আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা

বাংলা ভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী

সকল মহান ভাষা শহীদগণের প্রতি,
এবং ভাষা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত

সকল ভাষা সৈনিক
ও বীর বাঙ্গালীদের জানাই অশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলী,
সেইসাথে সকলকে জানাই

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা।

বিষয় সূচী

সাহিত্য (60) অন্যান্য কবিতা (53) ভালোবাসার পদবিন্যাস ( প্রেম সম্পর্কিত রচনা বিশেষ ) (53) আমার লেখা প্রবন্ধ-নিবন্ধ (37) কবিতা (35) দেশ নিয়ে ভাবনা (33) ফিচার (33) বাংলাদেশ (29) সমসাময়িক (28) খন্ড কাব্য (26) হারানো প্রেম (22) সংবাদ (18) কাল্পনিক প্রেম (16) ইতিহাস (15) প্রতিবাদ (15) সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ (15) Online Money Making Links (14) দেশাত্মবোধক কবিতা (13) আমার জীবনের দিনপঞ্জী (12) ধর্ম (12) প্রেমের কবিতা (11) ব্যক্তিত্ব (11) রাজনীতি (11) ধর্মীয় আন্দোলন (10) প্রবাসের কবিতা (10) খন্ড গল্প (9) জীবন গঠন (9) বর্ণমালার রুবাঈ (9) ইসলাম (8) প্রগতি (8) মানুষ ও মানবতা (8) হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ (8) VIDEOS (7) আমার লেখালেখির অন্তরালে (7) ইসলামী জাগরণ (7) মানব মন (7) ট্র্যাজেডি (6) শোক সংবাদ (6) সম্প্রীতি (6) নারী স্বাধীনতা (5) প্রেমের গল্প (5) বিজয় দিবসের ভাবনা (5) মৃত্যুপথ যাত্রী (5) সংবাদ মাধ্যম (5) স্মৃতিকথা (5) ঈদ শুভেচ্ছা (4) প্রবাস তথ্য (4) রমজান (4) শুভেচ্ছা (4) Computer Programer (3) আমার ছবিগুলো (3) আমার রাইটিং নেটওয়ার্ক লিংক (3) পর্দা (3) ফটিকছড়ি (3) বাংলাদেশের সংবিধান (3) বিশ্ব ভালবসা দিবস (3) শিক্ষা (3) শিক্ষার্থী (3) স্লাইড শো (3) News (2) VERIETIES POEMS OF VERIOUS POETS (2) আষাঢ় মাসের কবিতা (2) আষাঢ়ের কবিতা (2) ইসলামী রেনেসাঁ (2) ছাত্র-ছাত্রী (2) থার্টি ফাস্ট নাইট (2) নারী কল্যান (2) নারী প্রগতি (2) নির্বাচন (2) বর্ষার কবিতা (2) মহাসমাবেশ (2) শবেবরাত (2) শরৎকাল (2) শাহনগর (2) শ্রদ্ধাঞ্জলী (2) সত্য ঘটনা (2) সত্য-মিথ্যার দ্বন্ধ (2) সফলতার পথে বাংলাদেশ (2) Bannersআমার ছবিগুলো (1) DXN (1) For Life Time Income (1) For Make Money (1) Knowledge (1) Student (1) অদ্ভুত সব স্বপ্নের মাঝে আমার নিদ্রাবাস (1) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (1) আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত(সুন্নী) (1) উপন্যাস (1) কবি কাজী নজরুল ইসলাম (1) কোরআন - হাদিসের কাহিনী (1) গল্প (1) চট্টগ্রাম (1) চিকিৎসা ও চিকিৎসক (1) জমজম (1) জাকাত (1) তরুন ও তারুণ্য (1) নারী জাগরণ (1) পরকিয়ার বিষফল (1) ফটিকছড়ি পৌরসভা (1) বন্ধুদিবস (1) বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেম (1) বিবেক ও বিবেকবান (1) বিশ্ব বাবা দিবস (1) বিশ্ব মা দিবস (1) ভ্রমণ (1) মন্তব্য (1) মাহফুজ খানের লেখালেখি (1) রবি এ্যাড (1) রমজানুল মোবারক (1) রেজাল্ট (1) রোগ-পথ্য (1) লংমার্চ (1) শহীদ দিবস (1) শুভ বাংলা নববর্ষ (1) শৈশবের দিনগুলো (1) সমবায় (1) সস্তার তিন অবস্থা (1) সাভার ট্র্যাজেডি (1) সিটি নির্বাচন (1) স্বপ্ন পথের পথিক (1) স্বাধীনতা (1) হ্যালো প্রধানমন্ত্রী (1) ২১ ফেব্রোয়ারী (1)

APNAKE SHAGOTOM

ZAKARIA SHAHNAGARIS WRITING

সকলকে বাংলা নতুন বছরের শুভেচ্ছা

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আমরা আর বাংলা ভাষায় কথা বলতে চাইনা । নিজের মাতৃভাষাকে যখন-তখন যেখানে সেখানে অবমাননা করে তৎপরিবর্তে ইংরেজী ভাষা ব্যবহার করতে অভ্যাস্থ হয়ে যাচ্ছি বা হয়ে গেছি ।
আরও একটু এগিয়ে গেলে বলতে হয় - আমরা আজ বাঙ্গালী হয়ে বাঙ্গালী জাতিসত্বা ভুলে গিয়ে ইংরেজী জাতিসত্বায় রক্তের ন্যায় মিশে গেছি !

অথচ একদিন আমরা বাঙ্গালী জাতি একতাবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রীয় ভাষা উর্দুকে ত্যাগ করে নিজেদের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা তথা বাংলা ভাষাকে সর্বত্র প্রচলন করতে প্রাণ দিতে বাধ্য হয়েছিলাম ! ফলে বিজাতীয় ভাষা উর্দূকে অপসারন করে নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলার স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলা ভাষাকে ধারন করেছিলাম । যখন আমরা বাংলার সর্বত্র বাংলা ভাষায় কথা বলা শুরু করেছিলাম ,তখন কিন্তু বিশ্বায়নের যুগটা অনুপস্থিত ছিল তা নয় , বিশ্বায়নের যুগটা তখনও ছিল বিধায় আমরা ইংরেজী শিক্ষায় তখনও বাধ্য ছিলাম । অর্থাৎ যে জন্যে আজ আমরা ইংরেজী শিখছি সেইজন্যে তখনও ইংরেজী শিক্ষার প্রচলন ছিল । ছিল ইংরেজী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাও । তাই বলে সে সময় বর্তমান সময়ের মত মাতৃভাষা বাংলাকে অবমাননা করা হয়নি । মানুষ সে সময় বাংলায়ই কথা বলেছিল । শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রেই সে সময় ইংরেজী ব্যাবহার করেছিল বাঙ্গালী জাতি

conduit-banners

Powered by Conduit

ফ্লাগ কাউন্টার

free counters

MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY

PLEASE CLICK ON MY BANNERS. VISIT MY AFFILIATE SITE "MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY ( অনলাইনে অর্থোপার্জনের একটা মাধ্যম )" I HOPE IT WILL BE HELPFUL FOR YOU. Create your own banner at mybannermaker.com!

মঙ্গলবার, ৩ জুলাই, ২০১২

ডক্টর ইউনুছের বৈদিশিক কর্মগ্রহণ এবং কিছু প্রশ্ন


ডক্টর ইউনুছের বৈদিশিক কর্মগ্রহণ এবং কিছু প্রশ্ন
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী 
---------------------- 

মানুষ দাঁত হারানোর আগে দাঁতের মূল্য বুঝেনা
তেমনই বাংলাদেশের মানুষ ডক্টর ইউনুচের মূল্য বুঝছেনা

 
বাংলাদেশের পঁচা রাজনীতি এবং দেশের মানুষদের গোবর ভরা মন - মানষিকতার কারণে এভাবে হচ্ছে দেশের মেধা পাচার বহির্বিশ্বে । দেশের মেধাগুলো দেশে মূল্যমান হয়না , বিদেশেদীদের কাছে তাদের মূল্যায়ন তোলায় তোলায় । বাঙ্গালী এভাবেই থাকবে পড়ে পীঁছিয়ে । তাদের টেনে তোলার মানুষগুলোকে তারা যতদিন মূল্যায়ন না করবে , ততদিন বাঙ্গালীদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হবেনা । বিশ্বজাতির কাছে তারা সর্বদায়ই নতমস্তকে ভিক্ষার হাত পেতে থাকবে । বিশ্বজাতির সম্মুখে সর্বদায়ই তারা পণ্য হয়ে প্রদর্শিত হতে থাকবে ।
 এভাবেই বাংলাদেশ মেধাশূণ্য হয়ে পঙ্গু হয়ে থাকবে অনন্তকাল । আর বাংলাদেশের মেধাগুলো দিয়ে বহির্বিশ্বের দেশগুলো উন্নতির চরম শিখরে উন্নীত হতে থাকবে ।
স্বদেশে ডক্টর ইউনুচের মত একজন বিশ্বমেধার জায়গা হয়নি , তাই বলে ডক্টর ইউনুচ মরে যাননি , তিনি বিশ্বজনতার মাথার মুকুট হয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁর মানবতার কর্ম ।
এমনভাবে যতগুলো বাংলাদেশের মেধা স্বদেশ থেকে বিচ্যুত হয়ে বহির্বিশ্বে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে সবগুলোই উন্নতির শিখরে আরোহন করেছে । মাঝখানে ধ্বংস হয়েছে দেশের ভবিষ্যত । অবনতির করাল করাল গ্রাসে বিলীন হয়েছে দেশের জনগণের আশা আকান্খা বোঝাই বিরাট জাহাজ , হয়েছে জনগণের ভাগ্য বিপর্জয় ।
এইভাবে দেশের মেধাপাচারে মেধাগুলোর কোনই ক্ষতি হয়না , ক্ষতি হয় এসব মেধা পাচারে যাদের দুষ্ঠ চিন্তা , যাদের হাত তাদেরই ।
ডক্টর ইউনুচকে বাংলাদেশের মানুষ চিনতে পারেনি , যেদিন এদেশের মানুষ তাঁকে চিনবে সেদিন বাংলাদেশের আর কিছুই করার থাকবেনা । মানুষ দাঁত হারানোর আগে দাঁতের মূল্য বুঝেনা । তেমনই বাংলাদেশের মানুষ ডক্টর ইউনুচের মূল্য বুঝছেনা ।
 
ডক্টর ইউনুছের বিরুদ্ধবাদীদের কাছে প্রশ্ন ?

যাঁরা ডক্টর ইউনুছের মতো একজন বিশ্বমেধার নানাধরণের অসম্মানজনক কথায় এবং অশ্লীল ভাষায় বিরুদ্ধাচরণ করছেন , আসলে তাঁরা কি করছেন তাঁরা নজেরাও বুঝেননা। তাঁদের ঘরে মা - বোন থাকলে তাঁরা নিশ্চিত বুঝতেন , তাতে ক্ষতি কার হয় বা কার অসম্মান হয় ? যদি তাঁদের মা-বোনের ইজ্জতহানী হতো (এমন ঘটনা কখনো কাম্য নয়) আর সেই ঘটনা তারা বাইরে বলে বেড়াতেন , তবে তাঁদের কি হতো তাঁরা বুঝতেন , তাঁরা বুঝতেন নিজ ঘরের অপকর্ম বাইরে বলে বেড়ালে তাতে কার সম্মানহানী হয়।
মানলাম ডক্টর ইউনুছ সুদখোর এবং দেশের নারীদের রাস্তায় নামিয়েছেন। কিন্তু যারা ব্যাংকে ফিক্স ডেপোজিট করে ব্যাংক থেকে লাভ নিচ্ছেন , বলুনতো তারা সুদ গ্রহণ থেকে মুক্ত কি না ? যে দেশের পুরা ব্যাংক ব্যবস্থা সুদের উপর নির্ভর , সে দেশে সুদখোর কে নয় বলুন ? যাঁরা ব্যাংকে লেনদেন করেন তারা কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন – তাঁরা সুদখোর নন ? বাংলাদেশে অনেক ইসলামী ব্যাংক হয়েছে , সেইসব ব্যাংকগুলোও সুদ থেকে মুক্ত নয়। কারণ , ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে গেলেই বাংলাদেশ সুদী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে ধর্ণা দিতে হয়। তাই যে ব্যাংক ব্যবস্থা সুদ থেকে মুক্ত নয় , সেই ব্যাংক ব্যবস্থায় যাঁরা লেনদেন করেন তাঁরা বলতে পারবেননা তাঁরা সুদের উর্ধ্বে।
তাছাড়া , বাংলাদেশে এমন কোন ব্যাংক নেই যা সুদ গ্রহণ ও প্রদান করেনা। বাংলাদেশে এমন কোন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা হয়নি যা সুদগ্রহণ করবেনা বলে বণ্ড দিয়েছে (অবশ্য ইসলামী ব্যাংকগুলো সুদ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্ঠা করে যাচ্ছে)। সেই হিসাবে সুদখোর হিসাবে যদি ডক্টর ইউনুছকে দোষী সাব্যস্থ করা হয় , তবে বাংলদেশের অপরাপর ব্যাংক প্রতিষ্ঠারাও একই দোষে দুষ্ট । কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে কোন কথা উঠছেনা কথা উঠছে ডক্টর ইউনছের বিরুদ্ধে ।
তারও একটা কারন , ডক্টর ইউনুছের ব্যাংক ব্যবস্থা দেশের অন্যান্য সুদী ব্যাংকগুলোর জন্য হুমকী স্বরূপ । সেসব ব্যাংক মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে জনগণের কাছ থেকে মোটা অংকের সুদ গ্রহণ থেকে আস্তে আস্তে পীছিয়ে পড়বে। আর এসব ব্যাংক কখনো গ্রামের খেতে না পারা ছখিনা – রহিমাদের টাকা দিয়ে সাহায্য করেনি , করবেনা।
কারন এসব বাংক জানে এই সখিনা – রহিমাদের টাকা দিলে দু’দিনেই তাদের ব্যাংক বন্ধ করে দিতে হবে । তাই যদি সুদখোর ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য ডক্টর ইউনুছকে দেশত্যাগে বাধ্য হতে হয় , তবে অপরাপর ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতাগণ দেশে থাকা কোন যুক্তিতে ? ডক্টর ইউনুছ একা দোষী হবেন কেন ? যদি ডক্টর ইউনুছ গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠাতা হয়ে সামান্য সামান্য সুদ গ্রহণ করে চোর সাব্যস্থ হন , তবে অপরাপর ব্যাংক প্রতিষ্ঠাতাগণ বড় বড় সুদ গ্রহণেও ডাকাত সাব্যস্থ হবেননা কেন ?
আসুন নারীদের রাস্তায় নামানোর ব্যাপারে কিছু জানি। যদি ডক্টর ইউনুছ দেশের নারীদের রাস্তায় নামিয়ে থাকেন , তবে কেন নামিয়েছেন ? আর বাংলাদেশে যারা সুন্দরী প্রতিযোগীতার নামে, মডেলিং করানোর নামে, গায়িকা বানানোর নামে নারীদের বস্ত্রহরণ করে নারীদের উলঙ্গ শরীর প্রদর্শনের প্রদর্শনীর আয়োজন করছে , তারা কেন এভাবে নারীদের রাস্তায় নামাচ্ছে ?
ডক্টর ইউনুছনারীদের রাস্তায় নামালেও সেটা দেশের অভ্যান্তরে, ঘরের ভিতরে। আর যারা নারীদের উলঙ্গ শরীর প্রদর্শনের আয়োজন করছে , তারা নারীদের শুধু রাস্তায়ই নামাচ্ছেনা , তারা নারীদের বিশ্ব বাজারের উম্মুক্ত ময়দানে পণ্য স্বরূপ প্রদর্শন করছে , লেলিয়ে দিচ্ছে বিশ্ব জনতাকে তাদের কোমলাঙ্গ ভক্ষনে। যদি ডক্টর ইউনুছকে নারীদের দেশের অভ্যান্তরে রাস্তায় নামিয়ে দেশত্যগে বাধ্য হতে হয়, তবে যারা দেশের নারীদের বিশ্ব বাজারের পণ্যরূপে উলঙ্গ করে শো করছে , লেলিয়ে দিচ্ছে তাদের উপর বিশ্বজনতাকে - তাদের কি করা উচিৎ ? ডক্টর ইউনুছের বিরুদ্ধবাদীরা তার জবাব দিবেন কি ?
=========== 

ইতিহাসে ৩ জুলাই


ইতিহাসে ৩ জুলাই 
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী 
----------------------  

দশম বর্ষে এনটিভি : ২০০৩ সালের এইদিনে - “সময়ের সাথে আগামীর পথে” স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করে উপগ্রহ-ভিত্তিক বাংলাদেশী এবং বাংলা ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি (NTV ) । আজ চ্যানেলটির দশতম জন্মবার্ষিকী । এটি বাংলাদেশের জনপ্রিয়তম চ্যানেলগুলোর মধ্যে একটি। চ্যানেলটি সংবাদ, শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান, নাটক, রাজনৈকিত অনুষ্ঠান দেখিয়ে থাকে। সেপ্টেম্বর ২০১১ সালে এনটিভি বাংলাদেশের সেটেলাইট টিভি চ্যানেল হিসেবে আইএসও সনদ লাভ করে। ২০০৭ সালের ২৬ শে ফেব্রুয়ারী সকাল সাড়ে ১০ টায়, এনটিভি যে ভবনটিতে অবস্থিত, তাতে আগুন লেগে যায়। এতে করে চ্যানেলটির সম্প্রচার সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
NTV Satellite down-link parameters ঃ Satellite - Apstar 2R, Orbital Location- 76.5° E , Transponder - C14A , Downlink Polarization – Horizontal , Modulation – QPSK , Downlink Frequency - 4175 MHz C-Band , FEC - ¾ , Carrier Type - MPEG-2 / DVB , Symbol Rate - 4285 Kb/s ।

আলাউদ্দিন আল আজাদের মৃত্যুদিবস : ২০০৯ সালের এইদিনে - বাংলাদেশের খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, নাট্যকার, গবেষক আলাউদ্দিন আল আজাদ শুক্রবার রাতে ঢাকার উত্তরায় নিজ বাসভবন রত্নদ্বীপে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। আলাউদ্দিন আল আজাদ ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ৬ মে নরসিংদীর রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা : গাজী আব্দুস সোবহান; মাতা : মোসাম্মাৎ আমেনা খাতুন; স্ত্রী : জামিলা আজাদ। তিনি ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

তাঁর প্রথম উপন্যাস তেইশ নম্বর তৈলচিত্র ১৯৬০ সালে ছাপা হয়। তিনি ১৯৪৭ সালে নারায়ণপুর শরাফতউল্লাহ উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়, রায়পুরা থেকে প্রবেশিকা , ১৯৪৯ সলে ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক (কলা) , ১৯৫৩ ও ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি অধ্যাপনা পেশায় যুক্ত হন।

১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ঈশ্বর গুপ্তের জীবন ও কবিতা বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পাঁচটি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা এবং পরবর্তীকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। পেশাগত জীবনে মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাসে সংস্কৃতি উপদেষ্টা, শিক্ষা সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক বিভাগ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

তাঁর গ্রন্থ সমুহের মধ্যে - তেইশ নম্বর তৈলচিত্র , শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথম দিন, কর্ণফুলী , ক্ষুধা ও আশা , খসড়া কাগজ , শ্যাম ছায়ার সংবাদ , জ্যোৎস্নার অজানা জীবন , যেখানে দাঁড়িয়ে আছি , স্বাগতম ভালোবাসা , অপর যোদ্ধারা , পুরানা পল্টন , অন্তরীক্ষে বৃক্ষরাজি , প্রিয় প্রিন্স , ক্যাম্পাস , অনূদিত অন্ধকার , স্বপ্নশীলা , কালো জ্যোৎস্নায় , চন্দ্রমল্লিকা , বিশৃঙ্খলা । গল্প - জেগে আছি , ধানকন্যা , মৃগনাভি , অন্ধকার সিঁড়ি , উজান তরঙ্গে , যখন সৈকত , আমার রক্ত স্বপ্ন আমার । কবিতা – মানচিত্র , ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ , সূর্য জ্বালার স্বপন , লেলিহান পান্ডুলিপি। নাটক - এহুদের মেয়ে , মরোক্কোর জাদুকর , ধন্যবাদ , মায়াবী প্রহর , সংবাদ শেষাংশ। রচনাবলী - শিল্পের সাধনা , স্বাধীনতা যুদ্ধের ওপর লেখা বই , ফেরারী ডায়েরী উল্লেখযোগ্য।

তিনি পুরস্কার লাভ করেন – ১৯৬৪ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার , ১৯৬৫ সালে ইউনেস্কো পুরস্কার , ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার , ১৯৮৩ সালে আবুল কালাম শামসুদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার , ১৯৮৪ সালে আবুল মনসুর আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার , ১৯৮৫ সালে লেখিকা সংঘ পুরস্কার , ১৯৮৫ সালে রংধনু পুরস্কার , ১৯৮৬ সালে অলক্তা সাহিত্য পুরস্কার , ১৯৮৬ সালে একুশে পদক , ১৯৮৭ সালে শেরে বাংলা সাহিত্য পুরস্কার , ১৯৮৯ সালে নাট্যসভা ব্যাক্তিত্য পুরস্কার , ১৯৮৯ সালে কথক একাডেমী পুরস্কার , ১৯৯৪ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ স্বর্ণ পদক ।

স্বর্ণকুমারী দেবীর মৃত্যুদিবস : ১৯৩২ সালের এইদিনে - কলকাতা, বাংলা প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত (অধুনা পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)এ বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতজ্ঞ, সমাজকর্মী ও সমাজ সংস্কারক - স্বর্ণকুমারী দেবী মৃত্যুবরণ করেন। স্বর্ণকুমারী দেবী ২৮ অগস্ট, ১৯৫৫ সালে কলকাতা, বাংলা প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত (অধুনা পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)এ জন্মগ্রহণ করেন।

১৮৫২ সালে হানা ক্যাথরিন মুলেনস তাঁর ফুলমণি ও করুণার বৃত্তান্ত প্রকাশ করে তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ঔপন্যাসিকের মর্যাদা লাভ করেন। তিনিই ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম উল্লেখযোগ্য মহিলা সাহিত্যিক এবং প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক । ১৮৬৮ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তথা আদি যুগের সক্রিয় সদস্য , ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সেক্রেটারি , নদিয়া জেলার এক জমিদার পরিবারের শিক্ষিত সন্তান "রাজা" জানকীনাথ ঘোষালের সঙ্গে স্বর্ণকুমারী দেবী বিবাহ বন্ধনে হন।

১৮৭৬ সালে স্বর্ণকুমারী দেবীর প্রথম উপন্যাস দীপনির্বাণ প্রকাশিত হয়। ১৮৭৯ সালে তিনি প্রথম বাংলা গীতিনাট্য (অপেরা) বসন্ত উৎসব রচনা করেন। ১৮৭৭ সালে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ পারিবারিক পত্রিকা ভারতী চালু করেন। এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেনদ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর সাত বছর এই পত্রিকা সম্পাদনা করে পত্রিকা সম্পাদনের ভার স্বর্ণকুমারী দেবীর উপর ন্যাস্ত করেন। ভারতী পত্রিকা প্রায় অর্ধশতাব্দীকাল ব্যাপী প্রকাশিত হয়।

১৮৮৯ ও ১৮৯০ সালে তিনি জাতীয় কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনে অংশ নেন। তিনিই ছিলেন প্রথম মহিলা যিনি জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে প্রকাশ্যে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৯৬ সালে তিনি অনাথ ও বিধবাদের সাহায্যার্থে ঠাকুরবাড়ির অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে স্বর্ণকুমারী দেবী "সখীসমিতি" স্থাপন করেন। ১৮৯৮ সালে ভারতী ও বালক পত্রিকায় নিম্নলিখিত প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় : “সখীসমিতির প্রধান উদ্দেশ্য হল অসহায় অনাথ ও বিধবাদের সহায়তা করা। এই কাজ দু'ভাবে করা হবে। যেক্ষেত্রে এই সব বিধবা ও অনাথদের কোনো নিকটাত্মীয় নেই বা থাকলেও তাঁদের ভরণপোষণের ক্ষমতা সেই আত্মীয়দের নেই, তাঁদের ভরণপোষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব সখীসমিতি নেবে। অন্যান্য ক্ষেত্রে সখীসমিতি তাঁদের যথাসাধ্য সাহায্য করবে। সখীসমিতি যে সব মেয়েদের পূর্ণ দায়িত্ব নেবে, তাঁদের লেখাপড়া শিখিয়ে স্ত্রীশিক্ষার প্রসার ঘটাবে। তাঁরা শিক্ষা সম্পূর্ণ করে অন্যান্য মহিলাদের লেখাপড়া শেখাবেন। সমিতি এই জন্য তাঁদের পারিশ্রমিকও দেবে। এইভাবে দু'টি উদ্দেশ্য সাধিত হবে। হিন্দু বিধবারা হিন্দুধর্মের অনুমোদনক্রমেই শ্রমদানের মাধ্যমে উপার্জনক্ষম হয়ে উঠবেন’’।

সংগঠন পরিচালনা কেবলমাত্র সদস্যদের চাঁদায় সম্ভব নয় অনুভব করে, তিনি বেথুন কলেজে একটি বার্ষিক মেলার আয়োজন করেন। এই মেলায় ঢাকা ও শান্তিপুরের শাড়ি , কৃষ্ণনগর ও বীরভূমের হস্তশিল্প এবং বহির্বঙ্গের কাশ্মীর, মোরাদাবাদ, বারাণসী, আগ্রা, জয়পুর ও বোম্বাইয়ের হস্তশিল্প প্রদর্শিত হয়। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ভারতের দেশজ পণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা। সেই যুগে এই মেলা কলকাতার সমাজে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ১৯০৬ সাল পর্যন্ত সখীসমিতি সক্রিয় ছিল। "সখীসমিতি" নামটি রবীন্দ্রনাথের দেওয়া। সরলা রায়ের অনুরোধে সখীসমিতির অর্থসংগ্রহের উদ্দেশ্যে রবীন্দ্রনাথ "মায়ার খেলা" নৃত্যনাট্যটি লিখে মঞ্চস্থ করেছিলেন।

তাঁর রচিত রচনাবলীর মধ্যে ঃ উপন্যাস - দীপনির্বাণ , মিবাররাজ , ছিন্নমুকুল , মালতী , হুগলীর ইমামবাড়ী, বিদ্রোহ , স্নেহলতা , কাহাকে , ফুলের মালা ,বিচিত্রা ,স্বপ্নবাণী , মিলনরাতি । নাটক – বিবাহ উৎসব , রাজকন্যা, দিব্যকমল। কাব্যগ্রন্থ - গাথা, বসন্ত-উৎসব, গীতিগুচ্ছ। বিজ্ঞান-বিষয়ক প্রবন্ধ – পৃথিবী উল্লেখযোগ্য। ১৯২৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় স্বর্ণকুমারী দেবীকে "জগত্তারিণী স্বর্ণপদক" দিয়ে সম্মানিত করে। ১৯২৯ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন। (আমাদের বাংলাদেশী নারী অধিকার (সমানাধিকার) প্রাপ্ত নারীরা আশা করি এ নারীর কর্মজীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজ দেশগঠনে ভুমিকা পালনের চেষ্ঠা করবে)।

বোরকা খুলতে বাধ্য করে মহাজোট সরকারের দিনবদলের পুলিশ : ২০০৯ সালের এইদিনে - বোরকা পরার অপরাধে পিরোজপুর জেলার জিয়ানগরে ছাত্রলীগের বখাটে কর্মীদের প্ররোচনায় পুলিশ জঙ্গি সন্দেহে তিন তরুণীকে গ্রেফতার করে। তারপর পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে তিন তরুণীকে ঢাকায় টিএফআই সেলে নিয়ে যাওয়া হয়। ৫৪ ধারায় গ্রেফতারকৃত তরুণীদের বিরুদ্ধে মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন অমর সিংহ। এ সময় তাদের বোরকা খুলতে বাধ্য করে মহাজোট সরকারের দিনবদলের পুলিশ। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদেও কোনো জঙ্গি সংযোগের কাহিনী বানাতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফাইনাল রিপোর্ট দিতে বাধ্য হয়। দীর্ঘদিন কারাগারে বন্দি থেকে অবশেষে তিন অসহায়, নিরপরাধ তরুণী মুক্তি পান।

চট্টগ্রামের ‘শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন বিভাগীয় স্টেডিয়াম’-এর নাম পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগ : ২০০৯ সালের এইদিনে - দুপুরে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের দু’মেয়ে নূরজাহান আমিন ও রিজিয়া আমিন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে চট্টগ্রামের ‘শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন বিভাগীয় স্টেডিয়াম’- এর নাম পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম জহুর আহমদ চৌধুরীর নামে নামকরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান ।

সাংবাদিক সম্মেলনে তারা অভিযোগ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি নয়, তিনি সমগ্র জাতির গৌরব। একজন জাতীয় বীরের নাম এভাবে মুছে ফেলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের নামে এই স্টেডিয়ামের নামকরণ করে আবার তা প্রত্যাহারের মাধ্যমে তার মহান কীর্তিকেই অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানাধীন সাগরিকায় প্রায় ৩০ একর জায়গার উপর নির্মিত এ ‘শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন বিভাগীয় স্টেডিয়াম’-এর নাম পরিবর্তন করে মহাজোট তথা আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম জহুর আহমদ চৌধুরীর নামে নামকরণ করা হয় ১ জুলাই , ২০০৯ বুধবার ।

পৃথিবীর নবম এবং পাকিস্তানের ২য় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ ৮১২৫ মিটার (২৬,৬৫৮ ফুট) উচ্চতার নাঙ্গা পর্বতের শীর্ষে সর্বপ্রথম : ১৯৫৩ সালের এইদিনে - পৃথিবীর নবম এবং পাকিস্তানের ২য় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ ৮১২৫ মিটার (২৬,৬৫৮ ফুট) উচ্চতার নাঙ্গা পর্বতের শীর্ষে সর্বপ্রথম একদল অস্ট্রীয় ও জার্মান অভিযাত্রী সর্বপ্রথম আরোহন করেন। নাঙ্গা পর্বত মানে "উলঙ্গ পর্বত"। আট-হাজারী পর্বতসমূহের মধ্যে এটি সবচেয়ে পশ্চিমে অবস্থিত।
১৯৫৩ সালের ৩ জুলাই রাত আড়াইটার দিকে বুহল নাঙ্গা পর্বতচুড়ায় উঠার জন্য একাই বেড়িয়ে পরেন। শীর্ষে পৌঁছাতে হলে আরও ৪ হাজার ফুট পাড়ি দিতে হবে। তার সাথে অটো কেম্পারের যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রচণ্ড ঠাণ্ডায়, ক্লান্তিতে বিষাদগ্রস্ত হয়ে তিনি ঘুমাচ্ছেন। হারমান বুহল একাই বেড়িয়ে গেলেন পর্বতচূড়ায় উঠতে। হারমান বিন নিদ্রায়, বিনা পানীয়ে, বিনা আহারে টানা ৪১ ঘণ্টা পর্বত আরোহণ করে শীর্ষে উঠলেন। এর আগে ৩১ জন একই কাজ করতে গিয়ে এখানে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। সে ছিল এক অতিমানবীয় কাজ। ১৯৫৭ সালের ৩০ জুন হারমান বুহল কারাকোরাম পর্বতশ্রেণীর চোগলিসা শৃঙ্গে তুষারধ্বসে মারা যান। তার দেহ আর পাওয়া যায় নি।

জঙ্গে জামল বা উটের যুদ্ধ সংঘটিত : ৩৬(হিজরী) সালের এইদিনে - হযরত আলী (রাঃ )’র সৈন্য বাহিনী এবং একদল বিপথগামী ও সহিংসতাকামীর মধ্যে জঙ্গে জামাল বা উটের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে হযরত আলী(রাঃ)’র বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারী দলটি পরাজিত হয়। বিদ্রোহী ঐ গোষ্ঠীটির নেতৃত্বে ছিল তালহা ও যুবায়ের। বর্তমান ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় বসরায় দুই পক্ষের মধ্যে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

ড: মোহাম্মদ মুয়িনের মৃত্যুদিবস : ১৩৫০(ফার্সি) সালের এইদিনে ইরানের বিখ্যাত সাহিত্যিক ও শিক্ষক ড: মোহাম্মদ মুয়িন মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ফার্সি ১২৯৩ সালে উত্তর ইরানের রাশত শহরে এক ধর্মীয় পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ড: মোহাম্মদ মুয়িনই হলেন ফার্সি ভাষা ও সাহিত্যে পি.এইচ.ডি ডিগ্রী অর্জনকারী প্রথম ব্যক্তি। তিনি তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি বিভিন্ন বই ও অভিধান রচনায় মনোনিবেশ করেন। তিনি ছয় খন্ড বিশিষ্ট ফার্সি অভিধান রচনার মাধ্যমে ফার্সি ভাষাভাষীদের মাঝে অমর হয়ে আছেন।

ইহুদিবাদ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুদিবস : ১৯০৪ সালের এইদিনে - বিশ্ব ইহুদিবাদ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা থিয়োডর হার্যেল মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৮৬০ সালের এইদিনে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে জন্ম গ্রহণ করেন এবং পরে অস্ট্রিয়ায় যান। অস্ট্রিয়ায় অবস্থান কালে ইহুদিদের একত্রিত করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের চিন্তা তার মাথায় আসে। এরপর তিনি ১৮৯৫ সালের এইদিনে 'ইহুদি রাষ্ট্র' নামক একটি বই লেখেন এবং সেখানে ইহুদিবাদ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। এরপরই ১৮৯৭ সালে হার্জেল ও তার সহযোগীরা সুইজারল্যান্ডে এক সমাবেশের মাধ্যমে বিশ্ব ইহুদিবাদ সংস্থা প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। থিয়োডর হার্যেল ১৯০৪ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। কিন্তু তার সেই অন্যায় ও মানবতা বিরোধী চিন্তা ধারার আলোকেই পরে ফিলিস্তিনী ভূখন্ড জবর দখল করে অবৈধ ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করা হয়।

লেখক ফ্রানয কাফকার জন্মদিবস : ১৮৮৩ সালের এইদিনে - অস্ট্রীয় কথাসাহিত্যিক, জার্মান ও চেক প্রজাতন্ত্রের বিখ্যাত উপন্যাস ও ছোটগল্প লেখক ফ্রানয কাফকা তৎকালীন অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্যের প্রাগ শহরে (বর্তমানে চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী) একটি মধ্যবিত্ত জার্মান-ইহুদী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বিখ্যাত লেখকদের বই পড়তে পড়তে এক সময় তারও লেখার সাধ জাগে। তার বিখ্যাত গ্রন্থের মধ্যে দ্য মেটামোরফ্যাসিস, দ্য ট্রাইয়াল এবং দ্য কাসল অন্যতম। তিনি বিশ্বের সব কিছুকেই নেতিবাচক দৃষ্টিকোন থেকে বিশ্লেষণ করেছেন। কাফকাকে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। কাফকা ১৯২৪ সালের ৩ জুন যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

জেমস জিম ডগলাম মরিসন (দি লিজার্ড কিং, মি. মোজো রাইজিন) এর মৃত্যুদিবস : ১৯৭১ সালের এইদিনে - মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার, লেখক, চলচ্চিত্র পরিচালক এবং কবি জেমস জিম ডগলাম মরিসন (দি লিজার্ড কিং, মি. মোজো রাইজিন) ২৭ বছর বয়সে প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি অধিক পরিচিত ছিলেন আমেরিকান রক ব্যাণ্ড দি ডোরস এর প্রধান গায়ক ও গীতিকার হিসেবে। তাকে রক সঙ্গীতের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি বেশ কিছু কবিতার বই রচনা করেন এবং একটি তথ্যচিত্র, একটি স্বল্পদৈর্ঘ চলচ্চিত্র ও তিনটি মিউজিক ভিডিওর নির্মাতা। মরিসন ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪৩ সালে মেলবোর্ন, ফ্লোরিডা, ইউ.এস.এ-তে জন্মগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশী ক্রিকেট খেলোয়াড় সৈয়দ রাসেল (Rusty) এর জন্মদিন : ১৯৮৪ সালের এইদিনে - বাংলাদেশী ক্রিকেট খেলোয়াড় সৈয়দ রাসেল (Rusty) যশোর জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বামহাতি মিডিয়াম পেসবোলার সৈয়দ রাসেল (Rusty) । টেস্ট খেলায় তাঁর অভিষেক হয় ২০০৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর কলম্বোয় একদিনের খেলায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে (cap 44)। তাঁর দল ঃ ২০০১ - ২০১১ খুলনা বিভাগ, ২০১১ - বর্তমান বরিশাল বিভাগ, ২০১২(বর্তমান) – দূরন্ত রাজশাহী।

মনছবি : বাংলাদেশ ২০২৫ : ১৯৯৮ সালের এইদিনে - ‘মনছবি : বাংলাদেশ ২০২৫' রচনা প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়।

আলজেরিয়ার স্বাধীনতা লাভ : ১৯৬২ সালের এইদিনে - আলজেরিয়ার স্বাধীনতা লাভ করে।

‘মাউন্টবাটেন পরিকল্পনা’ প্রকাশ : ১৯৪৭ সালের এইদিনে - ভারতবর্ষকে দুটি ডেমিনিয়নে বিভক্ত করার জন্য ‘মাউন্টবাটেন পরিকল্পনা’ প্রকাশ।

প্রথম রঙিন টিভি অনুষ্ঠান প্রচার : ১৯২৮ সালের এইদিনে - লন্ডনে জন বায়ার্ড প্রথম রঙিন টিভি অনুষ্ঠান প্রচার শুরু করেন।

ট্রেড ইউনিয়নসমূহের আন্তর্জাতিক কংগ্রেস শুরু : ১৯২১ সালের এইদিনে - মস্কোয় বিপ্লবী ট্রেড ইউনিয়নসমূহের আন্তর্জাতিক কংগ্রেস শুরু হয়।

রঙ্গসাহিত্যিক অজিতকৃষ্ণ বসুর জন্মদিবস : ১৯১২ সালের এইদিনে - রঙ্গসাহিত্যিক অজিতকৃষ্ণ বসুর জন্মগ্রহণ করেন।

চেক সঙ্গীতস্রষ্টা লেইওস ইয়ানাচেকের জন্মদিবস : ১৮৫৪ সালের এইদিনে - চেক সঙ্গীতস্রষ্টা লেইওস ইয়ানাচেকের জন্মগ্রহণ করেন।

স্কট স্থপতি রবার্ট অ্যাডামের জন্মদিবস : ১৭২৮ সালের এইদিনে - স্কট স্থপতি রবার্ট অ্যাডামের জন্মগ্রহণ করেন।

আবদুল্লাহ আল ফারাবীর মৃত্যুদিবস : ১১৩৬ সালের এইদিনে - মুসলিম দার্শনিক আবদুল্লাহ আল ফারাবী ইন্তেকাল করেন।

মুয়াবিয়া ইবনে খোদাইজ (রা.) এর ওফাত দিবস : ৬৭২ সালের এইদিনে - সাহাবী হযরত মুয়াবিয়া ইবনে খোদাইজ (রা.) এর ইন্তেকাল করেন।

সাহল ইবন সাঈদ (রা.) এর ওফাত দিবস : ৬১০ সালের এইদিনে - সাহাবী হযরত সাহল ইবন সাঈদ (রা.) ইন্তেকাল করেন।================

সোমবার, ২ জুলাই, ২০১২

ইতিহাসে ২ জুলাই


ইতিহাসে ২ জুলাই
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

*** ১৮৪৩ সালের এইদিন – হোমিওপ্যাথিক ঔষধ আবিষ্কারক জার্মানীর স্যামুয়েল হ্যানিম্যান মারা যান। স্যামুয়েল হ্যানিম্যান জার্মানির স্যাক্সনি প্রদেশে মেসেন শহরে ১৭৫৫ সালের ১০ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। ১৭৯০ খ্রীষ্টাব্দে তিনি হোমিওপ্যাথিক প্রথম ঔষধ চায়না আবিষ্কার করেন। তিনি ১৮০৫ সালে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা চালু করেন। ১৮১০ খ্রীষ্টাব্দে অর্গানন অব মেডিসিন প্রথম সংস্করন লেখেন এবং তা প্রকাশ করেন। ১৮১৮ খ্রীষ্টাব্দে অর্গানন অব মেডিসিন দ্বীতিয় সংস্করন লেখেন। ১৮২৪ খ্রীষ্টাব্দে অর্গানন অব মেডিসিন তৃতীয় সংস্করন লেখেন। ১৮২৯ খ্রীষ্টাব্দে অর্গানন অব মেডিসিন চতুর্থ সংস্করন লেখেন। ১৮৩৩ খ্রীষ্টাব্দে অর্গানন অব মেডিসিন পঞ্চম সংস্করন লেখেন। ১৮৪২ খ্রীষ্টাব্দে অর্গানন অব মেডিসিন ষষ্ট সংস্করন লেখেন। এইটিই তাঁর শেষ অবদান এবং তিনি বলেন পূর্নাঙ্গের পথে হোমিওপ্যাথি। অর্গানন অব মেডিসিন ষষ্ট সংস্করনের বাংলা অনুবাদ করেন অনুবাদক - ডাঃ হরিমোহন চৌধুরী।

*** ১৯৯৮ সালের এইদিন - যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ লেখিকা জে কে রাউলিং রচিত হ্যারি পটার উপন্যাস সিরিজের দ্বিতীয় বই হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অফ সিক্রেটস (ইংরেজিতেHarry Potter and the Chamber of Secrets) প্রকাশিত হয়। বইটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত হয় ১৯৯৯ সালের ২ জুন । এ বইটির কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অফ সিক্রেটস ২০০২ সালে মুক্তি পায়। ক্রিস কলম্বাস চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন এবং স্টিভ ক্লোভস এর চিত্রনাট্য লিখেন। মুক্তি পাওয়ার পর এটি ইতিহাসে তৃতীয় চলচ্চিত্র হিসেবে আন্তর্জাতিক বক্স অফিসে ৬০০ মিলিয়ন ডলারের অধিক আয় করে। বই ও চলচ্চিত্রের কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত একটি ভিডিও গেমস একই নামে ২০০২ সালে মুক্তি পায়। ইলেকট্রনিক আর্টস গেমসটি প্রকাশ করে। সিরিজের অন্য বইগুলোর মত চেম্বার অফ সিক্রেটস বইটিও বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। বইটি যেসব ভাষায় অনূদিত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল সার্বীয় , ডাচ , জার্মান , রুশ , হিন্দি , বাংলা , আরবি , ফরাসি, স্পেনীয়,ফারসি, চীনা, জাপানী, ইন্দোনেশীয় প্রভৃতি। বাংলাদেশের অঙ্কুর প্রকাশনী হ্যারি পটার সিরিজের বই গুলোকে বাংলা ভাষায় প্রকাশ করছে। সিরিজের দ্বিতীয় বই চেম্বার অফ সিক্রেটস এর বাংলা অনুবাদ ২০০৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি অঙ্কুর সর্বপ্রথম বাংলাদেশে প্রকাশ করে। বইটির অনুবাদ করেছেন মুনীরুজ্জামান। এর পৃষ্ঠাসংখ্যা ৩১০। বইটি বাংলাভাষী হ্যারি পটার ভক্তদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। চেম্বার অফ সিক্রেটস বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা ২৫১ (যুক্তরাজ্য), ৩৪১ (যুক্তরাষ্ট্র), ৩১০ (বাংলাদেশ)। বইটির অধ্যায় ১৮ । বইটির প্রকাশক ব্লুমসবারি (যুক্তরাজ্য) ,স্কলাস্টিক(যুক্তরাষ্ট্র), অঙ্কুর (বাংলাদেশ)। বইটির ধরণ হচ্ছে রূপকথা।

*********************

০১। ১৯৩০ সালের এইদিনে - বাংলা ভাষা আন্দোলন-সংগ্রামের প্রথম সূতিকাগার এবং বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার আন্দোলন-সংগ্রামের অন্যতম জাতীয় রাজনৈতিক নেতা ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত আইন অমান্য আন্দোলনের জন্য ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক গ্রেফতার হন । ১৯৪৮ সালের ২৪ জানুয়ারি তিনিই প্রথম পাকিস্তানের গণপরিষদে (করাচিতে) বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেছিলেন। ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের জন্ম ১৯৮৬ সালের ২ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া (বর্তমান কুমিল্লা) জেলার রামরাইল গ্রামে। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯২১ সালে কুমিল্লায় ‘মুক্তি সংঘ’ নামে একটি সংগঠন গঠন করেন। ১৯২৩ সালে কুমিল্লায় ‘অভয় আশ্রম’ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯২৯ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। ১৯৩২ সালের ৯ জানুয়ারি বিপ্লবীদের ওপর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে আবার ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে কারাগারে যেতে হয়। ১৯৩৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কারাগার থেকে মুক্তি পান। ১৯৪০ সালের ১৪ ডিসেম্বর যুদ্ধবিরোধী প্রচারণা চালানোর অপরাধে আবার তাকে ব্রিটিশ সরকার গ্রেফতার করে। ১৯৪২ সালে ভারত ছাড় আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৪৩ সালে কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ হিসেবে পাকিস্তানের রাজনীতিতে স্বীকৃতি লাভ করেন। তিনি ১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান আইনসভায় সর্বপ্রথম বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার জন্য ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তখন থেকেই সুত্রপাত হয় ভাষা আন্দোলনের। তিনিই ভাষা আন্দোলনের পটভূমি রচনা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। যার ধারাবাহিকতায় ৪ বছর আন্দোলন-সংগ্রামের পর সৃষ্টি হয় ৫২’ র ২১ ফেব্রুয়ারী। ১৯৫২ সালে তিনি সংসদে মহানভাষা আন্দোলনের পক্ষে জোরলো সমর্থন জানান। ১৯৫৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর বিশেষ অনুরোধে পূর্ব পাকিস্তানে যুক্তফ্রন্ট সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন তিনি। ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি মন্ত্রিসভায় ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ রাতে পাকিস্তানি নরপশু হানাদার বাহিনী ৮৬ বছর বয়স্ক শ্রী ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে ও তাঁর ছোট ছেলে দিলিপ দত্তকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে ময়নামতি সেনানিবাসে যায়। শুরু করে নির্মম অত্যাচার, হাত-পা ভেঙে দেয়, চক্ষুদ্বয় উৎপাটন করে। ১৯৭১ সালের নববর্ষের দিন ১৪ এপ্রিল তাঁকে হত্যা করার মাধ্যমে বাংলার সংগ্রামী চেতনার এক বলিষ্ঠ কন্ঠস্বরকে চিরতরে বন্ধ করে দেয় পাকিস্তানি জানোয়ার বাহিনী।

০২। ১৯৪৩ সালের এইদিন - জিমন্যাস্টিক্স হল্যান্ড মহিলা দলের কোচ গেরিট ক্লীরকপারকে ১৯২৮ সালের অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জেতার অপরাধে পোল্যান্ডের সবিবর বন্দী শিবিরে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকান্ডের মুলে ছিল ইতিহাস কলংকের নায়ক হিটলার । হিটলারের নাজি দর্শন অনুযায়ী সবচেয়ে পবিত্র খেলা জিমন্যাস্টিক্স-এ শ্রেষ্ঠত্বের অধিকার অনার্য(!)দের থাকতে পারে না। একই দিনে খুন করা হয় তার ১৪ বছরের মেয়ে এলিজাবেথ এবং স্ত্রী ক্যাটিকেও , সেই সাথে খুন করা হয় স্বামী আব্রাহাম এবং ১০ বছরের মেয়ে রেবেকা সহ দলের সদস্য হেলেনা ক্লুট নর্ডহেইমকে। দলের অন্যতম সদস্য জুডিজে থেমানস-সিমন্স কে তার স্বামী বার্নার্ড, ৩ বছরের মেয়ে সনিয়া এবং ২ বছরের ছেলে লিও সহ মার্চ ৩, ১৯৪৩ তারিখে সবিবরে বিষাক্ত গ্যাসের সাহায্যে হত্যা করা হয়, স্বামীর সঙ্গে ৮৩ জন শিশু সহ জুডিজে একটি অনাথাশ্রম চালাতেন এই শিশুদেরও প্রায় সবাইকেই মেরে ফেলা হয়। সবিবর বন্দী শিবিরেই জুলাই ২৩ , ১৯৪৩ সালে স্বামী বারেন্ড, ৬ বছরের মেয়ে ইভা সহ মেরে ফেলা হয় উক্ত দলের আরেক সদস্য আন্না ড্রেসডেন-পোলাক। দলের আরেক সদস্য এস্তেলা অ্যাগস্তেরিবে তার ৬ বছরের মেয়ে ন্যানি এবং ২ বছরের ছেলে অ্যালফ্রেডকে মেরে ফেলা হয় ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৪৩ সালে অসউইচ বন্দী শিবিরে, তাঁর স্বামী স্যামুয়েল ব্লিটসকে খুন করা হয় একই বন্দী শিবিরে ২৮ এপ্রিল ১৯৪৪ তারিখে। সকলকেই মারা হয়েছিল বিষাক্ত গ্যাসের সাহায্যে। এই দলের একমাত্র যে ইহুদী প্রতিযোগী ঘটনাচক্রে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি হলেন এলকা ডে লেভি। তিনি মারা যান ১৯৭৯ সালের ৩ ডিসেম্বর। একই অপরাধে কোচ গেরিটের ১৮ বছরের ছেলে লিন্ডার্ট-কে মারা হয় ১৯৪৪ সালের ৩১ জুলাই কুখ্যাত অসউইচ বন্দী শিবিরে। এভাবেই ১৯২৮ সালের অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জেতা একটা দল ও দলের সদস্যদের নির্মমভাবে স্বপরিবারে ধ্বংস করে দিয়ে ইতিহাস কলংকের নায়ক হিটলার বিশ্ব ধিক্কার পাবার লক্ষ্যে তার কলঙ্কের চিহ্ন রেখে যায়।

০৩। ১৯৬১ সালের এইদিন - সত্যাগ্রহ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আসামের ভাষা পরিষদ ভাষা দাবী দিবস পালন করে।

০৪। ১৯২৯ সালের এইদিন - বাঙালি নাট্যকার ও নাট্য অভিনেতা অমৃতলাল বসু (১৭ই এপ্রিল, ১৮৫৩- ২রা জুলাই, ১৯২৯) মৃত্যুবরণ করেন । তাঁর জন্ম হয়েছিল কলকাতায়। তিনি নাটক রচনা এবং নাট্যাভিনয়ে সাফল্যের জন্য জনসাধারণের কাছে রসরাজ নামে খ্যাত ছিলেন। গিরিশচন্দ্র ঘোষ ও অর্ধেন্দুশেখর মুস্তফীর উৎসাহে তিনি ন্যাশনাল, গ্রেট ন্যাশনাল, গ্রেট ন্যাশনাল অপেরা কোম্পানি, বেঙ্গল, স্টার, মিনার্ভা ইত্যাদি রঙ্গমঞ্চে সুনামের সাথে অভিনয় করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক তিনি 'জগত্তারিণী পদক' লাভ করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা চল্লিশ এবং তার মধ্যে নাটক চৌত্রিশ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো - তরুবালা , বিমাতা বা বিজয়বসন্ত , হরিশচন্দ্র, আদর্শ বন্ধু । প্রহসন রচনায়ও তিনি অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। তার কয়েকটি প্রহসনের নাম হলো : তাজ্জব ব্যাপার , কালাপানি , বাবু , একাকার , চোরের উপর বাটপারি , তিলতর্পণ , ডিসমিশ , চাটুজ্যে ও বাঁড়ুজ্যে।

০৫। ১৯৯০ সালের এইদিন - কোরবানির ঈদের প্রথম দিন। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে-আসা প্রায় ২০ লক্ষ ইসলাম ধর্মাবলম্বিরা সে দিন মেক্কায় আয়োজিত হজ্জ্ব অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। যখন মানুষ হেঁটে হেঁটে মিনা আর মক্কা মোকাররামার মধ্যকার সড়ক সুড়ঙ্গ আর সুড়ঙ্গের উপরের পথ পার হয়ে সামনে এগিয়ে যাছিলেন তখন সাত জন লোক হঠাৎ রাস্তা থেকে সুড়ঙ্গের প্রস্থান পথে পড়ে মারা যান। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থালে বিশৃংখল শুরু হয়। তখন সুড়ঙ্গে প্রায় ৫০ হাজার লোক ছিলেন। বাইরের তাপমাত্রা ৪৩ সেন্টিগ্রেট। অনেক বয়স্ক আর দূর্বল লোক বিশৃংখল জনসমাগমের পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা যান। তা ছাড়া কিছু কিছু তরুণ-তরুণী শ্বাসরোধ হয়ে মারা যান। এ দুর্ঘটনায় মোট ১৪২৬ জন লোক মৃত্যুবরণ ছিলেন।

০৬। ৬৮৪ সালের এইদিন – কা’বা ঘরের সংস্কার সংস্কার করা হয়।

০৭। ৭১২ সালের এইদিন – ইবনু কাশিম সিন্ধু বিজয় করেন।

০৮। ১৯৭৭ সালের এইদিন - রুশ-মার্কিন লেখক মোঁত্রো ভ্লাদিমির ভ্লাদিমিরভিচ নাবকফ (২২শে এপ্রিল ১৮৯৯ , সেইন্ট পিটার্সবার্গ – ২রা জুলাই, ১৯৭৭) মৃত্যুবরণ করেন। তিনি শুরুতে রুশ ভাষায় সাহিত্য রচনা করলেও পরবর্তীতে ইংরেজিতে অভিনব গদ্যশৈলীতে উপন্যাস রচনার জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিলাভ করেন। এছাড়া লেপিডপ্টেরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য ও বেশ কিছু দাবার সমস্যা উদ্ভাবনের জন্যও তিনি স্মরণীয়। নাবকফের “লোলিটা” বিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস হিসেবে পরিচিত। এটি ইংরেজিতে তাঁর সেরা সাহিত্যকর্ম।

০৯। ১৯৬১ সালের এইদিন - মার্কিন উপন্যাসিক, সাহিত্যিক, ছোটগল্প রচয়িতা এবং সাংবাদিক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে (জুলাই ২১, ১৮৯৯-জুলাই ২, ১৯৬১) মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৯৫৪ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন। ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম উপন্যাস 'দি সান অলসো রাইজেস' The Sun Also Rises প্রকাশিত হয়। ১৯৬১ সালে হেমিংওয়ে আত্মহত্যা করেন। হেমিংওয়ের সাহিত্যকর্মভিত্তিক চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে - A Farewell to Arms (starring গ্যারি কুপার), For Whom The Bell Tolls (starring গ্যারি কুপার and Ingrid Bergman), To Have and Have Not (starring Humphrey Bogart and Lauren Bacall), The Killers (starring Burt Lancaster) , The Snows of Kilimanjaro (starring Gregory Peck), A Farewell to Arms (starring Rock Hudson), The Sun Also Rises (starring Tyrone Power), The Old Man and The Sea (starring Spencer Tracy), Adventures of a Young Man, The Killers (starring Lee Marvin), For Whom The Bell Tolls, Islands in The Stream (starring George C. Scott), The Sun Also Rises,The Old Man and The Sea (starring Anthony Quinn), In Love and War (starring Chris O'Donnnell উল্লেখযোগ্য।

১০। ১৭৭৮ সালের এইদিন – ফরাসি দার্শনিক, সমাজবিদ, আলোকিত যুগের অন্যতম প্রবক্তা জঁ-জাক রুসো (২৮শে জুন, ১৭১২ – ২রা জুলাই, ১৭৭৮) মৃত্যুবরণ করেন। ১৭১২ সালের ২৮শে জুন জেনেভা প্রবাসী প্রোটেস্ট্যান্ট মতানুসারী এক ফরাসি পরিবারে রুসোর জন্মগ্রহণ করেন। রুসো বিভিন্ন বিষয়ে লিখেছেন। এগুলির মধ্যে আছে উপন্যাস, নাটক, রাষ্ট্রনীতি, সমাজনীতি, শিক্ষা, সংগীত, উদ্ভিদবিদ্যা প্রভৃতি বিষয়ক গ্রন্থ। তাঁর কয়েকটি বই বাংলায় অনুবাদ হয় । সেগুলি হল ঃ সামাজিক চুক্তি – অনুবাদ: ননীমাধব চৌধুরী , রুশোর সোসাল কন্ট্রাক্ট – অনুবাদ: সরদার ফজলুল করিম , মানব জাতির অসমতার উৎস এবং ভিত্তি – অনুবাদ: মোহাম্মদ হারুন উর রশিদ , আমি রুশো বলছি - অনুবাদ: সরদার ফজলুল করিম।

১১। ১৮৭৭ সালের এইদিন – নোবেল পুরস্কার বিজয়ী কবি এবং চিত্রকর, হেরমান হেস (জুলাই ২, ১৮৭৭ - আগস্ট ৯, ১৯৬২) জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পরবর্তিতে সুইজারল্যান্ডীয় নাগরিক হন। ১৯৪৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত সাহিত্যকর্মগুলির মধ্যে রয়েছে - স্টেপেনউলফ, সিদ্ধার্থ, এবং দ্য গ্লাস বীড গেইম (যেটি ম্যাজিস্টার লুডিনামেও পরিচিত)।১৯৬২ সালের ৯ আগস্ট হেরমান হেস মৃত্যুবরণ করেন।

১২। ১৫৬৬ সালের এইদিন – ফরাসি ভবিষ্যদ্বক্তা, জ্যোতিষী, লেখক এবং ঔষধ প্রস্তুতকারক ও চিকিৎসা সামগ্রী বিক্রেতা নস্ট্রাদামুস বা মিকেল দে নস্ট্রাদাম (১৪ই ডিসেম্বর বা ২১শে ডিসেম্বর ১৫০৩-২রা জুলাই ১৫৬৬) মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তাঁর লিখিত ভবিষ্যৎবাণীসমূহ প্রকাশনা করে বিশ্বব্যাপী বিখ্যাত হয়ে উঠেন। ১৪ই বা ২১শে ডিসেম্বর ১৫০৩ সালে তিনি দক্ষিণ ফ্রান্সের সেন্ট-রেমি-দে-প্রোভিন্সে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন।

১৩। ১৯০৬ সালের এইদিন - জার্মান-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী হান্স আলব্রেশ্‌ট বেটে (জুলাই ২, ১৯০৬ - মার্চ ৬,২০০৫) জার্মানির স্ট্রাসবুর্গে জন্মগ্রহণ করেন । তিনি ১৯৬৭ সালে নিউক্লীয় বিক্রিয়া সম্বন্ধে বিভিন্ন তত্ত্ব প্রদান ও গবেষণা, বিশেষত তারার অভ্যন্তরে শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া নির্ণয়ের জন্য তিনি পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। মার্চ ৬, ২০০৫ এ ৯৮ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির ইথাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি জার্মানী ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিকের অধিকারী ছিলেন । পারমানবিক পদার্থবিজ্ঞানী হিসাবে তিনি পরিচিতি লাভ করেন।

১৪। ১৯৯৪ সালের এইদিন - কলম্বিয়ার ফুটবল খেলোয়াড় এসকোবা একজন অস্ত্রধারীর গুলিতে গুলিতে নিহত হন । বিশ্ব কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া কলম্বিয়ার জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ২৭ বছর বয়সী এসকোবা গ্রুপ প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খেলার সময় নিজ দলের বিরুদ্ধে আত্মঘাতী গোল দিয়ে বসেন। ২ জুলাই ভোরবেলায় যখন তিনি একটি ক্লাব থেকে বের হন তখন তিনজন পুরুষ আর একজন নারী তার পথ অবরোধ করে। তাদের মধ্যে একজন এসকোবার গায়ে একটানা ১২ রাউন্ডগুলি ছুঁড়ে। এসকোবাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান।

১৫। ২০০৩ সালের এইদিন - নর্থইষ্ট ইলেক্ট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন (নিপকো) নামে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

১৬। ২০০৯ সালের এইদিন - দিল্লি হাইকোর্টের একটি রায়ে স্পষ্টত জানানো হয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সম্মতিক্রমে সমকামিতার আচরণ অপরাধের আওতায় পড়ে না। এই রায়ে আরো বলা হয়েছে যে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক অধিকার রক্ষা নীতির পরিপন্থী।

১৭। ১৯৭২ সালের এইদিন - ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো ঐতিহাসিক সিমলা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ চুক্তির উদ্দেশ্য হল, দু’দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণে সহযোগিতা করা।

১৮। ১৯৭৭ সালের এইদিন - পশ্চিমবঙ্গের সীমানার মধ্যেই দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চলকে স্বশাসিত অঞ্চল ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয় রাজ্য ক্যাবিনেটে।

১৯। ১৭৫৭ সালের এইদিন – নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে মীরনের আদেশে নিমক হারাম মোহাম্মদী বেগ জাফরাগঞ্জ প্রাসাদের একটি কক্ষে হত্যা করে।

২০। ১৯৬৭ সালের এইদিন - আদমশুমারী জালিয়াতির বিরুদ্ধে আসামের দাবী সপ্তাহ ১২ দিন দীর্ঘায়িত করা হয় এবং কাছাড় জেলার সর্বত্র পাবলিক সভা সমাবেশ করা হয় ।

২১। ১৯৬৪ সালের এইদিন - মার্কিন প্রেসিডেন্ট জনসেন নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত আইন স্বাক্ষর করেন । তখন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশী বিবেচিত নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত আইন আইনী রুপ লাভ করে। এটা হলো সুদীর্ঘকালসংগ্রামের পর মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গদের অর্জিত ফল।

২২। ১৯৪৬ সালের এইদিন - গণভোটের মাধ্যমে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হয়ে। ইটালি একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। ১৯৪৮ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে ইটালি প্রজাতন্ত্রের বর্তমান সংবিধানটি কার্যকর হয়।

২৩। ১৮৮৯ সালের এইদিন - ব্রাজিলে এক রক্তপাতহীন আন্দোলনের মাধ্যমে রাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটে এবং গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।

২৪। ১৫৯১ সালের এইদিন – বিখ্যাত ইতালীয় সংগীতজ্ঞ ভিনসেঞ্জো গ্যালিলি মৃত্যুবরণ করেন। বিজ্ঞানি গ্যালিলিও গ্যালিলির বাবা ছিলেন।

===============

রবিবার, ১ জুলাই, ২০১২

ইতিহাসে ১লা জুলাই


ইতিহাসে ১লা জুলাই
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------


*** আজ 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিন :
১৯২১ সালের এই দিনে - তৎকালীন পূর্ব বাংলার প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উহার একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে। তাই আজ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯১ তম জন্মদিন। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯১১ সালের বঙ্গভঙ্গ রদ পর্যন্ত বাংলায় বঙ্গভঙ্গের পক্ষে-বিপক্ষে যে আন্দোলন-সংগ্রামের সূচনা ঘটেছিল তার প্রেক্ষাপটে পূর্ব বাংলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা পায়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ যাবত্কাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনেক গৌরবজনক ভূমিকা পালন করে ইতিহাসে অনন্যসাধারণ বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে। বৃটিশ ভারতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে উপমহাদেশের অত্যন্ত কৃতবিদ্য অধ্যাপকগণ অধ্যাপনা করেছেন। দেশভাগের পরও এই ঐতিহ্যের ধারা অব্যাহত ছিল এবং কৃতী শিক্ষকদের সাহচর্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু ছাত্র-ছাত্রী পরবর্তীকালে দেশে-বিদেশে প্রভূত সুখ্যাতি অর্জন করেছেন। খ্যাতি অর্জন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে।

পূর্ববঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হল একটি মুসলমান মধ্যবিত্ত সমাজ সৃষ্টি করা। এই মুসলিম মধ্যবিত্ত সমাজই পরবর্তীতে পূর্ব বঙ্গের সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তনে নেতৃত্ব দান করে। বঙ্গভঙ্গের সময় থেকে পূর্ব বঙ্গে মুসলিম সমাজে যে নবজাগরণ শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তারই ফল। বাংলাদেশীদের আত্মপরিচয়, স্বকীয়তা নির্ধারণ, অত্যাচারীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধসহ সকল ক্রান্তিলগ্নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ, আশির দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন জাতির সকল চড়াই-উৎরাইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে আমাদের প্রিয় এই বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ নামে খ্যাত হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আবাসনব্যবস্থা।

১৯১২ সালের ২১ জানুয়ারি ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকা সফরে আসেন এবং ঘোষণা করেন যে, তিনি সরকারের কাছে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সুপারিশ করবেন। ১৯১২ সনের মে মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যারিস্টার রবার্ট নাথানের নেতৃত্বে নাথান কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির ২৫ টি সাবকমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে ভারত সরকার প্রস্তাবিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য রুপরেখা স্থির করে। ভারত সচিব ১৯১৩ সালে নাথান কমিটির রিপোর্ট অনুমোদন দেন। ১৯১৭ সালের মার্চ মাসে ইমপেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী সরকারের কাছে অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল পেশের আহ্ববান জানান। ১৯১৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর লর্ড চেমসজ ফোর্ড কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাসমূহ তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয প্রতিষ্টার ব্যাপারে তেরটি সুপারিশ করেছিল, এবং কিছু রদবদলসহ তা ১৯২০ সালের ভারতীয় আইন সভায় গৃহীত হয়। ভারতের তদানীন্তন গভর্ণর জেনারেল ১৯২০ সালের ২৩ মার্চ তাতে সম্মতি প্রদান করেন।

স্যাডলার কমিশনের অন্যতম সদস্য লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক রেজিস্টার পি. জে. হার্টগ ১৯২০ সালের ১ ডিসেম্বরঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ তার ঢাকা সফর শেষে কলকাতা প্রত্যাবর্তন করলে ১৯১২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ড. রাশবিহারী ঘোষের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল তার সাথে সাক্ষাৎ এবং ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধিতামূলক একটি স্মারকলিপি পেশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে বিরোধী ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় আর রাজনীতিক সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী। শেষ পর্যন্ত স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চারটি নতুন অধ্যাপক পদ সৃষ্টির বিনিময়ে তার বিরোধীতার অবসান করেছিলেন।

১৯১৯ সালের নতুন আইন অনুসারে বাংলার শিক্ষামন্ত্রী প্রভাসচন্দ্র মিত্র শিক্ষকদের বেতন কমানোর নির্দেশ দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয প্রতিষ্ঠার সময় রিজর্ভ ফান্ডে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা ছিল। বাংলা সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রদত্ত সরকারী ভবন বাবদ সেগুলো কেটে নেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রতিবছর মাত্র পাঁচ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় পূর্ব বঙ্গের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও শিক্ষাবিদ নানাপ্রকার প্রতিকুলতা অতিক্রম করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য ঢাকার নবাব নবাব স্যার সলিমুল্লাহ। কিন্তু, হঠাৎ করে ১৯১৫ সালে নবাব সলিমুল্লাহের মৃত্যু ঘটলে নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী শক্ত হাতে এই উদ্দ্যেগের হাল ধরেন। অন্যান্যদের মধ্যে আবুল কাশেম ফজলুল হক উল্লেখযোগ্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য পি. জে. হার্টগ তার কার্যভার গ্রহণ করেন। প্রস্তাবিত ঢাকা বিশ্ব্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে তাকে সাহায্য করেন মি. ডাব্লিউ হোরনেল, স্যার নীলরতন সরকার, স্যার আশুতোষ মুখপাধ্যায়, নবাব স্যার শামসুল হুদা ও নবাবজাদা খান বাহাদুর কে এম আফজাল। ১৯২১ সালে খান বাহাদুর নাজিরুদ্দীন আহমেদ প্রথম রেজিস্টার হিসেবে নিযুক্ত হন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম লাইব্রেরিয়ান হিসেবে নিয়োগ পান ঢাকা কলেজে সাবেক অধ্যক্ষ মি এফ সি টার্নার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের উপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়। ঢাকা সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শামসুল ওলামা আবু নছর ওয়াহিদ অস্থায়ীভাবে ঐ বিভাগের প্রধান হন। পরে ঐ পদে ১৯২৪ সালের ১ জুলাই ড. আবদুস সাত্তার সিদ্দিকী যোগদান করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম স্বতন্ত্র সংস্কৃত ও বাংলা বিভাগ খোলা হয়। সংস্কৃত ও বাংলা বিভাগের প্রথম অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন প্রখ্যাত প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ, বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন ‘বৌদ্ধ গান ও দোহা’র আবিস্কারক কলকাতা সংস্কৃত কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (সিআইই)। এ বিভাগের লেকচারার সাম্রাজ্যের প্রথম কমপারেটিভ ফিললজি বা তুলনামূলক ভাষাতত্ত্ব বিভাগের প্রথম ছাত্র ও এম এ রিসার্চ এসিসটেন্ট মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও বিশিষ্ট লিপি বিশারদ শ্রী রাধাগোবিন্দ বসাক। ইতিহাস বিভাগে যোগদান করেছিলেন ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার ও এ এফ রহমান। পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন বিভাগে উপমহাদেশের বিশিষ্ট বিজ্ঞানীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এদের মধ্যে সত্যেন্দ্রনাথ বসু, সুরেন্দ্রনাথ ঘোষের নামউল্লেখযোগ্য। রসায়ন বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম প্রধান ছিলেন ড. জ্ঞানচন্দ্র। অধ্যাপক নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত প্রথম আইন বিভাগের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান।

১৯২১ সালের ১জুলাই ২৮ জন কলা, ১৭ জন বিজ্ঞান এবং ১৫ জন আইনের শিক্ষক নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। ইংরেজী, সংস্কৃত ও বাংলা, আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ, ফার্সি ও উর্দু, ইতিহাস, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবজ্ঞান, দর্শন, অঙ্ক বা গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন আইন এবং শিক্ষা এই ১২ টি বিভাগ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করে। বিভিন্ন বিভাগের বিএ, বিএসসি ও অনার্স এবং এমএ ক্লাসে মোট ৮৭৭ জন ছাত্র নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোর্টের (বর্তমানে সিনেট) প্রথম বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয় । ১৯২১ সালের ১৭ আগস্ট অপরাহ্ন ৩.৩০ মিনিটে কোর্টহাউসে (পুরাতন গভর্ণর হাউস বা হাইকোর্ট ভবন)। প্রথম বার্ষিক অধিবেশনের মুলতবি সভা বসে ১৮ আগস্ট ১৯২১ সালে। এ সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিবেচনা করা হয়। এই আইনের খসড়া বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু হবার পূর্বেই রচনা করেছিলেন টার্নার, ল্যাংলি এবং জেনকিন্সজ সাহেব। কোর্টের এক বিশেষ সভায় (১০ সেপ্টেম্বর; ১৯২১) সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য। এই সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় “এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল” (বর্তমানে সিন্ডিকেট) গঠিত হবার কথা ঘোষিত হয়। এর দুই দিন পর ১২ সেপ্টেম্বর ফিনান্স কমিটি গঠন করা হয়। ১৯২১ সালে সেপ্টেম্বরে একাডেমিক কাউন্সিলের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।

১৯২২ সালের ৭ মার্চ একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে একজন সদস্য নির্বাচনের ব্যবস্থার জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব রাখা হয়। ১৯২৩ সালের ২৩ মার্চ একাডেমিক কাউন্সিল তিন বছরের অনার্স কোর্সের প্রথম চুড়ান্ত পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করে। ১৯২৩ সালের ১৭ আগস্ট একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মটো বা লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় Truth shall prevail অর্থাৎ সত্যের জয় সুনিশ্চিত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে শুরু থেকেই সুপরিকল্পিত ভাবে একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে কেন্দ্র করে তার পূর্ব পাশে অবস্থিত ঢাকা হল (বর্তমান শহীদুল্লাহ হল), লিটন হল, কার্জন হল, বিজ্ঞান ভবন সমূহ, ঢাকা হল এর পূর্ব পাশে বিরাট দীঘি, অপর পাশে ফজলুল হক মুসলিম হল। বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে প্রধান প্রবেশ পথ ছিলো ঢাকা হল (বর্তমান শহীদুল্লাহ হল)- এর দিক থেকে, মাঠে ঢুকতেই ডানে জিমনেসিয়াম আর বামে একটি পুকুর ; বিশ্ববিদ্যালয় মাঠটি ত্রিকোণাকৃতি এবং তাতে দুটি ফুটবল গ্রাউন্ড ছিলো। মাঠের উত্তর দক্ষিণ পূর্ব তিন দিক দিয়েই বৃক্ষশোভিত রাজপথ প্রসারিত ; বিশ্ববিদ্যালয় মাঠের দক্ষিণদিকের রাস্তাটি ইউকেলিপটাস শোভিত, যে রাস্তাটি মুসলিম হল পর্যন্ত সম্পরসারিত এবং মুসলিম হলের সামনে শিরিষ বা রেইনট্রি জাতীয় বৃক্ষ শোভিত; পুরাতন রেললাইনের সঙ্গে সমান্তরাল সাবেক পূর্ববাংলা ও আসাম সরকারের সেক্রেটারিয়েট ভবন, সামনে ইউকেলিপটাস শোভিত প্রশস্তরাজপথ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ময়দান। ঐ সেক্রেটারিয়েট ভবনের দোতলায় প্রথমে মুসলিম হল এবং একতলায় বিজ্ঞান ছাড়া অন্যান্য বিভাগ বিশেষত কলা অনুষদের বিভাগ এবং ক্লাশরুম প্রতিষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠের উত্তর দিকে প্রবাহিত রাজপথের পাশে ছিলো দুটি কি তিনটি বিরাট লাল ইটের দোতলা বাংলো, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকেরাই বাস করতেন। এ বাংলোগুলোর পেছনে রমনা রেসকোর্সের দিকে মুখ করে বর্ধমান হাউস ও তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক নিবাস।

১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছিল ঢাকা হল (পরে শহীদুল্লাহ হল), জগন্নাথ হল এবং মুসলিম হল (পরে সলিমুল্লাহমুসলিম হল) নিয়ে। প্রত্যেকটি হলকে চারটি হাউসে বিভক্ত করা হয়েছিল চারশত ছাত্রের জন্য আর প্রতি পঁচাত্তরজন ছাত্রের তত্ত্ববধানের জন্য একজন করে আবাসিক শিক্ষক বা হাউস টিউটরের ব্যবস্থা ছিল। হিন্দু ছাত্রদের জন্য জগন্নাথ হল, মুসলমান ছাত্রদের জন্য সলিমুল্লাহ মুসলিম হল আর সবধর্মের ছাত্রদের জন্য ঢাকা হল স্থাপিত হয়েছিল। ঢাকা হলের প্রথম প্রভোস্ট ছিলেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ এফ. সি. সি. টার্নার। শুরুতে একমাত্র ঢাকা হলেরই নিজস্ব ভবনে ছিল; কার্জন হল মিলনায়তনটি তার অধিকারভুক্ত ছিল সে কারণে একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের শিক্ষা বহির্ভূত সমাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে ঢাকা হল ছাত্র সংসদের ভূমিকা ছিল অগ্রগন্য। দেশ বিভাগের পর ঢাকা হলই ছিল প্রগতিশীল বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনের সূতিকাগার, ১৯৬৯ সালের গণআন্দলন মহান গণঅভ্যুত্থানে পরিনত হয়েছিল ঢাকা হলের প্রগতিশীল ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামানের শাহাদাতের বিনিময়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু মুসলিম ছাত্রদের জন্য স্থাপিত প্রথম হল “সলিমুল্লাহ মুসলিম হল”। এ হলের প্রথম প্রোভস্ট নিযুক্ত হন ইতিহাস বিভাগের রিডার স্যার এ এফ রাহমান। ১৯২৯ সালের ২২ আগস্ট বাংলার গভর্ণর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর স্যার স্ট্যানলিজ্যাকসন ঢাকার প্রয়াত নবাব বাহাদুর স্যার সলিমুল্লাহ্ এর নামানুসারে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের’ এর ভিত্তি প্রস্থর স্থাপনকরেন। ১৯৩১-৩২ শিক্ষাবর্ষে এর ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয় জগন্নাথ হলের নামকরণ হয় ঢাকার বলিয়াদির জমিদার কিশোরীলাল রায় চৌধুরীর দানে তার পিতা জগন্নাথ রায় চৌধুরীর নামে। জগন্নাথরায় চৌধুরীর নামেই ঢাকার জগন্নাথ কলেজের নামকরণ করা হয়েছিল। জগন্নাথ হলের প্রথম প্রভোস্ট ছিলের আইন বিভাগের প্রথম অধ্যাপক নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত।

১৯২১ সালে লীলা নাগ ইংরেজীতে এম এ ক্লাসে ভর্তি হন এবং ১৯২৩ সালের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এম এ ডিগ্রিধারী হিসেবে বের হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ছাত্রী সুষমা সেন গুপ্তা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম ছাত্রী ছিলেন গণিত বিভাগের ফজিলতুন্নেসা। ১৯২৬ সালের ২৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ নং বাংলো ‘চামেরি হাউস’-এ (বর্তমানে সিরডাপ ভবন) প্রথম উইমেনস হাউস প্রতিষ্ঠা করা হয়। উইমেনস হাউস মাত্র তিন জন ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে। মিসেস পি. নাগ এই হাউসের হাউস টিউটর নিযুক্ত হন। ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত উইমেনস হাউস চামেরি হাউসে ছিল পরে ১৯২৮ সালে তা ১০ নংবাংলোতে (বর্তমানে এস্থানে বিজ্ঞান গ্রন্থাগার অবস্থিত) স্থানান্তরিত হয়। ১৯৩৮ সালে মেয়েদের হোস্টেল পুনরায় চামেরি হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়।

১৯২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা আসেন এবং কার্জন হলে ১০ ফেব্রুয়ারি দি মিনিং অফ আর্ট এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি দি বিগ এ্যান্ড দি কমপ্লেক্স বিষয়ে বক্তৃতা প্রদান করেন। ১৯৩৫-৩৬ সালে শ্রীমতী করুণা কণা গুপ্তা ইতিহাস বিভাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা শিক্ষিকা হিসেবে নিযুক্ত হন (প্রতিষ্ঠার ১৪বছর পর)। মুসলিম হল ইউনিয়নের কক্ষে ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভপতিত্বে একসভায় ১৯২৫ সালের ১৯ জ়ানুয়ারি মুসলিম সাহিত্য সমাজ গঠিত হয়। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম সাহিত্য সমাজের প্রথম বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ১৯২৭ সালে। ১৯৩৬ সালে কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মুসলিম সাহিত্য সমাজের দশম ও শেষ অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন।

১৯৩৭ সালে প্রথম ছাত্রী সংসদ গঠিত। ১৯৪০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১,৫৬৯ আর ছাত্রী সংখ্যা ৯৬১৯৪০। মার্চে লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের পর মুসলমান সমাজের ছাত্রদের মধ্যে পাকিস্তান আন্দোলন সাড়া জাগায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলমান ছাত্রগণ এই প্রথম দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক আন্দোলনের সাথে সক্রিয় ভাবে যুক্ত হয়। ১৯৪৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের এক অনুষ্ঠানে সাজসজ্জার প্রতিবাদের মুসলমান ছাত্ররা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ফলে হিন্দু ও মুসলমান ছাত্রদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সংঘাত দেখা যায়। ১৯৪৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এরকম এক দাঙ্গায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন “পাক্ষিক পাকিস্তান” পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা মুসলিম লীগ ও সাহিত্য সংসদের কর্মী নজির আহমেদ। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় ক্যাম্পাসের অধিকাংশ ভবন সেনাবাহিনীর হুকুম দখলে চলে যায়। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংকুচিত হয়ে পড়ে ঢাকা হল (বর্তমান শহীদুল্লাহ হল), ফজলুল হক হল এবং কার্জন হল এলাকার ভবনগুলোতে।

১৯৪৬ থেকে ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে প্রগতি লেখক সংঘের কর্মকান্ড বিকশিত হয়। পাকিস্তানের গনপরিষদে বাংলা ভাষার স্থান না হওয়ায় ১৯৪৮ সালের১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সমাজ প্রতিবাদ সভা, সাধারণ ধর্মঘট ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ১৯৪৮ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে এক সভায় পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম সরকার বিরোধী সংগঠন ‘পূর্ব পাকিসতান মুসলীম ছাত্রলীগ’ গঠিত হয়। ১৯৪৮ এর ২৭ নভেম্বর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠে এক ছাত্র সভায় ভাষণ দেন। এই সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের তরফ থেকে বাংলা ভাষার দাবি পুনরায় উত্থাপন করা হয়। ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ইউনিয়নের বাৎসরিক নির্বাচনে ‘গনতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ গঠিত হয়।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল। একাত্তরে পাকিস্তান সশস্ত্রবাহিনী বাঙালি সৈনিক, বৈমানিক ও ছাত্রছাত্রীগনকে একই পর্যায়ভুক্ত করে আক্রমণ চালিয়েছিল। এই অপারেশনের নাম ছিল “অপারেশন সার্চ লাইট”। ১৮ নং পাঞ্জাব, ২২ নং বেলুচ এবং ৩২ নং পাঞ্জাব রেজিমেন্টের বিভিন্ন ব্যাটেলিয়ন নিয়ে গঠিত বিশেষ মোবাইল বাহিনী লেফটেনেন্ট কর্ণেল তাজের নেতৃত্বে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, ট্যাংক বিধ্বংসী বিকয়েললেস রাইফেল, রকেট লাঞ্চার, মর্টার, ভারি ও হাল্কা মেশিনগানে সজ্জিত হয়ে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ সকাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘেরাও করে আক্রমন, পাইকারি হত্যা, লুন্ঠন, অগ্নিসংযোগ এবং ধ্বংস যজ্ঞ চালায়। ঐ রাতে ছাত্র সহ প্রায় ৩০০ ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিহত হয়।

স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বপ্ন বাস্তবায়নের “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের’ যে অবদান অপর কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের একক অবদান তার সমকক্ষ নয়। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম উপাচার্য হন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. মোজাফফর আহমদ চৌধুরী। পদাধিকার বলে তিনি ছিলেন স্বাধীনতার পর ডাকসুর প্রথম সভাপতি। ১৯৭২ সালের ৬ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সফরে আসেন। গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৫ সালে জাতীয় অধ্যাপক পদ প্রচলন করে।

সম্পূর্ণ আশির দশক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অস্থিতিশীল ছিল। ১৯২১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ্যক্ট ১৯২০” দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। “The East Bengal Education Ordinance” এর বলে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভূক্ত ৫৫টি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী কলেজের মঞ্জুরি প্রদান ও তত্ত্বাবধানের কর্তৃত্ব লাভ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যার ফলে এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল, একাডেমক কাউন্সিল, ফ্যাকাল্টি ও কোর্ট পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণ করতে হয়, প্রথম শ্রেণীর কলেজ প্রিন্সিপালদের অর্ন্তভুক্ত করার জন্য। ১৯৬১ সালে পাকিস্তানের সামরিক সরকারের আজ্ঞাবহ পূর্ব পাকিস্তান সরকার “ঢাকা ইউনিভার্সিটি অর্ডিন্যান্স ১৯৬১” দ্বারা “ঢাকা ইউনিভার্সিটি এ্যক্ট ১৯২০” বাতিল করে। এ সময় এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের নাম সিন্ডিকেট এবং তা পদাধিকার বলে ও চ্যান্সেলরমনোনীত সদস্যদের নিয়ে গঠিত সর্বোচ্চ নির্বাহী পরিষদ হয়ে যায়। এই সময় থেকেই উপাচার্যের নিয়োগ কোর্টের পরিবর্তে সরকার দ্বারা করবার ব্যবস্থা করা হয়।

স্বাধীনতার পর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় আইনের খসড়া উপস্থাপন করেন। খসড়াটি প্রায় অপরিবর্তীত অবস্থায় ‘The Dacca University Order 1973’ নামে প্রধানমন্ত্রী শেখমুজিবের পরামর্শ ক্রমে রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৭৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অধ্যাদেশ জারি করেন। সেই থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এই আইন দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। ১৯৭৩ এর অর্ডিন্যান্স চালু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ নীল, সাদা ও গোলাপী এই তিন রঙের প্যানেলে বিভক্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বীকৃত পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান, এই সমিতির কর্মকর্তারাও প্রতি বছর নির্বাচিত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের সাথে সঙ্গতি রেখে ১৯৭৩-এর ১৩ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন গঠন করা হয় এবং প্রবীণ শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ এনামুল হককে তার চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়।

১৯৪০ সালের ১ জুলাই অবিভক্ত বাংলার তদানন্তন প্রধানমন্ত্রী এ. কে. ফজলুক হকের নামানুসারে “ফজলুল হক মুসলিম হল” প্রতিষ্ঠি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভবনের (বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ) যে অংশে সলিমুল্লাহ হলের বর্ধিতাংশ ছিল সেখানে ফজলুল হক যাত্রা শুরু করে। ১৯৪২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ভবনে সামরিক হাসপাতাল স্থাপিত হলে ১৯৪৩ সালে ফজলুল হক হল বর্তমান অবস্থানে স্থানান্তরিত হয়, পূর্বে যা ছিল ঢাকা ইন্টারমেডিয়েট কলেজ হোস্টেল। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ফজলুল হক হলের প্রথম প্রভোস্ট আর প্রথম দুইজন হাউস টিউটর কাজী মোতাহার হোসেন এবং আব্দুস সামাদ। (কৃতজ্ঞতা জানাই সুডো ব্লগের Saif_Shipon কে)।

*******************

*** 
খুলনার সরকারি বি এল কলেজের সরকারী করণ :
১৯৬৭ সালের এইদিনে খুলনার সরকারি বি এল কলেজকে সরকারি কলেজে রূপান্তর করা হয়। খুলনা শহরের দৌলতপুরে ভৈরব নদীর তীরে অবস্থিত এ কলেজটি দেশের অন্যতম একটি প্রধান কলেজ। ১৯০২ সালের জুলাই মাসে খুলনার শিক্ষানুরাগী শ্রী ব্রজলাল চক্রবর্তী (শাস্ত্রী) কলকাতার হিন্দু কলেজের আদলে ২ একর জায়গার উপর দৌলতপুর হিন্দু একাডেমি নামে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে হাজী মহম্মদ মহসীন ট্রাস্ট তার সৈয়দপুর এস্টেটের ৪০ একর জমি এই প্রতিষ্ঠানে দান করে এবং মাসিক ৫০ টাকা অনুদান বরাদ্দ করে। দুইটি টিনশেড ঘরে ১৯০২ সালের ২৭শে জুলাই থেকে প্রতিষ্ঠানটির ক্লাশ শুরু হয়। একটি বোর্ড অব ট্রাস্টির মাধ্যমে কলেজটি পরিচালনা করা হত যার সভাপতি ছিলেন শাস্ত্রী ব্রজলাল চক্রবর্তী। প্রথমদিকে সম্পূর্ণ আবাসিক এই প্রতিষ্ঠানটি 'চতুষ্পাঠী' এবং 'একাডেমি' নামে দুইটি শাখায় বিভক্ত ছিল। চতুষ্পাঠীর ছাত্রদের খাবার, পড়া এবং আবাসন খরচ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বহন করা হত।

১৯১০-১৯১১ সালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে প্রথম মুসলিম হোস্টেল নির্মিত হয়। মূল ভবনের বাইরে অবস্থিত এই মুসলিম হোস্টেলে আরবি এবং ফারসি ভাষার ক্লাশ নেওয়া হত। পরে তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফলজুল হকের নির্দেশে কলেজে প্রথম মুসলমান শিক্ষকও নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯০৭ সালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। কলেজটি পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আরো পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত হয় । বর্তমানে কলেজটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রয়েছে।

১৯৪৪ সালের ৮ই আগস্ট প্রতিষ্ঠাতা ব্রজলাল চক্রবর্তীর মৃত্যুর পরে কলেজের নামকরণ করা হয় ব্রজলাল হিন্দু একাডেমি। ১৯৪৬ সালে একাডেমিকে কলেজে উন্নীত করে ব্রজলাল কলেজ নাম দেয়া হয় এবং এর সংক্ষিপ্ত রূপ বি. এল. কলেজ ব্যবহার করা হয়। কলেজটিতে ১৭ টি বিষয়ে পাঠদান করা হয়। এর মধ্যে ১৫টি বিষয়ে অনার্স পর্যায়ে এবং ১৫টি বিষয়ে মাস্টার্স পর্যায়ে পাঠদান করা হয়। ১৯৯৬ সাল থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পাঠদান বন্ধ হলেও ২০১০ আবার উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পাঠদান শুরু হয়েছে। এখানে শিক্ষাকার্যক্রমের পাশাপাশি সুনামের সাথে সহ-শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। কলেজে ১৭টি বিষয়ের কোর্স পড়ানো হয়। বাংলা, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস, দর্শন, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রণিবিজ্ঞান এবং গণিত বিষয়ে অনার্স এবং মাস্টার্স কোর্স চালু আছে। এছাড়া, সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু আছে। সংস্কৃত বিষয়ে ডিগ্রি(পাস) কোর্স পর্যায়ে পড়ানো হয়। বর্তমানে কলেজটিতে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে এবং প্রায় দেড়শত শিক্ষক কর্মরত আছেন। (কলেজের ওয়ব সাইট (http://blcollege.edu.bd/) থেকে সংকলিত)

*******************

০১। ১৯০৩ সালের এইদিনে – স্বনামখ্যাত লেখক ও সুপ্রসিদ্ধ ঔপন্যাসিক আবুল ফজল অবিভক্ত ভারতের তৎকালীন বাংলা প্রদেশের চট্টগ্রাম জেলাধীন সাতকানিয়া থানার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম মৌলভী ফজলুর রহমান এবং মায়ের নাম গুলশান আরা।তিনি মূলত একজন চিন্তাশীল ও সমাজমনস্ক প্রবন্ধকার।” তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘চৌচির’ (১৯৩৪)। তাঁর অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে প্রদীপ ও পতঙ্গ (১৯৩৪), রাঙা প্রভাত (১৯৫৭), ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪) উল্লেখযোগ্য। উপন্যাস ছাড়াও সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় তার অবদান আছে। আবুল ফজলের কর্মজীবন শুরু হয় শিক্ষকতার মাধ্যমে। প্রথমে মাদ্রাসার শিক্ষক, পরে হন ইংরেজি ধারার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তারপর কলেজের প্রভাষক থেকে সর্বোচ্চ অধ্যাপক পদে অধিষ্ঠিত হয়ে অবসর গ্রহণ। ১৯৭৩ সালে তাঁকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিযুক্ত করা হয়েছিল। উপাচার্য পদ থেকে ১৯৭৫ সালে তিনি উন্নীত হন মন্ত্রীর মর্যাদায় শিক্ষা-উপদেষ্টা পদে। ১৯৬২ সালে তিনি বাংলা একাডেমী পদক পান। এ ছাড়া ১৯৬৬ সালে পান রাষ্ট্রপতি জাতীয় সাহিত্য পুরস্কার। ১৯৭৫ সালে তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয়। ১৯৭৮ সালে তিনি পান ‘সমকাল পুরস্কার’। এই কৃতী পুরুষ ১৯৮৩ সালের ৪ মে বুধবার ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

০২। ১৯০৭ সালের এইদিনে - রাজনীতিবিদ এবং লেখক আতাউর রহমান খান ঢাকা জেলার ধামরাইয়ের বালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগ গঠনের সময় তিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির (১৯৪৯ - ১৯৬৪) দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫৫ সালে পূর্ববঙ্গ পরিষদের সদস্যদের ভোটে গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। সদস্য থাকাকালীন আতাউর রহমান খান বিরোধী দলের নেতা এবং উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের মূখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৭৩ সালে ঢাকা-১৯ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঢাকা-২১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৪ সালের ৩০শে মার্চ প্রধানমন্ত্রী পদে নিযুক্ত হন। এ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন ১৯৮৫ সালের ১লা জানুয়ারি পর্যন্ত। তার রচিত গ্রন্থাবলীর মধ্যে ওজারতির দুই বছর, স্বৈরাচারের দশ বছর, প্রধান মন্ত্রিত্বের দশ মাস, অবরুদ্ধ নয় মাস উল্লেখযোগ্য ।

০৩। ২০০৭ সালের এইদিনে - ঢাকায় নিয়োজিত মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স গীতা পাসি একটি গোপন তারবার্তা পাঠান ওয়াশিংটনে। ৩০শে আগস্ট ২০১১ তা ফাঁস করে দেয় উইকিলিকস।

০৪। ২০০২ সালের এইদিনে - হেগে স্থায়ী International Criminal Court স্থাপন করা হয়।

০৫। ২০০২ সালের এইদিনে - বাশকিরিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি টিউপোলোভ টিইউ-১৫৪ ও ডিএইচএলের বোয়িং ৭৫৭-২৩এপিএফ কার্গো বিমানের সংঘর্ষে নিহত হন ৭১ জন।

০৬। ২০০১ সালের এইদিনে - বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮৭ কোটি ৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা ব্যয়ে তিস্তা সড়ক সেতুর ফলক উন্মোচন করেন । তিস্তা রেলসেতুর উপর সড়ক পথের চাপ কমানোর জন্য এই অঞ্চলের (রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট) মানুষের দীর্ঘদিনের দাবীর ফলশ্রুতিতে সেতুর ভাঁটিতে অনতিদূরে একটি পৃথক সড়ক সেতু নির্মাণের কাজ পূর্ববর্তী বি এন পি সরকারের আমলে ২০০৬ সালে শুরু করা হয়। ৭৫০.০০ মিটার দীর্ঘ ও ১২.১১ মিটার চওড়া এই সেতুটি নির্মাণের জন্য ৮৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। সরকার পরিবর্তনের কারণে এ সেতুটি নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যায়নি।

০৭। ১৯৯৭ সালের এইদিনে - ১৫৬ বছর ব্রিটেনের উপনিবেশ থাকার পর ব্রিটিশদের কাছ থেকে পুনরায় হংকংয়ের কর্তৃত্ব বুঝে নিয়েছিল চীন।

০৮। ১৯৮৯ সালের এইদিনে - নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ঢাকা থেকে ফরিদপুরে স্থানান্তরিত হয়। এ ইনস্টিটিউট প্রধানত বাংলাদেশের বন্যা নিয়ন্ত্রন, নদীর নাব্যতারক্ষা ও পাললিকীকরণ, সেচব্যবস্থা এবং নদীর তীর সংরক্ষণ কাজে জরিপ পরিচালনা ও ব্যবস্থা গ্রহণের কাজে নিয়োজিত। সংক্ষেপে এই সংস্থা আর আর পি (RRP=River Research Institute) নামে পরিচিত। ফরিদপুরে অবস্থিত এ সংস্থাটি ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং হাইড্রলিক রিসার্চ ল্যাবরেটরি-র সাথে একীভূত হয়ে ১৯৭৭ সালে ঢাকায় নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট রূপে আত্মপ্রকাশ করে। 

০৯। ১৯৮৪ সালের এইদিনে – নাড়াইল পূণাঙ্গ জেলা হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

১০। ১৯৮২ সালের এইদিনে - দেশের প্রথম গার্লস ক্যাডেট কলেজটি গড়ে তোলার দায়িত্ব দেয়া হয় অধ্যক্ষ করিম উদ্দিন আহমেদকে (কার্যকাল ১লা জুলাই, ১৯৮২-৩০শে মার্চ, ১৯৮৭)। আর এ অধ্যক্ষ্যের হাতেই 'ময়মনসিংহ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল ফর গার্লস' নামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ নামে দেশের প্রথম গার্লস ক্যাডেট হিসাবে রূপান্তরিত হয়। স্বাধীনতাপূর্ব সময়ে স্থাপিত ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ, মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ ও রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ এর সাফল্যের ফলশ্রুতিতে তৈরি হয় আরো ছয়টি ক্যাডেট কলেজ যার মাঝে ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ অন্যতম।

১১। ১৯৭৯ সালের এইদিনে - রংপুর ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ।

১২। ১৯৭৬ সালের এইদিনে - ওলন্দাজ ফুটবলার রুড ভ্যান নিস্টেল্‌রয়ি জন্মগ্রহণ করেন।

১৩। ১৯৭০ সালের এইদিনে - দক্ষিণ-পশ্চিম পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ বেলুচিস্তান (বেলুচি) প্রতিষ্ঠিত হয়। ভৌগোলিক দিক থেকে পাকিস্তানের বৃহত্তম এই প্রদেশটির আয়তন ৩,৪৭,১৯০ বর্গকিলোমিটার। বেলুচি জাতিরলোকদের নামে অঞ্চলটির নামকরণ করা হয়েছে। এর পশ্চিমে ইরান (ইরানি বেলুচিস্তান), উত্তরে আফগানিস্তানও পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চল, পূর্বে পাকিস্তানের পাঞ্জাব ওসিন্ধ প্রদেশ এবং দক্ষিণে আরব সাগর। সম্প্রতি বেলুচিস্তানের চাগাই জেলার রেকো-দিকশহরের কাছে বিশ্বের বৃহত্তম সোনা ও তামার মজুদ আবিষ্কৃত হয়েছে। বেলুচিস্তানের উত্তর-পূর্ব কোণায় অবস্থিত কুয়েতা শহর প্রদেশটির রাজধানী; এটি বেলুচিস্তানের বৃহত্তম ও সবচেয়ে জনবহুল শহর। বেলুচিস্তানে প্রায় ১ কোটি লোকের বাস। এখানকার প্রধান ভাষাসমূহ হচ্ছে - উর্দু (জাতীয়), বেলুচি (প্রাদেশিক),পশতু । প্রদেশের বেশির ভাগলোক ইসলাম ধর্মাবলম্বী। ১৮৫৪ ও ১৮৭৬ সালে চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতীয় সাম্রাজ্যের সাথে বেলুচিস্তানের বন্ধন সুদৃঢ় হয়। ১৮৭৭ সালে পাঁচটি জেলা নিয়ে ব্রিটিশ ভারতের বেলুচিস্তান প্রদেশ গঠন করা হয়। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হতে সম্মত হয়। ১৯৭০ সালে পশ্চিম পাকিস্তানকে নতুন করে চারটি প্রদেশে ভাগ করা হয়, এবং তখন থেকে বেলুচিস্তান পাকিস্তানের একটি প্রদেশ।

১৪। ১৯৬১ সালের এইদিনে - মার্কিন ক্রীড়াবিদ কার্ল লুইস জন্মগ্রহণ করেন।

১৫। ১৯৬১ সালের এইদিনে - যুক্তরাজ্যের প্রাক্তন যুবরাজ্ঞী প্রিন্সেস ডায়ানা জন্মগ্রহণ করেন।

১৬। ১৯৬০ সালের এইদিনে - বৃটিশ নিয়ন্ত্রিত সোমালিয়া ও ইতালি নিয়ন্ত্রিত সোমালিয়ার একীভূত হওয়ার মধ্য দিয়ে আফ্রিকার ঐ দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে।

১৭। ১৯৫৩ সালের এই দিনে – রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ।

১৮। ১৯৪৭ সালের এইদিনে - স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সদস্য, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য জাতীয় বীর আবদুল কুদ্দুস মাখন ব্রাক্ষণবাড়িয়া শহরের মৌড়াইল গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। ৪৭ বছর বয়সে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস জনিত জন্ডিস রোগে আক্রান্ত হয়ে লিভার সিরোসিসে ১০ই ফেব্রুয়ারি ১৯৯৪ ইং আমেরিকার ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। ১৮ইং ফেব্রুয়ারি ৯৪ ইং তাঁর লাশ ঢাকা বিমান বন্দরে পৌঁছলে তাঁর নিজ বাড়ি ব্রহ্মণবাড়িয়া শহরে হেলিকপ্টারযোগে আনা হয়। ১৫ই ফেব্রুয়ারি মিরপুর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা গোরস্থানে রাষ্ট্রীয় সম্মানে তাঁকে দাফন করা হয়।

১৯। ১৯৪৭ সালের এইদিনে - নিউ মেক্সিকোর শহর রজওয়েলের এক বিমান ঘাটির রাডারে রাত্রিতে একটি প্রচন্ড ঝড়ে এবং বজ্রপাতের সময় একটি অদ্ভুত ঘটনা ধরা পড়েছিল।

২০। ১৯৪৭ সালের এইদিনে - আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল বা ভান্ডারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৪৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর এ আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল বা ভান্ডার গঠন করা হয় । আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ৮৮০ কোটি ডলার নিয়ে কাজ শুরু করে।

২১। ১৯৪১ সালের এইদিনে – যশোরের সরকারী মাইকেল মধুসূদন কলেজে প্রথম ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি শুরু হয় ।

২২। ১৯৩৭ সালের এইদিনে - জার্মান চিন্তাবিদ ইউবট ক্যাপ্তান মার্টিন নায়মোলার ১ম বিশ্বযুদ্ধের নাজি শাষনের বিরুদ্ধে কথা বলার কারনে গ্রেপ্তার হন, কিন্তু আদালত তাকে হাল্কা সাজা দিয়ে ছেড়ে দিলে হিটলারের ব্যাক্তিগত আদেশে তাকে বন্দিশিবিরে আটকে রাখা হয় ২য় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যন্ত।

২৩। ১৯২৯ সালের এই দিনে – নিখিলবঙ্গ প্রজা সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয় ।

২৪। ১৯১৮ সংগ্রামী ইসলামী যোদ্ধা শেখ আহমেদ হোসাইন দীদাত (১লা জুলাই, ১৯১৮ – ৮ই আগষ্ট ২০০৫) এর জন্ম ভারতের গুজরাট প্রদেশের সুরাট জেলায়। ১৯৪২ সালে দীদাত তার প্রথম লেকচারটি দেন মাত্র পনরজন দর্শকের সামনে ডারবান মুভি থিয়েটার (আভালন সিনেমা হল) হলে যার বিষয় ছিলো “Muhammad(PBUH): Messenger of Peace”। তিনি তার সাথে বিতর্ক করার জন্য খোদ Pope John Paul-2 কে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করেন। কিন্তু মাননীয় পোপ মহোদয় একটি রুদ্ধদার বিতর্কের বাইরে অন্য কোন বিতর্কে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান। ১৯৫৮ সালে একজন মুসলিম দাতার অর্থ সাহায্যে As-Salaam Educational Institute নামের আরেকটি সংগঠন গড়ে তোলেন। এখান থেকে শেখ আহমেদ দীদাতের লেখা ২০ টি বইয়ের লক্ষ লক্ষ কপি সারা পৃথিবীতে বিনামূল্যে বিতরন করা হয়। তার বইগুলো আরবী, উর্দু, বাংলা, রাশিয়ান, চীনা, জাপানীজ, ফ্রেঞ্চ, মালয়, জুলুসহ আরো অসংখ্য ভাষায় অনূদিত হয়। ইসলামের দাওয়াতের কাজে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮৬ সালে বিখ্যাত কিং ফয়সাল এওয়ার্ডে ভূষিত হোন। তিনি সৌদী আরব, মিশর, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, সুইডেন, ডেনমার্ক, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া সহ অসংখ্য দেশ ভ্রমণ করে বক্তৃতা প্রদান করেন এবং বিভিন্ন খ্রীষ্টান পন্ডিতদের সাথে সরাসরি দর্শকদের উপস্থিতিতে বিতর্কে অংশ নেন। ২০০৫ সালের ৮ই আগষ্ট শেখ দীদাত তার নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। তাকে ভেরুলাম গোরস্থানে দাফন করা হয়।

২৫। ১৯০৭ সালের এইদিনে - মেহেরপুরের শিক্ষা বিস্তারের ইতিহাসে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব সাফদার আলী বিশ্বাস তৎকালীন অবিভক্ত নদীয়া জেলার মেহেরপুর মহাকুমার তেহট্ট থানার গরীবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এ জেলার শিক্ষা বিস্তারের ইতিহাসে ১৯৪০ সালের পরবর্তী তিন দশক পর্যন্ত এক স্বর্ণ সিঁড়ি প্রোথিত করে গেছেন সাফদার আলী বিশ্বাস। তাঁর চেয়েও অনেক শিক্ষাবিদ উচ্চ শিক্ষায় জ্ঞান অর্জন করে আজ পৃথিবীর বহু স্থানে অধিষ্ঠিত হয়েছেন ঠিকই। কিন্তু সাফদার আলী জীবনে নিজেই শিক্ষাবিদ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করনেনি- প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন শিক্ষা অর্জনের জন্য অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৮৩ সালের ৩০শে অক্টবর মেহেরপুরের শিক্ষা বিস্তারের এ ব্যক্তিত্ব ইন্তেকাল করেন।

২৬। ১৮৮৩ সালের এইদিনে – কোটচাঁদপুর পৌরসভা স্থাপিত হয় ।

২৭। ১৮৮২ সালের এইদিনে - পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের রূপকার ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় বর্তমানে বিহার রাজ্যের অন্তর্গত পাটনার বাঁকিপুরে জন্মগ্রহণ করেন। এবং ১৯৬২ সালের এইদিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জন্ম ও মৃত্যু একই দিন (১লা জুলাই) হওয়ায় ভারতে এ দিনটিকে "চিকিৎসক দিবস" হিসাবে পালন করা হয়। মৃত্যুর পর তাঁর সম্মানে কলকাতার উপনগরী সল্টলেকের নামকরণ করা হয় বিধাননগর। ১৯৪৮ সালের ১৪ই জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের আইন সভার সদস্যগণ একবাক্যে তাঁকে দলনেতা নির্বাচন করলে সমস্যাকন্টকিত ভূমিখন্ডকে নবরূপ রূপায়ণকল্পে দায়িত্বপূর্ণ মুখ্যমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করেন(পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী)। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দলের প্রতিনিধিত্বে তাঁর ঐকান্তিক ইচ্ছায় গড়ে উঠল রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়, বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ, পুরুলিয়া , রহড়া, নরেন্দ্রপুরে প্রাচীন ভারতীয় আদর্শে আশ্রমিক পরিবেশে রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয় । মৃত্যুকাল অবধি ১৪ বছর তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।

২৮। ১৮৬৭ সালের এইদিনে - মৈত্রিতার মধ্য দিয়ে চারটি স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ নিয়ে দেশ হিসেবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র কানাডা গঠন করা হয়। ১৯৮২ সালে জারীকৃত কানাডা অ্যাক্ট অনুসারে, দশটি প্রদেশ এবং তিনটি অঞ্চল নিয়ে গঠিত কানাডা সংসদীয় গণতন্ত্র এবং আইনগত রাজ্যতন্ত্র উভয়ই মেনে চলে। রাষ্ট্রের প্রধানরাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। কানাডা দ্বিভাষিক (ইংরেজি ও ফরাসি ভাষা দুটোই সরকারী ভাষা) এবং বহুকৃষ্টির দেশ। "কানাডা" নামটি সম্ভবত এসেছে সেন্ট লরেন্স ইরোকোয়াইয়ান (St. Lawrence Iroquoian) শব্দ "কানাটা" (kanata) থেকে, যার অর্থ "জেলেদের ক্ষুদ্র গ্রাম", "গ্রাম", অথবা "বসতি"। ১৫৩৫ সালের দিকে, বর্তমান ক্যুবেক শহরের বসবাসকারীরা অভিযাত্রী জ্যাক কার্তিয়ারকে (Jacques Cartier) স্টেইডাকোনা (Stadacona) গ্রামের দিকে পথনির্দশনের সুবিধার্থে শব্দটি ব্যবহার করেছিল । কার্তিয়ার 'কানাডা' শব্দটি ব্যবহার করেছিল শুধুমাত্র গ্রামটি চিহ্নিত করতেই নয়, বরং গ্রাম্য-প্রধান ডোন্নাকোনা (Donnacona) সম্পর্কিত সব কিছু নির্দেশ করতে। ১৫৪৫ সাল নাগাদ, ইউরোপের বই এবং মানচিত্রে এই অঞ্চলকে "কানাডা" হিসেবে নির্দেশিত করা শুরু হয়। কানাডা অ্যাক্ট ১৯৮২ অনুসারে, "কানাডা"ই একমাত্র আইনগত এবং দ্বিভাষিক নাম। ১৯৮২ সালের সরকারী ছুটি 'ডোমিনিয়ান ডে' কে পরিবর্তন করে 'কানাডা ডে' করা হয়। সেই থেকেই অদ্যোবধি আজকের দিনটিকে 'কানাডা ডে' হিসাবে পালন করে আসছে কানাডাবাসীরা ।

২৯। ১৮৬২ সালের এইদিনে - কলিকাতা হাইকোর্টের প্রতিষ্ঠিত হয় ।

৩০। ১৬৪৬ সালের এইদিনে - জার্মান দার্শনিক এবং গণিতবিদ গট্‌ফ্রিড লিবনিত্স জন্মগ্রহণ করেন।
==============

শনিবার, ৩০ জুন, ২০১২

ইতিহাসে ৩০শে জুন


ইতিহাসে ৩০শে জুন
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
--------------------

*** ১৯৪৩ সালের এই দিনে - লেখক, কবি ও সমাজবিজ্ঞানী আহমদ ছফা (জুন ৩০, ১৯৪৩ - জুলাই ২৮ , ২০০১) চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর পিতা মরহুম হেদায়েত আলী ওরফে ধন মিয়া। মা মরহুমা আসিয়া খাতুন। দুই ভাই চার বোনের মধ্যে আহমদ ছফা ছিলেন বাবা-মার দ্বিতীয় সন্তান।
আহমদ ছফার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয় তাঁর পিতার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ গাছবাড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে নিজের গ্রামের নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন।১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম নাজিরহাট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন ; একই বৎসরে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে। ১৯৬৭খ্রিস্টাব্দে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজ থেকে প্রাইভেটে পরীক্ষা দিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীতে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
আহমদ ছফার প্রথম গ্রন্থ একটি উপন্যাস- সূর্য তুমি সাথী। প্রকাশিত হয় এ সালেই। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে এমএ পরীক্ষা দেয়ার আগেই বাংলা একাডেমীর পিএইচডি গবেষণা বৃত্তির জন্য আবেদন করেন এবং তিন বছরের ফেলোশিপ প্রোগ্রামের জন্য মনোনীত হন। গবেষণার বিষয় ছিল ‘১৮০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার মধ্যবিত্তশ্রেণীর উদ্ভব, বিকাশ, এবং বাংলার সাহিত্য-সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে তার প্রভাব’। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে পিএইচডি অভিসন্দর্ভের জন্য জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের সান্নিধ্যে আসেন। দীর্ঘকাল তাঁদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকে। মহাকবি গ্যোতের ফাউস্ট অনুবাদ শুরু করেন এ সালেই। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে প্রাইভেটে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ পরীক্ষা দেন। মৌখিক পরীক্ষা হয় একুশে মার্চ।
পিএইচডি সম্পন্ন করা পরে আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ছাত্রাবস্থায় সুধাংশু বিমল দত্তের মাধ্যমে কৃষক সমিতি-ন্যাপ বা তৎকালীন গোপন কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত হন। মাস্টারদা সূর্যসেনের বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁরা কয়েকজন বন্ধু মিলে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইন উপড়ে ফেলেন। পরে গ্রেপ্তার এড়াতে কিছুকাল পার্বত্য চট্টগ্রামে আত্মগোপন করেন। ১৯৭১ সালে ‘লেখক সংগ্রাম শিবির’ গঠন ও এর বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় অংশ নেন। সাতই মার্চ ‘স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পত্রিকা’ হিসেবে প্রতিরোধ প্রকাশ করেন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম গ্রন্থ হিসেবে মুক্তধারা থেকে প্রকাশ পায় তাঁর প্রবন্ধ গ্রন্থ “ জাগ্রত বাংলাদেশ”। প্রকাশকাল শ্রাবণ ১৩৭৮ বা জুলাই ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এপ্রিল মাসে তিনি কলকাতা চলে যান। মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে সেখান থেকে দাবানল নামের পত্রিকা সম্পাদনা করেন। দেশ স্বাধীন হবার পর বাংলাদেশে ফিরে লেখালেখি করতে থাকেন। ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে দৈনিক গণকণ্ঠ ধারাবাহিকভাবে ‘বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস’ রচনা প্রকাশ করেন। এর কারণে তৎকালীন সরকারের রোষে পড়তে হয় তাঁকে। ১৯৭৯ সালে ‘সিপাহী বিদ্রোহের ইতিহাস’ গ্রন্থ প্রকাশ পায়। ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে দৈনিক ইত্তেফাকের সাংবাদিক নাজিমুদ্দিন মোস্তানের সহায়তায় কাঁটাবন বস্তিতে ‘শিল্পী সুলতান কর্ম ও শিক্ষাকেন্দ্র’ চালু করেন। এ সালেই ইতিহাস পরিষদ পুরস্কার গ্রহণ করেছেন বলে জানা যায়। বাংলা একাডেমী থেকে বাঙালি মুসলমানের মন প্রবন্ধগ্রন্থ প্রকাশ পায় ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে।
পরে ১৯৮৬-তে জার্মান ভাষার ওপর গ্যোটে ইনস্টিটিউটের ডিপ্লোমা ডিগ্রিও লাভ করেন তিনি, যে জ্ঞান তাঁকে পরবর্তী সময়ে গ্যাটের অমর সাহিত্যকর্ম ফাউস্ট অনুবাদে সাহস জুগিয়েছিল। মুক্তধারা থেকে ফাউস্টের অনুবাদ বের হয় এ সালেই। ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস অলাতচক্র। স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতির গোপন-রহস্য, শৌর্য মৃত্যু ও কপটতার গীতিকা এই উপন্যাস। ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গপুরাণ এবং অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী প্রকাশিত হয়। ‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী’ পূর্বে একটা সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রাণপূর্ণিমার চান নামে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছিল। জাপানী ভাষায় পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গপুরাণউপন্যাসের অনুবাদ প্রকাশ পায় ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে । পুষ্প, বৃক্ষ, বিহঙ্গ ঘুরে সুশীল সমাজের ব্যবচ্ছেদ হয়েছে তাঁর এই উপন্যাসে। বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ও সমসাময়িক কালের বিশিষ্ট পণ্ডিত অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের প্রসঙ্গে রচিত যদ্যপি আমার গুরু প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে।
২০০১ সালের আহমদ ছফা রচনাবলি দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশ পায়। তাঁর জীবদ্দশায় আহমদ ছফা রচনাবলি প্রকাশ শুরু হয়। ২০০১ খ্রিস্টাব্দের আটাশে জুলাই অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে নেয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে জানাজা শেষে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবি গোরস্থানে তাঁর দাফন হয়। তাঁকে ২০০২ খ্রিস্টাব্দে সাহিত্যে (মরণোত্তর) একুশে পদক প্রদান করা হয় । তিনি জীবদ্ধশায় প্রথাবিরোধী, নিমোর্হ, অকপট দৃষ্টিভঙ্গীর জন্য বুদ্ধিজীবি মহলে বিশেষ আলোচিত ছিলেন। তিনি লেখক শিবির পুরস্কার ও বাংলা একাডেমী কর্তৃক সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তাঁর লেখায় বাংলাদেশী জাতিসত্তার পরিচয় নির্ধারণ প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি শাখায় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। গল্প , গান , উপন্যাস , কবিতা , প্রবন্ধ , অনুবাদ ,ইতিহাস , ভ্রমণকাহিনী মিলিয়ে তিরিশটির অধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। জীবিত থাকাকালীন আহমদ ছফা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় কলাম লেখা অব্যাহত রেখেছেন। তাঁর রচনাবলীর মধ্যে  :
প্রবন্ধ - জাগ্রত বাংলাদেশ, বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস, বাংলা ভাষা : রাজনীতির আলোকে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক জটিলতা, বাঙালি মুসলমানের মন, শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য প্রবন্ধ, Aspect of Social Harmony in Bangla Culture and Peace Song, রাজনীতির লেখা, আনুপূর্বিক তসলিমা ও অন্যান্য স্পর্শকাতর প্রসঙ্গ, নিকট ও দূরের প্রসঙ্গ, সঙ্কটের নানা চেহারা, সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস, শরবর্ষের ফেরারী: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শান্তিচুক্তি ও নির্বাচিত প্রবন্ধ, বাঙালি জাতি এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র, উপলক্ষের লেখা, আমার কথা ও অন্যান্য প্রবন্ধ, সেইসব লেখা। 
অনুবাদ - তানিয়া (মূল: পি. লিডভ), সংশয়ী রচনা: বার্টাণ্ড রাসেল, ফাউস্ট (মূল: ইয়োহান ভোলফ্‌ গাঙ ফন গ্যোতে)।
কবিতা - জল্লাদ সময়, দুঃখের দিনের দোহা, একটি প্রবীণ বটের কাছে প্রার্থনা, লেনিন ঘুমোবে এবার।
উপন্যাস - সূর্য তুমি সাথী, ওংকার, একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন, মরণবিলাস, অলাতচক্র, গাভী বিত্তান্ত, অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী, পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ।
গল্পসংগ্রহ - নিহত নক্ষত্র।
ইতিহাসগ্রন্থ - সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।
সৃজনশীল জীবনী - যদ্যপি আমার গুরু।
কিশোর গল্প - দোলো আমার কনকচাঁপা।
শিশুতোষ ছড়াগ্রন্থ - গো-হাকিম।
******************

*** ১৮৫৫ সালের এই দিনে - অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসক এবং শোষক জমিদার ও মহাজনদের বিরুদ্ধে সান্তালদের গণ আন্দোলন শুরু হয়েছিল । দামিন-ই-কো বা সাঁওতাল পরগানা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে জেগে উঠেছিল (চিত্তপ্রসাদের তুলিতে সাঁওতাল পরগানা মুর্শিদাবাদ আর বিহারের ভাগলপুরের মাঝখানের অঞ্চল)। ১৮৫৫ সালের এদিন সিধুঁ-কানহু নামক দুই সাঁওতাল সহোদর জীবন দিয়ে গড়ে তোলেন সাঁওতাল বিদ্রোহ, যা ইতিহাসে ব্রিটিশ রাজের সিংহাসন-কাঁপানো ‘সান্তাল হুল’ নামে পরিচিত। এ জন্য এ দিবসটিকে সাঁওতাল বিদ্রোহী দিবস হিসাবে পরিগণিত করা হয় । ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন এ যুদ্ধ শুরু হয় এবং ১৮৫৬ সালের নভেম্বর মাসে তা শেষ হয়।
সাওতাঁলরা তীর-ধনুক ও দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করলেও ইংরেজ বাহিনীর হাতে ছিলো বন্দুক ও কামান। তারা ঘোড়া ও হাতি যুদ্ধে ব্যবহার করেছিল। এ যুদ্ধে ইংরেজ সৈন্যসহ প্রায় ১০ হাজার সাঁওতাল যোদ্ধা শাহাদত বরণ করেন। যুদ্ধে সিদ-কানহু-চান্দ ও ভাইরব পর্যায়ক্রমে নিহত হলে যুদ্ধ শেষ হয় ও বিদ্রোহের পরিসমাপ্তি ঘটে। সাঁওতাল বিদ্রোহের লেলিহান শিখা বৃটিশ সরকারের মসনদ কাঁপিয়ে দিয়েছিল।
ইতিহাসবিদদের মতে সাঁওতাল জাতির ইতিহাসে সিধো-কানুর নেতৃত্বে সাঁওতাল যুদ্ধই ছিলো সর্বাধিক বৃহত্তম এবং গৌরবের বিষয়। তাদের এই বিদ্রোহই ভারতবর্ষে স্বাধীনতার বীজ বপন করে গিয়েছিল। এই যুদ্ধের ফলাফল হলো এই যে, ইংরেজ সরকার সাঁওতালদের অভিযোগ সম্পর্কে তদন্তের ব্যবস্থা করলেন। ম্যাজিট্রেট এডন সাহেব সাঁওতালদের আবেদন শুনলেন। যুদ্ধের পরে সাঁওতালদের সমস্যা বিবেচনা করে আদিবাসী সাঁওতালদের জন্য একটি জেলা বরাদ্দ করা হলো। এই জেলার নাম হলো ডুমকা। এটাই সাঁওতাল পরগনা নামে পরিচিত।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সাঁওতালরা সরাসরি সম্মুখ সমরে বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। স্বাধীন দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও রয়েছে তাঁদের সক্রিয় অবদান। আদিবাসীরা সহজ সরল জাতি। তারা দিনে আনে দিনে খায়। ইতিহাস আর ঐতিহ্য নিয়ে সময় ব্যয় করার সময় মোটেও তাদের নেই। তাই সাস্তাল হুলের মর্মকথা আজও তারা জানে না।
আদিবাসীরা লড়াকু জাতী। জীবণ সংগ্রামই তাদের চলার পথের পাথেয়। তাই আর থেমে থাকা নয়। সান্তাল হুলের মাধ্যমে ভারতে বসবাসরত আদিবাসীরা স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেলেও বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত প্রায় ২৫ লক্ষাধিক আদিবাসীকে তাদের অস্তিত্বের জন্য লড়াই করতে হয়েছে। আজ থেকে ১৫৬ বছর আগে যে কারণে সিদ-কানহুকে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে হয়েছিল সেই একই কারণে আজো বাংলাদেশের আদিবাসীদের রাস্তায় নামতে হচ্ছে।
আজ সান্তাল হুলের দিবস। সান্তাল বর্তমানে সাঁওতাল নামে পরিচিত। 'হুল' আদিবাসী সান্তাল ভাষার শব্দ। এর বাংলা আভিধানিক অর্থ হলো বিদ্রোহ বা সংগ্রাম বা যুদ্ধ। আজ থেকে ১৫৬ বছর আগে সান্তালরা যুদ্ধ করেছিল তাদের অধিকার আদায়ের জন্য। তারা এ যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল ইংরেজদের শাসন-শোষণ, সুদখোর, মহাজন ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। এ বিদ্রোহের মহানায়ক চার ভাই সিদ-কানহু-চান্দ ও ভাইরোকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ভাবে কোন উদ্যোগ না থাকলেও বিভিন্ন বে-সরকারী সংগঠন ও আদিবাসী নেতৃবৃন্দ আজ থেকে শুরু করবে কয়েকদিন ব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী।
এ যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল বৃটিশ সৈন্য ও তাদের দোসর অসৎ ব্যবসায়ী, মুনাফাখোর ও মহাজনদের অত্যাচার, নীপিড়ন ও নির্যাতনের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করা এবং একটি স্বাধীন সার্বভৌমত্ব সান্তাল রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা। সান্তাল হুলের ইতিহাস হতে জানা যায় দামিন-ই কোহ ছিল সাঁওতালদের নিজস্ব গ্রাম, নিজস্ব দেশ। বহু কষ্ট করে জঙ্গল কেটে বন সাফ করে তারা তাদের জনপদ গড়ে তুলেছিল। অতীতে যে মাটিতে কোন মানুষের পা পড়েনি, সে মাটিকে তারা বাসযোগ্য করে গড়ে তুলেছিল আর সে মাটিতে ফলিয়েছিল ধান, ভুট্টা, নানা ধরণের সব্জি আর সোনালী ফসল। সুখে ছিল তারা দামিন-ই কোহতে। নিজেদের আলাদা একটি জগত তৈরী করেছিল তারা। সে জগতে কোন মহাজন, দালাল, জমিদার ছিলনা। কেউ ঋণী ছিলনা তখন।
কিন্ত তাদের এ শান্তির জনপদ কিছুদিন পর শান্তিতে থাকতে পারেনি । বণিকের দল ছিনিয়ে নেয় তাদের শান্তির সেই জনপদ । একে একে তাদের সকল অধিকার যখন এইসব বণিকের দল কেড়ে নিতে থাকে , তখন তাদের মনে জেগে উঠে বিদ্রোহের দাবানল।
নিরীহ ও শান্তি প্রিয় সান্তাল আদিবাসিরা ভারত বর্ষে জেগে উঠেছিল প্রতিবাদের দাবানল বুকে নিয়ে। বর্তমান সাঁওতালদের দেখে অনুমান করাই দুঃসাধ্য যে এ সান্তালরা একদিন ইংরেজ শাসকদের কঠিন বুকে কাপন ধরিয়ে দিয়েছিল । ক্রমাগত শোষন, বঞ্চানা, নির্যাতন, দাসত্ব এবং নারীদের অবমানোনা যখন ধৈর্যের বাধ ভেঙে দেয় তখন সাঁওতাল বিদ্রোহী দিবসে বিশেষ র‌্যালি এবং সাঁওতাল কৃষ্টিতে মহিলাদের নৃত্যের একাংশ শান্তিপ্রিয় সান্তালদের মধ্যে ক্ষোভের দাবানল জ্বলে উঠে এবং প্রতিবাদের ঝড় উঠে ।
সাঁওতালরা পূর্বভারত ও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আদিবাসী গোষ্ঠীগুলির একটি। তারা অস্ট্রো-এশিয়াটিক ভাষাগোষ্ঠির অন্তর্গত একটি ভাষা সাঁওতালী ভাষায় কথা বলে । সাঁওতালরা দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চলে বাস করে। দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট , ফুলবাড়ি, চিরিরবন্দর , কাহারোল এবং রংপুর জেলার পীরগঞ্জে সাঁওতালরা অধিক সংখ্যায় বাস করে। রাজশাহী এবং বগুড়া অঞ্চলে কিছু সংখ্যক সাঁওতাল আছে। প্রাচনিকাল থেকেই সাঁওতালরা এদেশে বসবাস করে আসছে। এরা মোট ১২ টি গোত্রে বিভক্ত সাঁওতালী ভাষায় এ গোত্র গুলো ‘পারিস‘ নামে অভিহিত যেমন - হাঁসদা, সরেন,টুডু, কিসকু, র্মুমু, মার্ড়ী, বাস্কে, ইত্যাদি ।
সাঁওতালরা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে ভালো বাসে। সাঁওতাল নারীরা খোপায় ফুল গুজতে ভালোবাসে। ভাত সাঁওতালদের প্রধান খাদ্য। মাছ. কাঁকড়া , শুকর, মোরগ, মুরগি, বন জঙগলের পশু পাখি ও খরগোস গুইসাপ , ইঁদুর বিইজির মাংস এদের খুবই প্রিয় খাবার ।সাঁওতালরা কৃষিকাজের যন্তপাতি নিজেরা তৈরি করে। শিকার করার ব্যাপারে এদের উৎসাহ খুব বেশি। সা৭ওতালরা খুব আনন্দ প্রিয় মানুষ । বিভিন্ন পূজার্পাবণ ও সামাজিক উৎসবে এরা নাচ গানে মেতে ওঠে । এরা নিজস্ব সামাজিক রীতিনীতি মেনে চলে । এদের জীবন যাপন সহজ ও সরল । শিল্পকলার প্রতিও এদের আগ্রহ রয়েছে। এরা তথা উপজাতিরাও বাংলাদেশের নাগরিক। তাই তাদের সামাজিক রীতিনীতি ও আচর আচরণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। তাদের দিকে বিশেষ দষ্টি নয় প্রত্যেক নাগরিক ও নাগরিক অধিকারের দিকে যেভাবে দৃষ্টি দেয়া হয় সেভাবেই এদের দিকে দৃষ্টি দিলে গড়ে উঠবে বন্ধুত্বপূর্ণ সর্ম্পক। থাকবেনা নাগরিক ভেদাভেদ।

***********************************
০১। ২০১১ সালের এইদিনে - বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ হয়। কমিউনিস্ট মতাদর্শের সংসদ সদস্যগণ দোদুল্যমান অবস্থার দোলাচলে অবশেষে চাপে পড়ে এ সংশোধনী পাশে ভোট দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা নিজেদের কাঁধে দায়িত্ব নিয়ে, এই সফল ভোট পর্ব সমাধা করেছিলেন। যিনি এই আইনের রচয়িতা, তথা মাননীয় আইনমন্ত্রী পক্ষে-বিপক্ষে কোথাও ভোট না দিয়ে, নীরবে ভোট পর্ব পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস বাদ দিয়ে তদস্থলে ধর্মনিরপেক্ষতাকে বহাল করার জন্য স্পীকার প্রধানমন্ত্রীকে কিছু বলার জন্য অনুরোধ করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস বাদ দিয়ে তদস্থলে ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদকে বহাল করতে পারার জন্য, সর্ব প্রথমেই আল্লাহর শোকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে পবিত্র কোরআনের সূরা আল ইমরানের ২৬ নং আয়াত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে উপদেশও দিয়েছলেন এদিন।এ সংশোধনীর মাধ্যমেই সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। নারী অধিকার আইন রূপে কোরআন বিরোধী আইনের প্রবর্তন করা হয় ।
০২। ২০১১ সালের এইদিনে - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আবেদ খান কালের কণ্ঠ থেকে পদত্যাগ করেন ।
০৩। ২০০৯ সালের এইদিনে - সমাপ্ত হয়েছে গ্রামীণ মহিলা উন্নয়ন প্রকল্প । প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে গৃহীত কার্যক্রম সমূহের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সরকারী নীতি, আদর্শ, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন কর্মকান্ডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে জুলাই ২০০৪ সাল থেকে জুন ২০০৯ মেয়াদে ১০১৭.৮৪ লক্ষ টাকা ব্যয় সম্বলিত একটি প্রকল্প হিসেবে গ্রামীণ মহিলা উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ দুঃস্থ ও বেকার মহিলাদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে বিভিন্ন কৃষি ও অকৃষি ট্রেডে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ শেষে আয়বর্ধক কর্মসূচী গ্রহণের মাধ্যমে আত্বকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানের সংস্থান রাখা হয়েছিল। ১৩০টি উপজেলায় প্রকল্পের কর্মসূচীর আওতায় প্রকল্প মেয়াদকালে উপরোক্ত বিষয়ে জুন/২০০৯ পর্যন্ত ৫৪৬০০ জন মহিলাকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে এবং ৩২৪৭ জন মহিলাকে ২১৫.৭৪ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়েছিল।
০৪। ২০০৮ সালের এইদিনে - র‌্যাব সাইকি ভবনের মালিক পীরজাদা, মহাগুরু, জ্যোতিষ সম্রাট আর ভণ্ড বাবা ড. জীবন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে । জীবনের আখড়াসাইকি ভবন থেকে উদ্ধার করা হয় নানা ধরনের গোলক, বিভিন্ন রঙের পাথর, ছদ্মবেশ ধরার কাজে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের আলখাল্লা, মাদকদ্রব্য। সেই সঙ্গে জীবন চৌধুরীর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার করা হয় অর্ধশতাধিক পর্নো ভিডিও। যেগুলোতে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে যৌনকাজে লিপ্ত দেখা যায় জীবন চৌধুরীকে। পরে র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জীবন স্বীকার করে, যেসব নারীর বাচ্চা হয় না বা বন্ধ্যাত্বের সমস্যা নিয়ে তার কাছে আসতো তাদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতেন তিনি। এতে অনেকে গর্ভবতী হয়ে যেতো।
০৫। ২০০৪ সালের এইদিনে - গণপূর্ত অধিদপ্তর মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে। এতে ব্যয় হয় ২ কোটি ৪৮ লক্ষ ৩ হাজার টাকা । বাংলা গদ্যসাহিত্যের বিশেষ করে মুসলিম সাহিত্যিকদের প্রথম এবং প্রধান প্রাণপুরুষ মীর মশাররফ হোসেনের কবর সংলগ্ন ভূমিতে (রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানার অন্তর্গত পদমদী গ্রামে) তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাঁর জীবন ও কর্মের উপর গবেষণা পরিচালনার সুযোগ সুবিধাসহ স্মৃতিকেন্দ্র হিসাবে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৯৭ সালের ৩০শে অক্টোবর পরিকল্পনা কমিশনের প্রি-একনেক সভায় প্রকল্প সারপত্র অনুমোদিত হয়। পরবর্তীকালে ২০০০ সালের ২১শে মার্চ প্রকল্প ছক অনুমোদিত হয়। ১৯শে এপ্রিল ২০০১ সালে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের জন্য ২ (দুই) পর্যায়ে সর্বমোট ১.৮৪ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়।
০৬। ২০০২ সালের এইদিনে - লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই পাটকলটি বন্ধ করে দেয় জোট সরকার৷ মিল বন্ধের ফলে ৩৫ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন৷ ৩শ' কোটি টাকা খরচ করলে মিলটি পুরো মাত্রায় উৎপাদনে যেতে পারত বলে বিভিন্ন মহলের ধারণা ছিল৷
০৭। ২০০০ সালের এইদিনে - সমাপ্য অর্থ বত্সরের কার্যাদি নির্বাহের জন্য সংযুক্ত তহবিল হইতে অর্থ প্রদান ও নির্দিষ্টকরণের কর্তৃত্ব প্রদানের জন্য আইন প্রণয়ন করা হয় ৷
০৮। ১৯৯৩ সালের এইদিনে - ভারতে বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার প্রতিবাদে ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে লাখো জনতা অযোধ্যা অভিমুখে প্রতীকি লংমার্চ শুরু করেন।
০৯। ১৯৯১ সালের এ দিনে - দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনের অবসান ঘটে। ১৯৪৮ সাল থেকে দেশটির শতকরা মাত্র ২০ ভাগ শেতাঙ্গ সেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতাসহ অধিকাংশ সুযোগ সুবিধা শেতাঙ্গদের জন্য কুক্ষিগত করে রেখেছিল। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন নেলসন ম্যান্ডেলা। এ জন্য তাকে ২৭ বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে। নেলসন ম্যান্ডেলা ১৯৯৪ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হন।
১০। ১৯৭৯ সালের এই দিনে - সুদানের জেনারেল ওমর আল বাশীর অভ্যন্তরীন সংকটের সম্মুখীন সুদানের সাদেক আল মাহদীর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। অভ্যুত্থানের পর তিনি হাসান আল তুরাবীর আদর্শিক নেতৃত্বের আওতায় সুদান জাতীয় কংগ্রেস দল গঠন করেন এবং জেনারেল বাশীর নিজের এ দলের প্রধান হন। বাশীর সুদানের প্রেসিডেন্ট হবার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবমুক্ত হয়ে দেশ পরিচালনার চেষ্টা করেন। ফলে মার্কিন সরকার বাশীরের শত্রুতে পরিনত হয়। মার্কিন সরকার তেল সমৃদ্ধ সুদানের বিদ্রোহীদের মদদ দিতে থাকে এবং ১৯৯৭ সালের আগষ্ট মাসে সুদানে মার্কিন ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালানো হয়। কিন্তু এতসব বাধা সত্ত্বেও ওমর আল বাশীর অধিকাংশ প্রতিবেশী দেশের সাথে এবং নিজ দেশের অভ্যন্তরে তার বিরোধীদের সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হন।
১১। ১৯৭৮ সালের এইদিনে - পেরুর লিমায় জন্ম নেন ছোটবেলা থেকে রাজনীতির মাঠে এবং অসংখ্য তরুণের মনে ঝড় তুলা লুসিয়ানা লেওন লুসি।
১২। ১৯৭৪ সালের এইদিনে – মার্টিন লুথার কিং এর মা এ্যালবার্ট কিং আততায়ীর হাতে নিহত হন।
১৩। ১৯৭৪ সালের এইদিনে - বিশিষ্ট রাজনীতিক ভাষাসৈনিক জাতীয় লীগ প্রধান জনাব অলি আহাদ বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেফতার হয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক হন।
১৪। ১৯৭৩ সালের এইদিনে - এবং ১লা জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সমাবেশে বাংলাদেশ সাংবাদিক ফেডারেশনের নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বা বিএফইউজে রাখা হয়। বাবু নির্মল সেন বিএফইউজের প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হন।
১৫। ১৯৭১ সালের এইদিনে - 'নিউইয়র্ক টাইমস'- এর প্রতিনিধি সিডনি শ্যানবার্গকে ঢাকা থেকে বহিষ্কার করা হয়।
১৬। ১৯৭১ সালের এইদিনে - মুক্তিযোদ্ধারা তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে নীলমনিগঞ্জ, হালসা ও আলমডাঙ্গা রেল লাইন বিষ্ফোরকের সাহায্যে উড়িয়ে দিয়ে পাকসেনাদের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
১৭। ১৯৬৯ সালের এইদিনে - নাইজেরীয় সরকার বায়াফ্রায় পাঠানো রেডক্রসের সব ধরনের সাহায্য বন্ধ করে দেন।
১৮। ১৯৬২ সালের এইদিনে – বিদ্রোহী কবি কাজি নজরুল ইসলামের পত্নী প্রমীলা নজরুল সুদীর্ঘ রোগ ভোগের পর ইহলোক ত্যাগ করেন।
১৯। ১৯৬০ সালের এ দিনে - কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র বা জায়ার স্বাধীনতা ঘোষণা করে। পেট্রিস লুমুম্বা দেশটির প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচিত হন। এর আগে কঙ্গো ছিল বেলজিয়ামের উপনিবেশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পেট্রিস লুমুম্বার নেতৃত্বে কঙ্গোর স্বাধীনতা সংগ্রাম জোরদার হয়ে ওঠে এবং দেশটি স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের পর বেলজিয়ামের মদদে কঙ্গোর বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্রোহ দেখা দেয়। অন্যদিকে উপনিবেশবাদীদের দোসর মুসা চোম্বার সাথে লুমুম্বার সংঘাত দেশটির সংকটকে তীব্রতর কোরে তোলে। এ অবস্থায় বিজাতীয়দের অনুচর গোষ্ঠী পেট্রিস লুমুম্বকে হত্যা করায় কঙ্গোর পরনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়। ১৯৬৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মদদপুষ্ট জেনারেল মোবোতো এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কঙ্গোর ক্ষমতা দখল করেন এবং তিনি জনগণের ওপর ব্যাপক দমন পীড়ন চালান। ১৯৭০ সালে কঙ্গো ডেমোক্রেটিক প্রজাতন্ত্রের নাম পরিবর্তন করে দেশটির নাম রাখা হয় জায়ার প্রজাতন্ত্র। কিন্তু ১৯৯৭ সালে জেনারেল মোবোতোর পতন ঘটলে দেশটির পুরনো নাম পুনর্বহাল করা হয়। আফ্রিকা মহাদেশের মাঝামাঝি অঞ্চলে অবস্থিত কঙ্গোর আয়তন ২৩ লক্ষ বর্গকিলোমিটার। জাম্বিয়া, এঙ্গোলা, তাঞ্জানিয়া, কেন্দ্রীয় আফ্রিকা, সুদান, উগান্ডা, বুরুন্ডি ও রুয়ান্ডা কঙ্গোর প্রতিবেশী দেশ।
২০। ১৯৫৭ সালের এইদিনে - আওয়ামী লীগের প্রাদেশিক প্রধান, মাওলানা ভাসানী দলের সভাপতি হিসেবে পদত্যাগ করেন। কারণ ছিল এইচ এস সোহরাওয়ার্দীর পশ্চিমপন্থী নীতি, এর মধ্যে ছিল সুয়েজ সমস্যার ব্যাপারে 'সাম্রাজ্যবাদীদের' প্রতি তার সমর্থন, যা ছিল দলের নির্বাচনী ইশতেহারের পরিপন্থী।
২১। ১৯৪৫ সালের সালের এইদিনে - আমেরিকান সৈন্য কর্তৃক লুদুইগবারগ শহর থেকে গ্রেপ্তার এবং ১৯৪৭ সালের এইদিনে যাবজ্জীবন জেল হয় বিকৃত মস্তিস্কের পৃথিবীর এক কুখ্যাত মহিলা “Die Hexe von Buchenwald” বা Witch of Buchenwald বা Bitch of Buchenwald (জন্ম: ১৯০৬; মৃত্যু: ১৯৬৭ )। যার আসল নাম Ilse Koch। সে ছিল Karl Koch (commandant of the concentration camps Buchenwald from 1937 to 1941, and Majdanek from 1941 to 1943) এর স্ত্রী। স্বামীর ক্ষমতা ছাড়াও সে নিজেও ছিল ক্যাম্পের সুপারভাইজার। সেই সুবাদে সে বন্দীদের মধ্য থেকে যাদের শরীরে ট্যাটু আঁকা থাকত তাদের আর যাদের চামড়া সুন্দর তাদের আলাদা করে রাখত। তারপর যাদের শরীরে ট্যাটু ছিল তাদের হত্যা করে ট্যাটুটি চামড়া সহ কেটে সংরক্ষণ করত, সাথে সাথে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রতঙ্গ ও সে সংগ্রহ করত। তবে তার সবথেকে প্রিয় শখ ছিল সুন্দর চামড়াওয়ালা বন্দীদের হত্যা করে তাদের শরীরের চামড়া দিয়ে কুশন কভার, সাইড ল্যম্প, বালিশের কভার সহ অনন্যা জিনিস বানানো। কুখ্যাত এই মহিলাকে প্রথম গ্রেপ্তার করা হয় ১৯৪৩ সালের ২৪শে অগাস্ট। কিন্তু প্রমানের অভাবে ছাড়া পায় সে , কিন্তু তার স্বামীর কারাদণ্ড হ্য়। জেল থেকে বেড়িয়ে সে চলে যায় লুদুইগবারগ শহরে। দ্বিতিয়বার ১৯৪৫ সালের এইদিনে গ্রেফতারের পর শুরু হয় তার বিচার। প্রমান হয় তার কুকীর্তির ইতিহাস। পাওয়া যায় মানুষের চামড়ার তৈরি তার সেই সব জিনিস। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এই বিকৃত মস্তিস্কের মহিলা জেলে থাকা অবস্থায় ১৯৬৭ সালের ১লা সেপ্টেম্বর গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়।
২২। ১৯৩৪ সালের এই দিনে – হিটলার রাতে (নাইট অব দ্য লং নাইভস্‌ ) এসএ-র চার শতাধিক নেতা-কর্মীকে হত্যার নির্দেশ দেন। তাঁর ওই নির্দেশ পালন করে স্কুৎসস্তাফেল (সংক্ষেপে এসএস) বা প্রতিরক্ষা বাহিনী। এ হত্যা-অভিযানের সাঙ্কেতিক নাম ছিল ‘হামিংবার্ড’। স্টারমাবটেইলিং (সংক্ষেপে এসএ) বা ঝটিকা বাহিনী ছিল গুণ্ডাপাণ্ডাদের দল। তাদের ব্যবহার করে ক্ষমতায় ওঠেন হিটলার। তারা হামলা চালাতো বিরোধীদের ওপর, আর হামলা ঠেকাতো হিটলারের সভায়। ১৯৩৪ সালে নাগাদ তাদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১০ লাখেরও বেশি। হিটলার কেন চড়াও হয়েছিলেন এসএ-র ওপর তা এখনও এক বিস্ময় হয়ে আছে ইতিহাসবিদদের কাছে । ১৯৩৪ সালের এই দিনে জার্মানীর তৎকালীন চ্যান্সেলর এডলফ হিটলার নিজ দল ন্যাশনাল সোসিয়ালিস্ট পার্টি বা নাৎসী দলের মধ্যে এক শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে তার বিরোধী বহু নেতাকে নির্মূল করেন। এ দিনে তিনি নাৎসী দলের সামরিক শাখা বা দমন-পীড়ক বাহিনী তথা এস. এ'কে বিলুপ্ত করেন। হিটলার এই ঘটনার কয়েকমাস আগে কমিউনিস্টদের ওপর দমন অভিযান চালিয়েছিলেন। তিনি ১৯৩৪ সালে জার্মানীর ক্ষমতায় পৌঁছেন এবং নাৎসী দলে তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় নিজের আধিপত্যকামী তৎপরতা অব্যাহত রাখেন।
২৩। ১৯২০ সালের এই দিনে - আয়াতুল্লাহ মীর্যা মোঃ ত্বাক্বী শিরাজীর নেতৃত্বে ইরাকের জনগণ বৃটিশ দখলদারদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মিত্রশক্তিগুলোর মধ্যে সমঝোতা অনুযায়ী ওসমানীয় সাম্রাজ্যকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করা হয়। এ সময় ইরাক, জর্দান ও ফিলিস্তিনের অভিভাবকত্ব ন্যস্ত করা হয় বৃটেনের ওপর। উপনিবেশবাদী বৃটিশরা এই সুযোগে প্রকাশ্যেই ইরাকের প্রাকৃতিক সম্পদসহ অন্যান্য সম্পদ লুট করতে থাকে। আয়াতুল্লাহ মীর্যা মোঃ ত্বাক্বী শিরাজী দখলদারদের বিরুদ্ধে জিহাদের ফতোয়া দেয়ার পর গোটা ইরাকে বিপ্লব ও সশস্ত্র বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু পাশ্চাত্যের অন্যান্য উপনিবেশবাদী সরকার বৃটেনকে সহায়তা দেয়ায় এবং তাদের বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক পদক্ষেপের ফলে এ বিপ্লব তার লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পারে নি।
২৪। ১৯১৬ সালের এইদিনে - রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
২৫। ১৯০৮ সালের এইদিনে - রাশিয়ার সাইবেরিয়ার বৈকাল হ্রদের উত্তর-পশ্চিমের দুর্গম পার্বত্য এলাকা টাঙ্গুস্কায় ঘটেছিল এক প্রচন্ড শক্তির বিস্ফোরন। এটি ছিল হাইড্রোজেন বোমা আবিস্কারের আগ পর্যন্ত পৃথিবীর ইতিহাসের বৃহত্তম বিস্ফোরন । সে বিস্ফোরনের শক্তি ছিল হিরোশিমার পারমানবিক বোমার চেয়ে ১০০০ গুন বেশী শক্তি শালী। তখন গরমকাল, সকাল বেলা। সুর্য্যের মত উজ্জ্বল এবং উত্তপ্ত নীল আগুনের কুন্ড নেমে এল আকাশ থেকে। ৭-১৭ মিনিটে আঘাত হানল সে আগুন। এর প্রচন্ড শব্দ মনে হল লক্ষ কোটি কামান যেন একসাথে গর্জে উঠল, ৫০০ মাইল দুরেও শোনা গেল সে শব্দ।প্রচন্ড শব্দে চিরতরে শ্রবনশক্তি হারাল পশু চারনকারীরা। শুন্যে তুলে মাটির উপর আছড়ে ফেলল মানুষজন গবাদিপশুদেরকে। বিস্ফোরনে পুড়ে যাওয়ার পর শুরু হল কালো ছাইয়ের বৃস্টি, চলল কয়েকদিন। ঘটনাস্থল থেকে ৪০০ মাইল দূরে কানস্ক ( Kansk) শহরে চলন্ত ট্রেন কেপে উঠে থেমে গেল। ১০,০০০ কিলোমিটার দূরে লন্ডনে বায়ুমন্ডলের চাপের তারতম্য ধরা পড়ল। পৃথিবীর উলটো দিকের ওয়াশিংটনের সিসমোগ্রাফ যন্ত্র জানান দিলো এই বিস্ফোরনের। ২১৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে আনুমানিক ৮ কোটি গাছকে মাটির সাথে শুইয়ে দিয়েছিল এ বিস্ফোরন। এই বিস্ফোরনের মাত্রা ছিল ১০-১৫ মেগাটন টি,এন,টি’র সমান শক্তির। পারমানবিক বোমার আগে সবচে’ শক্তিশালী বিস্ফোরক ছিল টি,এন,টি বা ট্রাই,নাইট্রো টলুয়েন(TNT= Tri nitro toluene) আর মেগাটন সমান হল ১০ লক্ষ মেট্রিক টন। অর্থাৎ ১কোটি ৫০ লক্ষ টন টি,এন,টি র সমান ছিল এর শক্তি। তাপমাত্রা উঠেছিল ৫০০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। এই বিস্ফোরন ছিল এ যাবৎ কালের সবচে বড় পারমানবিক বোমা রাশিয়ার “ জার বোম্বা”র তিনভাগের এক ভাগ সমান শক্তির।
২৬। ১৮৮৬ সালের এই দিনে - ন্যায়বান গভরমেন্ট দক্ষিণ সাহাবাজপুর পরগনা কোর্ট অব ওয়ার্ডসের শাষনাধীনে গ্রহণ করিয়া বাবু পিতাম্বর বন্ধ্যোপাধ্যায় মহায়শয়কে অস্থায়ী ম্যানেজার নির্ধারণ করিয়া দৌলতখায় প্রেরণ করে। দক্ষিণ সাহাবাজপুর পরগনা সাধারণত ২টি জমিদারিতে বিভক্ত। জমিদারির অন্তর্গত ১০৮টি তালুক, ২৪টি ওসত তালুক, ৪টি নিমওসত তালুক, ৩টি ইটমাম, ১৬১টি হাওলা, ২টি ওসত, ১৬টি নিমহাওলা ও ২টি ওসত হাওলা ছিল। ইলিশা নদীর উত্তর অংশ আজকের হিজলা মুলাদি এবং দক্ষিণ অংশে নতুন গড়ে ওঠা এই দ্বীপটিকে বলা হতো দক্ষিণ শাহবাজপুর। উনিশ শতকের প্রথমভাগে মেঘনার শাখা নদী ইলিশা ও তেতুলিয়া বৃহত্তর আকার ধারণ করে। ফলে ভয়ংকর কালাবাদুর নদী পাড়ি দিয়ে নৌকা পথে জেলা সদর দফতরের সাথে দক্ষিণ শাহবাজপুরের যোগাযোগ রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই সরকার সিদ্ধান্ত নেয় বাকেরগঞ্জ হতে দক্ষিণ শাহবাজপুর (ভোলা) ও হাতিয়াকে নোয়াখালীর অর্ন্তভূক্ত করার। ১৮২২ সালের ২২ শে এপ্রিল জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট দক্ষিণ শাহবাজপুরকে নোয়াখালীর অন্তর্ভূক্ত করার সুপারিশ করেন এবং ঐ বছর ৩রা জুলাই নোয়াখালীর জয়েন্ট ম্যাজিষ্ট্রেট এইচ পারকার দক্ষিণ শাহবাজপুরের দায়িত্ব বুঝে নেন। ১৮৪৫ সালে দক্ষিণ শাহবাজপুরকে মহকুমা করা হয়। তখন এই মহকুমা থানা ছিল মাত্র দুটি, ভোলা ও দৌলতখা। মহকুমা সদর দফতর দৌলতখায় অবস্থিত।
২৭। ১৮৫১ সালের এইদিনে – কবি এলিজাবেথ ব্যারেট ব্রাউনিং মৃত্যুবরণ করেন।
২৮। ১৭৫৭ সালের এই দিনে - নবাব সিরাজুদ্দৌলা স্বীয় পত্নী ও কন্যাসহ পালিয়ে যাবার সময় পথিমধ্যে রাজমহলে রাত কাটাতে গিয়ে ৩০শে জুন তিনি ধরা পড়েন। ২রা জুলাই রাতে সাধারণ বন্দীর মত শৃঙ্খলিত অবস্থায় সিরাজুদ্দৌলাকে নতুন নবাব মীরজাফরের সম্মুখে উপস্থিত করা হয়। ঐ রাতেই মীরজাফরের পুত্র মীরণের আদেশে মুহাম্মাদী বেগ তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে। বাংলার প্রাণপ্রিয় নবাব সিরাজুদ্দৌলা চিরবিদায় নেন।
২৯। ১৭২৭ নবাব মুর্শিদ কুলি খাঁ মৃত্যুবরণ করেন।
৩০। ৭১৩ ইমাম জয়নুল আবেদিন ইন্তেকাল করেন।
৩১। ৬৫৬ হযরত আলী (রাঃ) খেলাফত লাভ করেন।
=================