আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা

বাংলা ভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী

সকল মহান ভাষা শহীদগণের প্রতি,
এবং ভাষা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত

সকল ভাষা সৈনিক
ও বীর বাঙ্গালীদের জানাই অশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলী,
সেইসাথে সকলকে জানাই

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা।

বিষয় সূচী

সাহিত্য (60) অন্যান্য কবিতা (53) ভালোবাসার পদবিন্যাস ( প্রেম সম্পর্কিত রচনা বিশেষ ) (53) আমার লেখা প্রবন্ধ-নিবন্ধ (37) কবিতা (35) দেশ নিয়ে ভাবনা (33) ফিচার (33) বাংলাদেশ (29) সমসাময়িক (28) খন্ড কাব্য (26) হারানো প্রেম (22) সংবাদ (18) কাল্পনিক প্রেম (16) ইতিহাস (15) প্রতিবাদ (15) সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ (15) Online Money Making Links (14) দেশাত্মবোধক কবিতা (13) আমার জীবনের দিনপঞ্জী (12) ধর্ম (12) প্রেমের কবিতা (11) ব্যক্তিত্ব (11) রাজনীতি (11) ধর্মীয় আন্দোলন (10) প্রবাসের কবিতা (10) খন্ড গল্প (9) জীবন গঠন (9) বর্ণমালার রুবাঈ (9) ইসলাম (8) প্রগতি (8) মানুষ ও মানবতা (8) হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ (8) VIDEOS (7) আমার লেখালেখির অন্তরালে (7) ইসলামী জাগরণ (7) মানব মন (7) ট্র্যাজেডি (6) শোক সংবাদ (6) সম্প্রীতি (6) নারী স্বাধীনতা (5) প্রেমের গল্প (5) বিজয় দিবসের ভাবনা (5) মৃত্যুপথ যাত্রী (5) সংবাদ মাধ্যম (5) স্মৃতিকথা (5) ঈদ শুভেচ্ছা (4) প্রবাস তথ্য (4) রমজান (4) শুভেচ্ছা (4) Computer Programer (3) আমার ছবিগুলো (3) আমার রাইটিং নেটওয়ার্ক লিংক (3) পর্দা (3) ফটিকছড়ি (3) বাংলাদেশের সংবিধান (3) বিশ্ব ভালবসা দিবস (3) শিক্ষা (3) শিক্ষার্থী (3) স্লাইড শো (3) News (2) VERIETIES POEMS OF VERIOUS POETS (2) আষাঢ় মাসের কবিতা (2) আষাঢ়ের কবিতা (2) ইসলামী রেনেসাঁ (2) ছাত্র-ছাত্রী (2) থার্টি ফাস্ট নাইট (2) নারী কল্যান (2) নারী প্রগতি (2) নির্বাচন (2) বর্ষার কবিতা (2) মহাসমাবেশ (2) শবেবরাত (2) শরৎকাল (2) শাহনগর (2) শ্রদ্ধাঞ্জলী (2) সত্য ঘটনা (2) সত্য-মিথ্যার দ্বন্ধ (2) সফলতার পথে বাংলাদেশ (2) Bannersআমার ছবিগুলো (1) DXN (1) For Life Time Income (1) For Make Money (1) Knowledge (1) Student (1) অদ্ভুত সব স্বপ্নের মাঝে আমার নিদ্রাবাস (1) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (1) আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত(সুন্নী) (1) উপন্যাস (1) কবি কাজী নজরুল ইসলাম (1) কোরআন - হাদিসের কাহিনী (1) গল্প (1) চট্টগ্রাম (1) চিকিৎসা ও চিকিৎসক (1) জমজম (1) জাকাত (1) তরুন ও তারুণ্য (1) নারী জাগরণ (1) পরকিয়ার বিষফল (1) ফটিকছড়ি পৌরসভা (1) বন্ধুদিবস (1) বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেম (1) বিবেক ও বিবেকবান (1) বিশ্ব বাবা দিবস (1) বিশ্ব মা দিবস (1) ভ্রমণ (1) মন্তব্য (1) মাহফুজ খানের লেখালেখি (1) রবি এ্যাড (1) রমজানুল মোবারক (1) রেজাল্ট (1) রোগ-পথ্য (1) লংমার্চ (1) শহীদ দিবস (1) শুভ বাংলা নববর্ষ (1) শৈশবের দিনগুলো (1) সমবায় (1) সস্তার তিন অবস্থা (1) সাভার ট্র্যাজেডি (1) সিটি নির্বাচন (1) স্বপ্ন পথের পথিক (1) স্বাধীনতা (1) হ্যালো প্রধানমন্ত্রী (1) ২১ ফেব্রোয়ারী (1)

APNAKE SHAGOTOM

ZAKARIA SHAHNAGARIS WRITING

সকলকে বাংলা নতুন বছরের শুভেচ্ছা

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আমরা আর বাংলা ভাষায় কথা বলতে চাইনা । নিজের মাতৃভাষাকে যখন-তখন যেখানে সেখানে অবমাননা করে তৎপরিবর্তে ইংরেজী ভাষা ব্যবহার করতে অভ্যাস্থ হয়ে যাচ্ছি বা হয়ে গেছি ।
আরও একটু এগিয়ে গেলে বলতে হয় - আমরা আজ বাঙ্গালী হয়ে বাঙ্গালী জাতিসত্বা ভুলে গিয়ে ইংরেজী জাতিসত্বায় রক্তের ন্যায় মিশে গেছি !

অথচ একদিন আমরা বাঙ্গালী জাতি একতাবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রীয় ভাষা উর্দুকে ত্যাগ করে নিজেদের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা তথা বাংলা ভাষাকে সর্বত্র প্রচলন করতে প্রাণ দিতে বাধ্য হয়েছিলাম ! ফলে বিজাতীয় ভাষা উর্দূকে অপসারন করে নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলার স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলা ভাষাকে ধারন করেছিলাম । যখন আমরা বাংলার সর্বত্র বাংলা ভাষায় কথা বলা শুরু করেছিলাম ,তখন কিন্তু বিশ্বায়নের যুগটা অনুপস্থিত ছিল তা নয় , বিশ্বায়নের যুগটা তখনও ছিল বিধায় আমরা ইংরেজী শিক্ষায় তখনও বাধ্য ছিলাম । অর্থাৎ যে জন্যে আজ আমরা ইংরেজী শিখছি সেইজন্যে তখনও ইংরেজী শিক্ষার প্রচলন ছিল । ছিল ইংরেজী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাও । তাই বলে সে সময় বর্তমান সময়ের মত মাতৃভাষা বাংলাকে অবমাননা করা হয়নি । মানুষ সে সময় বাংলায়ই কথা বলেছিল । শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রেই সে সময় ইংরেজী ব্যাবহার করেছিল বাঙ্গালী জাতি

conduit-banners

Powered by Conduit

ফ্লাগ কাউন্টার

free counters

MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY

PLEASE CLICK ON MY BANNERS. VISIT MY AFFILIATE SITE "MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY ( অনলাইনে অর্থোপার্জনের একটা মাধ্যম )" I HOPE IT WILL BE HELPFUL FOR YOU. Create your own banner at mybannermaker.com!

মঙ্গলবার, ১৯ জুন, ২০১২

বৃষ্টি দিনের ভালোবাসার কথন -পর্ব-০১



বৃষ্টি দিনের ভালোবাসার কথন -পর্ব-০১
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
-----------------------
০১।

ঝম ঝমা ঝম বৃষ্টি পড়ে মনের ঘরে কষ্ট পাই ,
মেঘলা আকাশ মন যে ভাঙ্গে তবুও তোমার দেখা নাই ।
বৃষ্টিমুখর রাস্তা দিয়ে চলছি আমি একা একা ,
বজ্রপাতে মরছি আমি তবুও যে নাই তোমার দেখা !

০২।
বৃষ্টি ভেজা রজনী আজ সঙ্গী আমার নেই পাশে ,
শীতার্ত মোর গাত্রখানি সময় যেন মোর জীবন নাশে ,
শীতল শীতল হাওয়া বহে চমকে বিজলী উর্ধাকাশে ,
দূরে বসে প্রিয়া আমার আমায় দেখে চুপকে হাসে !

০৩।
বললো প্রিয়া - ভালই হলো , বৃষ্টি এলো ঝম ঝমিয়ে
বললাম আমি - কি লাভ বলো ? আসবে কাছে কম কমিয়ে ,
বললো প্রিয়া - তাইতো ভালো , দুষ্টুমিটা করবে কম
বললাম আমি - তা হবেনা , আসবো কাছে থাকলে দম ।

০৪।
এমন দিনটি পাবে কি আর এই জীবনে ফিরে ?
বৃষ্টি চাপে আসলে কাছে একলা আমার নীড়ে !
এমন মধুর ক্ষণটি কি আর দেখতে পাব কভু ?
কাছাকাছি বসছি দু'জন বিপদ জেনেও তবু ।

০৫।
রং ধরেছে মনের কোণে বৃষ্টি ফোটায় আজ ,
ভালবাসবো আমরা যে আজ বাদ দিয়ে দাও কাজ ।
বৃষ্টি জলে করব স্নান আনন্দেতে মেতে ,
ভালোবাসার রাতটি যে আজ মনে নিও গেঁথে ।

০৬।
গুড়ুম গুড়ুম আকাশ ডাকে মন হয়ে যায় বেতাল ,
বৃষ্টি ভরা রাতটি যে আজ করলো আমায় মাতাল !
কি করব , কোথায় যাব ? দিকহারা আজ আমি ,
এমন ভাবে দেখছো কি গো আমার দিকে তুমি ?

০৭।
উর্ধ্বে বাদল নিম্নে বৃষ্টি
দিই কোথা মোর দৃষ্টি ?
আমার জন্য তুমিই যে গো
ভালোবাসার সৃষ্টি ।

০৮।
ঐ আকাশে মেঘ জমেছে
বৃষ্টি হবে আবার ,
সময় এলো প্রিয়া ওগো
তোমায় কাছে পাবার ।

০৯।
দূর গগণে বাদল ছুটে
বৃষ্টি এলো বলে ,
এসো কাছে সজনী গো
লেগে যাও মোর গলে ।

১০।
মন মঝেছে বৃষ্টি দিনে
কি যে করি এখন ?
তুমি বিহীন অচল আমি
পাবো তোমায় কখন ?

১১।
আজকের চাঁদটাকে দেখেছো কি তুমি ?
নিখুঁত আলোয় করেছে উজ্জ্বল রাতের আকাশ !
বৃষ্টি মুখর রাত্র যখন আসবে তুমি কাছে
আলোকিত হবে মন যে আমার লাগবে সুখের বাতাস ।

১২।
রূপের মাঝেই রূপ দিয়েছে আজ যেন ধরা !
বৃষ্টি মাখা পথেই তোমার হয়ে গেছে আজ দেখা !
এ যেন না চাইতেই অনেক পাওয়া হয়েছে আমার !
রূপের পাহাড় ডিঙ্গিয়ে যায় কিভাবে মানুষ হয়নি যে মোর শেখা ।

১৩।
অপরূপে সেজেছে দেখ প্রকৃতি আজ !
বৃষ্টিতে ভিজে পাতারা পড়েছে সবুজের সাজ !
চারিদিকে নেমেছে যেন আজ শান্তির শীতল ধারা !
এসোনা , এই প্রকৃতির সাথে হয়ে যাই আমরা আনন্দে মাতোয়ারা ।
============================
 

রবিবার, ১৭ জুন, ২০১২

সৌদি প্রিন্স নায়েফ বিন আবদুল আজীজের নামাজে জানাযা সম্পন্ন



PHOTOGRAFH OF JANAJAH

সৌদি প্রিন্স নায়েফ বিন আবদুল আজীজের
নামাজে জানাযা সম্পন্ন
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
প্রিন্স নায়েফ বিন আবদুল আজীজ
----------------------------

আজ ১৭ই জুন রবিবার মাগরীব নামাজের পর সন্ধ্যা ০৭ টা ২০ মিনিটে মক্কার হারাম শরীফে সৌদি প্রিন্স নায়েফ বিন আবদুল আজীজ আল সউদের নামাজে জানাযা সম্পন্ন হয়েছেসৌদি আরবের বাদশা ও প্রিন্স নায়েফের ভ্রাতা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজীজ আল সউদ এ জানাযায় উপস্থিত ছিলেন । লাশ রাজকীয় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।  

গত ১৬ই জুন শনিবার সুজারল্যান্ডের জেনেভায় চিকিৎসারত অবস্থায় আকস্মিক ইন্তেকালের পর তাঁকে সৌদি আরবে নিয়ে আসা হয় । মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বৎসর (১৯৩৪ – ২০১২)

বর্তমান বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজীজ আল সউদ কর্তৃক কিছুদিন পূর্বে নির্ধারিত উত্তরাধিকারী বাদশা প্রিন্স সুলতান বিন আবদুল আজীজের মৃত্যুবরনের পর , তিনি তাঁর মৃত্যুপরবর্তী সৌদি আরবের উত্তরাধিকারী বাদশা হিসাবে এই প্রিন্স নায়েফ বিন আবদুল আজীজ আল সউদকে মনোনীত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন । এখন এ প্রিন্স নায়েফের মৃত্যুর পর বর্তমান বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজীজ আল সউদ (৮৯) এর পরবর্তী বাদশা হিসাবে প্রিন্স সালমান বিন আবদুল আজীজ আল সউদ (৭৬) কে মনোনীত করা হয়েছে বলে জানা গেছে ।
======================================



প্রিন্স নায়েফ বিন আবদুল আজীজের কিছু স্থিরচিত্র


প্রিন্স নায়েফ বিন আবদুল আজীজ
প্রিন্স নায়েফ বিন আবদুল আজীজ
প্রিন্স নায়েফ বিন আবদুল আজীজ
প্রিন্স নায়েফ বিন আবদুল আজীজ
প্রিন্স নায়েফ বিন আবদুল আজীজ
প্রিন্স নায়েফ বিন আবদুল আজীজ
প্রিন্স নায়েফ বিন আবদুল আজীজ
প্রিন্স নায়েফ বিন আবদুল আজীজ
প্রিন্স নায়েফ বিন আবদুল আজীজ

==========================


বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজীজ আল সউদের কিছু স্থিরচিত্র
বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজীজ আল সউদ 
বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজীজ আল সউদ 
বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজীজ আল সউদ 
বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজীজ আল সউদ 
বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজীজ আল সউদ 
বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজীজ আল সউদ 
================================================


স্থিরচিত্রে নামাজে জানাযার দৃশ্য

নামাজে জানাযায় বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজীজ আল সউদ 
নামাজে জানাযায় বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজীজ আল সউদ 
নামাজে জানাযায় বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজীজ আল সউদ 
নামাজে জানাযায় বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজীজ আল সউদ 
নামাজে জানাযায় বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজীজ আল সউদ 
নামাজে জানাযায় বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজীজ আল সউদ 
নামাজে জানাযা
নামাজে জানাযা
নামাজে জানাযা
নামাজে জানাযা
নামাজে জানাযার পর লাশ জেদ্দার পথে

নামাজে জানাযার পর লাশ জেদ্দার পথে
নামাজে জানাযার পর লাশ জেদ্দার পথে
নামাজে জানাযার পর লাশ জেদ্দার পথে
নামাজে জানাযার পর লাশ জেদ্দার পথে
নামাজে জানাযার পূর্বে মসজিদুল হারাম
নামাজে জানাযার পূর্বে মসজিদুল হারাম
নামাজে জানাযার পূর্বে মসজিদুল হারাম
নামাজে জানাযার পূর্বে মসজিদুল হারাম
নামাজে জানাযার পূর্বে মসজিদুল হারাম
নামাজে জানাযার পূর্বে মসজিদুল হারাম
নামাজে জানাযার পূর্বে মসজিদুল হারাম
নামাজে জানাযার পূর্বে মসজিদুল হারাম
নামাজে জানাযার পূর্বে মসজিদুল হারাম====================================================



কোন মুসলমানের কপালে তীলক লাগানো ও সিঁথিতে সিঁদুর পড়ানো সম্প্রীতির নমুনা নয় - ধর্মীয় অনুশাসন অমান্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত


কোন মুসলমানের কপালে তীলক লাগানো ও
সিঁথিতে সিঁদুর পড়ানো সম্প্রীতির নমুনা নয় -
ধর্মীয় অনুশাসন অমান্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------
( মুখবন্ধ : একটা মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এ লেখাটি লিখিত )

মানুষ হিসাবে সকল মানুষ এক ও অভিন্ন কিন্তু তাদের নিজ নিজ ধর্ম অনুশাসনে তারা পৃথক , মানুষ এবং প্রতিবেশী হিসাবে মানবজাতি এমন ভাবে বসবাস করবে যেন তারা ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ ।

মানবতার এই নীতি অনুসারে আমরা মুসলমানরা হিন্দুদের ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতিবেশী হিসাবেই বেড়ে উঠেছি , বেড়ে উঠছি , করছি তাদের সাথে চলাফেরা , থাকছি তাদের পাশে , রাখছি তাদের সাথে সুসম্পর্ক , গড়ে তুলছি বন্ধত্বের বন্ধন ।

তা ছাড়া হিন্দু বা অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসন আর মুসলমানদের অনুশাসন এক নয় । এক নয় হিন্দু-মুসলীমের সামাজিক রীতি রেওয়াজও । তাই কোন মুসলমানকে যেমন হিন্দু বা অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ও সামাজিক রসম রেওয়াজে নিজেদের ধর্মীয় ও সামাজিক রসম রেওয়াজকে অমান্য করে তাদের অনুকরণ অনমোদনযোগ্য নয় , তেমনি অনুমোদনযোগ্য নয় অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের জন্যও । তবে কোন ব্যক্তি যদি নিজ ধর্ম ত্যাগ করে ভিন্ন ধর্মের অনুশাসন ও সামাজিক রসম রেওয়াজে নিজকে শামিল করে তবে সেটা ভিন্ন কথা , এতে সে ধর্মবিচ্যুৎ বলে গণ্য হবে । কারণ , এক ধর্মের অনুশাসন , অন্য ধর্মে গ্রহণযোগ্য নয় । প্রত্যেকটি ধর্মই নিজ নিজ অনুশাসনে শাষিত ।

তিলক ও সিঁদুর লাগানো হিন্দু সমাজের একটা প্রথা , যা মুসলমানদের জন্য কোন অবস্থাতেই গ্রহণ যোগ্য নয় ।

সম্প্রীতির লক্ষ্যে কাউকে ধর্মচ্যুত হতে হয়না । সম্প্রীতি তাকেই বলা হয় , যা সমানাধিকারের মাধ্যমে সৃষ্ট একটা প্রীতি ও ভালোবাসায় জড়ানো বন্ধুত্বের বন্ধন । যাতে নিজেদের নিজ নিজ ধর্ম পালন ও অধিকার সংরক্ষণে সুদৃঢ় একটা সেতুবন্ধনে রূপ নেয় ।

কারো অধিকার হরণ , ধর্মের অনুশাসন থেকে বিচ্যুতি করে নিজেদের অনুশাসন তথা রসম রেওয়াজে বাধ্য করণ কখনোই সম্প্রীতির বন্ধন হতে পারেনা । এটা কোন ধর্মই স্বীকৃতি দেয়না । যদি বলা হয় কোন মুসলমানকে হিন্দু সমাজে গিয়ে কপালে তীলক লাগানো ও সিঁথিতে সিঁদুর পড়ানো একটা সম্প্রীতির নমুনা - তবে সেটা হবে উভয় সমাজের ধর্মীয় অনুশাসন অমান্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ।
=================

শুক্রবার, ১৫ জুন, ২০১২

আষাঢ়ের প্রথম দিনে



আষাঢ়ের প্রথম দিনে
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------------

আসলো আজি আষাঢ় মাস বর্ষা দিনের আগমনে
বারিধারায় কমবে গরম আসবে শান্তি দেহ মনে ।
লিখবে কবি কবিতা আষাঢ়ের এই প্রথম দিনে ,
আষাঢ় দিনের দেশের রূপ ধরবে তুলে কাব্য বীণে ।

জল থৈ থৈ রাস্তা ঘাটে কে কে যাবি চল
নামলো আজি ঝুমঝুমিয়ে আষাঢ় মাসের ঢল ।
বৃষ্টি বাদল সঙ্গে করে আসলো আজি আষাঢ় মাস
বৃষ্টি ফোটা গায়ে মেখে নাচতে নামবে সকল হাঁস ।
আষাঢ় মাসের বারিষনে ভাসবে সকল রাস্তাঘাট ,
বাদলা দিনের কদম ফুলে সেজে উঠবে বাগান মাঠ ।

ওরে তোরা কে কোথায় আজ চলনা যাই ঐ ফুলবাগান ,
ফুলের শোভায় দেবোরে আজ বর্ষা দিনের গানের টান ।
বৃষ্টি ফোটায় ভিজে ভিজে সাজাবো আজ সকল পথ ,
কদম ফুলেই দেবোরে সাজ করিসনা তোরা দ্বিমত।
খেলবো রে আজ আয় না সবাই আষাঢ় মাসের বৃষ্টিতে ,
আষাঢ়ের দিন আসলো আজি মনানন্দের সৃষ্টিতে ।
=====================================

রবিবার, ৩ জুন, ২০১২

মন ভালো নেই



মন ভালো নেই
- মাহফুজ খান

----------------- 


প্রবাস জীবনে হৃদয় আজ ব্যথিত
আমার দেশের জন্য,
তাই মন ভালো নেই।
কেউ কাউকে পড়োয়া করছে না
লাঞ্চিত এবং বঞ্চিত আজ দেশের মানুষ 
মান-সন্মান আজ পদদলিত
বিচার যেখানে আদালতের দরজায় মৃত একটি লাশ
অর্থনীতি, নীতির সীমানা থেকে আজ অনেক দূরে
দরপতনের ধারায় পুঁজিবাজার
রাজনীতিবিদগণ প্রশ্নবোধক খেলায় ব্যস্ত,
সময় নেই তাদের অন্য কোন বিষয়ে।
এ দেশকে আর কতটা ন্যাংটো করলে
শান্তি পাবে সবাই।
দেশটাকে নিজের করে ভাবতে ভীষণ ভয় হয়
এই ভাবনাই আজ,
মন ভালো নেই।
=====================



শনিবার, ২৬ মে, ২০১২

স্বপ্ন পথের পথিক – ০০১ , ০০২ , ০০৩



বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

স্বপ্ন পথের পথিক–০০১

স্বপ্ন পথের পথিক – ০০১
- মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
------------------------------


ভুমিকা ঃ -

“ স্বপ্ন পথের পথিক ” - শান্তি-সুখের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে একদল স্বেচ্ছা সেবক কর্মী বাহিনীর দেশের শান্তি রক্ষায় আত্মনিবেদিত কর্মী হিসাবে আত্মোৎস্বর্গের কল্পকাহিনী নিয়ে রচিত - একটা ধারাবাহিক উপন্যাস ।উপন্যাসটির সকল চরিত্র এবং ঘটনা সবকিছুই কল্পনা প্রসূত , বাস্তবের সাথে এ লেখার কোন মিল খুঁজে পেলে তা হবে নিতান্তই কাকতালীয় ঘটনা ।



এ লেখায় সুন্দর সমাজ বিনির্মানের লক্ষ্যে লেখকের ক্ষুদ্র মস্তিস্কে ঘুরপাক খাওয়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চিন্তা সমষ্ঠি প্রদর্শিত হবে । সকলকে প্রতিটি পর্ব পড়ে মন্তব্য করতে অনুরোধ থাকলো । সেই সাথে রইল উপন্যাসটি ভালোই ভালোই শেষ করার লক্ষ্যে সকলের কাছে দোয়ার আবেদন ।

পর্ব – ০০১
=========

স্মার্তরক্ষা কর্মী সংঘ ( স্মারক ) এর প্রধান অফিসের গবেষণা কক্ষে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার গবেষণায় রত মামুন । এই তো চার বছর পূর্বেও এ অফিসের কোন অস্থিত্ব ছিলনা । ছিলনা স্মারক দল নামের শান্তি রক্ষা ও সমাজ সংস্কার মুলক কর্মকান্ডে নির্ভর এই সংগঠনটিও । মাত্র চার বৎসর বয়সী এ স্মারক দল আজ পায়ে পায়ে এগিয়ে গেছে বহুদূর ।


স্মারক দলের সদস্য আজ সমগ্র দেশ ব্যাপী । এমন কি দেশের প্রায় প্রতিটি ঘরই আজ স্মারক দলের সদস্য । দেশের প্রতিটি জিলায় , উপজিলায় , পৌরসভায় , থানায় , ইউনিয়নে , গ্রামে , মহল্লায় , বাজারে আজ স্মারক দলের এক একটা অফিস । অফিস রয়েছে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও এক একটি করে । প্রতিটি অফিসে কাজ করছেন বিপুল পরিমাণ স্মারক । প্রতিটি অফিসের অধীনে রয়েছেন স্মারক দলের লিষ্ট ও সদস্যভুক্ত প্রতিটি ঘরবাড়ীর কর্ণদারগণ ।

“ আদর্শ গণপাঠ মজলিশ ( আগম ) বা IDEAL PUBLIC READING ASSAMBLY “ ( সুশীল সমাজ প্রতিষ্ঠার সদিচ্ছায় প্রতিষ্ঠিত আলোকিত মানুষ গড়ার মাধ্যম একটি আদর্শ জ্ঞান আহরন কেন্দ্র ) তার “ আলোকিত মানুষরাই সুশীল সমাজ প্রতিষ্ঠার বুনিয়াদ “ এই শ্লোগান দিয়ে আগম পাঠাগার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে সমগ্র দেশব্যাপী বিস্তার লাভ করা আজকের এই “ স্মার্তরক্ষা কর্মী সংঘ ( স্মারক )” । স্মারক আজ ছোট্ট একটা লাইব্রেরী বা এসেম্বলী নয় । দেশের সর্ববৃহৎ একটা শান্তি রক্ষা কমিটি , শান্তি রক্ষার শপথধারী একটা বৃহৎ দল । যার প্রধান অফিস দেশের রাজধানী ঢাকায় ।

স্মারক দলের প্রধান অফিসের গবেষণা কক্ষে দলের প্রচার প্রসার সহ দেশ ও দেশের জনগণের শান্তি রক্ষার গবেষণায় আত্মনিমগ্ন স্মারক দলের প্রতিষ্ঠাতা মুহম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন ( মামুন ) । তাঁর সামনে-ডানে-বামে পরিবেষ্টিত অর্ধ গোলাকার একটা বৃহৎ টেবিল । টেবিলের দু’প্রান্তে দু’টো টবে সাজানো রয়েছে তরতাজা ফুল । ডানেরটায় দু’টি লাল গোলাপ , যেন এখনই প্রস্ফুটিত হলো সেগুলো । তার উপরে দু’ফোটা জলবিন্দু টলমান । বাম পাশের টবে রজনীগন্ধার ষ্টিকগুলো ছড়াচ্ছে সুরভী । পুরোটা কক্ষ ফুলের সুরভীতে মাতোয়ারা ।

টেবিলের ডান পাশে তরে তরে সাজানো ভিন্ন ভিন্ন রঙ্গের চার-পাচটা ঠেলিফোন সেট । সম্মুখে রাখা সেলফোন , সানগ্লাস , কম্পিউটার মনিটর , তার সাথে লাগানো একটা কী বোর্ড , একটা খাতা , পেন টবে রাখা বিভিন্ন রঙ্গের কিছু কলম ও মার্কার পেন । আর রয়েছে দু’তিনটা বই । বামদিকে রয়েছে একটি ফ্যাক্স – প্রিন্টার – স্ক্যানার – ফটোকপিয়ার মেশিন । তাঁর হাতের নীচে টেবিলের কুটুরীগুলোতে দেখা যাচ্ছে যত্তোসব ফাইলের স্তুপ । টেবিলের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রন্ত পর্যন্ত নীচের কুঠুরীগুলোতে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন সাইজের বিভিন্ন রঙ্গের অগুণিত ফাইল ।
উপরে রুমের সম্মুখের দেয়ালে চালু রয়েছে একটা তোশিবা রিমোট কন্ট্রোল স্প্লীট এয়ারকুলার । মাথার উপরে জিপসের ডেকোরেটেড সিলিং । নীচে বিছানো বাহারী ডিজাইনের ফ্লোরমেট । চতুর্দিকের দেয়ালগুলোয় ওয়ালমেটে সাজানো নানা রকম দৃশ্যাবলী প্রকৃতির পরিবেশকে করে রেখেছে জীবন্ত !
---------------------------

স্বপ্ন পথের পথিক–০০২


স্বপ্ন পথের পথিক – ০০২ 
- মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
------------------------------


ভুমিকা ঃ -



“ স্বপ্ন পথের পথিক ” - শান্তি-সুখের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে একদল স্বেচ্ছা সেবক কর্মী বাহিনীর দেশের শান্তি রক্ষায় আত্মনিবেদিত কর্মী হিসাবে আত্মোৎস্বর্গের কল্পকাহিনী নিয়ে রচিত - একটা ধারাবাহিক উপন্যাস । উপন্যাসটির সকল চরিত্র এবং ঘটনা সবকিছুই কল্পনা প্রসূত , বাস্তবের সাথে এ লেখার কোন মিল খুঁজে পেলে তা হবে নিতান্তই কাকতালীয় ঘটনা ।

এ লেখায় সুন্দর সমাজ বিনির্মানের লক্ষ্যে লেখকের ক্ষুদ্র মস্তিস্কে ঘুরপাক খাওয়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চিন্তা সমষ্ঠি প্রদর্শিত হবে । সকলকে প্রতিটি পর্ব পড়ে মন্তব্য করতে অনুরোধ থাকলো । সেই সাথে রইল উপন্যাসটি ভালোই ভালোই শেষ করার লক্ষ্যে সকলের কাছে দোয়ার আবেদন ।

পর্ব – ০০২
======

হঠাৎ কোন একটি ল্যান্ডফোনে রিং বেজে উঠল পুরো কক্ষের নিরবতা ভেঙ্গে ! দ্বিতীয় রিং এর অপেক্ষায় মামুন । তীক্ষ্ন দৃষ্টি টেলিফোন সেটের উপরে । হলদে সেটটায় বেজে উঠল দ্বিতীয় রিং ।

- আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ বলে মামুন রিং এর জবাব দিলেন ।
ওপাশ থেকে “ - ওয়ালাইকুমুচ্ছালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু ’’ বলেই চট্টগ্রাম পাঁচলাইশ থানার স্মারক দলের অফিসের আমীর নিজের পরিচয় দিলেন ।
মামুন আমীর সাহেবের কুশলাদি জানতে চাইলেন
– কেমন আছেন জনাব ? আপনার পরিবারের সদস্যরা ভাল তো ?

- আলহামদুলিল্লাহ্ ! আমরা সবাই আল্লাহর রহমত ও নেক দৃষ্টিতে ভাল আছি । আপনি কেমন আছেন ? অফিসের বন্ধুরা সবাই ভাল আছেন তো ? ’’ আমীর সাহেব ও কুশলাদি জানতে চাইলেন মামুনের কাছ থেকে ।
- আলহামদুলিল্লাহ্ আমরাও সবাই আল্লার রহমতে ভাল আছি । তারপর বলুন আপনার কি খবর ?

ওপাশ থেকে আমীর সাহেবের সংবাদ শুনতে উদগ্রীব হয়ে উঠলেন মামুন । 
- জনাব একটা সুখবর ! বললেন আমীর সৈয়দ তাওহীদুল আনোয়ার ।
- কি সুখবর ? বলুন ।

মামুনের আর যেন এক মিনিট ধৈর্য্য ধরার সময় নেই । রিসিভারটা ভাল করে কানের সাথে সেটে ধরলেন তিনি ।
- সিলেটের জাফলং এ স্মারকের অফিস খোলার অভিপ্রায় নিয়ে আমার এক বন্ধু এখন আমার কাছে । সে নিজেই ওই এলাকার দায়িত্ব নিয়ে শান্তি রক্ষার লক্ষ্যে স্মারকের কর্মী হিসাবে আত্মনিয়োগ হতে চায় । আমার ধারণা তাকে দিয়ে স্মারকের আরও এক ধাপ এগুনো যাবে । আপনার সাড়া পেলে তাকে নিয়ে আপনার কাছে আসতে চাই - বললেন আমীর সাহেব ।
- ঠিক আছে , ওনাকে নিয়ে রাতেই যাত্রা করুন । এখানে আসলে বাকি কথা হবে । ( মামুন আমীর সাহেবের আগ্রহে সম্মতি দিলেন ) ততক্ষণের জন্য বিদায় । আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ ।

একটা প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠল মামুনের মুখে । রিসিভার রেখে জানালার কাঁচ ভেদ করে বাইরে দূর দৃষ্টি দিয়ে তাকিয়ে থাকলেন তিনি কিছুক্ষণ ।তারপর পুণরায় গবেষণায় লিপ্ত হলেন ।

খাতাটা উল্টিয়ে কলমটা হাতে নিয়ে কি যেন নোট করতে যাবেন , এমনি সময়ে মোবাইলটা সুরের ঝংকারে মেতে উঠলো । গাইতে লাগলো গান –

**********************

আমরা শান্তির পতাকা নিয়ে
ধরেছি শান্তির গান ,
শান্তির তরে মোরা দিব জীবন বলি
অশান্তির আগুন নিভাতে মোরা হয়েছি আগোয়ান ।।

অশান্তি দূর করনে মোরা নির্ভীক সৈনিক
মানবনা কোন বাধা – আসুক না যতই অশান্তির ঝড় ,
শান্তিকামী সব মানুষ নিয়ে শান্তির সব মন্ত্র দিয়ে
করব মোরা শান্ত সব অশান্ত ঘর ।

এই আমাদের পণ –
শান্তি রক্ষা করব মোরা ,
যায় যদিও মোদের তাতেই জান ;
পীঁছু হঠবোনা কখনো মোরা
অশান্তির ধ্বংস সাধনে করে যাব শান্তির কাম
গেয়ে যাব আমরা শুধুই শান্তির গান ।।

যেখানেই হবে অশান্তির কর্ম ধ্বংস
সেখানেই দেখবে মানুষ - আমরাই নিয়েছি তাতে অংশ ,
জেনে নাও , হে সব অশান্তির দানব !
খোলস পড়ে হয়ছো তোমরা যারা আজ শান্তির মানব !
অশান্তির দাবানল জ্বালিয়ে যদি তোমরা পেতে চাও সুখ ,
জেনে নাও , রয়েছে তোমাদের কপালে বিষ ভরা দুঃখ !

শপথ করেছি মোরা করব তোমাদের বদ
গড়ব তোমাদের দেহ দিয়ে মহাগোরস্থান ,
শান্তির মন্ত্র দিয়ে করব মোরা
তোমাদের তৈরী সব অশান্তির অবসান ।।

*************************

এই একটি মাত্র গান মামুন পুরোটা না শুনে স্বস্তি পায়না । তাই গানটির পুরোটাই রিংটোন হিসাবে বেছে নিয়ে সেট করে নিয়েছেন তিনি । গানটি শেষ হতেই কলমটা খাতার ভিতরে রেখে খাতাটা বন্ধ করে দিলেন মামুন । মোবাইলটা হাতে নিয়ে কী টিপে দেখলেন কার কল ।

“ মায়মুনা ’’! নিশ্চিত ফালতু আলাপের জন্য কল । মেয়েটির আর কোন কাজ নাই যেন ! মনে মনে বিড় বিড় করে বিরক্তির ছাঁপ ফেললেন চোখে মুখে মামুন । মোবাইলটা যথাস্থানেই রেখে দিলেন লাইনটা কেটে । ঘড়ি দেখলেন । বেলা সাড়ে বারোটা । আরও আধঘন্টা পর লাঞ্চের ছুটি ।মায়মুনার কল এই সময়ে ! ফাল্তু আলাপের জনই , নয়তো আর কি ? এ সময়ে কল করার কি দরকার ? লাঞ্চের সময় মনে করিয়ে দেবার জন্য হলেও তো কল করতো আরও আধ ঘন্টা বা চল্লিশ মিনিট পর । কলের হিসাব মিলাতে না পেরে আবারও খাতা খুলতে যাবেন এমন সময় আবারও বেজে উঠল মোবাইলটি ।
------------------


স্বপ্ন পথের পথিক–০০৩


স্বপ্ন পথের পথিক – ০০৩
- মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
------------------------

ভুমিকা ঃ -


“ স্বপ্ন পথের পথিক ” - শান্তি-সুখের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে একদল স্বেচ্ছা সেবক কর্মী বাহিনীর দেশের শান্তি রক্ষায় আত্মনিবেদিত কর্মী হিসাবে আত্মোৎস্বর্গের কল্পকাহিনী নিয়ে রচিত - একটা ধারাবাহিক উপন্যাস । উপন্যাসটির সকল চরিত্র এবং ঘটনা সবকিছুই কল্পনা প্রসূত , বাস্তবের সাথে এ লেখার কোন মিল খুঁজে পেলে তা হবে নিতান্তই কাকতালীয় ঘটনা ।

এ লেখায় সুন্দর সমাজ বিনির্মানের লক্ষ্যে লেখকের ক্ষুদ্র মস্তিস্কে ঘুরপাক খাওয়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চিন্তা সমষ্ঠি প্রদর্শিত হবে । সকলকে প্রতিটি পর্ব পড়ে মন্তব্য করতে অনুরোধ থাকলো । সেই সাথে রইল উপন্যাসটি ভালোই ভালোই শেষ করার লক্ষ্যে সকলের কাছে দোয়ার আবেদন ।

পর্ব – ০০৩
======

মামুন মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখলে কার কল । পূণরায় মায়মুনা ! এবার কথা বলতে ইচ্ছা করলেন মামুন । “ হ্যালো ’’বলতেই ওপাশ থেকে মায়মুনা “ আচ্ছালামু আলাইকুম ’’বলে প্রতিউত্তর দিলেন ।

“ ওয়ালাইকুমুচ্ছালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহ ’’। মামুন জানতে চাইলেন কল করার কারন ।
- এ অসময়ে কল কেন ?
- কেন ! ডিস্টার্ব করলাম নাকি ?
- ডিস্টার্ব করনি , তবে বিরক্ত করছ । আচ্ছা বল – প্রয়োজনীয় কিছু ?
- প্রয়োজনীয় কিছু বলেই তো অসময়ে বিরক্ত করা । আর তুমি মনে করছ ফালতু আলাপ – তা নয় কি ?
- আসলেই আমি প্রথম কল পেয়ে তাই মনে করেছিলাম । যখন দ্বিতীয়বার কল দিলে তখন মনে করেছি প্রয়োজনীয় কল ।
- জনাব , অসময়ে যখন আমাকে বিরক্ত করা হয় তখন কোন প্রয়োজনে জানতে পারি কি ?

কথার টোনে ধরা পড়ল আনন্দোচ্ছাস । কথাটা বলেই মায়মুনা একটু মজা লুঠতে চাইছেন । মামুন ও কম নয় । সময় না থাকলেও তিনি মায়মুনার সাথে মজা করতে ভুলেনা । তাই যেমন প্রশ্ন তেমন তেমন উত্তর দেয়া উচিৎ মনে করলেন মামুন ।
- অসময়ে তোমাকে যখন বিরক্ত করা হয় , তখন যা করা হয় , তা কি অপ্রয়োজনীয় কিছু ?

প্রশ্নটা করেই মামুন স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেললেন , মুখে ভেসে উঠল তাঁর তৃপ্তির হাসি ।
- বাহ্ চমৎকার ! প্রশ্নের উত্তর প্রশ্ন দিয়ে ! তবে কি আজকের গবেষণার বিষয় এটা ছিল ?

পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন মায়মুনা । মামুনও কম কি ? প্রশ্নের উত্তর তো দিতেই হয় । তাই তিনি আর দেরী করলেন না ।
- না ম্যডাম ! আজকের গবেষণার বিষয় তা ছিলনা । তবে অনুরূপ ক্যাটাগরীর ভিন্ন একটা বিষয় ছিল । জানতে চাও ?
- না , থাক । এখন জানতে চাইনা । বাসায় আসলে ভাল করে জেনে নিব । মোবাইলে তো আর ভাল করে জানা যাবেনা । ঘড়ি দেখেছ ?
- ঘড়ি দেখে কি লাভ ? তাড়াতাড়ি করতে বললে তো বলবে তোমার প্রতি আমার ভালবাসা কম । আমি তোমাকে সময় দিইনা । এক গাদা শুনিয়ে দিতে তৎপর হবে । তার চেয়ে ঘড়ি না দেখে যতক্ষণ ধরে রাখা যায় তোমাকে – তাই লাভ ।
- তাহলে আমার কথা থেকে বাঁচতেই আমার কল রিসিভ করা ! ভালবাসার টানে নয় ?

বুঝতে পারছেন মামুন , কথা বলতে গেলে একের পর এক ঝরতেই থাকবে কথার ফুলঝুরি । মাঝখানে ম্যাডামের অভিমানের মাত্রা বেড়ে গিয়ে একসময় কথা বলা বন্ধ করে দিবে মায়মুনা । তারপর তিন চারদিন মুখ গুমরাহ করে থাকবে । এটা কোনমতেই মানা যায়না । মেয়েদের গুমরাহ করা মুখের এ বদভ্যাস কোনমতেই মানানসই হতে পারেনা । প্রকৃত অর্থে মেয়েদের গুমরাহ মুখ মানায়না । ভাল লাগেনা মায়মুনার এ ধরণের গুমাহ মুখ । তাই মামুন কথার মোড় ঘুরিয়ে দিলেন ।

- কি , মোবাইলেই কথা বললে সারবে ? আমার বাসায় যাওয়া বন্ধ করতে বুঝি তোমার এই নতুন ফন্দি ? ঠিক আছে , কথা বলতে থাক । প্রয়োজনীয় কথাটা না হয় পরে শুনা যাবে । আর দুপুরের লাঞ্চটা না হয় আজ আশে পাশের কোন রেস্তোরায় সেরে নিব , কি বল ?

মামুন নিশ্চিত এ কথায় কাজ হবে । মুল প্রসঙ্গে চলে আসবে মায়মুনা । যেমন ভাবা তেমন কাজ ! 
- আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম কি জন্য কল দিয়েছিলাম ! শোন , আমার বান্ধবী মাকসুদা কিছুক্ষণ আগে চুয়াডাঙ্গা থেকে ফোন করেছে । সেখানে সে আমাদের দলের একটা ব্রাঞ্চ খুলতে চায় । সে নিশ্চিত দলের ব্রাঞ্চ খুলে সেখানে সে দলের একটা মজবুত ভিত্তি গড়ে তুলতে পারবে । সে তোমার মতামত চেয়েছে । কিছুক্ষণ পর ফোন করার কথা । তাকে কি বলব ? তা জানার জন্যই কল করেছিলাম । তাকে কি বলা যায় , বলতো ?

মায়মুার বান্ধবীর প্রস্তাবটা শুনে মামুনের শরীরে শিহরণ খেলে গেল !মায়মুনার সাথে তাঁর বিয়ের প্রায় সাত মাস পর একবার মাকসুদার সাথে তাঁর কথা হয়েছিল । সেদিনই আবিস্কার করেছিলেন মামুন মাকসুদার ভিতরের সাংগঠনিক গুণটি । যার প্রকাশ ঘটেছে তার আজকের প্রস্তাবের মাধ্যমেই !

যেদিন মামুনের সাথে মাকসুদার কথা হয়েছিল , সেদিন মামুন তার সাত মাসের দাম্পত্য জীবনের সঙ্গী মায়মুনাকে নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে । মামুন-মায়মুনা দুজনেই একে অপরের হাত ধরে সৈকত ছেড়ে উঠতে যাবে ঝিনুক মার্কেটে , এমন সময় মাকসুদার সথে দেখা হয়ে যায় মায়মুনার !

মাকসুদা সুদর্শন এক যুবকের হাত ধরে নামতে ছিল সৈকতে । মাকসুদার অট্টহাসিতে ফেটে পড়ছিল সমুদ্র দেখার আনন্দোচ্ছাস । সেই অট্টহাসি শুনে দৃষ্টি ঘুরে যায় মামুন-মায়মুনার সেদিকে। 
- “ মাকসুদা ’’ !

বলেই মায়মুনা মামুনের হাত ছেড়ে দিয়ে দৌড় দেন তাঁদের দিকে ! মামুন হতবিহ্বল ! সাথে সাথে মামুনও মায়মুনার পীছন পীছন দৌড়াতে থকেন । অল্পসময়ের মধ্যেই তাঁরা দু’জন পৌঁছে যান তাদের নিকটে ।

*********************

চলমান > > পর্ব – ০০৪ 
==========