আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা

বাংলা ভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী

সকল মহান ভাষা শহীদগণের প্রতি,
এবং ভাষা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত

সকল ভাষা সৈনিক
ও বীর বাঙ্গালীদের জানাই অশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলী,
সেইসাথে সকলকে জানাই

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা।

বিষয় সূচী

সাহিত্য (60) অন্যান্য কবিতা (53) ভালোবাসার পদবিন্যাস ( প্রেম সম্পর্কিত রচনা বিশেষ ) (53) আমার লেখা প্রবন্ধ-নিবন্ধ (37) কবিতা (35) দেশ নিয়ে ভাবনা (33) ফিচার (33) বাংলাদেশ (29) সমসাময়িক (28) খন্ড কাব্য (26) হারানো প্রেম (22) সংবাদ (18) কাল্পনিক প্রেম (16) ইতিহাস (15) প্রতিবাদ (15) সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ (15) Online Money Making Links (14) দেশাত্মবোধক কবিতা (13) আমার জীবনের দিনপঞ্জী (12) ধর্ম (12) প্রেমের কবিতা (11) ব্যক্তিত্ব (11) রাজনীতি (11) ধর্মীয় আন্দোলন (10) প্রবাসের কবিতা (10) খন্ড গল্প (9) জীবন গঠন (9) বর্ণমালার রুবাঈ (9) ইসলাম (8) প্রগতি (8) মানুষ ও মানবতা (8) হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ (8) VIDEOS (7) আমার লেখালেখির অন্তরালে (7) ইসলামী জাগরণ (7) মানব মন (7) ট্র্যাজেডি (6) শোক সংবাদ (6) সম্প্রীতি (6) নারী স্বাধীনতা (5) প্রেমের গল্প (5) বিজয় দিবসের ভাবনা (5) মৃত্যুপথ যাত্রী (5) সংবাদ মাধ্যম (5) স্মৃতিকথা (5) ঈদ শুভেচ্ছা (4) প্রবাস তথ্য (4) রমজান (4) শুভেচ্ছা (4) Computer Programer (3) আমার ছবিগুলো (3) আমার রাইটিং নেটওয়ার্ক লিংক (3) পর্দা (3) ফটিকছড়ি (3) বাংলাদেশের সংবিধান (3) বিশ্ব ভালবসা দিবস (3) শিক্ষা (3) শিক্ষার্থী (3) স্লাইড শো (3) News (2) VERIETIES POEMS OF VERIOUS POETS (2) আষাঢ় মাসের কবিতা (2) আষাঢ়ের কবিতা (2) ইসলামী রেনেসাঁ (2) ছাত্র-ছাত্রী (2) থার্টি ফাস্ট নাইট (2) নারী কল্যান (2) নারী প্রগতি (2) নির্বাচন (2) বর্ষার কবিতা (2) মহাসমাবেশ (2) শবেবরাত (2) শরৎকাল (2) শাহনগর (2) শ্রদ্ধাঞ্জলী (2) সত্য ঘটনা (2) সত্য-মিথ্যার দ্বন্ধ (2) সফলতার পথে বাংলাদেশ (2) Bannersআমার ছবিগুলো (1) DXN (1) For Life Time Income (1) For Make Money (1) Knowledge (1) Student (1) অদ্ভুত সব স্বপ্নের মাঝে আমার নিদ্রাবাস (1) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (1) আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত(সুন্নী) (1) উপন্যাস (1) কবি কাজী নজরুল ইসলাম (1) কোরআন - হাদিসের কাহিনী (1) গল্প (1) চট্টগ্রাম (1) চিকিৎসা ও চিকিৎসক (1) জমজম (1) জাকাত (1) তরুন ও তারুণ্য (1) নারী জাগরণ (1) পরকিয়ার বিষফল (1) ফটিকছড়ি পৌরসভা (1) বন্ধুদিবস (1) বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেম (1) বিবেক ও বিবেকবান (1) বিশ্ব বাবা দিবস (1) বিশ্ব মা দিবস (1) ভ্রমণ (1) মন্তব্য (1) মাহফুজ খানের লেখালেখি (1) রবি এ্যাড (1) রমজানুল মোবারক (1) রেজাল্ট (1) রোগ-পথ্য (1) লংমার্চ (1) শহীদ দিবস (1) শুভ বাংলা নববর্ষ (1) শৈশবের দিনগুলো (1) সমবায় (1) সস্তার তিন অবস্থা (1) সাভার ট্র্যাজেডি (1) সিটি নির্বাচন (1) স্বপ্ন পথের পথিক (1) স্বাধীনতা (1) হ্যালো প্রধানমন্ত্রী (1) ২১ ফেব্রোয়ারী (1)

APNAKE SHAGOTOM

ZAKARIA SHAHNAGARIS WRITING

সকলকে বাংলা নতুন বছরের শুভেচ্ছা

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আমরা আর বাংলা ভাষায় কথা বলতে চাইনা । নিজের মাতৃভাষাকে যখন-তখন যেখানে সেখানে অবমাননা করে তৎপরিবর্তে ইংরেজী ভাষা ব্যবহার করতে অভ্যাস্থ হয়ে যাচ্ছি বা হয়ে গেছি ।
আরও একটু এগিয়ে গেলে বলতে হয় - আমরা আজ বাঙ্গালী হয়ে বাঙ্গালী জাতিসত্বা ভুলে গিয়ে ইংরেজী জাতিসত্বায় রক্তের ন্যায় মিশে গেছি !

অথচ একদিন আমরা বাঙ্গালী জাতি একতাবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রীয় ভাষা উর্দুকে ত্যাগ করে নিজেদের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা তথা বাংলা ভাষাকে সর্বত্র প্রচলন করতে প্রাণ দিতে বাধ্য হয়েছিলাম ! ফলে বিজাতীয় ভাষা উর্দূকে অপসারন করে নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলার স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলা ভাষাকে ধারন করেছিলাম । যখন আমরা বাংলার সর্বত্র বাংলা ভাষায় কথা বলা শুরু করেছিলাম ,তখন কিন্তু বিশ্বায়নের যুগটা অনুপস্থিত ছিল তা নয় , বিশ্বায়নের যুগটা তখনও ছিল বিধায় আমরা ইংরেজী শিক্ষায় তখনও বাধ্য ছিলাম । অর্থাৎ যে জন্যে আজ আমরা ইংরেজী শিখছি সেইজন্যে তখনও ইংরেজী শিক্ষার প্রচলন ছিল । ছিল ইংরেজী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাও । তাই বলে সে সময় বর্তমান সময়ের মত মাতৃভাষা বাংলাকে অবমাননা করা হয়নি । মানুষ সে সময় বাংলায়ই কথা বলেছিল । শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রেই সে সময় ইংরেজী ব্যাবহার করেছিল বাঙ্গালী জাতি

conduit-banners

Powered by Conduit

ফ্লাগ কাউন্টার

free counters

MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY

PLEASE CLICK ON MY BANNERS. VISIT MY AFFILIATE SITE "MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY ( অনলাইনে অর্থোপার্জনের একটা মাধ্যম )" I HOPE IT WILL BE HELPFUL FOR YOU. Create your own banner at mybannermaker.com!

মঙ্গলবার, ১ মে, ২০১২

মে দিবসের ভাবনা



মে দিবসের ভাবনা
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------------- 


আজ ১লা মে । বিশ্ব মে দিবস । সকলকে জানাচ্ছি মে দিবসের সংগ্রামী শুভেচ্ছা ।

সেই সাথে স্মরণ করছি মে দিবস তথা শ্রমিক আন্দোলনের সেইসব মানুষদের যাঁরা বিশ্ব শ্রমিক সমাজের কল্যানে ১৮৮৬ সালের ১লা মে নিজেদের আত্মোৎসর্গ করেছিলেন । তাঁদের জানাই শ্রদ্ধাঞ্জলী ।

আন্তর্জাতিক শ্রমিক সমাজের অধিকার আদায় এবং মর্যাদা রক্ষার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বিশ্বের সকল মেহনতী জনতা আজকের এই দিনটি “ আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস ’’ হিসাবে পালন করে আসছে । তাই এ দিনটি নিয়ে শ্রমিক স্বার্থের দিকে দৃষ্টি দিয়ে আমার আজকের বিশেষ এই লেখনী । সকলকে একবার চোখ বুলিয়ে নিতে অনুরোধ করছি ।


মে দিবস কি ?


১৮৮৬ সালের ১লা মে আমেরীকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটের চত্বরে সংঘটিত শ্রমজীবি মানুষের উপর অতর্কীত হামলা চালিয়ে বিশ্বশ্রমিকের অধিকার আদায় ও মর্যাদা রক্ষায় আন্দোলনরত শ্রমিকদের নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করার দিনটাকে স্মরণ এবং তাদের সেই চেতনায় নতুন ভাবে উদ্ধুদ্ধ হয়ে শ্রমিক স্বার্থ সংরক্ষনের লক্ষ্যে জাগ্রত থাকার শপথ গ্রহণের একটা বিশেষ দিন এই মে দিবস ।

নানাবিধ উপাধিতে আজকের দিনটিতে এই দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালন করা হয় । মে দিবসকে বলা হয় – আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস । তাছাড়া ও এ দিবসটি – আন্তর্জাতিক শ্রমিক হত্যা দিবস , লেবার ডে , ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্কার ডে ইত্যাদি । মেহনতি জনতার আন্তর্জাতিক সংহতি ও সংগামের স্মৃতিস্মারক এই দিবস । বিশ্বের শ্রমজীবি মানুষের অধিকার আদায়ের দিন এ দিবস ।


মে দিবস কেন ?


শ্রমিকদের অধিকার আদায় এবং মর্যাদা সমুন্নত রাখতে এ দিবসের আয়োজন । মালিক – শ্রমিক সম্পর্ক , দায়িত্ব ও কর্তব্যকে স্মরণ করার জন্য এ দিবস । মালিক পক্ষের শোষণ , বঞ্চনা থেকে শ্রমিকদের মুক্তির আকান্খা নিয়ে ১৮৮৬ সালের ১লা মে’র সেই সংগ্রামের স্মৃতি ও চেতনায় নতুন ভাবে জাগ্রত হবার লক্ষ্যে এ দিবসের আয়োজন ।


মে দিবসের সংক্ষিপ্ত ইতিাস ঃ


১২৬ বৎসর পূর্বে ১৮৮৬ সালের ১লা মে আমেরীকার শিকগো শহরের শ্রমিকরা ৮ ঘন্টা কর্মদিবস ও কর্মক্ষেত্রে মানবতার আইন প্রতিষ্ঠার দাবী নিয়ে হে মার্কেটের চত্বরে সমাবেশ করতে গেলে রাস্ট্রশক্তির নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়ে শিকাগোর হে মার্কট চত্বরে পুলিশের বন্দুকের গুলি বুকে ধারণ করে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে ১১ জন শ্রমিক বিশ্ব শ্রমিক জাতিকে নতুনভাবে বাঁচবার পরণা ও শিক্ষা দিয়ে চলে যান পৃথিবী থকে চিরদিনের জন্য । প্রতিষ্ঠা করে যান আজকের মে দিবস বা আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস

এ ঘটনার পূর্বে শ্রমিকদের করতে হতো দৈনিক ৯ থেকে ১৮ ঘন্টা অমানবিক পরিশ্রম । করতে হতো তাদের মানবেতর জীবন যাপন । মিলতো নগণ্য পারিশ্রমিক । দাসত্ব জীবন ছিল কারো কারো । মালিক পক্ষের ইচ্ছায় শ্রমিকদের উপর চলতো নানাবিধ নিষ্ঠুর নির্যাতন । 
সে সময় ছিলনা বিশ্বের কোথাও শ্রমিক আইন । শ্রমিকদের মানবিক অধিকার , অর্থনৈতিক অধিকার বতে কিছুই ছিলনা । ছিলনা তাদের স্বাধীনতা । ছিলনা চাকরীর স্থায়িত্ব ও ন্যায় সঙ্গত পারিশ্রমিকের কোন নিশ্চয়তা ।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে এইসব মানবতা বিরোধী কর্মের অবসান এবং শ্রমিকদের ৮ ঘন্টা কর্মদিবস নির্ধারণ , প্রাপ্য অধিকার আদায় , মর্যাদা সমুন্নত রাখতে তথা মেহনতি মানুষদের জন্য মানবতার আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৮৮৪ সালে শিকাগো শহরের একদল শ্রমিক আন্দোলন শুরু করেন । তাদের এ দাবী কার্যকর করার জন্য তারা ১৮৮৬ সালর ১লা মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন ।

তাদের এ দাবী মালিক পক্ষ মেনে না নিলে ১৮৮৬ সালের ৪ঠা মে সন্ধ্যায় শিকাগোর হে মার্কেট চত্বরে আমেরীকা ও কানাডার প্রায় তিন লক্ষ শ্রমিক জোটবদ্ধ হয়ে সমাবেশ করে । শ্রমিকদের সমাবেশের মুল কার্যক্রম শুরু হবার অল্প কিছুক্ষণ পরই অদূরে দন্ডায়মান পুলিশ বাহিনীর নিকটে হঠাৎ বোমা বিস্ফোরিত হলে এক পুলিশ তাতে নিহত হয় । সাথে সাথেই পুলিশ বাহিনী সমাবেশের উপর অতর্কীত হামলা চালিয়ে গুলিবর্ষণ করতে থাকলে তাতে ১১ জন শ্রমিক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন । পুলিশ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হয় আরো ৮ জনকে শ্রমিককে ।
১৮৮৭ সালের ১১ই নভেম্বর এক প্রহসনমুক বিচার আয়োজনের মাধ্যমে উক্ত ৮ জনের মধ্য থেকে ৬ জনের ফাঁসী কার্যকর করা হয় । বাকী দুইজনের মধ্যে একজনকে দেয়া হয় ১৫ বৎসরর কারাদন্ড , আর অপর জন কারাগারের ভিতরেই আত্মহত্যা করেন । বোমা বিষ্ফোরণকারীর পাওয়া যায়নি কোন হদিস ।

১৮৮৯ সালের ১৪ই জুলাই প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বিশ্ব শ্রমিক সম্মেলনে ১লা মে‘কে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় । সেই থেকে প্রতিবৎসর ১লা মে’কে মে দিবস বা আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসাবে পালন করে আসছে বিশ্ববাসী ।

পরবর্তীতে ১৮৯৩ সালের ২৬শে জুন পুলিশ হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত উক্ত ৮ জন শ্রমিককে নিরাপরাধ বলে ঘোষনা দেয়া হয় ।


ইসলামের দৃষ্টিতে মে দিবস ঃ


ইসলামের দৃষ্টিতে ১২৬ বৎসর পূর্বের মে দিবসের ঘটনা ও চেতনা ইসালামী শ্রমিক স্বার্থ ও মর্যাদার প্রেক্ষীতে কিছুই নয় । শ্রমিক স্বার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট মে দিবসের ঘটনায় শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়েছে বললে ভুল হবে । কেননা , শ্রমিক স্বার্থ পুরোটাই সংরক্ষিত হয়েছিল ১৪০০ বৎসর পূর্বে ইসলাম আগমনের সাথেই । মে দিবসের চেতনা বিধর্মীদের গণতান্ত্রিক চেতনা , যা পালন করা মুসলমানদের জন্য ধর্মহীনতা ব্যতিত কিছু নয় । কারন , এই চেতনাটা ১৪০০ বৎসর পূর্বেই রাসূল ( সঃ ) কর্তৃক মুসলমানদের মাঝে বিশ্ব কল্যানের লক্ষ্যে ঘোষিত হয়েছিল । তাই মুসলমানদের জন্য মে দিবস পালন অবৈধ , অপ্রয়োজনীয় , অপ্রসাঙ্গিক ।

যদি শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের দিন হিসাবে কোন দিনকে মুসলমানদের পালন করতে হয় তবে রাসূল ( সঃ ) কর্তৃক ঘোষিত দিনটিকেই পালন করতে হবে । আর সেই দিনটি হলো ইসলামের পরিপূর্ণতার দিন , যেদিন রাসূল ( সঃ ) বলেছিলেন – “ আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন ( জীবন চলার পথ ) কে পরিপূর্ণ করে দেয়া হলো ’’।


ইসলামে শ্রমিকের অধিকার , মর্যাদা ও স্বার্থ সংরক্ষণ ঃ


শ্রমিকের অধিকার , মর্যাদা ও স্বার্থ সংরক্ষণ বিষয়ে ১৪০০ বৎসর পূর্বে রাসূল ( সঃ ) কর্তৃক যে সব ঘোষনা দেয়া হয়েছিল , সেগুলোই ইসলামী দৃষ্টিতে শ্রমিক স্বার্থ সংরক্ষণের চেতনা হিাবে পরিগণিত ও পালনযোগ্য , মুসলমান তথা বিশ্ব শ্রমিক সমাজে গ্রহণযোগ্য চিরন্তন চেতনা। আর এসব চেতনাবলীতে রাসূল ( সঃ ) ঘোষনা দিয়েছিলেন – শ্রমিক-মালিক ভাই ভাই ।

রাসূল ( সঃ ) মালিকদের সতর্ক করে দিয়েছিলেন এইভাবে – “ প্রত্যেকেই রক্ষক , তাকে তার রক্ষিত বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে ’’।

শ্রমজীবি মানুষদের পরিশ্রম সম্পর্কে আল্লাহ পাক আল কোরানে ঘোষনা করেন – “ নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি শ্রমজীবি করে ’’।
শ্রমিকের পারিশ্রমিক প্রদান সম্পর্কে রাসূল ( সঃ ) ঘোষনা করেছিলেন – “ শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও ’’।

শ্রমিকর মর্যাদা রক্ষায় রাসুল ( সঃ ) এর ঘোষনা – “ কারো জন্য নিজের উপার্জন অপেক্ষা উত্তম আহার্য আর কিছু নেই । আর আল্লাহর নবী দাউদ ( আঃ ) নিজে জীবিকা নির্বাহ করতেন ’’।

শ্রমিকের অধিকার সম্পর্কে রাসুল ( সঃ ) র ঘোষনা – “ মহান আল্লাহ তাআলা বলেন – কিয়ামতের দিন তিন বক্তির বিরূদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হবে । তাদের মধ্যে একজন হল – যে শ্রমিকের নিকট থেকে পূর্ণ শ্রম গ্রহণ করে , অথচ পূর্ণ পারিশ্রমিক দেয়না ’’।

শ্রমিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পরকে রাসূল ( সঃ ) এর ঘোষনা – “ আল্লাহ ঐ শ্রমিককে ভালবাসেন , যে সুন্দরভাবে কর্ম সম্পাদন করে ’’।
তিনি এ বিষয়ে আরও ঘোষনা দেন – “ তিন শ্রেনীর লোকের দ্বিগুন সাওয়াব প্রদান করা হবে । তাদের এক শ্রেনী হল – ঐ শ্রমিক , যে নিজ মালিকের হক্ব আদায় করে এবং আল্লাহর হক্ব ও আদায় করে ’’।
এভাবেই ইসলামে শ্রমিকের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হয়েছে ।


মে দিবসের ভাবনা ঃ


মে দিবস যদিও শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার প্রত্যয় নিয়ে প্রতিবৎসর বিশ্ববাপী পালিত হয়ে আসছে , তবুও বিশ্ববাপী আজও শ্রমিকরা তাদের প্রকৃত অধিকার ও মর্যাদা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত রয়েছে ! এখনও বিশ্বের প্রায়ই সর্বত্র শ্রমিকদের উপর চলছে নির্যাতনের ষ্টীমরোলার । চলছে এখনও কোন কোন দেশে দৈনিক ৯ থেকে ১৮ ঘন্টা পরিশ্রম । এখনও শ্রমিকদের দাস রূপে ব্যবহার করা হয় কোন কোন দেশে । ন্যায্য অধিকার প্রাপ্তি থেকে তাদের রাখা হচ্ছে বঞ্চিত ।
চলছে শিশুশ্রম । আরবদেশে শিশুদের বানানো হচ্ছে উঠের জকি । মাথায় ঝুড়ি নিয়ে কুলির কাজ করছে অবুঝ শিশুরা । সারাদিন তারা শ্রম দেবার পরও মিলছেনা তাদের যথাযোগ্য পারিশ্রমিক । মানা হচ্ছেনা মানবতার আইন ।

বিভিন্ন কলকারখানায় শ্রমিকদের কোন সুযোগ সুবিধা তো দেয়াই হচ্ছেনা , ন্যায্য বেতন পরিশোধ করতেও দেয়া হচ্ছে ভোগান্তি । এখন মালিক পক্ষ মনে করছে শ্রমিকরা কোন মানুষ নয় , তাদের কেনা গোলাম । শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে অর্জিত অর্থ কেড়ে নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন অজুহাতে । কোন কোন দেশে দাসের মত ২৪ ঘন্টা শ্রমিকদের ন্যায পাওনা দিতে করছে গড়িমসি । ইন্স্যুরেন্সের নাম দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতিবছর শ্রমিকদের কষ্টার্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ । ওয়ার্ক পারমিট / রেসিডেন্ট পারমিট নবায়নের সময় মালিক পক্ষ দাবী করছে শ্রমিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ । যা না দিলে দেখানো হয় চাকরিচ্যুতির ভয় । এ ক্ষেত্রে আরব দেশ গুলো রয়েছে শীর্ষে ।

আরব দেশগুলোতে শ্রমিকদের ক্ষেত্রে কোন প্রকার আইন মানা হচ্ছেনা । না মানা হচ্ছে আন্তর্জাতিক শ্রম আইন আর না মানা হচ্ছে মানবাধিকার আইন । বিদেশী শ্রমিকদের তারা দাসের মত ব্যবহার করছে । সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রেখে ন্যায্য পাওনা নিয়েও করছে গড়িমসি । ৮ ঘন্টা শ্রমের বদলে তারা শ্রমিকদের কাছ থেকে আদায় করে নিচ্ছে ৯ থেকে ১৮ ঘন্টা শ্রম । শ্রমিকরা মালিক পক্ষের কথা মত না চললে পাঠিয়ে দো হচ্ছে তাদের স্বদেশে । বিভিন্ন ভুয়া অভিযোগের ভিত্তিতে চালান করে দেয়া হচ্ছে জেলখানায় । শ্রমিকদের উপর বিভিন্ন ভাবে টর্চার চালিয়ে মানবতার আইন লঙ্গন করছে বেশীর ভাগ আরব দেশ সমুহ , বিশেষ করে সৌদি আরব ।

সৌদি আরবে নিত্য নতুন আইন হচ্ছে বিদেশী শ্রমিকদের মানষিক যন্ত্রণার উদ্ভবে । অথচ এই সব বিদেশী শ্রমিকদের কল্যানে কোন আইন পরিলক্ষিত হচ্ছেনা । তারা মানছেনা আন্তর্জাতিক শ্রম আইন । দৈনিক কর্ম সময়ের কোন নিদ্রিষ্টতা নেই এখানে , নেই বড়তি কাজের জন্য কোন ওভারটাইম প্রদানের ব্যবস্থা । যে যেভাবে পারছে বিদেশী শ্রমিকদের খাটিয়ে নিচ্ছে । বঞ্চিত রাখছে তারা বিদেশী শ্রমিকদের চিত্তবিনোদন থেকেও । বিদেশী শ্রমিকরা হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করলেও এখানে উপযুক্ত পারিশ্রমিক পাচ্ছেনা বহুলাংশ শ্রমিক । বিশেষ করে হাউজ ড্রাইভার , দারোয়ান , গৃহপরিচারিকাদের অবস্থা তো অত্যান্ত করুন । এসব শ্রমিকদের তারা ২৪ ঘন্টা দাসের মত খাটিয়ে মালিক পক্ষ উপযুক্ত পারিশ্রমিক তো দিচ্ছেইনা , ন্যায্য প্রাপ্তি প্রদানের সময়ও তারা শ্রমিকদের সময়মত তা প্রদান না করে হয়রানী করছে । করছে বিভিন্ন সুবিধা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত ।


সর্বোপরি বলতে হয় , শ্রমিকদের পারিশ্রমিক , কর্মসময় , সুযোগ – সুবিধা মে দিবসের পথ ধরে বিভিন্ন দেশে পরিবর্তন সাধিত হলেও বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অনেক দেশে এ পরিবর্তন আসেনি । ইউরোপ , আমেরীকা সহ বিশ্বের অনেক দেশে শ্রমিকদের অধিকার আইন দ্বারা  আংশিক সংরক্ষিত হলেও এখনো বাংলাদেশ , সৌদি আরব সহ অধিকাংশ দেশ সমুহে শ্রমিকদের মর্যাদা সম্পর্কে মালিক পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গির তেমন কোন পরিবর্তন ঘটেনি ।

শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে যে সব কলকারখানা , প্রতিষ্ঠানের উন্নতি হয়েছে , হচ্ছে সেইস প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ উক্ত শ্রমিকদের নিয়ে কখনো ভাবেনি , ভাবেনা , ভাবতে চাননা । ফলে সেইসব শ্রমিকদের জীবনমানের কোন উন্নয়ন ঘটেনি , ঘটছেনা। অধিকাংশ শ্রমিকের শ্রমিকের মিলেনি শ্রমিকের স্বীকৃতিও। রিক্রা শ্রমিক , গৃহশ্রমিক , নারী শ্রমিক , শিশু শ্রমিক , নির্মাণ  শ্রমিক , কৃষি শ্রমিকসহ এমনতর বহুবিধ শ্রমিকের শ্রমিক হিসাবে মিলেনি স্বীকৃতি । শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ানো হচ্ছেনা শ্রমিকদের বেতন অবকাঠামো ।
এইসব অসঙ্গতি দেখে মনে হচ্ছে আরো একটা মে দিবসের সুচনা অধিক প্রয়োজনীয় হয়ে দেখা দিয়েছে । আরো একবার শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ডাক দিতে হবে শীঘ্রই । না হলে আসবেনা শ্রমিকদের কাছে তাদের ন্যায্য অধিকার , সংরক্ষিত হবেনা তাদের মর্যাদা ।


সবশেষে বলতে হয় , মে দিবস শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে । তাই শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ সহ মানব সমস্যার যাবতীয় সমাধানে মানব রচিত কোন মতবাদই উপযুক্ত নয় । শ্রমিকদের মর্যাদা রক্ষায় রাসূল ( সঃ ) কর্তৃক ঘোষিত ১৪০০ বৎসর পূর্বের সেই ইসলামী শ্রম আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমেই আসবে শমিকদের প্রকত মুক্তি ও কল্যান । আর রাসূল ( সঃ ) এর নির্দেশীত পথেই আসবে মানব সমস্যার সমপূর্ণ সমাধান । ইসলামী শ্রমনীতির বাস্তবায়ন ছাড়া যেমন কখনো শ্রমিক সমাজের মুক্তি আসবেনা , তেমনি ইসলামী মানবতার আইন ছাড়া মানব সমাজের কখনো শান্তি আসবেনা ।

তাই মানব সমাজ ও শ্রমিক সমাজের উচিৎ ইসলামী মানবতার আইন এবং ইসলামী শ্রমিক আইনের বাস্তবায়নে যথাশীঘ্র সকল প্রকার কার্যক্রম শুরু করা ।

মহান আল্লাহ পাক পৃথিবীর এই ক্রান্তিলগ্নে আমাদের মন – মগজ – মননে উত্তম বিবেক দান করতঃ সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ক্ষমতা দান করুন । আমীন ।।
===============================================

বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১২

হরতাল ঃ দেশ ধ্বংসের একটা মোক্কম অস্ত্র জ্বলছে আগুন – পুড়ছে দেশ - ধ্বংস হচ্ছে দেশের ভবিষ্যত



হরতাল ঃ 
দেশ ধ্বংসের একটা মোক্কম অস্ত্র  
জ্বলছে আগুন – পুড়ছে দেশ 
ধ্বংস হচ্ছে দেশের ভবিষ্যত

মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
---------------------------- 


যারা হরতালের ডাক দেয় , ডাক দিয়েছে , ডাক দিচ্ছে , ডাক দিবে – তাদের গুদাম ভর্তি মালামাল , খাবারে তাদের টান পড়েনা , অর্থ সম্পদের ও ক্ষতি হয়না তাদের । হরতালে ক্ষতি হয় সাধারণ মানুষদের , রিক্সাওয়ালাদের , দিন এনে দিন খায় যারা তাদের , গাড়ী চালিয়ে যারা পরিবারের অন্ন সংস্থানে দিনতিপাত করে তাদের , দোকান পাঠ – কলকারখানায় মজদুরী করে যারা একমুঠো অন্নের আশায় দিবারাত্র পরিশ্রম করতে থাকে তাদের । আর এই সাধারণ মানুষদের জীবন পরিচালনার সবদিক বন্ধ করে তাদেরকে তীলে তীলে মেরে তাদের মাথাপীঁছু বরাদ্ধকৃত সরকারী অর্থসম্পদ আত্মসাৎ - ভোগদখলের সুবিধার্থে তাদেরই বোকা বানিয়ে রাজনীতিবিদগণ এই হরতাল নামক দেশ ও জনগণ ধ্বংসকারী মারণাস্ত্রটি দেশ ও জনগণের কল্যানের নামে প্রয়োগ করে । আর সাধারণ মানুষ মারার এ ফন্দিতে আঁটকে যায় কিছু সাধারণ বোকা জনতা , যাদের নিয়ে এইসব সুবিধাভোগী হরতাল ডাকিয়েরা তাদের সুবিধা ভোগ করতে থাকে । এইসব সুবিধাভোগীদের দলের কর্মী রূপে সেইসব সাধারণ বোকা জনতা হরতাল ডাকিয়েদের ধন চুষে যাবে আজীবন কিন্তু কিছুই পাবেনা । তাদের ধন চুষে আরাম লাভ করা ছাড়া এই সাধারণ বোকা মানুষগুলোর ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হবেনা । মাঝখানে এইসব দলীয়কর্মী রূপী বোকা মানুষগুলোর বোকামিত্বের কারণেই দেশের নাগরিক জীবন ভোগান্তি সয়ে যাবে অনন্তকাল অবধি ।
আমি বুঝিনা - হরতালে কোন লাভটি হচ্ছে ? দেখতে পাচ্ছি হরতালে লাভ হচ্ছে এইযে – সাধারণ মানুষ মরছে , দেশের সম্পদ নষ্ট হচ্ছে , দেশের উন্নয়নের চাকা বন্ধ থেকে দেশের অনুন্নয়ন ঘটছে , দেশের কলকারখানা বন্ধ হয়ে আর্থিক ক্ষতির পাল্লা ভারী হচ্ছে দেশের , দেশের অর্থনৈতিক খাত ধ্বংস হচ্ছে , চারিদকে জ্বলছে আগুন , পুড়ছে দেশ ও দেশের সম্পদ , ধ্বংস হচ্ছে দেশের ভবিষ্যত । এসব হরতাল ডাকিয়েরা কি করে বুঝবে ? তাদের না আছে দেশের টান , না আছে পেঠের টান । তারা কি দেখছে এই হরতালের কারণে কতগুলো পরিবার অভুক্ত থাকছে ? কতগুলো জানমালের ক্ষতি হচ্ছে ?  কতগুলো নিরাপরাধ মানুষের জীবন ধ্বংস হচ্ছে ? তারা তো হরতালের ডাক দিয়েই ফুলসয্যায় স্বামী – স্ত্রী নিয়ে স্ফূর্তি শুরু করেছে , একে অন্যকে নিয়ে মধুর আলিঙ্গনে জড়িয়ে আছে । ঘরে বসেই তারা গুদাম ভর্তি মাল দিয়ে মউজ করছে , খাচ্ছে বেহেস্তী খানা , নাচ গানে মত্ত হয়ে মাতলামী করছে , নরম বিছানায় শুয়ে শুয়ে যৌনাঙ্গের সুখ নিচ্ছে । কি করে বুঝবে তারা সাধারণ মানুষদের পেঠের ব্যথা , যৌনাঙ্গের যাতনা , মনের অশান্ত দাবদাহ ?
দেশের ৪২ বৎসরের সুদীর্ঘ জীবনে এতগুলো হরতাল হয়ে গেলো , দেশের এতকিছু ক্ষতি হলো প্রতিটি হরতালে কেউ কি বলতে পারবে – কি লাভ হয়েছে এইসব হরতাল ডেকে ও সমর্থন করে ?
হরতাল তারাই ডাকে এবং তারাই সমর্থন করে – যারা কালো টাকায় সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে , যাদের কখনো অন্ন কষ্টে ভুগতে হবেনা , যাদের কখনো জানমালের ক্ষতি হবেনা , যাদের কখনো টাকা পয়সার টান পড়বেনা , আর যারা বিবেক বর্জিত এবং এইসব সম্পদশালীদের ধনচুষে আরাম পেতে ইচ্ছুক ।
সাধারণ মানুষদের বিবেক বুদ্ধি যেন লোপ পেয়েছে এই সব ফিরিঙ্গীবাজদের ছলকলায় । এইসব হরতাল ডাকিয়েদের ছলকলায় অন্ধ হয়ে তাদের ধন চুষে কি আরাম প্রাপ্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ , কি মজা পাচ্ছে আমার বুঝে আসেনা । আপনাদের কারো বুঝে আসে কি ?  
============================================
  

শুক্রবার, ২০ এপ্রিল, ২০১২

বাংলাদেশ আমাদের স্বর্গভূমি



বাংলাদেশ আমাদের স্বর্গভূমি
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
-----------------------------


বাংলাদেশ আমাদের স্বপ্নভূমি ,
বাংলাদেশ আমাদের মাতৃভূমি ;
বাংলাদেশ আমাদের বসতভূমি ,
বাংলাদেশ আমাদের মাতৃভূমি ।।

এই দেশেতে জন্ম নিয়ে দেখলাম এ পৃথিবী ,
এই দেশেতেই দৃষ্টি খুলে দেখলাম প্রথম রবি ।
এই দেশেরই আলো বাতাস আছে মোদের অঙ্গে মেখে ,
এই দেশরই মাঠে ঘাটে মোরা রূপ দেখেছি দৃষ্টি রেখে ।
এই দেশেরই মাটির নীচে আছে সম্পদখনি ,
এই দেশেরই পল্লী গাঁয়ে রূপের বাজার খানি ।
এই দেশেরই সহজ সরল সকল মানুষ গ্রামে বসত করে ,
এই দেশেরই পল্লী গাঁয়েই সকল সম্পদ রইছে ভরে ।

সুজলা – সুফলা – শষ্যে শ্যামলা
আমাদের এই ছোট্ট দেশখানি ,
লক্ষ লক্ষ জনতার প্রাণ দিয়ে গড়া
আমাদের এই স্বাধীন রূপের খনি ।
বাংলাদেশ আমাদের বাংলাদেশ
বাংলাদেশ আমাদের স্বপ্নভূমি ,
বাংলাদেশ আমাদের রূপের খনি
স্বাধীন এই বাংলাদেশ আমাদেরই জন্মভূমি ।।

সবুজের সমারোহ চারিদিকে আজ ,
সুশোভিত দৃশ্যে মোদের দেশের সাজ ।
অপরূপ অঙ্গে মোদের এই স্বাধীন ঘাঁটি ,
সুন্দর মাঠ ঘাটে মোদের দেশের মাটি ।
শান্তির রূপায়নে আনন্দমুখর মোদের গ্রাম পরিবেশ ,
সুন্দর সুবাতাসে স্বাস্থ্যকর এই আমাদের দেশ ।
হিংসা বিদ্বেষে লেগে নেই আমাদের দেশের মানুষ ,
দেশপ্রেমে বিভোর সবে দেশদ্রোহী নেই কোন অমানুষ ।
আদর্শ এক দেশ রূপে গড়েছে এই আমাদের দেশ ,
শান্তির প্রতীক নিয়ে করেছে বিশ্বে প্রবেশ ।

শান্তি – সুখী – সহজ – সরল
এই দেশেরই মানুষগুলি ,
মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবেসে যায়
মানুষকে সম্মান দিয়ে মানবতার রূপকে ধরে তুলি ।
বাংলাদেশ আমাদের বাংলাদেশ
বাংলাদেশ আমাদের শান্তিভূমি ,
বাংলাদেশ আমাদের প্রাণের ধ্বনি
স্বাধীন এই বাংলাদেশ আমাদের স্বর্গভূমি ।।
========================================

বুধবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১২



কষ্ট দিতে চাইনি বলে ...
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------------


কষ্ট দিতে চাইনি তোমায় তবুও কষ্ট তুমি পেলে ,
নিজের দোষেই দোষী হলে সুনাম তোমার হারালে ।।

আমাকেও করলে তুমি তোমার দোষে দোষী ,
ভালোবেসে যাই তবুও করতে তোমায় খুশি ।
চিন্তা করোনি কভু দোষী তুমি হলে ,
তোমার দোষে দোষী হবো ভালোবাসি বলে ।।

তোমার দোষে দোষী হয়ে সব আমি হারালাম ,
তোমায় ভালোবেসে আমি আঁধার পথে দাঁড়ালাম ।
সুখি দেখতে চেয়ে তোমায় ভুল আমি করেছি ,
তোমার মতেই চলতে দিয়ে নিজকে আমি মেরেছি ।
বেশী ভালোবাসলাম বলে তোমায় আমি হারালাম ,
সুখী দেখতে চেয়ে তোমায় নিজকে দুঃখে ভাসালাম ।
তুমি সুখে আছো ভালো আছো আমায় দুঃখ দিয়ে ,
ধুঁকে ধুঁকে মরছি আমি তোমার কষ্ট নিয়ে ।
কষ্ট তোমার চাইনি আমি চাইছি সুখে থাকো ,
আনন্দ আর খুশির মাঝে আমায় মনে রাখো ।

সুখ তুমি পেয়েছো খুশি তুমি হয়েছো ,
দিয়েছো আমায় শুধু কষ্টে ফেলে ,
পাইনা কোন আনন্দ জীবনে নেই ছন্দ
ভালো আছো তুমি তাই মোর মনে সুখ যে মেলে ।।
=========================================


   

মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১২

দুই নয়নে কাঁন্দো তুমি



দুই নয়নে কাঁন্দো তুমি
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
---------------------------- 


পূর্বকথন ঃ পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে , 
যারা সুন্দর সাজানো সংসার ভেঙ্গে ,
অন্যের সাথে ভেগে যায় -  
তাদেরই স্মরণে এই ক্ষুদ্র প্রয়াস

*************************** 

দুই নয়নে কাঁন্দো তুমি ! কাহার লাগিয়া ?
আমার জন্যই কাঁন্দো তুমি – বললে রাগিয়া !!
হোঁছট খাইলাম তোমার কথায় , বুঝে আসেনি
প্রেম সাগরে ভাসিয়ে আমায় ভালবাসনি
এখন তবে কান্না কেন ! বুঝে আসেনা
বহুদিনের পুরান কথা মনে ভাসেনা ।
তোমায় একদিন চেয়েছিলাম মনে প্রাণে
সেই চাওয়া মিটে গেছে সময়ের বানে ।
আঠার বৎসর কেটে গেল তোমায় ভাবিয়া
পাইনি তোমায় কাছে আমি গেলে ভাগিয়া ।
এখন তবে কিসের কাঁন্দা আমায় দেখিয়া ?
যা চেয়েছ পেয়েছ তুমি সেদিন ভাগিয়া ।।
ভুলে গেছি সবকিছু ভুলে গেছি তোমাকে ,
আবার কেন আসলে কাছে ব্যথা দিতে আমাকে ?
পারবোনা যে সইতে আমি তোমার দেয়া ব্যথা আর
দোহায় তোমার ফিরে যাও দিওনা ব্যথা পূণর্বার ।
নাকি কাঁন্দা কেঁদোনা আর কাছে এসোনা
ভালোবাসার ছলনায় আমায় ধ্বংস করোনা ।
অনেক কাঁন্দা কেঁন্দেছি , অনেক কষ্ট সয়েছি
তুমি বিহীন আমি এখন অনেক ভালো রয়েছি ।
স্বর্গ সুখে সুখী আমার একেলা জীবন
খুশিতে মোর কাটছে সময় , আনন্দিত মন ।
কেন আবার দেখা দিলে না পাই ভাবিয়া
নতুন করে ভেবে মরি রাত্র জাগিয়া ।
পাইনা ভেবে কি কারনে বললে কাঁন্দিয়া
আমার কাছেই ভালো ছিলে ভুল হয়েছে ভাগিয়া ।।
======================================== 

তুমি বাশরিয়ার বাঁশীর সুর



তুমি বাশরিয়ার বাঁশীর সুর
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
---------------------------- 


বাশরিয়া বাজায় বাঁশী তোমারই স্মরণে ,
তোমারই তরে আসে সুর বাশরিয়ার মনে ।।

বাশরিয়ার সুর সেতো তোমারই স্মরণ ,
বাজে বাঁশী বাশরিয়ার সে তো তোমারই কারণ ।
বাশরিয়ার সুর শুনে সবাই পাগল হয় ,
সেই সুর তোমার কাছে যেন বিষময় !
বাশরিয়ার সুমধুর সুর প্রেমের বীজ বুনে ,
যার তরে প্রেমের চাষ দেখেনা সে নাহি সুর শুনে !!

দিবা নিশি বাজায় বাঁশী বাশরিয়া বসে ,
আঁখি যে তার টলমল প্রেমসুধা রসে ।
তোমারই প্রেমের অভিলাষে বাশরিয়ার বাঁশী
নিত্য জপে তোমারই নাম সুরের সাথে ভাসি ।
সুরে সুরে তোমায় ডাকে বাশরিয়া মনে ,
যেই সুর করে তোলপাড় সকল জন মনে ।
তোমার মন হয়না নড়চড় তবুও সকল কিছু শুনে ,
বাশরিয়ার বাঁশী বেজে যায় শুধুই প্রহর গুণে ।।

বাশরিয়ার হয়না দেখা তোমার সাথে কভু ,
তোমারই প্রেমে বাজায় বাঁশী বাশরিয়া তবু ।
বাশরিয়া আশায় থাকে শুনবে তুমি একদিন ,
তারই সাথে সুর মিলাতে আসবে তুমি সেইদিন ।
আশায় আশায় বাজায় বাঁশী বাশরিয়া একমনে ,
বাঁশীর সুর শুনবে তুমি মিলবে তুমি তার সনে ।।
========================================

সোমবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১২

একটা সোনালী সকাল




একটা সোনালী সকাল
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
-----------------------------


পূর্ব দিগন্তে লালিমাময় সূর্যের হাতছানী
জানান দেয় ঊষাকাল এখন নতুন প্রভাতের
পাখ-পাখালীর কলকাকলীতে ভেঙ্গে যায়
মানুষদের নিদ্রাজগত ,
কুয়াশার আবরন ভেদ করে
উঁকি দেয় প্রভাত রবি ,
জনমানবহীন জনপদে শুরু হয়
মানুষদের পদচারণা ,
নতুন দিনের নতুন কর্মসূচী নিয়ে
মাঠে নামে জনতা ,
নতুন দেখা স্বপ্নের বাস্তবায়নে
পদ সঞ্চালন করে স্বপ্নচারী ,
অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছবার স্বপ্ন নিয়ে
যাত্রা করে অভিযাত্রী ,
এভাবেই ধরা দেয় মানুষদের কাছে
একটা সোনালী সকাল ।  

শীতার্ত দিনের এমনই এক সোনালী সকালে
গাঁয়ের এক মেঠো পথে প্রাতঃভ্রমনে গিয়ে দেখি
কিষান – কিষাণীর যাপিত জীবন ,
দেখতে পাই –
কিভাবে দিচ্ছে তারা আমাদের খাদ্য-জোগান ?

গায়ে শুল দেয়া শীতকাতুরে সকাল ;
রাতের নীরবতা ভেদ করে সদ্য উদ্ভাসিত
কুয়াশার চাদরে ঢাকা কিষানদের আঙ্গিনা ।
পূর্ব দিগন্তে দৃষ্টি দিয়ে দেখি –
নজরে আসছেনা তখনো প্রভাত রবির ঊষাকাল ।
আলো – আঁধারীর সন্ধিক্ষণে
আঙ্গিনায় দেখা দিলো কিষাণবধুর আবছা ছায়া ।
গায়ে শুল দেয়া শীতের প্রকোপে জবুতবু কিষাণবধু ,
হালকা ছাদর গায়ে জড়িয়ে
নেমে গেছে জীবনযুদ্ধের মাঠে ,
আমাদের খাদ্য জোগানের আয়োজনে ।
গোয়াল ঘরে ডুকে বের করে নিয়ে এলো
একে একে পাঁচটা গরু !
তখনো ধনীর দুলারীরা রয়ে গেছে ঘুমে ,
লেপ-তোষকের উষ্ণ আবরনে
ঢাকা পড়েছে তাদের শীতের প্রকোপ ,
চিন্তা কি তাদের ?
রয়েছে তাদের কালো টাকার পাহাড় ,
যা দিয়ে কিনতে পারবে তারা
কিষাণ বধুর সুখ ।
যে সময় চলছে
ধনীর দুলালীদের এই স্বপ্ন দেখা ,
সে সময় নেমে গেছে মাঠে কিষাণ বধু   
তার সকল সুখ জলঞ্জলী দিয়ে !
হয়ে গেছে ব্যস্ত সে
মানুষের আহার জোগানোর আয়োজনে !

গোয়াল ঘর পরিস্কার করে বের হলো কিষাণ বধু ,
জমিন থেকে কেটে আনা ধান
উঠুন জুড়ে ছিটিয়ে দিলো
গরু গুলোকে বেঁধে দিলো একসাথে একটা রশিতে ,
দাঁড় করালো গরু গুলোকে ধানের উপর ,
সারিবদ্ধ গরু গুলোকে নিয়ে ঘুরে ঘুরে
শুরু করলো ধান মাড়াই !

তখনও সবাই গভীর ঘুমে অচেতন !
পাশের ঘরে শুনা গেলো –
বৃদ্ধ - বৃদ্ধার খুক্ খুক্ করে কাশীর শব্দ
জানান দিচ্ছে তারা হয়েছে সকাল ।
নেমে এলো উঠুনে কিষানের পুরো পরিবার !
ধান মাড়াইয়ের কাজ শেষ করলো কিষান বধু ।
পূর্ব গগনে দেখা দিলো সূর্যোদয়ের রক্তীম আভা ।
আলো–আঁধারী কেটে গেলো , 
উদ্ভাসিত হলো দিনের উজ্জ্বল আলো ।

ঘরের ভিতরে চলে গেলো
পর্দানশীন কিষাণবধু ,
শুরু করলো ধান পরিস্কারের কর্ম ,  
শুনা গেলো কুলা – ডালার শব্দ !

এভাবেই দেখলাম একদিন
কিষানের আঙ্গিনায় – একটা সোনালী সকাল ।
======================================