আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা

বাংলা ভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী

সকল মহান ভাষা শহীদগণের প্রতি,
এবং ভাষা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত

সকল ভাষা সৈনিক
ও বীর বাঙ্গালীদের জানাই অশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলী,
সেইসাথে সকলকে জানাই

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা।

বিষয় সূচী

সাহিত্য (60) অন্যান্য কবিতা (53) ভালোবাসার পদবিন্যাস ( প্রেম সম্পর্কিত রচনা বিশেষ ) (53) আমার লেখা প্রবন্ধ-নিবন্ধ (37) কবিতা (35) দেশ নিয়ে ভাবনা (33) ফিচার (33) বাংলাদেশ (29) সমসাময়িক (28) খন্ড কাব্য (26) হারানো প্রেম (22) সংবাদ (18) কাল্পনিক প্রেম (16) ইতিহাস (15) প্রতিবাদ (15) সুপ্রভাত প্রবাসী বাংলাদেশ (15) Online Money Making Links (14) দেশাত্মবোধক কবিতা (13) আমার জীবনের দিনপঞ্জী (12) ধর্ম (12) প্রেমের কবিতা (11) ব্যক্তিত্ব (11) রাজনীতি (11) ধর্মীয় আন্দোলন (10) প্রবাসের কবিতা (10) খন্ড গল্প (9) জীবন গঠন (9) বর্ণমালার রুবাঈ (9) ইসলাম (8) প্রগতি (8) মানুষ ও মানবতা (8) হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ (8) VIDEOS (7) আমার লেখালেখির অন্তরালে (7) ইসলামী জাগরণ (7) মানব মন (7) ট্র্যাজেডি (6) শোক সংবাদ (6) সম্প্রীতি (6) নারী স্বাধীনতা (5) প্রেমের গল্প (5) বিজয় দিবসের ভাবনা (5) মৃত্যুপথ যাত্রী (5) সংবাদ মাধ্যম (5) স্মৃতিকথা (5) ঈদ শুভেচ্ছা (4) প্রবাস তথ্য (4) রমজান (4) শুভেচ্ছা (4) Computer Programer (3) আমার ছবিগুলো (3) আমার রাইটিং নেটওয়ার্ক লিংক (3) পর্দা (3) ফটিকছড়ি (3) বাংলাদেশের সংবিধান (3) বিশ্ব ভালবসা দিবস (3) শিক্ষা (3) শিক্ষার্থী (3) স্লাইড শো (3) News (2) VERIETIES POEMS OF VERIOUS POETS (2) আষাঢ় মাসের কবিতা (2) আষাঢ়ের কবিতা (2) ইসলামী রেনেসাঁ (2) ছাত্র-ছাত্রী (2) থার্টি ফাস্ট নাইট (2) নারী কল্যান (2) নারী প্রগতি (2) নির্বাচন (2) বর্ষার কবিতা (2) মহাসমাবেশ (2) শবেবরাত (2) শরৎকাল (2) শাহনগর (2) শ্রদ্ধাঞ্জলী (2) সত্য ঘটনা (2) সত্য-মিথ্যার দ্বন্ধ (2) সফলতার পথে বাংলাদেশ (2) Bannersআমার ছবিগুলো (1) DXN (1) For Life Time Income (1) For Make Money (1) Knowledge (1) Student (1) অদ্ভুত সব স্বপ্নের মাঝে আমার নিদ্রাবাস (1) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (1) আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত(সুন্নী) (1) উপন্যাস (1) কবি কাজী নজরুল ইসলাম (1) কোরআন - হাদিসের কাহিনী (1) গল্প (1) চট্টগ্রাম (1) চিকিৎসা ও চিকিৎসক (1) জমজম (1) জাকাত (1) তরুন ও তারুণ্য (1) নারী জাগরণ (1) পরকিয়ার বিষফল (1) ফটিকছড়ি পৌরসভা (1) বন্ধুদিবস (1) বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেম (1) বিবেক ও বিবেকবান (1) বিশ্ব বাবা দিবস (1) বিশ্ব মা দিবস (1) ভ্রমণ (1) মন্তব্য (1) মাহফুজ খানের লেখালেখি (1) রবি এ্যাড (1) রমজানুল মোবারক (1) রেজাল্ট (1) রোগ-পথ্য (1) লংমার্চ (1) শহীদ দিবস (1) শুভ বাংলা নববর্ষ (1) শৈশবের দিনগুলো (1) সমবায় (1) সস্তার তিন অবস্থা (1) সাভার ট্র্যাজেডি (1) সিটি নির্বাচন (1) স্বপ্ন পথের পথিক (1) স্বাধীনতা (1) হ্যালো প্রধানমন্ত্রী (1) ২১ ফেব্রোয়ারী (1)

APNAKE SHAGOTOM

ZAKARIA SHAHNAGARIS WRITING

সকলকে বাংলা নতুন বছরের শুভেচ্ছা

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আমরা আর বাংলা ভাষায় কথা বলতে চাইনা । নিজের মাতৃভাষাকে যখন-তখন যেখানে সেখানে অবমাননা করে তৎপরিবর্তে ইংরেজী ভাষা ব্যবহার করতে অভ্যাস্থ হয়ে যাচ্ছি বা হয়ে গেছি ।
আরও একটু এগিয়ে গেলে বলতে হয় - আমরা আজ বাঙ্গালী হয়ে বাঙ্গালী জাতিসত্বা ভুলে গিয়ে ইংরেজী জাতিসত্বায় রক্তের ন্যায় মিশে গেছি !

অথচ একদিন আমরা বাঙ্গালী জাতি একতাবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রীয় ভাষা উর্দুকে ত্যাগ করে নিজেদের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা তথা বাংলা ভাষাকে সর্বত্র প্রচলন করতে প্রাণ দিতে বাধ্য হয়েছিলাম ! ফলে বিজাতীয় ভাষা উর্দূকে অপসারন করে নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলার স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলা ভাষাকে ধারন করেছিলাম । যখন আমরা বাংলার সর্বত্র বাংলা ভাষায় কথা বলা শুরু করেছিলাম ,তখন কিন্তু বিশ্বায়নের যুগটা অনুপস্থিত ছিল তা নয় , বিশ্বায়নের যুগটা তখনও ছিল বিধায় আমরা ইংরেজী শিক্ষায় তখনও বাধ্য ছিলাম । অর্থাৎ যে জন্যে আজ আমরা ইংরেজী শিখছি সেইজন্যে তখনও ইংরেজী শিক্ষার প্রচলন ছিল । ছিল ইংরেজী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাও । তাই বলে সে সময় বর্তমান সময়ের মত মাতৃভাষা বাংলাকে অবমাননা করা হয়নি । মানুষ সে সময় বাংলায়ই কথা বলেছিল । শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রেই সে সময় ইংরেজী ব্যাবহার করেছিল বাঙ্গালী জাতি ।

conduit-banners

Powered by Conduit

ফ্লাগ কাউন্টার

free counters

MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY

PLEASE CLICK ON MY BANNERS. VISIT MY AFFILIATE SITE "MZS.ONLINE MONEY MAKING WAY ( অনলাইনে অর্থোপার্জনের একটা মাধ্যম )" I HOPE IT WILL BE HELPFUL FOR YOU. Create your own banner at mybannermaker.com!

বৃহস্পতিবার, ১ নভেম্বর, ২০১২

একটা প্রশ্নের উত্তর জানতে চাই ?


একটা প্রশ্নের উত্তর জানতে চাই ?

মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

ইন্ডিয়ানরা দোলনার শিশু থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন ব্যক্তি পর্যন্ত সকলের মুখ থেকে উচ্চারিত " আমরা বিদেশী কোন কাপড় পড়বোনা " এই শক্তিধর শ্লোগানের মধ্য দিয়েই ইন্ডিয়া বস্ত্রশিল্পের দিক দিয়ে আজ স্বনির্ভর। " গড়ে উঠেছিল এক সময় সে দেশের ঘরে ঘরে বস্ত্র ফেক্টরী। একসময় আমাদের দেশ থেকে যারা ঘরপালানো হয়ে সেদেশে যেতো তারা অন্য কোন কাজ না পেলেও ইন্ডিয়ার " ভিওয়ান্ডি " নামক স্থানে গেলেই জুটে যেতো তাদের কাজ বস্ত্রবুননের ফেক্টরীতে। ইন্ডিয়া এভাবেই তাদের বস্ত্রশিল্পকে করেছে বিশ্বদরবারে সমাদৃত।



আর " স্বনির্ভরতা অর্জনে আমরা বিদেশী পণ্য বর্জন করব " এই মহামূল্যবান সুত্র দিয়েই ইন্ডিয়া আজ তার প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতাসম্পন্ন এবং তা অর্জনে স্বচেষ্ঠ। আজও দেখতে পাই তাদের সেই দেশপ্রেম এই প্রবাসে বসে। ইন্ডিয়ানরা দেশে যাবার সময় প্রবাস থেকে তেমন কোন মার্কেটিং করেনা, কোন প্রকার বস্ত্র তো নয়-ই । এই হলো ইন্ডিয়ানদের দেশপ্রেম আর দেশের স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য তাদের প্রচেষ্ঠা।

আর আমরা দেশপ্রেমের পরিচয় দিই দেশের কলকারখানায় উৎপাদিত পণ্য বসিয়ে রেখে এবং পঁচিয়ে ফেলে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানী করে বাজারজাত করার মাধ্যমে। এই ঈদের চ্যানেল আইয়ের কৃষকের ঈদ আনন্দ অনুষ্টানে সচিত্রে দেখানো হলো তারই একটা প্রমাণ। দেশে উৎপাদিত কোটি কোটি টাকার চিনি কারখানার গুদামে বসিয়ে রেখে বিদেশ থেকে চিনি আমদানী করে দেশের চিনি শিল্পকে কিভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে। দেশীয় চিনিকল ধ্বংস করে দেখানো হচ্ছে দেশপ্রেমের প্রদর্শনী। হায়রে দেশপ্রেমিক !

আমাদের নেতারা বিদেশ থেকে আমদানী করা সার্ট প্যান্ট গায়ে না জড়ালে তারা নেতা রূপে পরিচিতি পান না । আর ইন্ডিয়ার মহাত্মা গান্ধীর মত নেতারা উলঙ্গ পায়ে হেঁটে এক জোড়া সেলাইবিন কাপড় গায়ে দিয়েও পরিচিতি পান বিশ্বনেতা রূপে ! কি দারুন নেতাদের দেশপ্রেমের নমুনা !

ইন্ডিয়া আমাদের চ্যানেলগুলো সে দেশে প্রদর্শনে বন্ধ রেখেছে , আর আমাদের দেশ ইন্ডিয়ার চ্যানেলগুলো অবাধে খুলে দিয়েছে , দেশপ্রেমের নমুনা স্বরূপ ! আর বেশী কিছু তুলে ধরতে মন চাইছেনা ,তাই এখানেই ক্ষান্ত দিলাম। তবে শেষ করার আগে একটা প্রশ্নের উত্তর জানতে চাই - দেশপ্রেম কি ও কেন ?


সোমবার, ২২ অক্টোবর, ২০১২

বাংলাদেশের মুসলীম পরিচিতি


বাংলাদেশের মুসলীম পরিচিতি
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

আল্লাহর সান্নিধ্য পাবার পথ একটাই আর তা হল - ইসলাম। ইসলামী নীতিমালার আলোকে মানব জীবন পরিচালনার মধ্য দিয়ে যেতে হয় আল্লাহর সান্নিধ্যে। ইসলাম ব্যতিত অন্য কোন রাস্তা নেই আল্লার সান্নিধ্যে যাবার। আর এই ইসলাম পথের অনুস্মরণকারীরাই মুসলীম নামে পরিচত। ইসলামী পথ ধরে চলমান মুসলীমদের একটাই আদর্শ - রাসূল(সঃ) এর আদর্শ, একটাই নীতি - আলকোরানের নীতি। তাই আল্লাহর সান্নিধ্যে যাবার একমাত্র উপায় আলকোরানের নীতি ও রাসূল(সঃ) এর আদর্শ। আলকোরানের নীতি ও রাসূল(সঃ) এর আদর্শ মেনে নিয়েই যেতে হবে আল্লাহর সান্নিধ্যে।


কিন্তু মুসলীমদের জীবনযাত্রাপথ পর্যবেক্ষণ করলে মনে হয় তারা সেই পথে যাচ্ছেনা। তারা যাচ্ছে তাদের মনগড়া পথে। আল্লাহর সান্নিধ্যে যাবার নির্ধারিত সরল সোজা পথকে খন্ডিত করে তারা তাদের মনগড়া বিভিন্ন নামে বিভিন্ন পথ সৃষ্টি করে সে সকল পথে পরিচালিত হয়েছে। বিচ্যুৎ হয়েছে মুলপথ থেকে। ফলে রেললাইনের সোজা পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে দূর্ঘটনায় পতিত হবার মত মুসলীমদের ও আজ লাইনচ্যুত হয়ে আল্লাহর সান্নিধ্যে যাবার অভিপ্রায় হয়েছে অনিশ্চিত। তারা তাদের মনগড়া সৃষ্ট পথ দিয়ে কখনো আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছতে পারবেনা। তাদের সেইসব যাত্রাপথের মধ্যখানেই তারা পতিত হবে দূর্ঘটনায়।

বাংলাদেশের মুসলীমরাও তেমনি সত্যের সহজ সরল পথটিকে অনুস্মরণ না করে সৃষ্টি করে নিয়েছে তাদের নিজ নিজ পথ। যাতে তাদের লক্ষ্য আল্লাহর সান্নিধ্যে যাবার থাকলেও তারা সেখানে না গিয়ে মুল পথ পরিহার করার কারনে চলে যাবে ভিন্নপথে, এ যেন চট্টগ্রাম যাবার জন্য যাত্রাকারী কমলাপুর স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম যাবার পথ পরিহার করে ভিন্ন পথ ধরে চট্টগ্রাম যাত্রার ইচ্ছা করা। তেমনই মুসলমানরা আল্লাহর সান্নিধ্যে যাবার মুলপথ পরিহার করে বিভিন্ন পথে যাত্রা করেছে । এখন বিবেচ্য বিষয় এই সকল মনগড়া পথ দিয়ে তারা আল্লাহর সান্নিধ্যে যেতে পারবে কিনা । আল্লাহর সান্নিধ্যে যাবার মুল পথ পরিহার করে বাংলাদেশের মুসলীমরা যে সব রাস্তায় পরিচালিত হয়েছে, সেসব রাস্তার নামানুষারেই তারা বিভিন্ন নামের মুসলীম হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। তাই বুঝতে পারা যায়না , কারা সত্যিকার যারা আল্লাহর সান্নিধ্যে যেতে পারবে ?

নীচে বাংলাদেশের এইসব মনগড়া ইসলামের পথ অনুস্মরণকারী মুসলীমদের কিছু পরিচিতি দেয়া হল। এর বাইরেও থাকতে পারে আরও অগণিত মনগড়া ইসলামী পথের মুসলীম , যা আমার জ্ঞানের বাইরে।

বাংলাদেশের মুসলীম পরিচিতি :
সুন্নী মুসলীম , ওহাবী মুসলীম , মিলাদুন্নবী মুসলীম , সীরাতুন্নবী মুসলীম , দোয়াল্লীন মুসলীম , জোয়াল্লীন মুসলীম ,সেনা মুসলীম , শিবির মুসলীম , জামাতী মুসলীম , দরবারী মুসলীম, নিরপেক্ষ মুসলীম, কট্টর মুসলীম, কাঠমোল্লা মুসলীম , মৌলবাদী মুসলীম , শিয়া মুসলীম , আহলে হাদীস মুসলীম , সালাফী মুসলীম , দেওয়ানবাগী মুসলীম , কওমী মুসলীম , আলীয়া মুসলীম , আহলুসসুন্নাহ মুসলীম , আহলে বায়েত মুসলীম , মাইজভান্ডারী মুসলীম , সাঈদাবাদী মুসলীম , চরমোনাই মুসলীম , শর্ষীনাই মুসলীম , আটরশী মুসলীম , বাঈয়ীনাত মুসলীম , দেওবন্দী মুসলীম , সুফী মুসলীম , মাজার পূঁজারী মুসলীম , দিশেহারা মুসলীম , উগ্রপন্থী মুসলীম , জঙ্গী মুসলীম , উদারপন্থী মুসলীম , সাধারণ মুসলীম , সুবিধাবাদী মুসলীম , নও মুসলীম , ধর্মত্যাগী মুসলীম , বন্ধু মুসলীম , চিশ্তিয়া মুসলীম , কাদেরীয়া মুসলীম , নক্শবন্দীয়া মুসলীম , আহমদিয়া মুসলীম , সুদখোর মুসলীম , ঘুষখোর মুসলীম , ধর্ষক মুসলীম , দর্শক মুসলীম , বক্তা মুসলীম , স্রোতা মুসলীম , ফতোয়াবাজ মুসলীম , দূর্নীতিবাজ মুসলীম , পাকিস্তানী তৈয়বী মুসলীম , সৌদী আবদুল ওয়াহাব নজদী মুসলীম , মডার্ণ মুসলীম , গোঁড়া মুসলীম , ঘুমন্ত মুসলীম , জাগ্রত মুসলীম , অত্যাচারী মুসলীম , স্বৈরাচারী মুসলীম , যুক্তিবাদী মুসলীম , অন্ধ মুসলীম , গোস্ত খাইয়্যা মুসলীম , খাটি মুসলীম , ভন্ড মুসলীম , ধূর্ত মুসলীম , ধনী মুসলীম , দরিদ্র মুসলীম , শিক্ষিত মুসলীম , অশিক্ষিত মুসলীম , কুশিক্ষিত মুসলীম , সুশিক্ষিত মুসলীম , দূর্বল মুসলীম , সবল মুসলীম , নামাজী মুসলীম , বেনামাজী মুসলীম , নামধারী মুসলীম , ছলনাকারী মুসলীম , হানাফী মুসলীম , হাম্বলী মুসলীম , শাফেয়ী মুসলীম , মালেকী মুসলীম !

সর্বশেষে প্রশ্ন করতে হয় - এসব মুসলীমদের মধ্যে ইসলামের প্রকৃত নীতি ও আদর্শধারী আল্লাহর সান্নিধ্যে যাবার প্রকৃত মুসলীম কারা ?
===================

শনিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১২

দেশের জন্য জরুরী


দেশের জন্য জরুরী
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
--------------------

দেশের জন্য জরুরী আজ দশের একতা,
দেশের জন্য জরুরী আজ নতুন এক নেতা।
দেশের জন্য জরুরী আজ বিবেকের জাগরণ,
দেশের জন্য জরুরী আজ সঠিক পথের ধারন।
দেশের জন্য জরুরী আজ পুরান নেতার বয়কট,
দেশের জন্য জরুরী আজ দেশ গঠনের সংগঠক।
দেশের জন্য জরুরী আজ অসৎ লোকদের দমন,
দেশের জন্য জরুরী আজ ন্যায়বানদের আগমন।
দেশের জন্য জরুরী আজ ন্যায়বানদের আসন,
দেশের জন্য জরুরী আজ ন্যায়-নীতিরই শাসন।
দেশের জন্য জরুরী আজ সৎ সাহসী মানুষ,
দেশের জন্য জরুরী আজ সত্য-ন্যায়ের ফানুস।
দেশের জন্য জরুরী আজ নতুন অভিরুচি,
দেশের জন্য জরুরী আজ নতুন কর্মসূচী।
=================

শনিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১২

স্বপ্নজগতের সন্ধানে

স্বপ্নজগতের সন্ধানে
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী

কান্নার নোনা জলে ভাসিয়ে দু'চোখ
বিনিদ্র প্রহর কাটি নিত্যদিন,
প্রবাস নীড়ে খুঁজি শান্তি জীবন
কষ্টের সাগরে ভেসে বিরতিহীন।।

কাঁদে চোখ কাঁদে প্রাণ কাঁদে মনটা
দেশের টানেই শুধু মোর ,
অভিনয় করে যাই সুখে থাকার
সুখ নেই জীবনে তো কষ্টেই ভরপুর।
হাসিমুখ নিয়ে চলি
যদিও থাকি আমি শান্তিবিহীন -
শান্তি-সুখের দেখা হয়না কভু ,
ফিরে তাকায়না কখনো প্রভু ,
প্রবাস জীবনে করে যাই কর্ম তবু
এই আমি বিরতি বিহীন।।

একেলা একেলা কাটাই প্রবাস জীবন
এই যে আমার নিয়তির লেখা ,
জানি অভিসপ্ত এই জীবনখানি
তবুও চলে সুখ-শান্তির স্বপ্ন দেখা।
আশার মাঝেই কাটাই বেলা
স্বপ্ন দেখি প্রতিটা দিন -
আশায় আমার বুক যে ভরা ,
স্বপ্নজগত আর দেয়না ধরা ,
স্বপ্ন-আশার তরি নিয়ে তবুও
ঘুরছি আমি বিরামহীন।।
===========

বুধবার, ১০ অক্টোবর, ২০১২

আমি কি মানুষ নই ?


আমি কি মানুষ নই ?
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

নীরলে বসে ভেবে যাই
জীবনের সূদীর্ঘ সময়ের পথ চলার কথা,
মিলাতে পারিনা জীবনের সহজ সমীকরণ
মিলেনা জীবনের সুদীর্ঘ পথচলার হিসাব।
শুধুই ভেবে যাই - এই সুদীর্ঘ পথ চলা
কোথায় দাঁড় করালো আমায় ?
আমি কি দাঁড়াতে পেরেছি মানুষদের মাঝে ?
মানুষ কি আমাকে বলা যায় ?
না রয়ে গেছি এখনো অমানুষদের সমাজে ?
ভাবনার করিডোরে একাকী হাঁটি গুঁটি গুঁটি পায়ে
চারিদিকে নিস্বদ্ধতা ,অসাড় জনপদ
আর জনমানবহীন এক দ্বিপান্তর যেন আমার চারিপাশ !
কানের কাছে ধ্বনিত হয় যে চেঁচামেছি সেতো ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ,
জনমানবের শোরগোল যেন যায়না শুনা।
ভাবি, মানুষ থাকলেই তো মানুষদের শোরগোল যাবে শুনা
তবে জীবনের পথ ধরে আমার এ কোথায় আগমন !
যে পৃথিবী মানুষের জন্য গড়া সেখানে নেই মানুষদের বসতি,
মানুষের রূপ ধরে বসবাস সেখানে অদ্ভুত সব জীবের !
চারিদিকে ধাউ ধাউ করে জ্বলছে আগুন ,
বিপন্ন আজ মানবতার মসৃণ পথ ,
মানুষরূপী অদ্ভুত সেই জীবদের চলছে পৃথিবী ব্যাপী ধ্বংসযজ্ঞ ;
ভাবি , আমার এ কোথায় বসতি স্থাপন , কেন আমার এখানে আসা ?
তবে আমি কি মানুষ নই, আমিও কি সেই অদ্ভুত জীবদেরই একজন ?
=============================

মঙ্গলবার, ৯ অক্টোবর, ২০১২

Hello Today | ফটিছড়িতে সড়ক দূর্ঘটনায় স্কুলছাত্রী আহত

Hello Today | ফটিছড়িতে সড়ক দূর্ঘটনায় স্কুলছাত্রী আহত

আহত মেয়েটির জন্য দোয়া কামনা করছি
গ্রামীণ জনপদে প্রশাসনিক নিয়ম না থাকায় এভাবে চালকরা বেপরোয়া ভাবে গাড়ী চালিয়ে বিভিন্ন দূর্ঘটনা ঘটায়। যারা এ সমস্ত গাড়ী চালায় তাদের অনেকেরই নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। কোন মতে ড্রাইভিং শিখে তারা লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ী চালানো শুরু করে। যা দেখার জন্য প্রশাসনের কোন লোক নেই এইসব জনপদে। ফলে এক্সিডেন্ট করেই তারা পার পেয়ে যায়।

সোমবার, ৮ অক্টোবর, ২০১২

দূর্ঘটনায় আমার মেয়ে সামিরা : দোয়া কামনা

      দূর্ঘটনায় আমার মেয়ে সামিরা : দোয়া কামনা
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

আমার একমাত্র মেয়েটি গতকাল গাড়ী এক্সিডেন্টে ভীষণ ভাবে আহত হয়েছে। মুখে সেলাই করা হয়েছে ৫/৬ টা। এখনও কথা বলতে ও কিছু খেতে পারছেনা। খুবই কষ্টে তরল জাতীয় খাদ্য দেয়ার চেষ্ঠা করা হচ্ছে। তার সুস্থতার জন্য সকলের কাছে দোয়ার আবেদন রইল।

রবিবার, ৭ অক্টোবর, ২০১২

এটা নাকি শান্তির দেশ !


এটা নাকি শান্তির দেশ !
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
---------------------
জ্বলে পুড়ে অঙ্গার
পাপী তাপী রাহবার ,
হা হুতাশ দিবানিশি
দেশ যেন ছারখার।

জনতা সব গ্যাড়াকলে
রাজনীতির দোর তলে,
রক্তচোষা দল - নেতা
জনতা যার যাঁতাকলে।

সংসদ নাম যার
মিথ্যার দরবার,
মিথ্যার বুলি দিয়ে
চলে তাতে জনতার সংহার।

সাদা পোশাক গায়ে তাদের
নেতা পরিচয় রয়েছে যাদের,
সাদা পোশাকের আড়ালে তারা
অধিকার হরণ করে নাগরিকদের।

বিশ্বে নাকি এটা এগারো নাম্বারে শান্তির দেশ !
কোথাও কি দেখা যায় সেই শান্তির রেশ ?
দেখে যাও হে বিশ্ব !
এখানে শান্তি , নাকি অশান্তি অশেষ ?
================

শনিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১২

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌরসভার প্রথম পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত


চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌরসভার প্রথম পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
-----------------------

গতকাল শনিবার চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্টিত হয়। নির্বাচনে প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামীলীগ সমর্থক প্রার্থী হাজি মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। তিনি ফটিকছড়ি পৌরসভার প্রথম মেয়র হিসাবে নিজেকে দাঁড় করার গৌরব অর্জন করেছেন। পৌরসভা গঠনের এক বছর পর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার এ প্রথম পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১৭টি ভোটকেন্দ্রে একটানা এ ভোটগ্রহণ চলে। অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ছাড়াই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার এ প্রথম পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নবগঠিত উক্ত পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৫ জন,সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১১ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৫৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২৫ হাজার ৪৪০ জন ভোটার প্রথম পৌর মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনে ভোট দানে অংশ নেন । এর মধ্যে পুরুষ ১১ হাজার ৯৪৯ জন ও নারী ভোটার ১৩ হাজার ৪৯১ জন । নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাজি মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন চশমা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পেয়েছেন ৭ হাজার ৮৬৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এম সিরাজুল ইসলাম তালা প্রতীকে নিয়ে পেয়েছেন ৫ হাজার ৭০১ ভোট।

এ নির্বাচনের অন্য মেয়র প্রার্থীরা ছিলেন বিএনপি সমর্থিত মোবারক হোসেন কাঞ্চন (দোয়াত-কলম) ও মো. ইদ্রিস রায়হান (আনারস) ও নাগরিক কমিটি থেকে আসা মো. করিম উল্লাহ চৌধুরী (দেয়ালঘড়ি)।

ভোট গ্রহণ উপলক্ষে পৌর এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ । এছাড়া র‌্যাব-পুলিশ-বিজিবি’র সমন্বয়ে স্পেশাল ব্রাঞ্চ গঠন করা হয়। ১৭ টি ভোট কেন্দ্রে ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্টেড এর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করে। সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার জন্য প্রতি কেন্দ্রে ১১ জন পুলিশ, ১৪ জন আনসার মোতায়ন করা হয়। এ ছাড়া নির্বাচনী এলাকায় ১১ জন ম্যাজিস্ট্রেট, ৫টি পুলিশের ভ্রাম্যমাণ দল, দুই প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব) সার্বক্ষণিক টহলে থাকে।

ভোটগ্রহণ নিয়ে কোন ধরনের অভিযোগ না থাকলেও দুপুরে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কে এম টেক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাল ভোট দেয়ার চেষ্টা করায় দু`জনকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ্দ করেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আকরাম হোসেন।

উল্লেখ্য যে, ২০১১ সালের ৩১ মার্চ ঘোষিত এ পৌরসভার প্রথম নির্বাচনী তফশিল গত ১৩ আগষ্ট নির্বাচন কমিশন ঘোষনা করে। ২০ সেপ্টেম্বর নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভোটার তালিকা হালনাগাদ হয়নি উল্লেখ করে হাইকোর্টে রীট আবেদন করায় ১৭ আগষ্ট স্থগিত হয়ে যায় নির্বাচন। পরে সুপ্রীম কোট হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করলে নতুন নির্বাচনের তারিখ ৬ অক্টোবর শনিবার ঘোষণা করা হয়। এ ঘোষনা অনুষারে গতকাল শনিবার এ নির্বাচন অনুষ্টিত হয়।

(তথ্যসুত্র ঃ ইন্টারনেট)

মনহীন এক মানুষ তুমি


মনহীন এক মানুষ তুমি
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
--------------------

সুরে সুরে গানে গানে
ডাকি যতই তোমায় ,
দূরে বসে কস্ট দাও
তুমি শুধু আমায়।
শুনেও তুমি শুননা
এই আমারই ডাক,
তোমায় ভালবাসি বলে
দিয়ে যাচ্ছি হাঁক।
পাষাণ হৃদয় তোমার জানি
এত পাষাণ জানতাম না ,
তোমার সাড়া পাবনা জানলে
কখনো ভালবাসতাম না।
জানলাম আজি ভুল করেছি
তোমায় ভালবেসে ,
মনহীন এক মানুষ তুমি
মনের টান বুঝবে তুমি কিসে ?
=============

মঙ্গলবার, ২ অক্টোবর, ২০১২

চলো ফিরে যাই


চলো ফিরে যাই
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
---------------------

চলো ফিরে যাই -
অতীতের সেই দিনগুলোতে,
যেদিনগুলোতে ছিল স্বজনের পরিচয়,
যেদিনগুলোতে ছিল আত্মীয়তার সুনিবিড় বন্ধন,
যেদিনগুলোতে ছিল বন্ধনের মূল্য,
যেদিনগুলোতে ছিল বড়-ছোটয় সম্মানের ছড়াছড়ি,
যেদিনগুলোতে ছিল সভ্যতার সুশোভিত দৃশ্য,
যেদিনগুলোতে ছিল সরলতার মান,
যেদিনগুলোতে ছিল বিবেকের শাসন,
যেদিনগুলোতে ছিল শালীনতার সুন্দর রূপ,
যেদিনগুলোতে ছিল জান-মান-ইজ্জত-সম্ভ্রমের সংরক্ষণ,
যেদিনগুলোতে ছিল মানুষদের মনুষ্যত্বতা।

চলো ফিরে যাই -
মানবতার ধারক মানুষদের কাতারে,
সহজ-সরল-সত্যের পথ ধরে,
বিধাতার নির্ধারিত মানবতার চিরকল্যানকর যাত্রাপথে।

চল ফিরে যাই -
ভুল থেকে নির্ভুলের পথ ধরে চিরশান্তির আবাসনে।
=====================

রবিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১২

রূপালী জ্যোৎস্নায় একদিন


রূপালী জ্যোৎস্নায় একদিন
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

রূপালী জ্যোৎস্নায় একদিন চাঁদপুরের মেঘনার কোলঘেঁসে হাঁটছিলাম তীরভাঙ্গা ঢেউয়ের তালে দিলভাঙ্গা প্রেমের ঢেউ সঙ্গী করে প্রিয়ার হাত ধরে। মেঘনার পাড়ে মাতাল ঢেউয়ের আঁচড়ে পড়া পানির মত আমাদের প্রেমের ঢেউ যেন উপচে পড়ছিল হৃদয়ের তটে। বাকরুদ্ধ আমরা দু'জন। চারিদিকে সুনসান নীরবতা। শুধুই ভেসে আসছে কানে শোঁ শোঁ ধ্বণিতে পানির সাথে বাতাসের প্রেমদ্বন্ধ। নদীর পানিগুলো চিক চিক করছিলো রূপালী চাঁদের আলোয়। মাঝে মাঝে দূর দিয়ে ভেসে যাচ্ছে জোনাকীর মত আলো জ্বালিয়ে লঞ্চ-ষ্টিমার-বোটগুলো। নীরবতা ভেঙ্গে জিজ্ঞেস করলাম প্রিয়াকে :

- এত জায়গা থাকতে রাতবিহারে এ স্থানটি বাচাই করলে কেন ?
- কেন, তোমার খারাপ লাগছে ?
- খারাপ লাগছেনা , জানার কৌতুহল।
- রূপালী জ্যোৎস্না নদীর ধারে যতটুকু সুন্দর লাগে অন্য কোনখানে তত সুন্দর লাগেনা। তাই তোমার আজকের আগমনকে স্মৃতিতে ধরে রাখার জন্য এই বিশেষ স্থান নির্ধারণ।
- সত্যিই তাই, খুবই সুন্দর লাগছে। এমন সুন্দর জ্যোৎস্না আর কখনো দেখা হয়নি। অনেক অনেক ধন্যবাদ এই বিশেষ স্থানে নিয়ে আসার জন্য।
- হাঁটতে হাটতে অনুভব হলো একটি মিষ্টি সুঘ্রান যেন আমোদিত করছে। তোমারও লাগছে নাকি ?
- লাগছে মানে ! আমি তো এই সুঘ্রানের জন্যই এখানে আসি বার বার। তুমি কি এখন খেয়াল করছ সেটা ?
- না , যখন ডানে মোড় নিয়ে যাত্রা শুরু করলাম তখন থেকেই।
- ও তাই, তুমি কি জান কতটি চম্পা ফুলের গাছ পেরিয়ে এলাম ?
- তা আমি কিভাবে জানব ? আমি তো গাছের দিকে তাকাই-ইনি।
- তবে কোন দিকে তাকিয়েছিলে ?
- তাকিয়েছিলাম রূপালী চাঁদ, রূপালী নদ আর জ্যোৎস্নামাখা তোমার রূপালী মুখের দিকে। গাছ দেখার সময় কি আর পেলাম ?
- বাহ্ ! কবি হয়ে গেলে দেখছি !
- কবি হয়েছি কিনা জানিনা, তবে এমন মধুর ক্ষণে কবিতা না লিখতে পারলেও কবি হতে কার না ইচ্ছে করে ? যা হোক, বললে নাতো কয়টা চম্পা গাছ পেরিয়ে এলাম ?
- দশটা । আমার নিজেরই আছে ছয়টা।
- তবে তো এটা চম্পা ফুলের একটা বাগান। কিন্তু তোমার ছয়টা মানে বুঝলামনা। তুমি কি এখানে চম্পা ফুলের গাছ লাগিয়েছ নাকি ?
- হ্যা , এটাকে চম্পা ফুলের বাগানই ধরে নিতে পার। সব মিলিয়ে পঁচিশটা গাছ হলে তো একটা বাগানই। আমি জানিনা আমি গাছ লাগিয়েছি কিনা। তবে বাবা বলেছে আমার বয়স যখন তিন বৎসর তখন আমাকে এখানে নিয়ে এসে আমার হাত দিয়ে দশটা গাছ লাগানো হয়েছিল। দশটা গাছের মধ্যে বেঁচে আছে ছয়টা। তাই ওগুলো আমার গাছ হিসাবেই মনে করি যদিও মালিকানা স্বত্ব দবী করিনা।
- দারুন তো ! তোমার গাছগুলো দেখতে হবে।
- ঠিক আছে ফিরতি পথে দেখিয়ে নেব।
- আমরা আর কতদূর যাব ?
- চম্পা গাছ যতদূর পর্যন্ত আছে ততদূর , তারপর ফিরব।
- আর কতক্ষন হাঁটতে হবে ?
- হিসাব কর , আরও পনেরোটা গাছ অতিক্রম করতে হবে।
- গাছ হিসাব করলে তোমার আার হিসাব কখন করব ?
- মানে ?
- জ্যোৎস্না রাতের প্রেমের হিসাব !
- বুঝলামনা। সেটা কি রকম ?
- কচি খুকী, সব বুঝাতে হবে।
- না বুঝলে বুঝাতে হবেনা ?
- বুঝানোর কাম নেই , গাছ গুণতে এসেছি যখন গাছই গুণে যাই।
- রাগ করছ কেন , তোমার কি করার ইচ্ছা তাই বল।
- তুমি গাছ গুণতে বলে কেন ?
- মনে কর একটা অঙ্ক করতে দিলাম।
- এই ধরণের অঙ্ক এ সময় ভাল লাগেনা।
- কোন ধরণের অঙ্ক ভাল লাগে ?
- রোমান্টিক সময় রোমান্টিক অঙ্ক ?
- রোমান্টিক অঙ্ক ! সেটা কি রকম ?
- এই যেমন ধর , আই লাভ ইউ কতবার বলা হলো ? আগামী দিনের ডেটিং সময় কবে হবে ? এই ধরণের আর কি ?
- বাহ্ ! বেশ রোমান্টিক হয়ে গেলে মনে হচ্ছে ?
- রোমান্টিক হতে পারলাম আর কই ?
- পারলেনা কেন ?
- গাছ গুণতে দিলে কি আর রোমান্টিক হওয়া যায় ?
- কি করতে দিলে রোমান্টিক হওয়া যায় ?
- তা কি শিখাতে হবে ?
- বা রে , আমি কি জানি নাকি , রোমান্টিক কিভাবে হয় ?
- না জানলে থাক, অন্যদিন প্রাক্টিক্যাললি শিখিয়ে দেব।
- ঠিক আছে। আমাদের এখানেই শেষ , চল একটু বসি।
- হ্যাঁ , একটু বসলেই ভাল হয়। পাও ধরে গেছে।
- দেখ দেখ পানির ঢেউ কিভাবে আঁচড়ে পড়ছে !
- তুমি ঢেউ দেখছ ? আমি অন্য কিছু দেখেছি।
- কি ?
- রূপালী ইলিশ !
- কোথায় ?
- পানির সাথে একটা গর্তে ডুকেছে দেখেছি।
- এখানে তো তেমন কিছু দেখছিনা , তোমার ওড়নাটা দাওতো !
- আমার ওড়না দিয়ে কি করবে ?
- দেখই না কি করি ?

দেরী না করে ওড়নাটা নিয়ে খাদে নেমে গেলাম আমি । দৃষ্টি সরাইনি আমার। মাছটি রয়ে গেছে সেখানে এখনো। ওড়নাটা মেলে গর্তে হাত দিয়ে চেপে ধরলাম। যা ভেবেছি তাই । মাছটা ছুটে যেতে প্রাণপণ চেষ্টা করল। পারলনা পালাতে। ধরাশায়ী হলো দুটি হাতের কাছে । ওড়নাটা দিয়ে ভাবে পেঁচিয়ে নিলাম। তুলে আনলাম উপরে। প্রিয়া তার ওড়নার দিকে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকল। বলল :
- এ কি করেছ তুমি ?
- কি করেছি মানে ! দেখছনা রূপালী জ্যোৎস্নার রূপালী ইলিশ ধরে এনেছি।
- তুমি কি পাগল ?
- এই জ্যোৎস্নায় একটু পাগল না হলে কি মানায় ?
- তাই বলে তুমি আমার ওড়না দিয়ে মাছ ধরবে ?
- আরে তুমি ওড়নার চিন্তা করছ , লাভ কি করেছি সেটা তুমি দেখছনা ?
- দিলে তো আমার ওড়নাটা শেষ করে।
- একটা ইলিশের দাম কত জান ? তোমার ওড়নার তিনগুণ।
- ওড়না শেষ হয়েছে তো কি হয়েছে ? স্মৃতিটার ভিত্তি তো মজবুত হয়েছে। এই স্মৃতি কি ভুলতে পারবে ?
- ঠিক আছে , ওড়নার কথা বাদ দিলাম। কোন সাহসে খাদে নেমেছ ? যদি পীচলে গিয়ে পানিতে চলে যেতে কি হত ভেবে দেখেছ ?
- কেন , তুমি আমাকে বাঁচাতে নামতেনা ?
- নামলে কি হত ? দু'জনেই মরতাম।
- মরণকে ভয় করছ কেন ?
- কেন তুমি ভয় করনা ?
- আমি ভয় করলে কি আজ এই রূপালী ইলিশ ধরতে পারতাম ?
- তোমার সাহস দেখে আমি অবাক না হয়ে পারছিনা।
- আর অবাক হবার দরকার নেই। চল , দেরী করার সময় নেই।
- চল , বাড়ি গিয়ে দেখো বাবা কি বলছে। প্রস্তুত থাক গালি শুনার জন্য।
- এই রূপালী ইলিশের কাছে হাজারো গালি কিছুই না।
- তুমি না একটা বদ্ধ উন্মাদ।
- তাই সই।
- তুমি একটা গাদা ।
- তাও মানতে রাজি।
- পাগল।
- পাগল হয়েই তো করতে পেরেছি মাছটা দখল। এবার তোমার গাছ দেখাও।
- ওই তো , ওখান থেকে আমার গাছগুলোর শুরু।
- বেশ বড় হয়েছে দেখছি।
- বড় হবে না ? চৌদ্দ বছর হয়ে গেছে বয়স ।
- দেখি লাইটা জ্বালাওতো মোবাইলের।
- কেন ?
- গাছগুলোতে কিছু একটা লেখা দেখা যাচ্ছে মনে হয় !
- এ দেখি সব আমার নাম লেখা। ব্যাপার কি ?
- আমি যতবারই আসি তোমার নামটা এসব গাছে লিখে দিই।
- কেন ?
- তোমাকে একদিন এই গাছগুলো দেখাব বলে।
- যদি আমি কখনো না আসতাম ?
- আমার ধারণা ছিল , তুমি একদিন আসবেই।
- এমন বিশ্বাস কেন হয়েছিল ?
- জানিনা।
- এ গাছটিতেই শুধু দেখলাম - "Z" IS MY LOVE. কার উদ্দেশ্যে এ লেখাটি ?
- এটাই তোমার জন্য আজকর শেষ অঙ্ক।
- মাছটা একটু ধর।
- কেন ?
- আমিও একটা কিছু লেখতে চাই।
ছুরি দিয়ে সামান্য জায়গার ছাল পরিস্কার করে খোদাই করে লিখে দিলাম প্রিয়ার সেই চম্পা গাছে - " আজকের এই রূপালী জ্যোৎস্নার রাতে রূপালী চাঁদের আলোয় আমাদের এই রাতবিহারের স্মৃতি অমলিন থাকবে - I LOVE YOU PRIYA."
============

শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১২

বাংলাদেশের খেলাটি দেখুন টাইগারদের উৎসাহ দিন

Live Cricket - LiVEONBD.NET 
http://www.liveonbd.net/live-cricket.html

আজ বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় বাংলাদেশের টাইগারদের খেলাটি আজ এ লিংকে দেখা যাবে আশা করি। বাংলাদেশের খেলাটি দেখুন টাইগারদের উৎসাহ দিন ।

বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১২

বর্তমান মহাজোট সরকারের সফলতার খতিয়ান




বর্তমান মহাজোট সরকারের সফলতার খতিয়ান

মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী

-----------------------

কয়েক ঘন্টা আগে ফেইসবুকে একটা লিংক দেখেছিলাম। যাতে লেখা রয়েছে বর্তমান সরকার নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মুল্য কমিয়ে সফলতা অর্জন করেছে । তাই এই সফলতার একটা খতিয়ান পেশ করার জন্য আমার এই আয়োজন। দেখুন দুই সরকারের একটা তুলনামুলক চিত্রে বর্তমান সরকারের সফলতার খতিয়ান।

(বর্তমান মহাজোট সরকার এবং বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময়কার নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর তুলনামুলক চিত্র)


************************************
• ২০০৫ সালের অক্টোবরে অর্থাৎ চারদলীয় জোট সরকারের শেষ বছরে নিত্য প্রয়োজনীয় নিম্নোক্ত ২০টি দ্রব্যসামগ্রীর মূল্য ছিল –
০১। ইরি চাল প্রতি কেজি = ২০ টাকা।
০২। পাইজাম চাল প্রতি কেজি = ২৩ টাকা।
০৩। নাজিরশাইল চাল প্রতি কেজি = ২৮ টাকা।
০৪। মসুর ডাল প্রতি কেজি = ৫৬ টাকা।
০৫। সয়াবিন তেল প্রতি লিটার = ৬০ টাকা।
০৬। আটা প্রতি কেজি = ২০ টাকা।
০৭। লবণ প্রতি কেজি = ১৮ টাকা।
০৮। চিনি প্রতি কেজি = ৪২ টাকা।
০৯। গুঁড়ো দুধ প্রতি কেজি = ৩৪০ টাকা।
১০। পেঁয়াজ প্রতি কেজি = ৩২ টাকা।
১১। ডিম প্রতি হালি = ১৮ টাকা।
১২। আদা প্রতি কেজি = ১২০ টাকা।
১৩। গরুর মাংস প্রতি কেজি = ১২০ টাকা।
১৪। খাসির মাংস প্রতি কেজি = ২১০ টাকা।
১৫। বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট = ৩ টাকা।
১৬। পানি হাজার লিটার = ৫ টাকা।
১৭। গ্যাস = ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা।
১৮। ডিজেল প্রতি লিটার = ৩০ টাকা।
১৯। কেরোসিন প্রতি লিটার = ৩২ টাকা।
২০। পেট্রল প্রতি লিটার = ৪২ টাকা।
তথ্যসুত্র ঃ http://sonarbangladesh.com/blog/post/50801
================================

বর্তমানের (১৭/৯/২০১২ইং তারিখে) মহাজোট জোট সরকারের শাসনামলে নিত্য প্রয়োজনীয় উপরোক্ত ২০টি দ্রব্যসামগ্রীর মূল্য হলো -
০১। চাল (মোটা) / স্বর্ণা/ চায়না/ ইরি প্রতি কেজি = ২৭ থেকে ৩২টাকা ।
০২। পাইজাম/আতপ চাল প্রতি কেজি = ৩৪ থেকে ৩৮ টাকা।
০৩। নাজির(মিনিকেট সাধারণ মানের) প্রতি কেজি = ৩৪ থেকে ৪৮ টাকা।
০৪। মশুর ডাল প্রতি কেজি = ৭৫ থেকে ১২৮ টাকা।
০৫। সয়াবিন তেল প্রতি লিটার = ১২০ থেকে ১৩৫ টাকা ।
০৬। আটা প্রতি কেজি = ৩৩ থেকে ৩৮ টাকা।
০৭। লবণ প্রতি কেজি = ১৮ থেকে ৩০ টাকা।
০৮। চিনি প্রতি কেজি = ৫২ থেকে ৫৩ টাকা।
০৯। গুঁড়ো দুধ প্রতি কেজি = ৪৫০ থেকে ৫৮০ টাকা।
১০। পেঁয়াজ প্রতি কেজি = ২২ থেকে ৩২ টাকা।
১১। ডিম প্রতি হালি = ৪০ থেকে ৪২ টাকা।
১২। আদা প্রতি কেজি = ৪০ থেকে ৬০ টাকা।
১৩। গরুর মাংস প্রতি কেজি = ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা।
১৪। খাসির মাংস প্রতি কেজি = ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা।
• ১৫। বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট =
• ১৬। পানি হাজার লিটার =
• ১৭। গ্যাস =
• ১৮। ডিজেল প্রতি লিটার =
• ১৯। কেরোসিন প্রতি লিটার =
• ২০। পেট্রল প্রতি লিটার =
বিঃদ্রঃ ১৫ থেকে ২০ নম্বরের বিষয়গুলোর তথ্য তথ্যসুত্রে পাওয়া যায়নি।
তথসুত্র ঃ ই-তথকোষ -
http://www.bangladesh.gov.bd/index.php?option=com_weblinks&task=view&catid=175&id=416
==============================

খুঁজে পাওয়া যায়না যে সব প্রশ্নের উত্তর


খুঁজে পাওয়া যায়না যে সব প্রশ্নের উত্তর
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

কাউকে কষ্ট দিতে চাইনা ।
কেন তবুও তারা কষ্ট পায় ?
কাউকেই পর ভাবতে চাইনা।
তবুও কেন তারা পর হয়ে যায় ?
কাউকেই দূরে রাখতে চাইনা।
তবুও কেন তারা দূরে চলে যায় ?
কাউকেই ভুলে থাকতে চাইনা।
তবুও আমায় কেন তারা ভুলে যায় ?
কাউকেই শত্রু ভাবতে চাইনা।
তবুও কেন তারা শত্রু হয়ে যায় ?
কাউকেই মন থেকে মুছে ফেলতে চাইনা।
তবুও কেন তারা মন থেকে মুছে যায় ?
কাউকেই ঘৃণা করতে চাইনা।
তবুও কেন তারা ঘৃণার পাত্র হয়ে যায় ?
কাউকেই সমস্যায় ফেলতে চাইনা।
তবুও কেন তারা সমস্যায় পড়ে যায় ?
কাউকেই প্রেম নিবেদন করতে চাইনা।
তবুও কেন তারা প্রেমে পড়ে যায় ?
কারো কাছেই অভাবের কারণে হাত পাততে চাইনা।
তবুও কেন হাতপাতা হয়ে যায় ?
যা পাওয়া যায় তা চাইনা।
কেন তবে যা চাই তা না পাওয়ায় রয়ে যায় ?
এসব প্রশ্নগুলো আমায় কেবলই যাতনা দিয়ে যায়।
তবুও কেন উত্তরগুলো পাওয়া নাহি যায় ?
=================

বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১২

এক গাধা আর এক গাধীর কথোপকথন


এক গাধা আর এক গাধীর কথোপকথন
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
(গল্পের সাথে ছবির কোন সম্পৃক্ততা নেই। ছবিটি গল্পের সাদৃশ্যতার মিলন হিসাবে দেখানো হয়েছে।)
---------------------------------

গাধী : একটা ছবি দিও।

গাধা : কি করবে ছবি দিয়ে ?
গাধী : কি করব সেটা আমার ব্যাপার।
গাধা : কবে দিতে হবে ?
গাধী : রেডী থাকলে আজ দিও রেডী না থাকলে দুই/ তিনদিন পর দিলেও চলবে।
গাধা : কি ধরণের ছবি ?
গাধী : যে ধরণের ছবি তোমার পছন্দ।
গাধা : আমার পছন্দের ছবি তোমার পছন্দ হবে ?
গাধী : আমার পছন্দ হবে না কেন ? তুমি কি পঁচা ছবি দিবে নাকি ?
গাধা : তবুও তোমার রুচি আর আমার রুচি কি এক হবে ?
গাধী : আমাদের মন যেভাবে এক হয়েছে সেভাবে আমাদের রুচিও এক হবে।
গাধা : তবুও যদি বলতে আমার ছবি বাচাইয়ে সহজ হতো।
গাধী : বেশী বকবক করনাতো। ছবি দিতে বলেছি ভাল দেখে একটা ছবি দিলেই হবে।
গাধা : ঠিক আছে , কাল দিব।
গাধী : ঠিক আছে বলে , আবার বলোনা এসে ভুলে গেছ।
গাধা : আর বলতে হবেনা , তোমাকে তো আমি চিনিই।
গাধী : চিনই যখন এত কথা কিসের ? খালি প্যাঁচাল !
গাধা : তোমার সাথে প্যাঁচাল করলে যে আমার সুখ লাগে।
গাধী : ওকে , কাল ছবি না আনলে সুখ ভরিয়ে দিব।
গাধা : আর আনলে কি দেবে ?
গাধী : আদর।
গাধা : ঠিক আছে , কাল ছবি পেয়ে যাবে।

গাধা বাড়ি গিয়ে সারারাত জেগে একটা ছবি বাচাই করল। ন্যাংটা একটা সুন্দর মেয়ের ছবি ! পরদিন নিয়ে আসল সেটা গাধীর কাছে।

গাধা : এই নাও তোমার ছবি । সারারাত জেগে হাজারো ছবি থেকে বাচাই করে এই ছবিটাই আমার কাছে ভাল লাগল তাই নিয়ে এলাম।

গাধী ছবিটা হাতে নিয়ে দেখে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠল। সেই সাথে খাট্টাস করে গাধার গালে একটা চড় লাগিয়ে দিল।

গাধী : এটা কার ছবি ? তোমার গার্ল ফ্রেন্ডের ?
গাধা : ছিঃ কি বলছ ? ওটা আমার গার্লফ্রেন্ড হতে যাবে কেন ? আমার গার্লফ্রেন্ড তো তুমিই।
গাধী : তবে এ ছবি আনলে কেন ?
গাধা : বা রে ! তুমিই তো বললে সুন্দর দেখে একটা ছবি আনতে !
গাধী : এই তোমার সুন্দর ! আর আমি কি অন্য মানুষের ছবি আনতে বলেছি ?
গাধা : তবে কার ছবি আনতে বলেছ ?
গাধী : তোমার নিজের ছবি। তুমি না একটা আস্ত গাধা !
গাধা : তুমি কি আমাকে বলেছিলে , আমার নিজের ছবি আনতে ? তুমিও না একটা গাধী।
====================

অস্ত্রমিছিল


অস্ত্রমিছিল
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
---------------------

সাবধান ভাই সাবধান
আসছে ধেয়ে ছাত্রলীগ,
অস্ত্রমিছিল করছে তারা
অবস্থা যে বেগতিক।
ওরে তোরা যাসনে এখন
ঘরের বাহির হইসনা ,
রামদাওয়ের কোপে তোদের
জীবনটাকে দিসনা।
ক্ষমতারই দাপট তাদের
কিছুই তাদের হবেনা,
মারলে তোদের অস্ত্রাঘাতে
জেলে তারা যাবেনা।
গাড়ি পোড়াক মানুষ মারুক
এই নীতিতেই তাদের বাস ,
যতই করুক দেশের ক্ষতি
সেটাই তাদের সোনার চাষ।
সোনার ছেলের সোনার কর্ম
রামদাও আর পিস্তলে ,
দেখতে যাসনে কর্ম তাদের
লুকা মাটির নীচ তলে।
==========

নীলটিপের আড়ালে


নীলটিপের আড়ালে
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

তুমি সব সময় লাল টিপ পড়তে !
একদিন বলাকা সিনেমার ভিতরে ছবি দেখার সময়
নায়িকাকেও দেখলাম লালটিপ লাগাতে !
তখনই বলেছিলাম , লালটিপ তোমাকে মানায় না।
বলেছিলে - তবে কি টিপ মানাবে আমায় ?
বলেছিলাম শো' শেষ হলে বাইরে গিয়ে বলব।
নিউমর্কেটের গেইট দিয়ে ঢুকতেই ডানপাশের স্টলে
দেখা গেলো রংবেরঙ্গের টিপের সমাহার।
বারোটা নীল টিপ খরিদ করে পড়িয়ে দিলাম তোমার কপোলে একটি।
সেই থেকে নীল টিপ তোমার কপালকে করেছিল দখল।
হারিয়েছিলাম আমার ভালবাসা সেই নীলটিপের আড়ালে !
যখনই দেখতাম তোমার ব্যস্ততা শুধুই নীলটিপ পরিপাটিতে,
আর আমি ! তোমার কাছে যেন অবাঞ্চিত এক ভালবাসার পূঁজারী !!
==================

সোমবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১২

যেওনা ফিরে


যেওনা ফিরে
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

এত কাছে এসেছো ,
ভাল যখন বেসেছো ,
মনে কছু নিওনা এই কালো মুখটা দেখে ;
মন চোখে দেখেছো ,
কত কথা বলেছো ,
সরাসরি দেখে এবার যেওনা গো বেঁকে ।
করোনা ঘৃণা কালো মুখটা দেখে ,
সুন্দর মুখটা তোমার ঘুরাওনা এদিকে ,
বিধাতার দেয়া এই কালো গাত্রবরণ - তাতে দোষ কি আমার বলো ?
দৃষ্টি দাও তোমার ঐ সুন্দর চোখে ,
বানাওনি তাহা তুমি নিজের থেকে ,
তবে গৌরব করবে কিভাবে তুমি - এই একটু বিবেক নিয়েই চলো ।

কালো আর ধলোতে করোনা কোন ভেদাভেদ,
মন তো একটাই কেন তবে এতটাই প্রভেদ,
মনের চোখে দেখেছি তোমায় - চেয়েছি তোমার মনটা পেতে,
ভালবাসতে গিয়ে করতে চাইনি তাই কখনোই তোমায় দর্শন ;
তোমার বাবার ঐ সম্পদের দিকে আমি কভু দেখিনি,
তোমাদের ঐ বিশাল প্রাসাদের প্রেমেও আমি পড়িনি,
শুধুই পড়েছি তোমার মায়ায় - কাছে এসে যেওনা ফিরে,
এসো দেখে যাও তোমার জন্য তাই হচ্ছে শুধুই হৃদয়ে রক্তক্ষরণ।
==================

শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২

অপরাধীদের জন্য বিদেশ হোক কারাগার এবং সাজা হোক বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যম


অপরাধীদের জন্য বিদেশ হোক কারাগার
এবং সাজা হোক বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যম
মুহাম্মদ জাকারিয়া শাহনগরী
----------------------

[বিঃদ্র – আমার এই লেখাটি চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত অভিযান পত্রিকার অক্টোবর ২০০২ ইং সংখ্যায় পূর্ব প্রকাশিত। লেখাটি ঈষৎ সংশোধনের মধ্য দিয়ে পুণরায় প্রকাশ করা হল।]

**********************

শ্রমশক্তি, জনশক্তি, মেধাশক্তি (অর্থাৎ কর্ম, কর্মদক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা)-এ তিনটি শক্তি যে জাতি বক্ষে ধারণ করেছে, সে জাতি খুব অল্প সময়েই স্বর্ণশিখরে আরোহন করেছে। অপর পক্ষে অলসতা, অবহেলা, শ্রমহীনতা (অর্থাৎ কর্মে অলসতা, কর্মে অবহেলা, কর্মে বিমুখতা)-এ তিন শত্রু যে জাতি বক্ষে ধারণ করেছে, সে জাতি কালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

আজকের চীন, জাপান, জার্মানের দিকে তাকিয়ে দেখলে বুঝা যাবে, তারা কত পরিশ্রমী জাতি। অলসতাহীন সামান্য মেধার উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে কতইনা তারা উন্নতির শিখরে আরোহন করেছে। ছোট্টকালে পড়েছিলাম , চীন জাতি বিশ্বের সর্বাধিক পরিশ্রমী জাতি। তাদের মাঝে নেই কোন অলসতা, নেই কোন অবহেলা। তাই তারা সভ্য জাতি। চীন, জাপান, জার্মানে নেই কোন অপরাধ প্রবনতা। আছে শুধুই উন্নয়নের চিন্তা।

আর একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে , অষ্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার ন্যায় উন্নয়মুখী কর্মধারা। কি আছে মালয়েশিয়া আর সিঙ্গাপুরে ? কতদিন লাগল এ দু’টি দেশ উন্নয়নের শিখরে আরোহন করতে ? অল্প দূরের এ দু’টি দেশের উন্নয়নে আমরা আমাদের দেশের জনশক্তি রফ্তানী করছি । আর তারা কিভাবে করছে আমাদের দেশ থেকে জনশক্তি আমদানী ? কিভাবে তারা এ জনশক্তি কাজে লাগাচ্ছে ? কিভাবে তারা দেশের মানুষ দেশের বাইরে যেতে না দিয়ে দেশেই থাকতে বাধ্য করছে আর কিভাবে অন্য দেশ থেকে মানুষ নিয়ে সেখানে তাদেরকে বেতন দিয়ে পুষছে ?

সিঙ্গাপুরে আছে শুধু একটা পোর্ট বা পোতাশ্রয়। আর মালয়েশিয়ায় কি আছে তা জানে তারাই , যারা এদেশ থেকে সেখানে বেড়াতে গেছে বা সেদেশের কলকারখানার কর্মী হয়ে গেছে। মালয়েশিয়া পর্যটনের দেশ। কলকারখানার দেশ। আমাদের দেশের অর্ধেক সম্পদও উক্ত দু’টি দেশে রয়েছে কিনা সন্দেহ। অথচ কত উন্নত এ দু’টি দেশ ! এশিয়ার উক্ত ছোট্ট দু’টি দেশ আজ অল্প সময়ে ধনী দেশে রূপান্তরিত। কিভাবে ? তাদের এ রূপান্তর আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের মত দেশের সম্পদ লুন্ঠণ , ভাগাভাগি করে নিজেদের গোলাভর্তি করে নয় , নয় চুরি - ডাকাতি – রাহাজানী – খুন – অপহরণ – চিন্তাই – করেও । একমাত্র মেধা ও শ্রম দিয়ে এবং অলসতাকে দূরে ঠেলে দেশপ্রেমের মত শক্তিশালী অস্ত্রের জোরে অল্প সময়েই বিশ্বের বুকে এ দু’টি দেশ নিজেদের দাঁড় করিয়ে দিয়েছে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে। আর আমরা সে দু’টি দেশের সমবয়সী হওয়া সত্বেও এখনো কত পিছিয়ে !

যা হোক , উন্নয়নশীল দেশের গল্প বলে কলেবর বৃদ্ধি করা আমার উদ্ধেশ্য নয়। আমরা কেন উন্নয়নের পথে পিছিয়ে এবং কিভাবে উন্নয়নের পথে পরিভ্রমণ করতে পারি সেটা নিয়ে কিছু লেখাই আমার উদ্দেশ্য।

অলসতা, অবহেলা, দূর্নীতি, কর্মবিমুখতা, মেধাশক্তির অস্বীকার ও নির্লিপ্ততা, সময়ানুবর্তিতার অনুপস্থিতি, পারস্পরিক রেষারেষি, মেধা বিকাশে প্রতিবন্ধকতা, অসুস্থ রাজনীতি, আত্মবিশ্বাসের অভাব, বেকারত্বের লালন, কর্মক্ষত্র সৃষ্টির জ্ঞানহীনতা, অপরাধ প্রবণতা, উন্নত চিন্তার অনাগ্রহ, দলাদলি, সঠিক কর্মপদ্ধতির অভাব, সর্বোপরী ক্ষমতার লড়াইয়ে উপনীত হওয়া – ইত্যাদি কারণে আমাদের দেশ আজ উন্নতির সোপান থেকে পীছনে পড়ে আছে।
আমাদের দেশের একটি রসাত্মক প্রবাদ- “নয়টার গাড়ী কয়টা ছাড়ে”? অর্থাৎ, যে গাড়ী নয়টায় ছাড়ার কথা সে গাড়ী ছাড়ার কোন টাইম নেই বা কয়টায় ছাড়বে তার কোন ঠিক নেই। সময় বেঁধে দেয়া থাকলেও আমাদের দেশে কর্মটি নির্ধারিত সময়ে করা হয়না। তাই, আমরা পিছিয়ে আছি। সময়ানুবর্তীতা আমাদের কাছে অনুপস্থিত। ঘড়ি হাতে থাকলেও আমরা বলতে পারিনা সঠিক সময়। আমরা যখন বেলা নয়টায় ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে অফিসে যেতে তৈরী হই, চীনজাতি তখন তাদের দিনের অর্ধেক কাজ সমাপ্ত করে ফেলে। চীন জাতিরা ভোর চারটায় ঘুম থেকে উঠার সময় বিছানা ঘুটিয়ে ফেলে। আবার রাতে ঘুমুতে যাবার সময় রাত দশটায় বিছানা বিছায়। বিছানা ঘুটিয়ে ফেলার কারণ হল, তারা যদি কখনো ঘরে আসে তবে একটু শুতে মন চাইবে। তাই দুপুরে চেয়ারে হেলান দিয়ে তারা সামান্য বিশ্রামের পর শুরু করে পুনরায় কর্ম। এমনই এক পরিশ্রমী জাতি চীন।

অথচ আমরা ! বেলা ন’টায় ঘুম থেকে উঠি। অফিসে উপস্থিত হই দশটা বা এগারোটায়। চা পান, গায়ের কোট খুলে চেয়ার সাজিয়ে রেখে, গলার টাঁই বা ফাঁস ঢিলা করে কাজ শুরু করি এগারোটা বা বারোটায়। আবার দুপুরে রেষ্ট তিনঘন্টা। আবার কাজের ফাঁকে রয়েছে বিপরীত লিঙ্গের সহকর্মীর সাথে আলাপচারিতা আর এখন নতুন যোগ হয়েছে ফেইসবুকের মঞ্চে সময় কাটানো। কর্মদিবস শেষ বিকেল পাঁচটায়। সব মিলিয়ে যদি ঠিক ভাবে কাজের হিসাব করি, তবে আমাদের দিনের কর্মঘন্টা হবে দুই থেকে তিনঘন্টা। অথচ মে দিবস পালন করা হয় আট ঘন্টা শ্রমের স্বার্থে। কিন্তু, আমাদের দেশে কিছু সৎ ও ন্যায়-পরায়ন সময়ের মূল্য দানকারী মহৎ ব্যক্তি মহোদয় এবং কলকারখানার হার্ডকোর লেবার ব্যতিত আদৌ অফিসারদের কেউ আট ঘন্টা কর্ম করেন কি না জরীপের বিষয়।

বিগত ১৯শে জুলাই ২০০২ ইং তারিখে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় – “মিটিং, সিটিং, ইটিং – এ মন্ত্রী সচিবদের দিনে ১৯০ কর্মঘন্টা (অতিবাহিত)’’। এই যদি হয় একটি দেশের অবস্থা তবে সেই দেশ কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে সেটাই বিবেচ্য। যদি সাধারণ শ্রমিকদের ন্যায় আমাদের অফিসারগণ দৈনিক ওভারটাইম বাদ দিয়ে আট ঘন্টা পরিশ্রমও যথাযতভাবে করতেন তবে আমাদের সোনার বাংলা সোনার মোড়কে মোড়ানো যেতো বৈকি।

যা হোক, আমার উপস্থাপিত বিষয় – “অপরাধীদের জন্য বিদেশ হোক কারাগার এবং সাজা হোক বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যম’’। আসলেই আমরা বাংলাদেশীরা অলস জাতি। “অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা’’। যার দরুন আমাদের দেশে আজ অপরাধ প্রবনতার বৃদ্ধিতা। আমাদের মাঝে যদি এ অলসতা না থাকতো তবে অপরাধ প্রবনতা এতবেশী বৃদ্ধি পেতোনা। প্রতিটি অপরাধের পশ্চাতে কাজ করে মস্তিষ্কের অলসতা। যে অপরাধ করে তার চিন্তায় যদি কোন উদ্ভাবনা শক্তি বা সুষ্ঠ ও সুন্দর কর্ম চিন্তা থাকতো, তবে সে অপরাধ করতোনা। তার উদ্ভাবনা শক্তি ও কর্মচিন্তা দিয়ে অপরাধ না করে সে কোনকিছু উদ্ভাবন করতো, নয়তো কোন একটা সুন্দর কাজ করতে স্বচেষ্ট থাকতো। আমাদের দেশে কর্মক্ষেত্র সৃষ্টির পারিবারিক চাপ না থাকায় পারিবারিক সদস্য কোন অপরাধের দিকে ঝুঁকে পড়ে। যদি পারিবারিক ভাবে কর্মক্ষেত্র সৃষ্টির কোন চাপ পারিবারিক সদস্যের উপর থাকতো , তবে কোন অপরাধ সংঘটিত হবার কারণ থাকতোনা।

আমাদের দেশে অপরাধী ধরা পড়লে পাঠিয়ে দেয়া হয় কারাগারে। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর সাজা দেয়া হয় তাদের কারাগারে আটক রেখে। সেখানে অপরাধীরা বেকার ভাবে বসে থাকে। খায়, ঘুমায়। চিন্তায় তাদের জন্ম নেয় কিভাবে তারা আরো বড় অপরাধী হতে পারবে। কারাগারে আটক বড় বড় অপরাধীদের মিশে ছোট অপরাধীরাও বড় অপরাধী হয়ে এক সময় বের হয়। কারণ, কারাগারে আটক অপরাধী গুরুরা সেখানে বসে তাদের অতীত জীবনের অভিজ্ঞতা সাগরেদদের বয়ান করে থাকে। যার ফলে সাগরেদরা গুরুদের দেয়া বয়ান অনুযায়ী কাজ করতে ইচ্ছাপোষণ করে। পরবর্তীতে সাগরেদরা কারাগার থেকে বের হয়ে শুরু করে আবার অপরাধের। কি লাভ হলো তাদের কারাগারে আটক রেখে ? কোন লাভই হয়নি, হয়নি তারা সংশোধন। হয়েছে সরকারের লোকসান। অর্থভান্ডারের অর্থ কমেছে। অপরাধীদের বসিয়ে বসিয়ে বেকার রেখে বছরের পর বছর খাওয়াতে হয়। এক টাকাও অর্থভান্ডারে জমা হয়না, হয় খরচ। অপরাধীদের কারাগারে এভাবে আটকে রেখে তাদের সংশোধন করা যায়না। বরঞ্চ সে অপরাধীদের বড় অপরাধী হিসেবেই রূপান্তর করা যায়। করা হয় জাতির ক্ষতি।করা হয় জাতীয় নিরাপত্তার বিলুপ্তি।

এমতাবস্থায় আমার একটা প্রস্তাব হলো – যে অপরাধীই ধরা পড়ুকনা কেন তাকে সংশোধন এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থে এমন সাজা দেয়া হোক, যাতে অপরাধী নিজে সংশোধন হবে, সেই সাথে সেই অপরাধী তার পারিবারিক ও জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখবে। আজ দেশের অনেক মেধাবী ও দক্ষ জনশক্তি বিদেশে অবস্থান করছে। তারা বৈদেশীক মুদ্রা অর্জন করে তা দেশে পাঠিয়ে জাতীয় উন্নয়নে ভুমিকা রাখছে। অথচ এদের প্রায়ই জনসমষ্টি দেশে কাজ না পেয়ে অপরাধীদের ভয়ে দেশান্তরীত হয়েছে। যাদের দিয়ে দেশ অনেক উন্নতির পথ সৃষ্টি করতে পারতো।

অন্যদিকে দেশে অবস্থানকারী অপরাধীরা জাতীয় উন্নয়নের বিবিধ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তাই, অপরাধীদেরকে জনশক্তি রফতানী হিসাবে বিদেশে পাঠিয়ে দেশের জাতীয় উন্নয়নে সম্পৃক্ত করা যেতো। দেশের মেধাশক্তি বিদেশে না পাঠিয়ে একমাত্র অপরাধীদেরকেই বিদেশে পাঠিয়ে বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনের পদক্ষেপ নেয়াই হতো শোভনীয়। মেধাশক্তি দেশে কাজে লাগিয়ে এবং অপরাধীদের সাজা হিসাবে বিদেশে পাঠিয়ে দেশের উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতা দূর করে উন্নয়ন করা যেতো।

এখন যারা বিদেশে অবস্থান করছে তাদের বেশীর ভাগই দুই/তিন বৎসর পূর্বে দেশে গমন করতে পারেনা, পারেনা বিদেশে কোন অপরাধ করতে। কাজ না করেও বিদেশে বসবাস করতে পারেনা। খেতে গেলেই কাজ করতে হয় বিদেশে। তাই , যদি কোন অপরাধীর ধরা পড়ে জেলে যেতে হয়,তবে তাকে জেলে পাঠিয়ে সাজা দেয়ার চাইতে নিদ্রিষ্ট মেয়াদে বিদেশ পাঠিয়ে দেয়াই ভাল হবে বলে মনে করি। যদি সরকারী ভাবে অথবা আদালত কর্তৃক পারিবারিক ভাবে চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ঐ অপরাধীকে সাজা স্বরূপ দুই বৎসর , তিন বৎসর, পাঁচ বৎসর , দশ বৎসর এভাবে বিভিন্ন মেয়াদের জন্য বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়, তবে অপরাধী নিজেও সংশোধন হবে, সাথে সাথে পারিবারিক ও জাতীয় উন্নয়নে বৈদেশীক মুদ্রা পাঠিয়ে অংশগ্রহণ করতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারী ভাবেই (জেলে বসিয়ে বেকার ভাতা না দিয়ে) অপরাধীদের দেশের রাজস্ব ফান্ড থেকে ঋণ স্বরূপ বিদেশ যাবার খরচ প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে বিদেশ পাঠানো যেতে পারে। কেননা, ঐ অপরাধীদের কারাগারে ভরে রাখলে সরকারের বা দেশের যে ক্ষতি হবে , তাদেরকে বিদেশ পাঠালে সেই ক্ষতি থেকে দেশ বা সরকার নিরাপদ থাকতে পারবে। বরঞ্চ সরকার তাতে লাভবান হবে।

যদি অপরাধীদের সরকারীভাবে জনশক্তি রপ্তানী হিসাবে বিদেশ পাঠায়, তবে সরকারের লাভবান হবার পথ এভাবে করা যায় – সরকার যে দেশে তাদেরকে জনশক্তি হিসাবে রপ্তানী করবে সে দেশের সহিত একটা চুক্তি করবে যে, উক্ত অপরাধী (জনশক্তি)কে সে দেশে নিদ্রিষ্ট মেয়াদে নিয়োগ দান করা হবে। আর তাকে ঐ নিদ্রিষ্ট মেয়াদের পূর্বে দেশে গমনের ছাড়পত্র দেয়া যাবেনা। তার জন্য নিদ্রিষ্ট মজুরী বাবদ অর্জিত বৈদেশীক মুদ্রার একটা নিদ্রিষ্ট অংশ তার নিজের খরচের জন্য নির্ধারিত করে দিয়ে বাকি অর্থ সরকার নিজ আওতাধীনে দেশে আনার ব্যবস্থা করবে। ঐ অর্থ থেকে সরকারের প্রদানকৃত খরচ কিস্তিতে গ্রহণ করে বাকি অর্থ তার পরিবারের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। এমতাবস্থায় উক্ত অপরাধীর সাজাও হবে, তার দ্বারা বৈদেশীক মুদা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে সহযোগীতা ও করা হবে।

তাছাড়া, অপরাধী নিজেকে সংশোধন ও কর্মমুখী করে নিবে। বেকারত্বের চিন্তা তার কাছ থেকে সরে যাবে। সরে যাবে তার মাথা থেকে অপরাধ প্রবনতার ভুত। অপরাধ চিন্তা তার মাথা থেকে সরে গিয়ে কর্মমুখী হয়ে প্রতিষ্ঠিত হবে সে একজন ভাল মানুষ রূপে। সাজাকালীন তার পাঠানো যে অর্থ সঞ্চিত হবে দেশে, সাজা শেষে সে দেশে এসে সেই সঞ্চিত অর্থ নিয়ে ভাল একটা কাজের সন্ধানে নামতে পারবে। অপরাধী থেকে মানুষ হয়ে পরিচিতি লাভ করতে পারবে।

দেশের লক্ষ লক্ষ অপরাধী আজ বিভিন্ন কারাগারে আটক রয়েছে। সরকার তাদের লালন করছে সরকারী রাজস্ব ফান্ড থেকে খরচ দিয়ে। কোটি কোটি টাকা তাদের পীছনে ব্যয় হচ্ছে। জাতীয় আর্থিক ফান্ডের ক্ষতি হচ্ছে তাতে। ওদিকে তাদের আটক রাখায় তাদের পরিবার আর্থিক ভাবে অভাব অনটনে ধুঁকে ধুঁকে মরছে।দেশের লক্ষ লক্ষ অপরাধী দেশের সর্বত্র অপরাধী জীবন নিয়ে আইন ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ঘুরছে তারা বেকার হয়ে। জাতীয় উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বিভিন্নভাবে। বাড়ছে অপরাধ । হচ্ছে ক্ষতি নানামুখী। সরকারের দায়িত্ব – আটক সাজাপ্রাপ্ত ঐ সব অপরাধীদের বসিয়ে বসিয়ে না খাওাইয়ে ঐ খরচ দ্বারা উক্ত অপরাধীদের সংশোধনের উপযুক্ত পথে পরিচালিত করা। অর্থাৎ যে টাকা দিয়ে কারাগারে তাদের লালন করা হবে, সে টাকা দিয়ে বিদেশে জনশক্তি হিসেবে তাদেরকে রপ্তানী করা। তাদের মাধ্যমে আয়কৃত অর্থ দ্বারা তাদের ধ্বংসপ্রায় পরিবারকে নতুন জীবন দান করা এবং জাতীয় উন্নয়নে তাদেরকে সম্পৃক্ত করা।

আর দেশের অভান্তরে যারা বিভিন্ন অপরাধে লিপ্ত রয়েছে , তাদেরকেও ধরপাকড় করে প্রথমে কারাগারে নেয়া। সেখান থেকে আদালতের মাধ্যমে সাজা প্রদান করে উক্ত সাজা মোতাবেক নিদ্রষ্ট মেয়াদে বিদেশে প্রেরণের ব্যবস্থা করা। দেশের মেধাশক্তি , দক্ষ জনশক্তি বিদেশে প্রেরণ না করে অপরাধীদেরকেই বিদেশে প্রেরণের টার্গেট করা সরকারের একান্ত দায়িত্ব । এভাবে অপরাধীদের জন্য বিদেশ হবে কারাগার, আর তাদের সাজা হবে বিদেশ গিয়ে কর্ম করা। বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে সহযোগীতা করা। বিদেশে নিদ্রিষ্ট মেয়াদী অবস্থানই প্রত্যেক অপরাধীর জন্য মুলতঃ সংশোধন হবার আসল স্থান।

তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমার এ প্রস্তাব বিবেচনার জন্য উত্থাপন করছি – প্রত্যেক অপরাধীকে সাজা দিন বিদেশে পাঠিয়ে কায়িক শ্রমের মাধ্যমে, কারাগারে আটকিয়ে রেখে জামাই আদরে খাইয়ে নয়। জাতীয় স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। জাতীয় উন্নয়নে সহায়ক হবে বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনে অপরাধীদের বিদেশ প্রেরণ। নতুন নতুন কারাগার নির্মাণ করে জাতীয় আর্থিক ফান্ডের অপচয় করা থেকে বিরত থাকুন। দেশের অলস মস্তিষ্কগুলো সচল করুন। ঘুমন্ত প্রতিভাকে জাগ্রত করতে স্বচেষ্ঠ হোন। মেধাশক্তি বিদেশে পাচার না করে দেশে রাখুন। দেশের দক্ষ জনশক্তিকে বহির্বিশ্বে না পাঠিয়ে দেশের কাজেই লাগান। যদি এইসব মেধাশক্তি বহির্বিশ্বে গিয়ে সেসব দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে পারে , তবে তারা নিজেদের দেশের কল্যানে আসতে পারছেনা কেন ? তা একটিবার বিশুদ্ধ মন নিয়ে ভাবুন। যদি তারা নিজেদের মেধা দিয়ে পৃথিবীর রূপ পাল্টে দিতে পারে , তবে তারা নিজেদের ছোট্ট এই দেশটির রূপ পাল্টাতে পারবেনা কেন ? একটু চোখ খুলে দেখুন সমস্যা কোথায় ?

আমাদের দক্ষ জনশক্তি ও মেধাগুলো পরদেশে গিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে পারে , তবে তারা নিজেদের দেশেও কাজ করে , মেধা খাটিয়ে, শ্রম দিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়ে বলতে পারবে “আমরাও আমাদের দেশকে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে গড়তে পারি উন্নত দেশগুলোর মতন”। আর এ জন্য প্রয়োজন সঠিক উদ্যোগ। এতেই দেশ সফলতার মুখ দেখবে। তাই শ্রমক্ষেত্র তৈরী করে অলস, বেকার, ও অবহেলীত আমাদের বিপুল পরিমাণ মানবসম্পদকে কাজে লাগান। দেশ স্বর্ণশিখরে উন্নীত হবেই।

পরিশেষে বলতে হয় – অপরাধীদের জন্য বিদেশ হোক কারাগার এবং তাদের সাজা হোক বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যম – এটাই কামনা করি।
====================