিকা' প্রকাশিত হয়। নিউটন মূলত মহাকর্ষ ও গতি সূত্রের আবিষ্কারের জন্যই বেশি পরিচিত। তাঁর পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিষয় এতে আলোচিত হয়েছে। যথা_এক. নিউটনের গতিসূত্র, যা চিরায়ত বলবিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করে। দুই. সার্বজনীন মহাকর্ষ তত্ত্ব এবং তিন. কেপলারের গ্রহীয় গতি সম্পর্কিত সূত্রের প্রমাণ।
ভারতের স্বাধীনতা বিল অনুমোদিত : ১৯৪৭ সালের এইদিনে - ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারতের স্বাধীনতা বিল অনুমোদিত হয়।
হার্বাট স্পেনসার : ১৮৯১ সালের এইদিনে - নোবেলজয়ী মার্কিন চিকিৎসক হার্বাট স্পেনসার জন্মগ্রহণ করেন।
জর্জ দ্য হেবিস : ১৯৬৬ সালের এইদিনে - নোবেলজয়ী হাঙ্গেরীয় রসায়নবিদ জর্জ দ্য হেবিস মৃত্যুবরণ করেন।
টমাস স্ট্যামফোর্ড র‌্যাফেলস : ১৮২৬ সালের এইদিনে - সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা স্যার টমাস স্ট্যামফোর্ড র‌্যাফেলস মৃত্যুবরণ করেন।
ক্লোনিং পদ্ধতিতে প্রথম ভেড়ার শাবকের জন্ম : ১৯৯৬ সালের এইদিনে - বৃটেনের বিজ্ঞানী ডঃ উইলমুট উদ্ভাবিত ক্লোনিং পদ্ধতিতে প্রথম সাফল্য হিসেবে ভেড়ার শাবক জন্ম নেয়।
প্যালেস্তাইনের স্বায়ত্তশাসনের সূচনা : ১৯৯৪ সালের এইদিনে - প্যালেস্তাইনের স্বায়ত্তশাসনের সূচনা হয়।
=================